২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাইওয়ান হাই স্পিড রেলে স্মার্টফোন ব্যবহারে কঠোর নিয়ম

পড়তে 10 মিনিট
২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাইওয়ান হাই স্পিড রেলে স্মার্টফোন ব্যবহারে কঠোর নিয়ম

তাইওয়ানের বুলেট ট্রেনে নীরবতার নিয়মে কেন বড় পরিবর্তন আসছে

তাইওয়ান হাই স্পিড রেল করপোরেশন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে কঠোর নীরব ভ্রমণবিধি চালু করবে। এতে যেকোনো অডিও শোনার জন্য হেডফোন ব্যবহার বাধ্যতামূলক হবে এবং ভয়েস কল করতে হবে ট্রেনের দুই বগির মাঝের সংযোগস্থল বা প্রবেশপথের এলাকায়। কোম্পানিটি জানিয়েছে, যাত্রীরা বারবার সতর্ক করার পরও নির্দেশনা না মানলে ট্রেনের কর্মীরা তাদের ট্রেনে উঠতে বাধা দিতে পারবেন বা ট্রেন থেকে নেমে যেতে বলতে পারবেন। লক্ষ্যটা সহজ: বগিগুলো শান্ত রাখা, যাতে যাত্রীরা অনাকাঙ্ক্ষিত শব্দ ছাড়াই বিশ্রাম নিতে, পড়তে বা কাজ করতে পারেন। এই নীতি শুধু মৃদু অনুরোধে সীমাবদ্ধ থাকছে না; নীরব ভ্রমণকে যাত্রী পরিবহন চুক্তির প্রয়োগযোগ্য শর্তে পরিণত করছে।

সূচিপত্র
  1. তাইওয়ানের বুলেট ট্রেনে নীরবতার নিয়মে কেন বড় পরিবর্তন আসছে
  2. ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ঠিক কী বদলাচ্ছে
  3. মৌলিক নিয়ম
  4. ঘোষণা ও নির্দেশনা
  5. নিয়ম কীভাবে কার্যকর হবে
  6. ধাপে ধাপে
  7. জাপান ও অন্যান্য রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে তুলনা
  8. এখনই কেন, আর যাত্রীরা কোম্পানিকে কী বলেছেন
  9. বিশেষ পরিস্থিতি এবং পরিবার ও সহায়তা প্রয়োজন এমন যাত্রীদের জন্য ব্যবস্থা
  10. শান্তিতে ভ্রমণের ব্যবহারিক পরামর্শ
  11. রেল নেটওয়ার্কে আর কী বদলাচ্ছে
  12. মূল বিষয়গুলো

নতুন নিয়মের সঙ্গে যাত্রীদের অভ্যস্ত হতে তিন মাসের প্রচারকাল রাখা হয়েছে। কর্মীরা বন্ধুত্বপূর্ণভাবে মনে করিয়ে দেবেন, আসনে তথ্যকার্ড রাখবেন, বগিতে এলইডি বার্তা দেখাবেন এবং স্টেশনের টিভি পর্দায় নির্দেশনা প্রচার করবেন। বগিতে শব্দের চাপ কমাতে নিয়মিত ঘোষণাও কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে পরিচালনাকারী সংস্থাটির। এসব পরিবর্তনে প্রত্যাশা স্পষ্ট: যন্ত্র নীরব রাখুন, কিছু দেখার বা শোনার সময় হেডফোন ব্যবহার করুন, কল করতে যান সংযোগস্থলের এলাকায়, আর বগিতে কথা বলতেই হলে নিচু স্বরে বলুন।

কোম্পানির নেতারা পরিবর্তনটিকে সেবার মানের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছেন। জনসমক্ষে দেওয়া বক্তব্যে তাইওয়ান হাই স্পিড রেলের এক কর্মকর্তা ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারের সময় বিশেষ করে নীরবতা বজায় রাখার মৌলিক প্রত্যাশার ওপর জোর দেন। নতুন নিয়মটি তিনি সহজ ভাষায় তুলে ধরেন:

ইয়ারফোন ছাড়া ইলেকট্রনিক যন্ত্র ব্যবহারের কোনো কারণ নেই।

তাইওয়ানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ইতিবাচক। অনেক যাত্রী শান্ত বগি এবং বারবার সতর্ক করার পরও কেউ নিয়ম না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছেন। উচ্ছৃঙ্খল আচরণের ক্ষেত্রে বিমান সংস্থাগুলোর পদ্ধতির সঙ্গে এ উদ্যোগের মিল রয়েছে: সৌজন্যমূলক অনুরোধ থেকে স্পষ্ট নিয়মে যাওয়া, যা যাত্রীদের আরাম ও নিরাপত্তার স্বার্থে কর্মীরা কার্যকর করতে পারবেন।

বিজ্ঞাপন

২২ সেপ্টেম্বর থেকে ঠিক কী বদলাচ্ছে

নির্ধারিত দিন থেকে নীরব ভ্রমণের নিয়ম আর পরামর্শ থাকবে না, তা পালন করা বাধ্যতামূলক হবে। ট্রেনে থাকা অবস্থায় ভিডিও দেখা, গান শোনা, গেম খেলা ও ফোনে কথা বলার ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। শর্তগুলো যাত্রী পরিবহন চুক্তির অন্তর্ভুক্ত। ফলে কর্মীরা যাত্রীদের সতর্ক করতে, আচরণ নিয়ন্ত্রণে নির্দেশ দিতে এবং বারবার অনুরোধের পরও সহযোগিতা না করলে তাদের যাত্রা বাতিল করতে পারবেন।

মৌলিক নিয়ম

  • বগির ভেতরে মোবাইল ফোন নীরব বা ভাইব্রেট মোডে রাখুন।
  • ফোন, ট্যাবলেট বা ল্যাপটপ থেকে যেকোনো অডিও শুনতে হেডফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার করুন। হেডফোন না থাকলে শব্দ বন্ধ রাখুন।
  • শুধু বগির সংযোগস্থল বা দুই বগির মাঝের প্রবেশপথের এলাকায় ভয়েস কল করুন বা ধরুন।
  • পাশের যাত্রীদের বিরক্ত না করতে বগিতে নিচু স্বরে কথা বলুন।
  • শব্দ কমাতে, কলের জন্য সংযোগস্থলের এলাকায় যেতে বা জোরে অডিও চালানো বন্ধ করতে কর্মীরা বললে তাদের নির্দেশ মানুন।

এখানে সংযোগস্থল বলতে যাত্রীবাহী বগিগুলোর মাঝের ছোট জায়গাটিকে বোঝানো হয়েছে, যেখানে দরজার মাধ্যমে বগিগুলো যুক্ত থাকে। বিশ্বের অনেক বুলেট ট্রেন ব্যবস্থায় ফোনে কথা বলার জন্য এই জায়গায় যেতে বলা হয়। এতে জরুরি কল করার সুযোগ রেখেও বগিগুলো শান্ত রাখা যায় এবং কাছাকাছি বসা যাত্রীদের বিরক্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে।

ঘোষণা ও নির্দেশনা

প্রতিদিনের কার্যক্রমে নিয়মগুলো প্রতিষ্ঠা করতে কোম্পানিটি তিন মাস সময় নেবে। কর্মীরা সরাসরি যাত্রীদের মনে করিয়ে দেবেন, ছোট তথ্যকার্ড দেবেন এবং বগি ও স্টেশনে এলইডি বার্তা প্রচার করবেন। স্টেশনের টিভি পর্দায় সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাও দেখানো হবে। ট্রেনের সামগ্রিক শব্দ কমাতে নিয়মিত ঘোষণার সংখ্যা কমানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। অর্থাৎ নীরব ভ্রমণ নীতি শুধু যাত্রীদের চুপ থাকতে বলবে না, সেবার নিজস্ব শব্দও কমাবে।

বিজ্ঞাপন

নিয়ম কীভাবে কার্যকর হবে

প্রথমে সতর্ক ও সহায়তা করার মাধ্যমে নিয়ম কার্যকর করা হবে; প্রয়োজন হলেই কেবল কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ শব্দ করলে কর্মীরা তার কাছে গিয়ে হেডফোন ব্যবহার করতে বা সংযোগস্থলের এলাকায় যেতে বলবেন। তিনি নির্দেশ মানলে বিষয়টি সেখানেই শেষ হবে। কিন্তু কেউ নির্দেশ প্রত্যাখ্যান করে অন্যদের বিরক্ত করতে থাকলে কর্মীরা যাত্রা চুক্তি বাতিল করে পরবর্তী স্টেশনে তাকে ট্রেন থেকে নেমে যেতে বলতে পারবেন। যাত্রা শুরুর আগেই কোনো যাত্রী নিয়ম ভঙ্গ করে তা মানতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ট্রেনে উঠতেও বাধা দেওয়া যেতে পারে।

ধাপে ধাপে

  • কর্মীদের প্রথম সতর্কতা: হেডফোন ব্যবহার, শব্দ কমানো বা কলের জন্য সংযোগস্থলের এলাকায় যেতে বলা হবে।
  • আচরণ চলতে থাকলে দ্বিতীয়বার সতর্ক করা হবে; প্রয়োজনে তথ্যকার্ড দিয়ে সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া হবে।
  • যাত্রী আবারও নির্দেশ অমান্য করলে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে: যাত্রা চুক্তি বাতিল। এর অর্থ হতে পারে পরবর্তী স্টেশনে তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া বা ট্রেনে উঠতে বাধা দেওয়া।

চুক্তিতে কঠোর ব্যবস্থা রাখার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন তাইওয়ান হাই স্পিড রেলের চেয়ারম্যান শি ঝে। তিনি বলেন, যাত্রীরা যেন শব্দের ঝামেলা ছাড়া বিশ্রাম নিতে বা পড়তে পারেন এবং সতর্কতা উপেক্ষা করা হলে কর্মীদের যেন স্পষ্ট কর্তৃত্ব থাকে। চূড়ান্ত পদক্ষেপটি তিনি জনসমক্ষে এভাবে তুলে ধরেন:

যাত্রীরা বারবার সতর্কতা উপেক্ষা করলে সবচেয়ে কঠোর শাস্তি হবে পরিবহন চুক্তি বাতিল।

হালনাগাদ চুক্তিতে অন্য আচরণবিধিও স্পষ্ট করা হয়েছে। চলাচলের পথ আটকে রাখা, সংযোগপথে বসে বা শুয়ে থাকা কিংবা বলা সত্ত্বেও নির্ধারিত আসনে যেতে অস্বীকৃতি জানালে যাত্রীদের সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হতে পারে। ভিড়ের সময় ঘটে যাওয়া আগের কিছু ঘটনার পর এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে গত বছর দরজার কাছে মেঝেতে বসে থাকা এক যাত্রীর সঙ্গে ট্রেনে উঠতে চাওয়া আরেক যাত্রীর বিরোধও ছিল। পরিচালনাকারী সংস্থাটি বলেছে, শব্দ ও শৃঙ্খলা আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণের দাবিতে গ্রাহকদের মতামতের পরিপ্রেক্ষিতেই এসব নিয়ম করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জাপান ও অন্যান্য রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে তুলনা

জাপানের বুলেট ট্রেন পরিচালনাকারী সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীদের ফোনে কথা বলতে সংযোগস্থলের এলাকায় যেতে এবং অডিও শোনার সময় হেডফোন ব্যবহার করতে উৎসাহিত করে আসছে। এই পদ্ধতি মূলত শিষ্টাচার, নির্দেশনা এবং অন্য যাত্রীদের প্রত্যাশার ওপর নির্ভরশীল। শুধু শব্দ করার কারণে কাউকে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া বিরল। তাইওয়ান হাই স্পিড রেল একই শিষ্টাচারের ধারণা অনুসরণ করছে, তবে যাত্রী চুক্তিতে নিয়ম কার্যকর করার বিষয়টি স্পষ্টভাবে যুক্ত করে আরও এক ধাপ এগিয়েছে। কেউ বারবার সতর্ক করার পরও না মানলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য এতে কর্মীদের একটি সুস্পষ্ট আইনি ভিত্তি থাকছে।

ইউরোপের দূরপাল্লার ট্রেনেও নীরব ভ্রমণের নীতি প্রচলিত। ডয়চে বান, ইউরোস্টারসহ অন্যান্য পরিচালনাকারী সংস্থা এমন নীরব অঞ্চল নির্ধারণ করে, যেখানে ফোনে কথা বলা যায় না এবং হেডফোন ব্যবহার প্রত্যাশিত। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে অ্যামট্রাক নীরব বগিকে জনপ্রিয় করেছে; সেখানে ফোনে কথা বলা এবং শোনা যায় এমন অডিও চালানো পুরোপুরি নিষিদ্ধ। তাইওয়ানের পদ্ধতির উদ্দেশ্যও কাছাকাছি, তবে শুধু নির্দিষ্ট একটি নীরব বগিতে নয়, পুরো ট্রেনেই তা প্রযোজ্য।

সব ক্ষেত্রেই লক্ষ্য হলো ধারাবাহিক ও অনুমানযোগ্য অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করা। স্পষ্ট নিয়ম যাত্রীদের মধ্যে বিরোধ কমায়। কর্মীরা বিরোধ মেটাতে মধ্যস্থতা করার বদলে নীতির কথা বলতে পারেন। অধিকাংশ মানুষ এমনিতেই হেডফোন ব্যবহার করেন। যারা করেন না, তাদের জন্য নীতিটি একটি ন্যূনতম মান নির্ধারণ করে।

এখনই কেন, আর যাত্রীরা কোম্পানিকে কী বলেছেন

যাত্রীদের কাছ থেকে ধারাবাহিকভাবে মতামত পাওয়ার প্রতিফলন এই সময় নির্বাচন। কর্মীরা বলছেন, অনেক যাত্রী নীরবতার নির্দেশনা মেনে চলেন, কিন্তু বারবার ঘোষণা দিয়েও অল্প কিছু যাত্রীর কাছে পৌঁছানো যায় না। তারা জোরে ভিডিও চালান বা ফোনে উচ্চস্বরে কথা বলেন। ব্যস্ত সময়ে অল্প কয়েকজনের শব্দেই অধিকাংশ মানুষের পছন্দের শান্ত পরিবেশ নষ্ট হতে পারে। তখন অন্য যাত্রীরা কর্মীদের ব্যবস্থা নিতে বলেন; আর কর্মীদের হাতে আরেকটি ঘোষণা দেওয়া ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা না থাকলে তারা নিজেদের অসহায় মনে করেন।

তাইওয়ানে সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে টানা ছুটি থাকে, এ সময় কয়েক দিন ধরে ট্রেন পুরো যাত্রী নিয়ে চলে। তিন মাসের প্রচারকাল এই সময়টিও অন্তর্ভুক্ত করবে। টিকিট বুকিংয়ের চাপ সামলাতে পরিচালনাকারী সংস্থাটি টিকিটিং ব্যবস্থা উন্নত করেছে এবং ট্রেনে আরও বেশি পরিবার, শিক্ষার্থী ও পর্যটক উঠবেন বলে আশা করছে। যাত্রী ও কর্মীদের ঘন ঘন যোগাযোগ এবং নিয়মগুলোর ব্যাপক প্রচারের সুযোগ থাকায় প্রত্যাশা নতুন করে নির্ধারণ ও অভ্যাস গড়ে তোলার জন্য এটি উপযুক্ত সময়।

বিজ্ঞাপন

বিশেষ পরিস্থিতি এবং পরিবার ও সহায়তা প্রয়োজন এমন যাত্রীদের জন্য ব্যবস্থা

নীরব ভ্রমণ নীতিতে সাধারণ বোধবুদ্ধির ভিত্তিতে কিছু ছাড় রাখা হয়েছে। কর্মীরা শিশু ও ছোট বাচ্চাসহ পরিবারকে এবং আত্মনিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলে এমন শারীরিক বা স্নায়বিক সমস্যায় থাকা যাত্রীদের সহায়তা অব্যাহত রাখবেন। কর্মীরা বসার ব্যবস্থা করতে, কোনো শিশুর চলাফেরা দরকার হলে সংযোগস্থলের এলাকায় বিরতি নেওয়ার পরামর্শ দিতে এবং যাত্রা শান্ত রাখতে অভিভাবকদের উপায় জানাতে পারেন। কোনো পরিস্থিতিতে শিশু বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যাত্রী জড়িত থাকলে অন্য যাত্রীদের ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানিয়েছে কোম্পানিটি।

ছোট শিশুরা কখনো কখনো সহজ কোনো কিছুর মাধ্যমে মনোযোগ সরালে শান্ত হয়। কর্মীরা স্টিকার বা বিস্কুটের মতো ছোটখাটো জিনিসের কথা বলেছেন, যা শিশুকে শান্ত করতে পারে। শাসন করার চেয়ে সহায়তা করাই এর মূল ভাবনা। নিয়মগুলো তাদের জন্য, যারা নিয়ম মানতে সক্ষম, কিন্তু সতর্ক করার পরও জেনেশুনে বারবার শব্দ করে অন্যদের বিরক্ত করেন।

সহায়ক যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল যাত্রীদের নতুন নিয়মে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। শ্রবণযন্ত্রের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন নেই। যাদের সহায়তার জন্য ফোন করতে হয়, তারা সংযোগস্থলের এলাকায় যেতে পারেন। ভিড়ের কারণে সেখানে জায়গা না থাকলে, জায়গা খালি হওয়া পর্যন্ত কর্মীরা কলের বদলে খুদে বার্তা পাঠাতে বলতে পারেন। এতে যোগাযোগের সুযোগ রেখেও বগিগুলো শান্ত থাকবে।

শান্তিতে ভ্রমণের ব্যবহারিক পরামর্শ

কিছু ছোট অভ্যাস গড়ে তুলেই যাত্রীরা প্রস্তুতি নিতে পারেন। এতে নিয়ম মানা সহজ হবে এবং যাত্রাও আরও আরামদায়ক হবে।

  • তারযুক্ত বা তারহীন হেডফোন সঙ্গে রাখুন এবং ট্রেনে ওঠার আগে সেগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কি না দেখে নিন।
  • আসন খোঁজার আগেই ফোন নীরব করে নিন। সতর্কবার্তার জন্য ভাইব্রেট মোড ব্যবহার করুন।
  • ভিডিও বা গানের প্লেলিস্ট ডাউনলোড করে রাখুন এবং এমন মাত্রায় শব্দ চালান, যা শুধু আপনিই শুনতে পান।
  • কল করতেই হলে সংযোগস্থলের এলাকায় যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করুন, পেছনের দরজা বন্ধ করুন এবং সংক্ষেপে কথা বলুন।
  • বগি বা সংযোগস্থলের এলাকায় ভিড় থাকলে কলের বদলে খুদে বার্তা পাঠান।
  • আশপাশের শব্দে সংবেদনশীল হলে নয়েজ ক্যানসেলিং হেডফোন ব্যবহার করুন এবং সম্ভব হলে দরজা থেকে দূরের আসন বেছে নিন।
  • কর্মীদের নির্দেশ দ্রুত মেনে চলুন। দ্রুত সাড়া দিলে সবার যাত্রাই নির্বিঘ্ন থাকে।

পর্যটক ও কদাচিৎ যাতায়াতকারী যাত্রীরা আসনের পকেটে নীরব ভ্রমণবিষয়ক কার্ড খুঁজে দেখতে পারেন এবং ইংরেজি ও চীনা ভাষায় এলইডি নির্দেশনার দিকে খেয়াল রাখতে পারেন। নিয়মগুলো ব্যাখ্যা করতে এবং কোথায় যেতে হবে বুঝতে অসুবিধা হলে সংযোগস্থলের এলাকা খুঁজে দিতে কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। হেডফোন সঙ্গে আনতে ভুলে গেলে যন্ত্রের শব্দ বন্ধ করে রাখুন এবং স্টেশনের দোকান থেকে হেডফোন কেনা পর্যন্ত ভিডিওর ক্যাপশন দেখুন।

বিজ্ঞাপন

রেল নেটওয়ার্কে আর কী বদলাচ্ছে

যাত্রীদের আচরণবিধির আরও ব্যাপক হালনাগাদের অংশ নীরব ভ্রমণ নীতি। পরিবহন চুক্তিতে এখন বলা হয়েছে, চলাচলের পথ আটকে রাখা, স্টেশনের মেঝেতে বসে থাকা বা নির্ধারিত আসন নিতে অস্বীকৃতি জানানোর মতো বিশৃঙ্খল আচরণের ক্ষেত্রে সতর্ক করার পর যাত্রা চুক্তি বাতিল হতে পারে। পরিচালনাকারী সংস্থাটির মতে, বিশেষত ব্যস্ত সময়ে যাত্রী চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এটি কর্মীদের একটি স্পষ্ট কাঠামো দেবে।

আগামী বছর থেকে ব্যস্ত সময়ে সংরক্ষিত আসনবিহীন টিকিটধারীদের নির্দিষ্ট কিছু ট্রেনেই যাতায়াত করতে হবে। প্ল্যাটফর্ম ও বগিতে ভিড় থাকলে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পরিচালনাকারী সংস্থাটি। এতে সময়সূচির বিভিন্ন ট্রেনে যাত্রীর চাপ আরও সমানভাবে ভাগ হবে এবং চলাচলের পথ ও দরজার কাছে বিরোধ কমবে।

উত্তরে তাইপেই থেকে দক্ষিণে কাওশিউং পর্যন্ত এই রেলপথের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার। জাপান ও অন্যান্য অংশীদারের প্রযুক্তি ব্যবহার করে ২০০৭ সালে এটি চালু হয়। এরপর থেকে এটি তাইওয়ানের দূরপাল্লার যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হয়ে উঠেছে। নীরব ভ্রমণ নীতি চালুর মাধ্যমে পরিচালনাকারী সংস্থাটি আশা করছে, শান্ত বগি, কম ঘোষণা এবং দৃঢ় কিন্তু ন্যায্য প্রয়োগে সেবাটি কোলাহলপূর্ণ যাতায়াতের বদলে বিশ্রামদায়ক চলন্ত লাউঞ্জের মতো মনে হবে।

মূল বিষয়গুলো

  • ২২ সেপ্টেম্বর থেকে তাইওয়ান হাই স্পিড রেলে যেকোনো অডিও শোনার জন্য হেডফোন বা নীরব মোড ব্যবহার বাধ্যতামূলক।
  • ফোনে কথা বলতে হবে সংযোগস্থল বা দুই বগির মাঝের প্রবেশপথের এলাকায়, আসনের সারিতে নয়।
  • বারবার সতর্ক করার পরও নিয়ম না মানলে কর্মীরা যাত্রীকে ট্রেনে উঠতে বাধা দিতে বা ট্রেন থেকে নেমে যেতে বলতে পারবেন।
  • তিন মাসের প্রচারকালে কর্মীদের স্মরণ করিয়ে দেওয়া, আসনের তথ্যকার্ড, এলইডি বার্তা ও স্টেশনের টিভি পর্দা ব্যবহার করা হবে।
  • চলাচলের পথ আটকে রাখা ও নির্ধারিত আসন নিতে অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়েও এখন আচরণবিধি রয়েছে; নিয়ম না মানলে যাত্রা বাতিল হতে পারে।
  • শিশুদের সঙ্গে থাকা পরিবার ও আত্মনিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলে এমন সমস্যায় থাকা যাত্রীরা সহায়তা পাবেন; অন্য যাত্রীদেরও সহানুভূতিশীল হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
  • বগি শান্ত রাখতে ট্রেনের ভেতরে ঘোষণা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে পরিচালনাকারী সংস্থাটির।
  • নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে আগামী বছর ব্যস্ত সময়ে সংরক্ষিত আসনবিহীন টিকিটধারীদের নির্দিষ্ট কিছু ট্রেনেই যাতায়াত করতে হবে।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে