চীনের বিশাল সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রে বাস্তুতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন, বিদ্যুৎ পাচ্ছে লাখো পরিবার

পড়তে 13 মিনিট
চীনের বিশাল সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রে বাস্তুতন্ত্রের পুনরুজ্জীবন, বিদ্যুৎ পাচ্ছে লাখো পরিবার

সৌর প্যানেলে গড়ে ওঠা নতুন মরূদ্যান

তিব্বতি মালভূমির ছিংহাইয়ের বিস্তীর্ণ উঁচু সমতলভূমিতে চীন গড়ে তুলেছে বিশাল এক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎসের পাশাপাশি এর নিচের ভূমির চেহারাও বদলে দিচ্ছে। প্রায় ২৩৫ বর্গমাইল মরুভূমির জমিতে ৭০ লাখের বেশি ফটোভোলটাইক প্যানেল রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, আর বাকি সময় শুষ্ক ভূমিতে ছায়া দেয়। প্যানেলের সারির মাঝখানে বাতাসের গতি কমে আসার সঙ্গে এই ছায়া মিলিয়ে এমন জায়গাতেও ঘাস ও ছোট ঝোপঝাড় শিকড় গেড়ে বেড়ে উঠছে, যেখানে আগে অনাবৃত মাটি ও বালুরই আধিপত্য ছিল। নতুন করে জন্মানো গাছপালা পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে রাখালেরা এখন প্যানেলের সারির মধ্য দিয়ে ভেড়া চরান; একই সঙ্গে গাছপালার উচ্চতাও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

সূচিপত্র
  1. সৌর প্যানেলে গড়ে ওঠা নতুন মরূদ্যান
  2. ছিংহাইয়ে কীভাবে গড়ে উঠল এই বিশাল প্রকল্প
  3. অবস্থান ও কার্যপদ্ধতি
  4. লাখো পরিবারের বিদ্যুৎ ও আরও স্থিতিশীল গ্রিড
  5. প্যানেলের নিচে ও আশপাশে কী পরিবর্তন ঘটে
  6. ক্ষুদ্র জলবায়ু ও মাটি
  7. উদ্ভিদ ও পুষ্টি উপাদান
  8. মরুভূমিতে কি পরিবেশগতভাবে সামগ্রিক উন্নতি হচ্ছে?
  9. ভেড়া, ভূমির যত্ন ও পরিচালনা
  10. ভঙ্গুর মালভূমিতে পরিকল্পনা জরুরি
  11. কর্মসংস্থান, আয় ও স্থানীয় সমর্থন
  12. অন্যত্র প্রকল্প সম্প্রসারণের সম্ভাব্য চিত্র
  13. মূল তথ্য

এটি বিশ্বের বৃহত্তম সংলগ্ন ফটোভোলটাইক কমপ্লেক্স। অনুকূল পরিস্থিতিতে এর উৎপাদনক্ষমতা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর জন্য যথেষ্ট। প্রকল্পটি দুটি জরুরি অগ্রাধিকারের সংযোগস্থলে অবস্থিত: কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং কয়েক দশক ধরে মরুভূমিতে পরিণত হওয়ার দিকে এগিয়ে যাওয়া ভূদৃশ্যকে স্থিতিশীল করা। চীনে বিস্তীর্ণ মরুভূমি ও আধা-মরুভূমি অঞ্চল রয়েছে। জাতীয় গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে, দেশের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ভূমি মরুভূমি। ধূলিঝড়, ভূমিক্ষয় এবং উৎপাদনশীল জমি হারানোর মধ্য দিয়ে মরুকরণের চাপ দেশটির কয়েক কোটি মানুষের জীবনকে প্রভাবিত করেছে। এমন এলাকায় এই মেগা প্রকল্প পরীক্ষা করছে, জ্বালানি অবকাঠামোকে ভূদৃশ্য ব্যবস্থাপনার হাতিয়ার হিসেবেও কাজে লাগানো যায় কি না।

প্রাথমিক প্রমাণে দেখা যায়, প্যানেল বসানো এলাকায় পরিবেশগত অবস্থার পরিমাপযোগ্য উন্নতি হয়েছে। তবে ভঙ্গুর ভূমিতে নতুন চাপ এড়াতে সতর্ক পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনাও জরুরি বলে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন। ছিংহাইয়ের এই প্রকল্পের মূল অংশ গংহে ফটোভোলটাইক পার্ক মূল্যায়ন করা গবেষক দল জানিয়েছে, ভূমির কাছাকাছি আর্দ্রতা, তাপমাত্রা ও বাতাসের ধরনে এমন পরিবর্তন এসেছে, যা উদ্ভিদের পুনরুদ্ধারে সহায়ক। তারা মাটির পুষ্টি উপাদান ও উদ্ভিদের বৈচিত্র্যেও পরিবর্তন পেয়েছে, যা নিয়মিত পর্যবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। সামগ্রিক চিত্রটি অলৌকিকভাবে সবুজ হয়ে ওঠার নয়; বরং ব্যাপক পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের পাশাপাশি ভূমির অবস্থা সুস্থ করে তোলার দিকে ধারাবাহিক ও নিয়ন্ত্রিত অগ্রগতির।

ছিংহাইয়ে কীভাবে গড়ে উঠল এই বিশাল প্রকল্প

প্রকল্পটির প্রাণকেন্দ্র হাইনান তিব্বতি স্বায়ত্তশাসিত প্রিফেকচারের গংহে কাউন্টিতে, তালাতান গোবি মরুভূমির ওপর বিস্তৃত। বছরের বেশির ভাগ সময় এলাকাটিতে তীব্র সৌর বিকিরণ পাওয়া যায়; তবে বৃষ্টিপাত কম এবং বাষ্পীভবন বেশি। প্রকৌশলীরা স্থির কৌণিক ও এক-অক্ষ ট্র্যাকিং কাঠামোয় মনোক্রিস্টালাইন ও পলিক্রিস্টালাইন সিলিকন মডিউলের সারি বসিয়েছেন। দীর্ঘ সময়ের সূর্যালোক কাজে লাগানোর পাশাপাশি এগুলো ছায়াযুক্ত পথ তৈরি করে, যেখানে বাতাসের গতি কমে এবং ভূমির কাছে আর্দ্রতা কিছুটা বেশি সময় ধরে থাকে।

অবস্থান ও কার্যপদ্ধতি

মালভূমির উচ্চতা, শীতের তীব্র ঠান্ডা ও শুষ্ক বাতাস উদ্ভিদ জন্মানোর ক্ষেত্রে কঠোর সীমাবদ্ধতা তৈরি করে। গংহের দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ু তথ্য অনুযায়ী, গড় বার্ষিক তাপমাত্রা প্রায় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস; বৃষ্টিপাত তুলনামূলকভাবে কম এবং বাষ্পীভবন অনেক বেশি। বছরে প্রায় ২,৩০০ থেকে ৩,৫০০ ঘণ্টা পর্যন্ত সূর্যালোক পাওয়া যেতে পারে। সৌরক্ষেত্রে প্যানেল সরাসরি সৌর বিকিরণ আটকে দেয় এবং ভূমির কাছাকাছি বাতাসের বেগ কমায়। একটি প্যানেলের পরিসরে এই ক্ষুদ্র জলবায়ুগত প্রভাব সামান্য, কিন্তু শত শত বর্গমাইলজুড়ে তা তুলনামূলক শান্ত ও দিনের বেলায় শীতল ভূমির মোজাইক তৈরি করে, যা আর্দ্রতা হারানো কমায়। ফলে বীজের অঙ্কুরোদ্গম এবং অগভীর শিকড়ের গাছের টিকে থাকার পরিবেশ আরও অনুকূল হয়।

লাখো পরিবারের বিদ্যুৎ ও আরও স্থিতিশীল গ্রিড

সমন্বিত উৎপাদনক্ষমতা আঞ্চলিক বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় অবদান রাখে, বিশেষ করে দিনের সর্বোচ্চ চাহিদার সময়ে। পরিচালকেরা জানিয়েছেন, প্রকল্পটি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে; তবে এই সংখ্যা মৌসুমি সূর্যালোক ও গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। স্থানীয় কর্মকর্তা ও শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, নির্মাণ, পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রকল্পটি কর্মসংস্থানের ভিত্তি গড়ে তুলেছে। নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতার এই বিশাল পরিসর আশপাশের জনপদে বিদ্যুতের দাম আরও স্থিতিশীল রাখতে এবং পশ্চিম চীনের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়তা করেছে। পরিচ্ছন্ন জ্বালানির সমন্বিত ব্যবহারের দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে ছিংহাই: সৌরবিদ্যুৎকে চাহিদাকেন্দ্রে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া সঞ্চালন লাইনের সঙ্গে এবং সৌরক্ষেত্রের ভেতরে ও আশপাশে ভূমি ব্যবস্থাপনার চর্চার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্যানেলের নিচে ও আশপাশে কী পরিবর্তন ঘটে

প্যানেল মূলত তিনভাবে ভূমির অবস্থা বদলায়। এগুলো আগত সৌর বিকিরণের একটি অংশ ভূমিতে পড়তে বাধা দেয়। সারিগুলো নিচু বায়ুরোধী প্রতিবন্ধকের মতো কাজ করে বাতাসের গতি কমায়। বৃষ্টি ও তুষার প্যানেলের কিনারা বরাবর সরু ফালিতে প্রবাহিত করে। এসব পরিবর্তন একত্রে ভূমির উপরিভাগে মাটির আর্দ্রতা বাড়ায়, ভূমির কাছে তাপমাত্রার ওঠানামা কমায় এবং বাতাসের ক্ষয়ক্ষমতা হ্রাস করে। মরুভূমিতে আর্দ্রতা ও বাতাসের সংস্পর্শে সামান্য পরিবর্তনও ঘাস ও টেকসই ঝোপঝাড়ের বেড়ে ওঠার সুযোগ বাড়াতে পারে।

ক্ষুদ্র জলবায়ু ও মাটি

গংহে এলাকাকে কেন্দ্র করে করা পিয়ার-রিভিউড গবেষণায় এসব পরিবর্তনের পক্ষে সুসংগঠিত প্রমাণ পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের একটি বিশ্লেষণে ডিপিএসআইআরভিত্তিক কাঠামো ব্যবহার করে সৌর পার্কের ভেতরের অবস্থা আশপাশের নিয়ন্ত্রণ এলাকার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। পরিবেশগত পরিবর্তন মূল্যায়নের এই পদ্ধতিতে চালক, চাপ, অবস্থা, প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। গবেষণায় সৌর পার্কের ভেতরের এলাকার সমন্বিত পরিবেশগত স্কোর ছিল প্রায় ০.৪৪; এই মানদণ্ডে বেশি স্কোর মানে পরিবেশগত অবস্থা ভালো। পরিবর্তনশীল সংযোগস্থল ও পার্কের বাইরের এলাকার স্কোর ছিল প্রায় ০.২৯। গবেষকেরা পার্কের ভেতরের ভালো ফলের সঙ্গে ক্ষুদ্র জলবায়ু, মাটির আর্দ্রতা ও অণুজীবের গোষ্ঠীতে ছোট কিন্তু ধারাবাহিক উন্নতির সম্পর্ক খুঁজে পেয়েছেন। মাঠপর্যায়ে নমুনা সংগ্রহ, দূর থেকে পর্যবেক্ষণ ও পরিসংখ্যানভিত্তিক গুরুত্ব নির্ধারণ মিলিয়ে তৈরি গবেষণার সূচকব্যবস্থা ইঙ্গিত দেয়, প্যানেলবিহীন কাছাকাছি জমির তুলনায় সৌরক্ষেত্রের ভেতরে ভূমির অবস্থা সামগ্রিকভাবে উন্নত হয়েছে। পদ্ধতি ও ফলাফল নিয়ে নেচার প্রকাশিত সায়েন্টিফিক রিপোর্টসের নিবন্ধটি এই লিংকে দেখা যাবে।

মালভূমির অন্যান্য শুষ্ক অঞ্চলের সৌর পার্কগুলোর মাঠপর্যায়ের নথিতেও একই ধরনের ক্ষুদ্র জলবায়ুগত ধরন দেখা যায়। উন্মুক্ত ভূমির তুলনায় সৌর প্যানেলের নিচের মাটি দিনে কিছুটা ঠান্ডা এবং রাতে সামান্য উষ্ণ থাকে। আপেক্ষিক আর্দ্রতার মাত্রাও এমনভাবে বদলায়, যা নতুন চারার ওপর চাপ কমায়। বিশেষত বছরের সবচেয়ে বাতাসপ্রবণ ঋতুতে ভূমির কাছাকাছি বাতাসের বেগ কম থাকায় কচি গাছের চারপাশে বালু সরে যাওয়াও কমে। এসব অবস্থা উদ্ভিদের সুস্থ গোষ্ঠী গড়ে ওঠার নিশ্চয়তা দেয় না, তবে ভূমির মৌলিক যত্নের সঙ্গে মিললে অঙ্কুরোদ্গম ও টিকে থাকার বাধা কমায়।

উদ্ভিদ ও পুষ্টি উপাদান

তবে উদ্ভিদগোষ্ঠীর প্রতিক্রিয়া জটিল। ছিংহাইয়ের মরুভূমিতে করা গবেষণায় দেখা গেছে, প্যানেলের নিচে উদ্ভিদের জৈবভর বাড়লেও সৌরক্ষেত্রের বাইরের নিয়ন্ত্রণ এলাকার তুলনায় প্রজাতির সমৃদ্ধি ও শ্যানন বৈচিত্র্য সূচক কমেছে। প্যানেলের নিচে মাটির পানির পরিমাণ বেড়েছে, অন্যদিকে উদ্ভিদের জন্য সহজলভ্য ফসফরাস কমেছে। বিশ্লেষণে মাটির পানি ও সহজলভ্য ফসফরাসকে কোন প্রজাতি প্রাধান্য পাবে, তা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ চলক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ফলাফলের এই মিশ্র চিত্র বলছে, গাছপালা ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থাপকদের মাটির পুষ্টি উপাদান ও উদ্ভিদের মধ্যে প্রতিযোগিতাও পর্যবেক্ষণ করা উচিত। এর মধ্যে থাকতে পারে সারির মাঝের জায়গায় পরিকল্পিতভাবে স্থানীয় প্রজাতির বীজ বপন, যেখানে স্থানীয় গাছের বৃদ্ধি ফসফরাসের ঘাটতিতে বাধাগ্রস্ত সেখানে সীমিত এলাকায় ফসফরাস যোগ করা, এবং নতুন বৃদ্ধি রক্ষায় ঋতু অনুযায়ী রক্ষণাবেক্ষণের কাজের সময় ঠিক করা।

বিজ্ঞাপন

মরুভূমিতে কি পরিবেশগতভাবে সামগ্রিক উন্নতি হচ্ছে?

ছিংহাই-তিব্বতি মালভূমিতে সৌরবিদ্যুৎ উন্নয়ন নিয়ে করা আরেকটি গবেষণায় বাস্তুতন্ত্রসেবা মডেল ব্যবহার করে ২০১১ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত নির্মাণপূর্ব, নির্মাণকালীন ও নির্মাণ-পরবর্তী পর্যায়ে কার্বন সংরক্ষণ, বালু স্থিতিশীল রাখা এবং মাটি ধরে রাখার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়েছে। সৌর প্যানেল বসানোর পর মডেল অনুযায়ী কার্বন সংরক্ষণ প্রায় ৭১ শতাংশ, বালু স্থিতিশীল রাখার সক্ষমতা প্রায় ৮১ শতাংশ এবং মাটি ধরে রাখার সক্ষমতা প্রায় ৩২ শতাংশ বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি উন্নতি দেখা গেছে স্থাপনাগুলোর প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে। দূরত্ব বাড়ার সঙ্গে ক্ষুদ্র জলবায়ু ও ভূমির পৃষ্ঠের রুক্ষতার প্রভাব সাধারণত কমে আসে, এই দূরত্ব তা-ই প্রতিফলিত করে। এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ লেটার্সে প্রকাশিত পূর্ণ নিবন্ধটি আইওপির এই লিংকে পাওয়া যাবে।

এই সূচকগুলো গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এগুলো ভূমিতে ঘটা পরিবর্তনকে মানুষের জন্য ভূদৃশ্যের সরবরাহ করা সেবায় রূপান্তর করে দেখায়। কার্বন সংরক্ষণ বোঝায় গাছপালা ও মাটি কতটা কার্বন ধরে রাখতে পারে, যা জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনে সহায়তা করে। বালু স্থিতিশীল রাখার সূচক ভূমির উপরিভাগ কতটা স্থিতিশীল, তা পরিমাপ করে; এর সঙ্গে ধূলিঝড় ও ভূমিক্ষয়ের সম্পর্ক রয়েছে। মাটি ধরে রাখার সূচক দেখায়, বাতাস ও বিরল বৃষ্টির সময় ভূমি উপরিভাগের মাটি কতটা আটকে রাখতে পারে। এসব সেবার উন্নতি বজায় থাকলে ধূলিঝড়ের দিন কমে, পশুচারণের পরিবেশ ভালো হয় এবং আশপাশের বাস্তুতন্ত্রের ভিত্তি আরও সহনশীল হয়ে ওঠে।

গবেষকেরা আরও জোর দিয়ে বলেছেন, প্রতিটি সূচক ইতিবাচকভাবে বদলায়নি। কিছু মূল্যায়নে প্যানেলের নিচে ছত্রাকের প্রাচুর্য ও দৈনিক সালোকসংশ্লেষণজনিত বিকিরণের স্কোর কম ছিল। এতে বোঝা যায়, উদ্ভিদের জৈবভর বাড়লেও আলো ও প্রতিযোগিতার পরিবর্তন কিছু জীবের ওপর চাপ ফেলতে পারে। এ কারণেই প্রকল্পের পরিবেশগত লক্ষ্য অর্জনে পর্যবেক্ষণ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞানীরা সৌরক্ষেত্রের কিনারায় বাফার অঞ্চল ব্যবস্থাপনা, পরিবেশের প্রতি সংবেদনশীল সংক্ষিপ্ত বিন্যাস এবং নিয়মিত পরিবেশগত জরিপের সুপারিশ করেছেন, যাতে স্থানটির অবস্থা পরিণত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থাপনার ধরন সমন্বয় করা যায়।

বিজ্ঞাপন

ভেড়া, ভূমির যত্ন ও পরিচালনা

পার্কের কিছু এলাকায় আবার পশুচারণ শুরু হয়েছে। পশুর পাল প্যানেলের সারির মধ্য দিয়ে চলাচল করে নতুন ঘাস ও নিচু ঝোপঝাড় খায়। প্রাদেশিক কর্মসূচিতে এটিকে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ, উদ্ভিদ চাষ ও পশুপালনের সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে তুলে ধরা হয়, যা ভূমির পুনরুদ্ধার ও গ্রামীণ আয় দুই ক্ষেত্রেই সহায়ক। ছিংহাইয়ের প্রতিবেদনগুলোতে আগে অনুর্বর হিসেবে বিবেচিত এলাকায় উদ্ভিদের উল্লেখযোগ্য পুনর্বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রের ব্যবস্থাপনার সঙ্গে পশুচারণ যুক্ত করে রাখালেরা আয়ের নতুন উৎস পেয়েছেন। ভেড়ার গোবর পুষ্টি উপাদানের পুনঃচক্রায়নে সহায়তা করে এবং গাছপালার উচ্চতা নিয়ন্ত্রণে রাখে। এতে আগুনের ঝুঁকি কমতে পারে এবং নিচু প্যানেলের কিনারায় ছায়া পড়াও সীমিত হতে পারে।

তবে পশুচারণের জন্যও পরিকল্পনা প্রয়োজন। অতিরিক্ত পশুচারণে অর্জিত অগ্রগতি নষ্ট হতে পারে, বিশেষ করে গ্রীষ্মের শেষ দিকে, যখন গাছপালা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ থাকে। সাধারণত স্থান ব্যবস্থাপকেরা নির্ধারিত খণ্ডে পাল ঘুরিয়ে চরান, বেশি ব্যবহৃত জায়গাকে বিশ্রাম দেন এবং বীজ বপনের পর শিকড় স্থির হতে দিতে সেখানে প্রবেশ সীমিত করেন। প্যানেলের কিনারা থেকে পানি জমা হয় এমন খাতের মতো সংবেদনশীল আবাসস্থলের চারপাশে বেড়া দিলে পদদলন কমে। সবচেয়ে সফল কর্মসূচিগুলোতে মৌসুমি উৎপাদনক্ষমতা অনুযায়ী পশুর সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়, পরে উদ্ভিদের জরিপের ভিত্তিতে তা সংশোধন করা হয়।

মরুভূমির সৌর পার্কে ধূলা নিয়ন্ত্রণ ও প্যানেল পরিষ্কারের নিয়মিত কাজও দৈনন্দিন বাস্তবতা। উড়ে আসা ধূলা বিদ্যুৎ উৎপাদন কমায় এবং কাচের ক্ষয় ঘটায়। সৌরক্ষেত্রের ভেতরের গাছপালা, প্যানেলের সারির নিচে স্থিতিশীল করা ভূমি এবং বেশি চলাচলের পথে নুড়ি বা ভাঙা পাথর ব্যবহার করলে ধূলা তৈরি কমানো যায়। পরিষ্কারের পদ্ধতির মধ্যে রয়েছে শুকনো ব্রাশ, বাতাসের প্রবাহ এবং ধূলা সবচেয়ে বেশি জমার সময়ে অল্প পানি দিয়ে ধোয়া। পানি অপ্রতুল হওয়ায় দায়িত্বশীল পরিচালকেরা ধূলা জমার সর্বোচ্চ মৌসুমকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিষ্কারের সময়সূচি করেন এবং সম্ভব হলে পানি পুনরুদ্ধারব্যবস্থায় বিনিয়োগ করেন। প্রকল্প এলাকার ভূমির উচ্চতা ও ঢাল সামান্য ঠিক করলেও উপকার হয়: এতে পানি পিলার ও তারের নালা থেকে দূরে প্রবাহিত হয় এবং ভূমিক্ষয় রোধ করা যায়।

বিজ্ঞাপন

ভঙ্গুর মালভূমিতে পরিকল্পনা জরুরি

ছিংহাই-তিব্বতি মালভূমিতে বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ সৌরসম্পদ রয়েছে, তবে এখানকার বাস্তুতন্ত্র বিঘ্নের প্রতি সংবেদনশীল। ভূমির উপযোগিতা বিশ্লেষণ ও বাস্তুতন্ত্রসেবার মূল্যায়ন একত্র করা স্থাননির্ধারণবিষয়ক গবেষণায় দেখা যায়, প্রকল্প কোথায় হবে তা কেন গুরুত্বপূর্ণ। মালভূমির মানচিত্র তৈরি করে বিশ্লেষকেরা সৌরসম্পদ, ভূমির ধরন, যাতায়াতের সুবিধা ও পরিবেশগত সহনশীলতার সর্বোত্তম ভারসাম্যযুক্ত অঞ্চল চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের মানচিত্রে দেখা যায়, মালভূমির উল্লেখযোগ্য অংশে কারিগরিভাবে প্রকল্প গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে; তবে বাস্তুতন্ত্রসেবা ও ভূমি সংরক্ষণের বিষয় যুক্ত করলে তুলনামূলক ছোট একটি অংশই অত্যন্ত উপযুক্ত বলে বিবেচিত হয়। গবেষকেরা আরও দেখেছেন, যেসব স্থানে প্রকল্প গড়ে উঠেছে এবং সামগ্রিকভাবে সবচেয়ে উপযুক্ত স্থানগুলোর মধ্যে অমিল রয়েছে। সতর্ক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই ব্যবধান কমানো সম্ভব।

চীনজুড়ে স্থাননির্ধারণের গবেষণাও একই ধরনের ইঙ্গিত দেয়। সৌরসম্পদ, বাতাস ও বালুজনিত ঝুঁকি এবং পরিবেশগত বিষয় বিবেচনায় নেওয়া সাম্প্রতিক এক মডেলে দেখা গেছে, বড় প্রকল্পের জন্য নুড়ি-পাথরের মরুভূমি বালুময় মরুভূমির তুলনায় বেশি উপযুক্ত। বিশ্লেষণে অনুমান করা হয়েছে, মরুভূমির জমির সামান্য অংশ ব্যবহার করেই জাতীয় বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো সম্ভব; সবচেয়ে উপযুক্ত অঞ্চলগুলো কাইদাম অববাহিকার কিছু অংশ ও দেশের উত্তরাঞ্চলে কেন্দ্রীভূত। একই গবেষণাগুলোতে সংরক্ষিত এলাকা এবং যেখানে উদ্ভিদের আচ্ছাদন বেশি, সেসব এলাকা বাদ দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের ঘনত্বও স্থানীয় পরিবেশগত সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। বিষয়টি স্পষ্ট: উপযুক্ত স্থানে প্রকল্প হলে বন্য প্রাণী ও ভূমির ব্যবহারকারীদের সঙ্গে সংঘাত কমে, একই সঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদে প্রকল্পের কার্যকারিতা বাড়ে।

ছিংহাইয়ের পরিকল্পনাবিদ ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো ইতিমধ্যে এই পদ্ধতির কিছু উপাদান গ্রহণ করেছে। সাম্প্রতিক পরিবেশগত মূল্যায়নের সুপারিশের মধ্যে রয়েছে সৌরক্ষেত্রের কিনারায় বাফার অঞ্চল রাখা, বিঘ্নিত করিডর ছোট করতে সংক্ষিপ্ত বিন্যাস, লক্ষ্যভিত্তিক পরিবেশগত পর্যবেক্ষণ এবং স্থানটির পরিমাপ করা অবস্থার ভিত্তিতে নিয়ম কঠোর বা শিথিল করার মতো অভিযোজনযোগ্য বিধিব্যবস্থা। নতুন প্রকল্পে এসব ব্যবস্থা ক্রমেই নিয়মিত চর্চায় পরিণত হচ্ছে; উৎপাদনক্ষমতা পুনরুদ্ধার বা রক্ষণাবেক্ষণের সময় বিদ্যমান প্রকল্পেও এগুলো যুক্ত করা যায়।

কর্মসংস্থান, আয় ও স্থানীয় সমর্থন

এত বড় প্রকল্প নির্মাণে আঞ্চলিক শ্রমশক্তিকে কাজে লাগানো হয়েছে। নির্মাণকাজের সর্বোচ্চ সময়ে হাজারো পদ তৈরি হয়। পরে পরিচালনা, উদ্ভিদ ব্যবস্থাপনা ও গ্রিডে সহায়তার জন্য স্থায়ী পদ গড়ে ওঠে। নির্মাণের সময় পরিবহন থেকে আবাসন পর্যন্ত স্থানীয় সেবামূলক ব্যবসাগুলো লাভবান হয়। প্রকল্প পরিচালনা স্থিতিশীল হওয়ার পর সৌরক্ষেত্রের ভেতরে ভূমির যত্ন ও পশুচারণ সমবায় ঘিরে নতুন দফায় কর্মসংস্থান বাড়ে। এতে রাখালেরা আধুনিক জ্বালানি প্রকল্পের সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী জীবিকাকে যুক্ত করার নতুন উপায় পান।

ছিংহাইয়ের কর্মকর্তারা পরিবেশকে অগ্রাধিকার দেওয়া বৃহত্তর কৌশল এগিয়ে নিচ্ছেন। কাছের হ্রদ ও তৃণভূমিতে সংরক্ষণকাজ, বাসিন্দাদের বনরক্ষী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া প্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং ভূতাত্ত্বিক স্থানগুলোকে ইউনেস্কোর স্বীকৃতি দেওয়ার ফলে পরিবেশবান্ধব পর্যটন ও সংরক্ষণকাজে স্থানীয় আয় বেড়েছে। ভূমি পুনরুদ্ধার ও গ্রামীণ উন্নয়নের সঙ্গে জ্বালানি বিনিয়োগ যুক্ত করে সৌর প্রকল্পটিও এই ধারার সঙ্গে মেলে। জনসাধারণের সমর্থনের জন্য এই সামঞ্জস্য গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ যখন দেখে গাছপালা ফিরছে, ধূলা কমছে এবং পরিবারের আয় বাড়ছে, তখন তারা জ্বালানি প্রকল্পে সমর্থন দিতে, সমস্যা দ্রুত জানাতে এবং ভূমি সুস্থ রাখতে সাহায্যকারী পর্যবেক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিতে বেশি আগ্রহী হয়।

আঞ্চলিক পরিকল্পনাবিদেরা জ্বালানি নিরাপত্তাকেও আরেকটি সুবিধা হিসেবে উল্লেখ করেন। গংহের মতো স্থানসহ পশ্চিম চীনের বিপুল সৌর ও বায়ুশক্তির উৎস এখন প্রাদেশিক চাহিদা মেটায় এবং উচ্চ ভোল্টেজ সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ পূর্বাঞ্চলে পাঠায়। অন্যত্র গ্রিডের নমনীয় জ্বালানি উৎসের সঙ্গে সমন্বয় করলে ছিংহাইয়ের বিপুল পরিচ্ছন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন দৈনিক ও মৌসুমি চাহিদার ভারসাম্য রক্ষায় সহায়তা করে। কঠোর সময়সূচিতে পরিচালিত শিল্প এবং স্থিতিশীল বিদ্যুৎ বিল চান এমন পরিবারের জন্য এই নির্ভরযোগ্যতা গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যত্র প্রকল্প সম্প্রসারণের সম্ভাব্য চিত্র

ছিংহাইয়ের অভিজ্ঞতা অন্য শুষ্ক অঞ্চলের জন্যও ক্রমে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে। পরিবেশগত কার্যকারিতা বাড়ানোর নকশাগত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবসম্মত এবং অন্যত্রও প্রয়োগ করা সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে ভূমিক্ষয় ঘটানো বাতাস সীমিত করতে প্যানেলের সারির মধ্যে যথেষ্ট দূরত্ব রাখা, পানি গাছপালাযুক্ত সরু পথে প্রবাহিত করা, বিঘ্নিত এলাকার পরিসর কমাতে সংক্ষিপ্ত প্রবেশপথ বেছে নেওয়া এবং সৌরক্ষেত্রের কিনারায় বাফার বেষ্টনী যোগ করা। ব্যবস্থাপকেরা সারির মাঝের এলাকায় স্থানীয় উদ্ভিদের বীজ বপন করতে পারেন, বৃদ্ধির মৌসুমের সঙ্গে মিলিয়ে রক্ষণাবেক্ষণের সময় ঠিক করতে পারেন এবং মৌসুমি উৎপাদনক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পশুচারণের ব্যবস্থা করতে পারেন।

গবেষণায় স্পষ্ট স্থানিক ধরনও উঠে এসেছে। স্থাপনাগুলোর কয়েক শ মিটারের মধ্যে বাস্তুতন্ত্রসেবার সবচেয়ে বড় উন্নতি প্রায়ই দেখা যায়, যা বোঝায় সুবিধাগুলো মূলত সৌরক্ষেত্রের ভেতরে ও কাছাকাছি কেন্দ্রীভূত। পর্যবেক্ষণে কোথায় বিনিয়োগ করা হবে এবং বন্য প্রাণীর চলাচলের জন্য কোথায় সুরক্ষামূলক বাফার রাখা হবে, তা নির্ধারণে এই ধরন নির্দেশনা দিতে পারে। বড় প্রকল্পের সঙ্গে পরিকল্পনাবিদদের নির্দিষ্ট স্থানের প্রাথমিক পরিবেশগত জরিপ যুক্ত করা উচিত। এরপর অগ্রগতি পরিমাপ ও ব্যবস্থাপনার ধরন বদলাতে ডিপিএসআইআরভিত্তিক সূচকসমষ্টি ব্যবহার করা যেতে পারে। এসব পরিমাপের তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করলে আস্থা বাড়বে এবং প্রকল্প সম্প্রসারণ, স্থগিত রাখা বা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত আরও যুক্তিনির্ভর হবে।

এসব উদ্যোগই পরিবেশগত সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। মরুভূমির বাস্তুতন্ত্র একেক জায়গায় একেক রকম; এমনকি একই প্রদেশের ভেতরেও মাটির রাসায়নিক গঠন, ভূগর্ভস্থ পানির গভীরতা ও বাতাসের ধরন অল্প দূরত্বেই বদলে যেতে পারে। ছিংহাইয়ের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, বড় সৌর পার্ক উদ্ভিদের পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে এবং ভূমিকে আরও স্থিতিশীল করতে পারে। একই সঙ্গে উদ্ভিদের বৈচিত্র্য ও মাটির পুষ্টি উপাদানে এমন বিনিময়ধর্মী প্রভাবও দেখা যায়, যার প্রতি নজর দেওয়া প্রয়োজন। সুচিন্তিত পরিকল্পনা, স্বচ্ছ পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ থাকলে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ভূমির স্বাস্থ্য, দুইয়ের পক্ষেই ভারসাম্য রাখা সম্ভব।

মূল তথ্য

  • চীনের ছিংহাই প্রকল্পটি প্রায় ২৩৫ বর্গমাইল এলাকাজুড়ে বিস্তৃত। এতে ৭০ লাখের বেশি সৌর প্যানেল রয়েছে, যা সর্বোচ্চ ৫০ লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারে।
  • প্যানেলের ছায়া ও সারির মধ্যবর্তী কম বাতাস তালাতান মরুভূমির কিছু এলাকায় ঘাস ও ঝোপঝাড় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করেছে; এতে ভেড়া চরানো ও মাটির স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
  • ডিপিএসআইআরভিত্তিক সূচকব্যবস্থা ব্যবহার করে ২০২৪ সালে সায়েন্টিফিক রিপোর্টসে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, গংহে সৌর পার্কের ভেতরের এলাকার পরিবেশগত স্বাস্থ্যের স্কোর আশপাশের জমির তুলনায় ভালো।
  • এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ লেটার্সে প্রকাশিত এক গবেষণায় নির্মাণ-পরবর্তী সময়ে কার্বন সংরক্ষণ, বালু স্থিতিশীল রাখা এবং মাটি ধরে রাখার সক্ষমতা বেড়েছে বলে জানানো হয়েছে; সৌরক্ষেত্রের ৪০০ থেকে ৫০০ মিটারের মধ্যে উন্নতি ছিল সবচেয়ে বেশি।
  • প্যানেলের নিচে উদ্ভিদের জৈবভর বাড়লেও প্রজাতির সমৃদ্ধি ও সহজলভ্য ফসফরাস কমেছে। এতে পুষ্টি উপাদান পর্যবেক্ষণ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়।
  • উদ্ভিদ টিকিয়ে রাখতে এবং প্যানেলে ধূলা জমা কমাতে ব্যবস্থাপকেরা পশুচারণের পর্যায়ক্রমিক ব্যবস্থা, ধূলা নিয়ন্ত্রণ, সতর্কতার সঙ্গে ভূমির ঢাল নির্ধারণ ও লক্ষ্যভিত্তিক বীজ বপন করেন।
  • স্থাননির্ধারণবিষয়ক গবেষণায় দেখা গেছে, বড় প্রকল্পের জন্য বালুময় মরুভূমির তুলনায় নুড়ি-পাথরের মরুভূমি প্রায়ই বেশি উপযুক্ত; সঠিক স্থান নির্বাচন করলে সংরক্ষিত ও অধিক উদ্ভিদ-আচ্ছাদিত এলাকা এড়ানো যায়।
  • প্রকল্পটি কর্মসংস্থান ও স্থানীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে স্থিতিশীলতা এনেছে। প্রাদেশিক কর্মসূচিতে সৌরবিদ্যুৎ উন্নয়নের সঙ্গে সংরক্ষণ ও গ্রামীণ আয় বৃদ্ধিকে যুক্ত করা হয়েছে।
  • অন্যত্র প্রয়োগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চর্চাগুলোর মধ্যে রয়েছে বাফার অঞ্চল, সংক্ষিপ্ত বিন্যাস, ডিপিএসআইআরভিত্তিক পর্যবেক্ষণ এবং পরিবেশগত উন্নতি বজায় রাখতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে