মু দেংয়ের পরিবারে নতুন সদস্য
থাইল্যান্ডের চোনবুরি প্রদেশের খাও খিও ওপেন চিড়িয়াখানায় ২০২৬ সালের ৪ নভেম্বর জন্ম নেওয়া একটি পিগমি জলহস্তী চিড়িয়াখানার ভাইরাল তারকা মু দেংকে খালা বানিয়েছে। নবজাতকটি মু দেংয়ের বড় ভাই সাত বছর বয়সী মু তুন ও ১৪ বছর বয়সী মু মানাওয়ের সন্তান।
সূচিপত্র
প্রাকৃতিক সম্পদ ও পরিবেশমন্ত্রী সুচার্ট চোমকলিন ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার জন্মের খবর ঘোষণা করেন। চিড়িয়াখানার পরিচালক নারংউইত চোডচোই বলেন, পশুচিকিৎসকদের পরীক্ষায় মা ও শাবক দুজনকেই সুস্থ পাওয়া গেছে। শাবকটি ইতিমধ্যেই চলাফেরা ও চারপাশ ঘুরে দেখতে শুরু করেছে, তবে মায়ের কাছেই থাকছে।
জাতীয় চিড়িয়াখানা প্রজনন উদ্যোগের আওতায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মা-বাবাকে একসঙ্গে আনার পর এ জন্ম হলো। প্রকল্পে অংশ নিতে মু মানাও নাখন রাতচাসিমা চিড়িয়াখানা, যা কোরাত চিড়িয়াখানা নামেও পরিচিত, থেকে এখানে আসে। প্রকল্পটির লক্ষ্য থাইল্যান্ডে পিগমি জলহস্তীর সংখ্যা বাড়ানো।
মু দেংয়ের অনুসারীদের কাছে এ খবর পরিচিত প্রাণী পরিবারের আরেক সদস্যকে সামনে এনেছে। আর চিড়িয়াখানার পরিচর্যাকারীদের তাৎক্ষণিক দায়িত্ব হলো সন্তান জন্মের পর সেরে ওঠা মা ও চারপাশ ঘুরে দেখতে শুরু করা শাবকটির দেখাশোনা করা।
মা ও শাবক কাছাকাছি থাকছে
নারংউইত বলেন, সন্তান জন্মের পর পশুচিকিৎসক দল মু মানাও ও তার শাবককে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। মা ও শাবক স্বাভাবিকভাবেই একসঙ্গে থাকছে। শাবকটি তাদের নির্ধারিত জায়গায় ঘোরাফেরা করলেও মা কাছেই থাকছে।
পরিচর্যাকারীরা জানান, সন্তান জন্ম দেওয়ার পরও মু মানাও ক্লান্ত। সে শাবকটির প্রতি সুরক্ষামূলক আচরণ করছে, তার ওপর নজর রাখছে এবং কর্মীদের খুব কাছে আসতে দিতে চাইছে না। সুচার্ট বলেন, এমন সুরক্ষামূলক আচরণ মায়ের স্বাভাবিক আচরণ।
মায়ের নজরদারিতে থেকেও শাবকটি চারপাশ ঘুরে দেখতে শুরু করেছে। জন্মের পর মা ও শাবক কেমন আছে, সে বিষয়ে চিড়িয়াখানার প্রাথমিক বিবরণে এই প্রথম দিকের চলাফেরা ও পশুচিকিৎসকদের স্বাস্থ্য পরীক্ষার তথ্য উঠে এসেছে।
ছবিতে নবজাতককে দেখলেন অনুরাগীরা
চিড়িয়াখানার পরিচর্যাকারীরা ফেসবুকে শাবকটির ছবি শেয়ার করেন। ছবিগুলো দ্রুত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। একটি ছবিতে দেখা যায়, নবজাতকটি বিশ্রাম নিচ্ছে, তার শরীরের ওপর রোদ পড়েছে। আরেকটি ছবিতে সে মায়ের গালে মুখ লাগিয়ে আছে।
তুলনার জন্য ছোটবেলার মু দেংয়ের ছবিও শেয়ার করা হয়। এতে পরিবারের নতুন সদস্যকে দেখার সময় অনুসারীরা পরিচিত একটি উদাহরণ পান। আগ্রহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও ছবি প্রকাশ করা হয়।
শাবকটির সঙ্গে মু দেংয়ের সম্পর্ক সরল: মু তুন তার বড় ভাই, তাই নবজাতকটি মু দেংয়ের পিতৃকুলের ভাগ্নে। অর্থাৎ, শাবকটি একই পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের সদস্য।
এখন পর্যন্ত জনসাধারণের আগ্রহ মূলত পরিচর্যাকারীদের দেওয়া ছবি ও খবরে কেন্দ্রীভূত। এসব ঝলকে মু মানাওয়ের পাশে নবজাতককে দেখা যাচ্ছে, আর চিড়িয়াখানার কর্মীরা তাদের পর্যবেক্ষণ চালিয়ে যাচ্ছেন।
আনুষ্ঠানিক সূচনায় প্রজনন প্রকল্প
জাতীয় প্রজনন উদ্যোগের আওতায় ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি মু তুন ও মু মানাওকে একসঙ্গে আনা হয়। মু মানাওকে কোরাত চিড়িয়াখানা থেকে সরিয়ে খাও খিওতে আনার ফলে দুই প্রাণীকে একত্র করা সম্ভব হয়, যা থাইল্যান্ডের দুটি চিড়িয়াখানার কাজকে যুক্ত করেছে।
এই জুটির মিলন উপলক্ষে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়। বরপক্ষের জ্যেষ্ঠ আত্মীয় হিসেবে প্রিন্সেস উবলরতন রাজকন্যা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং সাক্ষী হিসেবে জুটির আনুষ্ঠানিক বিয়ের সনদে স্বাক্ষর করেন।
শাবকটির জন্মের অনেক আগেই এ আয়োজন জুটিকে জনসমক্ষে পরিচিত করে তোলে। এর পেছনে ছিল বাস্তব লক্ষ্য: বিভিন্ন চিড়িয়াখানার প্রাণীদের একত্র করে বংশবৃদ্ধি ঘটানো এবং থাইল্যান্ডের চিড়িয়াখানাগুলোর তত্ত্বাবধানে থাকা পিগমি জলহস্তীর সংখ্যা বাড়ানো।
নভেম্বরের এই জন্ম প্রকল্পটির নতুন অগ্রগতি। একই সঙ্গে খাও খিওকে ঘিরে জনস্বার্থের দুটি দিকও এতে যুক্ত হয়েছে: মু দেংয়ের প্রতি মানুষের ভালোবাসা এবং পিগমি জলহস্তু প্রজননে চিড়িয়াখানার কাজের প্রতি আগ্রহ।
মা-বাবার জুটি থেকে শাবকের জন্ম
পরিবারটির সাম্প্রতিক ইতিহাস দুই বছরজুড়ে বিস্তৃত। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মা-বাবার জুটি বাঁধা ও বিয়ের অনুষ্ঠান দিয়ে এর শুরু, আর ২০২৬ সালের নভেম্বরে শাবকের জন্ম ও সেই খবর ঘোষণার মধ্য দিয়ে তা এগিয়েছে।
থাইল্যান্ডের ঘোষণাগুলোতে তারিখ বৌদ্ধ বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী দেওয়া হয়। ২৫৬৮ সাল ২০২৫ সালের সঙ্গে, আর ২৫৬৯ সাল ২০২৬ সালের সঙ্গে মেলে। আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত গ্রেগরীয় বর্ষপঞ্জির সমতুল্য বছর পেতে ৫৪৩ বিয়োগ করতে হয়।
- ২৪ জানুয়ারি ২০২৫: প্রজনন উদ্যোগের আওতায় মু তুন ও মু মানাওকে জুটি করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রিন্সেস উবলরতন রাজকন্যা উপস্থিত ছিলেন।
- ৪ নভেম্বর ২০২৬: চোনবুরির খাও খিও ওপেন চিড়িয়াখানায় মু মানাও শাবকের জন্ম দেয়।
- ৫ নভেম্বর ২০২৬: সুচার্ট জন্মের খবর ঘোষণা করেন এবং মা ও শাবক সুস্থ থাকার বিষয়ে চিড়িয়াখানা পরিচালকের হালনাগাদ তথ্য জানান।
জানুয়ারির তারিখটি মা-বাবার জুটি বাঁধা ও অনুষ্ঠানের দিন। চিড়িয়াখানার বিবরণ অনুযায়ী, ৪ নভেম্বর শাবকটির জন্ম হয় এবং পরদিন জনসমক্ষে খবরটি ঘোষণা করা হয়।
দর্শনার্থীরা কবে শাবকটিকে দেখতে পাবেন?
খাও খিও ওপেন চিড়িয়াখানা শিগগিরই নবজাতকটিকে দর্শনার্থীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে পরিচর্যাকারীরা এখনও দেখছেন, শাবকটি কখন এর জন্য প্রস্তুত হবে। ঘোষণার সময় জনসাধারণের জন্য দেখার কোনো তারিখ দেওয়া হয়নি, শাবকটির লিঙ্গও নির্ধারণ করা যায়নি এবং নামও ঘোষণা করা হয়নি।
মু মানাওয়ের শারীরিক অবস্থা এবং নবজাতকের কাছে তার আচরণও কর্মীদের পর্যবেক্ষণের বিষয়। সে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর সেরে উঠছে, শাবকটিকে কাছে রাখছে এবং পরিচর্যাকারীদের খুব কাছে আসতে দিচ্ছে না।
তাই চিড়িয়াখানা পরিচয়ের আয়োজন করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় শাবকটিকে দেখতে আগ্রহী দর্শনার্থীদের আপাতত ছবির ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। পশুচিকিৎসক দল মা ও শাবকের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করছে এবং নবজাতক আরও সক্রিয় হয়ে উঠছে; এ সময়ে তাদের একসঙ্গেই রাখা হয়েছে।
পরবর্তী বাস্তব অগ্রগতি হবে জনসাধারণের সঙ্গে পরিচয়ের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা। তত দিন পর্যন্ত মূল খবরটি সহজ: চিড়িয়াখানার ভাষ্য অনুযায়ী, মা ও শাবক দুজনই সুস্থ, আর শাবকটি ইতিমধ্যেই মায়ের পাশে চলাফেরা করছে।
মূল তথ্য
- ২০২৬ সালের ৪ নভেম্বর খাও খিও ওপেন চিড়িয়াখানায় একটি পিগমি জলহস্তীর শাবকের জন্ম হয়েছে।
- শাবকটির মা ১৪ বছর বয়সী মু মানাও, আর বাবা সাত বছর বয়সী মু তুন, যে মু দেংয়ের বড় ভাই।
- চিড়িয়াখানার পরিচালক নারংউইত চোডচোই বলেন, পশুচিকিৎসকদের পরীক্ষায় মা ও শাবক দুজনকেই সুস্থ পাওয়া গেছে।
- নবজাতকটি কাছাকাছি ঘুরে দেখতে শুরু করলেও মু মানাও তাকে আগলে রাখছে।
- জাতীয় চিড়িয়াখানা প্রজনন উদ্যোগের আওতায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে মা-বাবাকে জুটি করা হয়েছিল।
- চিড়িয়াখানা শাবকটিকে জনসাধারণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। হালনাগাদের সময় তারিখ, নাম ও লিঙ্গ ঘোষণা করা হয়নি।






