‘GAY’ বিমানবন্দর কোড পরিবর্তনে ভারতের অস্বীকৃতি: বিতর্ক, প্রেক্ষাপট ও অস্বাভাবিক IATA কোড নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা

পড়তে 9 মিনিট
‘GAY’ বিমানবন্দর কোড পরিবর্তনে ভারতের অস্বীকৃতি: বিতর্ক, প্রেক্ষাপট ও অস্বাভাবিক IATA কোড নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা

ভারতের ‘GAY’ বিমানবন্দর কোড: কেন বিতর্কের জন্ম দিল এবং কেন এটি পরিবর্তন হবে না

বিহারের প্রাচীন শহর গয়ায় অবস্থিত ভারতের গয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এক অস্বাভাবিক বিতর্কের কেন্দ্রে এসে পড়েছে। আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (IATA) নির্ধারিত বিমানবন্দরটির তিন অক্ষরের কোড ‘GAY’ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন একজন সংসদ সদস্য। তাঁর ভাষায়, কোডটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে আপত্তিকর—বিশেষ করে এমন একটি শহরের জন্য, যা হিন্দু ও বৌদ্ধদের গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান হিসেবে সম্মানিত। এসব আপত্তি সত্ত্বেও ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে: কোডটি পরিবর্তন করা হবে না।

সূচিপত্র
  1. ভারতের ‘GAY’ বিমানবন্দর কোড: কেন বিতর্কের জন্ম দিল এবং কেন এটি পরিবর্তন হবে না
  2. বিতর্কের সূত্রপাত কীভাবে?
  3. IATA বিমানবন্দর কোড কী এবং এগুলো কীভাবে নির্ধারিত হয়?
  4. সামাজিক বা সাংস্কৃতিক কারণে কি বিমানবন্দরের কোড বদলানো যায়?
  5. কোড বদলানোর অনুরোধে কেন পাল্টা সমালোচনা শুরু হলো?
  6. কোডটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রমণকারীদের মনোভাব কী?
  7. শুধু গয়া নয়: অস্বাভাবিক বিমানবন্দর কোডের বিশ্ব
  8. এই বিতর্ক ভারতীয় সমাজ সম্পর্কে কী তুলে ধরে?
  9. এরপর কী?
  10. সংক্ষেপে

এই ঘটনা কেবল তিনটি অক্ষর নিয়ে নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বৈশ্বিক বিমান চলাচলের রীতি, ভাষার রাজনীতি, ভারতে LGBTQ+ মানুষের অধিকার এবং বিমানবন্দরের কোডের বিচিত্র জগৎ। বিতর্কটি, বিমানবন্দরের কোড নির্ধারণের নিয়ম এবং ভারত ও বিশ্বের ওপর এর বৃহত্তর প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

বিতর্কের সূত্রপাত কীভাবে?

ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সদস্য ভীম সিং ভারতের সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বিষয়টি তোলার পর বিতর্ক শুরু হয়। সিংয়ের যুক্তি, ‘GAY’ কোডটি “সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে আপত্তিকর এবং অস্বস্তিকর”, বিশেষ করে গয়ার মতো আধ্যাত্মিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি শহরের জন্য। তিনি সরকারকে জিজ্ঞাসা করেন, কোডটি নিয়ে কোনো অভিযোগ পেয়েছে কি না এবং এটি আরও “সম্মানজনক ও সাংস্কৃতিকভাবে উপযুক্ত” কোনো কোড দিয়ে বদলানোর কথা বিবেচনা করবে কি না।

গয়া ভারতের প্রাচীনতম ও পবিত্রতম শহরগুলোর একটি। হিন্দুদের কাছে এটি গুরুত্বপূর্ণ তীর্থস্থান; তাঁরা এখানে পূর্বপুরুষদের উদ্দেশে আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে আসেন। বৌদ্ধদের কাছেও এর গুরুত্ব অপরিসীম, কারণ কাছের বোধগয়ায় গৌতম বুদ্ধ বোধিলাভ করেছিলেন বলে বিশ্বাস করা হয়। বোধগয়ার মহাবোধি মন্দির ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থানের তালিকাভুক্ত, যা বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।

কোডটি নিয়ে সিংয়ের উদ্বেগ নতুন নয়। এর আগে এয়ার ইন্ডিয়া, এমনকি ২০২২ সালে একটি সংসদীয় কমিটিও কোডটি বদলানোর অনুরোধ জানিয়েছিল। তবে এবার বিষয়টি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মনোযোগ পেয়েছে এবং শুধু কোডটি নিয়েই নয়, বরং এটি ভারতীয় সমাজ সম্পর্কে কী ইঙ্গিত দেয়, তা নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে।

IATA বিমানবন্দর কোড কী এবং এগুলো কীভাবে নির্ধারিত হয়?

কোডটি কেন বদলানোর সম্ভাবনা কম, তা বুঝতে বিমানবন্দর কোড কীভাবে কাজ করে জানা জরুরি। কানাডার মন্ট্রিয়লভিত্তিক বৈশ্বিক বাণিজ্য সংস্থা আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা (IATA) বিশ্বজুড়ে বিমানবন্দরের জন্য তিন অক্ষরের কোড নির্ধারণ করে। বিমান সংস্থার কার্যক্রম, টিকিট বিক্রি, লাগেজ ব্যবস্থাপনা ও সরবরাহ কার্যক্রমে এসব কোড ব্যবহৃত হয়। যেমন, DEL হলো দিল্লির, BOM মুম্বাইয়ের এবং BLR বেঙ্গালুরুর কোড।

সাধারণত শহর বা অঞ্চলের নামের প্রথম তিনটি অক্ষর থেকে কোড তৈরি করা হয়। গয়ার ক্ষেত্রে ‘GAY’ ছিল স্বাভাবিক পছন্দ। ২০১১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে কোডটি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। সেদিন এয়ার ইন্ডিয়ার প্রথম নিয়মিত ফ্লাইট গয়া-বারাণসী-দিল্লি রুটে চলাচল শুরু করে। এরপর থেকে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের টিকিট, লাগেজের ট্যাগ এবং ফ্লাইটের সময়সূচিতে কোডটি ব্যবহৃত হয়েছে। এসব ফ্লাইটের মধ্যে ব্যাংকক, ইয়াঙ্গুন ও থিম্পু থেকে আসা ফ্লাইট এবং জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে আসা চার্টার ফ্লাইটও রয়েছে।

একবার নির্ধারিত হলে IATA কোডকে স্থায়ী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কেবল ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে—সাধারণত বিমান চলাচলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকলে—কোড বদলানো হয়। কোড নির্ধারণ ও পরিবর্তনের নিয়ম IATA Resolution 763-এ উল্লেখ রয়েছে। এর যুক্তি হলো, কোডগুলো বিমান সংস্থার বুকিং ব্যবস্থা, কার্গো ট্র্যাকিং ডেটাবেস এবং লাগেজ ব্যবস্থাপনার কার্যক্রমে গভীরভাবে যুক্ত। তাই কোড বদলানো ব্যয়বহুল এবং বাস্তবায়নে জটিল।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক বা সাংস্কৃতিক কারণে কি বিমানবন্দরের কোড বদলানো যায়?

কারিগরিভাবে বিমানবন্দরের কোড বদলানো সম্ভব, তবে এমনটা অত্যন্ত বিরল। IATA-র নির্দেশনা অনুযায়ী, কেবল কার্যক্রম বা নিরাপত্তার কারণে কোড বদলানো হয়। যেমন, কাছাকাছি ধরনের কোডের কারণে বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রণ বা লাগেজ পাঠানোর ক্ষেত্রে ভুল হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তা পরিবর্তন করা হতে পারে। সাংস্কৃতিক বা সামাজিক সংবেদনশীলতাকে সাধারণত কোড পরিবর্তনের যথেষ্ট কারণ হিসেবে ধরা হয় না।

এর ব্যতিক্রম ঘটেছে, তবে তা খুবই কম। উদাহরণস্বরূপ, বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন হলে বাল্টিমোরের কোড BAL থেকে BWI করা হয়। প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি হত্যাকাণ্ডের পর নিউইয়র্কের আইডলওয়াইল্ড বিমানবন্দরের নাম বদলে JFK রাখা হয়। আরও সম্প্রতি, কাজাখস্তানের রাজধানীর নাম পরিবর্তনের পর সেখানকার বিমানবন্দরের কোড TSE থেকে NQZ করা হয়। তবে সে প্রক্রিয়াতেও কয়েক বছর লেগেছে এবং পরিবর্তনের পক্ষে জোরালো যুক্তি দেখাতে হয়েছে।

গয়ার ক্ষেত্রে কোড বদলানোর অনুরোধ ভারত সরকার পেয়েছে; এয়ার ইন্ডিয়া এবং এয়ারপোর্টস অথরিটি অব ইন্ডিয়াও এ অনুরোধ জানিয়েছে। তবে IATA ধারাবাহিকভাবে বলেছে, কোডটি পরিবর্তনের মানদণ্ড পূরণ করে না। বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী মুরলীধর মোহল সংসদে এ কথা আবারও জানান। তিনি বলেন:

IATA-র অবস্থান কোডগুলোকে স্থায়ী হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং কেবল ব্যতিক্রমী পরিস্থিতিতে, সাধারণত বিমান চলাচলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগ থাকলে, সেগুলো পরিবর্তন করা হয়।

তিনি আরও বলেন, কোডগুলো মূলত বাণিজ্যিক বিমান সংস্থার কার্যক্রমের জন্য ব্যবহৃত হয় এবং সরকারের অনুরোধে নয়, বিমান সংস্থার পরিচালকদের অনুরোধে দেওয়া হয়।

কোড বদলানোর অনুরোধে কেন পাল্টা সমালোচনা শুরু হলো?

কিছু স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রমণকারী কোডটি নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করলেও, এটি বদলানোর অনুরোধ LGBTQ+ অধিকারকর্মী ও তাঁদের সমর্থকদের তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে। অনেকের মতে, আপত্তিটি প্রকৃত সাংস্কৃতিক উদ্বেগের চেয়ে সমকামীবিদ্বেষ থেকেই বেশি এসেছে।

বিশিষ্ট LGBTQ অধিকারকর্মী অরবিন্দ নারাইন যুক্তি দেন, কেউ LGBTQ মানুষকে আপত্তিকর মনে করলেই কেবল ‘gay’ শব্দটি আপত্তিকর হতে পারে। তিনি ২০১৮ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের কথা উল্লেখ করেন, যার মাধ্যমে ভারতে সমকামিতাকে অপরাধের আওতা থেকে বাদ দেওয়া হয় এবং কুইয়ার নাগরিকদের মর্যাদা ও সাংবিধানিক অধিকার স্বীকৃতি পায়। নারাইন বলেন:

আমাদের অনৈতিক বলে বর্ণনা করে ওই সদস্য সম্প্রদায়ের মর্যাদা কেড়ে নিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের মতে, ব্যক্তিগত নৈতিকতা নয়, সাংবিধানিক নৈতিকতাই এখানে প্রযোজ্য—এ কথা তাঁর জানা উচিত। তাঁর সম্প্রদায়ের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

অন্য অধিকারকর্মীরাও একই মত প্রকাশ করেছেন। তাঁদের যুক্তি, ‘gay’ শব্দটি নিয়ে অস্বস্তি প্রকৃত সাংস্কৃতিক অনুপযুক্ততার নয়, বরং গভীর প্রোথিত পক্ষপাতের প্রতিফলন। আরেক LGBTQ অধিকারকর্মী রাজেশ শ্রীনিবাস বলেন, কোডটিতে কোনো সমস্যা নেই; এড়িয়ে চলার বদলে অন্তর্ভুক্তির দিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত।

বিজ্ঞাপন

মানসিক স্বাস্থ্য ও বৈচিত্র্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞরাও মত দিয়েছেন। কাউন্সেলিং মনোবিজ্ঞানী শানমতী সেন্থিল কুমার বলেন, কোডটিকে “অনিরাপদ” বা “অনুপযুক্ত” হিসেবে তুলে ধরলে ক্ষতিকর গৎবাঁধা ধারণা আরও জোরালো হয় এবং কুইয়ার পরিচয় মুছে ফেলা উচিত—এমন বার্তা যায়। মনোচিকিৎসক বিদ্যা দিনাকরণ বলেন, এ ধরনের ঘটনা এড়িয়ে যাওয়ার বদলে অর্থবহ আলোচনার সূত্রপাত করা উচিত। কলঙ্কের মুখোমুখি হলেই প্রকৃত অগ্রগতি আসে, বিষয়টি ধামাচাপা দিলে নয়।

কোডটি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রমণকারীদের মনোভাব কী?

স্থানীয় বাসিন্দা ও ভ্রমণকারীদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। গয়ার কথাসাহিত্যিক সঞ্জয় সহায়ের মতো কেউ কেউ স্বীকার করেছেন, নিজের শহরে যাওয়ার বিমানের টিকিট বুক করার সময় তাঁদের বিব্রত লাগে। আবার অনেকে মনে করেন, বিতর্কটি অযথা বড় করে দেখা হচ্ছে; তাঁদের যুক্তি, কোডটি কেবল একটি ব্যবহারিক পরিচিতি, এর পেছনে গভীর কোনো অর্থ নেই।

অধিকাংশ ভ্রমণকারীর জন্য কোডটির কোনো কার্যকরী প্রভাব নেই। গয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনাকারী একটি সচল কেন্দ্র। বিশেষ করে ভারতকে শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের সঙ্গে যুক্ত করা বৌদ্ধ তীর্থযাত্রার রুটগুলোর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। ধর্মীয় পর্যটন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে বিমানবন্দরটির ভূমিকা কোডটির শব্দগত অর্থের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

কিছু ভাষ্যকারের মতে, কোডের প্রতীকী পরিবর্তনের বদলে বিমানবন্দরের অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থা উন্নত করার দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। এক ভ্রমণবিষয়ক কলাম লেখকের ভাষায়, “বরং বিষয়টি মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়াই ভালো: SUX-এ উড়ুন।”

শুধু গয়া নয়: অস্বাভাবিক বিমানবন্দর কোডের বিশ্ব

গয়াকে ঘিরে বিতর্কটি ব্যতিক্রমী নয়। বিশ্বের বিভিন্ন বিমানবন্দরের এমন কোড রয়েছে, যা ইংরেজি বা অন্য ভাষায় অদ্ভুত, হাস্যকর, এমনকি আপত্তিকরও মনে হতে পারে। এসব কোডের পেছনে প্রায়ই পুরোনো নামকরণ পদ্ধতি কাজ করে, অথবা নিবন্ধনের সময় পাওয়া প্রথম তিন অক্ষরের সমন্বয়টি বেছে নেওয়া হয়।

সবচেয়ে পরিচিত কয়েকটি উদাহরণ:

  • SUX – যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সিউক্স সিটির সিউক্স গেটওয়ে বিমানবন্দর
  • FUK – জাপানের ফুকুওকা বিমানবন্দর
  • PEE – রাশিয়ার পার্ম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর
  • POO – ব্রাজিলের পোস দে কালদাস বিমানবন্দর
  • LOL – যুক্তরাষ্ট্রের নেভাডা অঙ্গরাজ্যের ডার্বি ফিল্ড
  • OMG – নামিবিয়ার ওমেগা বিমানবন্দর
  • DIE – মাদাগাস্কারের আরাচার্ট বিমানবন্দর
  • BUM – যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যের বাটলার মেমোরিয়াল বিমানবন্দর
  • EEK – যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কার ইক বিমানবন্দর
  • YUM – যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ইউমা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর

কিছু শহর তাদের কোড পরিবর্তনের চেষ্টা করেছে, তবে প্রায়ই সফল হয়নি। উদাহরণ হিসেবে, ১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে এবং ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে সিউক্স সিটি SUX কোডটি বদলানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু অনুমতি পায়নি। শেষ পর্যন্ত শহরটি রসিকতামিশ্রিত প্রচারণায় ভ্রমণকারীদের “SUX-এ উড়ুন” বলে আহ্বান জানিয়ে কোডটি আপন করে নেয়।

বিজ্ঞাপন

যৌনতা বা অস্ত্রের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত বলে স্পষ্টভাবে আপত্তিকর মনে করা SEX বা GUN-এর মতো কিছু কোড IATA নিষিদ্ধ করেছে। তবে আরও অনেক কোড ব্যবহারে রয়ে গেছে। কোনো কোড পরিবর্তনের প্রক্রিয়া দীর্ঘ, এর পক্ষে জোরালো যুক্তি দেখাতে হয় এবং অনুমোদনও খুব কমই মেলে।

এই বিতর্ক ভারতীয় সমাজ সম্পর্কে কী তুলে ধরে?

গয়ার বিমানবন্দর কোড নিয়ে বিতর্কটি ভারতে ভাষা, পরিচয় ও অন্তর্ভুক্তি নিয়ে বৃহত্তর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। কোড না বদলানোর পেছনে সরকারের যুক্তি আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের নিয়ম হলেও, এই বিতর্ক ভারতীয় সমাজের কিছু অংশে LGBTQ+ পরিচয় নিয়ে রয়ে যাওয়া অস্বস্তি প্রকাশ করেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে LGBTQ+ অধিকারের ক্ষেত্রে ভারত কিছুটা অগ্রগতি করেছে। ২০১৮ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সমকামিতা অপরাধের আওতা থেকে বাদ পড়া ছিল একটি ঐতিহাসিক ঘটনা। গৃহহীন ট্রান্স মানুষের জন্য আশ্রয় কর্মসূচি সম্প্রসারণের মতো অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতীকী উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। তবে অধিকারকর্মীদের মতে, সমলিঙ্গের বিয়ের আইনি স্বীকৃতির মতো অর্থবহ সংস্কার এখনো অধরা। গয়ার কোড ঘিরে বিতর্কের মতো ঘটনাগুলোও দেখায়, সামাজিক গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে দেশের সামনে এখনো অনেক পথ বাকি।

অনেকের মতে, প্রকৃত সমস্যা বিমানবন্দর কোড নয়, বরং কোডটি ঘিরে যেসব মনোভাব প্রকাশ পেয়েছে সেগুলো। এক LGBTQ+ অধিকারকর্মীর ভাষায়, “এই বিতর্ক আরও বড় একটি আলোচনার কথা তুলে ধরে, যা ভারতকে এখনো করতে হবে—বিমানবন্দরের কোড নিয়ে নয়, বরং গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে।”

এরপর কী?

আপাতত গয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কোড ‘GAY’ অপরিবর্তিত থাকছে। সরকার স্পষ্ট করেছে, কোডটি পরিবর্তন করার ক্ষমতা তাদের নেই এবং সামাজিক বা সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে পরিবর্তনের অনুমতি IATA-র নিয়মে নেই। বিমান চলাচলের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত জোরালো কোনো সমস্যা না দেখা দিলে কোডটি বহাল থাকবে।

তবে বিতর্কটি থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। পরিচয়, অন্তর্ভুক্তি ও আধুনিকতার প্রশ্ন নিয়ে ভারতের আলোচনা চলতে থাকায়, আপাতদৃষ্টিতে তুচ্ছ কোনো বিষয়—যেমন বিমানবন্দরের একটি কোড—বৃহত্তর সামাজিক পরিবর্তনের প্রতীক হয়ে উঠতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সংক্ষেপে

  • ভারতের গয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের IATA কোড ‘GAY’। একজন আইনপ্রণেতা একে সামাজিক ও সাংস্কৃতিকভাবে আপত্তিকর বলার পর বিতর্কের সূত্রপাত হয়।
  • IATA-র নিয়মে কোড স্থায়ী এবং কেবল বিমান চলাচলের নিরাপত্তার কারণে পরিবর্তনযোগ্য—এই যুক্তিতে ভারত সরকার পরিবর্তনের অনুরোধ জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
  • LGBTQ+ অধিকারকর্মী ও তাঁদের সমর্থকেরা আপত্তিটিকে পক্ষপাতমূলক বলে সমালোচনা করেছেন। তাঁদের যুক্তি, ‘gay’ শব্দটি আপত্তিকর নয় এবং অন্তর্ভুক্তির দিকেই মনোযোগ দেওয়া উচিত।
  • ‘GAY’-এর মতো কোড অনন্য নয়; বিশ্বজুড়ে অনেক বিমানবন্দরের অস্বাভাবিক বা হাস্যকর কোড রয়েছে, আর পরিবর্তন করা বিরল ও কঠিন।
  • এই বিতর্ক ভারতীয় সমাজে ভাষা, পরিচয় ও গ্রহণযোগ্যতার বৃহত্তর প্রশ্নগুলো, বিশেষ করে LGBTQ+ অধিকার, সামনে এনেছে।
  • আপাতত কোডটি অপরিবর্তিত থাকছে; আর বিতর্কটি ভারতসহ বিশ্বের নানা স্থানে চলমান বৃহত্তর সামাজিক আলোচনা প্রতিফলিত করছে।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে