মূল ভূখণ্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য এক বিস্ময়কর অভ্যর্থনা
মালয়েশিয়ায় আসা মূল ভূখণ্ডের অনেক চীনা শিক্ষার্থী ভেবেছিলেন, চন্দ্র নববর্ষ কাটবে নিঃসঙ্গ ও নিরিবিলি পরিবেশে; পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকবে শুধু ভিডিও কলে, আর বাড়ি থেকে দূরে হবে সামান্য উদযাপন। কিন্তু তারা এসে দেখলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে ছুটি শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগেই উৎসবের আমেজ পুরো দেশকে বদলে দিয়েছে। শপিং মলগুলো লাল লণ্ঠনের আলোয় ঝলমল করছে, কৃত্রিম বরই ফুলের জমকালো সাজ ফুটে উঠেছে, আর কুয়ালালামপুর থেকে পেনাং পর্যন্ত জনসমাগমের স্থানগুলোতে আধিপত্য বিস্তার করছে বিশাল রাশিচক্রের ভাস্কর্য। বড়দিনের সাজসজ্জা নামানোর পরপরই এই রূপান্তর শুরু হয়। এতে পশ্চিমা ও চীনা উৎসবের মৌসুমের মধ্যে একটানা সংযোগ তৈরি হয়, যা তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত উৎসবকালীন আয়োজনে অভ্যস্ত দর্শনার্থীদের বিস্মিত করে।
সূচিপত্র
উৎসবের প্রস্তুতিতে এই আগাম তোড়জোড় আধুনিক চীনের তুলনামূলক সংযত উদযাপনে অভ্যস্ত শিক্ষার্থীদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা। হেনান প্রদেশ থেকে আসা ইউনিভার্সিটি অব মালায়ার ব্যবসায় প্রশাসনের শিক্ষার্থী লুং ইয়াং বলেন, চীনের শপিং মলগুলোতে সাধারণত উৎসবের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে সাজসজ্জা শুরু হলেও মালয়েশিয়ায় বড়দিন শেষ হওয়ার পরপরই উৎসবের মৌসুম শুরু হয়ে যায়।
আমার নিজের শহরে চীনা নববর্ষকে আমরা অনেক গুরুত্ব দিই এবং বেশ আগে থেকেই প্রস্তুতি শুরু করি। তবে মালয়েশিয়া আরও আগেই শুরু করে উৎসবকে অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। এখানকার সাজসজ্জা সত্যিই আরও সুন্দর, আর উৎসবের আবহও অনেক বেশি জোরালো।
ছুটির দিনটির মালয়েশীয় স্বতন্ত্র রূপের প্রশংসা করেন ইউসিএসআইয়ের স্নাতক শিক্ষার্থী ফেং জিয়ায়াং। তিনি বলেন, চীনা উদযাপনে দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে থাকা সূক্ষ্ম সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়; অন্যদিকে মালয়েশিয়ায় উৎসবটি অনেকটা কার্নিভালের রূপ নেয়। “দুই ধরনের উদযাপনেরই নিজস্ব গুণ আছে,” বলেন তিনি। মূল ভূখণ্ডের উদযাপন থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উৎসবকে আলাদা করে যে প্রাণবন্ততা, সেটিও তিনি স্বীকার করেন। এই পার্থক্য দেখায়, বৈচিত্র্যময় সমাজে সাংস্কৃতিক পরিচয় ধরে রাখতে প্রবাসী সম্প্রদায়গুলো কীভাবে ঐতিহ্যকে আরও জোরালোভাবে উদযাপন করে।
টিকে থাকা ঐতিহ্যের বর্ণাঢ্য আয়োজন
চোখধাঁধানো আয়োজনের বাইরেও মালয়েশিয়ার উদযাপনে এমন ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতা রয়েছে, যা এখন মূল ভূখণ্ডের চীনে ক্রমেই বিরল। পরিবেশ ও নিরাপত্তাবিষয়ক বিধিনিষেধের কারণে চীনের অনেক শহরে আতশবাজি ও পটকা ব্যবহারে কড়াকড়ি থাকলেও মালয়েশিয়ার রাতের আকাশ রং ও শব্দে ভরে ওঠে। ড্রাগন ও সিংহ নাচের সঙ্গে ঢাকের ছন্দময় বাজনা পাড়ায় পাড়ায় প্রতিধ্বনিত হয়। শিক্ষার্থীদের মতে, এই পরিবেশ তাদের এখন নিজ দেশে দেখা উদযাপনের চেয়ে বেশি ঐতিহ্যবাহী চীনা আমেজ দেয়।
বেইজিং থেকে আসা ইউনিভার্সিটি অব মালায়ার শিক্ষার্থী লিন ইয়ানইয়াং এই অভিজ্ঞতাকে হৃদয়স্পর্শী ও অকৃত্রিম বলে বর্ণনা করেন।
এখানকার চোখধাঁধানো আতশবাজি আর উৎসবের পটকার শব্দ চীনা সংস্কৃতির আবহ সত্যিই ফুটিয়ে তোলে। অভিজ্ঞতাটি তাই আরও ঐতিহ্যবাহী ও আনন্দময়।
লোকজ রীতিনীতির এই অবাধ উদযাপনে এমন কিছু প্রথার দেখা মেলে, যা চীনের তরুণ প্রজন্ম প্রায়ই শুধু ঐতিহাসিক নথিতে বা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত পৌর আয়োজনে দেখে থাকে।
জনসমাগমের জাঁকজমকের চেয়েও সম্ভবত বেশি চোখে পড়ে মালয়েশিয়ার চীনা পরিবারগুলোতে টিকে থাকা ব্যক্তিগত রীতিনীতি। ইউনিভার্সিটি অব মালায়ার আরেক শিক্ষার্থী গুও কাইশিন পেনাংয়ের বন্ধুদের সঙ্গে এক ভিডিও আলাপের কথা স্মরণ করেন, যা তাকে বিস্মিত করেছিল। তিনি দেখেছিলেন, পুরো পরিবারগুলো নববর্ষের প্রথম দিন থেকে পঞ্চম দিন পর্যন্ত সৌভাগ্যের প্রতীক লালচে সিঁদুররঙা তাং পোশাক পরছে। আধুনিক চীনের শহুরে জীবনে এই ঐতিহ্যবাহী পোশাকের কঠোর অনুসরণ অনেকটাই হারিয়ে গেছে। “আজকের চীনে ঐতিহ্যবাহী পোশাক এত কঠোরভাবে মেনে চলা বিরল,” বলেন তিনি। তার মতে, প্রবাসী সম্প্রদায়গুলো প্রায়ই এমন রীতিনীতি ধরে রাখে, যা নিজ দেশে বদলে গেছে বা হারিয়ে গেছে।
বিভিন্ন সংস্কৃতির মিলিত বুনন
চীনের উদযাপন থেকে মালয়েশিয়ার চীনা নববর্ষকে সবচেয়ে বেশি আলাদা করে দেশটির বহু জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ। চীনে চীনা নববর্ষ মূলত হান চীনা সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমিত থাকলেও মালয়েশিয়ায় এটি জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে, যা জাতিগত ও ধর্মীয় বিভাজন পেরিয়ে মানুষকে এক করে। ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়ার শিক্ষার্থী উ হাইলংয়ের ভাষায়, এই উদযাপন বদ্ধ জাতিগত রীতির বদলে সবার ভাগাভাগি করা এক সাংস্কৃতিক বুননের মতো।
আগের উদযাপনের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ভারতীয় প্রতিবেশীরা উষ্ণভাবে মান্দারিন ভাষায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎসবে চীনা পরিবারের সঙ্গে উৎসাহের সঙ্গে অংশ নিয়েছেন। মালয়েশিয়ার “ওপেন হাউস” ঐতিহ্যে এই অন্তর্ভুক্তির মনোভাব দেখা যায়। চীনা পরিবারগুলো মালয় ও ভারতীয় সম্প্রদায়সহ সব জাতিগোষ্ঠীর বন্ধুদের পুনর্মিলনী ভোজ ও উৎসবের খাবারে আমন্ত্রণ জানায়। এতে ব্যক্তিগত পারিবারিক আয়োজন জাতীয় ঐক্যের প্রকাশ্য উদাহরণে রূপ নেয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইপোহে এক উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম এই অনন্য সম্প্রীতির ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, মালয়, চীনা, ভারতীয়, ইবান, কাদাজানসহ অন্যান্য জনগোষ্ঠীর ৩ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি মানুষের বৈচিত্র্যময় দেশে শান্তি বজায় রাখার সক্ষমতা জাতীয় অগ্রগতির মৌলিক ভিত্তি।
আমরা সমাজ ও আমাদের সন্তানদের দেখাতে চাই, মালয়েশিয়ার উন্নতি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও আরও ভালো হাসপাতাল নিশ্চিত করতে হলে এ দেশে শান্তি বজায় রাখতে হবে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বতন্ত্র রীতিনীতি
মালয়েশিয়ায় চীনা নববর্ষে পালিত কয়েকটি রীতি সময়ের সঙ্গে এমন স্থানীয় রূপ নিয়েছে, যা মূল ভূখণ্ডের চীনে দেখা যায় না। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো ইয়ে সাং, যা ইউ শেং নামেও পরিচিত। কাঁচা মাছের রঙিন এই সালাদ মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে পুনর্মিলনী ভোজের প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। পরিবারের সদস্যরা খাবারটির চারপাশে জড়ো হন এবং চপস্টিক দিয়ে উপকরণগুলো উঁচুতে ছুড়ে দিয়ে সৌভাগ্যসূচক বাক্য বলেন। “লো হেই” নামের এই রীতির মধ্য দিয়ে নতুন বছরে সমৃদ্ধি ও সৌভাগ্য কামনা করা হয়।
উৎসব চলে পনেরো দিন ধরে; শেষ দিনে চ্যাপ গোহ মেই দিয়ে এর সমাপ্তি হয়। এই উদযাপনে কয়েকটি স্বতন্ত্র রীতি রয়েছে। যেমন, অবিবাহিত নারীরা কমলা নদী বা সমুদ্রে ছুড়ে দেন। মূলত ভালো স্বামী পাওয়ার কামনায় এ রীতি পালিত হতো, যদিও আধুনিক রূপে ফলের গায়ে যোগাযোগের তথ্য লেখা হয়। নৌকায় থাকা পুরুষেরা ঐতিহ্যগতভাবে কমলাগুলো সংগ্রহ করেন। এভাবে রীতিটি আনন্দময় ঘটকালির আয়োজনে পরিণত হয়েছে, যা দেখায়, সমসাময়িক সামাজিক রীতিকে গ্রহণ করেও সম্প্রদায়টি কীভাবে ঐতিহ্য ধরে রাখছে।
হক্কিয়েন সম্প্রদায়ের কাছে নবম দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এ দিনটি তি কং উৎসব হিসেবে পালিত হয় এবং জেড সম্রাটের উদ্দেশে প্রার্থনা করা হয়। পরিবারগুলো মধ্যরাতে জাঁকজমকপূর্ণ নৈবেদ্য সাজায়। এর মধ্যে থাকে আখ, যা সুরক্ষা ও শান্তির প্রতীক, পাশাপাশি ভাজা মাংস ও ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি। আতশবাজি ও ধূপের ধোঁয়ায় রাত মুখর হয়ে ওঠে। মালয়েশিয়ার বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশে চীনের নির্দিষ্ট আঞ্চলিক রীতিনীতিগুলোর শিকড় গাড়ার চিত্র এতে ফুটে ওঠে।
২০২৬ সালে উৎসবের মিলন
পঞ্জিকার এক বিরল মিলের কারণে এ বছরের উৎসবের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। চীনা নববর্ষ ১৭ ফেব্রুয়ারি, আর এর মাত্র দুই দিন পর শুরু হবে রমজান। পরপর আসা এই উৎসবগুলোর সমাপ্তি হবে আগামী মাসে হরি রায়া আইদিলফিতরের মধ্য দিয়ে। দেশের প্রধান দুটি সাংস্কৃতিক উৎসবের এই নৈকট্যে আনন্দ-উৎসব দ্বিগুণ হবে, পাশাপাশি মালয়েশীয় সমাজের স্বতন্ত্র সম্প্রীতিও ফুটে উঠবে।
এই মিলনের ফলে স্থানীয়দের ভাষায় “গং শি রায়া” নামে পরিচিত এক বিরল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। ৩৩ বছরে একবার হরি রায়া আইদিলফিতর ও চীনা নববর্ষ কাছাকাছি সময়ে পড়লে এমনটা ঘটে। এর আগে ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৫ সাল এবং ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত মালয়েশিয়ায় এমন আনন্দঘন মিল দেখা গিয়েছিল। পরেরবার এই মিল ঘটবে ২০২৯ থেকে ২০৩১ সালের মধ্যে। ফলে বর্তমান সময়টি বিরল ও আদরের এক চক্রের অংশ।
এই দ্বৈত উদযাপনে খুচরা বিক্রি ও আতিথেয়তা খাতে বাড়তি আয় হয়েছে। হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো চীনা ও মালয় রন্ধন ঐতিহ্যের মিশেলে নতুন ধরনের খাবারের মেনু তৈরি করেছে। সানওয়ে রিসোর্ট হোটেলের নির্বাহী শেফরা সিচুয়ান-ধাঁচের ভেড়ার মাংসের পদ তৈরি করেছেন, যা চীনা নববর্ষের বুফে এবং রমজানের ইফতারে পরিবেশন করা হয়। দুই উপলক্ষের উপযোগী করতে এর সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন খাবার দেওয়া হয়। মরিচের গুঁড়া, রসুন, তিলের তেল ও জিরায় মেরিনেট করা আস্ত সিচুয়ান রোস্টেড ভেড়ার মাংস দেখায়, একসঙ্গে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আপ্যায়নের পাশাপাশি স্থানীয় রুচি অনুযায়ী বিদেশি প্রভাবকে কীভাবে গ্রহণ করে মালয়েশিয়ার আতিথেয়তা খাত।
উৎসবের আমেজ কাজে লাগিয়ে শপিং মলগুলো এমন জমকালো সাজসজ্জা করেছে, যা প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। এ বছর বেরজায়া টাইমস স্কয়ারে চীনের সাম্রাজ্যিক রাজবংশভিত্তিক সাজসজ্জা রয়েছে; আর ইন্টারমার্ক মলে পেরানাকান ঐতিহ্যপ্রভাবিত নকশায় রয়েছে জটিল ফুলের নকশা ও ঐতিহ্যবাহী কেবায়া। মল ব্যবস্থাপকেরা বলছেন, চীনসহ অন্যান্য বড় শহরে সচরাচর দেখা যায় না এমন জমকালো সাজসজ্জা এখন পর্যটক ও স্থানীয়দের আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব ও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি
মালয়েশিয়ায় চীনা নববর্ষের গুরুত্ব সাংস্কৃতিক উদযাপনের বাইরেও জাতীয় পরিকল্পনা ও অর্থনৈতিক কৌশলে বিস্তৃত। ছুটির সময়ের জন্য সরকার বিশেষ যান চলাচল ব্যবস্থাপনা চালু করেছে। দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে এবং ভ্রমণের ব্যস্ত সময়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সড়ক পরিবহন বিভাগ ১৪, ১৫, ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি ভারী পণ্যবাহী যান চলাচল নিষিদ্ধ করেছে। এই পর্যায়ের সরকারি সমন্বয় দেখায়, উৎসবটি কীভাবে গোটা দেশের অবকাঠামোকে প্রভাবিত করে।
উদযাপনটি ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ জাতীয় পর্যটন প্রচারের সঙ্গেও যুক্ত। এ প্রচারে দেশের বহুসাংস্কৃতিক উৎসবগুলোকে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। প্যাভিলিয়ন বুকিত জলিলের সিএনওয়াই স্প্রিং কার্নিভাল ২০২৬ এই কৌশলের উদাহরণ। ১৫ থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত এটি শহরজুড়ে সাংস্কৃতিক উৎসবে রূপ নেয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে অনলাইন ও সরাসরি অংশগ্রহণের সমন্বয় করা হয়েছে। এতে শতাধিক শিল্পী ও কনটেন্ট নির্মাতা অংশ নিচ্ছেন, যারা বিশ্বজুড়ে উৎসবটির পরিচিতি বাড়াচ্ছেন।
মালয়েশিয়ায় গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের দূতাবাসের মন্ত্রী ঝেং শুয়েফাং কার্নিভালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সম্পর্কের ওপর জোর দেন।
বসন্ত উৎসব এখন বিশ্বজুড়ে ক্রমেই বেশি পালিত হচ্ছে, যা আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধ ও বন্ধুত্বের প্রতিফলন। সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদার এবং বাস্তব সহযোগিতা গভীর করতে ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’-এর সুযোগ কাজে লাগানোর অপেক্ষায় আছি আমরা।
যোগাযোগ উপমন্ত্রী তেও নি চিং বলেন, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে মালয়েশিয়ায় ৩ কোটি ৮৩ লাখ আন্তর্জাতিক পর্যটক এসেছেন। এতে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ছাড়িয়ে আসন্ন প্রচারাভিযান বছরের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি হয়েছে।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ঐতিহ্য সংরক্ষণ
মালয়েশীয় চীনা সম্প্রদায়ের চতুর্থ প্রজন্মের সদস্য জেস লির কাছে বসন্ত উৎসব পারিবারিক বন্ধন ও সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র। তিনি লক্ষ করেছেন, চীন থেকে আসা বহু রীতিনীতি মালয়েশিয়ায় পুরোপুরি টিকে আছে, যা ঐতিহ্যবাহী চর্চার এক জীবন্ত জাদুঘর তৈরি করেছে। ভাষার ক্ষেত্রেও এই সংরক্ষণ দেখা যায়। অনেক মালয়েশীয় চীনা মালয় ও ইংরেজির পাশাপাশি মান্দারিন এবং চীনের বিভিন্ন উপভাষায় সাবলীল। ফলে মূল সাংস্কৃতিক রচনা ও মৌখিক ঐতিহ্যের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ বজায় থাকে।
ঐতিহ্যের প্রতি অঙ্গীকার নির্দিষ্ট খাবারের নিশ্চয়তার মধ্যেও দেখা যায়। সেলাঙ্গরে শূকর পালনের বিতর্কের মধ্যেও পুনর্মিলনী ভোজের জন্য শূকরের মাংসের সরবরাহ স্থিতিশীল থাকবে বলে সম্প্রতি চীনা মালয়েশীয় সম্প্রদায়কে আশ্বস্ত করেছেন ডিএপি মহাসচিব অ্যান্থনি লোক। এক ভোজসভায় তিনি বলেন, “রোস্টেড শূকরের মাংস ছাড়া চীনা নববর্ষকে চীনা নববর্ষ বলে মনে হবে না, তাই এটি থাকতেই হবে।” উৎসবের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে নির্দিষ্ট খাবারের ঐতিহ্য কীভাবে ধরে রাখে, তারই ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
তবে সব উদযাপনই জনসমাগমের জাঁকজমককে ঘিরে নয়। জুরিখ মালয়েশিয়ার সাম্প্রতিক উৎসবের বিজ্ঞাপনী চলচ্চিত্রে অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি ও ঘনিষ্ঠ উদযাপনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, দম্পতিরা শান্ত ব্যক্তিগত মুহূর্ত, একসঙ্গে খাবার এবং পাড়াপড়শির সঙ্গে সম্পর্কের মধ্য দিয়ে উৎসব পালন করছেন। শপিং মলের কার্নিভালমুখর জাঁকজমক থেকে শুরু করে পারিবারিক ঘরের একান্ত রীতি পর্যন্ত উদযাপনের এই বৈচিত্র্য মালয়েশীয় সমাজে উৎসবটির নানা রূপ তুলে ধরে।
যা জানা জরুরি
- মালয়েশিয়ায় চীনা নববর্ষের উদযাপন মূল ভূখণ্ডের চীনের চেয়ে কয়েক সপ্তাহ আগে শুরু হয়; বড়দিনের পরপরই সাজসজ্জা দেখা যায়
- চীনের অনেক শহরে আতশবাজি ও সিংহ নাচে বিধিনিষেধ থাকলেও মালয়েশিয়ায় এগুলো উদযাপনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ
- “ওপেন হাউস” ঐতিহ্যে সব জাতিগোষ্ঠীর মানুষকে আমন্ত্রণ জানানো হয়, যা মালয়েশিয়ার বহুসাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতিফলন
- ইয়ে সাং (ইউ শেং) ছুড়ে উদযাপন এবং চ্যাপ গোহ মেই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্বতন্ত্র রীতি, যা চীনে পালিত হয় না
- ২০২৬ সালে চীনা নববর্ষের পরপরই রমজান শুরু হওয়ায় বিরল “গং শি রায়া” সময়কাল তৈরি হচ্ছে
- উৎসবের সময় সরকার ভারী যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ও বিশেষ যানবাহন ব্যবস্থাপনা চালু করে
- মালয়েশীয় চীনা সম্প্রদায়ের চতুর্থ প্রজন্মের সদস্যরা পোশাক ও ভাষাসহ ঐতিহ্যবাহী রীতি ধরে রেখেছেন, যা আধুনিক চীনে বদলে গেছে
- ‘ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬’ শহরজুড়ে কার্নিভালের মাধ্যমে বসন্ত উৎসবকে প্রধান পর্যটন আকর্ষণ হিসেবে তুলে ধরছে






