প্রযুক্তি শেয়ারের উত্থানে তাইএক্স ৪৭,০০০ ছাড়াল
যুক্তরাষ্ট্রের সেমিকন্ডাক্টর শেয়ারে উত্থান এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কোম্পানি অ্যানথ্রপিকের প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের আবেদন ঘিরে উৎসাহে বিনিয়োগকারীরা আবার প্রযুক্তি শেয়ারে ফিরেছেন। এর জেরে ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর তাইওয়ানের প্রধান শেয়ার সূচক ৯৩৯.৩৫ পয়েন্ট বেড়েছে।
সূচিপত্র
- প্রযুক্তি শেয়ারের উত্থানে তাইএক্স ৪৭,০০০ ছাড়াল
- তাইওয়ানের জন্য অ্যানথ্রপিকের আবেদন কেন গুরুত্বপূর্ণ
- উত্থানের ভিত টিএসএমসি, তবে অন্য চিপ শেয়ারের গতি বেশি
- বিদ্যুৎব্যবস্থা, সার্কিট বোর্ড ও উপকরণ খাতেও উত্থান
- আর্থিক ও বস্ত্র খাতের শেয়ার উত্থানে সামিল হয়নি
- লেনদেন কমলেও শক্তিশালী সমাপ্তি
- দুই দিনের লেনদেনে দ্রুত মনোভাব পরিবর্তনের চিত্র
- ২৯ অক্টোবর নীতি ও আয়ের পরীক্ষার দিন
- মূল বিষয়গুলো
বুধবার তাইএক্স ৪৭,০৩৫.৫৮ পয়েন্টে লেনদেন শেষ করেছে, যা মঙ্গলবারের ৪৬,০৯৬.২৩ পয়েন্টের চেয়ে ২.০৪ শতাংশ বেশি। দিনজুড়ে সূচকটি ৪৬,৪০২.৭৯ থেকে ৪৭,০৬০.৪৬ পয়েন্টের মধ্যে ওঠানামা করেছে; শেষ হয়েছে দিনের সর্বোচ্চ অবস্থানের মাত্র ২৪.৮৮ পয়েন্ট নিচে। ইলেকট্রনিকস শেয়ার ২.৪৮ শতাংশ বেড়েছে, আর্থিক শেয়ার কমেছে ০.৫৬ শতাংশ।
তাইওয়ান সেমিকন্ডাক্টর ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি (টিএসএমসি) সূচকের উত্থানে প্রায় ২০০ পয়েন্ট যোগ করেছে, তবে কেনাকাটা বাজারের বৃহত্তম কোম্পানির বাইরেও বিস্তৃত হয়েছে। মিডিয়াটেক, মেমোরি নির্মাতা এবং এআই সরঞ্জামে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশের সরবরাহকারীদের শেয়ারে উল্লেখযোগ্য উত্থান হয়েছে। দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারের সংখ্যা দরপতন হওয়া শেয়ারের চেয়ে বেশি ছিল: ৭৩৩টির বিপরীতে ২৮৯টি; অপরিবর্তিত ছিল ১০৩টি।
সূচকের বড় উত্থানের তুলনায় লেনদেনের গতি ছিল সংযত। মঙ্গলবারের ১.০৩ ট্রিলিয়ন তাইওয়ানি ডলারের তুলনায় লেনদেন কমে ৭২২.১৪ বিলিয়ন তাইওয়ানি ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা প্রায় ২২.২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ২৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি ঘোষণা, মূল্যস্ফীতির তথ্য ও কোম্পানিগুলোর আয়ের প্রতিবেদন নিয়ে ব্যস্ত সূচির দিকেও বিনিয়োগকারীরা এগোচ্ছিলেন।
তাইওয়ানের জন্য অ্যানথ্রপিকের আবেদন কেন গুরুত্বপূর্ণ
ক্লডের পেছনের এআই গবেষণা কোম্পানি অ্যানথ্রপিক নতুন করে কেনাকাটার তাৎক্ষণিক অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। তাদের আইপিও আবেদন কোম্পানিটির আর্থিক অবস্থা ও সম্ভাব্য নাসডাক তালিকাভুক্তির বিষয়ে মনোযোগ বাড়িয়েছে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও হলো এমন প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে কোনো কোম্পানি সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে শেয়ার ছাড়ে।
অ্যানথ্রপিকের এস-১ আবেদনে ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের কথা জানানো হয়েছে। এতে জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত পরিচালন কার্যক্রম থেকে ৩.৯ বিলিয়ন ডলার নগদ প্রবাহের তথ্যও রয়েছে; ২০২৫ সালের একই সময়ে এ অঙ্ক ছিল ঋণাত্মক ১.৫ বিলিয়ন ডলার। পরিচালন নগদ প্রবাহ স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রম থেকে উৎপন্ন নগদ অর্থের পরিমাণ মাপে। এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা বুঝতে পারেন, বিক্রির আয় কীভাবে কোম্পানি পরিচালনার জন্য ব্যবহারযোগ্য অর্থে রূপ নেয়।
আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে সমন্বিত পরিচালন মুনাফা ছিল ১.৬ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ১০ শতাংশ মার্জিন। এ হিসাব থেকে শেয়ারভিত্তিক পারিশ্রমিক, নগদবিহীন দাতব্য অনুদান ও আইনি সমঝোতা বাবদ ব্যয় বাদ দেওয়া হয়েছে। পরিচালন লোকসান ছিল ৬৯৩ মিলিয়ন ডলার, আর নিট লোকসান ৮০.৭ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে কোম্পানির ইস্যু করা রূপান্তরযোগ্য নোটের মূল্য বেড়ে যাওয়ার প্রতিফলনে ৭২.৪ বিলিয়ন ডলারের হিসাবগত ব্যয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।
২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে অ্যানথ্রপিক ১১.৬ বিলিয়ন ডলার আয় এবং কম্পিউটিং খাতে ৫.৬ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের কথা জানিয়েছে। অর্থাৎ কম্পিউটিংয়ে ব্যয় করা প্রতি ডলারের বিপরীতে আয় হয়েছে ২.০৮ ডলার।
কনকর্ড সিকিউরিটিজের বিশ্লেষক কেরি হুয়াং তাইওয়ানে নতুন করে কেনাকাটার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের উত্থান ও অ্যানথ্রপিকের খবরকে সম্পর্কিত করেছেন।
"সাম্প্রতিক দর-সমন্বয়ের পর স্থানীয় বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের উত্থানকে দরকষাকষিতে ভালো শেয়ার কেনার সুযোগ হিসেবে নিয়েছেন," হুয়াং বলেন।
এর আগের যুক্তরাষ্ট্রের লেনদেনে ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচক ৩৯৯.০৪ পয়েন্ট বা ৩.৬০ শতাংশ বেড়ে ১১,৪৮২.৫১ পয়েন্টে দাঁড়ায়। তাইওয়ানের চিপশিল্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত বাজার থেকে এটি বিনিয়োগকারীদের জন্য শক্তিশালী ইতিবাচক ইঙ্গিত ছিল।
তাইওয়ানের সরবরাহকারীদের ক্ষেত্রে অ্যানথ্রপিক নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ শুধু কোম্পানিটিকে ঘিরে নয়। এআই পরিষেবা চালাতে কম্পিউটিং সরঞ্জাম লাগে, আর তাতে প্রয়োজন হয় চিপ, মেমোরি, সার্কিট বোর্ড ও বিদ্যুৎব্যবস্থার। এআই নির্মাতারা আয় করতে পারবে—এমন আস্থা তাই ওই সরঞ্জাম উৎপাদনকারী কোম্পানিগুলোর সম্ভাবনা সম্পর্কে প্রত্যাশায় প্রভাব ফেলতে পারে। অ্যানথ্রপিকের প্রস্তাবিত আইপিওর চূড়ান্ত আকার, দাম ও সময় জানানো হয়নি।
উত্থানের ভিত টিএসএমসি, তবে অন্য চিপ শেয়ারের গতি বেশি
টিএসএমসির শেয়ার ১.০৪ শতাংশ বেড়ে ২,৪২৫ তাইওয়ানি ডলারে দাঁড়িয়েছে। চুক্তিভিত্তিক চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি মোট বাজারমূল্যের ৪০ শতাংশের বেশি, ফলে তুলনামূলক কম শতাংশের পরিবর্তনও তাইএক্সে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।
টিএসএমসির প্রায় ২০০ পয়েন্ট অবদান বুধবারের ৯৩৯.৩৫ পয়েন্ট উত্থানের প্রায় ২১ শতাংশ। অর্থাৎ টিএসএমসি শক্ত ভিত জোগালেও সূচকের বৃদ্ধির বড় অংশ এসেছে অন্য কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে।
স্মার্টফোনসহ অন্যান্য যন্ত্রে ব্যবহৃত চিপের নকশাকারী মিডিয়াটেকের শেয়ার ৬.৯৪ শতাংশ বেড়ে ৪,২৩৫ তাইওয়ানি ডলারে উঠেছে। নানইয়া টেকনোলজি ৮.১৬ শতাংশ বেড়ে ৪৭৭ তাইওয়ানি ডলারে দাঁড়িয়েছে, আর আরেক মেমোরি সরবরাহকারী উইনবন্ড ইলেকট্রনিকসের শেয়ার ৫.৫২ শতাংশ বেড়ে ১৭২ তাইওয়ানি ডলারে উঠেছে। সেমিকন্ডাক্টর ব্যবসার বিভিন্ন অংশেই যে কেনাকাটা ছড়িয়েছে, এসব উত্থান তা দেখিয়েছে।
চিপ প্যাকেজিং ও পরীক্ষার সেবা দেওয়া এএসই টেকনোলজি হোল্ডিংয়ের শেয়ার ৬ শতাংশের বেশি বেড়েছে। আয়ের প্রতিবেদন নিয়ে সম্মেলন কলের আগে ইউনাইটেড মাইক্রোইলেকট্রনিকসের শেয়ার ৫.৫০ তাইওয়ানি ডলার বেড়ে ১২৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্যাকেজিং ও পরীক্ষা হলো তৈরি চিপ যন্ত্রে বসানোর উপযোগী করা এবং সেগুলো ঠিকমতো কাজ করছে কি না যাচাই করার ধাপ।
মেমোরি মডিউল নির্মাতা এডাটা টেকনোলজির শেয়ার দৈনিক সর্বোচ্চ দরবৃদ্ধির সীমায় পৌঁছেছে। চুনঘওয়া প্রিসিশন টেস্ট টেক ও জিনিয়াস ইলেকট্রনিক অপটিক্যালের শেয়ারও দৈনিক সর্বোচ্চ সীমায় উঠেছে, যা প্রযুক্তি শেয়ারের সামগ্রিক শক্তি বাড়িয়েছে।
বিদ্যুৎব্যবস্থা, সার্কিট বোর্ড ও উপকরণ খাতেও উত্থান
বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা সমাধানের সরবরাহকারী ডেল্টা ইলেকট্রনিকসের শেয়ার ২.৬৫ শতাংশ বেড়ে ১,৫৫০ তাইওয়ানি ডলারে দাঁড়িয়েছে। প্রিন্টেড সার্কিট বোর্ড নির্মাতা গোল্ড সার্কিট ইলেকট্রনিকসের শেয়ার দৈনিক সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বেড়ে ১,১৮৫ তাইওয়ানি ডলারে উঠেছে। হোন হাইয়ের শেয়ার ৪.৫০ তাইওয়ানি ডলার বেড়ে ২৫১.৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
সরঞ্জাম সরবরাহ শৃঙ্খলে এসব ব্যবসার অবস্থান আলাদা। সার্কিট বোর্ড ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশগুলোকে সংযুক্ত করে, আর বিদ্যুৎব্যবস্থা সরঞ্জামে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও তা নিয়ন্ত্রণ করে। এদের শেয়ারের উত্থান দেখিয়েছে, বিনিয়োগকারীরা এআইয়ের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সংশ্লিষ্ট প্রসেসরের বাইরেও কেনাকাটা করেছেন।
উপকরণ খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারও বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করেছে। প্রযুক্তিপণ্যে ব্যবহৃত কাঁচামাল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠিত শিল্প কোম্পানিগুলোর চাহিদার কথা তুলে ধরেছেন হুয়াং; বিশেষভাবে নজরে ছিল নান ইয়া প্লাস্টিকস। কোম্পানিটির শেয়ার ৭.২৩ শতাংশ বেড়ে ৩১৯ তাইওয়ানি ডলারে উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও কেনাকাটা ছড়িয়েছে। ফরমোসা প্লাস্টিকস ১.৩৪ শতাংশ বেড়ে ৭৫.৪০ তাইওয়ানি ডলারে দাঁড়িয়েছে, আর ফরমোসা কেমিক্যালস অ্যান্ড ফাইবারের শেয়ার ১.৪৮ শতাংশ বেড়ে ৭৫.৫০ ডলারে উঠেছে। সামগ্রিক বাজারে প্লাস্টিক, অপটোইলেকট্রনিকস ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ ছিল তুলনামূলক শক্তিশালী খাতগুলোর মধ্যে।
পিসিএল টেকনোলজিস, অ্যাবোকম সিস্টেমস ও তাই টুন এন্টারপ্রাইজসহ অন্য কয়েকটি শেয়ারের দর ১০ শতাংশ বেড়েছে। বাজারজুড়ে ৭৩৩টি শেয়ারের দরবৃদ্ধি ও ২৮৯টির দরপতনের হিসাবে, প্রতি একটি দরপতন হওয়া শেয়ারের বিপরীতে প্রায় ২.৫টি শেয়ারের দর বেড়েছে।
আর্থিক ও বস্ত্র খাতের শেয়ার উত্থানে সামিল হয়নি
আর্থিক খাতের শেয়ার সম্মিলিতভাবে ০.৫৬ শতাংশ কমেছে, যা তাইএক্সের তুলনায় ২.৬০ শতাংশ পয়েন্ট পিছিয়ে। ক্যাথে ফাইন্যান্সিয়াল হোল্ডিং ছিল ব্যতিক্রম; কোম্পানিটির শেয়ার ১.৩২ শতাংশ বেড়ে ১১৫.৫০ তাইওয়ানি ডলারে উঠেছে। তবে আরও কয়েকটি বড় আর্থিক কোম্পানির শেয়ারের দর কমেছে।
ফুবন ফাইন্যান্সিয়াল হোল্ডিংয়ের শেয়ার ০.৬২ শতাংশ কমে ১৬১ তাইওয়ানি ডলারে দাঁড়িয়েছে, আর ই. সান ফাইন্যান্সিয়াল হোল্ডিংয়ের শেয়ার কমেছে ২.২২ শতাংশ; দর হয়েছে ৪৮.৩৫ ডলার। সিটিবিসি ফাইন্যান্সিয়ালের শেয়ার ০.৮০ তাইওয়ানি ডলার কমে ৭৪.২০ ডলারে বন্ধ হয়েছে, আর মেগা ফাইন্যান্সিয়াল কমেছে ১.১০ ডলার; দর দাঁড়িয়েছে ৫৩.৯০ ডলারে।
বস্ত্র কোম্পানিগুলোর শেয়ারেও দুর্বলতা দেখা গেছে। একলাট টেক্সটাইলের শেয়ার ১.৭০ শতাংশ কমে ৩১৭.৫০ তাইওয়ানি ডলারে দাঁড়িয়েছে, আর ফার ইস্টার্ন নিউ সেঞ্চুরির শেয়ার কমেছে ২.২৬ শতাংশ; দর হয়েছে ২৮.১৫ ডলার। অন্যদিকে ফ্যালকন পাওয়ার ও এইচডি রিনিউয়েবল এনার্জির শেয়ার ১০ শতাংশ কমেছে, আর অ্যাটেন ইন্টারন্যাশনালের শেয়ার কমেছে ৫.৫ শতাংশ।
তাইওয়ানের বিভিন্ন শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের জন্য বুধবারের ফল নির্ভর করেছে খাতভিত্তিক বিনিয়োগের ওপর। চিপ ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশে কেন্দ্রীভূত পোর্টফোলিওর অভিজ্ঞতা ব্যাংক বা বস্ত্র খাতে বেশি বিনিয়োগ থাকা পোর্টফোলিওর চেয়ে আলাদা ছিল।
লেনদেন কমলেও শক্তিশালী সমাপ্তি
বুধবারের সমাপ্তিতে তাইএক্স ৬০ লেনদেন-দিনের চলমান গড়—প্রায় ৪৬,৩৯৮ পয়েন্ট—ছাড়িয়ে গেছে। চলমান গড় দৈনিক দামের ওঠানামা মসৃণ করে বাজারের সাম্প্রতিক গতিপথ দেখায়। এ ধরনের স্তরে কেনাবেচা জমতে পারে বলে লেনদেনকারীরা এগুলো অনুসরণ করেন।
ওই স্তর পেরিয়ে সূচকের উত্থান এবং লেনদেনের অঙ্কে দৃশ্যমান সতর্কতা নিয়ে মন্তব্য করেন হুয়াং।
"আজকের উত্থানে তাইএক্স ৪৬,৩৯৮ পয়েন্টের ঠিক ওপরে থাকা কঠিন কারিগরি বাধা—৬০ দিনের চলমান গড়—পেরিয়ে গেছে," হুয়াং বলেন।
মঙ্গলবারের তুলনায় লেনদেন প্রায় ৩০৭.৮৬ বিলিয়ন তাইওয়ানি ডলার বা আনুমানিক ৩০ শতাংশ কমেছে। শেয়ারের দাম দ্রুত বাড়লেও হাতবদল হওয়া শেয়ারের মূল্য কমেছে, ফলে আগের লেনদেন-দিনের তুলনায় কম লেনদেনের সমর্থনে উত্থানটি হয়েছে।
হুয়াং বলেন, মাইক্রোসফট, অ্যালফাবেট ও অ্যামাজনসহ বড় এআই কোম্পানিগুলোর ফলাফলের অপেক্ষায় অনেক বিনিয়োগকারী ছিলেন। এসব ফল তাইওয়ানের সরবরাহকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ব্যয়ের পরিকল্পনা ও কম্পিউটিং পরিষেবার চাহিদা সরঞ্জামের ক্রয়াদেশ নিয়ে প্রত্যাশা গড়ে তোলে।
তাইওয়ান স্টক এক্সচেঞ্জ জানিয়েছে, বুধবার বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা প্রধান বাজারে নিট ১৫.৯২ বিলিয়ন তাইওয়ানি ডলারের শেয়ার কিনেছেন। নিট কেনাকাটা বলতে কেনা শেয়ারের পরিমাণ বিক্রির চেয়ে ওই অঙ্কে বেশি হওয়াকে বোঝায়।
মঙ্গলবার বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিট ৮.১০৪ বিলিয়ন তাইওয়ানি ডলারের শেয়ার বিক্রি করেছিলেন। ফলে বুধবারের অঙ্কটি কেনাকাটার দিকে প্রায় ২৪.০২ বিলিয়ন ডলারের পরিবর্তন নির্দেশ করে। উত্থানের পর বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটা অব্যাহত থাকে কি না এবং তাইওয়ানের সূচকভিত্তিক ফিউচারসে দরপতনের পজিশনে কী পরিবর্তন হয়, তা বিনিয়োগকারীরা নজরে রাখছিলেন।
দুই দিনের লেনদেনে দ্রুত মনোভাব পরিবর্তনের চিত্র
মঙ্গলবারের লেনদেনেও উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা দেখা গিয়েছিল। তাইএক্স প্রথমে ৫০০ পয়েন্টের বেশি বাড়লেও পরে ৪৫,৬৭৬ পয়েন্টে নেমে যায়। শেষদিকে টিএসএমসির উত্থানে সূচকটি ৫৪.৮ পয়েন্ট বেড়ে ৪৬,০৯৬.২৩ পয়েন্টে লেনদেন শেষ করে।
সেদিন প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অবস্থান ছিল মিশ্র। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা নিট ৮.১০৪ বিলিয়ন তাইওয়ানি ডলার এবং নিজস্ব হিসাবে লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১২.৩৯৯ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার বিক্রি করে; বিপরীতে বিনিয়োগ ট্রাস্টগুলো ২৩.৬৪৫ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার কেনে। তিন গোষ্ঠী মিলিয়ে নিট কেনাকাটার অঙ্ক ছিল ৩.১৪২ বিলিয়ন ডলার।
বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত ঘোষণাগুলোর আগের ঘটনাক্রম ছিল:
- ২৭ অক্টোবর: দিনের মধ্যে দরপতনের পর তাইএক্স ৪৬,০৯৬.২৩ পয়েন্টে লেনদেন শেষ করে। বিদেশি বিনিয়োগকারী ও নিজস্ব হিসাবে লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠানের বিক্রির চেয়ে বিনিয়োগ ট্রাস্টের কেনাকাটা বেশি ছিল।
- ২৮ অক্টোবরের লেনদেনের আগের যুক্তরাষ্ট্রের বাজার: ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচক ৩.৬০ শতাংশ বেড়ে ১১,৪৮২.৫১ পয়েন্টে ওঠে।
- ২৮ অক্টোবর: তাইএক্স ৯৩৯.৩৫ পয়েন্ট বেড়ে ৪৭,০৩৫.৫৮ পয়েন্টে দাঁড়ায় এবং বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিট ১৫.৯২ বিলিয়ন তাইওয়ানি ডলারের শেয়ার কেনেন।
- ২৯ অক্টোবর: বিনিয়োগকারীদের সামনে ছিল ফেডারেল রিজার্ভের নির্ধারিত ঘোষণা, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং এইউও ও ডেল্টা ইলেকট্রনিকসের আয়ের প্রতিবেদন নিয়ে সম্মেলন কল।
বুধবারের সমাপ্তিতে তাইএক্স মঙ্গলবারের দিনের সর্বনিম্ন অবস্থানের চেয়ে ১,৩৫৯.৫৮ পয়েন্ট ওপরে ছিল। এই পুনরুদ্ধারে মনোযোগ ৪৬,০০০ পয়েন্ট ধরে রাখার লড়াই থেকে সরে গিয়ে এখন কোম্পানির ফলাফল ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কেনাকাটা উচ্চতর অবস্থানকে সমর্থন করবে কি না, সেই প্রশ্নে গেছে।
২৯ অক্টোবর নীতি ও আয়ের পরীক্ষার দিন
ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের সিদ্ধান্ত ২৯ অক্টোবর তাইপেই সময় রাত ২টায় ঘোষণার কথা ছিল; এরপর রাত ২টা ৩০ মিনিটে সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা। বিনিয়োগকারীদের প্রত্যাশা ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে।
সুদের হার ঋণের খরচ এবং তুলনামূলক নিরাপদ বিনিয়োগ থেকে পাওয়া আয়ে প্রভাব ফেলে। প্রযুক্তি শেয়ারের ক্ষেত্রে এ খরচের পরিবর্তন ভবিষ্যতে প্রত্যাশিত মুনাফার জন্য বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে কত দাম দিতে রাজি, তা প্রভাবিত করতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেপ্টেম্বর মাসের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যস্ফীতির তথ্যও ২৯ অক্টোবর তাইপেই সময় রাত ৮টা ৩০ মিনিটে প্রকাশের কথা ছিল। খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাদ দেওয়া মূল সূচকটি আগের মাসের তুলনায় ০.৩ শতাংশ বাড়বে বলে ধারণা করা হয়েছিল। মূল্যচাপ এবং ফেডের সুদের হার পরিবর্তনের সুযোগ সম্পর্কে ইঙ্গিত পেতে বিনিয়োগকারীরা এ তথ্য দেখেন।
এইউও ও ডেল্টা ইলেকট্রনিকসের ২৯ অক্টোবর আয়ের প্রতিবেদন নিয়ে সম্মেলন কল করার কথা ছিল। ডেল্টার শেয়ারে শক্তিশালী লেনদেনের পর কোম্পানিটির হালনাগাদ তথ্য বিদ্যুৎ সরঞ্জাম সরবরাহকারীদের শেয়ারে নতুন করে কেনাকাটা মূল্যায়নের সুযোগ দিত।
যুক্তরাষ্ট্রের চিপ শেয়ারের উত্থান, এআই থেকে আয় নিয়ে আশাবাদ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নিট কেনাকাটায় ফেরার সমন্বয়ে তাইওয়ানের বাজারে উত্থান এসেছে। পরবর্তী নির্ধারিত ঘোষণাগুলো বিনিয়োগকারীদের প্রবৃদ্ধির অর্থায়ন ব্যয় এবং এর পেছনের ব্যবসায়িক চাহিদা সম্পর্কে আরও তথ্য দেবে।
মূল বিষয়গুলো
- ২০২৬ সালের ২৮ অক্টোবর তাইএক্স ৯৩৯.৩৫ পয়েন্ট বা ২.০৪ শতাংশ বেড়ে ৪৭,০৩৫.৫৮ পয়েন্টে লেনদেন শেষ করে।
- অ্যানথ্রপিকের আইপিও আবেদন এবং ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচকের ৩.৬০ শতাংশ উত্থান এআই সরবরাহকারীদের শেয়ারে কেনাকাটা বাড়াতে সহায়তা করে।
- অ্যানথ্রপিকের এস-১ আবেদনে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে ১৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়, ৩.৯ বিলিয়ন ডলার পরিচালন নগদ প্রবাহ এবং প্রায় ১০ শতাংশ সমন্বিত পরিচালন মার্জিনের কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে ৬৯৩ মিলিয়ন ডলারের পরিচালন লোকসান এবং ৭২.৪ বিলিয়ন ডলারের হিসাবগত ব্যয়সহ ৮০.৭ বিলিয়ন ডলারের নিট লোকসানের তথ্যও রয়েছে।
- টিএসএমসি সূচকে প্রায় ২০০ পয়েন্ট যোগ করেছে; অন্যদিকে মিডিয়াটেক, মেমোরি কোম্পানি ও ইলেকট্রনিক যন্ত্রাংশ সরবরাহকারীদের শেয়ারে শতাংশের হিসাবে বেশি উত্থান হয়েছে।
- মঙ্গলবারের তুলনায় লেনদেন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে ৭২২.১৪ বিলিয়ন তাইওয়ানি ডলারে দাঁড়িয়েছে।
- আগের দিন নিট ৮.১০৪ বিলিয়ন তাইওয়ানি ডলারের শেয়ার বিক্রির পর বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা নিট ১৫.৯২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ার কিনেছেন।
- দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারের সংখ্যা দরপতন হওয়া শেয়ারের চেয়ে ৭৩৩টির বিপরীতে ২৮৯টি বেশি হলেও আর্থিক ও বস্ত্র খাতের শেয়ার পিছিয়ে ছিল।
- ২৯ অক্টোবর ফেডের নির্ধারিত ঘোষণা, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং এইউও ও ডেল্টা ইলেকট্রনিকসের আয়ের প্রতিবেদন নিয়ে সম্মেলন কল হওয়ার কথা ছিল।






