জাপানের পাচিনকো ব্যবসাকে কাঁপিয়ে দেওয়া বিস্তৃত মামলার নেপথ্যে
জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হাউস অব কাউন্সিলরস নির্বাচনে ভোট কেনার আয়োজনের সন্দেহে টোকিওভিত্তিক গেমিং পারলার পরিচালনাকারী ডেরুপারা গ্রুপের ছয় নির্বাহীকে গ্রেপ্তারের পর বিপর্যস্ত জাপানের পাচিনকো শিল্প। পুলিশের অভিযোগ, ক্ষমতাসীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের প্রার্থী এবং শিল্প খাতের কর্মকর্তা ইয়াসুহিসা আবেকে ভোট দিলে কর্মীদের অল্প পরিমাণ নগদ অর্থ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কোম্পানিটি। ২৬ আগস্ট গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে প্রকাশ্যে আসা এ ঘটনা এমন এক খাতের জন্য বড় বিতর্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে, যে খাত ক্রমহ্রাসমান গ্রাহক, কঠোরতর বিধিনিষেধ এবং আর্থিক চাপের সঙ্গে লড়ছে।
সূচিপত্র
- জাপানের পাচিনকো ব্যবসাকে কাঁপিয়ে দেওয়া বিস্তৃত মামলার নেপথ্যে
- পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী কী ঘটেছিল
- অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ও তাঁদের ভূমিকা
- অভিযোগ অনুযায়ী ব্যালটকে যেভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল
- ইয়াসুহিসা আবে কে এবং কেন শিল্প খাত তাঁকে সমর্থন করেছিল
- কেন চাপে পাচিনকো শিল্প
- জাপানের নির্বাচনী বিধি কীভাবে স্পষ্ট সীমারেখা টানে
- রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও শিল্প খাতের অবস্থান
- প্রসিকিউটররা কী প্রমাণের চেষ্টা করবেন
- নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সঙ্গে পাচিনকো খাতের তদবিরের যোগসূত্র
- একনজরে
তদন্তকারীরা বলছেন, ডেরুপারার ব্যবস্থাপকেরা কর্মীদের জানিয়েছিলেন, আবেকে সমর্থন করলে তারা ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ইয়েন, অর্থাৎ প্রায় ২০ থেকে ২৭ ডলার পাবেন। অভিযোগ রয়েছে, কর্মীদের ভোট দেওয়ার প্রমাণ জমা দিতে বলা হয়েছিল। এর মধ্যে ভোটকেন্দ্রের বুথে ব্যালটের ছবি তোলার নির্দেশও ছিল, যা ভোটের গোপনীয়তা রক্ষার নিয়ম লঙ্ঘন করে। এত চেষ্টা সত্ত্বেও আবেকে আসন জেতাতে পারেননি; তিনি ৮৮ হাজারের বেশি ভোট পেলেও বিজয়ী প্রার্থীদের তালিকার বাইরে ছিলেন। এ ঘটনা শিল্প খাত কীভাবে রাজনৈতিক সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করে এবং জাপানের পাবলিক অফিসেস ইলেকশন অ্যাক্টের অধীনে প্রচার ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যকার সীমারেখা কোথায়, তা নিয়ে নতুন করে নজরদারি বাড়িয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী কী ঘটেছিল
জাপানি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশের তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ডেরুপারার প্রেসিডেন্ট লি চ্যাং-বম, যিনি মাসানোরি ইয়ামামোতো নামেও পরিচিত, পাঁচ জ্যেষ্ঠ সহকর্মীর সঙ্গে আটক হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছিলেন বিক্রয় বিভাগের প্রধান কাজুইউকি ইউয়াসা এবং প্রতিবেদনে কোণিশি নামে চিহ্নিত ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক প্রধান। কোম্পানির নেতারা অনলাইন বৈঠকে পারলারের ব্যবস্থাপকদের ব্রিফ করে এবং তাদের সামনের সারির কর্মীদের কাছে নির্দেশনা পৌঁছে দিতে বলে দেশজুড়ে সমন্বিত উদ্যোগ চালিয়েছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ও তাঁদের ভূমিকা
ডেরুপারা টোকিও ও অন্যান্য প্রদেশে কয়েক ডজন পারলার পরিচালনা করে। টোকিওরিপোর্টারের বর্ণনা অনুযায়ী, কাগোশিমাসহ আটটি প্রদেশে কোম্পানিটির ৩১টি পারলার রয়েছে। পুলিশের ধারণা, সন্দেহভাজন প্রস্তাবটি প্রথমে অন্তত ৬০ জন কর্মীর কাছে পৌঁছেছিল। একাধিক অঞ্চলে ২৫০ জনেরও বেশি মানুষের কাছে এ প্রচারণা ছড়িয়েছিল—এমন ইঙ্গিত দেওয়া প্রমাণও যাচাই করছেন তদন্তকারীরা। সন্দেহভাজনেরা অপরাধ স্বীকার করেছেন কি না, তা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি তদন্তকারী সংস্থাগুলো। পাবলিক অফিসেস ইলেকশন অ্যাক্টে ভোট প্রভাবিত করতে অর্থ বা মূল্যবান জিনিস দেওয়ার প্রস্তাব নিষিদ্ধ; আইন লঙ্ঘনে ফৌজদারি সাজা হতে পারে।
অভিযোগ অনুযায়ী ব্যালটকে যেভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল
পুলিশ সূত্রের ভাষ্য, কর্মীদের বলা হয়েছিল, এলডিপির জাতীয় তালিকায় আবেকে ভোট দেওয়ার প্রমাণ দেখালে তারা নগদ অর্থ পেতে পারেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্দেশনা মেনে চলার প্রমাণ দিতে কর্মীদের ভোটের বুথের ভেতরে ছবি তুলতে বলা হয়েছিল। অভিযোগটি সত্য প্রমাণিত হলে এ নির্দেশ চিহ্নিত ব্যালটের ছবি তোলার নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করবে। অর্থের পরিমাণ কম হলেও আইনের চোখে উদ্দেশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এ ঘটনায় আরও মনোযোগ তৈরি হয়েছে, কারণ এখানে সাধারণ জনগণকে অর্থ দেওয়ার বদলে কর্মক্ষেত্রে ভেতরকার চাপ ও ক্ষমতার সম্পর্ক জড়িত।
ইয়াসুহিসা আবে কে এবং কেন শিল্প খাত তাঁকে সমর্থন করেছিল
আবে পাচিনকো পারলার পরিচালনাকারীদের প্রতিনিধিত্বকারী একটি জাতীয় সমিতির চেয়ারম্যান। তাঁর প্রার্থিতা এলডিপির আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের তালিকার মাধ্যমে উচ্চকক্ষে শিল্প খাতের একজন প্রতিনিধিকে পাঠানোর বিরল সুযোগ তৈরি করেছিল। এ ব্যবস্থায় ভোটাররা ব্যালটে কোনো দলের নাম অথবা প্রার্থীর নাম লেখেন এবং ভোটের সংখ্যার ভিত্তিতে আসন বণ্টন করা হয়। বহু বছরের সংকোচনের পর বিধিনিষেধের চাপ কমানো এবং ব্যবসা পুনরুজ্জীবনে নির্বাচিত আবে নীতি প্রণয়নে ভূমিকা রাখবেন—এমন আশা ছিল খাতটির সমর্থকদের।
আবের নামে ৮৮ হাজারের বেশি ভোট পড়লেও এলডিপির তালিকার ৩১ প্রার্থীর মধ্যে তিনি ২০তম হন এবং আসন পাননি। এ ফল দেখায়, জাতীয় পর্যায়ের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় শিল্প খাতের সংগঠিত প্রচেষ্টার সীমাবদ্ধতা রয়েছে; সেখানে প্রার্থীদের আরও পরিচিত দলীয় ব্যক্তিত্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হয় এবং তালিকার মধ্যে ভোটের বণ্টন দলীয় কৌশল ও ভোটারদের পরিচিতি—দুইয়ের ওপরই নির্ভর করে। কর্মক্ষেত্রে ব্যবস্থাপকদের প্রভাবকে ভোটে রূপান্তরের চেষ্টা করার অভিযোগ এ রাজনৈতিক হিসাবের সঙ্গে আরও একটি দিক যুক্ত করেছে।
কেন চাপে পাচিনকো শিল্প
বিনোদন ও জুয়া—দুইয়ের মাঝামাঝি এক ধূসর অবস্থানে রয়েছে পাচিনকো। খেলোয়াড়েরা মেশিনে ছোট ছোট স্টিলের বল ফেলেন, ভাগ্য ও দক্ষতার মাধ্যমে আরও বল জেতেন, এরপর সেই বল পুরস্কারের সঙ্গে বিনিময় করেন। পুরস্কারগুলো প্রায়ই কাছাকাছি কোনো দোকানে নগদ অর্থের বিনিময়ে বদলে নেওয়া হয়। তিন ধাপের এই প্রক্রিয়ায় নগদ অর্থের সমমূল্যের পুরস্কার দেওয়া হলেও কার্যক্রমটি জুয়াবিরোধী জাপানি আইনের আওতার বাইরে থাকে। যুদ্ধোত্তর অবসর বিনোদনের সংস্কৃতির অংশ হয়ে ওঠা এই শিল্পের শীর্ষ সময়ে লাখ লাখ নিয়মিত খেলোয়াড় ছিল এবং এতে কয়েক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছিল।
বছরের পর বছর ধরে ব্যবসার পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। আসক্তি মোকাবিলা এবং অতিরিক্ত অর্থমূল্যের পুরস্কার সীমিত করতে মেশিনের নিয়ম কঠোর করা হয়েছে। জনসমাগমস্থলে ধূমপান নিষিদ্ধ এবং মহামারির কারণে পারলারে মানুষের যাতায়াত কমে যায়। নতুন মান পূরণ করতে পুরোনো মেশিন বদলাতে অনেক পরিচালনাকারী বিপুল বিনিয়োগ করেন; এরপর দেখেন, অনিয়মিত গ্রাহকেরা স্মার্টফোন ও বিনোদনের অন্যান্য মাধ্যমে ঝুঁকছেন। গত এক দশকে হাজার হাজার পারলার বন্ধ হয়েছে, আর শিল্প খাতের তথ্যে দেখা যায়, নিয়মিত খেলোয়াড়ের সংখ্যা আগের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে অনেক কমেছে।
এসব প্রবণতায় বহু কোম্পানি স্বস্তি খুঁজছে। কোন ধরনের মেশিন অনুমোদিত হবে তার পরিসর বাড়ানো বা কিছু বিধিনিষেধ শিথিল করার মতো পরিবর্তনের জন্য খাতটির নেতারা সরকার ও পুলিশি নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে তদবির করছেন। এ প্রেক্ষাপট থেকে বোঝা যায়, শিল্প খাতের কেউ কেউ কেন আবেকে মিত্র হিসেবে দেখেছিলেন। তবে অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হলে তা নির্বাচনী আইন ভঙ্গের অজুহাত হতে পারে না।
জাপানের নির্বাচনী বিধি কীভাবে স্পষ্ট সীমারেখা টানে
অর্থ ও নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে জাপানের পাবলিক অফিসেস ইলেকশন অ্যাক্ট কঠোর। ভোটের বিনিময়ে নগদ অর্থ বা পণ্য দেওয়া কিংবা এমন সুবিধার প্রতিশ্রুতি দেওয়া—অঙ্ক বড় হোক বা ছোট, বেআইনি। ভোটের গোপনীয়তা ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য এ আইন করা হয়েছে। ভোটের বুথে চিহ্ন দেওয়া ব্যালটের ছবি তোলা বা তা রেকর্ড করাও নিষিদ্ধ, কারণ কাউকে কীভাবে ভোট দিয়েছেন তার প্রমাণ দিতে বাধ্য করে ভোট কেনা বা চাপ প্রয়োগে এসব ব্যবহার করা হতে পারে।
উচ্চকক্ষের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের নির্বাচনে প্রত্যেক ভোটার দলের নাম অথবা দলীয় তালিকার নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থীর নাম লেখেন। এরপর দলগুলো তাদের ভোটের অনুপাতে আসন পায় এবং প্রার্থীরা পাওয়া ভোটের ক্রমানুসারে সেই আসনগুলো পান। শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোকে নিজেদের সদস্যদের কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে সংগঠিত হতে দেখা যায়। প্রলোভন বা হুমকি ব্যবহার করা হলে সেই সীমারেখা লঙ্ঘিত হয়।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও শিল্প খাতের অবস্থান
এ ঘটনায় লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের অভিযোগ ওঠেনি। আবে বা দলীয় নেতারা কথিত অর্থ দেওয়ার বিষয়টি জানতেন, এমন কোনো ইঙ্গিতও নেই। তবে এ গ্রেপ্তারের কারণে সাংগঠনিকভাবে সমর্থন পাওয়া প্রার্থীদের কীভাবে সহায়তা করা হয়, তা পর্যালোচনা করতে দলের ওপর এবং অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে শিল্প খাতের সংগঠনগুলোর ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্ত চলছে এবং টোকিওর বাইরেও ডেরুপারার পারলার থাকা প্রদেশগুলোতে তা বিস্তৃত হয়েছে।
ডেরুপারা নির্বাহীদের পক্ষে বিস্তারিত কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য দেয়নি। সন্দেহভাজনেরা অভিযোগ স্বীকার করেছেন কি না, তা জানায়নি টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশ। এ গ্রেপ্তার দেখায়, ভোট কেনার ঘটনা কীভাবে কোম্পানির পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে সহজে আড়াল করা যায় এমন সামান্য অর্থ দিয়ে শুরু হতে পারে; পরে বার্তা ও নির্দেশনার সূত্র ধরে তা একাধিক প্রদেশজুড়ে তদন্তে রূপ নিতে পারে। এমন এক সময়ে কোম্পানিটি আইনি ঝুঁকি ও সুনামহানির মুখে পড়েছে, যখন বহু পরিচালনাকারী আগে থেকেই আর্থিক চাপে রয়েছেন।
প্রসিকিউটররা কী প্রমাণের চেষ্টা করবেন
দোষী সাব্যস্ত করতে প্রসিকিউটরদের প্রমাণ করতে হবে যে নির্দিষ্ট ভোট প্রভাবিত করতে সন্দেহভাজনেরা সুবিধার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন বা তা দিয়েছিলেন এবং তাঁদের কাজ ইচ্ছাকৃত ছিল। বৈঠকের নথি, চ্যাটের বার্তা, স্ক্রিনশট বা নির্দেশনা কিংবা অর্থ পাওয়া কর্মীদের সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। ভোটের বুথের ভেতরে ছবি তোলার কথিত অনুরোধটি নিশ্চিত হলে তা ব্যক্তিগত ব্যালট যাচাইয়ের চেষ্টা নির্দেশ করবে। আদালত এটিকে গুরুতর বিবেচনা করে, কারণ এতে গোপন ভোটের নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নির্বাচনী মামলায় আইনি পরিণতি ভিন্ন হতে পারে। অর্থ দেওয়ার প্রস্তাবকারী ব্যক্তিদের কারাদণ্ড বা জরিমানা হতে পারে এবং নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নাগরিক অধিকার হারাতে পারেন। কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে তল্লাশি, জব্দ এবং তাদের ব্যবসার লাইসেন্স প্রদান ও তদারককারী নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির ঝুঁকি রয়েছে। পাচিনকো চেইনগুলোর জন্য আরও কঠোর অভ্যন্তরীণ নিয়ম মানার কর্মসূচির দাবিও উঠতে পারে, যেখানে স্পষ্টভাবে বলা থাকবে যে কর্মীদের রাজনৈতিক সমর্থন স্বেচ্ছায় হতে হবে এবং এর জন্য কোনো পুরস্কার বা চাপ দেওয়া যাবে না।
নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার সঙ্গে পাচিনকো খাতের তদবিরের যোগসূত্র
বিনোদন ব্যবসা নিয়ন্ত্রণকারী আইনের আওতায় পাচিনকো ব্যবসা পরিচালিত হয়। এ ক্ষেত্রে জাতীয় পুলিশ সংস্থা এবং স্থানীয় জননিরাপত্তা কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মেশিনের কার্যক্ষমতা, পুরস্কারের ওঠানামা এবং পরিচালনার সময়—সবকিছুই প্রশাসনিক নির্দেশনার মাধ্যমে নির্ধারিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ কাঠামো প্রকাশ্য রাজনৈতিক বিরোধিতার পরিবর্তে নীরব ও কারিগরি তদবিরকে উৎসাহিত করেছে। মেশিনের নিয়মের খুঁটিনাটি প্রভাবিত করতে বা নতুন বিধিনিষেধের গতি কমাতে আগ্রহী পরিচালনাকারীদের জন্য সংসদে এ বিষয়ে জ্ঞানসম্পন্ন একজন প্রতিনিধি পাওয়া আকর্ষণীয়।
পৃথক আইনের অধীনে অনুমোদিত সমন্বিত রিসোর্ট ক্যাসিনো প্রকল্পগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মনোযোগ ও রাজনৈতিক তৎপরতা কেড়েছে। পাচিনকো খাতের কেউ কেউ নতুন ক্যাসিনো রিসোর্টে গ্রাহক হারানোর আশঙ্কা করছেন। একই সময়ে তাঁদের মূল ব্যবসায়িক মডেলকে প্রভাবিত করে এমন আসক্তিবিরোধী বিধিনিষেধও কঠোর হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সহানুভূতিশীল কোনো আইনপ্রণেতা শিল্প খাতকে মানিয়ে নিতে সহায়তা করতে পারেন। ডেরুপারার ঘটনা দেখায়, প্রভাব বিস্তারের আকাঙ্ক্ষা কখন আইনি সীমা পেরিয়ে জবরদস্তি ও ব্যক্তিগত ব্যালটের সঙ্গে যুক্ত নগদ পুরস্কারে রূপ নেয়।
একনজরে
- ভোট কেনার আয়োজনের সন্দেহে ২৬ আগস্ট ডেরুপারা গ্রুপের ছয় নির্বাহীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
- পুলিশের ভাষ্য, এলডিপি প্রার্থী ইয়াসুহিসা আবেকে ভোট দিতে কর্মীদের ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার ইয়েন দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছিল।
- প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটের গোপনীয়তার নিয়ম লঙ্ঘন করে কর্মীদের বুথে ভোটের ছবি তুলতে বলা হয়েছিল।
- শিল্প খাতের একটি সমিতির চেয়ারম্যান আবে ৮৮ হাজারের বেশি ভোট পেলেও আসন জিততে পারেননি।
- সন্দেহভাজন প্রস্তাবটি দেশজুড়ে ২৫০ জনেরও বেশি কর্মীর কাছে পৌঁছেছিল কি না, তদন্তকারীরা তা খতিয়ে দেখছেন।
- পাচিনকো খাতে গ্রাহক কমছে, বিধিনিষেধ কঠোর হচ্ছে এবং বহু পারলার বন্ধ হয়ে গেছে।
- নির্বাচনী আইনে ভোটের বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব এবং চিহ্ন দেওয়া ব্যালট রেকর্ড করা নিষিদ্ধ।
- শিল্প খাতের তদবির ও অভ্যন্তরীণ নিয়ম মানা নিয়ে এ ঘটনা বিতর্ক তৈরি করেছে।






