রক্তের বন্ধন থেকে কৌশলগত অংশীদারত্ব: দক্ষিণ কোরিয়া-তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিবর্তন

পড়তে 12 মিনিট
রক্তের বন্ধন থেকে কৌশলগত অংশীদারত্ব: দক্ষিণ কোরিয়া-তুরস্কের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিবর্তন

রণক্ষেত্রের ভ্রাতৃত্ব থেকে কৌশলগত অংশীদারত্ব

দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্কের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই সাধারণ কূটনৈতিক সম্পর্কের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশ দুটি একে অপরকে ‘রক্তের ভাই’ বলে উল্লেখ করে আসছে। কোরীয় যুদ্ধের সময় তুর্কি সেনারা কোরীয় সেনাদের পাশে থেকে যুদ্ধ করেছেন এবং প্রাণ দিয়েছেন—এই সম্পর্কের শিকড় সেই যুদ্ধে। কোরীয় উপদ্বীপে স্বাধীনতা রক্ষায় প্রাণ দেওয়া ৭২১ তুর্কি সেনার আত্মত্যাগে এই আবেগের বন্ধন আরও দৃঢ় হয়েছে। ক্রমেই বিভক্ত হয়ে পড়া আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় এটি বিরল এক আস্থার ভিত্তি তৈরি করেছে।

সূচিপত্র
  1. রণক্ষেত্রের ভ্রাতৃত্ব থেকে কৌশলগত অংশীদারত্ব
  2. যুদ্ধের কঠিন পরীক্ষায় গড়ে ওঠা সম্পর্ক
  3. পরিপূরক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা
  4. প্রেসিডেন্টের সফরে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত
  5. গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রকল্প
  6. পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় মধ্যম শক্তি
  7. সম্পর্কের ভিত্তি অর্থনৈতিক বন্ধন
  8. সহযোগিতার পরবর্তী দিগন্ত
  9. মূল বিষয়গুলো

প্রতিদ্বন্দ্বী বৃহৎ শক্তিগুলোর টানাপোড়েন এবং প্রযুক্তিগত বিচ্ছিন্নতার কারণে প্রচলিত জোটগুলো যখন চাপে, তখন নির্ভরযোগ্য অংশীদার খোঁজার তাগিদ আরও বেড়েছে। সিউলের কাছে আঙ্কারা ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে এক সেতু—মুসলিম-অধ্যুষিত এক গণতান্ত্রিক দেশ, যার মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকাজুড়ে বিস্তৃত বাণিজ্যিক নেটওয়ার্ক রয়েছে। তুরস্কের কাছে দক্ষিণ কোরিয়া দ্রুত শিল্পায়নের এক দৃষ্টান্ত এবং পশ্চিমা সরবরাহকারীদের রাজনৈতিক শর্ত ছাড়াই উন্নত সামরিক প্রযুক্তির উৎস। স্বার্থের এই মিল ইঙ্গিত দেয়, অতীতের রক্তের ভ্রাতৃত্ব বহুমেরুকেন্দ্রিক হয়ে ওঠা বিশ্বে উভয় দেশের কাঙ্ক্ষিত কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পথনকশা হতে পারে।

তবে শুধু ইতিহাস কৌশলগত প্রাসঙ্গিকতা নিশ্চিত করে না। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং ১৩ বছরে কোনো কোরীয় নেতার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে আঙ্কারায় যান। আবেগনির্ভর সংহতিকে কাঠামোবদ্ধ ও ভবিষ্যৎমুখী সহযোগিতায় রূপ দেওয়ার সচেতন প্রচেষ্টার ইঙ্গিত দেয় এই সফর। এর মধ্য দিয়ে উভয় দেশ স্বীকার করে যে বৃহৎ শক্তিগুলোর তীব্র প্রতিযোগিতা, রাজনীতিকীকৃত সরবরাহব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিতে সীমিত প্রবেশাধিকারের এই যুগে কৌশলগত নমনীয়তা ধরে রাখতে মধ্যম শক্তিগুলোকে অংশীদারত্বে বৈচিত্র্য আনতে হবে। সিউল ও আঙ্কারার সামনে এখন আর প্রশ্নটি এই নয় যে তাদের মধ্যে ঐতিহাসিক অনুরাগ আছে কি না; বরং সেই আস্থা একবিংশ শতাব্দীর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা ও শিল্প জোটে রূপ নিতে পারবে কি না।

বিজ্ঞাপন

যুদ্ধের কঠিন পরীক্ষায় গড়ে ওঠা সম্পর্ক

এই ব্যতিক্রমী সম্পর্কের সূত্রপাত ১৯৫০ সালে, যখন জাতিসংঘ বাহিনীর অংশ হিসেবে তুরস্ক কোরিয়ায় ২১ হাজারের বেশি সেনা পাঠায়। যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন ও কানাডার পর এটি ছিল চতুর্থ বৃহত্তম সেনা অবদান। ভয়াবহ যুদ্ধে তুর্কি বাহিনী বিশেষ কৃতিত্ব দেখায়। তাদের দৃঢ়তা ও সাহসের সুনাম কোরীয় সামরিক ইতিহাসে আজও কিংবদন্তি হয়ে আছে।

সংঘাতে প্রাণ হারানো ৭২১ তুর্কি সেনার মধ্যে ৪৬২ জন শায়িত আছেন বুসানের জাতিসংঘ স্মৃতিসৌধ সমাধিক্ষেত্রে। এই পবিত্র স্থানে দুই দেশের প্রবীণ যোদ্ধা ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রতিবছর স্মরণানুষ্ঠান হয়। ১৯৪৯ সালে কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়া দশম দেশ ছিল তুরস্ক। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন প্রজাতন্ত্রের পর সিউলে স্থায়ী দূতাবাস প্রতিষ্ঠাকারী তৃতীয় দেশও ছিল তুরস্ক। এই প্রাথমিক কূটনৈতিক অঙ্গীকার এমন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলে, যা দুই দেশের কয়েক দশকের রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও টিকে আছে।

কোরীয় যুদ্ধের উত্তরাধিকার স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মরণদিবসের গণ্ডি ছাড়িয়ে গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো হিউন সম্প্রতি এই উত্তরাধিকারকে দুই দেশের গভীর আস্থা ও বন্ধুত্বের ভিত্তি বলে বর্ণনা করেছেন। এই সদিচ্ছার ভান্ডার এমন ভূরাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্যেও সম্পর্কটিকে টিকিয়ে রেখেছে, যা অন্যান্য জোটে টানাপোড়েন সৃষ্টি করেছে। ফলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার জন্য এমন এক অনন্য পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যেখানে বিদেশি সামরিক অংশীদারত্বের সঙ্গে প্রায়ই জড়িয়ে থাকা সন্দেহের অবকাশ কম।

বিজ্ঞাপন

পরিপূরক প্রতিরক্ষা সক্ষমতা

সমসাময়িক প্রতিরক্ষা অংশীদারত্বের ভিত্তি হলো দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্কের শিল্প খাতের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে পরস্পরের পরিপূরক—এই উপলব্ধি। গত দুই দশকে সিউল বিশ্বের অন্যতম গতিশীল প্রতিরক্ষা রপ্তানিকারক হিসেবে উঠে এসেছে। বিদেশি সরবরাহকারীদের ওপর নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে দেশটি সাঁজোয়া যান, স্বচালিত কামান, নৌযান, যুদ্ধবিমান এবং সমন্বিত যুদ্ধব্যবস্থার প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত উৎপাদক হয়ে উঠেছে। রাডার নেটওয়ার্ক, ক্ষেপণাস্ত্র কাঠামো, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা এবং কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থাকে সমন্বিত কার্যকর কাঠামোয় যুক্ত করার ক্ষেত্রে কোরীয় কোম্পানিগুলো বিশেষ দক্ষতা দেখিয়েছে।

অন্যদিকে, আঙ্কারা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের পথে দৃঢ়ভাবে এগিয়েছে এবং চালকবিহীন আকাশযান, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও টিএফএক্স পরবর্তী প্রজন্মের যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ড্রোনযুদ্ধ ও নিখুঁত আঘাত হানার ব্যবস্থায় তুরস্কের সাফল্য ইতিমধ্যে আঞ্চলিক সামরিক হিসাব-নিকাশ বদলে দিয়েছে। বহুমুখী উভচর আক্রমণজাহাজ হিসেবে টিসিজি আনাদোলুর কমিশনিং দেশটির সমুদ্রকেন্দ্রিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা বিস্তারেরও ইঙ্গিত দেয়।

শিল্প খাতের এই পরিপূরক সক্ষমতা স্বাভাবিক সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি করেছে। উন্নত জাহাজ নির্মাণ, বায়ু-স্বাধীন চালনাব্যবস্থাসহ সাবমেরিন প্রযুক্তি এবং ভারী স্থলযান নির্মাণে দক্ষিণ কোরিয়ার সক্ষমতা বিশ্বমানের। কোরিয়ার শীর্ষস্থানীয় প্রতিরক্ষা ঠিকাদার হুন্দাই রোটেম ইতিমধ্যে আলতায় প্রধান যুদ্ধট্যাংক কর্মসূচিতে তুর্কি শিল্প খাতের সঙ্গে অংশীদারত্ব করেছে। তাদের কারিগরি সহায়তা ও সমর্থন দেখায়, কীভাবে সহযোগিতা দেশের নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতাকে দুর্বল না করে বরং জোরদার করতে পারে। সামুদ্রিক টাস্কফোর্সের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে টিসিজি আনাদোলুকে কার্যকরভাবে পরিচালনা করতে তুরস্কের দরকার আধুনিক আকাশ প্রতিরক্ষা ডেস্ট্রয়ার, সমন্বিত যুদ্ধব্যবস্থাসহ উন্নত ফ্রিগেট এবং স্টেলথ সাবমেরিন। এই ক্ষেত্রগুলোতে কোরীয় জাহাজ নির্মাতাদের ব্যাপক অভিজ্ঞতা রয়েছে; এর মধ্যে রয়েছে এজিস-সজ্জিত ডেস্ট্রয়ার ও অত্যাধুনিক উভচর প্ল্যাটফর্ম।

আঙ্কারায় পৌঁছানোর আগে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং এই অংশীদারত্বের পেছনের কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সম্পর্কটি নিছক অর্থনৈতিক সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।

কোরিয়ার জন্য তুরস্ক একটি কৌশলগত অংশীদার এবং ইউরেশীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। কোরিয়ার কাছে তুরস্ক কেবল উৎপাদনের স্থান নয়। এটি এমন এক কৌশলগত অংশীদার, যার সঙ্গে আমরা উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে চাই।

সম্ভাবনা শুধু সামরিক সরঞ্জামেই সীমাবদ্ধ নয়; যৌথ উৎপাদন মডেলেও রয়েছে। কোরিয়ার প্রতিরক্ষা সহযোগিতার দর্শনে সাধারণ রপ্তানি লেনদেনের বদলে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও দীর্ঘমেয়াদি শিল্প সমন্বয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়। বাছাই করা অংশীদারত্বের মাধ্যমে দেশের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়ানো, কিন্তু কাঠামোগত নির্ভরতা তৈরি না করে তুরস্কের টেকসই স্বায়ত্তশাসন অর্জনের লক্ষ্যের সঙ্গে এই দৃষ্টিভঙ্গি সামঞ্জস্যপূর্ণ। প্রচলিত সরবরাহকারীদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমাতে উভয় দেশ যখন সচেষ্ট, তখন তাদের সহযোগিতা দেখায়, কীভাবে স্বাধীন প্রতিরক্ষা কাঠামো বজায় রেখেও মধ্যম শক্তিগুলো স্থিতিস্থাপক সরবরাহব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারে।

বিজ্ঞাপন

প্রেসিডেন্টের সফরে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত

২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ংয়ের আঙ্কারা সফর কৌশলগত সম্ভাবনাগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে বৈঠকে দুই নেতা ‘ভ্রাতৃত্বের উত্তরাধিকার, ভবিষ্যতের দৃষ্টিভঙ্গি’ শিরোনামে একটি যৌথ বিবৃতি গ্রহণ করেন। ২০২৭ সালে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০তম বার্ষিকীর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তারা কৌশলগত অংশীদারত্ব গভীর করার অঙ্গীকার করেন। সম্মেলনে প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক জ্বালানি, অবকাঠামো ও প্রবীণ যোদ্ধাদের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট চুক্তি হয়। আনুষ্ঠানিক সৌজন্য ছাড়িয়ে সহযোগিতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ব্যবস্থা এগুলো।

সফরের সময়সূচি ছিল সুচিন্তিত কূটনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। লি সদ্য দক্ষিণ আফ্রিকায় জি-২০ সম্মেলনে অংশগ্রহণ শেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিসর সফর করেছিলেন। এতে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকায় সিউলের প্রভাব বিস্তারের জোরালো প্রচেষ্টা স্পষ্ট হয়। শেষ গন্তব্য হিসেবে তুরস্ককে বেছে নেওয়া এই বৃহত্তর কূটনৈতিক উদ্যোগে দেশটির কৌশলগত অগ্রাধিকারকে তুলে ধরে। একই সপ্তাহে লি ও এরদোয়ানের দ্বিতীয় বৈঠকের সঙ্গেও সফরটি মিলে যায়। এর আগে মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক ও অস্ট্রেলিয়াকে নিয়ে গঠিত পাঁচ মধ্যম শক্তির পরামর্শক সংস্থা মিকটার বৈঠক হয়েছিল।

আঙ্কারা সম্মেলনে দুই নেতা এশিয়া, ইউরোপ ও এর বাইরেও শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির প্রতি তাদের অঙ্গীকারের ওপর জোর দেন। কোরীয় উপদ্বীপের সম্পূর্ণ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করে তারা জাতিসংঘ, জি-২০ এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থাসহ বহুপক্ষীয় মঞ্চের মাধ্যমে সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেন। আলোচনায় সাধারণ সরঞ্জাম হস্তান্তর থেকে যৌথ উৎপাদন, প্রযুক্তি বিনিময় ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিবর্তন নিয়ে বিশেষভাবে আলোচনা হয়।

বিজ্ঞাপন

গুরুত্বপূর্ণ সহযোগিতা প্রকল্প

কয়েকটি সুনির্দিষ্ট উদ্যোগ সম্পর্ক গভীর হওয়ার বাস্তব পরিসর তুলে ধরে। প্রতিরক্ষা খাতে আলতায় প্রধান যুদ্ধট্যাংক কর্মসূচি শিল্প সমন্বয়ের সবচেয়ে দৃশ্যমান উদাহরণ। হুন্দাই রোটেমের অংশগ্রহণ তুরস্কে ট্যাংক উৎপাদনের কারিগরি ভিত্তি জুগিয়েছে। একই সঙ্গে জটিল সামরিক প্ল্যাটফর্মে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার মডেল হিসেবেও কাজ করছে এই প্রকল্প। দক্ষিণ কোরিয়া তুরস্ক ও মিসরে কে৯ স্বচালিত হাউইটজারও রপ্তানি করেছে, যা এ অঞ্চলে নির্ভরযোগ্য ভারী অস্ত্র সরবরাহের নজির তৈরি করেছে।

লি-এর সফরের সময় পারমাণবিক জ্বালানি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়। কোরিয়া ইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশন এবং তুরস্কের নিউক্লিয়ার এনার্জি করপোরেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এই চুক্তিতে প্রযুক্তি, স্থান মূল্যায়ন, লাইসেন্সপ্রক্রিয়া ও অর্থায়ন প্যাকেজে সহযোগিতার কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। কৃষ্ণসাগর উপকূলে সিনপে পরিকল্পিত দ্বিতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে এই উদ্যোগ। সিউলের আশা, এই সমঝোতা স্মারক নির্মাণ চুক্তি পাওয়ার পথে একটি ধাপ হবে এবং কোরীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশ্বমানের পারমাণবিক প্রযুক্তি ও পরিচালনাগত নিরাপত্তায় দক্ষতা কাজে লাগানোর সুযোগ দেবে।

কোরিয়া এক্সপ্রেসওয়ে করপোরেশন এবং তুরস্কের মহাসড়ক অধিদপ্তরের মধ্যে চুক্তির মাধ্যমে অবকাঠামো সহযোগিতাও এগিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরেশিয়ার তৃতীয় দেশগুলোতে যৌথ প্রকল্পের সুযোগ তৈরি হয়েছে। হুন্দাই মোটর গ্রুপ, পসকো, স্যামসাং ও এলজির মতো বড় কোরীয় করপোরেশনের উল্লেখযোগ্য বিদ্যমান বিনিয়োগের ওপর ভিত্তি করেই গড়ে উঠছে এই বেসামরিক অংশীদারত্ব। এসব প্রতিষ্ঠান বহু বছর ধরে তুরস্কে উৎপাদন কারখানা ও অবকাঠামো প্রকল্প পরিচালনা করছে। দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৪৬০ কোটি ডলার।

১৯৫০-৫৩ সালের সংঘাতে দক্ষিণ কোরিয়াকে সহায়তাকারী তুর্কি প্রবীণ সেনাদের সম্মান জানাতে এবং প্রবীণ সেনা সংগঠন ও তাদের উত্তরসূরিদের মধ্যে বিনিময় বাড়াতে দুই সরকার চুক্তি করেছে। লি আঙ্কারার কোরীয় পার্কও পরিদর্শন করেন। হুন্দাই মোটরের অর্থায়নে নির্মিত এই স্মৃতিসৌধে তিনি চারজন তুর্কি প্রবীণ সেনা এবং নিহত সেনাদের ১৩ জন পরিবারের সদস্যের সঙ্গে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এতে কৌশলগত সম্পর্কের মানবিক দিকটি আরও জোরালো হয়।

বিজ্ঞাপন

পরিবর্তনশীল বিশ্বব্যবস্থায় মধ্যম শক্তি

নির্দিষ্ট প্রকল্পের বাইরে কোরিয়া ও তুরস্কের অংশীদারত্ব বৃহত্তর এক কাঠামোগত প্রবণতার প্রতিফলন—বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতার যুগে মধ্যম শক্তিগুলোর জোটের উত্থান। সিউল বা আঙ্কারা—কোনোটিই পরাশক্তি নয়। তবু উভয়েরই উন্নত শিল্প সক্ষমতা, বৈচিত্র্যময় কূটনৈতিক নেটওয়ার্ক এবং কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান রয়েছে, যা তাদের উল্লেখযোগ্য স্বাধীনভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেয়। জোট বজায় রেখেও নিজস্ব স্বার্থ অনুসরণের সক্ষমতা তারা প্রমাণ করেছে। সংঘাতের বদলে বৈচিত্র্যের মাধ্যমে স্থিতিস্থাপকতা অর্জনের চেষ্টা করছে উভয় দেশ।

মধ্যম শক্তিগুলোর এই সংহতির একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ হলো মিকটা জোট। নিরাপত্তাকেন্দ্রিক জোটগুলোর বিপরীতে মিকটা বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে পরামর্শমূলক সহযোগিতার ওপর জোর দেয়। সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা থেকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শাসনব্যবস্থা—বিভিন্ন বিষয়ে অবস্থান সমন্বয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্ক দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি এই মঞ্চও ব্যবহার করে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী চো জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে সরল ভারসাম্য রক্ষার নীতি অনুসরণ করে না সিউল। বরং সামগ্রিক, বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে জাতীয় স্বার্থ মূল্যায়ন করে; উন্নত প্রযুক্তিতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সহযোগিতা করলেও বেইজিংয়ের সঙ্গে বাস্তববাদী সম্পর্ক বজায় রাখে।

ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরেশিয়ার সংযোগস্থলে আঙ্কারার কৌশলগত অবস্থানের সঙ্গেও এই দৃষ্টিভঙ্গি সামঞ্জস্যপূর্ণ। বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনা এবং আঞ্চলিক উৎপাদনকেন্দ্র গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তুরস্কের ভূমিকা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। বিশেষত, কোরীয় কোম্পানিগুলো যখন কেন্দ্রীভূত উৎপাদনভিত্তির বিকল্প খুঁজছে। কোরিয়া ও তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের পরিপূরক বৈশিষ্ট্য—সিউলের ভারী প্ল্যাটফর্ম ও নৌব্যবস্থার সঙ্গে আঙ্কারার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র—মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও মধ্য এশিয়ার তৃতীয় দেশের বাজারের জন্য যৌথ উৎপাদনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

এই অংশীদারত্বের ভূরাজনৈতিক বার্তাও রয়েছে। জোটগুলো যখন পরীক্ষার মুখে এবং সমুদ্রপথে প্রতিযোগিতা বাড়ছে, তখন সক্ষম মধ্যম শক্তিগুলোর সহযোগিতা দেখায় যে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা শুধু বৃহত্তম শক্তিগুলোই গড়ে তুলবে না। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন দেশগুলো শূন্য-যোগের জোটরাজনীতিতে না জড়িয়েও আঞ্চলিক পরিবেশকে স্থিতিশীল করতে এবং সম্মিলিত নিরাপত্তা কাঠামোয় অবদান রাখতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সম্পর্কের ভিত্তি অর্থনৈতিক বন্ধন

প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সহযোগিতার পেছনে রয়েছে চার দশকে গড়ে ওঠা শক্তিশালী বেসামরিক অর্থনৈতিক ভিত্তি। ২০১৩ সালে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি কার্যকর হওয়ার পর দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দেড় গুণেরও বেশি বেড়েছে। ২০২৩ সালে তা রেকর্ড ১০৪০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। এই বাণিজ্যে রয়েছে গাড়ি, ইলেকট্রনিকস, নির্মাণসামগ্রী ও বিভিন্ন উপকরণ। ১৯৮০-এর দশকের মাঝামাঝি থেকে কোরীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তুরস্কে উল্লেখযোগ্য উৎপাদন কার্যক্রম গড়ে তুলেছে।

হুন্দাই মোটর কোম্পানি ১৯৯০ সালে তুরস্কে গাড়ি রপ্তানি শুরু করে এবং ১৯৯৫ সালে ইজমিতে একটি গাড়ি কারখানা নির্মাণ করে। স্যামসাং ইলেকট্রনিকস স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে রঙিন টেলিভিশন ও ভিডিও সরঞ্জাম তৈরি করেছে। পসকো ও এলজিও দেশজুড়ে শিল্প স্থাপনা গড়ে তুলেছে। এসব বিনিয়োগ প্রাতিষ্ঠানিক পরিচিতি, সরবরাহব্যবস্থার সমন্বয় এবং ব্যবসায়িক আস্থার গভীর সম্পর্ক তৈরি করেছে, যা কৌশলগত খাতে সম্প্রসারণ সহজ করে। বেসামরিক শিল্পে কোম্পানি ও প্রকৌশলীরা আগে থেকেই সফলভাবে একসঙ্গে কাজ করে থাকলে প্রতিরক্ষা ও পারমাণবিক জ্বালানিতে সহযোগিতা বিস্তারের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।

দুই সরকারই বাণিজ্য ঘাটতির স্থায়ী সমস্যা মোকাবিলার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে। রপ্তানি মূল্যের হিসাবে এই ঘাটতি সিউলের অনুকূলে। তবে সফরকালে প্রেসিডেন্ট লি উল্লেখ করেন, কোরিয়ার রপ্তানি বৃদ্ধির বড় অংশই মূলধনি পণ্য ও মধ্যবর্তী উপকরণ, যা তুরস্কের উৎপাদন ও শিল্পোন্নয়নে সহায়তা করে। তুরস্কের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব উপকরণের চাহিদাও স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। এটি কাঠামোগত অসুবিধার বদলে চলমান শিল্পায়নের বাস্তবতাই তুলে ধরে।

অর্থনৈতিক বন্ধনকে পরিপূরক করে সাংস্কৃতিক ও জনগণের সঙ্গে জনগণের বিনিময়। দলগত আবেদনের মাধ্যমে তুর্কি নাগরিকদের ভিসা আবেদনপ্রক্রিয়া সহজ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া, তুর্কি ভাষায় সহায়তা বাড়িয়েছে এবং অনুমতিপত্রের মেয়াদ তিন বছর করেছে। ১৭ বছরের কম বয়সী ভ্রমণকারী এবং ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ইলেকট্রনিক ভ্রমণ অনুমতির শর্ত থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তুরস্কে কোরীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়ায়ও জনপ্রিয় হচ্ছে তুর্কি খাবার ও শিল্পকলা। এতে দুই সমাজেই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার পক্ষে সমর্থক গোষ্ঠী তৈরি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সহযোগিতার পরবর্তী দিগন্ত

২০২৭ সালে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০তম বার্ষিকীর দিকে তাকিয়ে সিউল ও আঙ্কারা সহযোগিতা সম্প্রসারণের কয়েকটি নতুন ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে। প্রতিরক্ষা খাতে বর্তমান প্রকল্পের গণ্ডি পেরিয়ে পরবর্তী প্রজন্মের ব্যবস্থা যৌথভাবে উন্নয়নের প্রত্যাশা করছে দুই পক্ষ। এর মধ্যে কেএফ২১ বহুমুখী যুদ্ধবিমান, দূরপাল্লার ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা এবং সমন্বিত চালকবিহীন প্ল্যাটফর্মে সম্ভাব্য সহযোগিতাও রয়েছে। প্রচলিত প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে চালকবিহীন ব্যবস্থা সমন্বিত করা এবং উদীয়মান প্রযুক্তিতে যৌথ উদ্ভাবন এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকারও করেছেন দুই নেতা।

প্রতিরক্ষা ও পারমাণবিক জ্বালানির বাইরে জৈবপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায়ও অংশীদারত্ব সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে। কোরিয়ার অবকাঠামোগত সক্ষমতার সঙ্গে তুরস্কের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্টারগেট প্রকল্প ও এ ধরনের উদ্যোগে সহযোগিতার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে দেশ দুটি। আঞ্চলিক কূটনীতিতে কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও সহাবস্থান সমর্থনকারী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতাকে মূল্য দেয় সিউল। অন্যদিকে, ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রতি সম্মানের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার ধারাবাহিক অবস্থানকে স্বাগত জানায় আঙ্কারা।

রক্তের ভাই থেকে কৌশলগত অংশীদার হয়ে ওঠার এই বিবর্তন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ধারাবাহিকতা ও রূপান্তর—দুটিই তুলে ধরে। কোরীয় যুদ্ধের সময় গড়ে ওঠা আবেগের বন্ধন আস্থার এমন এক ভিত্তি জুগিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কে, বিশেষত প্রতিরক্ষা সহযোগিতায় বিরল। এ ক্ষেত্রে চুক্তির মেয়াদ কয়েক দশকজুড়ে বিস্তৃত হয় এবং শিল্পব্যবস্থা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে পড়ে। দুই দেশই এখন স্বীকার করছে, ১৯৫০-এর দশকের অভিন্ন আত্মত্যাগকে ২০৩০-এর দশকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিন্ন প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও নিরাপত্তা সহযোগিতায় রূপ দিতে হবে। এই অংশীদারত্বের ভবিষ্যৎ এখন কৌশলই নির্ধারণ করছে।

মূল বিষয়গুলো

  • কোরীয় যুদ্ধে ২১ হাজারের বেশি তুর্কি সেনা লড়েছেন। ৭২১ জনের প্রাণহানি আধুনিক সম্পর্কের ‘রক্তের ভাই’ ভিত্তি তৈরি করেছে
  • ২০১৩ সালের মুক্তবাণিজ্য চুক্তির অধীনে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ২০২৩ সালে রেকর্ড ১০৪০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। দুই শতাধিক কোরীয় কোম্পানি তুরস্কে ৪৬০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে
  • আলতায় প্রধান যুদ্ধট্যাংক কর্মসূচি প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতার প্রধান উদাহরণ। তুরস্কের উৎপাদনে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে হুন্দাই রোটেম
  • ২০২৫ সালের নভেম্বরে ১৩ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট তুরস্ক সফর করেন। সফরে প্রতিরক্ষা, পারমাণবিক জ্বালানি ও অবকাঠামো খাতে চুক্তি হয়
  • কোরিয়া ইলেকট্রিক পাওয়ার করপোরেশন ও তুরস্কের নিউক্লিয়ার এনার্জি করপোরেশনের সমঝোতা স্মারক সিনপে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে কোরীয় অংশগ্রহণের সম্ভাব্য কাঠামো তৈরি করেছে
  • দুই দেশই পাঁচ মধ্যম শক্তির পরামর্শক সংস্থা মিকটার সদস্য। বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা ও সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিস্থাপকতা নিয়ে অবস্থান সমন্বয় করে তারা
  • ২০২৭ সালে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৭০তম বার্ষিকী পালিত হবে। প্রতিরক্ষা, জৈবপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় সহযোগিতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে দুই সরকারের
  • ২০২৪ সালে তুরস্কের প্রতিরক্ষা রপ্তানি প্রথমবারের মতো ১০০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, নৌযান ও ভারী স্থলযানে বিশেষ দক্ষতাসহ নির্ভরযোগ্য বৈশ্বিক প্রতিরক্ষা অংশীদার হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায় দক্ষিণ কোরিয়া
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে