ভিয়েতনামের নাগরিকত্ব আইন সংস্কার: দ্বৈত নাগরিকত্ব ও দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন যুগ
প্রায় চার দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইনি ও নীতিগত সংস্কার কার্যক্রম শুরু করেছে ভিয়েতনাম। প্রবাসী ভিয়েতনামি এবং উচ্চদক্ষ বিদেশি পেশাজীবীদের আকৃষ্ট করতে নাগরিকত্ব আইনে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। ২০২৫ সালের জুনে জাতীয় পরিষদে পাস হওয়া সংশোধনীগুলো ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। নাগরিকত্ব, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বৈশ্বিক সম্পৃক্ততার ক্ষেত্রে দেশটির দৃষ্টিভঙ্গিতে এই পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।
সূচিপত্র
- ভিয়েতনামের নাগরিকত্ব আইন সংস্কার: দ্বৈত নাগরিকত্ব ও দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন যুগ
- ভিয়েতনামের নাগরিকত্ব আইনে কী পরিবর্তন এসেছে?
- ভিয়েতনাম এখন এই পরিবর্তনগুলো আনছে কেন?
- নতুন আইনে কারা উপকৃত হবেন?
- সুরক্ষা ও সীমাবদ্ধতা: জাতীয় নিরাপত্তা ও সরকারি দায়িত্ব
- বাস্তব প্রভাব: আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে নতুন সুযোগ
- বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনায় ভিয়েতনামের অবস্থান কোথায়?
- ধাপে ধাপে: নতুন আইনে ভিয়েতনামের নাগরিকত্বের আবেদন
- বৃহত্তর প্রভাব: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন ও জাতীয় পরিচয়
- সংক্ষেপে
এই সংস্কারগুলো কেবল প্রশাসনিক হালনাগাদ নয়—বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী জনগোষ্ঠী ও বিদেশি মেধাবীদের অভিজ্ঞতা এবং যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে ভিয়েতনামকে প্রতিযোগিতামূলক, উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে পরিণত করার কৌশলগত পদক্ষেপ। নতুন আইন নাগরিকত্ব পাওয়ার দীর্ঘদিনের বাধা দূর করছে, দ্বৈত নাগরিকত্বের ক্ষেত্রে নমনীয়তা আনছে এবং প্রযুক্তি ও উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পের আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত হওয়ার ভিয়েতনামের আকাঙ্ক্ষার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভিয়েতনামের নাগরিকত্ব আইনে কী পরিবর্তন এসেছে?
সংশোধিত আইনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে, যার ফলে প্রবাসী ভিয়েতনামি এবং বিদেশি নাগরিক—উভয়ের জন্যই ভিয়েতনামের নাগরিকত্ব পাওয়া সহজ হবে। উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- বেশির ভাগ আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়া, ফলে অনেক ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্ব রাখা যাবে।
- দক্ষ পেশাজীবী, বিনিয়োগকারী, বিজ্ঞানী এবং ভিয়েতনামি আত্মীয়স্বজন রয়েছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য ভাষাদক্ষতা ও ন্যূনতম বসবাসের শর্ত বাতিল।
- নামের নিয়ম শিথিল করা হয়েছে; আবেদনকারীরা এখন সরকারি নথিতে ভিয়েতনামি ও বিদেশি নামের সমন্বয় ব্যবহার করতে পারবেন।
- আবেদনপ্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে; এর মধ্যে ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ এবং বিদেশে ভিয়েতনামের দূতাবাসের মাধ্যমে আবেদনের সুযোগ রয়েছে।
- ভিয়েতনামের নাগরিকদের বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের জন্য বিশেষ ছাড়; তারা এখন বসবাস বা ভাষাদক্ষতার শর্ত ছাড়াই নাগরিকত্ব পেতে পারবেন।
এই পরিবর্তনগুলো বৃহত্তর সংস্কার কর্মসূচির অংশ। ওই কর্মসূচিতে বিনিয়োগবিধি, সরকারি কাঠামো এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নে সহায়ক নীতিরও পরিবর্তন রয়েছে।
ভিয়েতনাম এখন এই পরিবর্তনগুলো আনছে কেন?
ভিয়েতনামের নেতৃত্ব স্পষ্ট করেছে যে দেশটির ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি নির্ভর করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সেমিকন্ডাক্টরের মতো উচ্চপ্রযুক্তির খাতে উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতায় সক্ষমতার ওপর। তবে এসব ক্ষেত্রে সর্বাধুনিক পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন স্থানীয় মেধাবীর ঘাটতি রয়েছে বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। অনেক ভিয়েতনামি পরিবার তাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য বিদেশে পাঠায়, আর এসব তরুণের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বিদেশেই থেকে গুগল, মেটা, আইবিএম ও মাইক্রোসফটের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন।
প্রবাসী ভিয়েতনামিবিষয়ক রাষ্ট্রীয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ১৩০টি দেশ ও অঞ্চলে প্রায় ৬০ লাখ ভিয়েতনামি বসবাস করেন, যাঁদের ৮০ শতাংশই উন্নত দেশগুলোতে রয়েছেন। এই প্রবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিপুল জ্ঞান, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ রয়েছে, যা কাজে লাগাতে এখন সক্রিয়ভাবে উদ্যোগ নিচ্ছে ভিয়েতনাম।
দেশটির শীর্ষ নেতা, সাধারণ সম্পাদক তো লাম সম্প্রতি টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এই দৃষ্টিভঙ্গির ওপর জোর দেন:
আমি প্রবাসী ভিয়েতনামিদের আহ্বান জানাই, তাঁরা যেন নিজেদের মাতৃভূমি ও জাতীয় শিকড়ের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন, একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ ও সহযোগিতা করেন এবং দেশে থাকা মানুষের সঙ্গে মিলে শক্তিশালী ভিয়েতনাম গড়তে অবদান রাখেন। মাতৃভূমি সব সময়ই 'দূর মাতৃভূমিতে থাকা নাগরিকদের' স্বাগত জানাতে হাত বাড়িয়ে রেখেছে, যাতে তাঁরা দেশের গঠন ও উন্নয়নে একযোগে কাজ করতে পারেন।
জনসংখ্যাগত চাপেরও জবাব এই সংস্কার। ভিয়েতনামের জনসংখ্যা বয়স্ক হচ্ছে এবং শ্রমশক্তির সরবরাহ সংকুচিত হচ্ছে। প্রবাসী ভিয়েতনামি ও দক্ষ বিদেশিদের দেশে ফেরা সহজ করে সরকার কর্মশক্তি বাড়ানো, উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করা এবং ২০৪৫ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার আশা করছে।
নতুন আইনে কারা উপকৃত হবেন?
সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনটি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গোষ্ঠীর জন্য বিশেষভাবে উপযোগী:
- প্রবাসী ভিয়েতনামি: যাঁরা ভিয়েতনামের নাগরিকত্ব হারিয়েছেন বা আনুষ্ঠানিকভাবে কখনো ত্যাগ করেননি, তাঁরা এখন আরও সহজে নাগরিকত্ব ফিরে পেতে পারবেন। পূর্বপুরুষের পরিচয়ের প্রমাণ হিসেবে আরও বিস্তৃত ধরনের নথি গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া, যাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে নাগরিকত্ব ত্যাগ করেননি, তাঁদের নাগরিকত্ব রয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে এবং দূতাবাসের মাধ্যমে তা নিশ্চিত করা যাবে।
- বিদেশি পেশাজীবী, বিনিয়োগকারী ও বিজ্ঞানী: ভিয়েতনামের উন্নয়ন বা প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন কিংবা বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, সংস্কৃতি বা স্বাস্থ্যসেবার মতো ক্ষেত্রে অসাধারণ দক্ষতা রয়েছে—এমন ব্যক্তিরা এখন বসবাস, ভাষাদক্ষতা ও আর্থিক স্বনির্ভরতার শর্ত থেকে অব্যাহতি পাবেন।
- ভিয়েতনামের নাগরিকদের বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তান: এসব আবেদনকারী এখন ভিয়েতনামে বসবাস, ভাষাদক্ষতা প্রমাণ বা আর্থিক সামর্থ্য দেখানো ছাড়াই নাগরিকত্বের যোগ্য হবেন। এই পরিবর্তনে আরও বেশি পরিবার ভিয়েতনামে বসতি স্থাপন করে দেশটির উন্নয়নে অবদান রাখতে উৎসাহিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আবেদনকারীরা এখন বিদেশে ভিয়েতনামের কূটনৈতিক মিশনের মাধ্যমে নথি জমা দিতে পারবেন। আবেদনপ্রক্রিয়া আরও ডিজিটাল ও সহজ করার কাজ করছে সরকার।
সুরক্ষা ও সীমাবদ্ধতা: জাতীয় নিরাপত্তা ও সরকারি দায়িত্ব
নতুন আইনটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হলেও জাতীয় নিরাপত্তা ও জনপ্রশাসন-সংশ্লিষ্ট সংবেদনশীল পদগুলোর ক্ষেত্রে কঠোর নিয়ম বজায় রেখেছে। সশস্ত্র বাহিনী বা সাংকেতিক তথ্য-সংক্রান্ত সংস্থায় কর্মরত ব্যক্তিদের এবং কমিউনিস্ট পার্টি, রাষ্ট্রীয় সংস্থা বা গণসংগঠনে পদে থাকা ব্যক্তিদের শুধু ভিয়েতনামের নাগরিকত্ব থাকতে হবে এবং ভিয়েতনামে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে হবে। বিদেশি আগ্রাসন ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের দীর্ঘ ইতিহাসের কারণে জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে ভিয়েতনামের দীর্ঘদিনের উদ্বেগই এ নিয়মে প্রতিফলিত হয়েছে।
রাষ্ট্রের জন্য উপকারী বলে বিবেচিত হলে এবং জাতীয় স্বার্থের ক্ষতি না হলে, প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে পর্যালোচনা করে একক নাগরিকত্বের নিয়মে ছাড় দেওয়া হতে পারে। এসব ছাড়ের বিষয়ে আগামী কয়েক মাসের মধ্যে সরকার আরও নির্দেশনা দেবে।
বাস্তব প্রভাব: আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে নতুন সুযোগ
এই সংস্কারের আগে ভিয়েতনামে বসবাসরত দ্বৈত নাগরিক ও বিদেশিরা নানা প্রশাসনিক জটিলতা ও বিধিনিষেধের মুখে পড়তেন। এর মধ্যে ছিল:
- কঠোর ভিসার শর্ত এবং দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের সীমিত সুযোগ
- আবাসন সম্পত্তির মালিকানা ও ব্যাংকিং সেবায় বিধিনিষেধ
- ব্যাংক হিসাব খোলা, গৃহঋণ পাওয়া বা সুবিধাজনক সুদের হার পাওয়ার জটিল প্রক্রিয়া
- নাগরিকত্বের আবেদনে পুরোপুরি ভিয়েতনামি নাম গ্রহণের বাধ্যবাধকতা
নতুন আইন এসব সমস্যার অনেকগুলোর সমাধান করছে, ফলে দক্ষ ব্যক্তিদের জন্য ভিয়েতনামে বসবাস, কাজ ও বিনিয়োগ করা সহজ হবে। উদাহরণস্বরূপ, আবেদনকারীরা এখন মিশ্র নাম ব্যবহার করতে পারবেন। নির্দিষ্ট কিছু ধাপ ডিজিটাল ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করাসহ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও সহজ করার অঙ্গীকারও করেছে সরকার।
বিচারমন্ত্রী নগুয়েন হাই নিন এই পরিবর্তনের কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন:
দক্ষ পেশাজীবী, বিজ্ঞানী, বিনিয়োগকারী এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে এমন বিশেষজ্ঞদের আকৃষ্ট করে মেধা আনা ও জাতীয় উন্নয়ন জোরদার করাই এই সংস্কারের লক্ষ্য।
তবে আইনটি আরও স্পষ্ট করেছে, নাগরিকত্বের আবেদন প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত—বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তার কারণে নেওয়া সিদ্ধান্ত—চূড়ান্ত এবং এর বিরুদ্ধে অভিযোগ বা মামলা করা যাবে না। এভাবে এসব বিষয়ে ভিয়েতনামের সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনায় ভিয়েতনামের অবস্থান কোথায়?
দক্ষ অভিবাসীদের আকৃষ্ট করা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য প্রবাসী জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানোর বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে ভিয়েতনামের নাগরিকত্ব আইন শিথিল করার পদক্ষেপ সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে বিশেষ করে সরকারি কর্মকর্তা ও জাতীয় নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট পদে দ্বৈত নাগরিকত্বের প্রশ্নে ভিয়েতনামের দৃষ্টিভঙ্গি এখনো সতর্কতামূলক। সংবেদনশীল পদে একক নাগরিকত্বের সাংবিধানিক নীতি পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি সাধারণ জনগণের জন্য বেশি নমনীয়তার সুযোগ দিয়েছে আইনটি।
রেজোলিউশন ৫৭-এ বর্ণিত 'বিশেষ ব্যবস্থার' মাধ্যমে নাগরিকত্ব দেওয়ার বিধান চালু করে ভিয়েতনাম ইঙ্গিত দিচ্ছে যে আধুনিক, বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত অর্থনীতির প্রয়োজন মেটাতে তারা আইনি কাঠামো মানিয়ে নিতে প্রস্তুত। এতে নাগরিকত্বের পাশাপাশি বাড়ি ও জমির মালিকানার অধিকার, আকর্ষণীয় বেতন এবং দেশে ফেরা ব্যক্তি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ধাপে ধাপে: নতুন আইনে ভিয়েতনামের নাগরিকত্বের আবেদন
সংশোধিত আইনে ভিয়েতনামের নাগরিকত্বের আবেদনপ্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। প্রক্রিয়াটির সাধারণ ধাপগুলো হলো:
- আপনার যোগ্যতা যাচাই করুন: বংশপরিচয়, ভিয়েতনামের জন্য অবদান বা পারিবারিক সম্পর্কের ভিত্তিতে আপনি যোগ্য কি না নির্ধারণ করুন।
- প্রয়োজনীয় নথি সংগ্রহ করুন: বংশপরিচয়ের প্রমাণ (পারিবারিক বই, জন্মসনদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নথি বা কমিউনিটির চিঠি), বৈধ পাসপোর্ট এবং অপরাধমূলক রেকর্ডের সনদ সংগ্রহ করুন।
- উপযুক্ত আবেদনপথ বেছে নিন: ভিয়েতনামি বংশোদ্ভূত পরিচয় নিশ্চিত করা, নতুন নাগরিকত্বের আবেদন করা অথবা আগে ত্যাগ করা নাগরিকত্ব পুনরুদ্ধার করা।
- আবেদন জমা দিন: বিদেশে ভিয়েতনামের দূতাবাসে অথবা ভিয়েতনামের বিচার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করুন। অনুবাদ ও নোটারি করা কপির প্রয়োজন হতে পারে।
- সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করুন: পূর্ণাঙ্গ আবেদনপত্র গৃহীত হলে লক্ষ্য অনুযায়ী প্রক্রিয়াকরণে ২-৩ সপ্তাহ লাগবে।
- অনুমোদনের পরের ধাপগুলো সম্পন্ন করুন: পরিচয়পত্র বা নাগরিক নিবন্ধন সংগ্রহ করুন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য আইনি নথি হালনাগাদ করুন।
বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত বিষয়গুলো পরবর্তী সরকারি ডিক্রির মাধ্যমে পরিবর্তিত হতে পারে। বিস্তারিত নির্দেশনার জন্য আবেদনকারীদের সরকারি সূত্র বা আইনজীবীর পরামর্শ নিতে উৎসাহিত করা হচ্ছে।
বৃহত্তর প্রভাব: অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, উদ্ভাবন ও জাতীয় পরিচয়
নাগরিকত্ব আইনের সংস্কার ভিয়েতনামের অর্থনীতি ও সমাজকে রূপান্তরের বৃহত্তর কৌশলের একটি ভিত্তিপ্রস্তর। প্রবাসী ভিয়েতনামি ও দক্ষ বিদেশিদের জন্য বাধা কমিয়ে দেশটির লক্ষ্য:
- অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা এবং উৎপাদন থেকে উদ্ভাবনের দিকে অগ্রসর হয়ে মূল্য সংযোজনের স্তর বাড়ানো
- তরুণ ও উচ্চশিক্ষিত কর্মশক্তিকে আকৃষ্ট করে জনসংখ্যাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা
- বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করে ভূরাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করা
- বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ব্যবসায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো
একই সঙ্গে আইনটি উন্মুক্ততা ও জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে সতর্ক ভারসাম্য বজায় রাখার প্রতিফলন। এতে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ ভিয়েতনামের প্রতি একান্ত আনুগত্যশীল নাগরিকদের হাতেই রাখা হয়েছে।
সংক্ষেপে
- ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর ভিয়েতনামের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রবাসী ভিয়েতনামি ও দক্ষ বিদেশি কর্মীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বাধা দূর করেছে।
- আইনটি অনেক ক্ষেত্রে দ্বৈত নাগরিকত্বের সুযোগ দেয়, যোগ্য আবেদনকারীদের জন্য ভাষা ও বসবাসের শর্ত বাতিল করে এবং নাম-সংক্রান্ত নিয়ম শিথিল করে।
- বিশেষ বিধানে ভিয়েতনামের নাগরিকদের বিদেশি স্বামী বা স্ত্রী ও সন্তান এবং দেশটির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তিরা উপকৃত হবেন।
- জাতীয় নিরাপত্তার উদ্বেগের কারণে সরকারের সংবেদনশীল ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট পদে একক নাগরিকত্বের কঠোর নিয়ম বহাল রয়েছে।
- বৈশ্বিক মেধা আকৃষ্ট করা, উদ্ভাবন এগিয়ে নেওয়া এবং ২০৪৫ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের দেশের মর্যাদা অর্জনের বৃহত্তর কৌশলের অংশ এই সংস্কার।
- বিদেশে বসবাসকারী আবেদনকারীদের দূতাবাসের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি আবেদনপ্রক্রিয়া সহজ ও ডিজিটাল করা হচ্ছে।
- বৈশ্বিক মেধার প্রতি উন্মুক্ততার সঙ্গে জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার সুরক্ষার ভারসাম্য রাখছে ভিয়েতনামের এই উদ্যোগ।






