চীনের একটি কারখানার ওপর নির্ভর করছে মার্কিন বিনিয়োগ
চীনে এসকে হাইনিক্সের দালিয়ান কারখানার জন্য নির্ধারিত চিপ তৈরির সরঞ্জামের অনুমোদন আটকে রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যে ন্যান্ড মেমোরির দুটি কারখানায় প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তাব জটিল হয়ে পড়েছে। প্রস্তাবটি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটির মার্কিন সহযোগী সংস্থা সলিডাইম। ৩ নভেম্বর প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়েছে, চীনে সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে ওয়াশিংটনের বিধিনিষেধ এবং যুক্তরাষ্ট্রে আরও চিপ উৎপাদন আকর্ষণের প্রচেষ্টার মধ্যে যোগসূত্র তৈরি করেছে এই আলোচনা।
সূচিপত্র
- চীনের একটি কারখানার ওপর নির্ভর করছে মার্কিন বিনিয়োগ
- সলিডাইম কী তৈরি ও বিক্রি করতে চায়
- অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ১০টি বৈঠক
- খালি ক্লিনরুম কেন বিরোধের কেন্দ্রে
- প্রতিযোগিতা আধুনিকায়নের চাপ বাড়াচ্ছে
- মার্কিন নিয়ন্ত্রণ কীভাবে কোরীয় কোম্পানিকে প্রভাবিত করে
- ট্রেজারি ও অর্থায়ন তৈরি করেছে আরেকটি সিদ্ধান্তের জায়গা
- আলোচনার পেছনের তারিখগুলো
- মূল বিষয়গুলো
সলিডাইমের নির্বাহীরা আগস্টের শেষ দিক থেকে বাণিজ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রায় ১০টি বৈঠক করেছেন। কোম্পানিটি এমন সরঞ্জাম চায়, যা দিয়ে দালিয়ানে আরও বেশি মেমোরি এবং উন্নত পণ্য তৈরি করা যাবে; সেখানকার আয় যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণকাজে অর্থ জোগাতে সহায়তা করবে। বাণিজ্য বিভাগ এখনো এসব চালানের অনুমোদন দেয়নি, তবে আবেদনগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে নাকচও করেনি।
প্রস্তাবিত মার্কিন বিনিয়োগ শেষ পর্যন্ত প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এটি প্রাথমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারের প্রস্তাবের প্রায় ২.২ গুণ, যা সময়ের সঙ্গে প্রকল্পটি কতটা বড় হতে পারে তা দেখায়। উভয় অঙ্কই সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ, অনুমোদিত নির্মাণ বাজেট নয়।
নিউইয়র্ক এখনো সম্ভাব্য গন্তব্য, নিশ্চিত স্থান নয়। প্রকাশ্য বিবরণে অবস্থান নিয়েও অস্পষ্টতা রয়েছে: প্রস্তাবের মূল বিবরণে ম্যাসেনার নাম বলা হয়েছে, অন্য একটি বিবরণে বলা হয়েছে মার্সি। সলিডাইম জানিয়েছে, তারা বিশ্বের বিভিন্ন স্থানের কথা বিবেচনা করছে, তবে নির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেনি। নির্মাণের সময়সূচি বা লাইসেন্স দেওয়ার সিদ্ধান্তের তারিখও ঘোষণা করা হয়নি।
ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্তটি চীনে যন্ত্রপাতি পাঠানো নিয়ে। সলিডাইমের জন্য একই সিদ্ধান্ত প্রভাব ফেলছে যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা তৈরির প্রয়োজনীয় অর্থ কীভাবে আয় করা যাবে, তার ওপর। এই যোগসূত্রে সরঞ্জামের লাইসেন্স নিয়ে আলোচনা যুক্তরাষ্ট্রের দুটি প্রতিদ্বন্দ্বী শিল্প অগ্রাধিকারের পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
সলিডাইম কী তৈরি ও বিক্রি করতে চায়
দক্ষিণ কোরিয়ার এসকে হাইনিক্সের নিয়ন্ত্রণাধীন মার্কিন প্রতিষ্ঠান সলিডাইম ন্যান্ড ফ্ল্যাশ মেমোরি তৈরির দুটি কারখানা নির্মাণের বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। বিদ্যুৎ বন্ধ হলেও ন্যান্ডে তথ্য সংরক্ষিত থাকে। বিভিন্ন যন্ত্রে এবং ডেটা সেন্টারের ভেতরে বিপুল পরিমাণ তথ্য ধারণকারী ড্রাইভে এই মেমোরি ব্যবহৃত হয়।
কোম্পানিটির যুক্তিতে চীনে তাদের বর্তমান কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে সম্ভাব্য সম্প্রসারণের যোগসূত্র রয়েছে। দালিয়ানের কারখানাগুলোতে উৎপাদন বাড়িয়ে আরও প্রতিযোগিতামূলক মেমোরি পণ্য তৈরি করা গেলে নিউইয়র্কে বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় আয় আসতে পারে। ফলে সরঞ্জামের অনুমোদন দিতে ওয়াশিংটনের অনীহা একটি চালু কারখানা এবং প্রস্তাবিত নির্মাণ প্রকল্প, দুটোকেই প্রভাবিত করছে।
চিপ তৈরির জন্য শুধু একটি ভবনই যথেষ্ট নয়। সেমিকন্ডাক্টর ওয়েফারে অত্যন্ত ক্ষুদ্র কাঠামো তৈরি, প্রক্রিয়াজাত ও পরীক্ষা করতে কারখানায় বিশেষায়িত যন্ত্রের প্রয়োজন হয়। চিপ তৈরির জন্য ব্যবহৃত পাতলা চাকতির মতো উপাদানকে ওয়েফার বলা হয়। ভবন প্রস্তুত থাকলেও কাঙ্ক্ষিত পণ্য তৈরির সরঞ্জাম বসাতে না পারলে কারখানাটির বাণিজ্যিক সক্ষমতা সীমিত থাকতে পারে।
অনুমোদন ছাড়াই প্রায় ১০টি বৈঠক
সলিডাইমের সহ-প্রধান নির্বাহী রিচার্ড চিন আগস্টের শেষ দিকে বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং শিল্প ও নিরাপত্তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেফরি কেসলারের সঙ্গে বৈঠক করা নির্বাহীদের মধ্যে ছিলেন। আলোচনার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা বলেছেন, মার্কিন কর্মকর্তারা দেশের ভেতরে বিনিয়োগের প্রস্তাবে গভীর আগ্রহ দেখান এবং সমাধান খুঁজতে আগ্রহের ইঙ্গিত দেন।
পরবর্তী বৈঠকগুলোতে চাওয়া সরঞ্জামের অনুমতি মেলেনি। ৩ নভেম্বরের বিবরণ প্রকাশের আগের সপ্তাহে এক বৈঠকে কেসলার বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়ন বা উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অতিরিক্ত মার্কিন সরঞ্জাম চীনে পাঠানো উচিত নয়। আলোচনার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা এ কথা জানিয়েছেন।
বাণিজ্য বিভাগের অবস্থান গত বছরের সেই ঘোষণার ধারাবাহিকতা, যেখানে বলা হয়েছিল, চীনের সেমিকন্ডাক্টর কারখানায় প্রযুক্তি উন্নয়ন বা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সরঞ্জাম রপ্তানির লাইসেন্স দেওয়ার পরিকল্পনা নেই। এই বিধিনিষেধমূলক নীতির মধ্যেই কোম্পানিটি ওয়াশিংটনের কাছে চালানের অনুমোদন চাইছে।
দুটি পৃথক বিষয়ে আলোচনা চলছে। একদিকে দালিয়ানের উন্নয়নের জন্য চাওয়া যন্ত্রপাতি, অন্যদিকে ২০২৭ সালে বিদ্যমান কারখানার কার্যক্রম চালু রাখতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। কারখানা চালু রাখা এবং আরও উন্নত চিপ তৈরির উপযোগী সরঞ্জাম বসানো মার্কিন লাইসেন্স কর্মকর্তাদের কাছে আলাদা প্রশ্ন, যদিও দুটির ক্ষেত্রেই একই স্থানের কথা বলা হচ্ছে।
খালি ক্লিনরুম কেন বিরোধের কেন্দ্রে
এসকে হাইনিক্সের ভাষ্য, যন্ত্রপাতি বসানোর জন্য দালিয়ানের ক্লিনরুমটি ২০২৩ সালেই তৈরি হয়েছিল। এ ভিত্তিতে কোম্পানিটির যুক্তি, জায়গাটিতে সরঞ্জাম বসানোকে উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ হিসেবে গণ্য করা উচিত নয়।
ক্লিনরুম হলো কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত উৎপাদন এলাকা, যেখানে ধুলা ও অন্যান্য দূষণকারী উপাদানের মাত্রা অত্যন্ত কম রাখা হয়। ক্ষুদ্র কণা চিপে তৈরি হতে থাকা অণুবীক্ষণিক কাঠামোর ক্ষতি করতে পারে। এমন জায়গা তৈরি করা প্রয়োজনীয় একটি ধাপ, কিন্তু সেখানে যন্ত্রপাতি বসালেই সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন সম্ভব হয়।
অতিরিক্ত সরঞ্জাম প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটাবে কি না, কিংবা চীনা কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াবে কি না, সেটিই বাণিজ্য বিভাগের উদ্বেগ। ফলে বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে একটি বাস্তব প্রশ্ন: আগে থেকেই তৈরি ভবনের ভেতরে নতুন উৎপাদন সরঞ্জাম বসালে ওয়াশিংটন সেটিকে কীভাবে শ্রেণিবদ্ধ করবে?
দালিয়ানে পরিকল্পিত প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের কারণে প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এসকে হাইনিক্স ১৯২ স্তরের ন্যান্ড থেকে অন্তত ২৪০ স্তরে উন্নীত হওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছিল। ২১ অক্টোবরের চীনে ন্যান্ড উন্নয়নের পরিকল্পনা প্রতিবেদনে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা হয়েছিল। এতে স্তরের সংখ্যা অন্তত ২৫ শতাংশ বাড়বে।
চিপে আরও বেশি স্টোরেজ রাখার জন্য নির্মাতারা মেমোরি সেলগুলো উল্লম্বভাবে স্তরে স্তরে সাজান। স্তরের সংখ্যা বাড়লে একই পরিমাণ ওয়েফার উৎপাদন থেকে বেশি তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে। এসকে হাইনিক্সের জন্য উন্নত পণ্য প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে সহায়ক, এমনকি কারখানার ভৌত পরিসর একই থাকলেও। এসব উন্নয়ন সম্ভব করবে যে সরঞ্জাম, তা খতিয়ে দেখছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।
প্রতিযোগিতা আধুনিকায়নের চাপ বাড়াচ্ছে
এসকে হাইনিক্সের লাইসেন্স নিয়ে আলোচনা এমন সময়ে চলছে, যখন চীনা প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়াংজি মেমোরি টেকনোলজিস, সংক্ষেপে ওয়াইএমটিসি, এগিয়ে আসছে। অক্টোবরের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত ওমডিয়ার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে চীনের ন্যান্ড বাজারে ওয়াইএমটিসির অংশ ছিল ৩৮.৫ শতাংশ। স্যামসাংয়ের ছিল ৩৩.৫ শতাংশ এবং এসকে হাইনিক্সের ১৭ শতাংশ।
এই বাজারে ওয়াইএমটিসি এসকে হাইনিক্সের চেয়ে ২১.৫ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে ছিল। প্রতিদ্বন্দ্বীরা পণ্য উন্নয়নে কাজ চালিয়ে যাওয়ায় কোরীয় কোম্পানিটি কেন দালিয়ানের কারখানা উন্নত করতে চাইছে, তা এই পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়।
চীনে গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র আধুনিকায়নের চেষ্টা করছে স্যামসাংও। শিয়ানে তাদের কারখানা বৈশ্বিক ন্যান্ড উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ জোগায়। সেখানে ২৮৬ স্তরের মেমোরিতে রূপান্তরের পরিকল্পনার কথা জানা গেছে। আগের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বার্ষিক সরঞ্জাম লাইসেন্স অব্যাহতি ব্যবস্থার জায়গা নেওয়ায় দুই কোরীয় কোম্পানিই ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরামর্শ করে কাজ করছে।
বাণিজ্যিক ও নিয়ন্ত্রক চাপ একই জায়গায় এসে মিলেছে: যন্ত্রপাতিতে প্রবেশাধিকার। এসকে হাইনিক্স চায়, দালিয়ানের কারখানা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার মতো সক্ষম থাকুক, ব্যবসায় অবদান রাখুক এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগে সহায়তা করুক। ওয়াশিংটন চায়, বিদ্যমান চীনা কারখানাগুলো এমন সীমার মধ্যে কাজ করুক, যা প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও সম্প্রসারণে বাধা দেয়।
মার্কিন নিয়ন্ত্রণ কীভাবে কোরীয় কোম্পানিকে প্রভাবিত করে
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ তাদের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণবিষয়ক বিশ্লেষণে বৃহত্তর নীতিকাঠামোর বিবরণ দিয়েছে। গবেষণা প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ২০২২ সালের অক্টোবরে চালু এবং ২০২৩ সালের অক্টোবরে হালনাগাদ করা পদক্ষেপগুলোর লক্ষ্য ছিল উন্নত কম্পিউটিং চিপ এবং সেগুলো তৈরির প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে চীনের প্রবেশাধিকার সীমিত করা।
২০২৪ সালের ২ ডিসেম্বর ঘোষিত আরেকটি প্যাকেজে সেমিকন্ডাক্টর তৈরির সরঞ্জামের ওপর বিধিনিষেধ বিস্তৃত করা হয় এবং উন্নত হাই ব্যান্ডউইডথ মেমোরি বা এইচবিএমের ওপর আরও ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ চালু করা হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ব্যবহৃত প্রসেসরে দ্রুত তথ্য সরবরাহ করে এইচবিএম। দালিয়ান ও নিউইয়র্কের প্রস্তাবের কেন্দ্রে রয়েছে স্টোরেজের কাজে ব্যবহৃত ন্যান্ড।
২০২৪ সালের প্যাকেজে বিদেশি প্রত্যক্ষ পণ্য বিধিও সম্প্রসারিত করা হয়। এই বিধির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে তৈরি নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ক্ষেত্রেও মার্কিন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে পারে, যদি সেগুলো উৎপাদনে নির্দিষ্ট মার্কিন প্রযুক্তি বা সরঞ্জাম ব্যবহৃত হয়। সিএসআইএসের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, এসকে হাইনিক্স ও স্যামসাংয়ের এইচবিএম রপ্তানি এই কাঠামোর আওতায় পড়ে, কারণ চিপগুলো তৈরিতে মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর সরঞ্জাম ব্যবহৃত হয়।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সরঞ্জামের ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের সম্প্রসারিত নিয়ম কার্যকর ছিল, কারণ দেশটির সমতুল্য নিয়ন্ত্রণ ছিল না। ডিসেম্বরের প্যাকেজে চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের ১৪০টি প্রতিষ্ঠানকে ব্যুরো অব ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সিকিউরিটির এনটিটি লিস্টে যুক্ত করা হয়। তালিকাভুক্ত সংস্থাগুলোর ওপর লাইসেন্সসংক্রান্ত বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
তৎকালীন মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী জিনা রাইমন্ডো ২০২৪ সালের ৭ ডিসেম্বর রিগ্যান ন্যাশনাল ডিফেন্স ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় বিকল্প সরবরাহকারী নিয়ে উদ্বেগের কথা ব্যাখ্যা করেন। সিএসআইএসের বিশ্লেষণে উদ্ধৃত তার বক্তব্যে বলা হয়, অন্য সরঞ্জাম উৎপাদনকারী দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা কেন চেয়েছিল ওয়াশিংটন:
আমি যখন নিয়ম তৈরি করি, তখন নিশ্চিত করতে হয় যে চীন যেন জাপান, কোরিয়া বা ইউরোপীয়দের কাছ থেকে এসব জিনিস কিনতে না পারে। এ কারণেই তাদের সঙ্গে কাজ করতে হয়।
এই নীতির কারণে সীমান্ত পেরিয়ে সরঞ্জাম সংগ্রহ করলেও কেন মার্কিন অনুমতির প্রয়োজন হতে পারে, তা বোঝা যায়। নীতিটি কারখানার মালিকের জাতীয়তার কাছে থেমে না থেকে প্রযুক্তি ও উৎপাদনব্যবস্থার ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে।
ট্রেজারি ও অর্থায়ন তৈরি করেছে আরেকটি সিদ্ধান্তের জায়গা
চীনা কারখানার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কেনায় বিদেশে বিনিয়োগসংক্রান্ত বিধিনিষেধ থেকে ছাড় পেতে সলিডাইমের নির্বাহীরা ট্রেজারি বিভাগের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছেন। আলোচনার বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, ট্রেজারি বিভাগ আগে বাণিজ্য বিভাগের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে বলেছে।
দুই বিভাগ লেনদেনের ভিন্ন ভিন্ন দিক দেখছে। সরঞ্জাম রপ্তানির বিষয়টি বাণিজ্য বিভাগের আওতাধীন। প্রস্তাবিত কেনাকাটায় প্রভাব ফেলা বিনিয়োগসংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে ট্রেজারি বিভাগের কাছে আবেদন করা হয়েছে। দুই বিভাগের সঙ্গেই কোম্পানিটির আলোচনায় দেখা যায়, যন্ত্রপাতি পাওয়ার জন্য একটিমাত্র প্রশাসনিক অনুমোদন যথেষ্ট নয়।
এর মধ্যে মূলধন সংগ্রহের আরেকটি সম্ভাব্য পথ স্থগিত করেছে এসকে হাইনিক্স। ২৩ অক্টোবর কোম্পানিটি জানিয়েছে, সলিডাইমকে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত করা এবং প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের আগে বিনিয়োগের বিষয়টি তারা বিবেচনা করা বন্ধ করেছে। সাম্প্রতিক পুঁজিবাজারের পরিস্থিতি ও শেয়ারের দামের ওঠানামাকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও হলো কোনো কোম্পানির প্রথমবারের মতো সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার বিক্রির প্রক্রিয়া। তালিকাভুক্তির আগে বিনিয়োগ করলে আগেই অর্থ পাওয়া যেতে পারে। বিবেচনাধীন ওই পথগুলো আর অনুসরণ না করায় যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা তৈরির অর্থ জোগানোর ঘোষিত পরিকল্পনায় বিদ্যমান ব্যবসা থেকে আসা আয় আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
আলোচনার পেছনের তারিখগুলো
দালিয়ানকে ঘিরে বিরোধে একদিকে রয়েছে কয়েক বছর আগে তৈরি কারখানার জায়গা, অন্যদিকে সাম্প্রতিক বিনিয়োগ আলোচনা এবং পরবর্তী বছরের জন্য সরঞ্জামের আবেদন। গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো হলো:
- ২০২৩: এসকে হাইনিক্সের ভাষ্য অনুযায়ী, উৎপাদন সক্ষমতা নিয়ে বিরোধের কেন্দ্রে থাকা দালিয়ানের ক্লিনরুম তৈরি হয়।
- ২ ডিসেম্বর, ২০২৪: ওয়াশিংটন অতিরিক্ত সরঞ্জাম ও উন্নত এইচবিএম অন্তর্ভুক্ত করে সেমিকন্ডাক্টর রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের বিস্তৃত প্যাকেজ ঘোষণা করে।
- আগস্টের শেষ দিক, ২০২৬: যুক্তরাষ্ট্রে বিনিয়োগ এবং চীনে সরঞ্জাম পাঠানোর আবেদন নিয়ে আলোচনা চলার সময় সলিডাইমের নির্বাহীরা লুটনিক ও কেসলারের সঙ্গে বৈঠক করেন।
- ২১ অক্টোবর, ২০২৬: দালিয়ানে এসকে হাইনিক্সের পরিকল্পিত প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং শিয়ানে স্যামসাংয়ের রূপান্তর প্রকল্পের বিবরণ প্রকাশিত হয়।
- ২৩ অক্টোবর, ২০২৬: তালিকাভুক্তি ও আইপিওর আগে সলিডাইমে বিনিয়োগের বিষয়টি বিবেচনা করা বন্ধ করার ঘোষণা দেয় এসকে হাইনিক্স।
- ৩ নভেম্বর, ২০২৬: সরঞ্জামের লাইসেন্স আটকে থাকা এবং নিউইয়র্কে প্রস্তাবিত কারখানার সঙ্গে এর যোগসূত্র প্রকাশ্যে আসে।
- ২০২৭: দালিয়ানের বিদ্যমান কার্যক্রম চালু রাখার সরঞ্জামের অনুমতি নিয়ে পৃথকভাবে আলোচনা চলছে।
নতুন কারখানা আকর্ষণ করা এবং চীনে উন্নত উৎপাদন সীমিত রাখা, দুটিই ওয়াশিংটনের ঘোষিত লক্ষ্য। সলিডাইমের অর্থায়ন প্রস্তাব এই দুই লক্ষ্যকে সরাসরি যুক্ত করেছে: যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদনকাজের খরচ মেটাতে তারা চীনের কার্যক্রমের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে চায়। এই আবেদন নিষ্পত্তি করতে হলে দালিয়ানে কতটা উন্নয়ন করতে দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে ওয়াশিংটনকে।
মূল বিষয়গুলো
- এসকে হাইনিক্সের দালিয়ান কারখানার সরঞ্জামসংক্রান্ত আবেদনগুলোর অনুমোদন আটকে রেখেছে বাণিজ্য বিভাগ, তবে আনুষ্ঠানিকভাবে নাকচ করেনি।
- সলিডাইম নিউইয়র্কে ন্যান্ড তৈরির দুটি কারখানার কথা বিবেচনা করছে; এর ব্যয় প্রায় ৪৫ বিলিয়ন ডলার, আর দীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।
- যুক্তরাষ্ট্রে নির্মাণকাজের জন্য আয় করতে চীনে উৎপাদন বাড়াতে চায় কোম্পানিটি।
- ২০২৩ সালে তৈরি ক্লিনরুমে সরঞ্জাম বসানোকে উৎপাদন সক্ষমতা সম্প্রসারণ হিসেবে গণ্য করা হবে কি না, তা নিয়ে বিরোধ রয়েছে।
- ২০২৭ সালে দালিয়ানের কার্যক্রম চালু রাখতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের লাইসেন্স নিয়ে পৃথক আলোচনা চলছে।
- কারখানার অবস্থান বা নির্মাণ পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেনি সলিডাইম; এসকে হাইনিক্সও সলিডাইমের আইপিও বিবেচনা স্থগিত করেছে।






