ছেলেদের ঘিরে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত হালনাগাদ
ক্রিস অ্যাকুইনো বলেছেন, অটোইমিউন রোগ নিয়ে জীবনযাপন অব্যাহত থাকায় তাঁর দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের প্রতি আরও বেশি চিকিৎসাগত নজর দেওয়া প্রয়োজন। পরিবারের যত্নে সহায়তাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে নতুন উদ্বেগের কথাও শেয়ার করেছেন তিনি।
সূচিপত্র
২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক ইনস্টাগ্রাম পোস্ট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সাবেক এই টেলিভিশন উপস্থাপক বলেন, তাঁর দুটি অটোইমিউন রোগ কোনো সতর্কতা ছাড়াই সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। কোন অঙ্গগুলোর কথা বলছেন, উদ্বেগের পেছনে চিকিৎসাগত পরীক্ষায় কী পাওয়া গেছে, কিংবা নতুন কোনো চিকিৎসার বিস্তারিত তিনি জানাননি।
এ বছর ৫৫ বছর বয়সে পা রাখা অ্যাকুইনো ব্যাখ্যা করেন, কেন তিনি নিজের স্বাস্থ্য নিয়ে খোলাখুলি কথা বলে যাচ্ছেন:
আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সৎ থাকব, তবে সব সময় বিশ্বাস রাখব এবং হাল ছাড়ব না। আমার দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের প্রতি আরও বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন, কারণ প্রতিরোধই সব সময় সবচেয়ে ভালো পদক্ষেপ।
বড় ছেলে জশের সঙ্গে একটি ছবিও ছিল পোস্টটিতে। অসুস্থ থাকলে জশকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ায় ঘনিষ্ঠ বন্ধু অ্যান বিনয় ও বিনয় পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান অ্যাকুইনো। তাঁর বার্তার কেন্দ্রে ছিল পরিবারের পাশে থাকার এই বাস্তব সহায়তা।
বয় আবুন্দার সঙ্গে এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে অ্যাকুইনো নিজের মৃত্যুর সম্ভাবনাকে মেনে নেওয়ার পাশাপাশি সন্তানদের সঙ্গে আরও কিছু বছর কাটানোর আশার কথাও বলেন। আপাতত তাঁর সহজ চাওয়া—৬০ বছর বয়সে পৌঁছানো। ২০২৭ সালে আবুন্দার সঙ্গে আরেকটি প্রকল্প করা এবং দুই ছেলের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোতে উপস্থিত থাকার আশাও প্রকাশ করেন তিনি।
স্বাস্থ্য নিয়ে অ্যাকুইনোর বক্তব্য
অঙ্গগুলোর প্রতি আরও বেশি নজর দেওয়াকে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরেছেন অ্যাকুইনো। তাঁর বক্তব্যে ছিল স্বাস্থ্য সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণে রাখার কথা, কারণ তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, রোগগুলো যেকোনো সময় সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
অটোইমিউন রোগে রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা—যা সাধারণত সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করে—ভুল করে সুস্থ টিস্যুর ওপর আক্রমণ করে। ভিন্ন ভিন্ন রোগ শরীরের ভিন্ন ভিন্ন অংশে প্রভাব ফেলতে পারে। রোগের উপসর্গ বেড়ে যাওয়া বা রোগটি আরও সক্রিয় হয়ে ওঠার সময়কালকে ফ্লেয়ার বলা হয়।
অ্যাকুইনো বিশেষভাবে এমন দুটি অটোইমিউন রোগের কথা বলেছেন, যেগুলো কোনো সতর্কতা ছাড়াই আক্রমণ করতে পারে। এই পোস্টে তিনি রোগ দুটির নাম জানাননি। তাঁর বর্ণনা থেকে পাঠকেরা তাঁর অভিজ্ঞতার অনিশ্চয়তা সম্পর্কে ধারণা পান; তবে চিকিৎসাগত মূল্যায়নের দায়িত্ব তিনি তাঁর চিকিৎসা দলের ওপরই রেখেছেন।
প্রতিরোধের প্রসঙ্গটি তাঁর কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ, সেটিও স্পষ্ট: সম্ভাব্য সমস্যাগুলো শুরুতেই শনাক্ত করার জন্য তিনি নজরদারি চান। পরবর্তী পরীক্ষা বা আরেকটি স্বাস্থ্যসংক্রান্ত ঘোষণার কোনো সময়সূচি এই বার্তায় দেওয়া হয়নি।
জশের জন্য অ্যান বিনয়ের বাড়ি
অ্যান বিনয় ও তাঁর পরিবার অ্যাকুইনোকে বাস্তব আশ্বাস দিয়েছেন: মা অসুস্থ থাকলে জশ সেখানে থাকতে পারে। বড় ছেলেকে সরাসরি সম্বোধন করে এই সহায়তার জন্য পরিবারটির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান অ্যাকুইনো।
জশের জন্য এই ব্যবস্থার অর্থ ব্যাখ্যা করার আগে অ্যানকে তাঁর সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ ও প্রিয় বন্ধুদের একজন বলে উল্লেখ করেন অ্যাকুইনো:
আমার শরীর ভালো না থাকলে, তাদের বাড়িই তোমার বাড়ি হয়ে যায়।
ছবির সঙ্গে তাদের জীবনের এক সাধারণ ঘটনার কথাও ছিল। অ্যাকুইনো জানান, সম্প্রতি তাঁর ও জশের—দুজনেরই চোখের কাছে পোকা কামড়েছিল। বিনয় পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি এই প্রসঙ্গ তুলে ধরে গুরুতর স্বাস্থ্যসংবাদের পোস্টে পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের একটি মুহূর্তও এনেছেন তিনি।
অ্যাকুইনোর শেয়ার করা আপডেটগুলোতে জশ ও বিমবির অবস্থান ভিন্ন। ইনস্টাগ্রামের বার্তায় জশের জন্য কী সহায়তা রয়েছে, তা বলেছেন তিনি; আর আবুন্দার সঙ্গে কথোপকথনে অসুস্থতার সময় বিমবির মানসিক চাপের কথা বলেছেন। তাঁর কথাগুলো একসঙ্গে দেখায়, স্বাস্থ্য কীভাবে পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের জন্য ব্যবস্থা ও আশার ওপর প্রভাব ফেলে।
জশকে নিয়ে মন্তব্যের পর জনসমর্থন
মাচোং চিসমিসান পডকাস্টে জশকে নিয়ে সংবেদনহীন মন্তব্যের পর সম্প্রতি সে জনসমর্থন পেয়েছিল। মন খারাপ হলে যারা তার পাশে দাঁড়িয়েছিল, তাদের কথা মনে রাখতে ছেলেকে উৎসাহিত করেন অ্যাকুইনো।
জশকে উদ্দেশ করে ব্যক্তিগত ভাষায় সেই সমর্থনের ব্যাপ্তি তুলে ধরেন অ্যাকুইনো:
তোমার মন খারাপ হলে মনে রেখো, কয়েক দিনের জন্য ফিলিপাইনের ৯৮ শতাংশ মানুষ তোমার পাশে ছিল? আমরা সত্যিই অনেক আশীর্বাদ পেয়েছি।
ছেলের পাশে দাঁড়ানো মানুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেই এই শতাংশের উল্লেখ করেন অ্যাকুইনো। তাঁর বার্তায় জশ যেন এই সমর্থন থেকে সান্ত্বনা পায়, সেই কথাই গুরুত্ব পেয়েছে।
অ্যাকুইনোর স্বাস্থ্য নিয়ে যিনি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন, সেই টেলিভিশন উপস্থাপক বয় আবুন্দাও পডকাস্টের মন্তব্যগুলোর নিন্দা করেন। পরে মাচোং চিসমিসান ও দ্য পড নেটওয়ার্ক ক্ষমা চায় এবং পর্বটি ও এ-সংক্রান্ত ক্লিপগুলো সরিয়ে দেয়।
অ্যাকুইনোর পোস্টে জনসাধারণের উৎসাহের সঙ্গে পরিবারের ব্যক্তিগত সহায়তার কথাও যুক্ত হয়েছে। জশের প্রতি সমর্থনের বার্তা এবং তার থাকার জন্য আস্থার একটি বাড়ি—কঠিন সময়ে অন্যরা কীভাবে পাশে দাঁড়িয়েছে, সে বর্ণনার দুটিই অংশ।
৫৫ বছর বয়সে আরও পাঁচ বছর বাঁচার আশা অ্যাকুইনোর
ফাস্ট টক উইথ বয় আবুন্দা অনুষ্ঠানে এসে জীবন ও মৃত্যু নিয়ে আরও সরাসরি কথা বলেন অ্যাকুইনো। তিনি বলেন, ঘুমিয়ে পড়ে আর না-জাগার সম্ভাবনাটি মেনে নিয়েছেন; রাতে এই উপলব্ধির মুখোমুখি হন তিনি।
আশার কথা জানতে চাইলে সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন অ্যাকুইনো:
আশা করি ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত বাঁচব।
এ বছর ৫৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর ৬০-এ পৌঁছানো মানে আরও পাঁচ বছর বাঁচা। পরিবারের সঙ্গে আরও সময় কাটানোর আকাঙ্ক্ষায় একটি নির্দিষ্ট বয়স উল্লেখ করে ৬০-কে ব্যক্তিগত আশা হিসেবে তুলে ধরেছেন অ্যাকুইনো।
জীবনের শেষ সময় হাসপাতালে কাটাতে চান এবং বিমবিকে সেখানে উপস্থিত রাখতে চান না বলেও জানান তিনি। অ্যাকুইনো ব্যাখ্যা করেন, এই কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বিমবি ইতিমধ্যে তাঁর সঙ্গে সাড়ে পাঁচ বছর পার করেছে।
ছোট ছেলেকে সেই মুহূর্ত থেকে দূরে রাখতে চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে অ্যাকুইনো বলেন:
আর, ওর মতো এত অল্পবয়সী কারও জন্য, সেটা অনেক বেশি।
তাঁর কথায় ছিল নিজের পরিস্থিতি মেনে নেওয়া এবং সন্তানের জন্য উদ্বেগ—দুটিই। নিজের মৃত্যুর সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলার সময়ও অভিজ্ঞতাটি বিমবির ওপর কী প্রভাব ফেলতে পারে, তা নিয়েই ভাবছিলেন তিনি।
বিয়েতে পাশে থাকার ইচ্ছা ও ২০২৭ সালে ফের একসঙ্গে কাজের আশা
একই সাক্ষাৎকারে বিমবি ভবিষ্যতের অন্য একটি ছবি তুলে ধরে: বিয়ের সময় মা যেন তাকে আইলের পথে এগিয়ে দেন, এটাই তার ইচ্ছা। পরিবারের এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে মাকে পাশে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ছিল তার কথায়; আর অ্যাকুইনোর নিজের বক্তব্যে গুরুত্ব পেয়েছে আরও কিছু সময় পাওয়ার আশা।
২০২৭ সালে আবুন্দার সঙ্গে আবার কাজ করার আশাও প্রকাশ করেন অ্যাকুইনো। দুজনের পুনর্মিলনের সম্ভাব্য উপায় হিসেবে একটি টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠান বা পডকাস্টের কথা বলেন তিনি।
কীভাবে পরিকল্পনাটি করা যায়, সে বিষয়ে আবুন্দাকে অ্যাকুইনো বলেন:
২০২৭ সালে আমরা দুজন আবার একসঙ্গে হব, সেটা শুধু একটি বিশেষ অনুষ্ঠানই হোক, কিংবা আমাদের নিজেদের পডকাস্ট—আমরা আবার একসঙ্গে থাকব।
সম্প্রতি তাঁরা দুই পর্বের একটি টেলিভিশন বিশেষ অনুষ্ঠানে আবার একসঙ্গে হয়েছিলেন, যা আবুন্দার অনুষ্ঠানে সপ্তাহব্যাপী জন্মদিন উদযাপনের অংশ ছিল। ২০২৭ সালের প্রকল্পটি তাঁদের কথোপকথনে প্রকাশ করা একটি আশা; এর ধরন এখনো ঠিক হয়নি।
প্রকাশ্যে উঠে আসা ঘটনাগুলোর প্রধান দিকগুলো হলো:
- ২৮ অক্টোবর, ২০২৬: অ্যাকুইনোর ইনস্টাগ্রাম পোস্ট নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দুটি অঙ্গ নিয়ে তাঁর উদ্বেগ এবং জশের জন্য সহায়তার ব্যবস্থা করায় তাঁর কৃতজ্ঞতার কথা উঠে আসে।
- ফাস্ট টক উইথ বয় আবুন্দা অনুষ্ঠানে: ৬০ বছর বয়সে পৌঁছানোর আশা, জীবনের শেষ সময়ে নিজের পছন্দ এবং বিমবির ওপর মানসিক চাপ নিয়ে কথা বলেন অ্যাকুইনো।
- ২০২৭: আরেকটি বিশেষ অনুষ্ঠান বা পডকাস্টে আবুন্দার সঙ্গে আবার কাজ করার আশা অ্যাকুইনোর।
অসুস্থতার বছরের পর বছরেও বিশ্বাস ও কৃতজ্ঞতা
যাঁরা তাঁর জন্য প্রার্থনা করেন এবং উৎসাহের বার্তা পাঠান, তাঁদের ধন্যবাদ জানান অ্যাকুইনো। স্বাস্থ্য ও পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখোমুখি হওয়ার ক্ষেত্রে বিশ্বাস এখনো তাঁর কাছে কেন্দ্রীয় বলে জানান তিনি।
ইনস্টাগ্রাম বার্তায় সেই বিশ্বাসকে সন্তানদের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করেন অ্যাকুইনো:
আমি যিশুর ওপর আস্থা রাখব, কারণ তাঁর ইচ্ছাই সব সময় আমার জন্য নয়, আমার দুই ছেলের জন্যও সবচেয়ে ভালো।
যাঁরা বলেন, তাঁর অভিজ্ঞতা তাঁদের লড়াই চালিয়ে যেতে সাহায্য করেছে, তাঁদের বার্তা বিশেষভাবে অর্থবহ বলে জানান অ্যাকুইনো। নিজের স্থিরতা অন্যদেরও উৎসাহ দিয়েছে—এ কথা শুনে তিনি কৃতজ্ঞ বলে জানান।
গত পাঁচ বছরের দিকে ফিরে তাকিয়ে, যে মানসিক দৃষ্টিভঙ্গিকে তিনি মূল্য দিতে শিখেছেন, তা এভাবে তুলে ধরেন:
তৃপ্তি আর কৃতজ্ঞতা—এই পাঁচ বছরে আমার হৃদয় এ দুটিকেই গ্রহণ করতে শিখেছে।
অ্যাকুইনোর সাম্প্রতিক বক্তব্যে একসঙ্গে এসেছে আরও চিকিৎসাগত নজরদারির প্রয়োজন, জশের যত্নে সহায়তা এবং বিমবি ও আবুন্দাকে ঘিরে আশা। গুরুতর উদ্বেগের কথা বলার পাশাপাশি, কোন কোন বিষয়ে উপস্থিত থাকতে চান, সেগুলোও নির্দিষ্ট করে জানিয়েছেন তিনি।
মূল বিষয়গুলো
- অ্যাকুইনো বলেছেন, তাঁর দুটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের প্রতি আরও চিকিৎসাগত নজর দেওয়া প্রয়োজন; তবে অঙ্গগুলোর নাম জানাননি।
- তিনি বলেছেন, দুটি অটোইমিউন রোগ কোনো সতর্কতা ছাড়াই সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
- অ্যাকুইনো অসুস্থ থাকলে অ্যান বিনয় ও তাঁর পরিবার জশকে তাদের বাড়িতে স্বাগত জানায়।
- জশকে নিয়ে মন্তব্যের জন্য মাচোং চিসমিসান ও দ্য পড নেটওয়ার্ক ক্ষমা চেয়েছে এবং পর্বটি ও এ-সংক্রান্ত ক্লিপগুলো সরিয়ে দিয়েছে।
- ৫৫ বছর বয়সী অ্যাকুইনো ৬০ বছর পর্যন্ত বাঁচার আশা করেন। বিয়ের সময় মা যেন তাকে আইলের পথে এগিয়ে দেন, বিমবির এই ইচ্ছা।
- ২০২৭ সালে বয় আবুন্দার সঙ্গে আবার কাজ করার আশা অ্যাকুইনোর; বিশেষ অনুষ্ঠান বা পডকাস্ট হতে পারে সম্ভাব্য মাধ্যম।






