অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অর্ধেক এসেছে সেবা খাত থেকে
জাতীয় পরিসংখ্যান কমিটির প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উজবেকিস্তানের অর্থনীতি প্রকৃত হিসাবে ৮.৩% বেড়েছে। এই প্রবৃদ্ধিতে সেবা খাতের অবদান ৪.২ শতাংশ পয়েন্ট। বর্তমান মূল্যে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) দাঁড়িয়েছে ১,৭৫৫.৫ ট্রিলিয়ন সোমে। এ সময়ে রপ্তানি কমেছে, আর আমদানি বেড়েছে।
সূচিপত্র
- অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অর্ধেক এসেছে সেবা খাত থেকে
- সর্বশেষ পরিসংখ্যানের তুলনা
- দাম ও মাথাপিছু জিডিপি থেকে যা বোঝা যায়
- অতিরিক্ত উৎপাদন এসেছে যেসব খাত থেকে
- শিল্প সম্প্রসারণে এগিয়ে উৎপাদন খাত
- ভবন ছাড়িয়ে নির্মাণ খাতের সম্প্রসারণ
- বাণিজ্য, পরিবহন ও ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ
- কৃষির অংশ কমলেও খামারের উৎপাদন বেড়েছে
- বিনিয়োগ বেড়েছে, বাণিজ্য ঘাটতি ১৩.৮ বিলিয়ন ডলার
- মূল্য সংযোজনের অর্ধেকের বেশি ক্ষুদ্র ব্যবসার
- অপর্যবেক্ষিত অর্থনীতির অংশ কমেছে
- মূল বিষয়গুলো
২০২৬ সালের ৩০ অক্টোবর প্রকাশিত পরিসংখ্যানে দেখা যায়, একাধিক খাতের হাত ধরে অর্থনীতি সম্প্রসারিত হয়েছে। জিডিপির হিসাবে শিল্প খাত বেড়েছে ৮.১%, নির্মাণ ১২.৫% এবং কৃষি, বন ও মৎস্য খাত ৪.৬%। তথ্য ও যোগাযোগ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল উল্লেখযোগ্য দ্রুত, ২১.৬%; এরপর রয়েছে বাণিজ্য খাত, ১৭.৩%।
জিডিপি একটি অর্থনীতিতে সৃষ্ট মূল্যের পরিমাপ। প্রকৃত প্রবৃদ্ধির হিসাবে দামের পরিবর্তন সমন্বয় করা হয়। তাই শিরোনামে উল্লেখিত প্রবৃদ্ধি বলতে দাম বাড়ার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়ার পর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের বৃদ্ধি বোঝায়। বর্তমান সোমে হিসাব করা মোট অঙ্কে উৎপাদন ও দাম, দুটিই প্রতিফলিত হয়।
মাথাপিছু জিডিপি প্রকৃত হিসাবে ৬.৪% বেড়েছে, যা মোট জিডিপির প্রবৃদ্ধির চেয়ে কম। এদিকে ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো অর্থনীতির মোট মূল্য সংযোজনের ৫৩.৮% তৈরি করেছে। এতে বোঝা যায়, উৎপাদনের বড় অংশ শুধু বড় কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল নয়; ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ।
সর্বশেষ পরিসংখ্যানের তুলনা
জনশুমারি ও কৃষিশুমারির ফলাফলের ভিত্তিতে জাতীয় পরিসংখ্যান কমিটি ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ের পরিসংখ্যান সংশোধন করেছে। হালনাগাদ তুলনায় ২০২৫ সালে প্রবৃদ্ধি ৮.০% এবং ২০২৪ সালে ৬.১% দেখানো হয়েছে।
সে হিসাবে উজবেকিস্তানের সর্বশেষ প্রবৃদ্ধির হার ২০২৫ সালের চেয়ে ০.৩ শতাংশ পয়েন্ট এবং ২০২৪ সালের চেয়ে ২.২ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। গুরুত্বপূর্ণ তারিখ ও তুলনা:
- জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০২৪: জিডিপি ছিল ১,২২৪.৪ ট্রিলিয়ন সোম; প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ৬.১%।
- জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০২৫: জিডিপি ছিল ১,৪৯৪.৯ ট্রিলিয়ন সোম; প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ৮.০%।
- জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০২৬: জিডিপি ছিল ১,৭৫৫.৫ ট্রিলিয়ন সোম; প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ৮.৩%।
- ৩০ অক্টোবর ২০২৬: সর্বশেষ সময়ের প্রাথমিক পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়।
২০২৬ সালের পরিসংখ্যান এখনো প্রাথমিক। কমিটি হিসাব হালনাগাদ করলে এগুলো পরিবর্তিত হতে পারে।
দাম ও মাথাপিছু জিডিপি থেকে যা বোঝা যায়
বর্তমান মূল্যে জিডিপি বেড়েছে প্রায় ১৭.৪%। ১,৪৯৪.৯ ট্রিলিয়ন থেকে ১,৭৫৫.৫ ট্রিলিয়ন সোমে বৃদ্ধির হিসাব থেকে এই হার পাওয়া যায়। দাম পরিবর্তনের প্রভাব সমন্বয়ের পর প্রকৃত প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৮.৩%।
২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় জিডিপি ডিফ্লেটর ছিল ১০৮.৪%। অর্থাৎ, অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের পরিমাপে ব্যবহৃত সামগ্রিক মূল্যসূচক ৮.৪% বেড়েছে। খাতগুলোর মধ্যে শিল্পের ডিফ্লেটর ছিল সর্বোচ্চ, ১১২.১%; এরপর অন্যান্য সেবা কার্যক্রম, ১০৯.৭%। পরিবহন, সংরক্ষণ, তথ্য ও যোগাযোগের সম্মিলিত শ্রেণির ডিফ্লেটর ছিল ১০৩.১%।
২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভোক্তামূল্য ৪.২% বেড়েছে। এই সূচকে পরিবারের কেনাকাটার হিসাব করা হয়। অন্যদিকে, জিডিপি ডিফ্লেটর অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের মূল্য পরিমাপ করে এবং ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসের সঙ্গে তুলনা করে। ফলে এই দুই সূচকে ভিন্ন পণ্য ও সেবার তালিকা এবং ভিন্ন সময়কাল প্রতিফলিত হয়।
খাদ্যের দাম বেড়েছে ২.৯%, খাদ্যবহির্ভূত পণ্যের ৪.৬% এবং সেবার ৫.৬%। বিমা ও আর্থিক সেবার মূল্যসূচক ছিল ১৪৩.৯%, যা ডিসেম্বরের তুলনায় ৪৩.৯% বৃদ্ধির সমান। আবাসন, পরিষেবা, খাদ্য এবং অ্যালকোহলবিহীন পানীয় মিলিয়ে ভোক্তামূল্য বৃদ্ধির প্রায় ৫৪% হয়েছে।
মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়িয়েছে ৪৪.৬৯২৩ মিলিয়ন সোমে। এক বছর আগে তা ছিল ৩৮.৭৪৬৮ মিলিয়ন সোম। এটি জনসংখ্যা দিয়ে অর্থনৈতিক উৎপাদন ভাগ করে পাওয়া হিসাব, প্রত্যেক ব্যক্তি যে পরিমাণ অর্থ পান তা নয়। নগদ অঙ্কের পরিবর্তন একা বিবেচনা করার চেয়ে প্রকৃত হিসাবে ৬.৪% বৃদ্ধি সময়ের সঙ্গে তুলনার জন্য বেশি কার্যকর।
অতিরিক্ত উৎপাদন এসেছে যেসব খাত থেকে
শিল্প এবং বাণিজ্য, আবাসন ও খাদ্যসেবার সম্মিলিত খাত—দুটিই জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ২.০ শতাংশ পয়েন্ট করে অবদান রেখেছে। পরিবহন, সংরক্ষণ, তথ্য ও যোগাযোগ যোগ করেছে ১.৪ পয়েন্ট। অন্যান্য সেবার অবদান ছিল ০.৮ পয়েন্ট। এতে সেবা খাতের মোট অবদান দাঁড়ায় ৪.২ পয়েন্ট, যা ৮.৩% প্রবৃদ্ধির অর্ধেকের সামান্য বেশি।
নির্মাণ যোগ করেছে ১.০ শতাংশ পয়েন্ট এবং কৃষি, বন ও মৎস্য খাতের অবদান ০.৭ পয়েন্ট। পণ্যের ওপর নিট কর—অর্থাৎ প্রযোজ্য কর থেকে ভর্তুকি বাদ দিলে যা থাকে—বাকি ০.৪ পয়েন্টের জোগান দিয়েছে।
অর্থনৈতিক খাতগুলোর মূল্য সংযোজন জিডিপির ৯৫.৯% ছিল; পণ্যের ওপর নিট কর ছিল ৪.১%। উৎপাদনে ব্যবহৃত পণ্য ও সেবার মূল্য বাদ দেওয়ার পর কোনো কর্মকাণ্ডে যে মূল্য সৃষ্টি হয়, তা-ই মূল্য সংযোজন। একই উৎপাদন যেন এক ব্যবসা থেকে অন্য ব্যবসায় যাওয়ার প্রতিটি ধাপে বারবার গণনা না হয়, সে জন্য কারখানার উপকরণ কেনার খরচ বাদ দেওয়া হয়।
খাতভিত্তিক মূল্য সংযোজনে শিল্পের অংশ ২৬.০% থেকে বেড়ে ২৬.৮% হয়েছে। নির্মাণের অংশ বেড়ে ৮.২% থেকে ৮.৩% হয়েছে। ৪৯.৪% নিয়ে সেবাই সবচেয়ে বড় খাত, যদিও এক বছর আগে তা ছিল ৪৯.৬%। কৃষি, বন ও মৎস্য খাতের অংশ ১৬.২% থেকে কমে ১৫.৫% হয়েছে। পণ্যের ওপর নিট কর যোগ করার আগের মূল্য সংযোজনের বণ্টনই এই অংশগুলোতে দেখানো হয়েছে।
শিল্প সম্প্রসারণে এগিয়ে উৎপাদন খাত
শিল্প খাতে মূল্য সংযোজন হয়েছে ৪৫০.৪ ট্রিলিয়ন সোম, যা ৮.১% বেশি। এর মধ্যে উৎপাদন খাতের অবদান ৩৭৩.১ ট্রিলিয়ন সোম এবং প্রবৃদ্ধি ৮.৬%। শিল্পের প্রবৃদ্ধিতে এই খাতই প্রধান চালিকাশক্তি ছিল।
বিদ্যুৎ, গ্যাস, বাষ্প ও শীতাতপনিয়ন্ত্রণ সরবরাহ খাত ১০.১% বেড়ে মূল্য সংযোজন করেছে ২৯.৮ ট্রিলিয়ন সোম। খনি ও পাথর উত্তোলন খাত ৩.১% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪.৪ ট্রিলিয়ন সোমে। পানি সরবরাহ, পয়ঃনিষ্কাশন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম ১.৬% বেড়ে হয়েছে ৩.১ ট্রিলিয়ন সোম।
শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ১,০৮৫.৭ ট্রিলিয়ন সোম মূল্যের পণ্য উৎপাদন করেছে। এই মোট উৎপাদনের ৮৬.৯% ছিল উৎপাদন খাতের; খনি খাতের অংশ ৬.৫%, বিদ্যুৎ ও সংশ্লিষ্ট সরবরাহের ৬.০% এবং পানি ও বর্জ্য কার্যক্রমের ০.৬%। মূল্য সংযোজনের হিসাব করতে উৎপাদনে ব্যবহৃত উপকরণের মূল্য বাদ দেওয়ার আগে উৎপাদিত পণ্যের যে মোট মূল্য গণনা করা হয়, সেটিই মোট উৎপাদন।
যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম উৎপাদন বেড়েছে ৪৮.৯%, অন্যান্য পরিবহন সরঞ্জাম ৩৩.৯% এবং অন্যান্য উৎপাদিত পণ্য ৩২.৩%। তামাক উৎপাদন কমেছে ১৬.৬%। এসব ফলাফলের ব্যবধান দেখায়, পণ্যভেদে শিল্পের সম্প্রসারণে বড় পার্থক্য ছিল।
ভবন ছাড়িয়ে নির্মাণ খাতের সম্প্রসারণ
নির্মাণ খাতে মূল্য সংযোজন হয়েছে ১৪০.২ ট্রিলিয়ন সোম; জিডিপির হিসাবে প্রবৃদ্ধি ছিল ১২.৫%। নির্মাণ কার্যক্রমের বিস্তৃত হিসাব অনুযায়ী, সম্পন্ন কাজের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩৩৯.৩২৮২ ট্রিলিয়ন সোম এবং প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২.৩%।
ভবন ও স্থাপনা নির্মাণ বেড়েছে ৬.৬%; সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ২৯.০% এবং বিশেষায়িত নির্মাণ কার্যক্রম ৩৩.১%। ভবন নির্মাণ এখনো সবচেয়ে বড় অংশ, যদিও এর ভাগ ৭৫.৩% থেকে কমে ৭১.৩% হয়েছে। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অংশ বেড়ে ১৮.১% এবং বিশেষায়িত কার্যক্রমের অংশ ১০.৬% হয়েছে।
ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান ও মাইক্রোফার্ম নির্মাণকাজের ৫০.৬% সম্পন্ন করেছে। বড় প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার অংশ ২৬.৪% এবং অনানুষ্ঠানিক কার্যক্রমের অংশ ২৩.০%। মূল্য সংযোজনের পৃথক হিসাবে নির্মাণ খাতে ক্ষুদ্র ব্যবসার অংশ ৭৫.৪%, যা খাতটির সম্প্রসারণে তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরে।
বাণিজ্য, পরিবহন ও ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ
সেবা খাতে মূল্য সংযোজন হয়েছে ৮৩১.০ ট্রিলিয়ন সোম, যা ৮.৯% বেশি। বাণিজ্য, আবাসন ও খাদ্যসেবা মিলিয়ে অবদান রেখেছে ২৪৭.১ ট্রিলিয়ন সোম; প্রবৃদ্ধি ১৫.১%। পরিবহন, সংরক্ষণ, তথ্য ও যোগাযোগ খাতে মূল্য সংযোজন হয়েছে ১৩৫.৪ ট্রিলিয়ন সোম, যা ১৮.১% বেশি।
খুচরা বাণিজ্যের মোট লেনদেন দাঁড়িয়েছে ৪৩২.১৬১২ ট্রিলিয়ন সোমে, যা ১৯.৭% বেশি। এই লেনদেনের ৭১.৯% ক্ষুদ্র ব্যবসার, ১৭.৮% বড় প্রতিষ্ঠানের এবং ১০.৩% অসংগঠিত বাণিজ্যের। বাণিজ্য খাতের মূল্য সংযোজনে মোটরযান বাদে খুচরা বাণিজ্য সবচেয়ে বড় কার্যক্রম, যার অংশ ৪৮.৩%; এরপর পাইকারি বাণিজ্য, ৪০.১%।
পরিবহন ও সংরক্ষণ খাত ১৬.১% বেড়েছে এবং জিডিপির ৫.০% জোগান দিয়েছে। খাতটির মূল্য সংযোজনে সড়ক পরিবহনের অংশ ৫৫.০% থেকে বেড়ে ৫৭.৪% হয়েছে। সহায়ক কার্যক্রমের অংশ ১৮.১%, আকাশপথে পরিবহনের ৮.৭%, রেলপথের ৮.৫% এবং পাইপলাইনের ৭.৩%।
তথ্য ও যোগাযোগ খাত বেড়েছে ২১.৬%। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সেবার অপেক্ষাকৃত সংকীর্ণ শ্রেণিতে মূল্য সংযোজন হয়েছে ৪৫.৫ ট্রিলিয়ন সোম। ২০২৫ সালে তা ছিল ৩৫.৮ ট্রিলিয়ন এবং ২০২৪ সালে ২৩.৭ ট্রিলিয়ন। খাতভিত্তিক মূল্য সংযোজনে এর অংশ ২০২৪ সালের ২.৩% থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ২.৭% হয়েছে।
কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, পরামর্শক সেবা ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে আইসিটি খাতের মূল্য সংযোজনের ৫৪.০% এসেছে। যোগাযোগ সেবার অংশ ২৯.২%, ডেটা হোস্টিং, প্রক্রিয়াকরণ ও ওয়েব পোর্টালের ১০.০%, সফটওয়্যার প্রকাশনার ৪.২% এবং সরঞ্জাম মেরামতের ২.৬%।
বাজারে সরবরাহ করা সেবার মূল্য ধরে হিসাব করা বাজারসেবা—জিডিপিতে অবদান নয়—মোট ১,০০৩.২ ট্রিলিয়ন সোমে পৌঁছেছে এবং বেড়েছে ১৬.৭%। আর্থিক সেবার প্রবৃদ্ধি ২২.০%, যোগাযোগ ও তথ্যসেবার ২১.৪% এবং বাণিজ্যসেবার ১৭.৪%।
কৃষির অংশ কমলেও খামারের উৎপাদন বেড়েছে
কৃষি, বন ও মৎস্য খাতে মূল্য সংযোজন হয়েছে ২৬১.৭ ট্রিলিয়ন সোম, যা ৪.৬% বেশি। অর্থনীতির অন্যান্য কার্যক্রম আরও দ্রুত সম্প্রসারিত হওয়ায় অর্থনীতিতে এই খাতের অংশ কমেছে। তবু জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে খাতটি ০.৭ শতাংশ পয়েন্ট অবদান রেখেছে।
কৃষি, বন ও মৎস্য খাতের মোট উৎপাদন ও সেবার মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৬৫.৩৪৬৭ ট্রিলিয়ন সোমে। ফসল ও পশুপালন, শিকার এবং সংশ্লিষ্ট সেবার অবদান ৪১৬.৩৪৪৭ ট্রিলিয়ন সোম; বন খাতের ৪১.২৫৩৩ ট্রিলিয়ন এবং মৎস্য খাতের ৭.৭৪৮৭ ট্রিলিয়ন।
শস্য উৎপাদন বেড়েছে ১৬.৩%, আলু ৬.৬%, তরমুজজাতীয় ফসল ৪.৫% এবং সবজি ৩.৬%। দেহকান ও পারিবারিক খামার—যার মধ্যে ছোট পারিবারিক কৃষি কার্যক্রম রয়েছে—কৃষি উৎপাদনের ৬২.২% জুগিয়েছে। অন্যান্য খামারের অবদান ২৬.৭% এবং কৃষি সংস্থার ১১.০%।
কৃষি খাতের মূল্য সংযোজনে ক্ষুদ্র ব্যবসার অংশ ৯৩.২%, প্রধান খাতগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। তাই খামারের কার্যক্রমে পরিবর্তন কৃষি উৎপাদনে প্রাধান্য বিস্তারকারী ছোট উদ্যোক্তাদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বিনিয়োগ বেড়েছে, বাণিজ্য ঘাটতি ১৩.৮ বিলিয়ন ডলার
স্থায়ী মূলধনে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৫৮৪.১৫৪২ ট্রিলিয়ন সোম। এক বছর আগের তুলনায় তা ১২০.১%-এ পৌঁছেছে, অর্থাৎ বেড়েছে ২০.১%। স্থায়ী মূলধনের বিনিয়োগ বলতে ভবন, যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামের মতো একাধিক বছর ব্যবহার করা হয় এমন সম্পদে বিনিয়োগ বোঝায়।
বিনিয়োগের ৬৩.৬% এসেছে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণ থেকে; এর মধ্যে শুধু প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের অংশ ৩৮.৯%। পরিবারের তহবিলের অবদান ১২.৩% এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের ১১.৬%। উজবেকিস্তানের গ্যারান্টিযুক্ত বিদেশি ঋণের অংশ আরও ৬.২%; প্রজাতন্ত্রের বাজেট জুগিয়েছে ৪.৩%।
বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ৬৫.৪ বিলিয়ন ডলার, যা ৬.৩% বেশি। রপ্তানি ৫.৫% কমে ২৫.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে; আমদানি ১৫.৭% বেড়ে হয়েছে ৩৯.৬ বিলিয়ন ডলার। আমদানি থেকে রপ্তানি বাদ দিলে বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়ায় ১৩.৮ বিলিয়ন ডলারে।
আমদানির ৩২.৫% ছিল যন্ত্রপাতি ও পরিবহন সরঞ্জাম, যা সবচেয়ে বড় শ্রেণি। এরপর উৎপাদিত পণ্যের অংশ ১৩.৮% এবং রাসায়নিক ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ১২.১%। আমদানির এই চিত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধির পাশাপাশি সরঞ্জাম কেনায় উল্লেখযোগ্য ব্যয় দেখা যায়।
রপ্তানি আয় কমা এবং বিদেশ থেকে কেনাকাটা বাড়ার সময়েই অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে। দেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে, আর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পণ্য ও সেবা কেনার মূল্য বিদেশি ক্রেতাদের কাছে বিক্রির চেয়ে দ্রুত বেড়েছে।
মূল্য সংযোজনের অর্ধেকের বেশি ক্ষুদ্র ব্যবসার
ক্ষুদ্র ব্যবসা ৯০৪.৮ ট্রিলিয়ন সোমের মূল্য সংযোজন করেছে, যা অর্থনৈতিক খাতগুলোর মোট মূল্যের ৫৩.৮%। তাদের অবদানের ৪৬.৭% এসেছে সেবা খাত থেকে, কৃষির ২৭.০%, শিল্পের ১৪.৬% এবং নির্মাণের ১১.৭%।
২০২৬ সালের ১ অক্টোবর উজবেকিস্তানে চালু প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সংখ্যা ছিল ৬ লাখ ২১ হাজার ১০০। এই নিবন্ধনে ছিল ৪ লাখ ৫৯ হাজার ১০০টি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান ও মাইক্রোফার্ম; এই উপশ্রেণিতে খামার ও দেহকান পরিবার অন্তর্ভুক্ত নয়। প্রথম নয় মাসে ৬৮ হাজার ৫০০টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে ৬৬ হাজার ৩০০টি ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান ও মাইক্রোফার্ম।
তাশখন্দ শহরে সবচেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা ছিল, ১ লাখ ১৮ হাজার ৮৬০টি। এরপর তাশখন্দ অঞ্চল ৫৯ হাজার ১৯১টি এবং সমরকন্দ অঞ্চল ৫৭ হাজার ২৩৭টি নিয়ে রয়েছে। কার্যক্রমের ধরন অনুযায়ী বাণিজ্যে সবচেয়ে বেশি প্রতিষ্ঠান ছিল, ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৫৫টি।
দেশটিতে বিদেশি পুঁজিতে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২২ হাজার ২৯টি। এর মধ্যে যৌথ উদ্যোগ ৪ হাজার ৮৫১টি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ১৭ হাজার ১৭৮টি। এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দেশীয় ক্ষুদ্র ব্যবসার অবদানও বড়।
অপর্যবেক্ষিত অর্থনীতির অংশ কমেছে
জিডিপিতে অপর্যবেক্ষিত অর্থনীতির অংশ ২১.৮%, যা এক বছর আগে ছিল ২৩.৯%। অর্থাৎ, কমেছে ২.১ শতাংশ পয়েন্ট। এই পরিসংখ্যানগত শ্রেণিতে পরিবার ও ব্যক্তির কার্যক্রমের পাশাপাশি ছায়া অর্থনীতিও অন্তর্ভুক্ত। নিয়মিত প্রতিবেদনে পুরোপুরি ধরা পড়ে না এমন অর্থনৈতিক উৎপাদনের হিসাব পরিসংখ্যানবিদেরা অনুমান করে নির্ধারণ করেন।
খাতভিত্তিক মূল্য সংযোজনে অপর্যবেক্ষিত অর্থনীতির অংশ কৃষি, বন ও মৎস্য খাতে সবচেয়ে বেশি, ৫৭.৬%। এরপর সেবা খাতে ২৩.৮%, নির্মাণে ৮.৩% এবং শিল্পে ৪.৯%। উৎপাদন পরিমাপে কোন খাতে পরিসংখ্যানগত অনুমানের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি, তা এই পরিসংখ্যানে দেখা যায়।
উজবেকিস্তানের নয় মাসের ফলে দ্রুততর প্রকৃত প্রবৃদ্ধি, সেবা খাতের বড় অবদান এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি—সবই প্রতিফলিত হয়েছে। পাশাপাশি সম্প্রসারণের ভেতরের পার্থক্যও স্পষ্ট: মাথাপিছু জিডিপি মোট উৎপাদনের চেয়ে ধীরে বেড়েছে, ভোক্তামূল্য বাড়তে থেকেছে এবং রপ্তানি কমার বিপরীতে আমদানি বেড়েছে।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের জানুয়ারি-সেপ্টেম্বরে জিডিপি দাঁড়িয়েছে ১,৭৫৫.৫ ট্রিলিয়ন সোমে; প্রকৃত প্রবৃদ্ধি ৮.৩%।
- জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সেবা খাতের অবদান ৪.২ শতাংশ পয়েন্ট, মোট প্রবৃদ্ধির অর্ধেকের সামান্য বেশি।
- শিল্প খাত বেড়েছে ৮.১%, জিডিপির হিসাবে নির্মাণ ১২.৫% এবং কৃষি ৪.৬%।
- মাথাপিছু জিডিপি প্রকৃত হিসাবে ৬.৪% বেড়ে ৪৪.৬৯২৩ মিলিয়ন সোমে পৌঁছেছে।
- স্থায়ী মূলধনে বিনিয়োগ ২০.১% বেড়ে ৫৮৪.১৫৪২ ট্রিলিয়ন সোম হয়েছে।
- রপ্তানি ৫.৫% কমেছে, আর আমদানি বেড়েছে ১৫.৭%; বাণিজ্য ঘাটতি হয়েছে ১৩.৮ বিলিয়ন ডলার।
- খাতগুলোর মূল্য সংযোজনের ৫৩.৮% তৈরি করেছে ক্ষুদ্র ব্যবসা।
- জিডিপিতে অপর্যবেক্ষিত অর্থনীতির অংশ ২৩.৯% থেকে কমে ২১.৮% হয়েছে।






