ভিয়েতনামের জাতীয় পরিষদে বড় ধরনের সংস্কার অনুমোদন: বিনা টিউশনে পড়াশোনা ও কৃষিজমির কর অব্যাহতি
ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে ভিয়েতনামের জাতীয় পরিষদ (এনএ) সর্বসম্মতিতে এমন একগুচ্ছ প্রস্তাব গ্রহণ করেছে, যার আওতায় সরকারি স্কুলের সব শিক্ষার্থীর টিউশন ফি মওকুফ এবং কৃষিজমির কর অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হবে। ১৫তম জাতীয় পরিষদের নবম অধিবেশনে পাস হওয়া এসব সিদ্ধান্ত দেশটির শিক্ষা ও কৃষি খাতের চেহারা বদলে দেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে লাখ লাখ ভিয়েতনামি পরিবার ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
সূচিপত্র
- ভিয়েতনামের জাতীয় পরিষদে বড় ধরনের সংস্কার অনুমোদন: বিনা টিউশনে পড়াশোনা ও কৃষিজমির কর অব্যাহতি
- নতুন প্রস্তাবগুলোতে কী রয়েছে?
- টিউশন ফি মওকুফ: কারা কীভাবে উপকৃত হবে?
- সর্বজনীন প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা: দেশজুড়ে সুযোগ নিশ্চিতের লক্ষ্য
- কেন এসব নীতিকে রূপান্তরকারী বলে মনে করা হচ্ছে?
- শিক্ষায় বৈষম্য মোকাবিলা
- কৃষিজমির কর অব্যাহতির মেয়াদ বাড়ানো: কৃষক ও গ্রামীণ উন্নয়নে সহায়তা
- এসব নীতির অর্থায়ন কীভাবে হবে?
- বৃহত্তর আইন প্রণয়ন প্রেক্ষাপট: আর্থসামাজিক সংস্কারের উদ্যোগ
- সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
- সংক্ষেপে
আইনপ্রণেতাদের প্রায় সর্বসম্মত সমর্থন পাওয়া প্রস্তাবগুলো সামাজিক ন্যায়বিচার, টেকসই উন্নয়ন এবং ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে সহায়তার বিষয়ে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন। ভিয়েতনামের উন্নয়নের নতুন পর্যায়ে সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং আর্থসামাজিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার বৃহত্তর আইন প্রণয়ন কর্মসূচিরও অংশ এগুলো।
নতুন প্রস্তাবগুলোতে কী রয়েছে?
জাতীয় পরিষদের সাম্প্রতিক অধিবেশনে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পাস হয়েছে:
- ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত সরকারি স্কুলের সব শিক্ষার্থীর টিউশন ফি মওকুফ।
- ৩–৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সর্বজনীন প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশব্যাপী নির্ধারিত মান অর্জনের লক্ষ্য।
- কৃষিজমি ব্যবহারের কর অব্যাহতির মেয়াদ ২০৩০ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো।
পরিবারের আর্থিক চাপ কমানো, শিক্ষায় সমতা বাড়ানো এবং ভিয়েতনামের অর্থনীতির দীর্ঘদিনের মেরুদণ্ড হিসেবে বিবেচিত কৃষি খাতকে সহায়তা করার লক্ষ্যেই এসব নীতি নেওয়া হয়েছে।
টিউশন ফি মওকুফ: কারা কীভাবে উপকৃত হবে?
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, কিন্ডারগার্টেন থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি স্কুলে পড়া সব শিক্ষার্থীর টিউশন ফি মওকুফ করা হবে। বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও টিউশন ফি বাবদ সহায়তা পাবে। সহায়তার পরিমাণ স্থানীয় কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে, তবে তা বেসরকারি স্কুলের প্রকৃত টিউশন ফির বেশি হবে না।
এই পদক্ষেপে দেশজুড়ে আনুমানিক ২ কোটি ৩০ লাখ প্রাক্-প্রাথমিক ও সাধারণ শিক্ষার শিক্ষার্থী উপকৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। টিউশন ফি মওকুফ বাস্তবায়নে ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য সরকার আনুমানিক ৩০ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং (প্রায় ১২০ কোটি মার্কিন ডলার) বরাদ্দ করেছে। পরবর্তী বছরগুলোর জন্যও অতিরিক্ত তহবিল রাখা হয়েছে।
শিক্ষা ও প্রশিক্ষণমন্ত্রী নুয়েন কিম সন নীতিটির জরুরিতা ও মানবিক দিকের ওপর জোর দিয়ে বলেন, সংশোধিত শিক্ষা আইনে এটি অন্তর্ভুক্ত করা উচিত ছিল। তবে অবিলম্বে কার্যকর করা নিশ্চিত করতে আলাদা একটি প্রস্তাব পাস করা হয়েছে, যাতে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই নীতিটি চালু করা যায়।
আইনপ্রণেতা ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা এ পদক্ষেপের ব্যাপক প্রশংসা করেছেন। তাঁদের মতে, এটি শহর ও গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি বিভিন্ন আর্থসামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে শিক্ষার সুযোগের ব্যবধান কমাতে পারে। জাতিগত সংখ্যালঘু এবং পাহাড়ি বা দুর্গম অঞ্চলের পরিবারসহ সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য নীতিটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
সর্বজনীন প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা: দেশজুড়ে সুযোগ নিশ্চিতের লক্ষ্য
দ্বিতীয় প্রস্তাবে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩–৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সর্বজনীন প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। এ সময়সীমার মধ্যে সব প্রদেশ ও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত শহরকে নির্ধারিত মান পূরণ করতে হবে। এ কর্মসূচির অর্থায়ন মূলত রাষ্ট্র করবে; আইনি বিধান অনুযায়ী সামাজিক উৎস থেকেও অতিরিক্ত অবদান আসবে।
প্রতিটি এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি করা হবে, যাতে আইনে নির্ধারিত সর্বজনীন শিক্ষার সব শর্ত পূরণ হয়। নীতিটি সফল করতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, অবকাঠামোয় বিনিয়োগ এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন আইনপ্রণেতারা।
বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়েও সংসদ সদস্যরা আলোচনা করেন। কেউ কেউ ভালোভাবে প্রস্তুতির সুযোগ দিতে কিছুটা দেরির প্রস্তাব দেন। তবে ইতিবাচক প্রভাব সর্বোচ্চ করতে টিউশন ফি মওকুফ যত দ্রুত সম্ভব কার্যকর করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়।
কেন এসব নীতিকে রূপান্তরকারী বলে মনে করা হচ্ছে?
টিউশন ফি মওকুফ এবং সর্বজনীন প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা চালুর সিদ্ধান্তকে দেশের উন্নয়নের প্রয়োজনের প্রতি গভীর মানবিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নীতিগুলোর ফলে:
- কোভিড-১৯ মহামারি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে বিশেষ করে লাখ লাখ পরিবারের আর্থিক চাপ কমবে।
- সরকারি ও বেসরকারি স্কুলের পাশাপাশি শহর ও গ্রামের মধ্যে ন্যায্যতা বাড়বে।
- শিক্ষার আর্থিক বাধা দূর হয়ে আরও ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে উঠবে।
- দক্ষ ও প্রতিযোগিতামূলক ভবিষ্যৎ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলার ভিত্তি তৈরি হবে।
হ্যানয়ের সংসদ সদস্য ত্রুয়ং সুয়ান কু বলেন, টিউশন ফি মওকুফ নীতির লক্ষ্য পুরোপুরি বাস্তবায়নে সরকারি স্কুলগুলোর উচিত অতিরিক্ত ক্লাস বা সম্পূরক সেবার মতো অন্যান্য ফি আদায় সীমিত রাখা।
শিক্ষায় বৈষম্য মোকাবিলা
গত কয়েক দশকে ভিয়েতনাম শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। তবে বিশেষ করে দুর্গম এলাকা ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের মধ্যে বৈষম্য রয়ে গেছে। নতুন প্রস্তাবগুলোর লক্ষ্য এসব ব্যবধান কমানো, যাতে পটভূমি যা-ই হোক, সব শিশু মানসম্মত শিক্ষা পাওয়ার অধিকার পায়।
মন্ত্রী নুয়েন কিম সনসহ অন্যান্য কর্মকর্তা দেশের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য পূরণ এবং তরুণ প্রজন্মের যত্ন নেওয়ার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে এসব নীতির গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন।
আইনপ্রণেতাদের ঐকমত্যের কথা তুলে ধরে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণমন্ত্রী নুয়েন কিম সন বলেন:
"এটি সঠিক, সময়োপযোগী ও গভীরভাবে মানবিক একটি নীতি, যা দেশের টেকসই উন্নয়নের প্রয়োজন পূরণ করে।"
কৃষিজমির কর অব্যাহতির মেয়াদ বাড়ানো: কৃষক ও গ্রামীণ উন্নয়নে সহায়তা
শিক্ষা সংস্কারের পাশাপাশি জাতীয় পরিষদ কৃষিজমি ব্যবহারের কর অব্যাহতি ২০৩০ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবও পাস করেছে। কয়েক বছর ধরে চালু থাকা এই নীতির ফলে কৃষকেরা বছরে আনুমানিক ৭ হাজার ৫০০ বিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং (প্রায় ৩০ কোটি মার্কিন ডলার) সাশ্রয় করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রের কাছ থেকে কৃষিকাজের জন্য জমি পাওয়া পরিবার ও ব্যক্তিরা যে কৃষিজমি ব্যবহার করেন, সেই জমিতে এ কর অব্যাহতি প্রযোজ্য হবে। উত্তরাধিকার, উপহার বা জমি ব্যবহারের অধিকার হস্তান্তরের মাধ্যমে পাওয়া জমিও এর আওতায় পড়বে। কৃষি উৎপাদনে সরাসরি যুক্ত অর্থনৈতিক সংস্থা, রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংস্থাকে বরাদ্দ দেওয়া জমিও এর অন্তর্ভুক্ত।
অর্থমন্ত্রী নুয়েন ভান থাং এ নীতিকে কৃষকদের সরাসরি সহায়তা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর মতে, এটি কৃষি খাত, গ্রামীণ এলাকা এবং কৃষকদের নিজেদের মধ্যে বিনিয়োগ। এ অব্যাহতিতে:
- উৎপাদনের পরিসর বাড়বে এবং পণ্যের মান ও উৎপাদনশীলতার উন্নতি হবে।
- কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং গ্রামীণ এলাকার জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
- দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে উৎসাহ জোগাবে এবং কৃষি অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন এগিয়ে নেবে।
অর্থনীতি ও অর্থবিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ফান ভান মাই জোর দিয়ে বলেন, ভূমিসংক্রান্ত করের বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে কর অব্যাহতির প্রভাব মূল্যায়ন করা প্রয়োজন, যাতে তা সংশোধিত ভূমি আইন এবং দেশের উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
কৃষিজমির মালিক হয়েও তা অনাবাদি রাখা বা উৎপাদনশীল কাজে ব্যবহার না করার জন্য শাস্তির মতো পদক্ষেপ নিয়ে এ নীতির অপব্যবহার ঠেকানোর আহ্বানও জানিয়েছেন আইনপ্রণেতারা।
এসব নীতির অর্থায়ন কীভাবে হবে?
উচ্চাভিলাষী এসব নীতি বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সম্পদ প্রয়োজন। নতুন উদ্যোগগুলোতে সহায়তার জন্য সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ বাজেট পরিকল্পনা তুলে ধরেছে:
- টিউশন ফি মওকুফ ও সহায়তার জন্য আনুমানিক বার্ষিক বাজেট প্রায় ৩০ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং। ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য বরাদ্দ ২২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডং; পলিটব্যুরোর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নীতিটি পুরোপুরি বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ৮ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডং রাখা হয়েছে।
- সর্বজনীন প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার অর্থায়ন আসবে রাষ্ট্রীয় বাজেট ও সামাজিক অবদান থেকে। স্থানীয় পরিস্থিতির ভিত্তিতে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের রূপরেখা থাকবে।
- কৃষিজমির কর অব্যাহতি বিদ্যমান নীতিরই ধারাবাহিকতা। বর্তমান কর-রেয়াত ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হচ্ছে বলে এতে রাষ্ট্রের বর্তমান রাজস্ব কমবে না।
এসব নীতির জন্য ২০২৫ সালের রাষ্ট্রীয় বাজেটেও প্রয়োজনীয় সমন্বয় অনুমোদন করেছে জাতীয় পরিষদ। এর মধ্যে রয়েছে আগের বছরগুলোর অব্যবহৃত তহবিল পুনর্বণ্টন এবং অপচয় বা অব্যবস্থাপনা এড়াতে ব্যয়ের মানদণ্ড কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করা।
বৃহত্তর আইন প্রণয়ন প্রেক্ষাপট: আর্থসামাজিক সংস্কারের উদ্যোগ
১৫তম জাতীয় পরিষদের নবম অধিবেশনে গৃহীত বৃহত্তর আইন প্রণয়ন কর্মসূচির অংশ এসব প্রস্তাব। প্রাতিষ্ঠানিক বাধা দূর করা, সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং ভিয়েতনামের আর্থসামাজিক উন্নয়নে নতুন গতি সঞ্চারে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন আইনপ্রণেতারা।
অধিবেশনে পাস হওয়া অন্যান্য উল্লেখযোগ্য আইন ও প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে ভূমি আইনের সংশোধন, ঋণপ্রতিষ্ঠান ও দরপত্রসংক্রান্ত আইনের সংশোধন এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার নতুন নীতি। স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের সহায়তার ওপর গুরুত্ব দিয়ে এ অধিবেশনকে ভিয়েতনামের আইন প্রণয়নের ইতিহাসে একটি মোড় পরিবর্তনকারী পর্যায় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
নীতিগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, দায়িত্বের সুস্পষ্ট বণ্টন এবং তদারকি ব্যবস্থা জোরদারের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন সংসদ সদস্যরা। অগ্রগতি ও ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের। আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে বাস্তবায়ন কার্যক্রম নিরীক্ষা করবে রাষ্ট্রীয় নিরীক্ষা দপ্তর।
সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
নতুন নীতিগুলো ব্যাপকভাবে স্বাগত পেলেও সফল বাস্তবায়নে সতর্ক পরিকল্পনা ও সমন্বয় প্রয়োজন। প্রধান চ্যালেঞ্জগুলো হলো:
- সর্বজনীন প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও শিক্ষক নিশ্চিত করা।
- কৃষিজমির কর অব্যাহতির অপব্যবহার নজরদারি ও প্রতিরোধ করা।
- বড় পরিসরে টিউশন ফি মওকুফের রাজস্বগত প্রভাব সামাল দেওয়া এবং টেকসই অর্থায়ন নিশ্চিত করা।
- স্থানীয় পরিস্থিতির উপযোগী বাস্তবায়নের জন্য কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় করা।
নতুন সমস্যা মোকাবিলা এবং সমাজের সব অংশের কাছে প্রত্যাশিত সুফল পৌঁছানো নিশ্চিত করতে নীতিগুলোর নিয়মিত মূল্যায়ন ও সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছেন আইনপ্রণেতারা।
সংক্ষেপে
- ভিয়েতনামের জাতীয় পরিষদ সরকারি স্কুলের সব শিক্ষার্থীর টিউশন ফি মওকুফ এবং কৃষিজমির কর অব্যাহতি ২০৩০ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর যুগান্তকারী প্রস্তাব পাস করেছে।
- টিউশন ফি মওকুফে প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ শিক্ষার্থী উপকৃত হবে। ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে এটি চালু হবে এবং বাস্তবায়নে সরকার উল্লেখযোগ্য তহবিল বরাদ্দ করেছে।
- ৩–৫ বছর বয়সী শিশুদের জন্য সর্বজনীন প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা ২০৩০ সালের মধ্যে দেশব্যাপী নিশ্চিত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে; সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর সমতা ও সুযোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- কৃষিজমির কর অব্যাহতিতে কৃষকদের বছরে আনুমানিক ৩০ কোটি মার্কিন ডলার সাশ্রয় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষি উৎপাদনশীলতায় সহায়তা করবে।
- ভিয়েতনামে সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে বৃহত্তর আইন প্রণয়ন উদ্যোগের অংশ এসব নীতি।
- প্রত্যাশিত সব উপকারভোগীর কাছে সুফল পৌঁছাতে সতর্ক পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং শক্তিশালী তদারকি প্রয়োজন।






