শেয়ারের দরপতনে অর্থায়ন-সহায়তার উপায় খুঁজছেন নিয়ন্ত্রকেরা
অক্টোবরে দরপতনে সাংহাই কম্পোজিট ৩,৬০০ পয়েন্টের নিচে নেমে যাওয়া এবং মাসজুড়ে প্রযুক্তি ও প্রবৃদ্ধিনির্ভর দুটি সূচক ২০ শতাংশের বেশি কমে যাওয়ার পর বিদ্যমান শেয়ারবাজার-সহায়তা ব্যবস্থার ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনায় ২০২৬ সালের ২ নভেম্বর দুটি বৈঠক করার পরিকল্পনা করেছে চীনের আর্থিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।
সূচিপত্র
- শেয়ারের দরপতনে অর্থায়ন-সহায়তার উপায় খুঁজছেন নিয়ন্ত্রকেরা
- অক্টোবরে প্রবৃদ্ধিনির্ভর শেয়ারে সবচেয়ে বেশি দরপতন
- দুটি ব্যবস্থা ভিন্ন পথে বাজারে অর্থায়ন জোগায়
- ২০২৪ থেকে কর্মসূচির অগ্রগতি
- দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, কম নিজস্ব অর্থ
- কোম্পানির ঘোষণায় ৭৮.১ বিলিয়ন ইউয়ানের ঋণ
- বড় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ গোষ্ঠীগুলোর ঋণসীমা বাড়তে পারে
- সহায়তা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নীতিতেও পরিবর্তন
- মুনাফা বৃদ্ধিও চিত্রের আরেকটি দিক
- মূল বিষয়গুলো
পিপলস ব্যাংক অব চায়না এবং চায়না সিকিউরিটিজ রেগুলেটরি কমিশনের (সিএসআরসি) কেন্দ্রীয় ব্যাংকে নির্বাচিত কয়েকটি সিকিউরিটিজ ফার্ম ও ফান্ড ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। আলোচনা সকাল ৯টার দিকে শুরু হওয়ার কথা। কিছু প্রতিষ্ঠান বৈঠকের নোটিশ পেয়েছে।
দ্বিতীয় বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সিএসআরসি এবং বড় ব্যাংকগুলো অংশ নেবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বড় শেয়ারধারীদের শেয়ার কিনতে সহায়তা করা ঋণ কর্মসূচিতে কী পরিবর্তন আনা যায়, তা পর্যালোচনা করা হবে।
আলোচনার বিষয় ২০২৪ সালে চালু হওয়া দুটি ব্যবস্থা: সিকিউরিটিজ ফার্ম, ফান্ড ব্যবস্থাপক ও বিমা প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি সোয়াপ সুবিধা এবং শেয়ার পুনঃক্রয় ও বড় শেয়ারধারীদের শেয়ার কেনায় ব্যবহৃত ব্যাংকঋণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন। ২০২৫ সালের মে থেকে এ দুটির সম্মিলিত অর্থায়নসীমা ৮০০ বিলিয়ন ইউয়ান।
বাস্তব প্রশ্ন হলো, এই সক্ষমতার কতটা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শেয়ার কেনার কাজে পৌঁছানো সম্ভব। কোম্পানিগুলো ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য ঋণ-ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে। এদিকে একটি বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক দুটি রাষ্ট্রীয় মূলধন বিনিয়োগ গোষ্ঠীর প্রতিটির জন্য সর্বোচ্চ ১০০ বিলিয়ন ইউয়ান করে নতুন ঋণসীমা বিবেচনা করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
২ নভেম্বরের বৈঠক থেকে কোনো সিদ্ধান্তের ঘোষণা আসেনি। তাই অর্থায়নসীমা, ঋণের খরচ বা কারা সুবিধা পাবে—এ বিষয়ে পরিবর্তন এখনো আলোচনার বিষয়; বিনিয়োগকারীরা ইতিমধ্যে ব্যবহার করতে পারছেন, এমন কোনো ব্যবস্থা নয়।
অক্টোবরে প্রবৃদ্ধিনির্ভর শেয়ারে সবচেয়ে বেশি দরপতন
৩০ অক্টোবর সাংহাই কম্পোজিট ৩,৫৯৯.০২ পয়েন্টে বন্ধ হয়। এতে অক্টোবরে সূচকটির পতন দাঁড়ায় ৬.৩৩ শতাংশে। মাসজুড়ে শেনজেন কম্পোনেন্ট ১৫.৯৪ শতাংশ কমে। চিইনেক্সট সূচক ও স্টার কম্পোজিট—দুটিই ২০ শতাংশের বেশি হারায়।
মাসিক হিসাবে শেনজেন কম্পোনেন্টের পতনের হার সাংহাই কম্পোজিটের প্রায় আড়াই গুণ। চিইনেক্সট ও স্টার কম্পোজিটের ২০ শতাংশের বেশি দরপতন সাংহাইয়ের পতনের তিন গুণেরও বেশি। এতে বোঝা যায়, বাজারজুড়ে বিক্রির চাপ সমানভাবে পড়েনি।
শেনজেন কম্পোনেন্ট, চিইনেক্সট এবং স্টার কম্পোজিটও ৩০ অক্টোবর সাম্প্রতিক সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। যেসব কোম্পানি ও শেয়ারধারী শেয়ার কেনার কথা ভাবছেন, তাঁদের জন্য প্রস্তাবিত বৈঠকগুলো বাজারের চাপের সময়ে কেনাকাটায় সহায়তার উদ্দেশ্যে তৈরি অর্থায়ন-ব্যবস্থাগুলোকে আবার আলোচনায় এনেছে।
আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি শেয়ারেও চাপ ছিল। ৩০ অক্টোবর নাসডাক কম্পোজিট ২.৮৬ শতাংশ কমে এবং ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচক ৭.২ শতাংশ পড়ে যায়। ২ নভেম্বরের বৈঠকের আগে চীনা বিনিয়োগকারীদের সামনে থাকা বাজার পরিস্থিতির অংশ ছিল এসব দরপতন।
দুটি ব্যবস্থা ভিন্ন পথে বাজারে অর্থায়ন জোগায়
সিকিউরিটিজ, ফান্ড অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স কোম্পানিজ সোয়াপ ফ্যাসিলিটি, সংক্ষেপে এসএফআইএসএফ, যোগ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য। এতে তারা সম্পদ জামানত রেখে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যবস্থার মাধ্যমে তুলনামূলক সহজে ব্যবহারযোগ্য তারল্য পেতে পারে। ফলে শেয়ারে বিনিয়োগের অর্থ জোগানোর সক্ষমতা বাড়ে।
তারল্য বলতে অর্থ বা এমন সম্পদ বোঝায়, যা দ্রুত অর্থে রূপান্তর করে দেনা পরিশোধ বা কেনাকাটায় ব্যবহার করা যায়। কোনো প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান বিনিয়োগ থাকতে পারে, তবু অতিরিক্ত শেয়ার কেনার আগে তার অর্থায়ন প্রয়োজন হতে পারে।
শেয়ার পুনঃক্রয় ও শেয়ারধারণ বাড়ানোর কর্মসূচিটি ব্যাংকের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। ব্যাংকগুলো যোগ্য তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বড় শেয়ারধারীদের ঋণ দেয় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক সেই ঋণ সমর্থনে পুনঃঅর্থায়ন করে। কোনো কোম্পানি নিজের শেয়ার কিনলে তাকে পুনঃক্রয় বলে। বিদ্যমান কোনো শেয়ারধারী আরও শেয়ার কিনলে তাকে শেয়ারধারণ বৃদ্ধি বলে।
২ নভেম্বরের দুটি বৈঠকে এই ভিন্ন অর্থায়নপথ নিয়ে আলোচনা হবে। সিকিউরিটিজ ফার্ম ও ফান্ড ব্যবস্থাপকেরা পুঁজিবাজারের সহায়তা-ব্যবস্থা ব্যবহারের বিষয়ে কথা বলবেন। অন্যদিকে ব্যাংকগুলো পুনঃক্রয় ও শেয়ারধারণ বাড়ানোর কর্মসূচির শর্ত পর্যালোচনা করবে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য অর্থায়নের পথটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দুই ব্যবস্থায় ভিন্ন ধরনের ক্রেতারা অর্থ পান। একটি ব্যবস্থা শেয়ারে বিনিয়োগকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সহায়তা করে; অন্যটি কোম্পানি ও বড় শেয়ারধারীদের নির্দিষ্ট তালিকাভুক্ত শেয়ার কেনার অর্থ জোগাতে সাহায্য করে।
২০২৪ থেকে কর্মসূচির অগ্রগতি
পিপলস ব্যাংক অব চায়নার গভর্নর পান গংশেং ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর স্টেট কাউন্সিল ইনফরমেশন অফিসের এক ব্রিফিংয়ে এই দুটি ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এর এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বিস্তারিত বাস্তবায়ন-ব্যবস্থা জানানো হয়।
পুনঃক্রয়ের জন্য পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি শুরুতে ৩০০ বিলিয়ন ইউয়ান সীমা, বছরে ১.৭৫ শতাংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণহার এবং প্রাথমিকভাবে এক বছরের মেয়াদ নিয়ে চালু হয়; মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগও ছিল। ১.৭৫ শতাংশ ছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাথমিক পুনঃঅর্থায়ন হার। কোম্পানি ও শেয়ারধারীদের ব্যবহারের জন্য ব্যাংকগুলো আলাদাভাবে ঋণ দেয়।
- ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৪: পান শেয়ারবাজারে সহায়তার দুটি ব্যবস্থা চালুর ঘোষণা দেন।
- ১৮ অক্টোবর, ২০২৪: নিয়ন্ত্রকেরা পুনঃক্রয় পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচি ও এসএফআইএসএফ বাস্তবায়নের নোটিশ জারি করেন।
- মে ২০২৫: ৫০০ বিলিয়ন ইউয়ানের সোয়াপ সুবিধা এবং ৩০০ বিলিয়ন ইউয়ানের পুনঃঅর্থায়নসীমা সম্মিলিতভাবে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত হয়।
- ৩০ অক্টোবর, ২০২৬: উ ছিং সিএসআরসির এক বৈঠকে সভাপতিত্ব করে বাজার স্থিতিশীল রাখার আহ্বান জানান। একই দিনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অর্থবাজারে কার্যক্রমে পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়।
- ২ নভেম্বর, ২০২৬: নিয়ন্ত্রকেরা সিকিউরিটিজ ফার্ম, ফান্ড ব্যবস্থাপক ও ব্যাংকগুলোর সঙ্গে আলাদা আলোচনার পরিকল্পনা করেছে।
২০২৫ সালের মে মাসের পরিবর্তনে ৮০০ বিলিয়ন ইউয়ানের সম্মিলিত সীমার মধ্যে নমনীয়তা তৈরি হয়। এর আগে সোয়াপ সুবিধার জন্য ৫০০ বিলিয়ন এবং পুনঃঅর্থায়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ইউয়ান বরাদ্দ ছিল। সম্মিলিতভাবে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ায় মোট বরাদ্দের এই দুই মূল অঙ্ক না বাড়িয়েই বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মেটানো সহজ হয়।
দীর্ঘমেয়াদি ঋণ, কম নিজস্ব অর্থ
অংশগ্রহণে উৎসাহ দিতে নিয়ন্ত্রকেরা ইতিমধ্যে কয়েকটি শর্ত পরিবর্তন করেছেন। পুনঃক্রয় ও শেয়ারধারণ বাড়ানোর জন্য ব্যাংকঋণের সর্বোচ্চ মেয়াদ এক বছর থেকে বাড়িয়ে তিন বছর করা হয়েছে। এতে কোম্পানিগুলো যে দীর্ঘ সময়ে শেয়ার কিনতে পারে, তার সঙ্গে ঋণ পরিশোধের সময়সূচির সামঞ্জস্য বাড়ে।
ঋণগ্রহীতার নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়ার বাধ্যতামূলক অংশ ৩০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। সহজ করে বললে, ১০০ ইউয়ানে কোনো কিছু কিনতে ঋণগ্রহীতাকে এখন ৩০ ইউয়ানের বদলে ১০ ইউয়ান দিতে হবে। কর্মসূচির নিয়ম ও ব্যাংকের অনুমোদন সাপেক্ষে বাকি অংশের বড় ভাগ ঋণে মেটানো যাবে।
জামানত হিসেবে রাখা সম্পদের ওপর বেশি নির্ভর না করে কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা ও ঋণযোগ্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করতেও ব্যাংকগুলোকে উৎসাহিত করা হয়েছে। এতে আর্থিক ভিত্তি ভালো, কিন্তু জামানত হিসেবে দেওয়ার উপযোগী সম্পদ কম—এমন ব্যবসার জন্য ঋণ পাওয়া সহজ হতে পারে।
যোগ্য ঋণগ্রহীতার তালিকায় রাষ্ট্রীয় মূলধন পরিচালন প্ল্যাটফর্মও যুক্ত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ পরিচালনা করে। ফলে বড় শেয়ারধারীদের শেয়ার কেনার অর্থায়নে কর্মসূচিটি আরও একটি পথ পেল।
তাই ২ নভেম্বরের বৈঠকগুলো হচ্ছে কয়েক দফা শর্ত পরিবর্তনের পর। ব্যবহার ও ঋণের শর্ত নিয়ে আলোচনায় ব্যাংক ও ঋণগ্রহীতাদের বাস্তব সিদ্ধান্তগুলো গুরুত্ব পাবে: অর্থায়ন সাশ্রয়ী কি না, পরিশোধের মেয়াদ কেনার পরিকল্পনার সঙ্গে মেলে কি না এবং প্রতিষ্ঠানগুলো অতিরিক্ত দায় নিতে আগ্রহী কি না।
কোম্পানির ঘোষণায় ৭৮.১ বিলিয়ন ইউয়ানের ঋণ
২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে ৩০০টির বেশি এ-শেয়ার কোম্পানি পুনঃক্রয় বা শেয়ারধারণ বাড়ানোর ঋণ-সংক্রান্ত ঘোষণা দিয়েছে। উইন্ডের তথ্য ব্যবহার করে করা এক হিসাবে ঘোষিত ঋণের সম্মিলিত সর্বোচ্চ পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৮.১ বিলিয়ন ইউয়ান।
হায়ার স্মার্ট হোমের বিশেষ ঋণের পরিমাণ ৫ বিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে। বিওই টেকনোলজি মোট ৫.৯ বিলিয়ন ইউয়ানের দুটি বিশেষ ঋণ পেয়েছে। একত্রে এই অঙ্ক ১০.৯ বিলিয়ন ইউয়ান, যা ঘোষিত ৭৮.১ বিলিয়ন ইউয়ানের প্রায় ১৪ শতাংশ।
৭৮.১ বিলিয়ন ইউয়ানের অঙ্কটি কোম্পানিগুলোর ঘোষণায় উল্লেখ করা সর্বোচ্চ সীমাগুলোর যোগফল। প্রকৃত ঋণ নেওয়া ও শেয়ার কেনা নির্ভর করবে কোম্পানিগুলো কীভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে তার ওপর। তাই ঘোষণার দিনেই নয়, সময়ের সঙ্গে অর্থ বাজারে যেতে পারে।
শেয়ারের দামে চাপ পড়লে আগে চাহিদা বেড়েছে। ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাজারে চাপের সময় পুনঃক্রয় ও শেয়ারধারণ বাড়ানোর অর্থায়নের আবেদন বেড়েছিল। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে আরেক দফা অস্থিরতার মধ্যে রাষ্ট্রীয় মূলধন পরিচালন প্ল্যাটফর্মগুলোর বেশি ব্যবহারে ওই মাসের কার্যক্রমের পরিমাণ বেড়ে যায়।
এই ঘটনাগুলো পরিকল্পিত আলোচনার সময় নির্ধারণের কারণ ব্যাখ্যা করে। বাজারে দরপতনের সময় প্রতিষ্ঠানগুলো যে ব্যবস্থা আগে ব্যবহার করেছে, বিক্রির চাপ ফেরায় নিয়ন্ত্রকেরা সেগুলোর ব্যবহার আরও কার্যকর করার বিষয়ে আলোচনা করছেন।
বড় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ গোষ্ঠীগুলোর ঋণসীমা বাড়তে পারে
নাম প্রকাশ না করা একটি অতি-বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক চায়না রিফর্ম হোল্ডিংস ও চায়না চেংতুং হোল্ডিংসের জন্য পুনঃক্রয় ও শেয়ারধারণ বাড়ানোর ঋণের অতিরিক্ত সীমা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে খবর পাওয়া গেছে। দুই গোষ্ঠীর প্রত্যেকের জন্য নতুন সীমা সর্বোচ্চ ১০০ বিলিয়ন ইউয়ান হতে পারে।
দুই সীমাই ওই পর্যায়ে পৌঁছালে মোট দাঁড়াবে ২০০ বিলিয়ন ইউয়ান। ঋণসীমা কোনো প্রতিষ্ঠানকে ঋণ নেওয়ার সুযোগ দেয়; শেষ পর্যন্ত কত টাকা ঋণ নেওয়া হবে, তা নির্ভর করে ঋণের সিদ্ধান্ত, ব্যাংকের শর্ত এবং বিনিয়োগ পরিকল্পনার ওপর।
সম্ভাব্য এই সম্প্রসারণে রাষ্ট্রীয় মূলধন পরিচালন প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা আরও স্পষ্ট হয়েছে। কর্মসূচিতে এসব প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করায় ব্যাংকগুলো তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও অন্য যোগ্য বড় শেয়ারধারীদের পাশাপাশি বড় রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ গোষ্ঠীর শেয়ার কেনার অর্থও জোগাতে পারে।
সিকিউরিটিজ ফার্মের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ লি দাশিয়াও বলেছেন, বাজারের বর্তমান আকারের সঙ্গে মিলিয়ে সহায়তা-ব্যবস্থাগুলো মানিয়ে নেওয়া উচিত। তাঁর প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে আরও আকর্ষণীয় সুদের হার, দীর্ঘতর ব্যবহারের মেয়াদ এবং সিকিউরিটিজ ফার্ম ও ফান্ড ব্যবস্থাপকদের অংশগ্রহণে উৎসাহ দেওয়ার ব্যবস্থা। এগুলো একজন বাজার-বিশ্লেষকের প্রস্তাব; নিয়ন্ত্রকের ঘোষিত পরিবর্তন নয়।
সহায়তা নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি নীতিতেও পরিবর্তন
৩০ অক্টোবর সিএসআরসি চেয়ারম্যান উ ছিং নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির পার্টি কমিটির বর্ধিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে বাজার ও প্রত্যাশা স্থিতিশীল রাখার উদ্যোগ, বিনিয়োগ ও অর্থায়ন-সংক্রান্ত সংস্কার গভীর করা এবং বাজারজুড়ে তদারকি উন্নত করার আহ্বান জানানো হয়।
একই দিনে পিপলস ব্যাংক অব চায়না নিয়মিত অর্থবাজার কার্যক্রমে পরিবর্তনের ঘোষণা দেয়, যা ২ নভেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, প্রতি কর্মদিবসে নির্ধারিত সুদহারে রাতভর রিভার্স রেপো কার্যক্রম চালানো হবে। বর্তমানে হারটি ১.২৫ শতাংশ; প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় অঙ্কের দর দেবে।
রিভার্স রেপো কার্যক্রমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সিকিউরিটিজের বিপরীতে আর্থিক ব্যবস্থায় স্বল্পমেয়াদি নগদ অর্থ জোগায়। রাতভর সুদের হারটি হবে প্রধান নীতিগত সুদের হার, অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদি অর্থের খরচ সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান সংকেত।
সাত দিন মেয়াদি কার্যক্রমে নির্দিষ্ট মোট অঙ্কের বিপরীতে নিলাম হবে এবং বিভিন্ন সুদহারে দর দেওয়া যাবে। মূলত কর পরিশোধের সময় ও মাসের শেষ দিকে এসব কার্যক্রম চালানো হবে। অন্যান্য নির্দিষ্ট সুবিধার হার রাতভর হারের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে হিসাব করা হবে; বেঞ্চমার্কের ওপরে বা নিচে বিদ্যমান ব্যবধান অপরিবর্তিত থাকবে।
অর্থবাজারের এই পরিবর্তনগুলো পুরো আর্থিক ব্যবস্থায় নগদ অর্থের দাম ও জোগানের সঙ্গে সম্পর্কিত। শেয়ারবাজারের সহায়তা-ব্যবস্থাগুলো নির্দিষ্ট যোগ্য প্রতিষ্ঠান, কোম্পানি ও শেয়ারধারীদের অর্থায়ন লক্ষ্য করে। তাই ২ নভেম্বর নিয়মিত মুদ্রানীতির কার্যক্রমে পরিবর্তনের পাশাপাশি শেয়ারের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা নিয়েও আলোচনা হবে।
মুনাফা বৃদ্ধিও চিত্রের আরেকটি দিক
৩১ অক্টোবরের মধ্যে সাংহাই ও শেনজেনের ৫,২২৪টি তালিকাভুক্ত কোম্পানি ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসের ফল প্রকাশ করেছে। তাদের সম্মিলিত আয় হয়েছে ৫৬.৬ ট্রিলিয়ন ইউয়ান এবং নিট মুনাফা ৫.১ ট্রিলিয়ন ইউয়ান। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে যথাক্রমে ৫.৮ ও ৮.৫ শতাংশ।
আয় ও প্রবৃদ্ধি—দুটিই ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ছিল। কোম্পানিগুলোর ৭৩ শতাংশ মুনাফা করেছে। ফল প্রকাশ করা ৬১৪টি স্টার মার্কেট কোম্পানির আয় ৪১.৮৮ শতাংশ বেড়ে প্রায় ১.৫১৫ ট্রিলিয়ন ইউয়ান এবং নিট মুনাফা ৪৭৪.৫৬ শতাংশ বেড়ে ২২৩.৫২ বিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে। একাধিক বাজারে তালিকাভুক্ত তিনটি কোম্পানির নভেম্বরে ফল প্রকাশের কথা ছিল।
জিএফ সিকিউরিটিজের প্রধান কৌশল বিশ্লেষক লিউ ছেনমিং সাম্প্রতিক দর সংশোধনের জন্য মূলত বিনিয়োগকারীদের মনোভাব ও অর্থায়নের চাপকে দায়ী করেছেন। তবে তাঁর মতে, কোম্পানিগুলোর মৌলিক অবস্থার কোনো উল্টো পরিবর্তন হয়নি। বাজারে সহায়তামূলক অর্থায়নের প্রাপ্যতার পাশাপাশি কোম্পানির কার্যকারিতাও বিনিয়োগকারীরা কেন মূল্যায়ন করছেন, আয়ের এই পরিসংখ্যান তা বুঝতে সাহায্য করে।
নানকাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের পরিচালক তিয়ান লিহুই আগে ব্যাখ্যা করেছেন, পুনঃক্রয়ের জন্য পুনঃঅর্থায়ন তারল্য বাড়াতে ও অর্থায়নের খরচ কমাতে পারে। এতে তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও বড় শেয়ারধারীরা শেয়ার কিনতে উৎসাহিত হন। সহায়তার একটি সরাসরি পথ এভাবেই তৈরি হয়: কম খরচের বা সহজলভ্য অর্থায়ন আগ্রহী ক্রেতাদের শেয়ার কেনায় সাহায্য করতে পারে।
পরবর্তী নির্ধারিত পদক্ষেপ ২ নভেম্বরের আলোচনা। কোম্পানি, ব্যাংক ও ফান্ড ব্যবস্থাপকদের জন্য অর্থায়ন কী শর্তে পাওয়া যাবে এবং প্রতিষ্ঠানগুলো তা ব্যবহারে কতটা অঙ্গীকার করবে—এসব বিষয়ই গুরুত্বপূর্ণ হবে।
মূল বিষয়গুলো
- পুঁজিবাজারের সহায়তা-ব্যবস্থা ও শেয়ার কেনার ঋণ নিয়ে ২ নভেম্বর দুটি বৈঠকের পরিকল্পনা করেছে চীন।
- অক্টোবরে সাংহাই কম্পোজিট ৬.৩৩ শতাংশ কমেছে; চিইনেক্সট ও স্টার কম্পোজিট—দুটিই ২০ শতাংশের বেশি হারিয়েছে।
- সোয়াপ সুবিধা ও পুনঃক্রয় পুনঃঅর্থায়ন কর্মসূচির সম্মিলিত সীমা ৮০০ বিলিয়ন ইউয়ান।
- জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের মধ্যে ৩০০টির বেশি কোম্পানি এ-সংক্রান্ত ঋণ-ব্যবস্থার ঘোষণা দিয়েছে; সর্বোচ্চ ঘোষিত অঙ্কের যোগফল ৭৮.১ বিলিয়ন ইউয়ান।
- চায়না রিফর্ম ও চায়না চেংতুংয়ের প্রতিটির জন্য সর্বোচ্চ ১০০ বিলিয়ন ইউয়ানের নতুন ঋণসীমা বিবেচনা করছে একটি বড় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক।
- কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দৈনিক রাতভর রিভার্স রেপো কার্যক্রম ২ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা; বর্তমান হার ১.২৫ শতাংশ।






