নিরাপত্তার কারণে কারখানা বন্ধ, চাকরি হারাচ্ছেন হাজারো কর্মী
ভবনধসের সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত হওয়ার পর চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) নিজেদের সবচেয়ে পুরোনো কারখানায় প্রায় ৫,০০০ কর্মীর চাকরির অবসান শুরু করেছে প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড। ইউনিট-১ ভেঙে সেখানে নতুন কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে কোম্পানিটি। তাদের ভাষ্য, নতুন কারখানায় প্রায় ১০,০০০ মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে।
সূচিপত্র
- নিরাপত্তার কারণে কারখানা বন্ধ, চাকরি হারাচ্ছেন হাজারো কর্মী
- প্রকৌশলগত পরীক্ষায় যা পাওয়া গেছে
- কর্মীদের যে পাওনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি
- যেভাবে এগোচ্ছে কারখানা বন্ধের প্রক্রিয়া
- কর্মীদের অন্য কারখানায় সরানো হয়নি কেন
- নতুন কারখানায় কর্মসংস্থান দ্বিগুণ হতে পারে
- প্যাসিফিকের অন্য কারখানাগুলোতে উৎপাদন চলছে
- মূল বিষয়গুলো
বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯ অনুযায়ী ৩১ অক্টোবর কর্মসংস্থানের অবসান প্রক্রিয়া শুরু হয়। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেপজা) কর্মকর্তা ও শিল্প পুলিশ জানায়, প্রথম দিন কাটিং বিভাগের ৫০৯ জন কর্মী তাঁদের পাওনা বুঝে পেয়েছেন। সেলাই, ওয়াশিং ও অন্যান্য বিভাগের কর্মীদের পাওনা পরিশোধের সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে বিদায় দেওয়া হবে।
কোম্পানি ও শিল্প পুলিশের হিসাবে, এ সিদ্ধান্তে প্রভাবিত কর্মীর সংখ্যা প্রায় ৫,০০০। বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) নামে প্রচারিত তথ্যে সংখ্যাটি আরও বেশি, প্রায় ৫,৫০০ বলা হয়েছে।
কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তটি ইউনিট-১ নিয়ে, যা সিইপিজেডে কোম্পানিটির প্রথম কারখানা। কোম্পানি ও বেপজার ভাষ্য অনুযায়ী, প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেডের অন্য ইউনিটগুলো এবং বৃহত্তর প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের কার্যক্রম চলছে। সিইপিজেডের ইউনিট-২-সহ গ্রুপের অন্য নয়টি কারখানায় প্রায় ৩০,০০০ মানুষ কাজ করেন।
ইউনিট-১ ছেড়ে যাওয়া কর্মীদের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন হলো তাঁদের বর্তমান চাকরি হারানো, যদিও ব্যবসা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। নতুন কারখানায় নিয়োগের সময় তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্যাসিফিক জিন্স। তবে সেখানে কর্মসংস্থান শুরু হবে নির্মাণকাজ ও কারখানার কার্যক্রম শুরুর পর। ফলে প্রভাবিত পরিবারগুলোকে বর্তমান আয় ও ভবিষ্যতের সম্ভাব্য কর্মসংস্থানের মধ্যবর্তী সময়ের অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে হচ্ছে।
প্রকৌশলগত পরীক্ষায় যা পাওয়া গেছে
প্যাসিফিক জিন্স জানিয়েছে, আরএমজি সাসটেইনেবিলিটি কাউন্সিল (আরএসসি) বিশেষ কাঠামোগত নিরাপত্তা নিরীক্ষা চালানোর পর বিস্তারিত প্রকৌশল মূল্যায়ন করে। ওই মূল্যায়নে কাঠামোগত ব্যর্থতার সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত করা হয়। বিস্তারিত প্রকৌশল মূল্যায়নে পরীক্ষা করা হয়, ভবনের কাঠামো তার ওপর আরোপিত ভার নিরাপদে বহন করতে পারবে কি না।
কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, ইউনিট-১ তিনটি ভবন নিয়ে গঠিত একটি কমপ্লেক্স। যে কারখানা ভবনটি ভাঙার পরিকল্পনা রয়েছে, সেটিকে পাঁচতলা বলেও বর্ণনা করা হয়েছে। প্যাসিফিক জিন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ এম তানভীর বলেন, উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্তে কর্মীদের জীবন ও নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে এবং কোম্পানি ক্ষতিপূরণসহ আইন অনুযায়ী প্রাপ্য অন্যান্য পাওনা দেবে।
চট্টগ্রামে শিল্প পুলিশের সুপারিনটেনডেন্ট মাহমুদা বেগম বলেন, কারখানা বন্ধের প্রায় এক বছর আগে আরএসসির নিরীক্ষায় অবকাঠামোটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। ওই শনাক্তকরণের পর কী ঘটেছিল, তা তিনি এভাবে বর্ণনা করেন:
এক বছর আগে আরএসসির নিরীক্ষায় কারখানার অবকাঠামোকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও কিছু অভ্যন্তরীণ সংস্কারকাজ করার পর তারা উৎপাদন চালিয়ে যায়।
কোম্পানির এক কর্মকর্তাও বলেন, আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা ভবন ভেঙে ফেলার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ধারাবাহিক ঘটনাপ্রবাহে দেখা যায়, আগের সতর্কবার্তা, সংস্কারকাজ এবং পরবর্তী প্রকৌশলগত পর্যালোচনার পর কারখানাটি বন্ধ করা হয়েছে।
কর্মীদের যে পাওনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি
প্যাসিফিক জিন্স বলেছে, দেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে কর্মসংস্থান নিয়ন্ত্রণকারী আইন বাংলাদেশ ইপিজেড শ্রম আইন, ২০১৯ অনুযায়ী কর্মীদের পাওনা পরিশোধ করা হচ্ছে। কোম্পানিটি একক কোনো অর্থ পরিশোধের বদলে কর্মীদের জন্য পৃথক কয়েকটি পাওনার কথা উল্লেখ করেছে।
- বকেয়া বেতন, ওভারটাইম ও অন্যান্য ভাতা।
- অব্যবহৃত অর্জিত ছুটির অর্থ।
- নোটিশের অর্থ ও চাকরিকালীন সুবিধা।
- মুনাফাসহ প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ।
চাকরির অবসানজনিত অর্থের মধ্যে নোটিশের অর্থ কর্মীকে নোটিশকালীন সময়ের ক্ষতিপূরণ দেয়। প্রভিডেন্ট ফান্ড হলো চাকরির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সঞ্চয়ব্যবস্থা। চাকরির মেয়াদ, বেতন, অব্যবহৃত ছুটি ও তহবিলে জমার পরিমাণ কর্মীভেদে আলাদা হওয়ায় চূড়ান্ত পাওনার হিসাবও ভিন্ন হতে পারে।
কোম্পানি জানিয়েছে, চূড়ান্ত পাওনার অর্থ কর্মীদের ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হচ্ছে। কর্মীরা তাঁদের প্রাপ্য উল্লেখ করা বেতনপত্র, অভিজ্ঞতার সনদ এবং সুপারিশপত্রও পাচ্ছেন। অন্য কোথাও চাকরির আবেদন করার সময় এসব সনদ ও চিঠি তাঁদের কর্মসংস্থানের প্রমাণ হিসেবে কাজে আসতে পারে।
বেপজার কর্মকর্তারা বলেন, প্রথম দফার অর্থ দেওয়ার তিন সপ্তাহের মধ্যে সব পাওনা পরিশোধ করা হবে। কোম্পানির এক কর্মকর্তা পাওনা পরিশোধের শেষ তারিখ হিসেবে ১৫ নভেম্বর উল্লেখ করেছেন। উভয় বক্তব্যেই ধাপে ধাপে পাওনা মেটানোর কথা বলা হয়েছে, যেখানে কাটিং বিভাগের পর অন্য বিভাগগুলোর কর্মীদের পাওনা দেওয়া হবে।
যেভাবে এগোচ্ছে কারখানা বন্ধের প্রক্রিয়া
ইউনিট-১ বন্ধের প্রক্রিয়ায় কয়েকটি ধাপ রয়েছে: উৎপাদন বন্ধ, কর্মীদের পাওনা পরিশোধ, প্রয়োজনীয় অনুমোদন নেওয়া, পুরোনো কাঠামো ভাঙা এবং নতুন কারখানা নির্মাণ। কর্মীদের কারখানা ছাড়ার বিষয়ে উল্লেখ করা তারিখগুলো এই প্রক্রিয়ার বিভিন্ন অংশের সঙ্গে সম্পর্কিত।
- ১৯৮৪: প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপ ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করে।
- ১৯৯২-৯৩: প্যাসিফিক জিন্স লিমিটেড সিইপিজেডে কার্যক্রম শুরু করে।
- ১৯৯৪: পরে ইউনিট-১ হওয়া কারখানাটিতে উৎপাদন শুরু হয়।
- ৩১ অক্টোবর: কোম্পানি ধাপে ধাপে কর্মসংস্থানের অবসান শুরু করে; কাটিং বিভাগের ৫০৯ জন কর্মী তাঁদের পাওনা বুঝে পান।
- ৩ নভেম্বর: এক কর্মী জানান, এ তারিখ পর্যন্ত কাজ চলার কথা ছিল।
- ১৫ নভেম্বর: কোম্পানির এক কর্মকর্তা এটিকে কর্মীদের পাওনা পরিশোধের শেষ তারিখ হিসেবে উল্লেখ করেন; বেপজা জানায়, পাওনা পরিশোধে তিন সপ্তাহ সময় লাগবে।
কোম্পানি ভবনগুলোর বয়স আনুমানিক ৩৪ বছর বলে উল্লেখ করেছে। এম নাসির উদ্দিনের অধীনে ইউনিট-১ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এটি সিইপিজেডে গ্রুপের প্রথম উৎপাদনকেন্দ্র। ফলে এ কারখানা বন্ধের মধ্য দিয়ে ব্যবসার শুরুর দিকের সম্প্রসারণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একটি স্থানে কার্যক্রমের অবসান ঘটছে।
সেলাই, ওয়াশিং ও অন্যান্য বিভাগের কর্মীদের পাওনা পরিশোধের পর বিদায় দেওয়া হচ্ছে। বিভাগভিত্তিক এ প্রক্রিয়ার কারণেই প্রথম দফায় চাকরির অবসান ও সম্ভাব্য শেষ কর্মদিবসের তারিখ আলাদা।
কর্মীদের অন্য কারখানায় সরানো হয়নি কেন
প্যাসিফিক জিন্স গ্রুপের অন্য কারখানাগুলো চালু থাকলেও, প্রভাবিত কর্মীরা সম্মিলিতভাবে অন্য কারখানায় যাচ্ছেন না; বরং ইউনিট-১-এ তাঁদের চাকরি হারাচ্ছেন। কোম্পানির প্রতিনিধিরা জানান, গ্রুপের ভেতরে আগের বিরোধের কারণে কর্মীদের অন্য কারখানায় স্থানান্তর করা হয়নি।
তাঁদের বক্তব্য অনুযায়ী, প্যাসিফিকের কয়েকটি কারখানার কর্মীরা সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রতিবাদ করেছিলেন এবং এক কারখানা থেকে আরেক কারখানায় তাঁদের স্থানান্তর না করার দাবি জানিয়েছিলেন। কোম্পানির ভাষ্য, এতে ইউনিট-১-এর কর্মীদের গ্রুপের অন্য কারখানা প্যাসিফিক অ্যাটায়ার্স লিমিটেডে নিয়োগের উদ্যোগ ব্যাহত হয়। ওই কারখানার কার্যক্রম প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয়েছিল।
স্থানান্তর নিয়ে বিরোধটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অন্য কারখানা থাকা সত্ত্বেও চাকরির অবসান ঘটানোর পেছনে কোম্পানির দেওয়া কারণটি তা ব্যাখ্যা করে। এখন প্রভাবিত কর্মীদের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, তা হলো নতুন ইউনিট-১ চালু হলে নিয়োগের ক্ষেত্রে তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
মাহমুদা বেগম বলেন, কর্মীরা তাঁদের পাওনা ও চাকরির সনদ পাচ্ছেন। কর্মীদের বিদায় দেওয়ার সময়কার পরিস্থিতিও তিনি বর্ণনা করেন:
পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ম মেনে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। কর্মীদের মধ্যে কোনো অসন্তোষ নেই।
প্রাথমিক দফার পাওনা দেওয়ার সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর বক্তব্য। কারখানা ছেড়ে যাওয়া কর্মীদের সামনে এখনো বাস্তব চ্যালেঞ্জ রয়েছে: পুরোনো স্থাপনা সরিয়ে নতুন করে নির্মাণের সময় অন্য আয়ের উৎস খুঁজে বের করা।
নতুন কারখানায় কর্মসংস্থান দ্বিগুণ হতে পারে
একই স্থানে একাধিক তলাবিশিষ্ট একটি আধুনিক কারখানা নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে প্যাসিফিক জিন্স। কোম্পানির ভাষ্য, পরিবেশগত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ভবনটির নকশা করা হবে এবং কারখানাটি চালু হলে প্রায় ১০,০০০ কর্মসংস্থান হতে পারে।
প্রভাবিত কর্মীর সংখ্যা নিয়ে কোম্পানির বর্তমান ৫,০০০ জনের হিসাবের তুলনায় প্রস্তাবিত কর্মীবাহিনী হবে দ্বিগুণ। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এবং নিয়োগ প্রস্তাবিত সংখ্যায় পৌঁছালে ওই স্থানে প্রায় আরও ৫,০০০ কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
কোম্পানির এক কর্মকর্তা বলেন, দেড় বছরের মধ্যে পুনর্নির্মাণকাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কোম্পানির সামগ্রিক বক্তব্যে নির্দিষ্ট কোনো সমাপ্তির তারিখ দেওয়া হয়নি। ভবন ভাঙা ও পুনর্নির্মাণের কাজ প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং আরএসসির নির্দেশনার ওপর নির্ভর করবে।
প্যাসিফিক জিন্স জানিয়েছে, নিয়োগ শুরু হলে বর্তমান কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তবে নিয়োগের বিস্তারিত সময়সূচি বা অগ্রাধিকার কীভাবে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। এখন চূড়ান্ত পাওনা গ্রহণকারী কর্মীদের জন্য প্রস্তাবিত চাকরিগুলো ভবিষ্যতের সম্ভাবনা হয়েই রয়েছে।
তাৎক্ষণিকভাবে কাজের ধাপগুলো স্পষ্ট: প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ ভবন ভেঙে ফেলা এবং এরপর নতুন কারখানা নির্মাণ। এসব ধাপ শেষে নতুন কারখানায় কর্মসংস্থান শুরু হবে।
প্যাসিফিকের অন্য কারখানাগুলোতে উৎপাদন চলছে
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গ্রুপটির সামগ্রিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার গুজব নাকচ করেছে প্যাসিফিক জিন্স ও বেপজা। বেপজার জনসংযোগ বিভাগের নির্বাহী পরিচালক আবু সাঈদ মো. আনোয়ার পারভেজ বলেন, একটি ভবন বন্ধ হওয়াকে কেন্দ্র করে অন্য কারখানাগুলো নিয়েও ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়েছে, যদিও সেগুলো চালু রয়েছে।
১০টি কোম্পানি বা ইউনিট মিলিয়ে গ্রুপটিতে ৩৫,০০০-এর বেশি কর্মী ও কর্মকর্তা কাজ করেন। প্রভাবিত ইউনিট-১-এর বাইরে থাকা নয়টি কারখানায় কাজ করেন প্রায় ৩০,০০০ জন। ১০টি ইউনিটে সম্মিলিতভাবে বছরে প্রায় ৫০ মিলিয়ন পোশাক উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
এই পরিসংখ্যান দেখায়, কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তটি স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের জন্য বড় ঘটনা হলেও গ্রুপের সামগ্রিক ব্যবসার একটি সীমিত অংশকে প্রভাবিত করছে। একটি কারখানা থেকে প্রায় ৫,০০০ কর্মী চলে যাচ্ছেন, আর অন্য কারখানাগুলোতে অনেক বেশি কর্মী উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছেন। ৫০ মিলিয়ন সংখ্যাটি পুরো ব্যবসার বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা বোঝায়; ইউনিট-১ বন্ধ হওয়ায় উৎপাদন কতটা কমবে, সে বিষয়ে কোম্পানি কোনো হিসাব দেয়নি।
প্রভাবিত কর্মীদের জন্য পরবর্তী নির্দিষ্ট ধাপ হলো অবশিষ্ট পাওনা পরিশোধ এবং তাঁদের বর্তমান চাকরির অবসান। কোম্পানির জন্য পরবর্তী ধাপগুলো হলো বড় কারখানা নির্মাণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আগে ভবন ভাঙার অনুমোদন নেওয়া এবং পুনর্নির্মাণের কাজ করা।
মূল বিষয়গুলো
- প্রকৌশলগত মূল্যায়নে কাঠামোগত ব্যর্থতার ঝুঁকি শনাক্ত হওয়ার পর প্যাসিফিক জিন্স সিইপিজেডে ইউনিট-১ বন্ধ করছে।
- কোম্পানি ও পুলিশের হিসাবে প্রায় ৫,০০০ কর্মী প্রভাবিত হচ্ছেন; বিজিএমইএর নামে প্রচারিত তথ্যে সংখ্যাটি প্রায় ৫,৫০০।
- ৩১ অক্টোবর কাটিং বিভাগের প্রথম ৫০৯ জন কর্মী তাঁদের পাওনা পান; অন্যান্য বিভাগের কর্মীদের ধাপে ধাপে পাওনা দেওয়া হচ্ছে।
- প্যাসিফিক জিন্স বলেছে, পাওনার মধ্যে রয়েছে বেতন, ওভারটাইম, অব্যবহৃত ছুটির অর্থ, নোটিশের অর্থ, চাকরিকালীন সুবিধা এবং মুনাফাসহ প্রভিডেন্ট ফান্ডের অর্থ।
- গ্রুপের অন্য নয়টি কারখানা চালু রয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৩০,০০০ মানুষ কাজ করেন।
- নতুন কারখানায় প্রায় ১০,০০০ কর্মী নিয়োগ হতে পারে; বর্তমান কর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
- কোম্পানির এক কর্মকর্তা পুনর্নির্মাণে দেড় বছর লাগবে বলে ধারণা দিয়েছেন, তবে নির্দিষ্ট সমাপ্তির তারিখ জানানো হয়নি।






