জ্বালানি কারখানা বাতিল হলেও বিরোধ মেটেনি
তাইওয়ানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের পর্যালোচনা প্যানেল ইউনলিন কাউন্টির প্রস্তাবিত বাওঝং শিল্প পার্কের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নে সংশোধন চেয়েছে। সেখানকার বাসিন্দারা উন্নয়ন পরিকল্পনা থেকে কঠিন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত জ্বালানি (এসআরএফ) তৈরি ও বর্জ্য পোড়ানো বাদ দেওয়ার লিখিত অঙ্গীকার চাইছেন।
সূচিপত্র
- জ্বালানি কারখানা বাতিল হলেও বিরোধ মেটেনি
- সংশোধিত বর্জ্য পরিকল্পনায় কী অনুমোদিত হবে
- মূল্যায়নে এসআরএফ এখনো কেন রয়েছে
- পার্কটি কত বড় হবে?
- এসআরএফের বাইরেও বায়ুদূষন নিয়ে উদ্বেগ
- বন্যা, বর্জ্যপানি ও জমির ঝুঁকি
- ৪০ বছরের জন্য কার্বন পরিকল্পনা
- বন্যপ্রাণী সুরক্ষা ও সুগার রেলপথ
- যেভাবে প্রস্তাবটি আবার সংশোধনের পর্যায়ে গেল
- মূল বিষয়গুলো
অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় পার্কের দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রস্তাবিত এসআরএফ তৈরির কারখানাটি বাতিল করেছে। বাসিন্দারা বলছেন, মূল্যায়নে বিকল্প হিসেবে এর উল্লেখ থাকায় তারা উদ্বিগ্ন যে ভবিষ্যতে জ্বালানি উৎপাদন বা তাপ ব্যবহার করে বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণ আবারও পরিকল্পনায় ফিরতে পারে।
প্রস্তাবে বাওঝং টাউনশিপে তাইওয়ান সুগার করপোরেশনের মাগুয়াং ফার্মের ২৬৫ হেক্টরের বেশি জমিকে শিল্প পার্কে রূপান্তরের কথা বলা হয়েছে। পার্কটি মূলত কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত ও সেগুলোর মূল্য বাড়ায় এমন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নির্ধারিত। প্রায় ২০ জন বাসিন্দা এবং ইউনলিন কাউন্টি নেট জিরো হোমল্যান্ড অ্যাকশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা আপত্তি জানাতে মন্ত্রণালয়ে যান।
২২ তারিখে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় প্রাথমিক পর্যালোচনা বৈঠকে প্রায় দুই ঘণ্টা আলোচনার পর প্যানেল সংশোধন ও আরেক দফা পর্যালোচনার নির্দেশ দেয়। তাদের উদ্বেগ শুধু এসআরএফ-এ সীমাবদ্ধ ছিল না; বায়ুদূষণ, উন্নয়নের পর্যায়, পানির ব্যবহার, বর্জ্যপানি, বর্জ্য সংরক্ষণ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষাও এর মধ্যে ছিল। এই পর্যালোচনার মাধ্যমে পার্কটি এখনো ছাড়পত্র পায়নি।
এখন বিরোধের কেন্দ্রে পরস্পর-সম্পর্কিত দুটি বিষয়: পার্কে কী ধরনের ব্যবসা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চলবে, এবং কৃষিজীবী এলাকার কাছে এত বড় উন্নয়ন প্রকল্প দূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলা করতে পারবে কি না। একটি প্রস্তাবিত কারখানা বাদ পড়লেও—দুটি প্রশ্নেরই মীমাংসা হয়নি।
সংশোধিত বর্জ্য পরিকল্পনায় কী অনুমোদিত হবে
অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রথম পর্যালোচনার পর বিভিন্ন সংস্থা ও অন্য অংশীজনদের নিয়ে চারটি বৈঠক হয়েছে। এসব আলোচনার পর দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রস্তাবিত এসআরএফ তৈরির কারখানাটি বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়।
ওই কারখানার জন্য সংরক্ষিত জমিতে অস্থায়ী বর্জ্য সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হবে। ইউনলিনের শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান, শিল্প পার্কের বর্জ্য শোধনব্যবস্থা বা অন্য যোগ্য ঠিকাদারের মাধ্যমে বর্জ্য সংগ্রহ করে অন্যত্র শোধনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।
দাহ্য বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে জ্বালানিতে রূপান্তর করা হয়, যা শক্তি উৎপাদনে ব্যবহার করা যায়; এই জ্বালানিই এসআরএফ। জ্বালানি তৈরি ও তা পোড়ানো দুটি আলাদা কার্যক্রম। আগের এক পর্যালোচনায় উন্নয়নকারী বলেছিল, প্রস্তাবিত কারখানায় তৈরি জ্বালানি পার্কের বাইরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করা হবে, পার্কের ভেতরে পোড়ানো হবে না।
বাসিন্দারা দুটি কার্যক্রমের পাশাপাশি তাপ ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট বর্জ্য প্রক্রিয়াকরণও নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, এ বিষয়ে লিখিত বিধিনিষেধ থাকতে হবে এবং ভবিষ্যতে এমন কার্যক্রমের প্রস্তাব এলে নতুন পরিবেশগত মূল্যায়ন করতে হবে।
অস্থায়ী সংরক্ষণ ও স্থানান্তরের কাজেও বিস্তারিত সুরক্ষাব্যবস্থা প্রয়োজন হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপনার জন্য কত জমি দরকার, সেগুলো কোথায় হবে এবং জায়গার ব্যবহার ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা কীভাবে করা হবে—এসব নতুন করে বিবেচনা করতে প্যানেল উন্নয়নকারীকে বলেছে।
মূল্যায়নে এসআরএফ এখনো কেন রয়েছে
এসআরএফ-সংক্রান্ত বিকল্পের তালিকাটি বাদ দেওয়ার অনুমতি দেওয়া যাবে কি না, তা উন্নয়নকারী পর্যালোচনা প্যানেলের কাছে জানতে চেয়েছিল। পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বিধিমালা অনুযায়ী বিকল্পগুলোর একটি অংশ থাকা বাধ্যতামূলক। এর ভাষা সংশোধন করা যেতে পারে, তবে অংশটি রাখা উচিত।
পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নে কোনো প্রকল্পের সম্ভাব্য প্রভাব খতিয়ে দেখা হয় এবং তা বাস্তবায়নের বিভিন্ন উপায়ের তুলনা করা হয়। এই তুলনায় উন্নয়নকারীর পছন্দের পরিকল্পনার বাইরের বিকল্পও থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে বাসিন্দারা চান, নথিতে বিকল্পগুলো ব্যাখ্যা করা হোক, তবে এসআরএফ কার্যক্রম ভবিষ্যতে অনুমোদিত হতে পারে কি না—সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা যেন না থাকে।
ইউনলিন কাউন্টি নেট জিরো হোমল্যান্ড অ্যাকশন অ্যাসোসিয়েশন ও অন্যান্য সংগঠন বলেছে, তারা শিল্প উন্নয়নের বিরোধিতা করছে না। তারা দূষণ ও প্রকল্প এলাকার আশপাশে বন্যা বৃদ্ধির ঝুঁকি ঠেকানোর পাশাপাশি এসআরএফ তৈরি ও তাপীয় প্রক্রিয়াকরণ স্পষ্টভাবে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
ইউনলিন ইকোলজিক্যাল কনজারভেশন অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান চ্যাং জু-চিয়েন সতর্ক করে বলেছেন, প্রস্তাবটির ভাষা এসআরএফ পরিকল্পনা আবার ফিরিয়ে আনার সুযোগ রাখতে পারে। চীন থেকে ফিরে আসা বর্জ্য শোধন ব্যবসা এই উন্নয়নে আকৃষ্ট হবে কি না, সে প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় বলেছে, আগের জনমত বিবেচনায় পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং স্থানীয় কৃষি ও জীবনযাত্রার সঙ্গে শিল্পের সুযোগের সমন্বয় করতে তারা চায়।
পার্কটি কত বড় হবে?
উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রায় ২৬৫ হেক্টর জমিকে ৮৬ হেক্টরের প্রথম পর্যায় এবং প্রায় ১৭৯ হেক্টরের দ্বিতীয় পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। প্রায় ১৬৫ হেক্টর হবে শিল্প এলাকা, আর প্রায় ১০০ হেক্টর ব্যবহার হবে জনসাধারণের সুবিধার জন্য।
হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্প এলাকার প্রায় ৬২% শিল্প কাজে এবং প্রায় ৩৮% জনসাধারণের সুবিধায় ব্যবহৃত হবে। দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রস্তাবিত উন্নয়ন এলাকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ রয়েছে, তাই এর সময়সূচি ও পরিধি পর্যালোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুক্তি, ইউনলিনে আরও শিল্প জমি দরকার। তাদের হিসাবে, কাউন্টির ১১টি নির্ধারিত শিল্প এলাকার জমি ব্যবহারের হার ৯৯%। বাওঝংয়ের জন্য মন্ত্রণালয় ৩০ বিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার বিনিয়োগ, ১০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান এবং বছরে ২০ বিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলারের উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে।
এগুলো প্রস্তাবিত পার্কের সম্ভাব্য হিসাব। পর্যালোচনা সদস্যরা তাইওয়ানে ফিরে আসা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন শিল্প পার্কে জমি ব্যবহারের হার সম্পর্কে তথ্য চেয়েছেন। ফলে নতুন জমি উন্মুক্ত করার পরিবেশগত ব্যয়ের পাশাপাশি চাহিদার প্রশ্নটিও মূল্যায়নে এসেছে।
মন্ত্রণালয় প্রকল্পটিকে বাওঝংয়ের কৃষি ও শিল্প বৈশিষ্ট্য বজায় রেখে উন্নয়নের সুযোগ তৈরির উপায় হিসেবে তুলে ধরেছে। আগের এক প্রতিবাদে বাসিন্দারা রসুন ও চিনাবাদাম নিয়ে এসে কী রক্ষা করতে চান তা স্পষ্ট করেছিলেন: বিদ্যমান কৃষি অর্থনীতি এবং এর সঙ্গে যুক্ত জনপদগুলো।
এসআরএফের বাইরেও বায়ুদূষন নিয়ে উদ্বেগ
পর্যালোচনা প্যানেলের এক সদস্য বলেছেন, এসআরএফ কারখানা বাদ দেওয়ার পরও নাইট্রোজেন অক্সাইডসহ অন্যান্য দূষকের পূর্বাভাসিত বৃদ্ধি বেশি রয়ে গেছে। নাইট্রোজেন অক্সাইড দহনের সময় সাধারণত উৎপন্ন গ্যাস। এগুলো শ্বাসনালিতে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে এবং ওজোন ও সূক্ষ্ম কণার দূষণে ভূমিকা রাখে।
প্যানেলের ওই সদস্য প্রাদেশিক মহাসড়ক ১৯ বা তাইওয়ান সুগার রেলপথের দক্ষিণের কাজ পিছিয়ে দিয়ে এবং ওই জমি সবুজ এলাকা হিসেবে সংরক্ষণ করে উন্নয়ন এলাকার আয়তন কমানোর পরামর্শ দেন। এতে কারখানা স্থাপনের পর শুধু নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে উন্নয়নের পরিমাণ ও পর্যায়ক্রম বদলানো হবে।
অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় বলেছে, ভবিষ্যতের ভাড়াটে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্গমন নিয়ন্ত্রণের শর্ত মানতে হবে। দুর্গন্ধ ছড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে এমন খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে আশপাশের জনপদ ও স্কুল থেকে অন্তত ৫০০ মিটার দূরে স্থাপন করতে হবে।
আগের পর্যালোচনায় বাসিন্দারা বলেছিলেন, নিকটতম গ্রামটি প্রকল্প এলাকা থেকে প্রায় ২৫০ মিটার দূরে। তাই পার্কের ভেতরে নির্দিষ্ট ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কোথায় বসবে, তার জন্য প্রস্তাবিত ৫০০ মিটার দূরত্ব গুরুত্বপূর্ণ। দুর্গন্ধের সম্ভাবনা রয়েছে এমন খাদ্য উৎপাদনকারীদের জন্য মন্ত্রণালয় এই শর্তের কথা বলেছে; পাশাপাশি প্যানেল বৃহত্তর পরিসরে বায়ুদূষণের হিসাব সংশোধনেরও অনুরোধ করেছে।
বন্যা, বর্জ্যপানি ও জমির ঝুঁকি
বাওঝংয়ের বাসিন্দারা ভূমি অবনমন, মাটির তরলীকরণ ও বন্যা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। ভূমি অবনমন বলতে ধীরে ধীরে মাটি বসে যাওয়াকে বোঝায়। মাটির তরলীকরণ ঘটে যখন আলগা, পানিতে সিক্ত মাটি কম্পনের সময় শক্তি হারায় এবং স্থাপনা ধরে রাখার ক্ষমতা কমে যায়।
বাসিন্দাদের ভাষ্য, প্রস্তাবিত এলাকায় ভূমি অবনমন ও মাটির তরলীকরণের ঝুঁকি বেশি। পর্যালোচনা প্যানেলের এক সদস্যও বন্যার উচ্চ ঝুঁকির কথা তুলে ধরে বিষয়টিতে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের দাবি, উন্নয়নের কারণে আশপাশের জনপদে বন্যা বাড়ানো যাবে না, কিংবা স্বাস্থ্য ও বন্যার ঝুঁকি প্রতিবেশীদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না।
পার্কটির পানির ভারসাম্য যাচাই করতে উন্নয়নকারীকে নির্দেশ দিয়েছে প্যানেল। বাস্তবে এর অর্থ হলো, প্রকল্পে কত পানি লাগবে, কোন উৎস থেকে পানি নেওয়া হবে এবং বর্জ্যপানি, পানি নিষ্কাশন বা অন্য পথে কত পানি বের হবে, তার হিসাব রাখা।
বাসিন্দা ও প্যানেল সদস্যরা পার্কের সীমানার বাইরেও পানির গুণমান পর্যবেক্ষণ এবং নির্গত বর্জ্যপানির আরও কঠোর নজরদারি চেয়েছেন। সীমানার বাইরের পর্যবেক্ষণ থেকে পার্কের নির্গত পানি যে জলপথ ও আশপাশের এলাকায় পৌঁছায়, সে সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যাবে।
অস্থায়ীভাবে মাটি ও পাথর সংরক্ষণের ব্যবস্থাও সংশোধনের বিষয়। এত বড় এলাকাজুড়ে নির্মাণকাজে খনন করা উপাদান কোথায় রাখা হবে এবং সেই জায়গা কীভাবে ব্যবস্থাপনা করা হবে, তার পরিকল্পনা দরকার। উন্নয়নের পর্যায়ক্রম ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের পাশাপাশি এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য চেয়েছে প্যানেল।
৪০ বছরের জন্য কার্বন পরিকল্পনা
পার্কটির প্রস্তাবিত ৪০ বছরের পরিচালনকালকে সামনে রেখে কার্বন নিঃসরণ পরিকল্পনা জোরদারের দাবি উঠেছে। বাসিন্দা ও পর্যালোচনা সদস্যরা চান, শুধু পার্কের শুরুর পর্যায় নয়, পুরো সময়ের নিঃসরণ মূল্যায়নে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
আগের পর্যালোচনায় পরিবেশ আন্দোলনকারীরা পুরোনো মোটরসাইকেল, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র ও আলোর সরঞ্জাম বদলের মতো পদক্ষেপের মাধ্যমে অতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ পুষিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার সমালোচনা করেন। তাদের যুক্তি, নতুন আসা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে আগে নিজেদের নিঃসরণ কমাতে হবে।
এক জায়গার নিঃসরণের ভারসাম্য অন্য জায়গায় নিঃসরণ কমিয়ে মেলানোর চেষ্টা হলো অফসেট। সরাসরি নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে নিঃসরণ সৃষ্টিকারী কাজেরই পরিবর্তন করা হয়, যেমন কম শক্তি ব্যবহার করা বা যন্ত্রপাতি বদলানো। ভবিষ্যতের ভাড়াটে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কার্যক্রমে কতটা দায় নেবে, তা নিয়েই মতবিরোধ।
চ্যাংয়ের যুক্তি, অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় উন্নয়ন এগিয়ে নিচ্ছে, অথচ প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে দায়ভার চাপানো হচ্ছে জনগণ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের ওপর। তার সমালোচনায় পার্কের কার্বন পরিকল্পনার সঙ্গে ২০৫০ সালের মধ্যে নিট শূন্য নিঃসরণে পৌঁছানোর তাইওয়ানের লক্ষ্যও যুক্ত হয়েছে।
এক বাসিন্দা কৃষিবর্জ্য ব্যবহারের বিকল্প প্রস্তাব করেছেন: স্থানীয় কৃষকদের জন্য কম্পোস্ট, বায়োচার ও তরল সার উৎপাদন। জৈব পদার্থে অক্সিজেনের সরবরাহ সীমিত রেখে উত্তপ্ত করলে কার্বনসমৃদ্ধ যে উপাদান তৈরি হয়, সেটিই বায়োচার। বিতর্কিত বর্জ্য জ্বালানি কার্যক্রমের বিকল্প হিসেবে এই প্রস্তাব আলোচনায় কৃষিবর্জ্যের পুনর্ব্যবহারের বিষয়টি এনেছে।
বন্যপ্রাণী সুরক্ষা ও সুগার রেলপথ
অস্ট্রেলেশীয় গ্রাস-আউল ও রিং-নেকড ফিজ্যান্টসহ বিভিন্ন প্রজাতির সুরক্ষা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন পর্যালোচনা সদস্যরা। এক সদস্য বলেছেন, স্থানীয় এলাকায় গ্রাস-আউল থাকার সম্ভাবনা এখনো রয়েছে এবং সুগার রেলপথ ও এর আশপাশের জমি সংরক্ষণের সুপারিশ করেছেন।
তাই নির্মাণের ক্রম নির্ধারণের বাইরেও রেলপথের গুরুত্ব রয়েছে। এটি ও আশপাশের এলাকা সংরক্ষণ করলে বন্যপ্রাণীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল টিকে থাকতে পারে, পাশাপাশি শিল্প উন্নয়ন কোথায় হবে, তাও নির্ধারিত হবে।
জমি সবুজ এলাকা হিসেবে সংরক্ষণের প্রস্তাব পর্যালোচনার একাধিক বিষয়কে যুক্ত করেছে: আবাসস্থল সংরক্ষণ, শিল্প এলাকার আয়তন এবং প্রত্যাশিত দূষণের মাত্রা। কতটুকু জমি উন্নয়ন করা হবে এবং কখন করা হবে, সেই সিদ্ধান্তে প্রতিটি বিষয় প্রভাবিত হবে।
সংশোধিত মূল্যায়নের অংশ হিসেবে আরও শক্তিশালী সংরক্ষণব্যবস্থা চেয়েছে প্যানেল। উন্নয়নকারীকে আরেক দফা পর্যালোচনার আগে প্রকৌশল ও দূষণসংক্রান্ত প্রশ্নগুলোর পাশাপাশি বন্যপ্রাণী সুরক্ষার বিষয়টিও মোকাবিলা করতে হবে।
যেভাবে প্রস্তাবটি আবার সংশোধনের পর্যায়ে গেল
ধারাবাহিক পর্যালোচনা ও বর্জ্য পরিকল্পনায় পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে বিরোধটি এগিয়েছে। প্রধান ঘটনাগুলো হলো:
- ১১ জুন, ২০২৬: আগের পরিবেশগত পর্যালোচনার সময় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেন। তখনও দ্বিতীয় পর্যায়ে এসআরএফ তৈরির কারখানার প্রস্তাব ছিল, যেখানে উৎপাদিত জ্বালানি পার্কের বাইরে বিক্রির কথা বলা হয়েছিল।
- প্রথম পর্যালোচনার পর: অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় বিভিন্ন সংস্থা ও অন্য অংশীজনদের নিয়ে চারটি বৈঠক করে এবং পরে এসআরএফ তৈরির কারখানা বাতিল করতে সম্মত হয়।
- ২২ তারিখে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় প্রাথমিক পর্যালোচনা: বাসিন্দারা এসআরএফ তৈরি ও তাপীয় প্রক্রিয়াকরণ লিখিতভাবে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। প্যানেল সংশোধন ও আরেক দফা পর্যালোচনার নির্দেশ দেয়।
২২ তারিখের বৈঠকটি কোন মাস ও বছরে হয়েছিল, তা উল্লেখ করা হয়নি; পরবর্তী পর্যালোচনার তারিখও জানানো হয়নি। প্যানেলের কাছে ফেরত যাওয়ার আগে উন্নয়নকারীকে এখন মূল্যায়ন সংশোধন করতে হবে।
যেসব কাজ করতে হবে, তার মধ্যে রয়েছে উন্নয়নের পর্যায় নির্ধারণ, পানির ভারসাম্য, বায়ুদূষণের হিসাব, বর্জ্যপানি পর্যবেক্ষণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপনার অবস্থান, সংরক্ষণের নিরাপত্তা এবং অস্থায়ী মাটি ও পাথর সংরক্ষণ। নিষিদ্ধ কার্যক্রমের বিষয়ে স্পষ্ট ভাষা, আরও শক্তিশালী কার্বন পরিকল্পনা এবং পার্কের সীমানার বাইরেও সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবিও জানাচ্ছেন বাসিন্দারা।
আশপাশের জনপদের জন্য তাৎক্ষণিক ফল হলো—এমন একটি পরিকল্পনা আবার পর্যালোচনা করা হবে, যাতে এখনো গুরুত্বপূর্ণ অনেক তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাজ হলো, প্যানেলের শর্ত পূরণ ও প্রস্তাবিত পার্কের পাশের বাসিন্দাদের উদ্বেগ মোকাবিলা করে কীভাবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্য অর্জন করা যায়, তা ব্যাখ্যা করা।
মূল বিষয়গুলো
- পরিবেশগত পর্যালোচনা প্যানেল প্রস্তাবিত বাওঝং শিল্প পার্কের পরিকল্পনা সংশোধন ও আরেক দফা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে।
- অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয় এসআরএফ তৈরির প্রস্তাবিত কারখানা বাতিল করেছে, তবে বাসিন্দারা জ্বালানি তৈরি ও তাপীয় প্রক্রিয়াকরণ নিষিদ্ধ করার লিখিত অঙ্গীকার চান।
- প্রায় ২৬৫ হেক্টরের পার্কে দুই পর্যায়ে প্রায় ১৬৫ হেক্টর শিল্প জমি থাকবে।
- মন্ত্রণালয় ৩০ বিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলার বিনিয়োগ, ১০ হাজারের বেশি কর্মসংস্থান ও বছরে ২০ বিলিয়ন নিউ তাইওয়ান ডলারের উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে।
- পর্যালোচনায় বায়ুদূষণ, বন্যা, বর্জ্যপানি, কার্বন নিঃসরণ, বর্জ্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষিত বন্যপ্রাণীর বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
- পরবর্তী পর্যালোচনার তারিখ জানানো হয়নি।






