ভুক্তভোগীদের আইনজীবীদের উদ্বোধনী বক্তব্য দিতে হবে ইংরেজিতে
সাবেক ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতের্তের বিচার ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বর দ্য হেগে শুরু হওয়ার কথা। বিচারের উদ্বোধনী বক্তব্যে ভুক্তভোগীদের বয়ান তাগালগ ভাষায় উদ্ধৃত করার আবেদন নাকচ করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। দীর্ঘ বক্তব্যের মধ্যে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য এ আবেদন করা হয়েছিল; প্রতিটি উদ্ধৃতির দৈর্ঘ্য হতো এক বা দুই মিনিট।
সূচিপত্র
- ভুক্তভোগীদের আইনজীবীদের উদ্বোধনী বক্তব্য দিতে হবে ইংরেজিতে
- কেন ভুক্তভোগীদের নিজেদের ভাষায় কথা শোনাতে চেয়েছিলেন মাসিদ্দা
- কেন আবেদনটি নাকচ করল চেম্বার
- ভুক্তভোগীরা কীভাবে বিচার অনুসরণ করবেন
- দুতের্তের বিরুদ্ধে মামলায় কী রয়েছে
- বিচার শুরুর দিন কারা কথা বলবেন
- বড়দিনের আগে পাঁচ সাক্ষী, অনলাইনে প্রায় ২৯ জন
- সময়ের ব্যবধান ও চিকিৎসকদের পরামর্শ কেন গুরুত্বপূর্ণ
- বিচার শুরুর আগের তারিখগুলো
- মূল বিষয়গুলো
২ নভেম্বর ট্রায়াল চেম্বার III-এর পঞ্চম ও শেষ স্ট্যাটাস কনফারেন্সে প্রস্তাবটি নাকচ করেন প্রিসাইডিং বিচারক জোয়ানা কর্নার। ভুক্তভোগীদের জন্য পাবলিক কাউন্সেল কার্যালয়ের প্রধান আইনজীবী পাওলিনা মাসিদ্দা শুধু তখনই তাগালগ ব্যবহারের অনুরোধ করেছিলেন, যখন তিনি ভুক্তভোগীদের আইনজীবীদের কাছে বলা কথা উদ্ধৃত করবেন।
কর্নার আদালতের কার্যকরী ভাষা হিসেবে ইংরেজি ও ফরাসির কথা উল্লেখ করে বক্তব্যটি ইংরেজিতে দিতে নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ব্যাখ্যা-অনুবাদের ব্যবস্থা থাকবে। পাশাপাশি আদালত তার ওয়েবসাইটে তাগালগ অনুবাদ বা প্রতিলিপি সহজলভ্য করার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।
এই সিদ্ধান্ত ভুক্তভোগীদের উদ্বোধনী বক্তব্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। সাক্ষীরা ফিলিপাইনের বিভিন্ন ভাষায় সাক্ষ্য দেবেন কি না, তা নির্দিষ্ট করা হয়নি। ফিলিপাইন থেকে বিচার অনুসরণ করা ভুক্তভোগীদের জন্য তাৎক্ষণিক অর্থ হলো, তাঁদের আইনজীবীরা অভিজ্ঞতার কথা ইংরেজিতে তুলে ধরবেন এবং তাগালগে ব্যাখ্যা-অনুবাদের মাধ্যমে তা বোঝার সুযোগ থাকবে।
ফিলিপাইনের সঙ্গে সাত ঘণ্টার সময়ের ব্যবধানের মধ্যে কীভাবে বিচার পরিচালিত হবে, দুতের্তের বিষয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ কীভাবে মানা হবে এবং দূর থেকে সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে এমন প্রায় ২৯ জন সাক্ষীকে কীভাবে শুনানি নেওয়া হবে, তা নিয়েও সম্মেলনে আলোচনা হয়। বড়দিনের ছুটির আগে পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়ার লক্ষ্য প্রসিকিউটরদের।
কেন ভুক্তভোগীদের নিজেদের ভাষায় কথা শোনাতে চেয়েছিলেন মাসিদ্দা
মাসিদ্দার আবেদনে গুরুত্ব পেয়েছিল ভুক্তভোগীদের সঙ্গে তাঁদের হয়ে কথা বলা আইনজীবীদের সম্পর্ক। তাঁর ভাষ্য, ফিলিপাইন থেকে বিচার দেখার সময় ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতার কিছু অংশ তাঁদের ব্যবহৃত ভাষায় শুনতে পেলে বক্তব্যের সঙ্গে তাঁরা আরও সরাসরি সংযোগ অনুভব করবেন।
চেম্বারকে মাসিদ্দা বলেন, পুরো বক্তব্য তাগালগে দেওয়ার অনুমতি নয়, বরং নির্বাচিত উদ্ধৃতির জন্য অনুমতি চাইছেন তাঁরা:
আমরা এক ঘণ্টা তাগালগে কথা বলার অনুরোধ করছি না। আমাদের অনুরোধ উদ্বোধনী বক্তব্যের সময়টুকু নিয়ে; ভুক্তভোগীরা আমাদের যে বয়ান দিয়েছেন, তার কিছু অংশ উদ্ধৃত করে আমরা কয়েকটি মন্তব্য করব, আর সেগুলো তাগালগে বলতে চাই,
তাঁর হিসাব অনুযায়ী ১৫ থেকে ২০ মিনিটের বক্তব্যটি কয়েকটি ছোট উদ্ধৃতিতে ভাগ করা হতো। ভুক্তভোগীদের দলও বক্তব্যের দৈর্ঘ্য কমানোর কাজ করছিল; কতক্ষণ লাগবে, তা নিয়ে তখনও আলোচনা চলছিল।
ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিদের ভূমিকা প্রসিকিউটর ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের থেকে আলাদা। প্রসিকিউটররা অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা উপস্থাপন করেন; আর ভুক্তভোগীদের আইনজীবীরা অংশগ্রহণকারী ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা ও স্বার্থ বিচারকদের সামনে তুলে ধরেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে একটি আইনি দল চেম্বারকে জানায়, তারা কী উপস্থাপন করতে চায়।
মাসিদ্দার কাছে ওই বক্তব্যের অর্থের পাশাপাশি শব্দচয়নও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তাঁর প্রস্তাব গৃহীত হলে, আদালতের জন্য ব্যাখ্যা-অনুবাদের আগে ভুক্তভোগীরা শুনতে পেতেন তাঁদের হয়ে কথা বলা আইনজীবী সরাসরি তাঁদের বয়ান উদ্ধৃত করছেন।
কেন আবেদনটি নাকচ করল চেম্বার
কর্নার বলেন, আইসিসি প্রতিষ্ঠাকারী চুক্তি রোম সংবিধিতে ইংরেজি ও ফরাসিকে আদালতের কার্যকরী ভাষা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি পক্ষগুলোকে জানান, অন্য কোনো ভাষা ব্যবহারের জন্য ব্যতিক্রমী কারণ দেখাতে হবে।
আদালত একই ধরনের অন্য ভাষার আবেদন মঞ্জুর করলে প্রশাসনিক কাজ ও ব্যয় বাড়তে পারে—প্রস্তাব নাকচের ক্ষেত্রে এ বিষয়টিও তুলে ধরেন বিচারক। সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় কর্নার বলেন:
একটি সমস্যা হলো, আমরা একবার এটি শুরু করলে একের পর এক আবেদন আসতে পারে, আর বিষয়টি অনেক বেশি জটিল ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে,
কর্নার আরও উল্লেখ করেন, কিছু ভুক্তভোগী তাগালগ ছাড়া ফিলিপাইনের অন্য ভাষায় কথা বলেন। তাঁর যুক্তিতে তিনটি বিষয় একত্রে বিবেচনায় এসেছে: আদালতের কার্যকরী ভাষার ব্যবস্থা, অতিরিক্ত আবেদন সামলানোর ব্যয় এবং মামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কথ্য ভাষার বৈচিত্র্য।
আইসিসির নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রমে ইংরেজি ও ফরাসি ব্যবহৃত হয়। অন্য ভাষায় কথা বলা ব্যক্তিরা যাতে কার্যক্রম অনুসরণ বা তাতে অংশ নিতে পারেন, সে জন্য ব্যাখ্যা-অনুবাদের ব্যবস্থা রয়েছে। এই উদ্বোধনী বক্তব্যের ক্ষেত্রে চেম্বারের নির্দেশ ছিল ইংরেজি ব্যবহার করা।
ভুক্তভোগীরা কীভাবে বিচার অনুসরণ করবেন
কর্নার বলেন, আদালতে দেওয়া বক্তব্য তাগালগে ব্যাখ্যা-অনুবাদ করা হবে। আদালতের ওয়েবসাইটে তাগালগ অনুবাদ বা প্রতিলিপি দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে আইসিসি রেজিস্ট্রির সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলেও জানান তিনি।
বিচার পরিচালনা ও কার্যক্রমে সহায়তাকারী পরিষেবার দায়িত্বে রয়েছে রেজিস্ট্রি। প্রতিলিপি পাঠকদের বক্তব্যের লিখিত রেকর্ড দেবে, আর শুনানি চলার সময় ব্যাখ্যা-অনুবাদ শ্রোতাদের বক্তৃতা অনুসরণে সহায়তা করবে। অনলাইনে প্রস্তাবিত লেখাটি থাকলে ভুক্তভোগীরা শুনানির পর বক্তব্যের অংশগুলো আবার দেখতে পারবেন।
ব্যাখ্যা-অনুবাদের ব্যবস্থা থাকবে বলে স্বীকার করেন মাসিদ্দা। তাঁর আবেদন ছিল, চেম্বারের প্রয়োজনীয় ভাষাসেবার পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের নিজেদের প্রতিনিধি তাঁদের কথা তাগালগে বলুন।
তাগালগ ও সেবুয়ানো ভাষার অনুবাদক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিও দিয়েছিল আইসিসি। তাঁদের প্যারাপ্রফেশনাল দোভাষী ও সহযোগী আদালত-দোভাষী হিসেবে কাজ করার কথা। ভাষার এই প্রসঙ্গে সেবুয়ানোও প্রাসঙ্গিক, কারণ অংশগ্রহণকারী সব ভুক্তভোগী তাগালগে কথা বলেন না।
বাস্তব চ্যালেঞ্জটি শুধু আইনি যুক্তি অনুবাদে সীমাবদ্ধ নয়। ভুক্তভোগীদের বর্ণিত অভিজ্ঞতা চিনতে, শুনানিতে কী ঘটছে বুঝতে এবং নিজেদের বাড়ি থেকে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে চলা মামলার অগ্রগতি অনুসরণ করতে হয়।
দুতের্তের বিরুদ্ধে মামলায় কী রয়েছে
মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগে—হত্যা ও হত্যাচেষ্টাসহ—মুখোমুখি হচ্ছেন দুতের্তে। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে অন্তত ৭৬টি হত্যাকাণ্ডে তিনি জড়িত ছিলেন। ওই সময়কালে তিনি দাভাও সিটির মেয়র এবং ফিলিপাইনের প্রেসিডেন্ট—দুই দায়িত্বেই ছিলেন।
অভিযোগগুলো তিনটি সময়কাল ও অভিযানভিত্তিক দলে ভাগ করা হয়েছে:
- ২০১৩ থেকে জুন ২০১৬ পর্যন্ত দাভাও সিটিতে হত্যাকাণ্ড।
- জুলাই ২০১৬ থেকে জুলাই ২০১৭ পর্যন্ত দেশজুড়ে উচ্চঝুঁকির লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত ব্যক্তিদের হত্যা।
- জুলাই ২০১৬ থেকে সেপ্টেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত বারাঙ্গাই ক্লিয়ারেন্স অভিযানে হত্যাকাণ্ড।
বারাঙ্গাই ফিলিপাইনের স্থানীয় প্রশাসনিক একক। প্রসিকিউশনের মামলায় কোন স্থান, সময়কাল ও অভিযানের বিষয় রয়েছে, তা এসব শ্রেণিতে চিহ্নিত করা হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধ বলতে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ব্যাপক বা পদ্ধতিগত হামলার অংশ হিসেবে সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ করা অপরাধকে বোঝায়। বিচারে প্রসিকিউটরদের অভিযোগের সমর্থনে প্রমাণ উপস্থাপন করতে হবে। দুতের্তের পক্ষ সেই প্রমাণ চ্যালেঞ্জ করতে এবং নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরতে পারবে। অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা বিচারকেরা নির্ধারণ করবেন।
বিচার শুরুর দিন কারা কথা বলবেন
৩০ নভেম্বর প্রসিকিউটররা প্রথম উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে; এরপর বক্তব্য দেবেন ভুক্তভোগীদের প্রতিনিধিরা। দুতের্তের প্রধান আইনজীবী পিটার হেইন্স বলেন, শুরুতে আসামিপক্ষের বক্তব্য দেওয়ার কথাও তিনি বিবেচনা করছেন।
আসামিপক্ষকে নিজেদের অবস্থানের একটি রূপরেখা জনসাধারণ ও বিচারকদের সামনে তুলে ধরার কথা বিবেচনা করতে বলে চেম্বার। হেইন্স জানান, পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে আইনি দল এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
সম্মেলনে নিজের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে হেইন্স বলেন:
মামলার শুরুতে কিছু বলার দিকেই আমার ঝোঁক। পরবর্তী কয়েক দিনের মধ্যে আমরা অবশ্যই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব,
প্রসিকিউশনের উদ্বোধনী বক্তব্যের আগের হিসাব ছিল চার থেকে ছয় ঘণ্টা। তা কমিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা বা তারও কম করার কথা হচ্ছিল। ভুক্তভোগীদের বক্তব্যের দৈর্ঘ্য নিয়েও হিসাব এক ছিল না: এক হিসাবে এক ঘণ্টার বেশি, অন্য সময়সূচির হিসাবে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরা হয়েছিল। মাসিদ্দা বলেন, তাঁর দল বক্তব্যের দৈর্ঘ্য পর্যালোচনা করছে।
এসব পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিরতি ও দুতের্তের উপস্থিতির ব্যবস্থা মিলিয়ে শুনানির সময় সীমিত। বক্তব্য সংক্ষিপ্ত হলে মামলার রূপরেখা তুলে ধরা থেকে প্রমাণ শোনার পর্যায়ে চেম্বার দ্রুত যেতে পারবে।
বড়দিনের আগে পাঁচ সাক্ষী, অনলাইনে প্রায় ২৯ জন
বড়দিনের ছুটির আগে প্রমাণের প্রথম ধাপে পাঁচজন সাক্ষীকে হাজির করার পরিকল্পনা প্রসিকিউটরদের। তাঁদের হিসাবে প্রথম সাক্ষীর জন্য ছয় ঘণ্টা, পরের দুজনের জন্য কম সময় এবং শেষ দুজনের প্রত্যেকের জন্য চার ঘণ্টা রাখা হয়েছিল।
সিনিয়র ট্রায়াল আইনজীবী জুলিয়ান নিকোলস চেম্বারকে জানান, ফিলিপাইন থেকে অডিও-ভিডিও সংযোগে প্রায় ২৯ জন সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। দূর থেকে সাক্ষ্য দেওয়ার সুযোগ থাকলে তাঁদের নেদারল্যান্ডসে যেতে হবে না।
যেখানে সম্ভব, দূর থেকে অংশ নেওয়া সাক্ষীদের আগে সশরীরে হাজির হওয়া সাক্ষীদের অগ্রাধিকার দিতে প্রসিকিউটরদের বলেন কর্নার। এ ক্রমে ফিলিপাইনের সঙ্গে সমন্বয়ের প্রয়োজন হবে এমন শুনানিগুলো দ্য হেগে সম্পূর্ণভাবে পরিচালিত শুনানি থেকে আলাদা করতেও আদালতের সুবিধা হবে।
প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য প্রসিকিউটরদের ১৫০ ঘণ্টা সময় দেন বিচারকেরা; সাক্ষীদের মধ্যে সময় ভাগ করার ক্ষেত্রে নমনীয়তাও থাকবে। নভেম্বর শেষ হওয়ার আগে বিধি ৬৮-এর অধীনে আরও সাতটি আবেদন করার পরিকল্পনা ছিল প্রসিকিউশনের। নির্দিষ্ট শর্ত ও চেম্বারের সিদ্ধান্ত সাপেক্ষে আগে ধারণ করা সাক্ষ্য ব্যবহারের বিষয়টি এই বিধিতে রয়েছে।
আসামিপক্ষ একজন পরিসংখ্যানবিদ ও একজন পুলিশি কার্যক্রম বিশেষজ্ঞসহ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করেছে। দুই পক্ষের বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ তুলনা করতে চেম্বারের সুবিধার জন্য তাঁদের সাক্ষ্য কাছাকাছি সময়ে শোনার পক্ষে ছিলেন বিচারকেরা। সম্মত তথ্য, আসামিপক্ষকে সহায়তা করতে পারে এমন প্রমাণ প্রকাশ এবং সাক্ষীদের সুরক্ষার ব্যবস্থাও নিয়ে আলোচনা করছিল আইনি দলগুলো।
সময়ের ব্যবধান ও চিকিৎসকদের পরামর্শ কেন গুরুত্বপূর্ণ
প্রমাণ উপস্থাপনের প্রথম ধাপে আলোচিত নিয়মিত শুনানির সময়সূচি দ্য হেগের সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা, যা নভেম্বরে ফিলিপাইনের সময় বিকেল ৫টা থেকে রাত ১১টার সমতুল্য। এর মধ্যে আদালতের অধিবেশন চার ঘণ্টা, ৩০ মিনিটের দুটি বিরতি এবং এক ঘণ্টার মধ্যাহ্নভোজের বিরতি রয়েছে।
দুতের্তেকে একটানা এক ঘণ্টার বেশি বসে না রাখার চিকিৎসা-পরামর্শের ভিত্তিতে সংক্ষিপ্ত অধিবেশন ও নিয়মিত বিরতির ব্যবস্থা গ্রহণ করে চেম্বার। এই সময়সূচিতে তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শের সুযোগও রাখা হয়েছে।
ফিলিপাইন থেকে যুক্ত হওয়া সাক্ষীদের ক্ষেত্রে রাত ১১টায় শেষ হওয়া শুনানি মানে গভীর সন্ধ্যা পর্যন্ত সাক্ষ্য দেওয়া। আগে শেষ করার সুযোগ রাখতে দ্য হেগে কিছু শুনানি সকাল ৮টায়, অর্থাৎ ফিলিপাইনে বিকেল ৩টায় শুরু করার প্রস্তাব দেন আইসিসির বিচারিক পরিষেবা বিভাগের পরিচালক মার্ক দুবুইসন।
আরেকটি বাস্তব সমস্যার কথা তোলেন হেইন্স: আগে শুনানি শুরু করতে দুতের্তেকে স্কেভেনিংগেন আটককেন্দ্র থেকে আদালতে আনা। এ যাতায়াতের ব্যবস্থা কতটা বাস্তবসম্মত হবে, সে বিষয়ে তাঁকে নির্দেশনা দেওয়া হয়নি বলে চেম্বারকে জানান তিনি।
কর্নার বলেন, প্রয়োজনীয় সমন্বয় করবে সংশ্লিষ্ট পরিচালন ইউনিটগুলো। সময়সূচি নিয়ে আলোচনায় দেখা যায়, আগে শুনানি শুরু হলে একসঙ্গে একাধিক পক্ষের ওপর প্রভাব পড়ে: ফিলিপাইনের সাক্ষী, আটক আসামি, আইনজীবী এবং আদালতকক্ষ পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কর্মীরা।
বিচার শুরুর আগের তারিখগুলো
শুনানি সংক্ষিপ্ত হবে বলে আসামিপক্ষের অনুরোধ মঞ্জুর করে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়ায় ২ নভেম্বরের সম্মেলনে ছিলেন না দুতের্তে। তৃতীয় ও চতুর্থ স্ট্যাটাস কনফারেন্সে তিনি উপস্থিত ছিলেন।
কর্নার বলেন, ওই সম্মেলনে উপস্থিত না থাকার ব্যতিক্রমের সঙ্গে বিচার শুরু হলে প্রতিদিন উপস্থিত থাকার প্রত্যাশাও যুক্ত ছিল। উদ্বোধনী বক্তব্য, প্রথম সাক্ষী এবং পরবর্তী বছরের সময়সূচিই এখন আদালতের তাৎক্ষণিক প্রস্তুতির মূল বিষয়।
- ১৬ সেপ্টেম্বর ও ১৩ অক্টোবর, ২০২৬: আগের স্ট্যাটাস কনফারেন্সগুলোতে উপস্থিত ছিলেন দুতের্তে।
- ২ নভেম্বর, ২০২৬: ট্রায়াল চেম্বার III-এর পঞ্চম ও শেষ স্ট্যাটাস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয় এবং ভুক্তভোগীদের উদ্বোধনী বক্তব্যে তাগালগ অংশ রাখার আবেদন নাকচ করা হয়।
- নভেম্বরের শেষ হওয়ার আগে: বিধি ৬৮-এর অধীনে আরও সাতটি আবেদন করার পরিকল্পনা ছিল প্রসিকিউটরদের।
- ৩০ নভেম্বর: দ্য হেগে বিচার শুরু হওয়ার কথা।
- বড়দিনের ছুটির আগে: পাঁচজন সাক্ষীকে হাজির করার লক্ষ্য প্রসিকিউটরদের।
- ১১ জানুয়ারি থেকে ২৬ মার্চ, ২০২৭: বিরতিসহ তিন ধাপে শুনানির প্রস্তাব দিয়েছে পক্ষগুলো।
২০২৭ সালের প্রস্তাবিত তিন ধাপ হলো ১১ থেকে ২৯ জানুয়ারি, ৮ থেকে ১৯ ফেব্রুয়ারি এবং ৮ থেকে ২৬ মার্চ। মাঝের বিরতিগুলো হবে ১ থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি এবং ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ।
২ নভেম্বরের সিদ্ধান্তে ভুক্তভোগী, সাক্ষী ও আইনজীবীরা কার্যক্রম কীভাবে শুরু হবে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পেয়েছেন। ভুক্তভোগীদের আইনজীবীরা ব্যাখ্যা-অনুবাদের ব্যবস্থা রেখে ইংরেজিতে বক্তব্য দেবেন, প্রসিকিউটররা তাঁদের মামলা উপস্থাপন শুরু করবেন এবং ফিলিপাইন থেকে অংশগ্রহণ ও দুতের্তের উপস্থিতির কথা বিবেচনায় নিয়ে আদালত সময়সূচি সমন্বয় করবে।
মূল বিষয়গুলো
- ভুক্তভোগীদের আইনজীবীদের উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রায় ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভুক্তভোগীদের বয়ান তাগালগে উদ্ধৃত করার আবেদন নাকচ করেছে আইসিসি।
- কার্যকরী ভাষার নিয়ম, প্রশাসনিক প্রয়োজন ও ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে উদ্বোধনী বক্তব্য ইংরেজিতে দিতে নির্দেশ দিয়েছে চেম্বার।
- তাগালগে ব্যাখ্যা-অনুবাদ থাকবে এবং অনলাইনে অনুবাদ বা প্রতিলিপি দেওয়ার বিষয়টি খতিয়ে দেখবে আদালত।
- মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগে দুতের্তের বিচার ২০২৬ সালের ৩০ নভেম্বর শুরু হওয়ার কথা।
- বড়দিনের আগে পাঁচজন সাক্ষীকে হাজির করার লক্ষ্য প্রসিকিউটরদের; ফিলিপাইন থেকে দূরবর্তী পদ্ধতিতে প্রায় ২৯ জন সাক্ষ্য দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
- চিকিৎসকদের পরামর্শের ভিত্তিতে শুনানির সময়সূচিতে নিয়মিত বিরতি রয়েছে; দূরবর্তী সাক্ষ্যের জন্য আগেভাগে শুনানি শুরুর বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে।






