চাপের আরেকটি কঠিন লক্ষ্য তাড়া করে স্নায়ুর চাপ সামলাল ইংল্যান্ড
বেন ডাকেট ১৩২ বলে ১৬৭ রান করেন এবং লিয়াম ডসন ৪৯ রানে চার উইকেট নেন। তাঁদের পারফরম্যান্সে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ড ৫৫ রানে শ্রীলঙ্কাকে হারায়। টানা তিন হারের পর প্রথম জয় দিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের অভিযান শেষ করল তারা।
সূচিপত্র
- চাপের আরেকটি কঠিন লক্ষ্য তাড়া করে স্নায়ুর চাপ সামলাল ইংল্যান্ড
- ডাকেট ও ব্যান্টনের ১৬৩ রানের জুটি
- ব্রুক ও মিডল অর্ডারের ব্যাটিংয়ে এগিয়ে চলে ইংল্যান্ড
- আগের সাফল্যের পর ছন্দ হারাল শ্রীলঙ্কার বোলাররা
- লক্ষ্যকে নাগালে আনেন মেন্ডিস ও রথনায়েকে
- ইংল্যান্ডকে নির্ণায়ক উইকেট এনে দেন ডসন
- চাপের মধ্যে ব্রুকের নেতৃত্বের প্রশংসা ম্যাককালামের
- কঠিন টুর্নামেন্ট শেষে এগিয়ে যাওয়ার মতো প্রাপ্তি
- ইংল্যান্ডের পরের পরীক্ষা অস্ট্রেলিয়া
- মূল বিষয়
ইংল্যান্ডের ৫ উইকেটে ৩৮৬ রানের জবাবে শ্রীলঙ্কার লক্ষ্য ছিল ৩৮৭। তবে লক্ষ্য তাড়ার শেষ দিক পর্যন্ত ম্যাচে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। ৪০ ওভার শেষে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ৫ উইকেটে ৩০০; শেষ ৬০ বলে দরকার ছিল আরও ৮৭ রান। এরপর ৪৫.১ ওভারে ৩৩১ রানে অলআউট হয় তারা।
পাভান রথনায়েকে ৭৭ বলে ১১৮ এবং অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস ৭১ বলে ৮৯ রান করে ইংল্যান্ডের বড় সংগ্রহকে পরাজয়ের স্কোরে পরিণত করার হুমকি দিয়েছিলেন। তবে এবার ডসনের নিয়ন্ত্রিত বোলিং ও উইকেট ইংল্যান্ডকে কাজ শেষ করতে সহায়তা করে। শ্রীলঙ্কার ইনিংসে ২৯ বল বাকি ছিল।
এই জয়ে ২০০৫ সালের পর পাকিস্তানের মাটিতে ওয়ানডেতে প্রথমবার জিতল ইংল্যান্ড। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকের জন্যও টুর্নামেন্টের সমাপ্তি হলো জয় দিয়ে। তাঁর দলের ব্যাটিং বারবার জয়ের সুযোগ তৈরি করলেও বোলিং তা ধরে রাখতে হিমশিম খেয়েছিল।
ইংল্যান্ড আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়েছিল, আর শ্রীলঙ্কা ও স্বাগতিক পাকিস্তান নিশ্চিত করেছিল ফাইনালের টিকিট। তাই এই জয় ফাইনালিস্টদের পরিচয় বদলায়নি, বদলেছে শুধু টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের শেষ হিসাব। শ্রীলঙ্কার তাৎক্ষণিক কাজ ছিল শিরোপার লড়াইয়ে নামার আগে ব্যয়বহুল বোলিং পারফরম্যান্স থেকে ঘুরে দাঁড়ানো।
ডাকেট ও ব্যান্টনের ১৬৩ রানের জুটি
টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক মেন্ডিস। জবাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উদ্বোধনী জুটি গড়েন ডাকেট ও টম ব্যান্টন। ১৫১ বলে তাঁরা যোগ করেন ১৬৩ রান।
ব্যান্টন ৭৫ বলে ৭৪ রান করেন, মারেন আটটি চার ও দুটি ছক্কা। তাঁর ইনিংস ডাকেটকে স্থির সঙ্গ দিয়েছে এবং পাকিস্তানের বিপক্ষে আগের ইনিংসে দ্রুত উইকেট হারানোর মতো পরিস্থিতি ছাড়াই ইংল্যান্ডকে বড় সংগ্রহ গড়তে সাহায্য করেছে।
ডাকেট ৪৬ বলে ৫০, ৮৯ বলে সেঞ্চুরি এবং ১১৮ বলে ১৫০ রান পূর্ণ করেন। এই মাইলফলকগুলোতে তাঁর ইনিংসের গতি বাড়ার ছবি স্পষ্ট: দ্বিতীয় ৫০ করতে লেগেছে ৪৩ বল, আর পরের ৫০ করতে মাত্র ২৯ বল।
তাঁর ২৪টি চারে এসেছে ১৬৭ রানের ৯৬টি। ছক্কা না মেরেও ডাকেটের রান তোলার হার ছিল প্রতি ১০০ বলে প্রায় ১২৬.৫, আর ইংল্যান্ডের মোট রানের ৪৩ শতাংশের কিছু বেশি এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। শেষ পর্যন্ত এশান মালিঙ্গা তাঁকে আউট করেন, তবে ততক্ষণে আরেকটি বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন এই উদ্বোধনী ব্যাটার।
ব্রুক ও মিডল অর্ডারের ব্যাটিংয়ে এগিয়ে চলে ইংল্যান্ড
তিন নম্বরে ডাকেটের সঙ্গে যোগ দেন ব্রুক। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এই প্রথম এই পজিশনে ব্যাট করলেন তিনি। ৭৫ বলে তাঁদের জুটিতে আসে ১০৭ রান, আর ৩৮তম ওভারে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ২৭০।
অধিনায়ক ৩৪ বলে ৪৪ রান করেন, যার মধ্যে ছিল তিনটি চার ও দুটি ছক্কা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আগের ম্যাচের দ্বিশতক তিনি আর করতে পারেননি, তবে ব্যান্টন আউট হওয়ার পরও তাঁর রান তোলার গতি ইংল্যান্ডের চাপ বজায় রেখেছে।
উইল জ্যাকস ২১ বলে ৩০, জর্ডান কক্স ২৭ বলে ৪৩ রান করেন। স্যাম কারান ১২ বলে ২১ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ ১০ ওভারে ইংল্যান্ড যোগ করে ৯২ রান; প্রতি ওভারে গড়ে ৭.৭২ রান তুলে শেষ করে ৩৮৬ রানে।
গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আগের সর্বোচ্চ ওয়ানডে সংগ্রহ ছিল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পাকিস্তানের ৩ উইকেটে ৩৭৫ রান। ইংল্যান্ডের সংগ্রহ সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যায় ১১ রানে। তাদের রান এসেছে একাধিক জুটি থেকে, কোনো একক ঝোড়ো পর্ব থেকে নয়। ফলে উইকেট নেওয়ার পরও নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া শ্রীলঙ্কার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
আগের সাফল্যের পর ছন্দ হারাল শ্রীলঙ্কার বোলাররা
শ্রীলঙ্কার বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন আসিথা ফার্নান্দো। ১০ ওভারে ৬৩ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট। দিলশান মাদুশঙ্কা, মালিঙ্গা ও দাসুন শানাকা নেন একটি করে উইকেট।
মালিঙ্গা ১০ ওভারে দেন ১০১ রান। দুনিথ ওয়েলালাগে ৭৫ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি। দুজনের ২০ ওভারে খরচ হয় ১৭৬ রান, যা ইংল্যান্ডের মোট সংগ্রহের প্রায় ৪৬ শতাংশ।
একই মাঠে আগের ম্যাচে পাকিস্তানকে ১১০ রানে অলআউট করেছিল শ্রীলঙ্কা। ইংল্যান্ডের ৩৮৬ রান ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন চ্যালেঞ্জ। উদ্বোধনী জুটি শ্রীলঙ্কাকে ইনিংসের বেশির ভাগ সময় প্রতিষ্ঠিত ব্যাটারদের রান আটকে রাখার চেষ্টায় ব্যস্ত রেখেছিল।
দলে একটি পরিবর্তন এনে জেমি ওভারটনের বদলে সনি বেকারকে খেলায় ইংল্যান্ড। লক্ষ্য তাড়ার শুরুতেই উইকেট এনে দেন বেকার। চতুর্থ ওভারে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ১৩ থাকতেই কামিন্দু মেন্ডিসকে ৪ রানে বোল্ড করেন তিনি।
লক্ষ্যকে নাগালে আনেন মেন্ডিস ও রথনায়েকে
৮৪ রানের জুটি গড়ে শুরুতে হওয়া ক্ষতি সামাল দেন আভিষ্কা ফার্নান্দো ও কুশল মেন্ডিস। ৫০ বলে ৪৮ রান করেন আভিষ্কা; মারেন আটটি চার ও একটি ছক্কা। ডসনের বলে জ্যাকসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ দাঁড়ায় ২ উইকেটে ৯৭।
এরপর মাত্র ৫৯ বলে রথনায়েকের সঙ্গে ৮০ রান যোগ করেন মেন্ডিস। অধিনায়কের ৮৯ রানের ইনিংসে ছিল আটটি চার ও পাঁচটি ছক্কা; বাউন্ডারি থেকেই আসে ৬২ রান। শুরু থেকেই প্রতি ওভারে ৭.৭৪ রান দরকার থাকা লক্ষ্য তাড়ায় তাঁর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শ্রীলঙ্কাকে এগিয়ে রাখে।
ইংল্যান্ডের সফল রিভিউয়ের পর মেন্ডিসকে আউট করেন জো রুট। ১৭৭ রানে তিন উইকেট পড়ে ভাঙে জুটি। এরপর আরেকটি রিভিউয়ের পর শানাকাকে ৪ রানে এলবিডব্লিউ করেন ডসন। শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ তখন ৪ উইকেটে ১৮৬।
আক্রমণ চালিয়ে যান রথনায়েকে। তাঁর ১১৮ রানের ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও একটি ছক্কা। প্রতি ১০০ বলে প্রায় ১৫৩.২ রান তোলেন তিনি, যা ডাকেটের রান তোলার গতির চেয়েও বেশি। জানিথ লিয়ানাগে ১৭ বলে ২৭ এবং সাহান আরাচ্চিগে ২৪ বলে ৩০ রান করে শ্রীলঙ্কাকে লক্ষ্য তাড়ার শেষ পর্বে নিয়ে যান।
নিজের ১২তম ওয়ানডে ইনিংসে তৃতীয় সেঞ্চুরি করেন রথনায়েকে। তিনটি সেঞ্চুরিতে পৌঁছাতে উপুল থারাঙ্গার লেগেছিল ২১ ইনিংস। ম্যাচ হাতছাড়া হলেও রথনায়েকের পারফরম্যান্স শ্রীলঙ্কার জন্য আরেকটি বড় ব্যক্তিগত সাফল্য হয়ে থাকল।
ইংল্যান্ডকে নির্ণায়ক উইকেট এনে দেন ডসন
শেষ ১০ ওভারে পাঁচ উইকেট হাতে নিয়ে শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ৮৭ রান। অর্থাৎ ওভারপ্রতি ৮.৭ রান তুলতে হতো। এটি কঠিন হার হলেও টুর্নামেন্টে এরই মধ্যে দেখা ব্যাটিংয়ের পরিপ্রেক্ষিতে অসম্ভব ছিল না।
৪৫তম ওভারে রথনায়েকেকে আউট করে লক্ষ্য তাড়া থামাতে সহায়তা করেন ডসন। পুরো ১০ ওভার বোলিং করে ৪৯ রান দেন তিনি, ওভারপ্রতি ৪.৯। এমন এক ম্যাচে এই নিয়ন্ত্রণ দেখান, যেখানে দুই দলই ৩৩০ রানের বেশি করেছে।
বেকার দুটি উইকেট নেন। কারান, হেনরি ক্রোকম্ব ও রুট নেন একটি করে। ৪৫.১ ওভারে শেষ হয় শ্রীলঙ্কার ইনিংস। ক্রিকেটের হিসাবে এর অর্থ ৪৫টি পূর্ণ ওভার এবং আরও একটি বৈধ বল, ওভারের দশমিক ভগ্নাংশ নয়।
টুর্নামেন্টে ডসন সাতটি উইকেট নেন; প্রতি উইকেটে খরচ হয় গড়ে ২১.৪২ রান। পাকিস্তানের আরাফাত মিনহাস ১৬.১১ গড়ে নেন নয় উইকেট। প্রতিযোগিতায় বাঁহাতি স্পিনারদের সাফল্যের এটি আরেকটি উদাহরণ।
চাপের মধ্যে ব্রুকের নেতৃত্বের প্রশংসা ম্যাককালামের
সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম বলেন, দল আবারও চাপে পড়েছিল, তবে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় উইকেট পেয়েছে। কঠিন সেই সময়টি সামাল দেওয়ার জন্য ব্রুকের কৃতিত্ব দেন তিনি।
সত্যি বলতে, ওরা যখন পাঁচ উইকেট হারিয়েও লড়ছিল, তখন সম্ভবত ম্যাচে আমরা পিছিয়ে ছিলাম। কিন্তু ব্রুকি খেলার গতি কমাতে পেরেছে, কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আর শেষ পর্যন্ত আমাদের দরকারি উইকেটগুলো পেয়েছি।
বোলিং পরিবর্তন বা ফিল্ডিং সাজানো নিয়ে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বাইরেও ব্রুকের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন ম্যাককালাম। খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্রুকের অবস্থান এবং সিদ্ধান্তে অন্যদের যুক্ত করার মানসিকতার প্রশংসা করেছেন তিনি।
তার অধিনায়কত্বের যত প্রশংসাই করি, কম হবে। শুধু কৌশল নয়, তার নেতৃত্বেরও।
ইংল্যান্ডের দল নির্বাচনেও মাঠের পরিস্থিতির প্রতিফলন ছিল। শেষ তিন ম্যাচে আদিল রশিদকে দলে রাখা হয়নি; স্পিন আক্রমণের নেতৃত্বে ছিলেন ডসন। ম্যাককালাম বলেন, তিন দলের মধ্যে লেগস্পিনারের ভূমিকা সীমিত ছিল এবং ডসন অভিজ্ঞ ও অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ একজন খেলোয়াড়।
কঠিন টুর্নামেন্ট শেষে এগিয়ে যাওয়ার মতো প্রাপ্তি
ইংল্যান্ডের এই জয়ের আগে দুটি ম্যাচে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত ব্যাটিং সাফল্য জয় এনে দিতে পারেনি। ২২ অক্টোবর রাওয়ালপিন্ডিতে ব্রুকের দ্বিশতকে ভর করে ইংল্যান্ড ৪ উইকেটে ৪২৯ রান করেছিল। কিন্তু ৪৩০ রান তাড়া করে জেতে শ্রীলঙ্কা, যা ওয়ানডে ইতিহাসে সফলভাবে তাড়া করা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ লক্ষ্য।
এরপর ২৫ অক্টোবর লাহোরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের ধসের ম্যাচে ডাকেট করেন ১০৫ রান; দল অলআউট হয় ২৪১ রানে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তাঁর ১৬৭ রানে টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি পূর্ণ হয়। আর ব্যান্টন টুর্নামেন্ট শেষ করেন অন্তত ৫০ রানের তিনটি ইনিংস নিয়ে।
অভিযানের প্রধান ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে ছিল এমন:
- ২২ অক্টোবর: রাওয়ালপিন্ডিতে ব্রুক ২০২ রান করেন, কিন্তু ইংল্যান্ডের ৪৩০ রানের লক্ষ্য তাড়া করে জেতে শ্রীলঙ্কা।
- ২৫ অক্টোবর: লাহোরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ইংল্যান্ড ২৪১ রানে অলআউট হওয়ার সময় ডাকেট করেন ১০৫ রান।
- সোমবার: পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্রীলঙ্কার জয়ে ফাইনালে ওঠার ইংল্যান্ডের শেষ সম্ভাবনাটুকুও শেষ হয়।
- লিগ পর্বের শেষ ম্যাচ: ডাকেটের ১৬৭ ও ডসনের চার উইকেটে প্রথম জয় পায় ইংল্যান্ড।
তিন জয়ে ফাইনালে ওঠে পাকিস্তান, আর শ্রীলঙ্কা ওঠে দুই জয়ে। ফাইনাল গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে শনিবার, ৩১ অক্টোবর হওয়ার কথা তালিকাভুক্ত ছিল, যদিও খেলার দিন হিসেবে রবিবারের কথাও বলা হয়েছিল; সূচির এই অসংগতি মেটেনি।
ইংল্যান্ডের পরের পরীক্ষা অস্ট্রেলিয়া
নভেম্বরে অস্ট্রেলিয়া সফরে তিনটি ওয়ানডে ও পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলবে ইংল্যান্ড। ওয়ানডে সিরিজের আগে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের কথাও জানান ম্যাককালাম।
দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রায় ১২ মাস পর শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পাকিস্তান সফরের অভিজ্ঞতার কথা বলেন কোচ। ব্যাটিংয়ে অসাধারণ বড় সংগ্রহ গড়ার সামর্থ্যের প্রমাণ নিয়ে ফিরছে ইংল্যান্ড। তবে সেই সংগ্রহ ধরে রাখার কঠিন দিকটিও বারবার সামনে এসেছে।
ফাইনালে উঠতে না পারার হতাশা স্বীকার করেও পরের লক্ষ্য তুলে ধরেন ম্যাককালাম।
১২ মাস পরের বিশ্বকাপে আমরা এমন একটি দল হতে চাই, যারা সত্যিকার অর্থে শিরোপার চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। আমরা জানি, আমাদের আরও ভালো হতে হবে। আমরা হবও, আর এই অভিজ্ঞতাগুলো থেকে শিখব বলে আমার বিশ্বাস।
লাহোরে একটি সুনির্দিষ্ট উন্নতি দেখা গেছে: আবারও ইংল্যান্ডের সংগ্রহের দিকে এগিয়ে যাওয়া লক্ষ্য তাড়ায় প্রয়োজনীয় উইকেট নিয়ে ম্যাচ শেষ করেছে তারা। অস্ট্রেলিয়া সফর ব্রুক ও তাঁর বোলারদের এই সফল সমাপ্তিকে আরও ধারাবাহিক অভ্যাসে পরিণত করার আরেকটি সুযোগ দেবে।
মূল বিষয়
- লাহোরে ৫ উইকেটে ৩৮৬ রান করে শ্রীলঙ্কাকে ৫৫ রানে হারিয়েছে ইংল্যান্ড।
- বেন ডাকেট ১৩২ বলে ১৬৭ রান করেন এবং টম ব্যান্টনের সঙ্গে উদ্বোধনী জুটিতে ১৬৩ রান যোগ করেন।
- পাভান রথনায়েকে করেন ১১৮ এবং কুশল মেন্ডিস ৮৯ রান; শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষ হয় ৩৩১ রানে।
- লিয়াম ডসনের ৪৯ রানে চার উইকেটে টানা তিন হারের পর প্রথম জয় পায় ইংল্যান্ড।
- ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে আগেই উঠেছিল পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।
- নভেম্বরে তিনটি ওয়ানডে ও পাঁচটি টি-টোয়েন্টি খেলতে অস্ট্রেলিয়া সফর করবে ইংল্যান্ড।






