পাঁচটি ছবিতে বৃহত্তর নৌ-আকাঙ্ক্ষার আভাস
নামফো শিপইয়ার্ডে নির্মাণাধীন একটি যুদ্ধজাহাজের অংশবিশেষ প্রকাশ করেছে উত্তর কোরিয়া। দক্ষিণ কোরিয়ার এক প্রতিরক্ষা গবেষকের ধারণা, জাহাজটি ১০ হাজার টনের শ্রেণির হতে পারে, যা দেশটির সম্প্রতি যুক্ত করা ডেস্ট্রয়ারগুলোর ঘোষিত আকারের প্রায় দ্বিগুণ। ২ নভেম্বর কিম জং উনের শিপইয়ার্ড পরিদর্শনের সময় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়। সেখানে তিনি আরও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা, আরেকটি স্থল ডক এবং জাহাজ নকশাবিদ ও নির্মাণকর্মী নিয়োগ বাড়ানোর নির্দেশ দেন।
সূচিপত্র
- পাঁচটি ছবিতে বৃহত্তর নৌ-আকাঙ্ক্ষার আভাস
- হালের ছবিতে কী দেখা যায়
- দূরপাল্লার হামলার সম্ভাব্য প্ল্যাটফর্ম
- একসঙ্গে নির্মাণ ও মেরামতের সক্ষমতা গড়তে কিমের নির্দেশ
- পরবর্তী পদক্ষেপের তুলনা: আগের দুটি ডেস্ট্রয়ার
- দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজের সঙ্গে আকারের তুলনা
- নৌবাহিনীর সম্প্রসারণে পারমাণবিক বার্তা
- অস্ত্র পরীক্ষা ও ওয়াশিংটনকে সতর্কবার্তার পর সফর
- মূল বিষয়গুলো
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরীয় সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) ৪ নভেম্বর এ সফরের কথা জানায় এবং পাঁচটি ছবি প্রকাশ করে। একটি ছবিতে অসমাপ্ত জাহাজটির নিচের হালের অংশ দেখা যায়। কোরিয়া ডিফেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি ফোরামের মহাসচিব শিন জং-উয়ের মূল্যায়ন, ছবিগুলোতে প্রথমবারের মতো সন্দেহভাজন ১০ হাজার টনের ক্রুজার নির্মাণের দৃশ্য জনসমক্ষে এসেছে।
কিম বলেন, আগের বছর নির্মিত ডেস্ট্রয়ারের চেয়ে জাহাজটি অনেক বড় এবং এটি কয়েক ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নকশা করা হয়েছে। তাঁর পরিদর্শনে দুটি লক্ষ্য একসঙ্গে উঠে আসে: বড় যুদ্ধজাহাজ সমুদ্রে নামানো এবং সেগুলো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় শিল্প-স্থাপনা পুনর্গঠন।
জাহাজটির কারিগরি বৈশিষ্ট্য, নিশ্চিত ওজন, অস্ত্রের তালিকা, পানিতে নামানোর তারিখ বা কমিশনিংয়ের সময়সূচি সম্পর্কে উত্তর কোরীয় কর্তৃপক্ষ কিছু জানায়নি। এটিকে ১০ হাজার টনের ক্রুজার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে বাইরের পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে, যার পেছনে রয়েছে ছবিগুলো, আগের নির্মাণ পরিকল্পনা এবং শিপইয়ার্ডের কার্যক্রমসংক্রান্ত তথ্য।
হালের ছবিতে কী দেখা যায়
শিন নতুন ছবিগুলোর সঙ্গে আগের বছরের মার্চে প্রকাশিত ৫ হাজার টনের একটি ডেস্ট্রয়ারের ছবির তুলনা করেছেন। তাঁর মূল্যায়নের মূল ভিত্তি ছিল হালের নিচের সাপোর্টগুলোর আকার ও আকৃতি। সেগুলোকে মোটা এবং দ্বিস্তরবিশিষ্ট বলে মনে হয়েছে।
ছবিতে বাঁ পাশে লাল রঙের একটি কাঠামোও দেখা যায়, যা সোনার রাখার অংশ বলে মনে হয়েছে। ডান পাশে হলুদ রঙের তিনটি কাঠামোকে জাহাজের সাপোর্ট বলে মনে হয়েছে। সোনার পানির নিচে থাকা বস্তু শনাক্ত করতে শব্দ ব্যবহার করে, যা জাহাজকে সাবমেরিন ও অন্যান্য নিমজ্জিত লক্ষ্যবস্তু খুঁজে পেতে সহায়তা করে।
শিন বলেন, স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেও প্রায় ১০ হাজার টনের একটি জাহাজ নির্মাণের মূল্যায়ন করা হয়েছিল। হালের সাপোর্ট নিয়ে তাঁর তুলনা এবং আগের স্যাটেলাইট মূল্যায়ন মিলিয়েই নির্মাণস্থলকে বড় জাহাজ তৈরির বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার ঘোষিত পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।
জাহাজটির আকার বেড়েছে, কিমের নিজের বর্ণনাতেও সেই বার্তা জোরালো হয়েছে। কেসিএনএ জানায়, আগের বছর নির্মিত ডেস্ট্রয়ারের তুলনায় জাহাজটির দৃষ্টিনন্দন চেহারা দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন। উত্তর কোরিয়া হালের সামান্য অংশই দেখিয়েছে, তবে সফরটিকে জাহাজটির পরিকল্পিত সামরিক ভূমিকা তুলে ধরতে ব্যবহার করেছে।
দূরপাল্লার হামলার সম্ভাব্য প্ল্যাটফর্ম
শিনের ব্যাখ্যা, কয়েক ধরনের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে উত্তর কোরিয়ার বক্তব্য ইঙ্গিত দেয় যে দূরপাল্লায় স্থল লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য জাহাজটি তৈরি হতে পারে। এতে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্র বহনের সক্ষমতা বাড়ানো হতে পারে।
ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র বায়ুমণ্ডলের ভেতর চালিত হয়ে লক্ষ্যবস্তুতে পৌঁছায়। যুদ্ধজাহাজে বেশি ক্ষেপণাস্ত্র থাকলে পুনরায় অস্ত্র ভরতে ফেরার আগে সেটি আরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে পারে। এমন কাজে বিশেষভাবে তৈরি জাহাজ নিকটবর্তী উপকূলীয় জলসীমা রক্ষার বাইরেও নৌবাহিনীর হামলা চালানোর সক্ষমতা বাড়াবে।
ক্যংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর ফার ইস্টার্ন স্টাডিজের অধ্যাপক লিম উল-চুলের ধারণা, সম্ভাব্য অস্ত্রের মধ্যে থাকতে পারে হোয়াসাল কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র, কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্র, কিংবা অন্য জাহাজ ও স্থল লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেপণাস্ত্র। ঘোষিত উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে এটি তাঁর ব্যাখ্যা।
এর আগে বহু উল্লম্ব উৎক্ষেপণ সেলযুক্ত বড় জাহাজ তৈরির চেষ্টা করেছে উত্তর কোরিয়া। এগুলো এমন কুঠুরি, যেখানে ক্ষেপণাস্ত্র খাড়াভাবে রাখা হয় এবং জাহাজ থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়। নকশা ও স্থাপিত অস্ত্রের ওপর নির্ভর করে এসব ব্যবস্থা বিমান, জাহাজ বা স্থল লক্ষ্যবস্তুতে হামলায় ব্যবহার করা যায়।
উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম অসমাপ্ত জাহাজটিকে ব্যতিক্রমী সক্ষমতাসম্পন্ন একটি যুদ্ধব্যবস্থা হিসেবে তুলে ধরেন। কেসিএনএ তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করে জানায়, জাহাজটির রয়েছে:
বিশ্বের অন্য কোনো দেশের নেই এমন কার্যক্ষমতা
শিন ও লিমের উল্লেখ করা সম্ভাব্য অস্ত্রগুলো প্রকল্পটির সামরিক গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে সহায়তা করে: বড় হালে ক্ষেপণাস্ত্র এবং সেগুলো পরিচালনার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের জন্য উত্তর কোরিয়া আরও জায়গা পেতে পারে।
একসঙ্গে নির্মাণ ও মেরামতের সক্ষমতা গড়তে কিমের নির্দেশ
নামফোর আধুনিকায়ন পরিকল্পনায় স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের কাজ যাতে একই সময়ে করা যায়, সে জন্য আরও একটি স্থল ডক নির্মাণ করতে হবে। ডক হলো নিয়ন্ত্রিত কর্মক্ষেত্র, যেখানে কর্মীরা জাহাজের হালে পৌঁছে নির্মাণ বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ করতে পারেন।
ভবনগুলোর ‘অযৌক্তিক বিন্যাস’ সংশোধনেরও নির্দেশ দেন কিম। বড় জাহাজের অংশ, যন্ত্রপাতি ও উপকরণ শিপইয়ার্ডে আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে ওয়ার্কশপ, সংযোজন এলাকা ও ডকের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর নির্দেশে জাহাজ নির্মাণের পাশাপাশি উৎপাদনব্যবস্থার সংগঠনও গুরুত্ব পেয়েছে।
কেসিএনএ জানায়, পুরো উৎপাদনজুড়ে উচ্চ মাত্রার স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা রেখে সমন্বিত ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নির্মাণপ্রক্রিয়ার সব ধাপ পরিচালনার একটি ব্যবস্থা চান কিম। তিনি শিপইয়ার্ডকে মান ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি শ্রম সাশ্রয়ের নির্দেশ দেন।
জাহাজ নকশা ও নির্মাণকর্মীরাও অগ্রাধিকারের তালিকায় ছিলেন। কিম আরও সম্ভাবনাময় বিশেষজ্ঞ নিয়োগ এবং এ খাতে কর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর আহ্বান জানান। উৎপাদনে স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ও কর্মী বাড়ানোর বিষয়গুলো একসঙ্গে তুলে ধরা হয়, যা প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং শিল্পটির কাজের পরিমাণ—দুটিই বাড়ানোর প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
কিমের সঙ্গে ছিলেন সামরিক শিল্পের দায়িত্বে থাকা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক জো চুন-রিয়ং। জাহাজ গবেষণা ইনস্টিটিউট ও শিপইয়ার্ডের কর্মকর্তারা প্রতিনিধিদলকে কাজের অগ্রগতি জানান। কিম আধুনিকায়নের মহাপরিকল্পনা, নির্মাণের অগ্রগতি এবং কাজের সংগঠন পর্যালোচনা করেন।
পরবর্তী পদক্ষেপের তুলনা: আগের দুটি ডেস্ট্রয়ার
উত্তর কোরিয়ার ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার ছোয়ে হিয়ন ও কাং কনই বড় জাহাজটির তাৎক্ষণিক তুলনার মানদণ্ড। ছোয়ে হিয়ন জুনে সক্রিয় নৌসেবায় যুক্ত হয়ে পশ্চিম উপকূলে মোতায়েন হয়। কাং কন সেপ্টেম্বরে পূর্ব উপকূলের জন্য কমিশন করা হয়; তবে কাং কনের কমিশনিংয়ের তারিখ হিসেবেও জুনের কথা বলা হয়েছে।
২৩ জুন ছোয়ে হিয়নের কমিশনিং অনুষ্ঠানে কিম প্রতি বছর ওই শ্রেণির বা তার চেয়ে বড় দুটি পৃষ্ঠজাহাজ নির্মাণের আহ্বান জানান, যার মধ্যে ১০ হাজার টনের শ্রেণির জাহাজও থাকবে। পাঁচ বছরে ৫ হাজার টনের বেশি ওজনের দুটি জাহাজ তৈরির লক্ষ্যের কথাও বলা হয়েছে। ফলে পরিকল্পিত উৎপাদনের গতি নিয়ে জনসমক্ষে পরস্পরবিরোধী বর্ণনা রয়েছে।
সাম্প্রতিক প্রকাশের আগে উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো ছিল:
- ২৩ জুন: ছোয়ে হিয়নের কমিশনিং অনুষ্ঠানে কিম আরও বড় পৃষ্ঠজাহাজ নির্মাণের আহ্বান জানান।
- সেপ্টেম্বর: উত্তর কোরিয়া কাং কনের কমিশনিংয়ের ঘোষণা দেয় এবং একে পারমাণবিক পাল্টা-আঘাত ব্যবস্থার অংশ বলে বর্ণনা করে।
- ২ নভেম্বর: কিম নামফো শিপইয়ার্ড পরিদর্শন করেন, আধুনিকায়নের কাজ পর্যালোচনা করেন এবং নতুন জাহাজটি দেখেন।
- ৪ নভেম্বর: উত্তর কোরিয়া সফরের কথা জানায় এবং পাঁচটি ছবি প্রকাশ করে, যার একটিতে হালের অংশবিশেষ দেখা যায়।
কমিশনিং বলতে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো জাহাজকে নৌবাহিনীর সেবায় যুক্ত করাকে বোঝায়। হাল নির্মাণ তার আগের ধাপ। নির্মাণ শেষ হওয়া থেকে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হওয়ার আগে যুদ্ধজাহাজে যন্ত্রপাতি, সেন্সর ও অস্ত্র স্থাপন ও পরীক্ষা করতে হয়, পাশাপাশি নাবিকদেরও প্রস্তুত করতে হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজের সঙ্গে আকারের তুলনা
সন্দেহভাজন ১০ হাজার টনের শ্রেণির জাহাজটি উত্তর কোরিয়ার ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ারগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য আকারবৃদ্ধি নির্দেশ করবে। ঘোষিত শ্রেণির হিসাব ধরে নতুন জাহাজটির ওজন হবে সেগুলোর দ্বিগুণ। পানিতে ভাসমান জাহাজ যে পরিমাণ পানি সরিয়ে দেয়, তা দিয়েই জাহাজের ওজন নির্ধারণ করা হয়।
নতুন ছবির প্রতিবেদনগুলোতে দক্ষিণ কোরিয়ার যে জাহাজের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, সেটি হলো জংজো দ্য গ্রেট শ্রেণির এজিস ডেস্ট্রয়ার, যার ওজন ৮ হাজার ২০০ টন বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সে হিসাবে ১০ হাজার টন হবে ১ হাজার ৮০০ টন বেশি, অর্থাৎ প্রায় ২২ শতাংশ বড়।
জাহাজের ওজন মানক অবস্থায় মাপা হয়েছে, নাকি জ্বালানি, অস্ত্র ও সরঞ্জামসহ পূর্ণ বোঝাই অবস্থায়—তার ওপর নৌ-জাহাজের ওজনের হিসাব নির্ভর করে। বিভিন্ন জাহাজের শ্রেণির তুলনায় এই বোঝাইয়ের অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো জাহাজ কতটা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে, তা নির্ধারণে সেন্সর, ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা, নাবিকদের প্রশিক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণও ভূমিকা রাখে।
হালের আকার বাড়ানোর সবচেয়ে বাস্তব গুরুত্ব হলো, এতে অতিরিক্ত সরঞ্জাম, অস্ত্র ও সরবরাহের জন্য জায়গা তৈরি হতে পারে। শিনের মূল্যায়নে এই বাড়তি ধারণক্ষমতার সঙ্গে স্থল লক্ষ্যবস্তুতে হামলার জন্য আরও ক্ষেপণাস্ত্র বহনের সম্ভাবনা যুক্ত হয়েছে।
নৌবাহিনীর সম্প্রসারণে পারমাণবিক বার্তা
কিম শিপইয়ার্ড কর্মসূচিকে আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ এবং তাঁর ভাষায় পারমাণবিক হুমকির জবাব হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি পৃষ্ঠবাহিনী—যারা পানির ওপরে কাজ করে—এবং সাবমেরিনসহ পানির নিচের বাহিনী, উভয়কে দ্রুত সম্প্রসারণের আহ্বান জানান।
কেন এই সম্প্রসারণ চান, তা ব্যাখ্যা করে কেসিএনএ কিমের বক্তব্য উদ্ধৃত করে:
বিভিন্ন হুমকির মুখে সমুদ্রে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য পৃষ্ঠ ও পানির নিচের যুদ্ধক্ষমতা দ্রুত জোরদার করা সময়ের অত্যাবশ্যক ও গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
কমিশনিংয়ের সময় উত্তর কোরিয়া কাং কনকে পারমাণবিক পাল্টা-আঘাত ব্যবস্থা এবং সমুদ্রে পারমাণবিক প্রতিরোধক্ষমতার অংশ বলে বর্ণনা করে। কিম নৌবাহিনীকে পারমাণবিক অস্ত্রে সজ্জিত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন। এসব বক্তব্যে জাহাজ নির্মাণ কর্মসূচিকে পিয়ংইয়ংয়ের বৃহত্তর সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা যায়, যার লক্ষ্য হামলাকারীর বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাতের আরও পথ তৈরি করা।
উত্তর কোরিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্যবন্দর এবং নৌ-শিল্পকেন্দ্র হিসেবে নামফোর বাণিজ্যিক ও সামরিক—দুই ধরনের গুরুত্ব রয়েছে। অন্য শিপইয়ার্ড ও নৌঘাঁটিতেও আধুনিকায়ন কার্যক্রমের কথা বলা হয়েছে, ফলে এ উদ্যোগ একটি নির্মাণস্থলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
হলুদ সাগরে উত্তর সীমারেখাকে ঘিরে কিমের সামুদ্রিক সার্বভৌমত্বের উল্লেখ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। উত্তর সীমারেখা দুই কোরিয়ার মধ্যে একটি বিরোধপূর্ণ সামুদ্রিক সীমানা। তাঁর ঘোষিত অগ্রাধিকারে নতুন জাহাজ, শক্তিশালী ঘাঁটি ও শিল্প সম্প্রসারণের সঙ্গে আশপাশের জলসীমার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উত্তর কোরিয়ার দাবিকে যুক্ত করা হয়েছে।
অস্ত্র পরীক্ষা ও ওয়াশিংটনকে সতর্কবার্তার পর সফর
২ নভেম্বর কিমের পরিদর্শনের আগের দিন একটি কৌশলগত ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো হয়। সপ্তাহান্তে ক্লাস্টার ওয়ারহেড-সংক্রান্ত আরেকটি পরীক্ষাও হয়। এই ধারাবাহিকতায় নৌবাহিনীসংক্রান্ত ঘোষণার পাশাপাশি অন্যান্য হামলা-সক্ষমতার প্রদর্শনীও উঠে আসে।
শিপইয়ার্ড সফরের আগে ২৯ অক্টোবর কিমের ড্রোন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উদ্যোগ বিষয়ক ঘোষণাও আসে। সে সময় তিনি চালকবিহীন অস্ত্রের উন্নয়ন দ্রুত করার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান। দুই ক্ষেত্রেই তাঁর সামরিক নির্দেশনার কেন্দ্রে ছিল প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও উৎপাদন সক্ষমতা।
নেতার বোন ও জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব কিম ইয়ো জং ৪ নভেম্বর সতর্ক করে বলেন, পিয়ংইয়ংয়ের প্রতি ওয়াশিংটনের নীতির জবাবে উত্তর কোরিয়া আরও কঠোর পদক্ষেপ নেবে। তিনি বলেন, শান্তির জন্য সংলাপের পথ খোলা আছে, তবে সেই আলোচনা উত্তর কোরিয়ার স্বার্থ রক্ষায় হতে হবে।
বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং তাঁর অবস্থান এভাবে তুলে ধরেন:
শান্তির জন্য আলোচনার পথ অবশ্যই রয়েছে, তবে তা নিশ্চিতভাবেই আমাদের জাতীয় স্বার্থের সমান নয়।
পিয়ংইয়ংয়ের বার্তায় আলোচনার জন্য শর্তসাপেক্ষে আগ্রহ দেখানোর পাশাপাশি সামরিক শক্তিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখার কথা বলা হয়েছে। নামফোতে বাস্তব নির্দেশগুলো ছিল সুনির্দিষ্ট: আরও একটি ডক, অধিক স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন, শিপইয়ার্ডের উন্নত বিন্যাস এবং বর্ধমান নৌবহর নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আরও বিশেষজ্ঞ।
মূল বিষয়গুলো
- ২ নভেম্বর কিম জং উন নামফো শিপইয়ার্ড পরিদর্শনের পর উত্তর কোরিয়া পাঁচটি ছবি প্রকাশ করে।
- প্রতিরক্ষা গবেষক শিন জং-উয়ের মূল্যায়ন, আংশিক দৃশ্যমান জাহাজটি ১০ হাজার টনের ক্রুজার হতে পারে।
- কিম আরও একটি স্থল ডক নির্মাণ, স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বাড়ানো এবং জাহাজ নির্মাণ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ বৃদ্ধির নির্দেশ দেন।
- গবেষকদের ধারণা, জাহাজটির সম্ভাব্য ভূমিকার মধ্যে রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র বহনক্ষমতা বাড়ানো এবং দূরবর্তী স্থল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো।
- প্রকল্পটি ৫ হাজার টনের ডেস্ট্রয়ার ছোয়ে হিয়ন ও কাং কন যুক্ত করার এবং নৌবাহিনী সম্প্রসারণের বৃহত্তর প্রতিশ্রুতির পরপরই এসেছে।
- নতুন জাহাজটির কারিগরি বৈশিষ্ট্য কিংবা পানিতে নামানো ও কমিশনিংয়ের সময়সূচি উত্তর কোরিয়া এখনো ঘোষণা করেনি।






