ডলার বিক্রির জন্য রপ্তানিকারকদের আরও সুযোগ
বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিপুল অর্থ প্রত্যাহারের চাপে ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু রপ্তানিকারকের ডলার বিক্রির দৈনিক সীমা সাময়িকভাবে তুলে নেয়। ওই দিন মার্কিন ডলারের বিপরীতে তাইওয়ান ডলারের দর নেমে দাঁড়ায় ৩২.৭১৪ তাইওয়ান ডলারে, যা ২০২৫ সালের এপ্রিলের পর দিনের লেনদেনে সর্বনিম্ন। পরে মুদ্রাটি দরপতনের একাংশ পুষিয়ে ৩২.৫৯২ তাইওয়ান ডলারে লেনদেন শেষ করে। তবে পরবর্তী কয়েক দিনের সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চাপ অব্যাহত ছিল।
সূচিপত্র
মুদ্রাবাজারের লেনদেনকারীদের বরাতে জানা গেছে, ওই দিন সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্তত চারটি ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানায়, রপ্তানিকারকদের ডলার বিক্রি সাময়িকভাবে দৈনিক সীমার আওতামুক্ত থাকবে। সীমা আবার চালু হলে ব্যাংকগুলোকে জানানো হবে বলেও বলা হয়। তবে সীমা শিথিলের মেয়াদ শেষ হওয়ার কোনো তারিখ জানানো হয়নি। প্রাথমিক সংবাদ প্রকাশের সময় এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগ সাড়া দেয়নি।
এই পদক্ষেপে রপ্তানিকারকেরা তাদের মার্কিন ডলারে অর্জিত আয় তাইওয়ান ডলারে ভাঙানোর বেশি সুযোগ পান। এসব লেনদেনে বাজারে মার্কিন ডলারের সরবরাহ বাড়ে এবং তাইওয়ান ডলারের চাহিদা তৈরি হয়, যা স্থানীয় মুদ্রাকে সমর্থন করতে পারে।
তাৎক্ষণিক চাপের উৎস ছিল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের তাইওয়ানের শেয়ার বিক্রি করে অর্থ বিদেশে নিয়ে যাওয়া। অক্টোবরে তাইওয়ানের শেয়ারবাজার থেকে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ৯৯৪.৩ বিলিয়ন তাইওয়ান ডলার তুলে নেন। এটি এক মাসে রেকর্ড পরিমাণ, যা মার্চের আগের রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে যায়। ২ নভেম্বরও বিক্রি অব্যাহত ছিল। ওই দিন বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিট ৭৩.৫২ বিলিয়ন তাইওয়ান ডলারের শেয়ার বিক্রি করেন, যা টানা তৃতীয় লেনদেন দিবসে নিট বিক্রি।
চীন প্রজাতন্ত্রের তাইওয়ান কেন্দ্রীয় ব্যাংক ২ নভেম্বরের সমাপনী দর তাদের দৈনিক বিনিময় হার তালিকায় নিশ্চিত করেছে। তালিকায় ৫ নভেম্বর দর আরও নেমে ৩২.৮৭৬ তাইওয়ান ডলারে পৌঁছানোর এবং ৬ নভেম্বর আংশিক ঘুরে ৩২.৭৬৮-এ ওঠার তথ্যও রয়েছে। অর্থাৎ প্রথম দিনের পুনরুদ্ধারের পর আরও কয়েক দিন মুদ্রার ওপর চাপ ছিল।
২ নভেম্বর মুদ্রার দর যেভাবে বদলেছে
২ নভেম্বর মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৩২.৫০ তাইওয়ান ডলারে লেনদেন শুরু হয়। পরে দর নেমে ৩২.৬ ও ৩২.৭ অতিক্রম করে। সর্বনিম্ন ৩২.৭১৪-এ দিনের লেনদেনে মুদ্রাটির দর সর্বোচ্চ ০.৭৩ শতাংশ কমে যায়। এ সময় এশিয়ার প্রধান মুদ্রাগুলোর মধ্যে শুধু দক্ষিণ কোরিয়ার ওন আরও খারাপ করেছিল; এর দর প্রায় ১ শতাংশ কমে।
তাইওয়ান ডলার দিন শেষে দাঁড়ায় ৩২.৫৯২-এ। ৩০ অক্টোবরের ৩২.৪৭৮-এর সমাপনী দর থেকে এটি ০.১১৪ তাইওয়ান ডলার বা প্রায় ০.৩৫ শতাংশ কম। এই বিনিময় হারে সংখ্যা যত বেশি, তাইওয়ান ডলার তত দুর্বল। অর্থাৎ এক মার্কিন ডলার কিনতে আগের চেয়ে বেশি স্থানীয় মুদ্রা দিতে হয়।
মুদ্রা লেনদেনকারীরা জানান, বিকেলে দর ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে কয়েকটি কারণ ছিল। তাইওয়ান ডলারের দর সাম্প্রতিক নিম্ন পর্যায়ে পৌঁছালে রপ্তানিকারকেরা সক্রিয়ভাবে মার্কিন ডলার বিক্রি করেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ বাইরে পাঠানোর গতি কমে এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক লেনদেন চলাকালে ও সমাপনী সময়ের কাছাকাছি হস্তক্ষেপ করে। তাইপে ও ইউয়ান্টা বৈদেশিক মুদ্রাবাজার মিলিয়ে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৩.০৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
দিনের সর্বনিম্ন দর ও সমাপনী দর দিনের ভিন্ন ভিন্ন সময়ের চিত্র তুলে ধরে। লেনদেন শেষে এক মার্কিন ডলারের দাম দিনের সর্বনিম্ন পর্যায়ের তুলনায় ০.১২২ তাইওয়ান ডলার কম ছিল, যদিও আগের লেনদেন দিনের সমাপনী দরের চেয়ে বেশি। ফলে দিনের দরপতন কিছুটা কমলেও তা পুরোপুরি কাটেনি।
বিনিময় হারে রপ্তানিকারকেরা কেন গুরুত্বপূর্ণ
তাইওয়ানের রপ্তানিকারকেরা সাধারণত মার্কিন ডলারে মূল্য পান এবং দেশের ভেতরের ব্যয় মেটাতে তাদের তাইওয়ান ডলার প্রয়োজন হয়। আয় ভাঙানোর সময় তারা মার্কিন ডলার বিক্রি করে স্থানীয় মুদ্রা কেনেন। বেশি ডলার ভাঙানোর সুযোগ থাকলে তাইওয়ান থেকে অর্থ সরিয়ে নিতে চাওয়া বিনিয়োগকারীদের ডলারের চাহিদার চাপ কিছুটা সামাল দেওয়া যায়।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক রপ্তানিকারকদের জন্য বিভিন্ন দৈনিক সীমা ব্যবহার করেছে। এর আগে তারা সাধারণ নিয়ম হিসেবে জানিয়েছিল, একজন রপ্তানিকারক দিনে সর্বোচ্চ ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিক্রি করতে পারবেন। ২০২৫ সালে তাইওয়ান ডলারের দর ১৯৮০-এর দশকের পর সবচেয়ে দ্রুত বাড়ার পর এসব বিধিনিষেধ চালু করা হয়। তখন উদ্বেগ ছিল, রপ্তানিকারকেরা দ্রুত ডলার বিক্রি করলে স্থানীয় মুদ্রার দর খুব দ্রুত বেড়ে যাবে।
নভেম্বরে বিধিনিষেধ সাময়িক শিথিল করার উদ্দেশ্য ছিল বিপরীতমুখী চাপ মোকাবিলা করা। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা অর্থ বিদেশে পাঠাতে ডলার খুঁজছিলেন, আর রপ্তানিকারকদের ডলার বিক্রির আরও সুযোগ দেওয়া হয়। রপ্তানিকারকেরা কতটা মুদ্রা ভাঙাবেন, পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ প্রত্যাহারের পরিমাণ ও সময়ের ওপর নির্ভর করছিল এই ব্যবস্থায় কতটা সহায়তা মিলবে।
ক্রেডিট অ্যাগ্রিকোল সিআইবির হংকং শাখার জ্যেষ্ঠ উদীয়মান বাজার কৌশলবিদ এডি চেউং এই পরিবর্তনকে মুদ্রার আরও দরপতনের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহনশীলতার সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে দেখেছেন:
তাইওয়ান ডলারের দুর্বল অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে, এই ঘোষণাটি ইঙ্গিত দেয় যে কর্তৃপক্ষ তাইওয়ান ডলারের দরপতন নিয়ে আগের চেয়ে কম সহনশীল হয়ে উঠতে পারে,
এই পদক্ষেপে আগে যে নিয়মের মাধ্যমে মুদ্রার দরবৃদ্ধি ঠেকানোর চেষ্টা করা হতো, সেটিকে দরপতন সামাল দেওয়ার দিকে নেওয়া হয়। সহজভাবে বললে, শেয়ারবাজার থেকে অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার সময় রপ্তানিকারকদের আয়ের যে প্রবাহ আগে ধীর করার চেষ্টা করা হয়েছিল, এখন সেটিই সহায়তা দিতে পারে।
শেয়ার বিক্রিতে দুই বাজারেই চাপ
তাইওয়ানের শেয়ারবাজারও মুদ্রার পাশাপাশি পড়ছিল। বিনিয়োগকারীরা প্রশ্ন তুলছিলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বড় বিনিয়োগ থেকে কত দ্রুত আয় ও মুনাফা আসবে। আগের শুক্রবার মার্কিন সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বড় দরপতন তাইওয়ানের প্রযুক্তি খাতের শেয়ারেও চাপ বাড়ায়।
২ নভেম্বর তাইওয়ানের প্রধান শেয়ারসূচক দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮১২.৭৩ পয়েন্ট কমে ৪৪,৩৯৯.১০-এ নেমে আসে। পরে কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও দিন শেষে ২৯১.৬৯ পয়েন্ট কমে ৪৪,৯২০.১৪-তে দাঁড়ায়, যা ৪৫,০০০-এর নিচে।
ওই দিন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিট ৭৩.৫২ বিলিয়ন তাইওয়ান ডলারের শেয়ার বিক্রি আগেই উল্লেখযোগ্য অর্থ প্রত্যাহারের ধারাকে আরও দীর্ঘ করে। অক্টোবরে ৯৯৪.৩ বিলিয়ন তাইওয়ান ডলারের বহিঃপ্রবাহ ছিল প্রায় ১ ট্রিলিয়ন তাইওয়ান ডলারের সমান। ওই মাসে তাইওয়ান ডলারের দর প্রায় ২ শতাংশ কমে, আর এশিয়ার মুদ্রাগুলোর মধ্যে এ সময়ে এর ফল ছিল সবচেয়ে দুর্বল।
বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রির পর অর্থ বিদেশে পাঠানোর আগে তাইওয়ান ডলার ভেঙে মার্কিন ডলার কিনলে শেয়ার বিক্রি মুদ্রার ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে। শেয়ার বিক্রি ও মুদ্রা স্থানান্তর ভিন্ন সময়ে হতে পারে। এ কারণে বিকেলে মুদ্রা কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও লেনদেনকারীরা পরবর্তী অর্থ বহিঃপ্রবাহের দিকে নজর রাখছিলেন।
পরবর্তী পরিস্থিতি সরকারি বিনিময় হারে
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সমাপনী দর দেখায়, ২ নভেম্বরের হস্তক্ষেপটি মুদ্রার দরপতনের আরও বিস্তৃত সময়পর্বের অংশ ছিল। ৭ অক্টোবর মার্কিন ডলারের বিপরীতে বিনিময় হার ছিল ৩১.৭৯৫ তাইওয়ান ডলার, আর ২ নভেম্বর তা দাঁড়ায় ৩২.৫৯২-এ। ৬ নভেম্বরের মধ্যে এক মার্কিন ডলারের দাম ৭ অক্টোবরের তুলনায় ০.৯৭৩ তাইওয়ান ডলার বেড়ে যায়।
গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলোতে প্রথম দফার পুনরুদ্ধার এবং পরে নতুন করে চাপের চিত্র দেখা যায়:
- ৭ অক্টোবর: মার্কিন ডলারের বিপরীতে তাইওয়ান ডলারের সমাপনী দর ছিল ৩১.৭৯৫।
- ৩০ অক্টোবর: বিধিনিষেধ শিথিলের খবরের আগে শেষ সমাপনী দর ছিল ৩২.৪৭৮।
- ২ নভেম্বর: ব্যাংকগুলো খবর অনুযায়ী ফোন পায়; ৩২.৭১৪-এ স্পর্শ করার পর মুদ্রাটি দিন শেষে ৩২.৫৯২-এ দাঁড়ায়।
- ৩ নভেম্বর: সমাপনী দর নেমে ৩২.৭৬০ হয়।
- ৪ নভেম্বর: সমাপনী দর ৩২.৮২১-এ পৌঁছায়।
- ৫ নভেম্বর: দর আরও কমে দিন শেষে ৩২.৮৭৬ হয়।
- ৬ নভেম্বর: দর ঘুরে ৩২.৭৬৮-এ ওঠে, যা ২ নভেম্বরের সমাপনী দরের চেয়ে দুর্বল।
২ নভেম্বর লেনদেনকারীরা সতর্ক করেছিলেন, দর দ্রুত ৩২.৮-এর ওপরে গেলে বাজারের আস্থায় ক্ষতি হতে পারে এবং আরও দরপতনে উৎসাহ জোগাতে পারে। পরে ৪ ও ৫ নভেম্বর সরকারি সমাপনী দর ওই সীমা অতিক্রম করে; ৬ নভেম্বর আবার এর নিচে নামে।
আয় ভাঙানো বা বিদেশি বিল পরিশোধের সময় নির্ধারণকারী ব্যবসার জন্য এই ধারাটি গুরুত্বপূর্ণ। এক লেনদেন দিনের মধ্যে দর ঘুরে দাঁড়ালে দিনের সর্বনিম্ন পর্যায়ের তুলনায় ভালো বিনিময় হার পাওয়া যেতে পারে। তবে পরবর্তী দিনগুলোতে ডলার কেনার খরচ বাড়তেও পারে।
মুদ্রার চুক্তিতে আরও জোরালো প্রতিক্রিয়া
ভবিষ্যতের বিনিময় হারের ঝুঁকি সামলাতে ব্যবহৃত চুক্তিতে প্রতিক্রিয়া ছিল আরও জোরালো। এক মাস মেয়াদি নন-ডেলিভারেবল ফরোয়ার্ড নামে পরিচিত চুক্তির দর আগে কমলেও পরে মার্কিন ডলারের বিপরীতে সর্বোচ্চ ০.৪ শতাংশ বেড়ে ৩২.৫৩৫ তাইওয়ান ডলারে পৌঁছায়।
নন-ডেলিভারেবল ফরোয়ার্ডের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীরা ভবিষ্যতের কোনো তারিখের জন্য মুদ্রার বিনিময় হার নির্ধারণ করতে পারেন। দুই মুদ্রার পুরো অর্থ বিনিময় না করে নগদে পার্থক্য মেটানো হয়। ভবিষ্যতের পরিশোধ বা বিনিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা কমাতে কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীরা এসব চুক্তি ব্যবহার করেন। বিনিময় হার কোথায় যেতে পারে, সে প্রত্যাশাও চুক্তির দরে প্রভাব ফেলে।
বিধিনিষেধ শিথিলের খবরের পর ফরোয়ার্ড দর বেড়ে যাওয়া বাজারের দ্রুত প্রতিক্রিয়া দেখায়। তবে ২ নভেম্বর নগদ বাজারে তাইওয়ান ডলার দুর্বল অবস্থায় দিন শেষ করে, আর পরবর্তী সরকারি সমাপনী দরেও চাপ অব্যাহত থাকার চিত্র উঠে আসে।
নিকট মেয়াদের চাপ ও দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি
কমার্জব্যাংকের বিশ্লেষকেরা তাইওয়ানের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তি সত্ত্বেও মার্কিন ডলার, তেলের দাম এবং বিদেশি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের প্রবাহকে দেশটির মুদ্রার ওপর নিকট মেয়াদের সম্ভাব্য চাপের উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। বিনিয়োগ প্রত্যাহারের মুখে থাকা মুদ্রার ক্ষেত্রে এসব বিষয়ের পরিবর্তনে মার্কিন ডলারের চাহিদা কতটা হবে, তা প্রভাবিত হতে পারে।
সিটিগ্রুপ দীর্ঘমেয়াদে তুলনামূলক আশাবাদী অবস্থান বজায় রেখে আগামী ছয় থেকে ১২ মাসে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৩২ তাইওয়ান ডলারের পূর্বাভাস দিয়েছে। এটি ২ নভেম্বরের ৩২.৫৯২ এবং ৬ নভেম্বরের ৩২.৭৬৮ সমাপনী দর, দুটির তুলনায়ই শক্তিশালী তাইওয়ান ডলারের ইঙ্গিত দেয়।
এই দরবদলে রপ্তানিকারক, আমদানিকারক ও বিনিয়োগকারীদের ওপর ভিন্ন প্রভাব পড়ে। স্থানীয় মুদ্রা দুর্বল হলে রপ্তানিকারকেরা প্রতি মার্কিন ডলারের আয়ে বেশি তাইওয়ান ডলার পান। মার্কিন ডলারে বিল পরিশোধকারী ব্যবসাকে একই পরিমাণ ডলার জোগাড় করতে আরও বেশি স্থানীয় মুদ্রা খরচ করতে হয়। সাময়িক শিথিলতায় রপ্তানিকারকদের মুদ্রা ভাঙানোর ক্ষেত্রে বাড়তি স্বাধীনতা মিলেছে, আর শেয়ারবাজার থেকে অব্যাহত অর্থ প্রত্যাহার চাপের উৎস হয়ে থেকেছে।
মূল বিষয়গুলো
- খবর অনুযায়ী, ২ নভেম্বর তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্তত চারটি ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে রপ্তানিকারকদের মার্কিন ডলার বিক্রির দৈনিক সীমা সাময়িকভাবে তুলে নেয়।
- ওই দিন মার্কিন ডলারের বিপরীতে তাইওয়ান ডলারের দর ৩২.৭১৪-এ স্পর্শ করে; দিন শেষে ৩২.৫৯২-এ দাঁড়ায়, যা প্রায় ০.৩৫ শতাংশ কম।
- অক্টোবরে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তাইওয়ানের শেয়ার থেকে ৯৯৪.৩ বিলিয়ন তাইওয়ান ডলার তুলে নেন এবং ২ নভেম্বর নিট ৭৩.৫২ বিলিয়ন তাইওয়ান ডলারের শেয়ার বিক্রি করেন।
- রপ্তানিকারকদের ডলার বিক্রি, বিকেলে অর্থ বাইরে পাঠানোর গতি কমা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ ২ নভেম্বরের দরপতন কমাতে সহায়তা করে।
- সরকারি সমাপনী দর পরে ৫ নভেম্বর ৩২.৮৭৬-এ নেমে যায়, এরপর ৬ নভেম্বর ৩২.৭৬৮-এ ঘুরে দাঁড়ায়।
- আগামী ছয় থেকে ১২ মাসে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ৩২ তাইওয়ান ডলারের পূর্বাভাস বহাল রেখেছে সিটিগ্রুপ।






