করপোরেট ক্যারিয়ারের বদলে নমনীয়তাকে বেছে নিচ্ছে এক প্রজন্ম
থাইল্যান্ডে তরুণদের কাজের ধরনে পরিবর্তন আসছে। অনেক নতুন স্নাতক পূর্ণকালীন করপোরেট চাকরিতে, বিশেষ করে কারখানায় কাজ করতে কম আগ্রহী। তাঁরা নমনীয়তা, ফ্রিল্যান্স আয় এবং নিজ উদ্যোগে গড়া ক্যারিয়ার খুঁজছেন। অন্যদিকে, নিয়োগকর্তারা প্রথমবার চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ দিতে আগের চেয়ে ধীর। কোম্পানিগুলোর বক্তব্য, ব্যবহারিক দক্ষতার ঘাটতি, কর্মক্ষেত্রে সীমিত অভিজ্ঞতা এবং অনিশ্চিত অর্থনীতিতে ব্যয় নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে। বাণিজ্য উত্তেজনা, স্বয়ংক্রিয়তা এবং ব্যবসা বন্ধের সংখ্যা বৃদ্ধি যখন নিয়োগের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, তখন এই টানাপোড়েন চাকরির বাজারকে নতুন রূপ দিচ্ছে।
সূচিপত্র
- করপোরেট ক্যারিয়ারের বদলে নমনীয়তাকে বেছে নিচ্ছে এক প্রজন্ম
- বেকারত্ব ও ছদ্মবেকারত্বের চিত্র
- নিয়োগকর্তাদের দ্বিধা এবং স্নাতকদের স্বনির্ভরতা বেছে নেওয়ার কারণ
- দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অমিল
- জীবনযাপনের অগ্রাধিকার ও গিগ অর্থনীতি
- এআই ও করপোরেট পুনর্গঠনে বদলাচ্ছে চাহিদা
- শুল্ক, রপ্তানির দুর্বলতা ও এসএমই খাতের চাপে চাকরির বাজারেও প্রভাব
- প্রযুক্তি যেমন বাধা, তেমনি নতুন চাকরির চালিকাশক্তি
- যেসব খাতে এখনো সুযোগ বাড়ছে
- বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণদাতারা যেভাবে খাপ খাওয়াচ্ছেন
- নিয়োগকর্তারা কী চান
- প্রথম চাকরি পাওয়ার বাস্তব পথ
- চাপ কমাতে নীতিগত পদক্ষেপ
- থাই কর্মীরা এখন যা করতে পারেন
- মূল কথা
প্রতি বছর থাইল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো থেকে প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার নতুন স্নাতক বের হন, যাঁদের প্রায় ৬১ শতাংশের স্নাতক ডিগ্রি রয়েছে। তবে ডিগ্রিধারীদের ক্রমবর্ধমান অংশ প্রথম চাকরি পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। ন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (এনইএসডিসি) সতর্ক করেছে, ৮৯ শতাংশ নির্বাহী নতুন স্নাতকদের নিয়োগ এড়িয়ে চলেন। ২০২৫ সালে কোম্পানিগুলো শূন্য পদের সংখ্যা কমানো, অস্থায়ী চুক্তির দিকে ঝোঁকা এবং প্রশিক্ষণ প্রয়োজন এমন পদে নিয়োগ কমানোয় এই অনীহা আরও বেড়েছে। এর জবাবে অনেক স্নাতক ফ্রিল্যান্সিং, গিগ কাজ, কনটেন্ট তৈরি বা ছোট অনলাইন ব্যবসার চেষ্টা করছেন। তাঁরা এমন কাজ চাইছেন, যা তাঁদের সময়সূচি ও পছন্দের স্থানের সঙ্গে মানানসই।
এই প্রবণতা বৈশ্বিক পরিবর্তন থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীসংখ্যা কমাচ্ছে, এআই সরঞ্জাম যুক্ত করতে চাকরির বিবরণ নতুন করে সাজাচ্ছে এবং শ্বেতপোশাক কর্মীদের পদ একীভূত করছে। আনুষ্ঠানিক ও অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের মিশ্রণের কারণে থাইল্যান্ডের শ্রমবাজারও অনন্য। এতে ঘোষিত বেকারত্বের হার কম থাকে, তবে ছদ্মবেকারত্ব ও অনিশ্চিত আয়ের বাস্তবতা আড়ালে পড়ে। শিরোনামের পরিসংখ্যানের নিচে শ্রমবাজারের কয়েকটি অংশ চাপে রয়েছে, বিশেষ করে তরুণ চাকরিপ্রার্থী এবং ব্যবহারিক অভিজ্ঞতাহীন ডিগ্রিধারীরা।
বেকারত্ব ও ছদ্মবেকারত্বের চিত্র
মহামারির সময় সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর পর ২০২৩ সাল এবং ২০২৫ সালের শুরুর দিকে থাইল্যান্ডের সরকারি বেকারত্বের হার আবার প্রায় ১ শতাংশে নেমে আসে। তবে এই চিত্র অসম্পূর্ণ। সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতাভুক্ত কর্মসংস্থানে চাপ বাড়তে দেখা যাচ্ছে। সামাজিক নিরাপত্তার আওতাভুক্ত কর্মীদের মধ্যে বেকারত্বের হার ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বেড়ে ২ দশমিক ৩ শতাংশে দাঁড়ায়, যা তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৫ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে বেকারত্ব বেড়ে ৫ দশমিক ৯ শতাংশ হয়, যা ২০২৩ সালের পর সর্বোচ্চ। একই প্রান্তিকে স্নাতক ডিগ্রিধারী ও তার বেশি শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্নদের মধ্যে বেকারত্ব বেড়ে ১৮ দশমিক ৯ শতাংশ হয়, যা আগের সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।
কর্মরত হিসেবে গণ্য মানুষের সংখ্যাও কমেছে। মহামারির পর শ্রমবাজার ঘুরে দাঁড়িয়ে ২০২৩ সালে প্রায় ৪ কোটি চাকরিতে পৌঁছেছিল; সে বছরের তুলনায় মোট কর্মসংস্থান ৫ লাখেরও বেশি কমেছে। বাণিজ্য ও সেবা খাতে ছদ্মবেকারত্ব বেড়েছে। গড় সাপ্তাহিক কর্মঘণ্টা সামান্য বেড়েছে, তবে এর একটি কারণ ভালো মানের চাকরির বিস্তার নয়, বরং সংসার চালাতে মানুষের একাধিক শিফটে কাজ করা। থাইল্যান্ডের সরকারি বেকারত্বের হার কম হওয়ার পেছনে রয়েছে শ্রমবাজারের কাঠামো, যেখানে অনানুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের অংশ বড় এবং কৃষিতে মৌসুমি চক্র রয়েছে। এই বাস্তবতায় শ্রমের অব্যবহৃত সক্ষমতা প্রকৃত মাত্রার চেয়ে কম দেখাতে পারে। পাশাপাশি, যেসব স্নাতক ও শহুরে কর্মীর দক্ষতার সঙ্গে বিদ্যমান চাকরির চাহিদা মেলে না, তাঁদের অভিজ্ঞতাও পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না।
নিয়োগকর্তাদের দ্বিধা এবং স্নাতকদের স্বনির্ভরতা বেছে নেওয়ার কারণ
নিয়োগকর্তারা ধারাবাহিকভাবে বলেন, তাঁরা কাজের জন্য প্রস্তুত প্রার্থী চান। ২০২৫ সালের জরিপে অভিজ্ঞ কর্মী নিয়োগের প্রবল পছন্দ এবং কর্মক্ষেত্রের মৌলিক রীতিনীতি শেখানোর অনীহা দেখা গেছে। নতুন স্নাতকেরা এক পরস্পরবিরোধী পরিস্থিতির কথা বলছেন: অধিকাংশ পদের জন্য কোম্পানিগুলো অভিজ্ঞতা চায়, অথচ সেই অভিজ্ঞতা অর্জনের প্রাথমিক সুযোগ, বিশেষ করে বেতনসহ ইন্টার্নশিপ, কমে এসেছে।
দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার অমিল
২ লাখ ২১ হাজারের বেশি চাকরির বিজ্ঞাপন নিয়ে এক গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পদ নতুনদের জন্য উপযুক্ত; অধিকাংশ পদে এক থেকে দুই বছরের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয়েছে। বিভিন্ন খাতের নিয়োগকর্তারা অন্য দক্ষতার চেয়ে চারটি দক্ষতার ওপর বারবার গুরুত্ব দেন: ইংরেজিতে দক্ষতা, সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ এবং বিক্রয়-সংক্রান্ত বিচক্ষণতা। তথ্য, ক্লাউড ও সাইবার নিরাপত্তার মতো ক্ষেত্রে কারিগরি দক্ষতার চাহিদা রয়েছে, তবে কোম্পানিগুলো এমন প্রার্থীও চায়, যাঁরা দলে কাজ করতে, গ্রাহক সামলাতে এবং পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারেন। থাইল্যান্ডের ডেভেলপার কমিউনিটি নিয়ে এশিয়া ফাউন্ডেশনের গবেষণায় উন্নত পর্যায়ের প্রোগ্রামিং, ক্লাউড ও সাইবার নিরাপত্তায় স্থায়ী দক্ষতার ঘাটতির পাশাপাশি বড় শহরের বাইরে মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ পাওয়ার সীমিত সুযোগের কথা তুলে ধরা হয়েছে।
জীবনযাপনের অগ্রাধিকার ও গিগ অর্থনীতি
অনেক স্নাতক বলেন, বেতনের মতোই নমনীয়তাও গুরুত্বপূর্ণ। মহামারির সময় দূর থেকে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁদের প্রত্যাশা বদলে দিয়েছে। প্রকল্পভিত্তিক কাজ, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং ই-কমার্স সময় ও স্থান নিয়ন্ত্রণের সুযোগ দেয়। তরুণ কর্মীরা প্রায়ই অল্প বেতনের প্রাথমিক পদে কঠোর সময়সূচিতে বাঁধা পড়ার বদলে কাজের নমুনা ও অভিজ্ঞতার ভান্ডার গড়তে চান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন বাজার এবং চুক্তিভিত্তিক কাজের প্ল্যাটফর্ম ফ্রিল্যান্সিংকে দৃশ্যমান ও সহজলভ্য করেছে। তবে ফ্রিল্যান্স আয় অনিশ্চিত হতে পারে এবং এতে প্রায়ই সামাজিক সুরক্ষা থাকে না। এমন অর্থনীতিতে এটি বড় উদ্বেগের বিষয়, যেখানে অনেক খাতে অনানুষ্ঠানিক কাজই প্রাধান্য পায়।
এআই ও করপোরেট পুনর্গঠনে বদলাচ্ছে চাহিদা
প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর কর্মীদল গঠনের ধরন বদলে দিচ্ছে। বিপণন, ব্যাক অফিস ও পরিচালনায় পুনরাবৃত্তিমূলক কাজ স্বয়ংক্রিয় করতে প্রতিষ্ঠানগুলো এআই গ্রহণ করছে। ব্যাংকসহ বড় থাই নিয়োগকর্তারা এআই ও ডিজিটাল সরঞ্জামকে কেন্দ্র করে পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ৪৫ বছর বয়স থেকেই আগাম অবসরের সুবিধা দিচ্ছে। এনইএসডিসি জানিয়েছে, স্থায়ী পদ থেকে চুক্তিভিত্তিক ও খণ্ডকালীন ব্যবস্থার দিকে ঝোঁক বাড়ছে। বৈশ্বিক গবেষণাতেও এআইয়ের প্রভাবে থাকা কিছু বিষয়ে পড়াশোনা করা ব্যক্তিদের মধ্যে বেকারত্ব বাড়ার চিত্র দেখা গেছে। ২০২২ সালের শেষের পর ক্লাউড ও কম্পিউটার সিস্টেম নকশার মতো প্রযুক্তি-উপখাতে প্রবৃদ্ধি কমেছে। এর কারণ, প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মীসংখ্যা নতুন করে ভারসাম্যপূর্ণ করেছে এবং কাজের প্রক্রিয়ায় বৃহৎ ভাষা মডেল যুক্ত করেছে। স্নাতকদের জন্য এর অর্থ হলো, প্রচলিত নিয়োগপথে প্রথম চাকরির সুযোগ কমছে এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানকে গ্রাহকসেবা বা পণ্যের দায়িত্বের সঙ্গে মেলাতে পারে এমন বহুমুখী পদের চাহিদা বাড়ছে।
শুল্ক, রপ্তানির দুর্বলতা ও এসএমই খাতের চাপে চাকরির বাজারেও প্রভাব
বাইরের ধাক্কা দেশের ভেতরের চাপ বাড়িয়ে তুলছে। সিয়াম কমার্শিয়াল ব্যাংকের ইকোনমিক ইন্টেলিজেন্স সেন্টারের হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডের প্রায় ৫০ লাখ কর্মী, অর্থাৎ মোট শ্রমশক্তির প্রায় ১২ শতাংশ, থাই রপ্তানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাবে চাকরি হারানো বা কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন। ঝুঁকিতে থাকা কর্মীরা মূলত রাবার, বস্ত্র, টায়ার, গাড়ির যন্ত্রাংশ, ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ, ভোক্তা ইলেকট্রনিকস এবং হার্ডডিস্ক ড্রাইভ খাতে কাজ করেন। রপ্তানি কমলে সরবরাহকারীরা প্রথমে অতিরিক্ত সময়ের কাজ কমায়, এরপর কর্মীদের কম সময়ের সূচিতে কাজ করায় এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মীসংখ্যা কমায়। সরকারি কর্মসংস্থান তথ্যে সাধারণত এসব প্রভাব কিছুটা দেরিতে দেখা যায়।
থাই কর্মসংস্থানের মেরুদণ্ড ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলো বড় প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি সমস্যায় রয়েছে। এনইএসডিসির তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে ২৪ হাজারের বেশি এসএমই বন্ধ হয়েছে এবং ১ হাজার ২৩৪টি কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় আঘাত। কোম্পানি নিবন্ধন বাতিল বেড়েছে; ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাইয়ের মধ্যে হাজারো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়েছে। পর্যটন ঘুরে দাঁড়ালেও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে গিয়ে হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোতে অস্থায়ী কর্মীর সংখ্যা কমেছে। এ পরিস্থিতিতে অনভিজ্ঞ স্নাতকদের নিয়োগ দিতে প্রতিষ্ঠানগুলো সতর্ক, বিশেষ করে যেসব পদে প্রশিক্ষণের খরচ বেশি এবং মাসে মাসে চাহিদা ওঠানামা করে।
প্রযুক্তি যেমন বাধা, তেমনি নতুন চাকরির চালিকাশক্তি
এআই কিছু কাজে মানুষের প্রয়োজন কমায়, তবে উৎপাদনশীলতা বাড়ায় এবং নতুন কাজের সুযোগও তৈরি করে। বিপণনে এআই এখন সাধারণ কপিরাইটিং, পাঠকগোষ্ঠী ভাগ করা এবং প্রচারাভিযান অপ্টিমাইজ করার কাজ করছে। এতে জুনিয়র কর্মী নিয়োগ কমছে, পাশাপাশি কৌশল নির্ধারণ ও গ্রাহকসেবার কাজে প্রত্যাশা বাড়ছে। সফটওয়্যার খাতে জুনিয়র ডেভেলপাররা এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করে বেশি কাজ করতে পারেন। এর ফলে কোডিংকেন্দ্রিক কিছু জ্যেষ্ঠ পদের চাহিদা কমছে, আর সমস্যা নির্ধারণ ও ফল যাচাই করতে পারেন এমন পর্যালোচক, স্থপতি এবং পণ্য ব্যবস্থাপকদের চাহিদা বাড়ছে। ব্যাংক ও করপোরেট ব্যাক অফিসে নিয়মিত কাজ স্বয়ংক্রিয় করার গতি বাড়ছে, যার ফলে আগাম অবসরের প্রস্তাব এবং দল পুনর্গঠনের উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে।
বৈশ্বিক গবেষণায় দেখা গেছে, শ্বেতপোশাক খাতের কিছু অংশে, বিশেষ করে যেখানে অপ্রচলিত জ্ঞানভিত্তিক কাজ বেশি, সেখানে এআই ব্যবহারের সঙ্গে চাকরি বৃদ্ধির সামান্য নেতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। এর অর্থ ব্যাপক বেকারত্ব নয়। তবে পদগুলোর সময়কাল ও ধরন বদলাচ্ছে এবং মন্দার সময় ক্ষতিগ্রস্ত পেশায় পুনরুদ্ধারে বেশি সময় লাগছে। ইতিবাচক দিক হলো, যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান এআই ভালোভাবে গ্রহণ করছে, সেগুলোতে উৎপাদনশীলতা দ্রুত বাড়ছে, নতুন পণ্য আসছে এবং এসব সরঞ্জাম কাজে লাগাতে পারেন এমন কর্মীদের বেশি বেতনের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। থাইল্যান্ডের চ্যালেঞ্জ হলো, বিপর্যয়ের মুখে থাকা কর্মীদের সুরক্ষা দিয়ে এই সক্ষমতা ব্যাপকভাবে গড়ে তোলা।
যেসব খাতে এখনো সুযোগ বাড়ছে
প্রতিকূলতা সত্ত্বেও কয়েকটি খাত সম্প্রসারিত হচ্ছে এবং কারিগরি ও সফট স্কিলের সঠিক সমন্বয় আছে এমন কর্মী চাইছে। ডিজিটাল সরঞ্জাম, বয়স্ক জনসংখ্যা এবং শিল্পের আধুনিকায়নের সঙ্গে নীতিগত সহায়তার যেখানে মিল ঘটেছে, সেখানেই চাহিদা সবচেয়ে বেশি।
- ডিজিটাল প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তা: সরকারি প্রণোদনা এবং বৈশ্বিক ক্লাউড কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগে সফটওয়্যার ও ডিজিটাল সেবা দ্রুত বাড়ছে। ২০২৫ সালে থাইল্যান্ডে সাইবার নিরাপত্তায় ব্যয় প্রায় ১৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন বাথে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিয়োগকর্তারা এআই সম্পর্কে জ্ঞান, ক্লাউড দক্ষতা, সাইবার প্রতিরক্ষা ও তথ্য বিশ্লেষণের পাশাপাশি যোগাযোগ এবং গ্রাহক ব্যবস্থাপনার দক্ষতা চান।
- সেমিকন্ডাক্টর, বৈদ্যুতিক যান ও উন্নত উৎপাদন: বৈদ্যুতিক যান ও ইলেকট্রনিকস নিয়ে নীতিগত উদ্যোগ এবং সরবরাহশৃঙ্খলে বৈচিত্র্য আনার প্রচেষ্টায় কারখানার স্বয়ংক্রিয়তা, গুণমান প্রকৌশল এবং সরবরাহকারী ব্যবস্থাপনায় কাজ তৈরি হচ্ছে। সেন্সর, পাওয়ার ইলেকট্রনিকস এবং উৎপাদন সফটওয়্যার সম্পর্কে জ্ঞান কাজে আসে।
- পর্যটন ও আতিথেয়তা: আন্তর্জাতিক ভ্রমণ স্থিতিশীল হওয়ায় বিমান সংস্থা, হোটেল ও ভ্রমণসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো আবার কর্মীদল গড়ছে। গ্রাহকসেবা ও ডিজিটাল বিপণনের দক্ষতা প্রার্থীদের এগিয়ে রাখে। হোটেলের অভ্যর্থনা বিভাগে এখনো মানুষের আতিথেয়তা প্রয়োজন, অন্যদিকে ব্যাক অফিসের বিশ্লেষণ ও বিপণনে এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে।
- স্বাস্থ্যসেবা ও বয়স্কদের সেবা: থাইল্যান্ডের বয়স্ক জনসংখ্যা নার্স, ফিজিওথেরাপিস্ট, ফিটনেস প্রশিক্ষক এবং বয়স্কদের যত্নে বিশেষজ্ঞদের চাহিদা বাড়াচ্ছে। নিয়োগকর্তারা সহমর্মিতা, নিরাপত্তাবিধি মেনে চলা এবং ডিজিটাল নথি সংরক্ষণের দক্ষতাকে গুরুত্ব দেন।
- সবুজ কর্মসংস্থান ও টেকসই উন্নয়ন: বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পাঠ্যক্রমে টেকসই উন্নয়নের বিষয় যুক্ত করেছে এবং নিয়োগকর্তারা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জ্বালানি দক্ষতা ও বিধিবিধান মেনে চলার কাজে স্নাতকদের খুঁজছেন। কমিউনিটি কর্মসূচির মাধ্যমে প্রকল্পে অভিজ্ঞতা অর্জন করলে কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়ে।
- অর্থ ও বিধিবিধান মেনে চলা: নতুন নিয়মকানুন ও ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কোম্পানিগুলোর হিসাবরক্ষণ, নিরীক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও তথ্যনির্ভর পদের চাহিদা রয়েছে। বিশ্লেষণ ও প্রক্রিয়ার উন্নয়নে দক্ষতা থাকলে স্নাতকেরা কেরানির কাজের বাইরে এগোতে পারেন।
এসব ক্ষেত্রে নিয়োগ বাড়াতে প্রশিক্ষণ ও কর্মক্ষেত্রের চাহিদার মধ্যে আরও ভালো মিল দরকার। থাইল্যান্ডে উন্নত ডিজিটাল দক্ষতাসম্পন্ন কর্মীর ঘাটতি রয়েছে। জনসংখ্যার সামান্য অংশের উচ্চপর্যায়ের ডিজিটাল দক্ষতা আছে এবং চাহিদার তুলনায় প্রতিবছর মাত্র কয়েক হাজার আইটি স্নাতক বের হন। এই ঘাটতির কারণে চাকরিতে নিয়োগের সহায়তাসহ নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচির মতো বিকল্প প্রশিক্ষণদাতাদের কার্যক্রম বাড়ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রশিক্ষণদাতারা যেভাবে খাপ খাওয়াচ্ছেন
থাইল্যান্ডের উচ্চশিক্ষা, বিজ্ঞান ও উদ্ভাবন মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পাঠদান ও কমিউনিটিতে কাজের সঙ্গে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা যুক্ত করতে উৎসাহিত করেছে। ৯৪টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো এক জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ শিক্ষার্থী কর্মক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও ইন্টার্নশিপের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়নসংক্রান্ত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। স্নাতক হওয়ার পর কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা নিয়ে তাঁদের বড় অংশের আত্মবিশ্বাস বেড়েছে এবং অনেকে টেকসই উন্নয়ন বা উদ্যোক্তা-সম্পর্কিত পেশায় আগ্রহ দেখিয়েছেন। ‘ইউনিভার্সিটি টু টাম্বন’ উদ্যোগের মতো কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা স্থানীয় কমিউনিটিতে হাতে-কলমে প্রকল্পে অংশ নেন। এতে তাঁরা এমন কাজের অভিজ্ঞতার ভান্ডার গড়তে পারেন, যা নিয়োগকর্তারা মূল্যায়ন করতে পারবেন।
একই সময়ে, ডেভেলপার খাত নিয়ে গবেষণায় শহর ও গ্রামের মধ্যে প্রশিক্ষণের সুযোগে বৈষম্য, উন্নত প্রোগ্রামিং ও ক্লাউড দক্ষতার ঘাটতি এবং আরও শক্তিশালী পরামর্শব্যবস্থার প্রয়োজন উঠে এসেছে। শীর্ষস্থানীয় থাই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিল্পখাতের সঙ্গে অংশীদারত্বে প্রায়ই এআই, তথ্যবিজ্ঞান, সাইবার নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল ব্যবসার কর্মসূচি সম্প্রসারণ করেছে। এসব সহযোগিতায় শিক্ষার্থীরা বাস্তব প্রকল্প ও ইন্টার্নশিপের অভিজ্ঞতা পান। নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও কোডিং বুটক্যাম্পে দ্রুত দক্ষতা অর্জনের সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকে; সেগুলোতে প্রায়ই কোচিং, নিয়োগকর্তাদের নেটওয়ার্ক এবং চাকরির নিশ্চয়তাও থাকে। ব্যবহারিক অভিজ্ঞতা নিয়ে উচ্চ চাহিদার পদে দ্রুত ঢুকতে চান এমন স্নাতকদের কাছে এসব কর্মসূচি আকর্ষণীয়।
নিয়োগকর্তারা কী চান
নিয়োগকর্তারা বারবার পরিচিত কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা বলেন: ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা, স্পষ্টভাবে যোগাযোগ, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ এবং ব্যবসায়িক শিষ্টাচারের মৌলিক জ্ঞান। প্রযুক্তি খাতে তাঁরা এর সঙ্গে ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম, ডেটাবেস, এআইকে নির্দেশনা দেওয়া এবং সাইবার নিরাপত্তার মৌলিক দক্ষতা চান। অর্থ খাতে চান স্প্রেডশিট, তথ্যচিত্রায়ন এবং বিধিবিধান সম্পর্কে জ্ঞান। আতিথেয়তা ও খুচরা বিক্রিতে চান গ্রাহকসেবা, সেবার ঘাটতি সামাল দেওয়া এবং বুকিং, মজুত বা বিপণনে ডিজিটাল সরঞ্জাম ব্যবহারের দক্ষতা। কারিগরি জ্ঞানের বাইরেও তাঁরা দ্রুত শেখার ক্ষমতা এবং সময়মতো প্রকল্প শেষ করার অভ্যাসকে মূল্য দেন।
প্রথম চাকরি পাওয়ার বাস্তব পথ
কয়েকটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপে শিক্ষার্থীরা চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারেন। কর্মক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ আছে এমন কোর্স বেছে নিন। প্রকল্প, কেস স্টাডি বা কোডের সংগ্রহশালা দিয়ে কাজের নমুনা তৈরি করুন। বাস্তব গ্রাহকের সমস্যার আদলে আয়োজিত প্রতিযোগিতা ও হ্যাকাথনে অংশ নিন। লক্ষ্য করা শিল্পে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট সরঞ্জামের স্বল্পমেয়াদি সনদ অর্জন করুন। পরিচিতি বাড়াতে শিল্প খাতের সভা, প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের দল এবং স্থানীয় সম্মেলনে যোগ দিন। সুযোগ থাকলে পেশাগত কাজের প্রক্রিয়া সম্পর্কে অভিজ্ঞতা দেয় এমন স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে কাজ নিন। অধিকাংশ বিজ্ঞাপনে অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে এসব কাজের অভিজ্ঞতা মূল্যবান প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
চাপ কমাতে নীতিগত পদক্ষেপ
স্নাতকদের চাকরির সঙ্গে মেলাতে এবং পরবর্তী মন্দায় শ্রমবাজারকে আরও সহনশীল করতে কয়েকটি নীতিগত পদক্ষেপ সহায়ক হতে পারে। কাজের সঙ্গে সমন্বিত শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো উচিত। সুশৃঙ্খল শিক্ষানবিশি এবং স্নাতকদের প্রথম চাকরি দেওয়া নিয়োগকর্তাদের করছাড় দেওয়া যেতে পারে। নির্দিষ্ট দক্ষতা অর্জনের ভাউচার এবং অন্যত্র ব্যবহারযোগ্য শিক্ষার হিসাবের মাধ্যমে শিল্পের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ স্বল্পমেয়াদি, ধাপে ধাপে করা যায় এমন কোর্সে সহায়তা দেওয়া যেতে পারে। সরকারি চাকরির প্ল্যাটফর্মে নতুনদের জন্য উপযুক্ত পদ তুলে ধরা এবং ইন্টার্নশিপের মান নির্ধারণ করা যেতে পারে।
এসএমই খাতের ডিজিটাল রূপান্তরে আরও জোরালো সহায়তা দরকার। সফটওয়্যার, সাইবার নিরাপত্তা এবং এআইয়ের পরীক্ষামূলক প্রকল্পে অনুদান বা যৌথ বিনিয়োগ উৎপাদনশীলতা বাড়াতে ও নতুন পদ তৈরি করতে পারে। রাবার, বস্ত্র ও ইলেকট্রনিকসের মতো উচ্চ ঝুঁকির খাতে রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন বাজার খুঁজে নেওয়া এবং বিধিবিধান মেনে চলার সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা প্রয়োজন। ফ্রিল্যান্সার ও নির্ভরশীল চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের বিমা, প্রশিক্ষণ ও ঋণের সুযোগ নিশ্চিত করতে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার পরিধি বাড়ানো উচিত। বিশ্ববিদ্যালয় ও নিয়োগকর্তারা শিল্পখাতের প্রকল্পের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষাগত ক্রেডিট দিতে পারেন, যাতে স্নাতকেরা শুধু নম্বরপত্র নয়, ব্যবহারিক কাজের প্রমাণও নিয়ে বের হন। সবশেষে, ছদ্মবেকারত্ব ও অনানুষ্ঠানিক কাজের বিষয়ে উন্নত শ্রমবাজার তথ্য থাকলে নীতিনির্ধারকেরা আরও লক্ষ্যভিত্তিক উদ্যোগ নিতে পারবেন।
থাই কর্মীরা এখন যা করতে পারেন
স্নাতক ও মধ্য-ক্যারিয়ারের কর্মীরা দক্ষতা বাড়ানোর সঙ্গে বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা মিলিয়ে অনিশ্চয়তার ঝুঁকি কমাতে পারেন। নীতিগত পরিবর্তনের অপেক্ষা না করেই নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়া সম্ভব।
- শুধু জীবনবৃত্তান্ত নয়, দক্ষতার প্রমাণ দেয় এমন কাজের নমুনা তৈরি করুন। লিংক, কোড, কেসের সারাংশ বা নকশার নমুনার মাধ্যমে নিজের কাজ দেখান।
- ইংরেজি ও ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ান। এগুলো বিভিন্ন খাতে সুযোগ তৈরি করে এবং বহুজাতিক দলের সঙ্গে কাজ করতে সহায়তা করে।
- এআই সরঞ্জাম দিয়ে কাজ করতে শিখুন। এগুলোকে সহায়ক হিসেবে নিন, বিকল্প হিসেবে নয়। নির্দেশনা দেওয়া, ফল যাচাই এবং ভুল খুঁজে দেখার অনুশীলন করুন।
- যেসব খাত ও পদে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে এবং যেখানে আপনার পটভূমি বাড়তি সুবিধা দেবে, সেগুলো লক্ষ্য করুন। প্রথম পছন্দের পদে প্রতিযোগিতা বেশি হলে কাছাকাছি ধরনের পদ খুঁজুন।
- পেশাদার পরামর্শদাতাদের কাছ থেকে কাজের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় এমন ইন্টার্নশিপ, শিক্ষানবিশি ও প্রকল্পভিত্তিক চুক্তি খুঁজুন।
- সফট স্কিল, বিশেষ করে যোগাযোগ, উপস্থাপনা এবং গ্রাহক সামলানোর দক্ষতা বাড়ান। পদোন্নতি কে পাবেন, তা প্রায়ই এসব দক্ষতাই নির্ধারণ করে।
- নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ভর্তি হওয়ার কথা ভাবুন, যদি তাতে নিয়োগকর্তাদের নেটওয়ার্ক, ক্যারিয়ার পরামর্শ এবং চাকরিতে নিয়োগের সুস্পষ্ট রেকর্ড থাকে।
- নিজের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন। পরিবর্তনের সময়ের জন্য সঞ্চয় রাখুন এবং ফ্রিল্যান্স চুক্তির সুবিধা ও ঝুঁকি বুঝে নিন।
মূল কথা
- থাই স্নাতকেরা পূর্ণকালীন করপোরেট পদে কম আগ্রহী, আর নিয়োগকর্তারা প্রথমবার চাকরিপ্রার্থীদের নিয়োগ দিতে আগের চেয়ে ধীর।
- সরকারি বেকারত্বের হার কম হলেও ২০২৫ সালে তরুণ ও ডিগ্রিধারীদের মধ্যে বেকারত্ব বেড়েছে এবং ২০২৩ সালের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে মোট কর্মসংস্থান কমেছে।
- এনইএসডিসির তথ্য অনুযায়ী, ৮৯ শতাংশ নির্বাহী অভিজ্ঞতার অভাব ও দুর্বল সফট স্কিলের কথা উল্লেখ করে নতুন স্নাতকদের নিয়োগ এড়িয়ে চলেন।
- থাই রপ্তানির ওপর শুল্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ শিল্পে মন্দার কারণে প্রায় ৫০ লাখ কর্মী চাকরি হারানো বা কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।
- পর্যটন খাত ঘুরে দাঁড়ালেও এসএমই ও কারখানা বন্ধের সংখ্যা বেড়েছে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বাধা দিচ্ছে।
- এআই নিয়মিত কাজ স্বয়ংক্রিয় করছে। এতে কিছু জুনিয়র পদ কমছে, তবে প্রযুক্তিগত ও গ্রাহকসেবার দক্ষতার মিশ্রণ আছে এমন পদের চাহিদা বাড়ছে।
- সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড, তথ্য, বৈদ্যুতিক যান, সেমিকন্ডাক্টর, স্বাস্থ্যসেবা, আতিথেয়তা এবং সবুজ প্রকল্পে প্রবৃদ্ধির সুযোগ রয়েছে।
- বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পাঠ্যক্রমে টেকসই উন্নয়ন ও শিল্পখাতের প্রকল্প যুক্ত করছে; নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দক্ষতার ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখছে।
- নীতিগত অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে শিক্ষানবিশি, দক্ষতা অর্জনের ভাউচার, এসএমইর ডিজিটাল উন্নয়ন এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্য উন্নত সামাজিক সুরক্ষা।
- কাজের নমুনা তৈরি, ইংরেজি ও ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানো এবং প্রকল্প ও কর্মক্ষেত্রের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করলে কর্মীরা চাকরি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে পারেন।






