শিশুদের আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার
ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বন ও ভূমিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত সাতটি প্রদেশের ৬৩টি জেলা ও শহরে তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত ৪০১,৫৮৬ জনের তথ্য নথিভুক্ত করেছে। তাদের প্রায় ৪৫ শতাংশের বয়স নয় বছর বা তার কম। ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর পশ্চিম ইন্দোনেশিয়া সময় বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা এই পর্যায়ে পৌঁছায়। সেদিন নতুন করে আরও ৩,৯০৬ জন আক্রান্ত হন।
সূচিপত্র
- শিশুদের আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার
- যেভাবে বাড়ল স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতি
- সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা?
- মধ্য কালিমান্তানের দুটি এলাকায় বিপজ্জনক বায়ু
- প্রাদেশিক প্রবণতার পাশাপাশি স্থানীয় নজরদারি কেন জরুরি
- অক্সিজেন ও চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার
- লাখ লাখ মাস্ক ও বিস্তৃত সেবাব্যবস্থা
- গ্রামে আশ্রয়কক্ষ ও ভ্রাম্যমাণ সেবার দাবি
- স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি আগুন নেভানোর কাজ চলছে
- মূল বিষয়গুলো
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র উইদিয়াওয়াতি ৪ নভেম্বর পূর্ব জাকার্তার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা—বিএনপিবি—কার্যালয়ে এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। সুমাত্রা ও কালিমান্তানের কিছু এলাকায় স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী আগুনের ধোঁয়ায় সেখানকার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং ক্লিনিক, হাসপাতাল ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রীর ওপর টানা চাপ বাড়ছে।
৩ নভেম্বর কোটাওয়ারিঙ্গিন তিমুর ও পালাংকা রায়ায় বায়ুর মান বিপজ্জনক পর্যায়ে ছিল। কয়েকটি প্রদেশে আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও পূর্ব কালিমান্তানে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বাড়ছিল। উইদিয়াওয়াতি এই প্রদেশটি নিয়ে বিশেষ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
সরকার প্রায় ৩৮ লাখ মাস্ক বিতরণ করেছে এবং অক্সিজেন সরঞ্জাম, চিকিৎসাকর্মী ও রেফারেল হাসপাতালের ব্যবস্থা করেছে। পরে এক আইনপ্রণেতা আরও ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা এবং গ্রামে ধোঁয়া থেকে সুরক্ষিত কক্ষ তৈরির আহ্বান জানান। এতে চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে দূরে বসবাসকারী কিংবা বাইরে কাজ করা এড়াতে না পারা মানুষের দুর্ভোগ সামনে এসেছে।
যেভাবে বাড়ল স্বাস্থ্যগত জরুরি পরিস্থিতি
এর আগে ১৮ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ছয়টি প্রদেশের ৬৩টি ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বের্তন পাঞ্জাইতান জানান, এই সংখ্যার মধ্যে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু ছিল ৪০,৩৬৩ জন।
২ নভেম্বর পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা সেপ্টেম্বরের হিসাবের তুলনায় প্রায় ২ লাখ ২৬ হাজার ৫৮৬ বেড়েছে, অর্থাৎ প্রায় ১২৯ শতাংশ। পর্যবেক্ষণের আওতাও ছয়টি থেকে বেড়ে সাতটি প্রদেশে পৌঁছেছে। মোট সংখ্যা তুলনা করার সময় এই পরিবর্তনটি গুরুত্বপূর্ণ: পরের হিসাবটি বেশি সংখ্যক প্রদেশের পাশাপাশি অসুস্থতার আরও কয়েক সপ্তাহের তথ্যও অন্তর্ভুক্ত করেছে।
আগুন নেভানোর কাজ, স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং আরও সুরক্ষার দাবি কীভাবে এগিয়েছে, তা প্রধান তারিখগুলোতে দেখা যায়:
- জুন ২০২৬ থেকে: শুষ্ক আবহাওয়ায় সুমাত্রা ও কালিমান্তানের বিভিন্ন স্থানে আগুন বেড়ে যায়।
- ১৮ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর: ছয়টি প্রদেশে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষের তথ্য নথিভুক্ত করে মন্ত্রণালয়।
- ২ নভেম্বর, বিকেল ৪টা: সাতটি প্রদেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ায় ৪০১,৫৮৬ জনে।
- ৩ নভেম্বর, সকাল ৯টা: বায়ু পর্যবেক্ষণে দুটি জেলা বা শহরকে বিপজ্জনক এবং আরও ১৫টিকে অস্বাস্থ্যকর হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়।
- ৪ নভেম্বর: স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যান ও মোকাবিলার পদক্ষেপ ঘোষণা করেন উইদিয়াওয়াতি।
- ৫ নভেম্বর: চিকিৎসাসেবা জোরদার ও ধোঁয়া থেকে সুরক্ষার আহ্বান জানান আইনপ্রণেতা আসেপ রোমি রোমায়া।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে কারা?
শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৯১,৯১৩। ছয় থেকে নয় বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে আক্রান্ত হয় আরও ৮৭,৭০৪ জন। দুই বয়সশ্রেণি মিলিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১,৭৯,৬১৭, যা মন্ত্রণালয়ের নথিভুক্ত মোট আক্রান্তের প্রায় ৪৪.৭ শতাংশ।
৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৬,০৯২। এই সংখ্যা নয় বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের আক্রান্তের সংখ্যার সঙ্গে যোগ করলে মোট দাঁড়ায় ২,৩৫,৭০৯, যা নথিভুক্ত মোট সংক্রমণের প্রায় ৫৮.৭ শতাংশ। এ পরিসংখ্যান থেকে বোঝা যায়, স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা কেন ছোট শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ নজর দিচ্ছেন।
বিশেষ পর্যবেক্ষণের জন্য মন্ত্রণালয় ৫৯০ জন গর্ভবতী নারী, হাঁপানিতে আক্রান্ত ১,৫৩০ জন এবং বাইরে কাজ করেন এমন ৮,০৮৬ জনকে চিহ্নিত করেছে। এই শ্রেণিগুলোতে এমন মানুষ রয়েছেন, যাদের ধোঁয়ার সংস্পর্শ বা স্বাস্থ্যগত অবস্থার কারণে বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন। তবে হাঁপানিতে আক্রান্তের আরেকটি পরস্পরবিরোধী সংখ্যা—৩,৫৩০—প্রকাশ করা হয়েছিল; মন্ত্রণালয় এ পার্থক্যের ব্যাখ্যা দেয়নি।
বাইরে কাজ করা মানুষের জন্য বাস্তব সমস্যাটি হলো, ধোঁয়া এড়াতে গেলে জীবিকা অর্জনের জায়গা ছেড়ে যেতে হতে পারে। হাঁপানিতে আক্রান্তদের শ্বাসনালি আগে থেকেই প্রদাহ ও সংকোচনের ঝুঁকিতে থাকে, তাই দূষিত বায়ু তাদের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ। গর্ভবতী নারী, ছোট শিশু ও বয়স্করাও মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষামূলক উদ্যোগে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছেন।
সেপ্টেম্বরের আগের হিসাবটিতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের একটি শ্রেণি হিসেবে দেখানো হয়েছিল। নভেম্বরের পরিসংখ্যানে বয়স উল্লেখ করা হয়েছে শূন্য থেকে পাঁচ বছর। তাই দুই সময়ের এই বয়সশ্রেণির মধ্যে আক্রান্তের সুনির্দিষ্ট বৃদ্ধির হার হিসাব করার চেয়ে উভয় সময়ে ছোট শিশুদের ওপর বড় ধরনের প্রভাবের বিষয়টিই স্পষ্টভাবে তুলনা করা যায়।
মধ্য কালিমান্তানের দুটি এলাকায় বিপজ্জনক বায়ু
ইন্দোনেশিয়ার বায়ুদূষণ মান সূচক—আইএসপিইউ—অনুযায়ী, ৩ নভেম্বর সকাল ৯টায় কোটাওয়ারিঙ্গিন তিমুর জেলায় পিএম২.৫ সূচক ছিল ৫৮০ এবং পালাংকা রায়ায় ছিল ৩৪৮। উভয় এলাকাকে বিপজ্জনক হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। আরও ১৫টি জেলা ও শহরের বায়ু ছিল অস্বাস্থ্যকর।
পিএম২.৫ বলতে বাতাসে ভাসমান ২.৫ মাইক্রোমিটার বা তার চেয়ে ছোট সূক্ষ্ম কণাকে বোঝায়। কণাগুলো এত ছোট যে ফুসফুসের গভীরে পৌঁছাতে পারে। আইএসপিইউর মাধ্যমে প্রকাশিত সংখ্যাগুলো সূচকভিত্তিক পাঠ, যা দূষণের পরিমাপকে স্বাস্থ্যঝুঁকির মাত্রা বোঝানো বিভিন্ন শ্রেণিতে রূপান্তর করে।
২ নভেম্বর সকালে পূর্ব কালিমান্তানের পশ্চিম কুতাই জেলায় পিএম২.৫ সূচক ছিল ১৬৪, অর্থাৎ অস্বাস্থ্যকর। এ স্থানীয় পরিমাপটি সেই প্রদেশে দূষণের একটি সুনির্দিষ্ট চিত্র দেয়, যেখানে শ্বাসতন্ত্রের অসুস্থতা বাড়তে থাকায় কর্মকর্তারা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন ছিলেন।
এই পরিমাপগুলো নির্দিষ্ট স্থান ও সময়ের পরিস্থিতি তুলে ধরে। বাইরে নিরাপদে সময় কাটানো যাবে কি না, তা বিবেচনা করার সময় স্থানীয় বায়ুর মানের শ্রেণি প্রাসঙ্গিক থাকে—এমনকি বৃহত্তর প্রদেশে সংক্রমণের সংখ্যা কমতে শুরু করলেও।
প্রাদেশিক প্রবণতার পাশাপাশি স্থানীয় নজরদারি কেন জরুরি
৪ নভেম্বরের ব্রিফিংয়ে উইদিয়াওয়াতি জানান, মধ্য কালিমান্তান, দক্ষিণ সুমাত্রা ও রিয়াউয়ে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের প্রবণতা কমছিল। পূর্ব কালিমান্তান ও পশ্চিম কালিমান্তানে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছিল বলে জানানো হয়। তবে ব্রিফিংয়ের আরেকটি পরস্পরবিরোধী বিবরণে পশ্চিম কালিমান্তানকে আক্রান্তের সংখ্যা কমতে থাকা প্রদেশগুলোর মধ্যে রাখা হয়েছিল। পূর্ব কালিমান্তানের পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার বিষয়টি ধারাবাহিকভাবে উল্লেখ করা হয়।
পূর্ব কালিমান্তানের স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রগুলোতে আরও নিবিড় নজরদারি ও প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান উইদিয়াওয়াতি। মধ্য কালিমান্তান দেখায়, স্বাস্থ্যসংক্রান্ত বিভিন্ন সূচক ভিন্ন সময়ে ভিন্ন দিকে যেতে পারে: সেখানে সংক্রমণের প্রবণতা কমলেও কোটাওয়ারিঙ্গিন তিমুর ও পালাংকা রায়ায় বায়ু তখনও বিপজ্জনক ছিল।
কয়েকটি এলাকার দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যাও জানানো হয়েছিল। রিয়াউয়ে এক দিনে আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ প্রায় ২৩ জন, পশ্চিম কালিমান্তানে সর্বোচ্চ ছয়জন এবং দক্ষিণ কালিমান্তানের স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রগুলোতে দিনে শূন্য থেকে চারজন ছিল। দেশজুড়ে সেদিন নতুন করে ৩,৯০৬ জন আক্রান্ত হওয়ার হিসাবের সঙ্গে এই ছোট স্থানীয় সংখ্যাগুলোর প্রতিবেদনের আওতা উল্লেখ করা হয়নি।
পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমের আওতায় দক্ষিণ কালিমান্তানের বানজারবারু, রিয়াউয়ের পেকানবারু এবং পশ্চিম কালিমান্তানের পোন্তিয়ানাককে জনবহুল এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। জনবহুল শহরাঞ্চল ও অন্যান্য স্থানে পরিস্থিতির অবনতির কারণে সেবার প্রয়োজনও ভিন্ন। স্থানীয় পরিস্থিতি অনুযায়ী চিকিৎসাসামগ্রী ও কর্মী পাঠানো প্রয়োজন।
অক্সিজেন ও চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার
শ্বাসকষ্টে ভোগা রোগীদের সহায়তায় রিয়াউয়ে ১০টি অক্সিজেনকেন্দ্র চালু হয়েছে। উইদিয়াওয়াতি বলেন, মন্ত্রণালয়ের উদ্বেগ শুধু কেন্দ্রের সংখ্যা নিয়ে নয়, যাদের চিকিৎসা দরকার তারা সেখানে পৌঁছাতে পারছেন কি না, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হিসেবে উইদিয়াওয়াতি সেবায় প্রবেশাধিকারের বিষয়টিকে মোকাবিলার একটি কেন্দ্রীয় অংশ হিসেবে তুলে ধরেন:
"আমাদের উদ্বেগ শুধু অক্সিজেনকেন্দ্রের সহজলভ্যতা নিয়ে নয়; যাদের অক্সিজেন সহায়তা দরকার, বিশেষ করে শ্বাসকষ্টে ভোগা মানুষ, তারা যেন সহজে তা পেতে পারেন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে," তিনি বলেন।
তীব্র শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ বলতে শ্বাসনালিকে আক্রান্ত করে এমন সংক্রমণের একটি বিস্তৃত ধরনকে বোঝায়। ইংরেজিতে একে প্রায়ই এআরআই এবং ইন্দোনেশীয় ভাষায় আইএসপিএ বলা হয়। ধোঁয়া শ্বাসনালিতে জ্বালা সৃষ্টি করতে পারে এবং আগে থেকে থাকা শ্বাসকষ্ট বাড়িয়ে দিতে পারে। নিউমোনিয়া ফুসফুসের সংক্রমণ, যার জন্য আরও নিবিড় চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
কিছু এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও গুরুতর অসুস্থতার দিকে নজর কমানো উচিত নয় বলে সতর্ক করেন উইদিয়াওয়াতি। তিনি বিশেষভাবে ছোট শিশু, বয়স্ক এবং অন্য স্বাস্থ্যগত সমস্যায় আক্রান্তদের যত্নের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন:
"আমাদের সতর্কতা কমালে চলবে না। নিউমোনিয়া একটি গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যা, যার জন্য চিকিৎসা প্রয়োজন। বিশেষ করে ছোট শিশু, বয়স্ক এবং সহ-রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ গোষ্ঠীর ক্ষেত্রে," তিনি বলেন।
লাখ লাখ মাস্ক ও বিস্তৃত সেবাব্যবস্থা
দক্ষিণ কালিমান্তান, মধ্য কালিমান্তান, পশ্চিম কালিমান্তান, পূর্ব কালিমান্তান, জাম্বি, রিয়াউ ও দক্ষিণ সুমাত্রায় প্রায় ৩৮ লাখ মাস্ক বিতরণ করেছে মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের সর্বশেষ ভৌগোলিক লক্ষ্য এই সাতটি প্রদেশ।
অন্যান্য সহায়তার মধ্যে রয়েছে ২৮০টি অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, ৯৩৯টি অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং ৪১ হাজার জোড়া চিকিৎসা গ্লাভস। কনসেনট্রেটর আশপাশের বাতাস টেনে নিয়ে বেশি ঘনত্বের অক্সিজেন সরবরাহ করে, আর সিলিন্ডারে অক্সিজেন মজুত থাকে। রোগীদের বাড়তি অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে দুটিই চিকিৎসায় সহায়তা করতে পারে।
মন্ত্রণালয় সুরক্ষাসামগ্রী, বায়ু পরিশোধক, ওষুধ, ভিটামিন, পুষ্টিকর খাবার এবং অন্যান্য চিকিৎসাসামগ্রীও পাঠিয়েছে। উইদিয়াওয়াতি জানান, প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রের প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা বরাদ্দ করা হয়েছে। বেশি ঝুঁকি ও চিকিৎসার চাহিদা রয়েছে এমন এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তুত সেবাব্যবস্থায় রয়েছে ১,৬৯১টি কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৩৬০টি রেফারেল হাসপাতাল, ৮৭টি জনস্বাস্থ্য গবেষণাগার এবং ১১৯ নম্বরের জননিরাপত্তা কেন্দ্র সেবা। চিকিৎসক, নার্স, ধাত্রী, ফার্মাসিস্ট, পুষ্টিবিদ এবং অ্যাম্বুলেন্সচালকদের এই কার্যক্রমে যুক্ত করা হয়েছে।
বাসিন্দাদের জন্য এই সেবাব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করে প্রাথমিক যোগাযোগ থেকে চিকিৎসা পাওয়া পর্যন্ত পথটির ওপর: কাছের সেবাকেন্দ্র খুঁজে পাওয়া, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং প্রয়োজন হলে হাসপাতালে পৌঁছানো। পরিসংখ্যান বড় ধরনের সাড়াদান কার্যক্রমের চিত্র তুলে ধরে, আর ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসার দাবিগুলো এমন জনগোষ্ঠীর দিকে নজর দেয়, যাদের এসব কেন্দ্রে সহজে পৌঁছানো কঠিন।
গ্রামে আশ্রয়কক্ষ ও ভ্রাম্যমাণ সেবার দাবি
ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধি পরিষদের নবম কমিশনের ন্যাশনাল অ্যাওয়েকেনিং পার্টির সদস্য আসেপ রোমি রোমায়া ৫ নভেম্বর ধোঁয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য সেবা জোরদার করতে মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান। তার দাবির মধ্যে ছিল ওষুধ, রেসপিরেটর মাস্ক, অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসাকর্মী নিশ্চিত করা।
দূরবর্তী এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ও ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান আসেপ। বিশেষ করে যেসব স্থানে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ তখনও বাড়ছিল, সেসব এলাকায় এ সেবা জোরদারের কথা বলেন তিনি। চিকিৎসক দলকে বাসিন্দাদের কাছাকাছি নিয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠী ও প্রতিষ্ঠিত স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রগুলোর মধ্যকার দূরত্ব কমবে।
বাইরে কাজ করা কর্মী ও কাছাকাছি বসবাসকারীদের জন্য বিনা মূল্যে এবং সমানভাবে রেসপিরেটর মাস্ক বিতরণেরও আহ্বান জানান তিনি। রেসপিরেটর সূক্ষ্ম বায়ুবাহিত কণা ছেঁকে ফেলার জন্য তৈরি। আসেপ এই ধরনের সুরক্ষাসামগ্রী সরবরাহের অনুরোধ করেন। তবে মন্ত্রণালয়ের ঘোষণায় ৩৮ লাখ মাস্ক বিতরণের কথা বলা হলেও সেগুলোর ধরন নির্দিষ্ট করা হয়নি।
গ্রাম ও পাড়ার কর্তৃপক্ষকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ও বায়ু পরিশোধকযুক্ত কক্ষ প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানান আসেপ, যাতে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দারা সেখানে আশ্রয় নিতে পারেন। ধোঁয়া ঘন হলে হাঁপানিতে আক্রান্ত ব্যক্তি ও বয়স্করা এসব কক্ষে আশ্রয় পেতে পারেন। তার প্রস্তাবগুলো ছিল আরও পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি; তা বাস্তবায়নের কোনো সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
স্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি আগুন নেভানোর কাজ চলছে
জরুরি পরিস্থিতির আগের পর্যায়ে প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আগস্ট থেকে আগুন নেভাতে ইন্দোনেশিয়া ৬৪টি উড়োজাহাজ ও ৫৪,৩৯৪ জন কর্মী মোতায়েন করেছিল। জুন থেকে শুষ্ক আবহাওয়ায় সুমাত্রা ও কালিমান্তানের বিভিন্ন স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ধোঁয়ায় মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কালিমান্তানে আগুন নেভানোর কাজে সহায়তার জন্য জাপান তিনটি সিএইচ-৪৭ চিনুক হেলিকপ্টার এবং বিমানকর্মী ও সহায়তাকারী কর্মীসহ প্রায় ১৮০ জন সামরিক সদস্য পাঠায়। আগুনের এলাকায় পানি ছিটানোর কাজে হেলিকপ্টারগুলো ব্যবহার করা হয়।
জাপান মেরিটাইম সেলফ-ডিফেন্স ফোর্সের জেএস কুনিসাকি জাহাজে জাপানি সরঞ্জাম ও কর্মীদের পরিবহন করা হয়। জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কেতাপাংয়ের কাছে উপকূলীয় এলাকায় জাহাজটির অবস্থান দুই স্থান থেকে আগুন নেভানোর কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব করে।
স্বাস্থ্যসেবার তাৎক্ষণিক কাজ আগুন নেভানোর চেয়ে আলাদা: ধোঁয়ার সংস্পর্শ কমানো এবং ইতিমধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়া মানুষের চিকিৎসা করা। ধোঁয়া ও ধুলাবালু চোখে জ্বালাও সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেন উইদিয়াওয়াতি। তিনি বাসিন্দাদের ধোঁয়ার সংস্পর্শ এড়াতে এবং চোখে ব্যথা বা চুলকানি হলে চোখ না কচলানোর পরামর্শ দেন।
সব মিলিয়ে এটি এমন এক জরুরি পরিস্থিতি, যেখানে বিভিন্ন এলাকায় অগ্রগতি একরকম নয়। কয়েকটি প্রদেশে সংক্রমণ কমেছে, কিন্তু মধ্য কালিমান্তানে বিপজ্জনক দূষণ, পূর্ব কালিমান্তানে অসুস্থতা বৃদ্ধি এবং আক্রান্ত শিশুর বড় সংখ্যা চিকিৎসাসেবা ও ধোঁয়া থেকে সুরক্ষাকে মোকাবিলার কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেছে।
মূল বিষয়গুলো
- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর পর্যন্ত সাতটি প্রদেশের ৬৩টি জেলা ও শহরে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত ৪০১,৫৮৬ জনের তথ্য নথিভুক্ত করেছে।
- নয় বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা ১,৭৯,৬১৭, যা মোটের প্রায় ৪৪.৭ শতাংশ।
- ৩ নভেম্বর কোটাওয়ারিঙ্গিন তিমুর ও পালাংকা রায়ায় বায়ু ছিল বিপজ্জনক; আরও ১৫টি জেলা ও শহরের বায়ু ছিল অস্বাস্থ্যকর।
- পূর্ব কালিমান্তানে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় আরও নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রের প্রস্তুতি জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
- মন্ত্রণালয় প্রায় ৩৮ লাখ মাস্ক বিতরণ করেছে এবং অক্সিজেন সরঞ্জাম, চিকিৎসক দল ও স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্রের একটি নেটওয়ার্ক প্রস্তুত রেখেছে।
- দূরবর্তী জনগোষ্ঠীর জন্য ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসাসেবা, বিনা মূল্যে রেসপিরেটর এবং গ্রামে ধোঁয়া থেকে সুরক্ষিত কক্ষের আরও দাবি উঠেছে।






