প্রসাধনী রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে দক্ষিণ কোরিয়া: বিশ্বমঞ্চে কে-বিউটির উত্থান

পড়তে 7 মিনিট
Cosmeservice - K-beauty, the paradigm of Korean beauty

প্রসাধনী রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে দক্ষিণ কোরিয়া: কে-বিউটির নতুন যুগ

বিশ্বের সৌন্দর্যশিল্পে ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জন করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে দেশটি এখন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রসাধনী রপ্তানিকারক, শীর্ষে রয়েছে শুধু ফ্রান্স। কে-বিউটি পণ্যের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা এবং বৃহত্তর ‘হাল্লিউ’ (কোরীয় ঢেউ) প্রবণতার সুবাদে এই অসাধারণ উত্থান আন্তর্জাতিক প্রসাধনীর বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যাসোসিয়েশন (কেআইটিএ) এবং খাদ্য ও ওষুধ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসাধনী রপ্তানি হয়েছে ৩৬১ কোটি ডলারের, যা একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫৭ কোটি ডলারের রপ্তানিকে সামান্য ছাড়িয়ে গেছে। সৌন্দর্যপণ্য রপ্তানিতে দক্ষিণ কোরিয়ার যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম। এ অর্জন খাতটিতে দেশটির ক্রমবর্ধমান প্রভাবেরই প্রতিফলন।

সূচিপত্র
  1. প্রসাধনী রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে দক্ষিণ কোরিয়া: কে-বিউটির নতুন যুগ
  2. কীভাবে এই মাইলফলকে পৌঁছাল দক্ষিণ কোরিয়া?
  3. কে-বিউটির উত্থানের পেছনে কী আছে?
  4. নতুন বাজারে কৌশলগত সম্প্রসারণ
  5. বৈশ্বিক সৌন্দর্যশিল্পে প্রভাব
  6. সামনের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ
  7. শিল্পের প্রতিক্রিয়া ও বাজারে প্রভাব
  8. বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: কে-বিউটি ও হাল্লিউ ঢেউ
  9. সংক্ষেপে

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রসাধনীশিল্পের দ্রুত প্রবৃদ্ধি শুধু সংখ্যার গল্প নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে উদ্ভাবন, সাংস্কৃতিক প্রভাব ও কৌশলগতভাবে বাজার সম্প্রসারণ। একসময় সীমিত পরিসরের প্রবণতা হিসেবে দেখা কে-বিউটি এখন বৈশ্বিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এটি ভোক্তাদের পছন্দে পরিবর্তন আনছে এবং দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে।

কীভাবে এই মাইলফলকে পৌঁছাল দক্ষিণ কোরিয়া?

প্রসাধনী রপ্তানির তালিকায় দক্ষিণ কোরিয়ার উত্থান ছিল অভাবনীয় দ্রুত। ২০২৪ সালে দেশটির প্রসাধনী রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়ায় ১ হাজার ৩০ কোটি ডলার। জার্মানির ৯০৮ কোটি ডলারের রপ্তানিকে ছাড়িয়ে ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক হয় দক্ষিণ কোরিয়া। ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি যথাক্রমে ৬.৩% ও ১.১% হারে সামান্য বাড়লেও দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় বেড়েছে উল্লেখযোগ্য ২০.৩%। ২০২৫ সালেও এই গতি অব্যাহত রয়েছে। মাসভিত্তিক রপ্তানি জানুয়ারির ৭৫ কোটি ৮ লাখ ডলার থেকে বেড়ে এপ্রিলে ১০৩ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

পণ্যভিত্তিক হিসাবে, সাধারণ ত্বক-পরিচর্যার পণ্য রপ্তানিতে এগিয়ে ছিল; মোট রপ্তানির মধ্যে এ খাতের অবদান ৭৬৭ কোটি ডলার। এরপর ছিল মেকআপ পণ্য, ১৩৫ কোটি ডলার, এবং ক্লিনজিং পণ্য, ৪৭ কোটি ডলার। উল্লেখযোগ্যভাবে, ক্লিনজিং পণ্যের প্রবৃদ্ধি ছিল সবচেয়ে বেশি—আগের বছরের তুলনায় ৩০.৭%। কে-বিউটির বৈশিষ্ট্য হিসেবে পরিচিত বহু ধাপের ত্বক-পরিচর্যার রুটিন এবং উদ্ভাবনী ক্লিনজিং পণ্যের প্রতি বৈশ্বিক ভোক্তাদের আগ্রহের প্রতিফলন এতে দেখা যায়।

বিজ্ঞাপন

দক্ষিণ কোরিয়ার রপ্তানি প্রবৃদ্ধি শুধু প্রচলিত বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়। কোরীয় প্রসাধনীর বৃহত্তম আমদানিকারক এখনো চীন; মোট রপ্তানির ২৪.৫% বা প্রায় ২৫০ কোটি ডলার যায় দেশটিতে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্র ১৯০ কোটি ডলারের কোরীয় প্রসাধনী আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৫৭% বেশি। জাপানের আমদানি বেড়েছে ২৯.২%, প্রথমবারের মতো ছাড়িয়েছে ১০০ কোটি ডলারের সীমা। হংকং, ভিয়েতনাম, রাশিয়া ও তাইওয়ানও গুরুত্বপূর্ণ বাজার। ২০২৪ সালে শীর্ষ ১০ আমদানিকারকের তালিকায় উঠে এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতও।

কে-বিউটির উত্থানের পেছনে কী আছে?

কে-বিউটির বৈশ্বিক সাফল্যের পেছনে পরস্পর-সম্পর্কিত কয়েকটি কারণ রয়েছে:

  • উদ্ভাবন ও পণ্য উন্নয়ন: দ্রুত পণ্য উন্নয়ন, উদ্ভাবনী ফর্মুলা এবং জিনসেং, চালের পানি ও শামুকের মিউসিনের মতো বিশেষ প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহারের জন্য কোরীয় সৌন্দর্য ব্র্যান্ডগুলো পরিচিত। ধারাবাহিক উদ্ভাবন ভোক্তাদের আগ্রহ ধরে রাখে এবং নতুন পণ্য ব্যবহারে উৎসাহিত করে।
  • সাংস্কৃতিক প্রভাব: কে-পপ, কে-ড্রামা ও কোরীয় ফ্যাশনসহ ‘হাল্লিউ’ ঢেউ কোরীয় সৌন্দর্যপণ্যের পরিচিতি ও আকর্ষণ অনেক বাড়িয়েছে। কোরীয় বিনোদনের ভক্তরা প্রায়ই প্রিয় তারকাদের নিখুঁত ত্বক ও ফ্যাশনেবল সাজ অনুকরণ করতে চান; এতে বিশ্বজুড়ে কে-বিউটি পণ্যের চাহিদা বাড়ে।
  • সাশ্রয়ী দাম ও সহজলভ্যতা: ইউরোপের বিলাসবহুল ব্র্যান্ডের তুলনায় কোরীয় প্রসাধনী সাধারণত মান অক্ষুণ্ণ রেখেই বেশি সাশ্রয়ী। এই মূল্যসুবিধার সঙ্গে কার্যকর বিপণন ও বিতরণ কৌশল যুক্ত হয়ে কে-বিউটিকে বিশ্বজুড়ে বিস্তৃত ক্রেতাদের নাগালে এনেছে।
  • অন্তর্ভুক্তি ও বৈচিত্র্য: বিভিন্ন ত্বকের রঙের উপযোগী নানা শেড ও পণ্য এনে কোরীয় ব্র্যান্ডগুলো অন্তর্ভুক্তির বৈশ্বিক আহ্বানে সাড়া দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ৪০টি শেডে পাওয়া যায় এমন কুশন ফাউন্ডেশনের জন্য টিকটকে ভাইরাল হয়েছিল টিরটির ব্র্যান্ডটি; এতে অনেক প্রচলিত ব্র্যান্ডের তুলনায় আরও বিস্তৃত ক্রেতাগোষ্ঠীর চাহিদা পূরণ হয়।
  • সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল বিপণন: ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কে-বিউটির জনপ্রিয়তা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। ইনফ্লুয়েন্সার ও সৌন্দর্যপণ্যের অনুরাগীরা টিউটোরিয়াল, পর্যালোচনা ও পণ্যের সুপারিশ শেয়ার করেন। এতে ভাইরাল প্রবণতা তৈরি হয় এবং বিশ্বজুড়ে চাহিদা বাড়ে।

নতুন বাজারে কৌশলগত সম্প্রসারণ

কোরীয় প্রসাধনীর বৃহত্তম বাজার এখনো চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান। তবে দক্ষিণ কোরীয় ব্র্যান্ডগুলো ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের উদীয়মান বাজারেও ক্রমে নজর দিচ্ছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পোল্যান্ডে রপ্তানি ১২১% বেড়ে ১১ কোটি ১৮ লাখ ডলারে পৌঁছেছে; এক বছর আগে যা ছিল ৫ কোটি ৪ লাখ ডলার। একই সময়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে রপ্তানি ৭৪% বেড়ে হয়েছে ৯ কোটি ৯৩ লাখ ডলার। এসব পরিসংখ্যান কোরীয় সৌন্দর্য ব্র্যান্ডগুলোর অভিযোজনক্ষমতা ও বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা তুলে ধরে।

শিল্পসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, পণ্যে উদ্ভাবন, সাংস্কৃতিক অনুরণন এবং কৌশলগত অংশীদারত্বের সমন্বয়েই এ সাফল্য এসেছে। নির্দিষ্ট বাজারের পছন্দ অনুযায়ী পণ্য সাজাতে কোরীয় কোম্পানিগুলো প্রায়ই স্থানীয় পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কাজ করে। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রে কোরীয় ব্র্যান্ডগুলো বয়সের ছাপ কমানোর সিরাম ও সানস্ক্রিনের মতো কার্যকর ত্বক-পরিচর্যার পণ্যে জোর দিয়েছে। অন্যদিকে, জাপানে কে-পপের ধারা থেকে অনুপ্রাণিত উজ্জ্বল রঙের মেকআপ তরুণ ভোক্তাদের আকৃষ্ট করছে।

বিজ্ঞাপন

বৈশ্বিক সৌন্দর্যশিল্পে প্রভাব

প্রসাধনী রপ্তানির তালিকায় দক্ষিণ কোরিয়ার উত্থান বৈশ্বিক সৌন্দর্যশিল্পে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। যুক্তরাষ্ট্রে কোরীয় সৌন্দর্যপণ্য এখন আমদানিকৃত প্রসাধনীর শীর্ষে; এমনকি ফ্রান্সের নামী ব্র্যান্ডগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটিতে কোরীয় প্রসাধনী রপ্তানির পরিমাণ ছিল ১৭০ কোটি ডলার, যেখানে ফ্রান্সের ছিল ১২৬ কোটি ডলার। ভোক্তাদের পছন্দে পরিবর্তনের প্রতিফলন এটি: যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতারা ক্রমেই উদ্ভাবনী, কার্যকর ও সাশ্রয়ী ত্বক-পরিচর্যার সমাধান খুঁজছেন।

কে-বিউটির প্রভাব শুধু পণ্য বিক্রিতে সীমাবদ্ধ নয়। পণ্য উন্নয়ন, বিপণন ও ভোক্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে কোরীয় ব্র্যান্ডগুলো নতুন মানদণ্ড তৈরি করছে। নতুন উপাদান, টেক্সচার ও প্যাকেজিং নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষার আগ্রহ বিশ্বজুড়ে প্রতিযোগীদেরও উদ্ভাবন ও পরিবর্তনে অনুপ্রাণিত করেছে। দ্রুত পণ্য বাজারে ছাড়া এবং প্রবণতানির্ভর পণ্য দেওয়ার বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ‘ফাস্ট বিউটি’ মডেলটি শিল্পের পরিচিত বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে। কসম্যাক্স ও কোলমার কোরিয়ার মতো চুক্তিভিত্তিক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান খরচ কম রাখা ও উৎপাদন দ্রুত সামলাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সামনের চ্যালেঞ্জ ও সুযোগ

চিত্তাকর্ষক প্রবৃদ্ধি সত্ত্বেও কোরীয় প্রসাধনীশিল্প বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে। একসময় রপ্তানি প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি চীনা বাজারে কোরীয় পণ্যের অংশ ২০২৩ সালের ৩২.৮% থেকে কমে ২০২৪ সালে ২৪.৫% হয়েছে। এর একটি কারণ চীনের স্থানীয় ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা বেড়ে যাওয়া এবং ভোক্তাদের পছন্দের পরিবর্তন। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে কোরীয় কোম্পানিগুলো রপ্তানির গন্তব্যে বৈচিত্র্য আনছে এবং বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তামান পূরণে নিয়ন্ত্রক বিধিবিধান মেনে চলায় বিনিয়োগ করছে।

দ্রুত সম্প্রসারণের মধ্যে পণ্যের মান ও উদ্ভাবন ধরে রাখাও আরেকটি চ্যালেঞ্জ। আরও বেশি ব্র্যান্ড বাজারে প্রবেশ করায় এবং প্রতিযোগিতা তীব্র হওয়ায় ভোক্তাদের আস্থা ও ব্র্যান্ডের প্রতি আনুগত্য ধরে রাখা ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। পণ্যের মান এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতে নিয়ন্ত্রক কূটনীতি ও বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্পটিকে সহায়তার অঙ্গীকার করেছে কোরীয় সরকার।

খাদ্য ও ওষুধ নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ওহ ইউ-কিয়ং সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরে বলেন:

রপ্তানি প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নিয়ন্ত্রক কূটনীতির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করবে মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মানের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়াতেও আমরা সহায়তা করব।
বিজ্ঞাপন

শিল্পের প্রতিক্রিয়া ও বাজারে প্রভাব

প্রসাধনী রপ্তানিতে দক্ষিণ কোরিয়ার যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে যাওয়ার খবরে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ জুন কোলমার কোরিয়া, অ্যামোরপ্যাসিফিক, এপিআর, কসম্যাক্সসহ বড় কোরীয় প্রসাধনী কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম বেড়ে ৫২ সপ্তাহের নতুন সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছায়। সৌন্দর্যবিষয়ক যন্ত্রপাতি নির্মাতা কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখা যায়, যা এ খাতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনায় বিনিয়োগকারীদের আস্থার প্রতিফলন।

শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে কোরীয় প্রসাধনীর অব্যাহত জনপ্রিয়তা ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি। যুক্তরাষ্ট্রে নতুন উৎপাদনকেন্দ্র স্থাপন ও খুচরা বিক্রির পরিসর বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়ে কোরীয় ব্র্যান্ডগুলো ক্রমবর্ধমান চাহিদা কাজে লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। ল’রিয়ালের মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান কোরীয় কোম্পানি অধিগ্রহণের দিকে নজর দিচ্ছে বলে খবর রয়েছে, যা শিল্পটির বৈশ্বিক আকর্ষণ আরও নিশ্চিত করে।

বৃহত্তর প্রেক্ষাপট: কে-বিউটি ও হাল্লিউ ঢেউ

কোরীয় প্রসাধনীর সাফল্যকে বৃহত্তর সাংস্কৃতিক প্রবণতা হাল্লিউ ঢেউ থেকে আলাদা করে দেখা যায় না। কে-পপ, কে-ড্রামা ও কোরীয় ফ্যাশনের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তা সৌন্দর্যপণ্য প্রচারের শক্তিশালী ক্ষেত্র তৈরি করেছে। তারকাদের পণ্যের প্রচার, নাটকের সঙ্গে পণ্যের সংযোগ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভাইরাল প্রচার—সবই কে-বিউটিকে বৈশ্বিক প্রবণতার পথপ্রদর্শক করে তুলতে ভূমিকা রেখেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ২০১১ সালের দিকে বিবি ক্রিম ও অন্যান্য উদ্ভাবনী পণ্য বাজারে আসার মধ্য দিয়ে কে-বিউটির যাত্রা জোরদার হয়। এরপর বাজার দ্রুত বিকশিত হয়েছে। এখন কোরীয় ব্র্যান্ডগুলো বিভিন্ন ভোক্তার চাহিদা অনুযায়ী বিস্তৃত পরিসরের ত্বক-পরিচর্যা ও মেকআপ পণ্য সরবরাহ করছে। প্রাকৃতিক উপাদান, কোমল ফর্মুলা ও বহু ধাপের রুটিনের ওপর গুরুত্ব কার্যকর এবং আনন্দদায়ক সৌন্দর্যচর্চার অভিজ্ঞতা খোঁজা ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংক্ষেপে

  • যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে দক্ষিণ কোরিয়া এখন ফ্রান্সের পর বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রসাধনী রপ্তানিকারক।
  • ২০২৪ সালে কোরীয় প্রসাধনী রপ্তানি হয়েছে ১ হাজার ৩০ কোটি ডলারের; ২০২৫ সালেও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
  • উদ্ভাবন, সাংস্কৃতিক প্রভাব, সাশ্রয়ী দাম, অন্তর্ভুক্তি ও কার্যকর ডিজিটাল বিপণন কে-বিউটির সাফল্যের চালিকাশক্তি।
  • চীন, যুক্তরাষ্ট্র, জাপান এবং ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের উদীয়মান বাজারগুলো গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্য।
  • যুক্তরাষ্ট্রে আমদানিকৃত প্রসাধনীর শীর্ষে উঠে এসেছে কোরীয় সৌন্দর্যপণ্য, ফ্রান্সকেও ছাড়িয়ে।
  • চীনের বাজারে পরিবর্তন এবং দ্রুত প্রবৃদ্ধির মধ্যে পণ্যের মান ধরে রাখার মতো চ্যালেঞ্জ রয়েছে এ শিল্পের সামনে।
  • নিয়ন্ত্রক কূটনীতি ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের মাধ্যমে শিল্পটিকে সহায়তা করছে কোরীয় সরকার।
  • কে-বিউটির উত্থান বৈশ্বিক ভোক্তাদের পছন্দের বৃহত্তর পরিবর্তন এবং বিশ্বজুড়ে কোরীয় সংস্কৃতির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের প্রতিফলন।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে