মালয়েশিয়ার নগর চলাচলের চ্যালেঞ্জ: যাত্রার শুরু ও শেষ ধাপের সমস্যা
মালয়েশিয়ার বড় শহরগুলো, বিশেষ করে ক্লাং ভ্যালি ও পেনাংয়ে, দীর্ঘদিন ধরে যানজট ও গণপরিবহনে কম যাত্রী ব্যবহারের সমস্যায় ভুগছে। লাইট রেল ট্রানজিট (LRT), মাস র্যাপিড ট্রানজিট (MRT) এবং বাস নেটওয়ার্কে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ সত্ত্বেও, নিয়মিত গণপরিবহন ব্যবহার করেন মালয়েশিয়ার মাত্র প্রায় ২৫ শতাংশ মানুষ। প্রতিবেশী সিঙ্গাপুরে এ হার ৬৭ শতাংশ। এর অন্যতম প্রধান কারণ হলো যাত্রার “শুরু ও শেষ ধাপের” দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা: বাড়ি থেকে গণপরিবহনের স্টেশনে এবং স্টেশন থেকে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর অসুবিধা। অনেকের কাছে এই দুই ধাপের সংযোগের অভাব গণপরিবহনকে অসুবিধাজনক করে তোলে, ফলে যাত্রীরা ব্যক্তিগত গাড়ির দিকে ঝোঁকেন এবং যানজট আরও বাড়ে।
সূচিপত্র
- মালয়েশিয়ার নগর চলাচলের চ্যালেঞ্জ: যাত্রার শুরু ও শেষ ধাপের সমস্যা
- র্যাপিড অন-ডিমান্ড ভ্যান: নতুন সমাধানের আবির্ভাব
- সেবাটি যেভাবে কাজ করে: বুকিং, ভাড়া পরিশোধ ও আওতা
- বাস্তব জীবনে প্রভাব: যাত্রীদের অভিজ্ঞতা ও খরচ সাশ্রয়
- সেবার বিস্তার: বাড়ছে বহর, যুক্ত হচ্ছে নতুন এলাকা
- ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা: প্রশংসা, চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়নের আহ্বান
- বৃহত্তর প্রভাব: নগর পরিকল্পনা, টেকসই উন্নয়ন ও গণপরিবহনের ভবিষ্যৎ
- এরপর কী: সমন্বয়, সম্প্রসারণ ও সামনের পথ
- সংক্ষেপে
উদাহরণস্বরূপ, LRT স্টেশন থেকে মাত্র ২.৫ কিলোমিটার দূরে বসবাসকারী কাউকে ফুটপাতের দুর্বল অবস্থা, ছাউনির অভাব বা ঘুরপথের কারণে সেখানে পৌঁছাতে ৩০ মিনিট হাঁটতে হতে পারে। কুয়ালালামপুরের মতো বিস্তৃত নগর এলাকায় বাস প্রায়ই যানজটে আটকে যায়, ফলে স্বল্প দূরত্বের যাত্রাও অনিশ্চিত ও সময়সাপেক্ষ হয়ে ওঠে। গণপরিবহনের কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে আবাসিক বা বাণিজ্যিক এলাকার এই বিচ্ছিন্নতা গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
র্যাপিড অন-ডিমান্ড ভ্যান: নতুন সমাধানের আবির্ভাব
এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মালয়েশিয়া সরকার এবং দেশটির প্রধান নগর গণপরিবহন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান প্রাসারানা মালয়েশিয়া বারহাদ র্যাপিড অন-ডিমান্ড (ROD) ভ্যান সেবা চালু করেছে। ডিমান্ড রেসপনসিভ ট্রানজিট (DRT) নামেও পরিচিত এই উদ্ভাবনী সেবায় ১২ আসনের যাত্রীবাহী ভ্যান ব্যবহার করে বড় রেলস্টেশনের ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে অ্যাপের মাধ্যমে নমনীয় যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়। যাত্রার শুরু ও শেষ ধাপের দূরত্ব পাড়ি দিতে সহায়তা করে যাত্রীদের বৃহত্তর গণপরিবহন নেটওয়ার্কে পৌঁছানো সহজ করাই এই সেবার লক্ষ্য।
২০২৪ সালের মে মাসে চালুর পর থেকে ROD ভ্যান সেবায় দ্রুত প্রবৃদ্ধি হয়েছে। দৈনিক যাত্রীর সংখ্যা ৩৫৪ থেকে বেড়ে ২০২৫ সালের জুনে প্রায় ১০ হাজারে দাঁড়িয়েছে। বহরে আরও ভ্যান যুক্ত হওয়ার সঙ্গে দৈনিক যাত্রীর সংখ্যা ৩৬ হাজারে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ক্লাং ভ্যালি ও পেনাংয়ের ১০১টির বেশি এলাকায় এখন এই সেবা চালু রয়েছে। বহরে আরও ভ্যান যুক্ত হলে এর পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
যাত্রীরা চারটি ভিন্ন মোবাইল অ্যাপ—র্যাপিড অন ডিমান্ড, কুম্মিউট, ট্রেক ও মোবি—ব্যবহার করে যাত্রা বুক করতে পারেন। চাহিদা ও ভ্যানের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে সাধারণত অপেক্ষার সময় তিন থেকে ২০ মিনিট। প্রতি যাত্রার প্রচারমূলক ভাড়া ১ রিঙ্গিত (প্রায় ০.২১ মার্কিন ডলার)। আর মাই৫০ মাসিক পাসধারীরা বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারেন। মাসে ৫০ রিঙ্গিতের এই পাসে র্যাপিড কেএল সেবায় সীমাহীন যাতায়াত করা যায়।
সেবাটি যেভাবে কাজ করে: বুকিং, ভাড়া পরিশোধ ও আওতা
ROD ভ্যান সেবা জনপ্রিয় ই-হেইলিং প্ল্যাটফর্মগুলোর মতোই কাজ করে, তবে খরচ অনেক কম। যাত্রীরা মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে আসন বুক করেন, ওঠা ও নামার স্থান বেছে নেন এবং বুকিং নম্বরসহ নিশ্চিতকরণ পান। যাত্রা শুরুর আগে চালকেরা বুকিং যাচাই করে নিশ্চিত করেন, যাত্রীরা যেন সঠিক ভ্যানে ওঠেন। ভ্যানগুলোতে আরামদায়ক আসন, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত স্থান রয়েছে।
ব্যবহারকারীদের সুবিধার জন্য ভাড়া পরিশোধের বিকল্প বাড়ানো হয়েছে। মাই৫০ পাস ও টাচ ‘এন গো কার্ডের পাশাপাশি উন্মুক্ত পেমেন্ট ব্যবস্থা চালুর ফলে এখন ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডেও ভাড়া দেওয়া যায়। এই ডিজিটাল সংযুক্তির লক্ষ্য হলো আরও বেশি মানুষের জন্য সেবাটি সহজলভ্য করা, যাদের প্রচলিত গণপরিবহন কার্ড নেই তারাও এর অন্তর্ভুক্ত।
অ্যাপার্টমেন্ট ও ফ্ল্যাটের মতো ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকায় এই সেবা বিশেষভাবে উপকারী, যেখানে সরু রাস্তা দিয়ে প্রচলিত বাস চলাচলে অসুবিধা হতে পারে। LRT ও MRT স্টেশনের ৫ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে চলাচল করায় ভ্যানগুলো নিশ্চিত করে যে অধিকাংশ যাত্রী ১০ মিনিটের মধ্যে গণপরিবহন কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারবেন। এতে মোট যাত্রার সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
বাস্তব জীবনে প্রভাব: যাত্রীদের অভিজ্ঞতা ও খরচ সাশ্রয়
অনেক মালয়েশীয়ের কাছে ROD ভ্যান সেবা জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন এনেছে। প্রকৌশলী মিস ইজ্জাহ পুত্রজায়া থেকে পেটালিং জায়ায় যাতায়াত করেন। আগে কুখ্যাত যানজটে গাড়ি চালিয়ে যেতে তাঁর দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাগত। গণপরিবহন এবং শেষ ধাপের যাত্রায় ROD ভ্যান ব্যবহার শুরু করার পর তাঁর মোট যাত্রার সময় এক ঘণ্টারও কমে নেমেছে। খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে: জ্বালানি, টোল ও পার্কিংয়ে মাসে ৬০০ রিঙ্গিতের বেশি ব্যয়ের পরিবর্তে এখন তিনি কেএলআইএ এক্সপ্রেসের মাসিক পাসে ৩৫০ রিঙ্গিত এবং মাই৫০ পাসে ৫০ রিঙ্গিত দেন। এতে তাঁর ট্রেন, LRT ও ভ্যানের সব যাত্রা অন্তর্ভুক্ত।
অন্য যাত্রীরাও একই রকম অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। কলেজছাত্র সাইয়েদ আইদ্রুস সাইয়েদ ওমর সময়ানুবর্তিতা ও সাশ্রয়ী ভাড়ার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এখন তাঁকে ভ্যানের জন্য ১০ মিনিটেরও কম অপেক্ষা করতে হয় এবং প্রচলিত বাস বা ই-হেইলিংয়ের তুলনায় সময় ও অর্থ দুটোই বাঁচে। ফ্রন্ট অফিসের নির্বাহী কেনেথ রাজ এই সেবাকে বর্ণনা করেছেন, “গণপরিবহনের সাশ্রয়ী ভাড়া আর ই-হেইলিংয়ের সুবিধা ও গতির সেরা সমন্বয়” হিসেবে।
ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীদের জন্য ROD ভ্যান দৈনন্দিন যাতায়াতকে দ্রুততর ও কম চাপের করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মির্ত্তিকা এম. ভেলানথ্রেন বলেন, মাই৫০ পাসের সুবাদে তিনি ভ্যান সেবায় বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারেন। এতে ক্লাসে যাওয়া ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো সহজ হয়েছে।
সেবার বিস্তার: বাড়ছে বহর, যুক্ত হচ্ছে নতুন এলাকা
প্রবল চাহিদার কারণে ROD ভ্যানের বহর দ্রুত বেড়েছে। ২০২৫ সালের জুনে ৫৫ কোটি রিঙ্গিত ব্যয়ে আরও ৩২০টি ভ্যান যুক্ত করা হয়। এতে মোট বহরের সংখ্যা ৬০০টির বেশি হয়েছে। সারা দেশে সেবার আওতাধীন এলাকার সংখ্যা ৩৭ থেকে বেড়ে ১০১ হয়েছে। যাত্রীর চাহিদা বাড়ায় নিয়মিত নতুন রুট চালু হচ্ছে। সাম্প্রতিক সম্প্রসারণে ঘনবসতিপূর্ণ ও পর্যাপ্ত সেবাবঞ্চিত এলাকাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আমপাং, পুত্রজায়া, সাইবারজায়া এবং MRT-সংযুক্ত কয়েকটি এলাকায় নতুন জোন চালু হয়েছে।
সাধারণত প্রতিটি কার্যকর জোনে একাধিক ভ্যান ও সর্বোচ্চ ২০টি স্টপ থাকে, যা বিস্তৃত এলাকায় সেবা নিশ্চিত করে। ভোর ৬টা থেকে রাত ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত সেবাটি চালু থাকে। ফলে ভোরে যাতায়াতকারী ও রাতের যাত্রীরাও এর সুবিধা পান। গণপরিবহন নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী করতে সরকার ২০২৮ সাল পর্যন্ত অতিরিক্ত ডিজেল ও বৈদ্যুতিক বাস কেনার জন্য ১৯০ কোটি রিঙ্গিত বরাদ্দ করেছে।
সহজে ব্যবহার নিশ্চিত করতে ভ্যানগুলোতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সুবিধা রাখা হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের কার্ড ও পাস গ্রহণের জন্য পেমেন্ট ব্যবস্থাও উন্নত করা হয়েছে। বড় রেললাইন ও বাস লেনের সঙ্গে সেবাটির সংযুক্তির ফলে যাত্রীরা বিভিন্ন ধরনের পরিবহন মিলিয়ে নির্বিঘ্নে যাত্রার পরিকল্পনা করতে পারছেন।
ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা: প্রশংসা, চ্যালেঞ্জ ও উন্নয়নের আহ্বান
সুবিধা, সাশ্রয়ী ভাড়া ও দ্রুতগতির জন্য ROD ভ্যান সেবা ব্যাপক প্রশংসা পেলেও সব ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা মসৃণ হয়নি। মিস গ্যান হুই ফাংয়ের মতো কেউ কেউ শুরুতে বুকিং অ্যাপ ব্যবহার করতে সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের কাছে অ্যাপের ইন্টারফেস বিভ্রান্তিকর মনে হয়েছে এবং ওঠার স্থান বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি স্পষ্ট ছিল না। অন্যরা ব্যস্ত সময়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন। আগাম বুকিং না থাকলে ভ্যানে ওঠার অসুবিধার কথাও কেউ কেউ বলেছেন।
পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও যাত্রী অধিকারকর্মীরা আরও ব্যবহারবান্ধব, সমন্বিত বুকিং প্ল্যাটফর্মের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন এলাকায় আলাদা আলাদা অ্যাপ চালু থাকায় বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি বা ডিজিটাল প্রযুক্তিতে কম স্বচ্ছন্দ ব্যবহারকারীদের জন্য। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে একটি সহজ ও একক অ্যাপ চালু করা, ফোনে বুকিংয়ের ব্যবস্থা এবং প্রধান গণপরিবহন কেন্দ্রে সহায়তার জন্য কর্মীসহ কিয়স্ক স্থাপন।
পরিবহন পরামর্শক রোসলি আজাদ খান ডিজিটাল সাক্ষরতা ও সবার ব্যবহার উপযোগী নকশার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন:
বুকিং অ্যাপের ইন্টারফেস হওয়া উচিত সহজ, আর সহজে ব্যবহারের জন্য বোতামগুলো বড় হওয়া দরকার। বয়স্ক ব্যক্তিদের ডিজিটাল সাক্ষরতা বিষয়ক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অথবা কমিউনিটি সেন্টারের সঙ্গে অংশীদারত্ব করে এই ব্যবস্থা ব্যবহারে সহায়তা করা যেতে পারে।
মাই মোবিলিটি ভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়ান অ্যাগিল ওয়ান হাসান বলেন:
বিভিন্ন অ্যাপকে একত্র করে একটি ব্যবহারবান্ধব প্ল্যাটফর্ম চালু করলে সেবাটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে এবং শুধু ডিজিটাল সংযোগ রয়েছে এমন মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
অন্য উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে অপেক্ষার সময় কমাতে এবং বিশেষ করে কম ব্যস্ত সময়ে সর্বোচ্চ চাহিদার এলাকায় ভ্যান পাঠানো নিশ্চিত করতে আরও উন্নত রুট নির্ধারণ অ্যালগরিদমের প্রয়োজন। কিছু ব্যবহারকারী আরও বলেছেন, ভ্যানের ভারী দরজা বয়স্ক যাত্রীদের জন্য খোলা-করা কঠিন হতে পারে। তাই যানবাহনের নকশায় আরও উন্নতির প্রস্তাব দিয়েছেন তাঁরা।
বৃহত্তর প্রভাব: নগর পরিকল্পনা, টেকসই উন্নয়ন ও গণপরিবহনের ভবিষ্যৎ
ROD ভ্যান সেবার সাফল্য মালয়েশিয়ার নগর চলাচল কৌশলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। গণপরিবহনকে আরও সহজলভ্য ও সুবিধাজনক করে সেবাটি ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমাতে, যানজট প্রশমিত করতে এবং কার্বন নিঃসরণ কমাতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চাহিদা অনুযায়ী চলাচলকারী ভ্যানের নমনীয়তা এমন নতুন যাত্রীদের আকৃষ্ট করতে পারে, যারা যাত্রার শুরু ও শেষ ধাপের অসুবিধার কারণে গণপরিবহন এড়িয়ে চলতেন।
তবে নগর পরিকল্পনাবিদেরা সতর্ক করে বলেছেন, চাহিদা অনুযায়ী চলাচলকারী ভ্যানই সব সমস্যার সমাধান নয়। বিদ্যমান বাস ও রেল নেটওয়ার্কের পরিপূরক হিসেবে এগুলো কাজ করলেও, শক্তিশালী নির্দিষ্ট রুটের বাসব্যবস্থা, পথচারীবান্ধব অবকাঠামো এবং সমন্বিত নগর পরিকল্পনায় বিনিয়োগের বিকল্প হওয়া উচিত নয়। ট্রানজিট মালয়েশিয়ার মুহাম্মদ জুলকারনাইন হামজাহ বলেন, যাত্রার শুরু ও শেষ ধাপের সমস্যার মূলে রয়েছে গাড়িকেন্দ্রিক নগর নকশা এবং হাঁটার অনুপযোগী পরিবেশ। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য উন্নত নগর পরিকল্পনা, হাঁটার উপযোগী আরও বেশি এলাকা এবং বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম সমন্বয়ে একটি আঞ্চলিক পরিবহন কর্তৃপক্ষ দরকার।
ইউনিভার্সিটি পুত্রা মালয়েশিয়ার রোড সেফটি রিসার্চ সেন্টারের সহযোগী অধ্যাপক ড. ল অইক হুয়া নিরাপত্তার সুবিধার কথা তুলে ধরেছেন:
DRT ভ্যান প্রশিক্ষিত চালকেরা পরিচালনা করেন এবং তাঁরা উচ্চতর নিরাপত্তা মান মেনে চলেন। একই সঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ি চালানোর জটিলতা ও মনোযোগ-বিভ্রান্তির কারণগুলো দূর হয়, ফলে মনোযোগ হারানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমে।
তবে মালয়েশিয়ান রোড অ্যান্ড ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নিক মোহাম্মদ সালিম নিক মোহাম্মদ সালেহের মতে, এই সেবা একা নগর যানজটের সমাধান করতে পারে না:
ভবিষ্যতে যেকোনো নতুন DRT রুট নির্ধারণ করতে হবে ব্যক্তিগত যানবাহনে বেশি যাতায়াত হয় এমন এলাকায় জনসংখ্যার ঘনত্ব ও যাত্রী চলাচলের হার নিয়ে যথাযথ জরিপের ভিত্তিতে। ভবিষ্যতের যেকোনো নগর পরিকল্পনা প্রকল্পে গণপরিবহনে সহজে পৌঁছানোর বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত; DRT-এর মতো প্রতিক্রিয়াভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।
টেকসই উন্নয়নের বিষয়টিও রয়েছে। বড় বাসের তুলনায় ভ্যানগুলো জ্বালানি সাশ্রয়ী হলেও এগুলোও মোটরযান, যা যানজট ও নিঃসরণে অবদান রাখে। আরও বৈদ্যুতিক বাস চালু করা এবং ROD ভ্যান সেবাকে বৃহত্তর গণপরিবহন নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার সরকারি পরিকল্পনা পরিবেশবান্ধব ও টেকসই নগর চলাচলের দিকে একটি পদক্ষেপ।
এরপর কী: সমন্বয়, সম্প্রসারণ ও সামনের পথ
সামনের দিকে, একাধিক প্ল্যাটফর্মের কারণে সৃষ্ট বিভ্রান্তি কমিয়ে বুকিং প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রাসারানা ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকের মধ্যে একটি সমন্বিত অ্যাপ চালুর পরিকল্পনা করছে। বিদ্যমান প্রযুক্তিসেবা প্রদানকারীরা এই সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে ROD সেবা চালিয়ে যাবে, ফলে প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনের সুযোগ বজায় থাকবে।
সরকার আরও বেশি এলাকায় সেবা দিতে ভ্যান ও বাসের বহর বাড়ানোর পরিকল্পনাসহ অতিরিক্ত বিনিয়োগও করছে। এর মধ্যে বৈদ্যুতিক যানবাহনও রয়েছে। বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ ও পর্যাপ্ত সেবাবঞ্চিত এলাকায় যাত্রার শুরু ও শেষ ধাপের সংযোগ উন্নত করাই হবে মূল লক্ষ্য।
মিস ইজ্জাহ এবং আরও হাজারো যাত্রীর কাছে ROD ভ্যান সেবা দৈনন্দিন জীবনে উল্লেখযোগ্য উন্নতির প্রতীক। গাড়ি চালানোর তুলনায় এটি কম খরচের, দ্রুত এবং আরও নির্ভরযোগ্য বিকল্প। মালয়েশিয়ার নগরায়ণ অব্যাহত থাকায় ROD ভ্যান পরীক্ষামূলক উদ্যোগ থেকে পাওয়া শিক্ষা ভবিষ্যতের গণপরিবহন নীতি, নগর পরিকল্পনা ও টেকসই চলাচলের পথ নির্ধারণ করবে।
সংক্ষেপে
- মালয়েশিয়ার র্যাপিড অন-ডিমান্ড ভ্যান সেবা নগর গণপরিবহনে যাত্রার শুরু ও শেষ ধাপের গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে কাজ করছে, ফলে যাত্রীদের জন্য LRT ও MRT স্টেশনে পৌঁছানো সহজ হচ্ছে।
- সেবাটি দ্রুত সম্প্রসারিত হয়ে ১০১টির বেশি এলাকায় পৌঁছেছে। বহরে রয়েছে ৬০০টির বেশি ভ্যান এবং ২০২৫ সালের জুনে দৈনিক যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছেছে।
- যাত্রীরা সাশ্রয়ী ভাড়া (প্রতি যাত্রায় ১ রিঙ্গিত), একাধিক অ্যাপে নমনীয় বুকিং এবং ঘনবসতিপূর্ণ ও পর্যাপ্ত সেবাবঞ্চিত এলাকায় উন্নত সংযোগের সুবিধা পাচ্ছেন।
- ব্যবহারকারীদের মতামতে সেবাটির সুবিধা (যাতায়াতের সহজতা, খরচ সাশ্রয়, দ্রুততা) এবং চ্যালেঞ্জ (অ্যাপ ব্যবহার, অপেক্ষার সময়, বয়স্কদের জন্য সহজলভ্যতা) দুটোই উঠে এসেছে।
- বিশেষজ্ঞরা সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, উন্নত নগর পরিকল্পনা এবং টেকসই পরিবহন সমাধানে অব্যাহত বিনিয়োগের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
- গাড়ির ওপর নির্ভরতা কমানো, যানজট প্রশমিত করা ও গণপরিবহনের ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে ROD ভ্যান সেবা আশাব্যঞ্জক পদক্ষেপ। তবে এর পাশাপাশি নগর চলাচল ব্যবস্থায় আরও বিস্তৃত সংস্কারও প্রয়োজন।






