কুকুর ও বিড়ালের মাংসের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাকার্তা
রাজধানীজুড়ে কুকুর ও বিড়ালের মাংস বিক্রি এবং খাওয়া নিষিদ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাকার্তা। নগর নেতারা বলছেন, এ পদক্ষেপ জনস্বাস্থ্য রক্ষা, শহরকে জলাতঙ্কমুক্ত রাখা এবং নিয়ন্ত্রণহীন এই বাণিজ্যে প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধে সহায়তা করবে। গভর্নর বলেছেন, এক মাসের মধ্যে চূড়ান্ত হওয়ার কথা রয়েছে যে বিধিমালাটি, তা বাজার, রাস্তার খাবারের দোকান ও রেস্তোরাঁয় কুকুর ও বিড়ালের মাংস বিক্রি বা পরিবেশনকে বেআইনি করবে। প্রাণিকল্যাণ সংগঠন ও চিকিৎসকেরা পরিকল্পনাটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে স্থানীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে এ মাংসকে বিবেচনা করা কিছু ব্যবসায়ী ও ভোজনরসিক একে অন্যায্য বলে নিন্দা করছেন।
সূচিপত্র
- কুকুর ও বিড়ালের মাংসের ওপর ব্যাপক নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাকার্তা
- এখন কেন: স্বাস্থ্যঝুঁকি, প্রাণিকল্যাণ নিয়ে উদ্বেগ ও সংকুচিত বাজার
- ঐতিহ্যের মুখোমুখি নীতি: বিক্রেতা ও ক্রেতাদের আপত্তি
- স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা গুরুতর
- জাকার্তার বিধিমালায় কী থাকবে এবং কীভাবে তা কার্যকর হতে পারে
- দমন অভিযান ও উদ্ধার কার্যক্রম বদলে দিচ্ছে বাণিজ্য
- গোপন সরবরাহব্যবস্থা এবং কেন তা টিকে আছে
- ইন্দোনেশিয়া একা নয়: বিশ্বজুড়ে কুকুরের মাংস থেকে সরে আসার প্রবণতা
- নিষেধাজ্ঞা জাকার্তার জন্য কী অর্থ বহন করতে পারে
- মূল বিষয়গুলো
জাকার্তার ছোট একটি খাবারের দোকান চালান লাস্ত্রি। তাঁর জন্য আসন্ন নিষেধাজ্ঞাটি উদ্বেগের কারণ। তিনি বলেন, ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে প্রতিদ্বন্দ্বী দোকানগুলো নীরবে কুকুরের মাংসের পদ বিক্রি বন্ধ করায় গত বছর তাঁর বিক্রি বেড়েছে। কিন্তু বিধিমালাটি কার্যকর হলে রাতারাতি তাঁর ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। লাস্ত্রির দাবি, তাঁর মাংস চুরি করা পোষা কুকুরের নয়, বুনো কুকুরের। এ ধরনের খাবারের দোকানের নিয়মিত ক্রেতাদের কেউ কেউ বলেন, কুকুরের স্যুপ স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, বিশেষ করে ডেঙ্গু থেকে সেরে ওঠা রোগীদের জন্য। চিকিৎসকেরা বলছেন, এসব দাবির কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
নিয়মটি কার্যকর হওয়ার আগেই জাকার্তায় এই বাণিজ্য সংকুচিত হয়েছে। তরুণ বাসিন্দারা কুকুর ও বিড়ালকে খাবারের বদলে সঙ্গী হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন, আর শহরের অনেক খাবারের দোকান নীরবে এসব পদ মেনু থেকে সরিয়ে নিয়েছে। এই পরিবর্তনের পাশাপাশি বেড়েছে আইন প্রয়োগ ও জনসচেতনতামূলক প্রচার। প্রাণী সুরক্ষা কর্মীদের হিসাব, জাকার্তায় এখনো প্রতি মাসে প্রায় ৮,০০০ থেকে ৯,০০০ কুকুর খাবারের জন্য জবাই করা হয়; ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৯,৫০০। চাহিদা মেটাতে কিছু প্রাণী জলাতঙ্কপ্রবণ এলাকা থেকেও আনা হয়।
এখন কেন: স্বাস্থ্যঝুঁকি, প্রাণিকল্যাণ নিয়ে উদ্বেগ ও সংকুচিত বাজার
ইন্দোনেশিয়াজুড়ে জলাতঙ্ক এখনো বড় উদ্বেগের বিষয়। দেশটির ৩৮টি প্রদেশের মধ্যে মাত্র ১১টি জলাতঙ্কমুক্ত। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সতর্কতা, কুকুরের মাংসের বাণিজ্য টিকাদান কর্মসূচিকে দুর্বল করে। কারণ, এতে টিকাহীন কুকুর প্রদেশের সীমানা পেরিয়ে স্থানান্তরিত হয়, বিভিন্ন এলাকার কুকুরের মধ্যে সংযোগ তৈরি হয় এবং এমন প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে, যার উৎস শনাক্ত করা কঠিন। সরবরাহব্যবস্থাটি অনানুষ্ঠানিক এবং প্রায়ই পশুচিকিৎসা পরীক্ষা, শীতল পরিবহনের নিয়ন্ত্রণ কিংবা গবাদিপশু ও আইনসম্মতভাবে বিক্রি হওয়া মাংসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য স্বাস্থ্যবিধি পরীক্ষা ছাড়াই চলে।
এই উদ্যোগের কেন্দ্রে রয়েছে প্রাণিকল্যাণও। কয়েক বছর ধরে চালানো তদন্তে প্রাণী ধরা, পরিবহন ও জবাইয়ের নিষ্ঠুর পদ্ধতির নথি পাওয়া গেছে। কেন্দ্রীয় সরকার বলেছে, কুকুরের মাংস খাবার নয়, আর স্থানীয় প্রশাসনগুলো এ বাণিজ্য নিষিদ্ধ করতে শুরু করেছে। জাকার্তার পরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়ার বৃহত্তম শহরে এযাবৎকালের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে। সামাজিক চাপ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে সতর্কতার মধ্যে অনেক রেস্তোরাঁও কুকুরের মাংসের পদ বাদ দিচ্ছে।
ঐতিহ্যের মুখোমুখি নীতি: বিক্রেতা ও ক্রেতাদের আপত্তি
কিছু সম্প্রদায়ের মধ্যে কুকুরের মাংস খাওয়ার দীর্ঘদিনের প্রচলন রয়েছে, বিশেষ করে উত্তর সুমাত্রার বাতাক জনগোষ্ঠীর মধ্যে। সেখানে সাকসাং ও বি১-এর মতো পদ পারিবারিক সমাবেশ ও ধর্মীয় উৎসবের অংশ। মধ্য জাভা ও উত্তর সুলাওয়েসির কিছু এলাকায় কুকুরের মাংসের পদ কখনো কখনো সাংকেতিক নামে প্রচার করা হয়। সোলোর বিক্রেতারা রাস্তার পাশের সাইনবোর্ডে স্কুবি ডুর মতো মজার নাম ব্যবহার করেছেন। দীর্ঘদিনের ক্রেতারা প্রায়ই এর স্বাদকে স্বতন্ত্র ও শরীর গরম করে—এভাবে বর্ণনা করেন। কারও কারও বিশ্বাস, কুকুরের স্যুপ ডেঙ্গু রোগীর রক্তে প্লেটলেটের সংখ্যা বাড়ায়; চিকিৎসকেরা এ দাবিকে কুসংস্কার বলে নাকচ করেন।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য, নিষেধাজ্ঞায় তাঁদের জীবিকা পুরোপুরি ধ্বংস হতে পারে। লাস্ত্রি জানান, রাজধানীর আশপাশের অনেক দোকান কুকুরের মাংস পরিবেশন বন্ধ করায় এখন আশপাশের শহরগুলো থেকে আসা সরবরাহের অর্ডার তাঁকে সামলাতে হচ্ছে। মেদানের মতো শহরের অন্য ব্যবসায়ীরা বলছেন, তাঁদের সংস্কৃতিকে লক্ষ্য করে করা কোনো নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তাঁরা প্রতিবাদ করবেন। কয়েকজন মালিক অবশ্য বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা সুষ্ঠুভাবে সর্বত্র প্রয়োগ করা হলে তাঁরা তা মেনে নেবেন। দ্বীপপুঞ্জজুড়ে স্পষ্ট নিয়ম থাকা দরকার বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটা গুরুতর
জলাতঙ্ক পরিচিত ভাইরাসগুলোর মধ্যে অন্যতম প্রাণঘাতী। মানুষের শরীরে উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর এ রোগ প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী। ভাইরাসটি লালা ও স্নায়ুকলায় থাকে। প্রাণী ধরা ও জবাইয়ের সময় মানুষের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে, কারণ তখন কামড় ও কেটে যাওয়ার ঘটনা সাধারণ এবং সংক্রমিত লালা বা কলা ক্ষতস্থান কিংবা শ্লৈষ্মিক ঝিল্লির সংস্পর্শে আসতে পারে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের সতর্কতা, জলাতঙ্কে আক্রান্ত প্রাণীর মাংস থেকে রোগ ছড়াতে পারে। অজানা উৎস থেকে কুকুর সংগ্রহ করে টিকাদানের নথি ছাড়াই এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে নেওয়া হলে ঝুঁকি আরও বাড়ে।
অনিয়ন্ত্রিত জবাই ও বিক্রির কারণে খাদ্যবাহিত ঝুঁকি নিয়েও চিকিৎসকেরা সতর্ক করেছেন। অপরিচ্ছন্নতার কারণে সালমোনেলা ও ই. কোলাইয়ের মতো ব্যাকটেরিয়া ছড়াতে পারে, পাশাপাশি গুরুতর পরিপাকতন্ত্রের রোগ সৃষ্টিকারী পরজীবীও ছড়াতে পারে। কুকুরের মাংসের বাণিজ্য সাধারণত গবাদিপশুর জন্য তৈরি পশুচিকিৎসা পরীক্ষা ও স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থার বাইরে পরিচালিত হয়। ফলে পশুদের ট্রাকে তোলার মুহূর্ত থেকে কসাই করা ও রান্নার শেষ ধাপ পর্যন্ত দূষণের ঝুঁকি থাকে।
জাকার্তার বিধিমালায় কী থাকবে এবং কীভাবে তা কার্যকর হতে পারে
গভর্নর বলেছেন, বিধিমালায় রাজধানীজুড়ে কুকুর ও বিড়ালের মাংস বিক্রি এবং পরিবেশন নিষিদ্ধ করা হবে। নগর সংস্থাগুলো পরিদর্শন চালাবে এবং নিয়ম না মানা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জরিমানা ও বন্ধ করে দেওয়াসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা বলছেন, পরিকল্পনাটি জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা ও প্রাণিস্বাস্থ্য কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, পাশাপাশি জলাতঙ্ক প্রতিরোধে শহরের দীর্ঘদিনের লক্ষ্যের সঙ্গেও মেলে। প্রায় দুই দশক ধরে জাকার্তা জলাতঙ্কমুক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে সারা দেশ থেকে জলাতঙ্ক নির্মূলের লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে ইন্দোনেশিয়া; নীতিনির্ধারকেরা এ রেকর্ড রক্ষা করতে চান।
ইন্দোনেশিয়ার আইনে কুকুর ও বিড়ালকে গবাদিপশু হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়নি, আর কেন্দ্রীয় সরকারের একটি বিধিমালায় তাদের মাংসকে খাবার নয় বলে নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব বিধান স্থানীয় প্রশাসনকে নিজ নিজ এলাকায় এ বাণিজ্য সীমিত বা নিষিদ্ধ করার সুযোগ দেয়। কারাঙ্গানিয়ার, সালাতিগা, সুকোহারজো এবং সুলাওয়েসির তোমোহন শহরসহ বেশ কয়েকটি জেলা ও শহর ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। জাকার্তার উদ্যোগে দেশের সবচেয়ে ব্যস্ত খাবারের বাজারেও এ ব্যবস্থা সম্প্রসারিত হবে। এতে বাজার, দোকান ও রেস্তোরাঁ অন্তর্ভুক্ত হবে, যেখানে কুকুরের মাংসের পদ এখনো নীরবে বিক্রি হয়ে আসছে।
দমন অভিযান ও উদ্ধার কার্যক্রম বদলে দিচ্ছে বাণিজ্য
ইন্দোনেশিয়ার সবচেয়ে কুখ্যাত কাঁচাবাজারগুলোর একটি, উত্তর সুলাওয়েসির তোমোহন এক্সট্রিম মার্কেট, কয়েক বছরের প্রচারাভিযান ও আলোচনার পর কুকুর ও বিড়ালের মাংস জবাই বন্ধ করেছে। কর্তৃপক্ষ নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের অঙ্গীকার করেছে, আর প্রাণিকল্যাণ সংগঠনগুলো অবশিষ্ট প্রাণীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছে। চরম খাবারের জন্য পরিচিত এলাকাটি থেকে দীর্ঘদিনের পর্যটক আকর্ষণটি সরে গেছে। এ ঘটনা দেখিয়েছে, ধারাবাহিক চাপ থাকলে স্থানীয় নিষেধাজ্ঞা জারি ও কার্যকর করা সম্ভব।
পাচারকারীদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। মধ্য জাভার সুকোহারজোতে কর্মকর্তারা ৫৩টি কুকুরবোঝাই একটি ট্রাক আটক করেন। প্রাণীগুলোকে বস্তার ভেতরে বেঁধে রাখা হয়েছিল, অনেকগুলোর মুখও বাঁধা ছিল। ঘটনাস্থলে সহায়তা করা প্রচারকর্মীরা জানান, কয়েকটি কুকুরের গলায় তখনো কলার ছিল, যা ইঙ্গিত দেয় সেগুলো বাড়ি থেকে চুরি করা হয়েছিল। হিউম্যান সোসাইটি ইন্টারন্যাশনালের প্রচারাভিযানবিষয়ক পরিচালক এবং ডগ মিট ফ্রি ইন্দোনেশিয়া জোটের সদস্য লোলা ওয়েবার উদ্ধারকর্মীরা কী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছিলেন, তা বর্ণনা করেন।
এটি ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক; অনেক কুকুরের গলায় তখনো কলার ছিল, সম্ভবত সেগুলো পোষা প্রাণী হিসেবে চুরি করা হয়েছিল।
সুকোহারজোর অভিযানটির আগে আরেকটি ঘটনায় ৭৮টি প্রাণী নিয়ে যাওয়ার সময় ধরা পড়া এক কুকুর ব্যবসায়ীকে ১০ মাসের কারাদণ্ড ও ১০,০০০ ডলার জরিমানা করা হয়। বিদ্যমান প্রাণিস্বাস্থ্য ও কোয়ারেন্টিন আইন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ ক্রমেই মামলা করতে আগ্রহী হচ্ছে, এমন লক্ষণ হিসেবে কর্মীরা এ ধরনের রায়ের কথা উল্লেখ করেন। জনমতও বদলাচ্ছে বলে মনে হয়। প্রচারকর্মীদের উদ্ধৃত জরিপে দেখা যায়, ইন্দোনেশিয়ার অল্পসংখ্যক মানুষই কুকুরের মাংস খান এবং অধিকাংশ উত্তরদাতা দেশজুড়ে নিষেধাজ্ঞার পক্ষে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নেতারা বিষয়টিকে জননিরাপত্তার পাশাপাশি নৈতিকতার প্রশ্ন হিসেবেও তুলে ধরেছেন। সুকোহারজো পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান তারজোনো সাপতো নুগরোহো স্থানীয় মানুষের মনোভাব তুলে ধরেন।
সম্প্রদায় এই বাণিজ্য বা জবাই চায় না। এ বাণিজ্য ইতিমধ্যেই বেআইনি এবং ইসলামি আইনে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।
গোপন সরবরাহব্যবস্থা এবং কেন তা টিকে আছে
ইন্দোনেশিয়ায় কুকুরের মাংসের বাণিজ্য অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্কের ওপর নির্ভরশীল। ব্যবসায়ীরা কয়েকটি প্রদেশ থেকে কুকুর সংগ্রহ করেন, প্রায়ই রাতের বেলা আন্তশহর সড়ক দিয়ে সেগুলো নিয়ে যান। প্রচারকর্মীদের সংগ্রহ করা বিবরণে বলা হয়েছে, প্রাণীদের খাঁচা বা বস্তার মধ্যে গাদাগাদি করে রাখা হয়, মুখ বেঁধে দেওয়া হয় এবং খাবার বা পানি ছাড়াই দীর্ঘ পথ পরিবহন করা হয়। উৎস শনাক্ত করা কঠিন হওয়ায় পোষা প্রাণী চুরি এবং জলাতঙ্কের বিরুদ্ধে লড়াইরত এলাকা থেকে অবৈধভাবে কুকুর ধরার সুযোগ তৈরি হয়। এতে নিয়ন্ত্রক নজরদারি ও রোগ নিয়ন্ত্রণও কঠিন হয়ে পড়ে।
কর্তৃপক্ষের চাপ ও সামাজিক কলঙ্ক সত্ত্বেও দেশের কিছু এলাকায় চাহিদা এখনো রয়েছে। জাকার্তায় মাসে আনুমানিক জবাইয়ের সংখ্যা ২০২০ সালের প্রায় ৯,৫০০ থেকে কমে এখন প্রায় ৮,০০০ হয়েছে। উত্তর সুমাত্রা, মধ্য সুলাওয়েসি ও পূর্ব নুসা তেঙ্গারা অন্যতম কেন্দ্র, যদিও এসব অঞ্চলের কিছু স্থানীয় সরকার নিষেধাজ্ঞা বিবেচনা বা বাস্তবায়ন শুরু করেছে। কয়েকটি এলাকায় অনেক ছোট পরিসরে বিড়ালের মাংস খাওয়া হয়; জাকার্তার নিষেধাজ্ঞায় এটিও অন্তর্ভুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়া একা নয়: বিশ্বজুড়ে কুকুরের মাংস থেকে সরে আসার প্রবণতা
এশিয়াজুড়ে এ বাণিজ্য বন্ধের পক্ষে গতি বাড়ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা কুকুরের মাংস খাওয়া নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনায় সমর্থন দিয়েছেন। এ ব্যবসা থেকে কৃষক ও রেস্তোরাঁগুলোকে বেরিয়ে আসতে সহায়তার পাশাপাশি তিন বছরের রূপান্তরকাল রাখার প্রস্তাবও রয়েছে। দেশটিতে এক হাজারের বেশি কুকুরের খামার এবং শত শত রেস্তোরাঁ রয়েছে, যা এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে জরিপে দেখা যায়, বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে কুকুরের মাংসের প্রতি জনসমর্থন কম।
ফিলিপাইন, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, হংকং, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াসহ এ অঞ্চলের বেশ কয়েকটি স্থানে কুকুরের মাংসের বাণিজ্য ইতিমধ্যে নিষিদ্ধ হয়েছে। চীন ও ভিয়েতনামের কিছু এলাকায় ঐতিহ্যটি এখনো রয়েছে, তবে এ নিয়ে জনআলোচনা বাড়ছে এবং স্থানীয় বিধিনিষেধও বেড়েছে। নগরায়ণ, পোষা প্রাণী পালনের প্রবণতা ও প্রাণী সুরক্ষার নীতি ছড়িয়ে পড়ায় বিশ্বজুড়ে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া কমেছে। ইন্দোনেশিয়ার বিতর্কেও একই শক্তিগুলো কাজ করছে। জাকার্তার মতো শহরের তরুণ নগরবাসীরা কুকুর ও বিড়ালকে গবাদিপশু নয়, পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখেন।
ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক গবেষকেরা বলছেন, সাধারণ গবাদিপশুর মাংসের তুলনায় কুকুর বা বিড়ালের মাংসে কোনো বাড়তি সুবিধা আছে, এমন প্রমাণ নেই। উদাহরণস্বরূপ, কুকুরের মাংসের তুলনায় গরুর মাংসে উচ্চমানের প্রোটিন বেশি, অণুপুষ্টির গঠন ভালো এবং চর্বি কম। চিকিৎসকেরা আবারও বলছেন, কুকুরের স্যুপ ডেঙ্গু রোগীর প্লেটলেট বাড়ায়—এ দাবির কোনো ভিত্তি নেই। তাঁদের সতর্কতা, কুকুর বা বিড়ালের মাংস খেলে প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত রোগ ও ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
নিষেধাজ্ঞা জাকার্তার জন্য কী অর্থ বহন করতে পারে
জাকার্তা যদি শহরজুড়ে নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ ও কার্যকর করে, তাহলে কুকুর বা বিড়ালের মাংস বিক্রি চালিয়ে যাওয়া রেস্তোরাঁ ও দোকানগুলোকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কিছু প্রতিষ্ঠান মেনু বদলানোর চেষ্টা করতে পারে। উত্তর সুলাওয়েসিতে তোমোহনের এক কসাইখানার মালিক বলেছেন, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে তিনি শূকরের মাংসের ব্যবসায় যাবেন। অন্যরা রাজধানীর বাইরের ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার চেষ্টা করতে পারেন, এতে আন্তপ্রাদেশিক পরিবহনে তল্লাশি আরও কঠোর হতে পারে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, নতুন পথে যেতে তাঁদের সময় ও সহায়তা দরকার। নগর কর্মকর্তাদেরও সম্ভবত আইন প্রয়োগের পাশাপাশি শিক্ষা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে।
বাসিন্দাদের জন্য এই পরিবর্তনে নিয়ম আরও স্পষ্ট হবে। এতে বোঝানো হবে, জাকার্তায় কুকুর ও বিড়ালের মাংস বিক্রি করা যাবে না; পাশাপাশি সম্ভাব্য সংক্রমিত কুকুর শহরে আসাও কমবে। বেওয়ারিশ প্রাণীর সংখ্যা ও চুরি কমাতে পোষা প্রাণীর টিকাদান, বন্ধ্যাকরণ ও নিবন্ধন নিয়ে জনস্বাস্থ্য প্রচারাভিযানও আইন প্রয়োগের সঙ্গে চলতে পারে। কর্মীরা আশা করছেন, জাকার্তার দৃষ্টান্ত অন্য প্রশাসনগুলোকেও প্রভাবিত করবে। ছোট পরিসরে গোপন বাজার টিকে থাকার ঝুঁকি থাকলেও, পরিদর্শন, মামলা ও সামাজিক চাপের সমন্বয়ে ইতিমধ্যে অনেক দোকান কুকুরের মাংস পরিবেশন বন্ধ করেছে।
মূল বিষয়গুলো
- জাকার্তা কুকুর ও বিড়ালের মাংস বিক্রি ও খাওয়া নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা করছে; এক মাসের মধ্যে বিধিমালা আসতে পারে।
- নগর নেতারা বলছেন, জলাতঙ্কমুক্ত জাকার্তা বজায় রাখা এবং জনস্বাস্থ্য ও প্রাণিকল্যাণ রক্ষাই এ পদক্ষেপের লক্ষ্য।
- হিসাব অনুযায়ী, রাজধানীতে এখনো মাসে ৮,০০০ থেকে ৯,০০০ কুকুর জবাই করা হয়; ২০২০ সালে এ সংখ্যা ছিল প্রায় ৯,৫০০।
- ইন্দোনেশিয়ার ৩৮টি প্রদেশের মধ্যে মাত্র ১১টি জলাতঙ্কমুক্ত। কুকুরের মাংসের বাণিজ্য টিকাদান ও রোগ নিয়ন্ত্রণকে দুর্বল করে।
- স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কুকুরের মাংস ডেঙ্গু রোগীর প্লেটলেট বাড়ায়—এমন প্রমাণ নেই।
- সামাজিক চাপ ও পরিদর্শনের মধ্যে রেস্তোরাঁ ও দোকানগুলো ইতিমধ্যে কুকুরের মাংসের পদ কমিয়েছে; তরুণ ক্রেতারা কুকুরকে পোষা প্রাণী হিসেবে দেখছেন।
- মধ্য জাভায় পুলিশি অভিযানে কুকুরের চালান আটক হয়েছে, আর পাচারকারীদের আদালত কারাদণ্ড ও জরিমানা দিয়েছেন।
- প্রচারাভিযান ও আলোচনার পর উত্তর সুলাওয়েসির তোমোহন বাজারে কুকুর ও বিড়ালের মাংস জবাই বন্ধ হয়েছে।
- ফিলিপাইন, তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, হংকং, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়াসহ এশিয়ার বেশ কয়েকটি প্রশাসনিক অঞ্চলে কুকুরের মাংসের বাণিজ্য নিষিদ্ধ।
- জাকার্তার নিয়ম বাজার, দোকান ও রেস্তোরাঁয় প্রযোজ্য হবে; পরিদর্শন এবং প্রয়োজনে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের মাধ্যমে তা কার্যকর করা হতে পারে।






