তিন জেলায় মাইন অপসারণের অগ্রগতি অসম
আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের তিন জেলার বিশেষ প্রতিনিধি এমিন হুসেইনভের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছরে আগদাম, ফুজুলি ও খোজাভান্দে ১১৫,৩০৬টি মাইন ও অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ শনাক্ত করেছে আজারবাইজান। তাঁর বক্তব্যে কারাবাখের শহরগুলো পুনর্গঠন এবং সেগুলোর সাংস্কৃতিক পরিচয় অক্ষুণ্ন রাখার প্রচেষ্টায় মাইন অপসারণকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
সূচিপত্র
২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত তথ্যে অগ্রগতির উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যায়: আগদামের প্রায় ৬০%, ফুজুলির ৭৮% এবং খোজাভান্দের ১৬% এলাকা মাইনমুক্ত করা হয়েছে। বакуতে অনুষ্ঠিত সপ্তম বিশ্ব আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপ ফোরামে, সংস্কৃতি ও অভিন্ন ভবিষ্যতের পথে নিরাপদ অগ্রযাত্রা নিয়ে এক অধিবেশনে হুসেইনভ এই হালনাগাদ তথ্য তুলে ধরেন।
হুসেইনভ মাইনকে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে বর্ণনা করেন। তাঁর বক্তব্যে ভূমি মাইনমুক্ত করার কাজের সঙ্গে পুনর্গঠিত শহরগুলো কীভাবে পরিচালিত হবে, কোথায় প্রশাসনিক কেন্দ্র স্থাপন করা হবে এবং কীভাবে সেগুলোর ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ করা হবে—এসব সিদ্ধান্তের যোগসূত্র তুলে ধরা হয়।
বাসিন্দা ও নির্মাণকর্মীদের জন্য এসব কাজ পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। পুনর্গঠনের জন্য জমিতে প্রবেশাধিকার দরকার, অন্যদিকে মাটির নিচে পুঁতে রাখা বিস্ফোরক এবং যুদ্ধের পর পড়ে থাকা গোলাবারুদের ঝুঁকি মানুষ কোথায় চলাচল করতে পারবে এবং কোথায় নিরাপদে কাজ করা যাবে, তা প্রভাবিত করে।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে যা দেখা যায়
ফুজুলিতে সর্বাধিক ৫১,৬৪০টি মাইন ও অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ শনাক্ত হয়েছে। এরপর রয়েছে আগদাম, ৩৭,৩৮৫টি; এবং খোজাভান্দ, ২৬,২৮১টি। তিন জেলার এই সংখ্যা মিলিয়ে মোট ১১৫,৩০৬টি হয়।
মোট সংখ্যার প্রায় ৪৫% ফুজুলিতে শনাক্ত হয়েছে। সেখানে মাইনমুক্ত এলাকার হারও সর্বোচ্চ, প্রায় ৭৮%; আগদামে তা ৬০% এবং খোজাভান্দে ১৬%। ফুজুলি ও খোজাভান্দের মধ্যে ব্যবধান ৬২ শতাংশ পয়েন্ট, যা জেলাগুলোতে কাজের অগ্রগতির ভিন্নতা দেখায়।
শনাক্ত হওয়া বস্তুগুলোর মধ্যে বিস্ফোরক ঝুঁকির দুটি ধরন রয়েছে। মাইন এমনভাবে পুঁতে রাখা হয়, যাতে চাপ বা সংস্পর্শের মতো কোনো কিছুর প্রভাবে সেটি বিস্ফোরিত হতে পারে। অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ হলো শেল বা অন্য কোনো বিস্ফোরক অস্ত্রের মতো গোলাবারুদ, যা ব্যবহারের সময় বিস্ফোরিত হয়নি এবং পরেও বিপজ্জনক থাকতে পারে।
হুসেইনভের দেওয়া মোট সংখ্যায় দুই ধরনের বস্তুই অন্তর্ভুক্ত। কাজটি বোঝার জন্য এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ: মাইন অপসারণকারী দলকে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে পড়ে থাকা বিস্ফোরক বস্তুর মোকাবিলা করতে হয়, শুধু মাটির নিচে পোঁতা মাইন খুঁজলেই চলে না।
খোজাভান্দে বাকি মাইন অপসারণের কাজ
হুসেইনভের গোল করে বলা পরিসংখ্যানে খোজাভান্দে মাইনমুক্ত এলাকার হার সর্বনিম্ন, প্রায় ১৬%। তাঁর বক্তব্যের আরেকটি প্রকাশিত বিবরণে ভিন্ন হিসাব দেওয়া হয়েছে: সেখানে বলা হয়েছে, খোজাভান্দের ৭৮.৩২% এলাকা মাইনমুক্ত হয়নি, অর্থাৎ মাইনমুক্ত হয়েছে ২১.৬৮%। এই সংখ্যা এবং প্রায় ১৬% সংখ্যার পার্থক্যের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।
দুই হিসাবেই মাইনমুক্ত এলাকার অনুপাতে খোজাভান্দ আগদাম ও ফুজুলির পিছিয়ে রয়েছে। পরিকল্পনার ক্ষেত্রে এর অর্থ, প্রতিবেশী জেলাগুলোর মতো মাইনমুক্ত এলাকার হার অর্জনের আগে খোজাভান্দের আরও বড় অংশে মাইন অপসারণ করতে হবে।
হুসেইনভ আরও বলেন, আগদামের এক-তৃতীয়াংশের বেশি এবং ফুজুলির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা এখনো মাইনমুক্ত হয়নি। তাঁর বলা এই পরিসংখ্যান মোটামুটি গোল করে দেওয়া মাইনমুক্ত এলাকার হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ: আগদামে উল্লেখযোগ্য কাজ বাকি, আর ফুজুলিতে অগ্রগতি তুলনামূলক বেশি।
শতাংশগুলো প্রতিটি জেলার মোট এলাকার কত অংশ মাইনমুক্ত হয়েছে, তা নির্দেশ করে। প্রকৃতপক্ষে কতটা জমি মাইনমুক্ত হয়েছে, তা তুলনা করতে হলে সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিমাপ দরকার, যা হুসেইনভের প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে ছিল না। কোনো জেলার বেশি শতাংশ এলাকা মাইনমুক্ত হলেও সেখানে বাকি কাজের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে, কারণ জেলার আয়তন এবং মাঠপর্যায়ে পাওয়া পরিস্থিতি এক নয়।
মাইনক্ষেত্রের মানচিত্র কেন গুরুত্বপূর্ণ
হুসেইনভ বলেন, মাইনক্ষেত্রের সঠিক মানচিত্র সরবরাহ না করায় মাইন অপসারণের কাজ এখনো জটিল হয়ে আছে। এসব মানচিত্র দলগুলোকে মাইন কোথায় পোঁতা হয়েছিল তা শনাক্ত করতে এবং নথিভুক্ত স্থান ঘিরে অনুসন্ধানের পরিকল্পনা করতে সাহায্য করতে পারে।
নির্ভুল নথি মাইন অপসারণকারী দলগুলোকে কাজ শুরু করার ভিত্তি দেয়। নথি না থাকলে বা তা নির্ভরযোগ্য না হলে, বিস্ফোরক ঝুঁকি কোথায় থাকতে পারে সে বিষয়ে দলগুলোর কাছে কম নির্ভরযোগ্য তথ্য থাকে। ফলে বিপজ্জনক বস্তু খুঁজে বের করে তা মোকাবিলা করার শারীরিক কাজের পাশাপাশি তথ্যের মানও বাস্তব চ্যালেঞ্জের অংশ হয়ে দাঁড়ায়।
হালনাগাদ তথ্যে অগ্রগতির দুটি পরিমাপ একসঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে: মাইনমুক্ত এলাকার অনুপাত এবং শনাক্ত হওয়া বিস্ফোরক বস্তুর সংখ্যা। প্রতিটি ভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেয়। প্রথমটি একটি জেলার কতটা এলাকায় মাইন অপসারণের কাজ হয়েছে তা বোঝায়; দ্বিতীয়টি দলগুলো কতটি বিপজ্জনক বস্তু পেয়েছে, তা জানায়।
পুনর্গঠনের অপেক্ষায় থাকা জনপদগুলোর জন্য কোন এলাকায় মাইন অপসারণ হয়েছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। সড়ক, নির্মাণস্থল ও প্রবেশপথ একটি স্থানকে আবার ব্যবহারযোগ্য করে তোলার ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন ভূমিকা রাখে। হুসেইনভের জেলাভিত্তিক মোট সংখ্যা সামগ্রিক চিত্র দেয়, তবে নির্দিষ্ট প্রকল্পের সিদ্ধান্ত নিতে হলে প্রকল্পের আওতায় আসা জমি সম্পর্কে তথ্য দরকার।
পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত যেভাবে নেওয়া হয়
হুসেইনভ বলেন, অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধারের জন্য আজারবাইজান কয়েকটি স্তরবিশিষ্ট একটি ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় কাঠামো গড়ে তুলেছে। ঊর্ধ্বতন সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীরা পুনরুদ্ধারের নীতি ও অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন, আর বিশেষজ্ঞ কর্মদল পরিকল্পিত কাজ কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা ঠিক করে।
এই ব্যবস্থায় লক্ষ্য নির্ধারণের সিদ্ধান্তকে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের বিস্তারিত কাজ থেকে আলাদা রাখা হয়েছে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কর্তৃপক্ষ ঠিক করে পুনরুদ্ধারের কোন বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পাবে। কর্মপর্যায়ে বিশেষজ্ঞরা সেই অগ্রাধিকারকে বাস্তব কর্মকাণ্ডে রূপ দেন।
হুসেইনভ পুনর্গঠনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে মহাপরিকল্পনা তৈরি এবং নগর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। মহাপরিকল্পনা হলো একটি শহর কীভাবে গড়ে উঠবে তার সামগ্রিক নির্দেশিকা; এতে শহরের প্রধান এলাকাগুলো ও কার্যক্রমের পারস্পরিক সম্পর্কও থাকে। এটি পৃথক নির্মাণ প্রকল্পগুলোকে একটি অভিন্ন কাঠামো দেয়।
হুসেইনভের বক্তব্যে মাইন অপসারণ, সমন্বয় এবং পরিকল্পনাকে একই পুনর্গঠন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বিস্ফোরক ঝুঁকি দূর হলে জমিতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি হয়; সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ গুছিয়ে নেওয়া হয়; আর নগর পরিকল্পনা নির্ধারণ করে পুনরুদ্ধার করা শহরটি কেমন হবে।
আগদামের পরিকল্পনায় ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র আলাদা
হুসেইনভ বলেন, কয়েকটি দেশের বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আগদামের মহাপরিকল্পনা তৈরি হয়েছে। তিনি এর একটি কেন্দ্রীয় নকশাগত সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরেন: শহরটির ঐতিহাসিক কেন্দ্র এবং প্রশাসনিক কেন্দ্র আলাদা।
এর ঘোষিত উদ্দেশ্য হলো আগদামের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণ করা এবং একই সঙ্গে অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করা। বাস্তবে, পরিকল্পনায় ঐতিহাসিক কেন্দ্র এবং প্রশাসনিক কাজে ব্যবহৃত এলাকা শহরের নকশায় পৃথক স্থানে রাখা হয়েছে।
পুনর্গঠনের বিষয়টি আন্তঃসাংস্কৃতিক সংলাপনির্ভর এক ফোরামে কেন উঠে এসেছে, এই সিদ্ধান্ত তা বুঝতে সাহায্য করে। হুসেইনভ পুনর্গঠনকে শুধু ভৌত অবকাঠামোর বিষয় নয়, সাংস্কৃতিক পরিচয়ের বিষয় হিসেবেও তুলে ধরেন। শহরের বিন্যাস এমন হতে পারে, যাতে দৈনন্দিন প্রশাসনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি তার ইতিহাসও দৃশ্যমান থাকে।
হুসেইনভের বর্ণনায় আন্তর্জাতিক অবদানটি মহাপরিকল্পনা তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর বক্তব্যে পরিকল্পনার মূল দৃষ্টিভঙ্গি, বিশেষ করে ঐতিহাসিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং কার্যকর একটি শহর গড়ে তোলার মধ্যে সম্পর্কের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
হালনাগাদ তথ্য পুনর্গঠন সম্পর্কে কী বলছে
ফুজুলিতে প্রায় ৭৮%, আগদামে প্রায় ৬০% এবং খোজাভান্দে তুলনামূলকভাবে অনেক কম এলাকা মাইনমুক্ত হওয়ার তথ্য তিন জেলায় পুনর্গঠনের ভিন্ন পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। প্রতিটি স্থানে মাইন অপসারণের অগ্রগতি বিবেচনায় রেখে কর্তৃপক্ষকে পুনর্গঠনের কাজ সাজাতে হবে।
পাঁচ বছরের কাজে ১১৫,৩০৬টি বিস্ফোরক বস্তু শনাক্ত হওয়ার তথ্যও ঝুঁকির ব্যাপকতা তুলে ধরে। হুসেইনভের বক্তব্যে এই মাইন অপসারণ প্রচেষ্টাকে একটি বৃহত্তর প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেন, বিশেষজ্ঞ দল বাস্তবায়নের কাজ সাজায় এবং নগর পরিকল্পনা উন্নয়নের দিকনির্দেশ দেয়।
হালনাগাদ তথ্যে আগদাম পরিকল্পনার সবচেয়ে স্পষ্ট উদাহরণ: শহরের পরিচয় সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি একটি মহাপরিকল্পনায় ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র আলাদা রাখা হয়েছে। তিন জেলা জুড়েই জমি পুনরুদ্ধারের কাজে ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে মাইন অপসারণ অব্যাহত রাখা জরুরি।
মূল বিষয়গুলো
- হুসেইনভ জানান, পাঁচ বছরে আগদাম, ফুজুলি ও খোজাভান্দে ১১৫,৩০৬টি মাইন ও অবিস্ফোরিত গোলাবারুদ শনাক্ত হয়েছে।
- জেলাভিত্তিক সংখ্যা: আগদামে ৩৭,৩৮৫টি, ফুজুলিতে ৫১,৬৪০টি এবং খোজাভান্দে ২৬,২৮১টি।
- তাঁর হিসাবে আগদামে প্রায় ৬০%, ফুজুলিতে ৭৮% এবং খোজাভান্দে ১৬% এলাকা মাইনমুক্ত হয়েছে।
- তাঁর বক্তব্যের আরেকটি বিবরণে খোজাভান্দের ৭৮.৩২% এলাকা মাইনমুক্ত হয়নি বলা হয়েছে; পরিসংখ্যানে এই অমিলের ব্যাখ্যা নেই।
- হুসেইনভ মাইনক্ষেত্রের ভুল মানচিত্রকে মাইন অপসারণের কাজে চলমান জটিলতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
- আগদামের মহাপরিকল্পনায় সাংস্কৃতিক পরিচয় সংরক্ষণের ঘোষিত লক্ষ্য নিয়ে ঐতিহাসিক ও প্রশাসনিক কেন্দ্র আলাদা রাখা হয়েছে।






