ভূমিকা: জলবায়ুনেতাদের নতুন প্রজন্ম
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ে এক নতুন প্রজন্মের নেতার আবির্ভাব ঘটছে—তরুণ, উদ্যমী ও পরিবর্তন আনতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন থাইল্যান্ডের জলবায়ুকর্মী আমিন্তা পারমপুনউইয়াত। স্কুলের বিতর্ক ক্লাব থেকে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাঁর যাত্রা তরুণদের নেতৃত্বে পরিবর্তন আনার শক্তিরই উদাহরণ। আমিন্তার গল্প শুধু পরিবেশ সুরক্ষার পক্ষে কাজ করার নয়; শিক্ষা যে রূপান্তর ঘটাতে পারে এবং জলবায়ু ও সামাজিক সংকটের মুখে নারীর ক্ষমতায়ন যে জরুরি, তারও প্রমাণ।
সূচিপত্র
- ভূমিকা: জলবায়ুনেতাদের নতুন প্রজন্ম
- বিতর্ক ক্লাব থেকে জলবায়ু আন্দোলনে
- ইয়ুথ মেন্টরশিপ প্রজেক্ট: শিক্ষা ও জলবায়ু কার্যক্রমের সেতুবন্ধ
- আন্তর্জাতিক মঞ্চে থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব
- জলবায়ু পরিবর্তন ও লিঙ্গবৈষম্য: পরস্পর জড়িত সংকট
- শিক্ষার মাধ্যমে মেয়েদের ক্ষমতায়ন
- বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও চলমান প্রচার
- যোগাযোগ ও তরুণ নেতৃত্বের শক্তি
- জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারী ও মেয়েরা
- চ্যালেঞ্জ ও সামনের পথ
- সারসংক্ষেপ
বিতর্ক ক্লাব থেকে জলবায়ু আন্দোলনে
আমিন্তার জলবায়ু আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার শুরু স্কুলের বিতর্ক ক্লাবে, যেখানে তিনি প্রথম বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জটিলতা সম্পর্কে জানতে পারেন। বিতর্কের চর্চায় তাঁর গবেষণা ও জনসমক্ষে কথা বলার দক্ষতা বাড়লেও, শিগগিরই তিনি বুঝতে পারেন, শুধু আলোচনা দিয়ে জলবায়ু সংকটের ব্যাপকতা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এই হতাশাই তাঁকে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে এবং পরিবর্তন আনার আরও সরাসরি উপায় খুঁজতে প্রেরণা জোগায়।
কমিউনিটির সেবায় তাঁর প্রথম উদ্যোগ ছিল স্যাটারডে স্কুলের মাধ্যমে। এই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তরুণদের থাইল্যান্ডের বিভিন্ন স্কুলে পড়াতে পাঠায়। তবে আমিন্তা একটি গুরুতর ঘাটতি লক্ষ করেন: পাঠ্যক্রমে জলবায়ু শিক্ষা প্রায় অনুপস্থিত। পরবর্তী প্রজন্মকে জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে জ্ঞান দেওয়ার গুরুত্ব বুঝে তিনি নিজেই উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
ইয়ুথ মেন্টরশিপ প্রজেক্ট: শিক্ষা ও জলবায়ু কার্যক্রমের সেতুবন্ধ
আমিন্তা প্রতিষ্ঠা করেন ইয়ুথ মেন্টরশিপ প্রজেক্ট (YMP), তরুণদের পরিচালিত একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে উচ্চবিদ্যালয়ের স্বেচ্ছাসেবীরা থাইল্যান্ডের গ্রামীণ এলাকার শিশুদের জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও সহনশীলতা সম্পর্কে পড়ান। প্রকল্পটির পদ্ধতি একই সঙ্গে উদ্ভাবনী ও সহমর্মিতাপূর্ণ: সমবয়সীদের মধ্যে শেখার সুযোগ তৈরি করে এবং জটিল বিষয়গুলো তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য সহজবোধ্য ও আকর্ষণীয় করে তোলে।
YMP-এর মাধ্যমে আমিন্তা ও তাঁর দল এক হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছেছেন। মূলধারার শিক্ষাসংস্কারে প্রায়ই উপেক্ষিত কমিউনিটিগুলোর ওপর তাঁরা বিশেষ গুরুত্ব দেন। প্রকল্পটিতে জলবায়ু শিক্ষার সঙ্গে STEAM (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল, শিল্পকলা ও গণিত) বিষয়গুলো যুক্ত করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা জলবায়ু পরিবর্তনের পেছনের বিজ্ঞান বোঝার পাশাপাশি সমালোচনামূলক চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও অর্জন করে।
পরামর্শদাতা ও শিক্ষক হিসেবে কাজের অভিজ্ঞতা গ্রামীণ এলাকার শিশুদের, বিশেষত মেয়েদের, নানা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে আমিন্তাকে বিশেষ অন্তর্দৃষ্টি দিয়েছে। তাদের অনেকেই কৃষক পরিবারের সন্তান। খরা বা বন্যার সময় বাড়িতে কাজে সাহায্যের প্রয়োজন হওয়ায় তারা প্রায়ই স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। এসব অভিজ্ঞতা পরিবেশগত ও সামাজিক বৈষম্য—দুই সমস্যারই সমাধানে তাঁর অঙ্গীকার আরও দৃঢ় করেছে।
আন্তর্জাতিক মঞ্চে থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব
২০২১ সালে আমিন্তার নেতৃত্ব ও অধিকার আদায়ের প্রচেষ্টা স্বীকৃতি পায়; জাতিসংঘের Youth4Climate কর্মসূচিতে থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিদের একজন হিসেবে তাঁকে বেছে নেওয়া হয়। ইতালির মিলানে অনুষ্ঠিত জলবায়ুবিষয়ক যুব সম্মেলনে ১৮৬টিরও বেশি দেশের প্রায় ৪০০ তরুণ নেতার সঙ্গে তিনি যোগ দেন। সেখানে বিশ্বনেতাদের সামনে Pre-COP 26 জলবায়ু সম্মেলনে উপস্থাপনের জন্য যুব ইশতেহারের খসড়া তৈরিতে সহায়তা করেন তিনি।
উচ্চপর্যায়ের এসব ফোরামে তাঁর অংশগ্রহণ থাই তরুণদের কণ্ঠকে আরও জোরালো করেছে এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার তরুণদের বিশেষ চ্যালেঞ্জগুলোর প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। আমিন্তার বক্তৃতা ও বিতর্ককে চিন্তার উদ্রেককারী ও প্রভাবশালী বলা হয়েছে; দেশে ও বিদেশে—দুই জায়গার শ্রোতাদের কাছেই তা সাড়া ফেলেছে। তিনি ECOSOC Youth Forum-এও থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন এবং নিরাপদ পানীয় জল ও পয়োনিষ্কাশনের মানবাধিকারবিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদকের যুব উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন।
জলবায়ু পরিবর্তন ও লিঙ্গবৈষম্য: পরস্পর জড়িত সংকট
জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট নারী-পুরুষের ওপর সমান প্রভাব ফেলে না। এর প্রভাব নারী ও মেয়েদের ওপর অসমভাবে বেশি পড়ে—বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, যেখানে তারা প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বেশি নির্ভরশীল এবং শিক্ষা ও অর্থনৈতিক সুযোগে তাদের প্রবেশাধিকার কম। থাইল্যান্ডে প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য ও সাংস্কৃতিক রীতিনীতি প্রায়ই ছেলেদের শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়, বিশেষত পরিবারের আর্থিক টানাপোড়েনের সময়। গ্রামীণ এলাকার মেয়েদের পরিবারকে সহায়তার জন্য স্কুল ছাড়ার ঝুঁকি থাকে, যা দারিদ্র্যের চক্রকে দীর্ঘায়িত করে এবং তাদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে সীমিত করে।
আমিন্তা এসব বাধা নিজের চোখে দেখেছেন। সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবী শিক্ষক হিসেবে তিনি দেখেছেন, কীভাবে মেয়েরা সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় এবং শিক্ষা কীভাবে পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে। মেয়েদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করতে, নিজেদের আগ্রহ খুঁজে পেতে এবং চিরাচরিত লৈঙ্গিক ভূমিকার বাইরে ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে তিনি বিশেষ কিছু প্রকল্প শুরু করেন।
শিক্ষার মাধ্যমে মেয়েদের ক্ষমতায়ন
নারীর ক্ষমতায়নে আমিন্তার দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তি হলো এই বিশ্বাস যে শিক্ষা অপরিহার্য। তিনি মেয়েদের বোঝাতে কাজ করেন, শিক্ষা শুধু কোনো লক্ষ্য অর্জনের উপায় নয়; এটি আত্ম-অনুসন্ধান, স্বাধীনতা ও সামাজিক অগ্রগতির পথও। অর্থনৈতিক বা পরিবেশগত প্রতিকূলতার মুখেও স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার দীর্ঘমেয়াদি সুফল তাঁর পরামর্শদান কর্মসূচিগুলোতে গুরুত্ব পায়।
শিক্ষার মাধ্যমে কী কী সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে তা বুঝতে পেরে মেয়েদের চোখে যে “ঝিলিক” দেখা যায়, তার কথা তিনি স্মরণ করেন। আদর্শ ব্যক্তিত্ব ও বাস্তব সহায়তা দিয়ে আমিন্তা মেয়েদের পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে বাধা দেয় এমন প্রতিবন্ধকতা দূর করতে চান। থাই মেয়েদের প্রতি তাঁর বার্তা স্পষ্ট: নিজের ওপর আস্থা রাখো, কী চাও তা জানো এবং দৃঢ়তার সঙ্গে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলো। তাঁর বিশ্বাস, নারীরা সহনশীল ও শক্তিশালী; সুযোগ পেলে তারা সফল হতে পারে।
বৈশ্বিক স্বীকৃতি ও চলমান প্রচার
আমিন্তার কাজ নজর এড়ায়নি। ভ্যান্ডারবিল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরস স্কলারশিপ পেয়েছেন তিনি। নেতৃত্বের অসাধারণ গুণ এবং বৈচিত্র্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারে অঙ্গীকারের স্বীকৃতি হিসেবে নতুন স্নাতক শিক্ষার্থীদের ১ শতাংশেরও কমকে এই বৃত্তি দেওয়া হয়। রাজা রামা নবম প্রবর্তিত রয়্যাল স্টুডেন্ট অ্যাওয়ার্ডে সম্মানিত হয়েছেন তিনি। পাশাপাশি তাঁকে ডিস্টিংগুইশড স্পিকার এবং Women of the World-এর Young Leader 2023 হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
তাঁর অধিকার আদায়ের প্রচেষ্টা থাইল্যান্ডের বাইরেও বিস্তৃত। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) বিষয়ক জাতিসংঘের যুব উপদেষ্টা বোর্ডের সদস্য হিসেবে আমিন্তা জলবায়ু কার্যক্রম, লিঙ্গসমতা ও মানবাধিকার নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনায় অবদান রাখেন। জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে তিনি সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উন্নয়নের প্রসারে নিজের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে চলেছেন।
যোগাযোগ ও তরুণ নেতৃত্বের শক্তি
আমিন্তার প্রভাবের কেন্দ্রে রয়েছে যোগাযোগের শক্তির ওপর তাঁর বিশ্বাস। জাতীয় বিতর্ক দলের সাবেক সদস্য ও গল্প বলায় উৎসাহী মানুষ হিসেবে তিনি বোঝেন, সচেতনতা বাড়ানোই কেবল প্রথম ধাপ—বাস্তব পরিবর্তনের জন্য জ্ঞানকে কাজে রূপ দিতে হয়। তরুণদের তিনি নিজেদের শক্তির জায়গাগুলো খুঁজে বের করে তা দিয়ে পরিবর্তন আনতে উৎসাহিত করেন, প্রাথমিক পদক্ষেপ যত ছোটই মনে হোক না কেন।
আমিন্তা বলেছেন, “আমরা প্রত্যেকেই অসংখ্য উপায়ে পৃথিবীকে বাঁচাতে পারি। উপলব্ধিকে কাজে রূপ দেওয়াই চ্যালেঞ্জ। ছোট ছোট কাজ একত্র হলে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।” তরুণদের ক্ষমতায়নের ওপর তাঁর জোর জলবায়ু আন্দোলনের বৃহত্তর প্রবণতারই প্রতিফলন, যেখানে তরুণ নেতারা ক্রমেই সামাজিক আন্দোলন ও নীতিনির্ধারণী প্রচেষ্টার সামনের সারিতে আসছেন।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন নারী ও মেয়েরা
আমিন্তার গল্প বৃহত্তর এক বৈশ্বিক আন্দোলনের অংশ। বিশ্বজুড়ে নারী ও মেয়েরা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়া ও তা প্রশমনের উদ্যোগ নিচ্ছেন, টেকসই উন্নয়নমূলক কর্মসূচির নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং জলবায়ু কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে লিঙ্গসমতার পক্ষে কথা বলছেন। জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তোলা ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থা স্বীকার করেছে।
তানজানিয়া থেকে কিউবা, মরক্কো থেকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা—বিভিন্ন দেশে নারীরা গতানুগতিক ধারণা ভেঙে নতুন দক্ষতা অর্জন করছেন এবং নিজেদের কমিউনিটিতে পরিবর্তনের কারিগর হয়ে উঠছেন। সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় তাঁদের অংশগ্রহণ এবং শিক্ষা ও প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার কার্যকর জলবায়ু মোকাবিলার জন্য অপরিহার্য। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যেমন জোর দিয়ে বলেছেন, নারীর ক্ষমতায়ন শুধু ন্যায়বিচারের বিষয় নয়, জলবায়ু সংকট মোকাবিলার একটি কৌশলগত অপরিহার্যতাও।
চ্যালেঞ্জ ও সামনের পথ
উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। লিঙ্গবৈষম্য, মানসম্মত শিক্ষায় প্রবেশাধিকারের অভাব এবং নীতিনির্ধারণে সীমিত প্রতিনিধিত্ব জলবায়ু কার্যক্রমে নারী ও মেয়েদের পূর্ণ অংশগ্রহণে বাধা হয়ে আছে। থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশে সাংস্কৃতিক রীতিনীতি ও অর্থনৈতিক চাপ মেয়েদের পড়াশোনা ছেড়ে দিতে বাধ্য করতে পারে, যা তাদের ব্যক্তিগত বিকাশ এবং টেকসই উন্নয়নের বৃহত্তর লক্ষ্য—দুই ক্ষেত্রেই বাধা সৃষ্টি করে।
আমিন্তার কাজ পদ্ধতিগত পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। জলবায়ু পরিবর্তন ও লিঙ্গবৈষম্য মোকাবিলায় সরকার, নাগরিক সমাজ ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। নীতিগত সমাধানে বৈষম্যের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করতে হবে, শিক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে এবং তরুণদের—বিশেষত মেয়েদের—নেতৃত্ব ও উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
সারসংক্ষেপ
- আমিন্তা পারমপুনউইয়াত থাইল্যান্ডের একজন বিশিষ্ট তরুণ জলবায়ুকর্মী ও নারী ক্ষমতায়নের প্রবক্তা; তাঁর কাজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
- স্কুলের বিতর্ক ক্লাবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়। পরে তিনি ইয়ুথ মেন্টরশিপ প্রজেক্ট প্রতিষ্ঠা করেন, যা গ্রামীণ এলাকার শিশুদের জলবায়ু সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন সম্পর্কে শিক্ষা দেয়।
- জাতিসংঘের Youth4Climate কর্মসূচি ও ECOSOC Youth Forum-সহ বড় বড় আন্তর্জাতিক ফোরামে তিনি থাইল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
- জলবায়ু পরিবর্তন ও লিঙ্গবৈষম্যের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর তিনি জোর দেন এবং মেয়েদের ক্ষমতায়ন ও জলবায়ু সহনশীলতা গড়ে তোলার চাবিকাঠি হিসেবে শিক্ষার পক্ষে কথা বলেন।
- আমিন্তার গল্প জলবায়ু কার্যক্রমে নেতৃত্বদানকারী নারী ও মেয়েদের বৈশ্বিক আন্দোলনের অংশ। তবে লিঙ্গসমতা ও কার্যকর জলবায়ু মোকাবিলা নিশ্চিত করতে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
- তরুণদের, বিশেষত মেয়েদের প্রতি তাঁর বার্তা হলো নিজের ওপর বিশ্বাস রাখা, শিক্ষা গ্রহণ করা এবং ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে নিজেদের অনন্য শক্তি কাজে লাগানো।






