কর্মজীবী অভিভাবকদের প্রতিদিনের বাস্তবতা
টোকিওতে বসবাসকারী চল্লিশোর্ধ্ব এক মায়ের কাছে সাইকেল কোনো পছন্দ নয়, বরং প্রয়োজন। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের ক্লাসে পড়া দ্বিতীয় শ্রেণির ছেলের যত্ন নেওয়ার পাশাপাশি খণ্ডকালীন কাজ করেন তিনি। প্রতিদিন যাতায়াত নিয়ে তাঁকে কঠিন সিদ্ধান্তের মুখে পড়তে হয়। উপযুক্ত স্কুলটি হাঁটার দূরত্বে নয়; তাই তাঁর সামনে দুটি উপায়: প্রতিবার যাতায়াতে ৪০ মিনিটের বাসযাত্রা, যার খরচ অনেক বেশি, অথবা ১০ থেকে ১৫ মিনিটের সাইকেলযাত্রা। তিনি সাইকেলই বেছে নেন, যদিও জানেন যে আইনগতভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়পড়ুয়া শিশুকে সাইকেলে বহন করা জাপানের সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘন।
সূচিপত্র
তাঁর পরিস্থিতি ব্যতিক্রমী নয়। জাপানজুড়ে স্কুল-পরবর্তী শিশু পরিচর্যাকেন্দ্রগুলোর বাইরে শিশুর আসন লাগানো বৈদ্যুতিক সহায়তাযুক্ত সাইকেল সারি করে ফুটপাতে রাখা থাকে। ব্যস্ত সময়সূচি সামলাতে দুই চাকার বাহনের ওপর নির্ভরশীল কর্মজীবী অভিভাবকদের এ দৃশ্যই প্রমাণ করে। তাঁর তৃতীয় শ্রেণিতে পড়া মেয়ের জ্বর এলে এই মা-ই তাকে সাইকেলে তুলে হাসপাতালে নিয়ে যান; অসুস্থ শিশুকে হাঁটতে দিতে বা একা সাইকেল চালিয়ে যেতে দিতে চান না তিনি।
২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে তাঁর উদ্বেগ আরও বাড়বে। জাপান গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ছোটখাটো ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আগে ব্যবহৃত “ব্লু টিকিট” ব্যবস্থা সাইকেলের ক্ষেত্রেও চালু করছে। এই প্রশাসনিক জরিমানা ব্যবস্থায় ১১৩ ধরনের সাইকেল চালানোর নিয়ম লঙ্ঘনের জন্য পুলিশ তাৎক্ষণিক অর্থদণ্ড দিতে পারবে। এর মধ্যে “দুজন চড়ে যাওয়া” বা ডাবল রাইডিংও রয়েছে, যা অনেক অভিভাবক প্রতিদিন করেন।
মা আইনগত বিধিনিষেধ বোঝেন, কিন্তু পরিবারের পরিস্থিতির বাস্তবতার সঙ্গে তা মেলাতে হিমশিম খান।
(রাজনীতিকেরা) যদি প্রতিটি পরিবারের আলাদা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে যেতেন, তাহলে বোধ হয় শুরুতেই আইন করতে পারতেন না। কিন্তু মানুষকে বুঝতে হবে, কিছু পরিবারের পক্ষে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়া সন্তানদের সাইকেলে করে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকলে প্রতিদিনের জীবন চালানোই সম্ভব নয়।
ব্লু টিকিট ব্যবস্থা যেভাবে কাজ করে
জাপানের ট্রাফিক আইন প্রয়োগে ব্লু টিকিট মাঝামাঝি একটি ব্যবস্থা। মদ্যপ অবস্থায় সাইকেল চালানোর মতো গুরুতর অপরাধের জন্য “রেড টিকিট” দেওয়া হয়; এতে ফৌজদারি মামলা ও কারাদণ্ড হতে পারে। অন্যদিকে, ব্লু টিকিটের ক্ষেত্রে প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। ১৬ বছর বা তার বেশি বয়সী সাইকেলচালকেরা এই জরিমানা পেলে নির্দিষ্ট অর্থদণ্ড পরিশোধ করে অভিযোগ গঠন ও ফৌজদারি রেকর্ড এড়াতে পারেন। তবে জরিমানা উপেক্ষা করলে আদালতে হাজিরার সমন এবং সম্ভাব্য ফৌজদারি কার্যক্রমের মুখে পড়তে হবে।
মোটরযান ও মোপেডের ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চালু আছে, তবে সাইকেলে তা সম্প্রসারণ বড় ধরনের পরিবর্তন। আগে সাইকেল চালানোর ছোটখাটো নিয়ম ভাঙলে সাধারণত আর্থিক জরিমানা না করে সতর্ক করা হতো। জাতীয় পুলিশ সংস্থা (এনপিএ) ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে পূর্ণাঙ্গ নিয়মাবলি প্রকাশ করে। এতে পাশাপাশি সাইকেল চালানোর জন্য ৩,০০০ ইয়েন থেকে শুরু করে সাইকেল চালানোর সময় স্মার্টফোন ব্যবহারের জন্য ১২,০০০ ইয়েন পর্যন্ত জরিমানার কথা বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগজনক পরিসংখ্যানের মধ্যে এ পরিবর্তন আসছে। ২০২৪ সালে জাপানে সাইকেল-সম্পর্কিত ৬৭ হাজারের বেশি সড়ক দুর্ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার ৮০ শতাংশের বেশি ক্ষেত্রে সাইকেলচালকেরা ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করেছিলেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্মার্টফোন-সম্পর্কিত সাইকেল দুর্ঘটনা ৫০ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে, যা কর্তৃপক্ষের বিশেষ উদ্বেগের কারণ।
শিশু বহন নিয়ে জটিলতা
অভিভাবকদের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের সাইকেলে বহন করার নিষেধাজ্ঞা। বর্তমান বিধি অনুযায়ী, কেবল প্রাক্-প্রাথমিক বয়সী বা তার চেয়ে ছোট শিশুকে অনুমোদিত শিশু-আসনে বসিয়ে যাত্রী হিসেবে নেওয়া যায়। শিশু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হলে তাকে সাইকেলে বহন করাকে “হালকা যানবাহনে যাত্রী/মাল বহনের বিধিনিষেধ লঙ্ঘন” হিসেবে গণ্য করা হয়; নতুন ব্যবস্থায় এর জরিমানা ৩,০০০ ইয়েন।
হিয়োগো প্রিফেকচারের আমাগাসাকিতে অবস্থিত সাইকেল উন্নয়নকারী প্রতিষ্ঠান ফুতাগো জিতেনশা ২০২৪ সালে অনলাইনে একটি জরিপ চালায়। এতে পরিবর্তনের পক্ষে ব্যাপক জনমত উঠে আসে। ২৬৪ জন উত্তরদাতার মধ্যে ৮৭ শতাংশই প্রাথমিক বিদ্যালয়পড়ুয়া সন্তানকে সাইকেলে বহন করতে চান বা তা তাঁদের প্রয়োজন বলে জানান। তথ্য থেকে বোঝা যায়, আইনগত বিধিনিষেধ থাকলেও অনেক পরিবারের জন্য এই চর্চা ব্যাপক এবং বাস্তবে অপরিহার্য।
অলাভজনক প্রতিষ্ঠান সাইকেল ইউসেজ প্রমোশন স্টাডি গ্রুপের ৫৯ বছর বয়সী পরিচালক সাতোশি হিকিতা বর্তমান বয়সসীমার কারিগরি ভিত্তি ব্যাখ্যা করেন।
সড়ক পরিবহন আইন অনুযায়ী, সাইকেলে দুজনের চড়া মূলত নিষিদ্ধ। তবে স্থানীয় জননিরাপত্তা কমিশনের বিধিতে শিশু-আসন লাগানো থাকলে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। ফলে বাস্তবে শিশু স্কুলে যাওয়ার বয়সে পৌঁছানো পর্যন্তই যাত্রী বহনের অনুমতি থাকে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির বয়সসীমা শিশুদের শারীরিক বাস্তবতা যথাযথভাবে বিবেচনায় নেয় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন হিকিতা। শিশুদের ওজন ও শারীরিক গড়নে স্বাভাবিকভাবেই পার্থক্য থাকে। তাঁর ধারণা, কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির আগের বয়সকে একটি মানদণ্ড হিসেবে ধরেছে, তবে তা সত্যিই যুক্তিসংগত কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
কখন বাস্তবে জরিমানা হতে পারে
নতুন জরিমানা চালু হলেও শুধু শিশু বহনের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে টিকিট দেওয়ার সম্ভাবনা কম বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। হিকিতার মতে, পুলিশ সাধারণত ছয়টি নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ঘটনাস্থলেই ব্লু টিকিট দেয়: রেলক্রসিংয়ের গেট নামানো অবস্থায় তা পার হওয়া, ত্রুটিপূর্ণ ব্রেকযুক্ত সাইকেল চালানো, সাইকেল চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, পথচারীকে থামতে বাধ্য করা বা অন্য কোনো যানকে হঠাৎ ব্রেক কষতে বাধ্য করা, পুলিশের নির্দেশনা বা সতর্কতার পরও নিয়ম লঙ্ঘন চালিয়ে যাওয়া এবং একই সময়ে দুটি নিয়ম লঙ্ঘন করা।
সাইকেল চালানোর সময় স্মার্টফোন ব্যবহার ঠেকাতে পুলিশ বিশেষভাবে কঠোর হবে বলে জানান হিকিতা। প্রস্তাবিত নিয়ম নিয়ে এনপিএ প্রায় ৬,০০০টি জনমত পেয়েছে; ফুটপাতে সাইকেল চালানো নিয়ে বিভ্রান্তি ছিল বিশেষভাবে বেশি। এর জবাবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করেছে, শুধু শিশু বহন করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্লু টিকিট দেওয়া হবে না। তবে এর সঙ্গে লাল বাতি অমান্য করার মতো অন্য কোনো নিয়ম লঙ্ঘন যুক্ত হলে বা পুলিশের সতর্কতা উপেক্ষা করলে জরিমানা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জাতীয় পুলিশ সংস্থার কমিশনার ইয়োশিনোবু কুসুমোতো বেছে বেছে আইন প্রয়োগের ওপর গুরুত্ব দেন।
মোটরগাড়ির মতো সাইকেলও যানবাহন, তাই একে মৌলিক ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলতে হবে। তবে সরাসরি সড়ক দুর্ঘটনার কারণ হয় এমন বিদ্বেষপূর্ণ ও বিপজ্জনক আচরণের বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিতে অগ্রাধিকার দেব।
এর অর্থ, বিপজ্জনক সড়ক এড়াতে ফুটপাতে সতর্কভাবে চালানো অভিভাবকেরা জরিমানার বদলে সতর্কবার্তা পেতে পারেন, যদি তাঁরা ফুটপাতে চলার নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলেন: সড়কের সবচেয়ে কাছের অংশ দিয়ে চলা, ধীরগতিতে চালানো এবং পথচারীকে দেখামাত্র পথ ছেড়ে দেওয়া।
অবকাঠামোগত ঘাটতিতে বাড়ছে বিরোধ
নতুন জরিমানা জাপানের সাইকেল চলাচলের অবকাঠামো নিয়ে সমালোচনা আরও তীব্র করেছে। অনেক সাইকেলচালকের যুক্তি, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থার আগে আইন প্রয়োগ শুরু হতে পারে না। শহরাঞ্চলে সাধারণত আঁকা সাইকেল লেনগুলো প্রায়ই ডেলিভারি ট্রাক ও ট্যাক্সির দখলে থাকে। ফলে চালকেরা সড়কের মূল লেনে বা ফুটপাতে যেতে বাধ্য হন। কোপেনহেগেন বা আমস্টারডামের মতো শহরের সুরক্ষিত লেনের বিপরীতে, জাপানের অধিকাংশ সাইকেল অবকাঠামো কেবল রঙের দাগে চিহ্নিত; যানবাহন থেকে কোনো বাস্তব সুরক্ষা দেয় না।
এক সাইকেলচালক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে টোকিওর ইয়োৎসুইয়া এলাকার দখল হয়ে যাওয়া সাইকেল লেনের ছবি পোস্ট করেন এবং চালকেরা তাহলে কোথায় যাবেন, তা জানতে চান। এ দ্বিধা একটি মৌলিক সংঘাতকে তুলে ধরে: অনেক সাইকেলচালকের কাছে সড়ক বিপজ্জনক মনে হয়, অথচ ফুটপাত ব্যবহারেও প্রযুক্তিগতভাবে বিধিনিষেধ রয়েছে এবং বেপরোয়াভাবে ব্যবহার করলে এখন জরিমানা হতে পারে।
সাইকেলচালকদের জন্য সমান্তরালভাবে চালকদের জরিমানার বিধান করে সরকার এসব উদ্বেগ স্বীকার করেছে। সাইকেলকে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপদ দূরত্ব ও গতি বজায় না রাখলে এখন মোটরচালকদের ৫,০০০ থেকে ৯,০০০ ইয়েন জরিমানা হতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলোর সড়ক ভাগাভাগির নিয়মের সঙ্গে এটি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এনপিএর আশা, এতে সাইকেলচালকেরা ফুটপাতের বদলে সড়ক ব্যবহার করতে উৎসাহিত হবেন এবং পথচারীদের সঙ্গে সংঘাত কমবে।
ফুতাগো জিতেনশার ৫৪ বছর বয়সী সভাপতি মিচিকো নাকাহারা জরিমানার বাইরেও কাঠামোগত সমাধানের পক্ষে। যমজ শিশু নিরাপদে বহন করা যায় এমন সাইকেল তৈরির অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তাঁর বিশ্বাস, প্রাথমিক বিদ্যালয়পড়ুয়া শিশুদের বহনের উপযোগী তিন বা চার চাকার মডেল নির্মাতারা তৈরি করতে পারেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়পড়ুয়া বা তার চেয়ে বড় শিশুদের বহনের জন্য যদি নির্দিষ্ট মাত্রার চাহিদা থাকে, তাহলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এমন সাইকেল এবং এ ধরনের চলাচলের অনুমতি দেয় এমন আইনি কাঠামো—দুটিই প্রয়োজন।
তিনি বলেন, পুলিশ, নির্মাতা ও খুচরা বিক্রেতারা সবাই এই প্রয়োজনের কথা স্বীকার করেন, যা থেকে বোঝা যায় ব্যবস্থাগত পরিবর্তন সম্ভব। তিনি আরও বলেন, পথচারী, চালকসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সমাজের উচিত পরিবহনের আরও বিস্তৃত বিকল্প দেওয়া।
জরিমানার কাঠামো জেনে নিন
ব্লু টিকিটের আওতায় থাকা ১১৩টি নিয়ম লঙ্ঘনের মধ্যে নানা ধরনের আচরণ রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১২,০০০ ইয়েন জরিমানা সাইকেল চালানোর সময় স্মার্টফোন ব্যবহারের জন্য। সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার প্রেক্ষাপটে এ বিধান করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের একটি ঘটনায় ফোনে মনোযোগ থাকায় এক কলেজশিক্ষার্থীর সাইকেলের ধাক্কায় এক পথচারী নিহত হন। রেলক্রসিংয়ের নিয়ম ভাঙলে ৭,০০০ ইয়েন, আর ট্রাফিক সংকেত অমান্য করলে বা যান চলাচলের বিপরীত দিকে চালালে ৬,০০০ ইয়েন জরিমানা হতে পারে।
নিরাপত্তা সরঞ্জাম-সংক্রান্ত নিয়ম ভাঙলেও উল্লেখযোগ্য জরিমানা রয়েছে। কার্যকর ব্রেক ছাড়া সাইকেল চালানো, রাতে সামনের আলো বা পেছনের রিফ্লেক্টর ছাড়া চলা কিংবা হেডফোন পরার জন্য ৫,০০০ ইয়েন জরিমানা হতে পারে। জাপানের বর্ষাকালে প্রচলিত অভ্যাস, সাইকেল চালানোর সময় ছাতা বহনের ক্ষেত্রেও একই জরিমানা প্রযোজ্য। পাশাপাশি অন্য সাইকেলচালকের সঙ্গে পাশাপাশি চলা বা নিষিদ্ধ অবস্থায় যাত্রী বহনের জন্য ৩,০০০ ইয়েন জরিমানা হবে।
টিকিট পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। লঙ্ঘনকারীদের নগদ অর্থে পোস্ট অফিস বা ব্যাংকে আট দিনের মধ্যে জরিমানা দিতে হবে। টিকিটের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানো সম্ভব, তবে এর জন্য আদালতে হাজির হতে হয় এবং জরিমানা মওকুফের নিশ্চয়তা নেই। তাই বেশির ভাগের জন্য দ্রুত জরিমানা পরিশোধ করাই নিরাপদ বিকল্প। তিন বছরের মধ্যে বারবার নিয়ম ভাঙলে সাইকেলচালকদের জন্য বাধ্যতামূলক প্রশিক্ষণ কোর্স করতে হতে পারে। গুরুতর সাইকেল-সংক্রান্ত অপরাধে মোটরযানের লাইসেন্সধারীদের লাইসেন্স স্থগিত হওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ছেলেকে নিয়ে যাওয়া টোকিওর ওই মায়ের মতো অভিভাবকদের আগামী কয়েক মাস সতর্কভাবে চলতে হবে। আইন বিশেষজ্ঞরা নিয়ম ভাঙা এড়াতে যত দ্রুত সম্ভব শিশুদের নিজস্ব সাইকেলে যাতায়াত শুরু করানোর পরামর্শ দেন। তবে প্রতিবন্ধিতা বা শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে এমন শিশু কিংবা ছোট চালকের জন্য অনিরাপদ সড়কপথে যাতায়াতকারী পরিবারের প্রয়োজনের সমাধান এতে হয় না।
জরিমানার ব্যবস্থা ছাড়াও সাইকেলচালকদের বিদ্যমান নিয়মগুলো মনে রাখতে হবে। স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে সাইকেল নিবন্ধন বাধ্যতামূলক; এর জন্য ৫০০ ইয়েন লাগে এবং সাইকেলের ফ্রেমে একটি স্বতন্ত্র নম্বরের স্টিকার দেওয়া হয়। ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে টোকিও মেট্রোপলিটন সরকার শিশু-সহ সব সাইকেলচালকের জন্য দায়বদ্ধতা বীমা বাধ্যতামূলক করেছে, যাতে অন্যের ক্ষতি বা আঘাতজনিত ক্ষতিপূরণ অন্তর্ভুক্ত থাকে। সাধারণত বছরে ৫,০০০ ইয়েনের কম খরচে মোবাইল অপারেটর, সুবিধাজনক পণ্যসেবা দোকান বা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে এ ধরনের বীমা নেওয়া যায়।
এপ্রিল যত এগিয়ে আসছে, সড়ক নিরাপত্তার লক্ষ্য ও পরিবারের দৈনন্দিন যাতায়াতের প্রয়োজনের মধ্যে টানাপোড়েন তত বাড়ছে। স্পষ্ট পরিণতির ব্যবস্থা করে বছরে ৬৭ হাজার সাইকেল দুর্ঘটনা কমানোই ব্লু টিকিট ব্যবস্থার লক্ষ্য। তবে বিকল্প নেই এমন অভিভাবকেরা এতে শাস্তির মুখে পড়তে পারেন। বিশেষজ্ঞদের ধারণামতো পুলিশ বিবেচনাবোধের সঙ্গে আইন প্রয়োগ করবে কি না, কিংবা আইন প্রয়োগের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে কি না—তার ওপর নির্ভর করবে এই নীতি কর্মজীবী পরিবারগুলোর ওপর অযথা চাপ না দিয়ে নিরাপত্তার লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে কি না।
যা জানা দরকার
- সাইকেলের ক্ষেত্রে জাপানের ব্লু টিকিট প্রশাসনিক জরিমানা ব্যবস্থা ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। এতে ১১৩টি নিয়ম লঙ্ঘন অন্তর্ভুক্ত; প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু বহন করলে ৩,০০০ ইয়েন এবং স্মার্টফোন ব্যবহার করলে ১২,০০০ ইয়েন জরিমানা হতে পারে।
- বর্তমান আইন অনুযায়ী অনুমোদিত আসনে কেবল প্রাক্-প্রাথমিক বয়সী শিশুদের বহন করা যায়; প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু বহন করলে যাত্রীসংক্রান্ত বিধিনিষেধ লঙ্ঘন হয়।
- ২০২৪ সালের এক জরিপে দেখা গেছে, ৮৭ শতাংশ অভিভাবক প্রাথমিক বিদ্যালয়পড়ুয়া সন্তানকে সাইকেলে বহন করতে চান বা তা তাঁদের প্রয়োজন; কারণ হিসেবে দূরত্ব, খরচ ও নিরাপত্তা-উদ্বেগের কথা বলেছেন তাঁরা।
- বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু শিশু বহনের জন্য তাৎক্ষণিক টিকিট দেওয়ার সম্ভাবনা কম। রেলক্রসিংয়ের নিয়ম লঙ্ঘন, ব্রেকের ত্রুটি ও একসঙ্গে একাধিক নিয়ম ভাঙাসহ ঝুঁকিপূর্ণ ছয়টি পরিস্থিতিকে পুলিশ অগ্রাধিকার দেবে।
- সাইকেলচালকদের আট দিনের মধ্যে ব্যাংক বা পোস্ট অফিসে জরিমানা দিতে হবে; টিকিট উপেক্ষা করলে ফৌজদারি আদালতে হাজিরার সমন আসবে।
- সাইকেলকে খুব কাছ দিয়ে পাশ কাটিয়ে গেলে চালকদের ৫,০০০ থেকে ৯,০০০ ইয়েন জরিমানা হতে পারে। সাইকেলচালকদের জন্য সড়ক নিরাপদ করার উদ্যোগের অংশ এটি।
- শুধু জরিমানার ওপর নির্ভর না করে বড় শিশুদের নিরাপদে বহনের জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন ও বিশেষ বহু-চাকার সাইকেল তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা।






