বিদেশে পড়াশোনার বিকল্প গন্তব্যের তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ ৮-এ ভিয়েতনাম

পড়তে 7 মিনিট
25 Fully Funded Scholarships Vietnam: International Students 2026

বিশ্বশিক্ষায় নতুন যুগ

প্রচলিত গন্তব্যগুলোতে ব্যয় বৃদ্ধি ও নীতিগত অনিশ্চয়তার কারণে শিক্ষার্থীরা উদীয়মান বিকল্পগুলোর দিকে ঝুঁকছেন। এতে বিশ্বজুড়ে শিক্ষার্থীদের চলাচলে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষাবিষয়ক পর্যালোচনা প্ল্যাটফর্ম এডুঅপিনিয়নসের (EduOpinions) তালিকায় বিশ্বের শীর্ষ আটটি উদীয়মান বিদেশে পড়াশোনার গন্তব্যের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছে ভিয়েতনাম। প্ল্যাটফর্মটিতে বছরে প্রায় ১৩ লাখ ভিজিট হয়। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি এখন ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার মতো প্রতিষ্ঠিত ইউরোপীয় বিকল্পগুলোর পাশে স্থান পেয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর প্রচলিত শিক্ষাকেন্দ্রগুলোর মতো বিপুল আর্থিক বোঝা ছাড়াই মানসম্মত শিক্ষা খুঁজছেন এমন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য দেশটি এখন একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প।

সূচিপত্র
  1. বিশ্বশিক্ষায় নতুন যুগ
  2. সাশ্রয়ী ব্যয়ের সুবিধা
  3. মান নিশ্চিতকরণ ও শিক্ষার মানদণ্ড
  4. কৌশলগত অবস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা
  5. বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: প্রচলিত শিক্ষাকেন্দ্র থেকে সরে আসা
  6. সম্প্রসারিত অবকাঠামো ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য
  7. মূল বিষয়গুলো

ডিসেম্বরে প্রকাশিত এবং ২০২৪-২০২৫ সালে সংগৃহীত যাচাইকৃত শিক্ষার্থী পর্যালোচনার ভিত্তিতে তৈরি র‌্যাঙ্কিংয়ে ভিয়েতনাম পাঁচ তারকার মধ্যে ৪.৫-এর বেশি সামগ্রিক সন্তুষ্টি রেটিং পেয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর গড় স্কোর ছিল ৪.৩৮; ভিয়েতনামের স্কোর তার চেয়ে বেশি। দেশটির শিক্ষাক্ষেত্রের বিকাশে এটি একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক। এডুঅপিনিয়নসের উদীয়মান গন্তব্যের তালিকায় থাকা সব দেশই গড়ে চার তারকার বেশি স্কোর ধরে রেখেছে, যা এসব বিকল্প শিক্ষাবাজারে ধারাবাহিক মানের ইঙ্গিত দেয়।

এই স্বীকৃতি বিশ্বশিক্ষার পরিমণ্ডলে আরও বিস্তৃত এক পরিবর্তনের প্রতিফলন। ২০২২ সালে বিশ্বের মোট আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেকই যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স ও জার্মানিসহ মাত্র ১০টি প্রচলিত গন্তব্যে কেন্দ্রীভূত ছিল। এখন এই কেন্দ্রীভবন ধীরে ধীরে কমছে। উদীয়মান শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে অর্থের সঠিক মূল্য ও অভিজ্ঞতার মান শিক্ষার্থীদের সিদ্ধান্তে নির্ধারক হয়ে উঠছে।

সাশ্রয়ী ব্যয়ের সুবিধা

প্রতিষ্ঠিত বিদেশে পড়াশোনার গন্তব্যগুলোতে টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় শিক্ষার্থী ও পরিবারগুলো বিনিয়োগের বিপরীতে প্রাপ্তি নতুন করে বিবেচনা করছে। এডুঅপিনিয়নসের ভাষায়, ভিয়েতনামের বিশেষত্ব হলো এর দ্বৈত সুবিধা: আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শিক্ষার পরিবেশের সুযোগ, পাশাপাশি লন্ডন বা নিউইয়র্কের মতো বড় শহরের তুলনায় আনুমানিক তিন থেকে চার গুণ কম জীবনযাত্রার ব্যয়। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ যখন পরিবারের বাজেটে প্রভাব ফেলছে, তখন ব্যয়ের এই ব্যবধান ক্রমেই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

দেশটির আন্তর্জাতিক শিক্ষাক্ষেত্রের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে এডুঅপিনিয়নসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ব্রিটিশ ইউনিভার্সিটি ভিয়েতনামকে (BUV)। প্রতিষ্ঠানটিতে স্নাতক পর্যায়ের বার্ষিক টিউশন ফি গড়ে প্রায় €7,000 ($8,212)। হ্যানয়ে বার্ষিক জীবনযাত্রার ব্যয় আনুমানিক €5,600 থেকে €7,300; ফলে যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের সমমানের শিক্ষাক্রমের তুলনায় মোট পড়াশোনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এর মানে হলো, বড় অঙ্কের ঋণের বোঝা ছাড়াই মানসম্মত ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ।

বিজ্ঞাপন

বিইউভির ডেটা সায়েন্স অ্যান্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স প্রোগ্রামের শ্রীলঙ্কার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী করুণারত্নে চানাক্য রাহেল এই পরিবর্তিত হিসাবের একটি উদাহরণ। শুরুতে তিনি জার্মানিতে পড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন; ভিয়েতনাম তাঁর প্রাথমিক বিবেচনায় ছিল না।

প্রথমে আমি জার্মানিতে পড়ার কথা ভাবছিলাম, আর ভিয়েতনাম আমার প্রথম পছন্দ ছিল না। তবে দেশটি সম্পর্কে আরও জানার পর বুঝেছি, এখানে পড়াশোনা ও থাকা অনেক বেশি সাশ্রয়ী। একই সঙ্গে শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থী হিসেবে অভিজ্ঞতা আমার প্রত্যাশা পূরণ করেছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ছাড়িয়েও গেছে।

রাহেলের অভিজ্ঞতা বৃহত্তর প্রবণতার সঙ্গে মেলে। বর্তমানে প্রায় ২২ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিয়েতনামে পড়াশোনা করছেন; সেখানে কী কী শিক্ষাক্রমের সুযোগ রয়েছে, সে কথা ছড়িয়ে পড়ায় এই সংখ্যা বাড়ছে।

মান নিশ্চিতকরণ ও শিক্ষার মানদণ্ড

ভিয়েতনামের ক্রমবর্ধমান সুনামের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে যাচাইকৃত প্রকৃত আন্তর্জাতিক শিক্ষার অভিজ্ঞতা দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। এ ক্ষেত্রে অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে বিইউভি। ২০২২ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছর কিউএস (QS) ৫-স্টার মর্যাদা অর্জনকারী ভিয়েতনামের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় এটি। এ ছাড়া যুক্তরাজ্যের উচ্চশিক্ষা মান নিশ্চিতকরণ সংস্থা (QAA) থেকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়া ভিয়েতনাম ও আসিয়ান অঞ্চলের প্রথম প্রতিষ্ঠানও বিইউভি।

এই ‘ট্রিপল কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স’ মডেল নিশ্চিত করে যে শিক্ষাক্রমগুলো স্থানীয় প্রাসঙ্গিকতা বজায় রেখেও কঠোর আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পূরণ করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পূর্ণকালীন ডিগ্রি প্রোগ্রাম, স্বল্পমেয়াদি বিনিময় কর্মসূচি এবং কাজের সঙ্গে সমন্বিত শিক্ষার সুযোগসহ বিভিন্ন বিকল্প রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজন মেটাতে শিক্ষার্থীসেবাগুলো সাজানো হয়েছে, যাতে তাঁরা সহায়ক পরিবেশ পান।

বিজ্ঞাপন

বিইউভির ডিজিটাল অ্যান্ড সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত এক চীনা শিক্ষার্থী সেখানকার সম্প্রদায়ভিত্তিক পরিবেশের কথা তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, এই অভিজ্ঞতায় কঠোর একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক সম্পৃক্ততাও রয়েছে।

আমার অভিজ্ঞতা খুবই ইতিবাচক। বিশ্ববিদ্যালয়টি ভালো মানের পড়াশোনার পাশাপাশি সহায়ক ও সক্রিয় একটি সম্প্রদায়ও গড়ে তুলেছে।

কৌশলগত অবস্থান ও দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা

ব্যয়ের বিষয়ের বাইরেও দীর্ঘমেয়াদে পড়াশোনার গন্তব্য হিসেবে ভিয়েতনামের আকর্ষণ বাড়ায় এমন কৌশলগত সুবিধা রয়েছে। দেশটির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থানকে এর ক্রমবর্ধমান পরিচিতির মূল কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে এডুঅপিনিয়নস। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা শুধু পড়াশোনার সুযোগই পান না; বিশ্ব প্রাকৃতিক ঐতিহ্যস্থল থেকে শুরু করে প্রাণবন্ত ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক আবহের নগরকেন্দ্র পর্যন্ত বৈচিত্র্যময় জীবনযাপনের অভিজ্ঞতাও লাভ করেন।

বিইউভির উপ-উপাচার্য অধ্যাপক রিক বেনেট এসব মৌলিক শক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন।

এই ভিত্তিগুলোর কারণেই ভিয়েতনাম আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য একাডেমিক উৎকর্ষ ও দীর্ঘমেয়াদি পেশাগত সম্ভাবনার মধ্যে আদর্শ ভারসাম্য দিতে পারে।

দেশটির অর্থনৈতিক গতিশীলতা স্নাতকদের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি ও উৎপাদন খাতে ভিয়েতনামে বড় বহুজাতিক বিনিয়োগ অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫.৪ শতাংশ বেড়ে ২.৯৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়। ২০২৩ সালে ৮ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের তথ্যপ্রযুক্তি বাজার ২০২৬ সালের মধ্যে ১৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে সফটওয়্যার প্রকৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় স্নাতকদের চাহিদা তৈরি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: প্রচলিত শিক্ষাকেন্দ্র থেকে সরে আসা

প্রচলিত গন্তব্যের দেশগুলো যখন নানা বড় চ্যালেঞ্জের মুখে, সেই প্রেক্ষাপটে ভিয়েতনামের উত্থান ঘটছে। যুক্তরাষ্ট্রে নীতিগত অস্থিরতা আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ভিসা বিধিনিষেধ ও অভিবাসীবিরোধী বক্তব্যের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি কমার খবর পাওয়া গেছে। ইউনিভার্সিটি অব ওয়াশিংটনে সম্প্রতি নতুন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি ৫-৭ শতাংশ কমেছে। কিছু বিশ্লেষণে যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সামগ্রিক পতনের হার ১৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

একইভাবে, যুক্তরাজ্যে টিউশন ফি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ওপর আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। কানাডার অভিবাসননীতির পরিবর্তন এবং অস্ট্রেলিয়ায় ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বৃদ্ধি—২০২৩ সালে ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে যা ২৪.৩ শতাংশে পৌঁছেছিল—সম্ভাব্য শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে।

এই পরিবেশ একাধিক মহাদেশে বিকল্প গন্তব্যের জন্য সুযোগ তৈরি করেছে। জার্মানিতে বর্তমানে প্রায় ৪ লাখ ২০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পড়ছেন; টিউশন ফিবিহীন বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইংরেজি ভাষায় পড়ানো শিক্ষাক্রম এ প্রবৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে। হাঙ্গেরির স্টিপেনডিয়াম হাঙ্গারিকাম বৃত্তির জন্য এ বছর আবেদন বেড়ে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে, যদিও আসন রয়েছে মাত্র ৫ হাজার। ২০২৪-২৫ সালে ফ্রান্সে প্রায় ৪ লাখ ৪৫ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ছিলেন; ২০২৭ সালের মধ্যে এ সংখ্যা ৫ লাখে নেওয়ার লক্ষ্য দেশটির।

এশিয়ায় নির্ধারিত সময়ের দুই বছর আগেই দক্ষিণ কোরিয়ায় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৩ লাখ ছাড়িয়েছে; দেশটির শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ভিয়েতনাম নিজেই একটি বড় উৎসবাজার। ২০৩০ সালের মধ্যে ২ লাখ ৫০ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী নেওয়ার লক্ষ্য মালয়েশিয়ার, আর জাপানের লক্ষ্য ২০৩৩ সালের মধ্যে ৪ লাখে পৌঁছানো।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রসারিত অবকাঠামো ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য

আন্তর্জাতিক পরিসরে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যকে সমর্থন করে এমন উল্লেখযোগ্য অবকাঠামোগত বিনিয়োগ হচ্ছে ভিয়েতনামের শিক্ষাক্ষেত্রে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে খোই নগুয়েন ইনভেস্টমেন্ট গ্রুপ (KNI) এবং আরডিংলি কলেজ ইন্টারন্যাশনাল লাও কাই প্রদেশে আরডিংলি কলেজ ভিয়েতনাম প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা ঘোষণা করে। এটি হবে দেশটির প্রথম ব্রিটিশ ধাঁচের আবাসিক স্কুল। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চালু হওয়ার কথা প্রতিষ্ঠানটির; ১১ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থীদের জন্য এখানে আন্তর্জাতিক ও দ্বিভাষিক—দুই ধরনের শিক্ষার সুযোগ থাকবে।

যুক্তরাজ্য ও ভিয়েতনামের সম্পর্ককে পূর্ণাঙ্গ কৌশলগত অংশীদারত্বে উন্নীত করার ফলে এই উন্নয়ন ঘটছে; এতে শিক্ষাক্ষেত্রে সহযোগিতার অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আরডিংলি কলেজ ইউকের প্রধান বেন ফিগিসের মতে, এই অংশীদারত্ব ভিয়েতনামে উচ্চমানের ব্রিটিশ শিক্ষার প্রসারের পথ খুলে দিচ্ছে এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের পাঠ্যক্রমে পড়ার সুযোগ দিচ্ছে।

চীন, লাওস, কম্বোডিয়া, আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত ও জাপান থেকে শিক্ষার্থী আকৃষ্ট করে আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার লক্ষ্য রয়েছে আবাসিক স্কুলটির। উচ্চশিক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে কে-টুয়েলভ পর্যায়ের আন্তর্জাতিক স্কুলশিক্ষায় এই সম্প্রসারণ ভিয়েতনামের ক্রমবর্ধমান শিক্ষাব্যবস্থার বিস্তৃতি তুলে ধরে।

ভারতের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে, সাশ্রয়ী ব্যয়ে ব্রিটিশ স্বীকৃত ডিগ্রি পেতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ভিয়েতনাম কৌশলগত গন্তব্য হয়ে উঠেছে। যুক্তরাজ্যের ভিসা বিধিনিষেধ কঠোর হওয়া এবং ব্যয় বাড়ার কারণে ভারতীয় শিক্ষার্থীরা ভিয়েতনামের মতো আন্তর্দেশীয় শিক্ষাকেন্দ্রের দিকে ক্রমেই ঝুঁকছেন। ব্রিটিশ ইউনিভার্সিটি ভিয়েতনাম ভারতীয় শিক্ষার্থীদের জন্য টিউশন ফির সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃত্তি দেয়। এখানকার ডিগ্রি যুক্তরাজ্যের শীর্ষ পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো একটি থেকে দেওয়া হয় এবং একাডেমিক নির্দেশনা দেয় লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস।

বিজ্ঞাপন

মূল বিষয়গুলো

  • এডুঅপিনিয়নসের তালিকায় ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, পোল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার পাশাপাশি বিদেশে পড়াশোনার বিশ্বের শীর্ষ আটটি উদীয়মান গন্তব্যের একটি ভিয়েতনাম
  • ২০২৪-২০২৫ সালে শিক্ষার্থী সন্তুষ্টিতে পাঁচের মধ্যে ৪.৫-এর বেশি স্কোর পেয়েছে দেশটি, যা যুক্তরাজ্যের ৪.৩৮ গড় স্কোরের চেয়ে বেশি
  • লন্ডন বা নিউইয়র্কের মতো বড় শহরের তুলনায় ভিয়েতনামে জীবনযাত্রার ব্যয় আনুমানিক তিন থেকে চার গুণ কম
  • বর্তমানে প্রায় ২২ হাজার আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভিয়েতনামে পড়াশোনা করছেন; সংখ্যাটি ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে
  • ২০২২ থেকে ২০২৮ সাল পর্যন্ত টানা ছয় বছর কিউএস ৫-স্টার মর্যাদা পাওয়া ভিয়েতনামের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় বিইউভি; যুক্তরাজ্যের কিউএএ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়া আসিয়ানেরও প্রথম প্রতিষ্ঠান এটি
  • বিইউভিতে স্নাতক পর্যায়ের টিউশন ফি বছরে গড়ে প্রায় €7,000 ($8,212), যা যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনীয় শিক্ষাক্রমের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কম
  • রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থানের সুবিধা রয়েছে ভিয়েতনামের
  • নতুন অবকাঠামোগত বিনিয়োগের মধ্যে রয়েছে ২০২৬ সালে চালু হতে যাওয়া ব্রিটিশ ধাঁচের আবাসিক স্কুল আরডিংলি কলেজ ভিয়েতনাম
  • পশ্চিমা দেশগুলোর প্রচলিত গন্তব্যগুলোতে নীতিগত অস্থিরতার মধ্যে ভিয়েতনামকে ক্রমেই স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষার বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে