দুটি চুল্লি ২০৩০-এর দশক পর্যন্ত চালানোর অনুমোদন পেল
দক্ষিণ কোরিয়ার নিউক্লিয়ার সেফটি অ্যান্ড সিকিউরিটি কমিশন বুসানের গিজাং কাউন্টিতে কোরি পারমাণবিক চুল্লি ৩ ও ৪-এর লাইসেন্সের মেয়াদ আরও ১০ বছর বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে। এতে ২,০৫০ মেগাওয়াট উৎপাদনক্ষমতা বিদ্যুৎ গ্রিডে ফিরিয়ে আনার পথ খুলেছে। তবে চুল্লি দুটি ফের চালু করতে যন্ত্রপাতির উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রক পরিদর্শন সম্পন্ন করতে হবে। ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে সেগুলো পুনরায় চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূচিপত্র
- দুটি চুল্লি ২০৩০-এর দশক পর্যন্ত চালানোর অনুমোদন পেল
- বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে কী করতে হবে?
- চার বছরের পর্যালোচনার পর দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
- নিরাপত্তা মূল্যায়নে কী পাওয়া গেছে
- আশপাশের জনসংখ্যা কেন গুরুত্বপূর্ণ
- টাইফুন, উষ্ণ সমুদ্র ও জ্বালানি সংরক্ষণ
- কত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ফিরতে পারে?
- অর্থনৈতিক যুক্তি ও ইতিমধ্যে হারানো সময়
- সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আরও সাতটি চুল্লি
- মূল বিষয়গুলো
২০২৬ সালের ২৭ অক্টোবরের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোরি ৩ ২০৩৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এবং কোরি ৪ ২০৩৫ সালের ৬ আগস্ট পর্যন্ত চালানো যাবে। মূল পরিচালন মেয়াদ শেষ হওয়ায় দুটি চুল্লিই বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করেছিল—ইউনিট ৩ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এবং ইউনিট ৪ ২০২৫ সালের আগস্টে।
পাঁচজন কমিশনার মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষে এবং দুজন বিপক্ষে ভোট দেন। বৈঠকে সাতজন কমিশনার অংশ নিয়েছিলেন বলে জানানো হয়েছিল। তবে অনুমোদনের আরেক বর্ণনায় কমিশনের মোট আসনসংখ্যা নয়টি বলা হয় এবং উল্লেখ করা হয়, পাঁচটি পক্ষে ভোট প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পূরণ করেছে।
রাষ্ট্রায়ত্ত পরিচালনাকারী সংস্থা কোরিয়া হাইড্রো অ্যান্ড নিউক্লিয়ার পাওয়ার (কেএইচএনপি)-এর জন্য এ সিদ্ধান্ত দক্ষিণ কোরিয়ায় বিদ্যমান উৎপাদনক্ষমতা পুনরুদ্ধারের পথ তৈরি করেছে। দেশটি সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অন্যদিকে, মেয়াদ বাড়ানোর বিরোধী নাগরিক গোষ্ঠীগুলো এক জায়গায় চুল্লির ঘনত্ব, আশপাশের জনসংখ্যা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এখন মূল প্রশ্ন অনুমতি নয়, বাস্তবায়ন: কেএইচএনপিকে প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করতে হবে এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে নিশ্চিত করতে হবে যে চুল্লিগুলো পুনরায় চালুর উপযোগী। নতুন পরিচালন মেয়াদ নির্দিষ্ট হওয়ায় প্রস্তুতিতে ব্যয় হওয়া সময়ের কারণে মেয়াদ বাড়ানোর আওতায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য হাতে থাকা বছর কমে যাবে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর আগে কী করতে হবে?
কেএইচএনপির ধারণা, যন্ত্রপাতির উন্নয়নে প্রায় চার থেকে ছয় মাস লাগবে। নিরাপত্তা উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ করে প্রয়োজনীয় পরিদর্শনে উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে পর্যায়ক্রমে চুল্লি দুটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুনরায় চালুর নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
কমিশন এর আগে অক্টোবরের শুরুতে চুল্লি দুটির দুর্ঘটনা ব্যবস্থাপনা কর্মসূচি অনুমোদন করেছিল। দুর্ঘটনা ঘটলে নিরাপদ অবস্থা বজায় রাখা, দুর্ঘটনা ঠেকানো এবং এর পরিণতি সীমিত করার প্রস্তুতি এতে তুলে ধরা হয়েছে। ২০১১ সালে জাপানের ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর ২০১৫ সাল থেকে দক্ষিণ কোরিয়ার পারমাণবিক বিদ্যুৎ পরিচালনাকারীদের জন্য এ ধরনের পরিকল্পনা জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়।
কোরি ৩ ও ৪—দুটিই চাপযুক্ত পানি চুল্লি; প্রতিটির ক্ষমতা ১,০২৫ মেগাওয়াট। এই ধরনের চুল্লিতে উচ্চচাপে রাখা পানি চুল্লি থেকে তাপ সরিয়ে এমন যন্ত্রে নিয়ে যায়, যেখানে বাষ্প তৈরি হয়। সেই বাষ্প টারবাইন ঘুরিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।
চুল্লি দুটির মূল পরিচালন লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল ১৯৮৪ ও ১৯৮৫ সালে। পরে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়—ইউনিট ৩-এর ক্ষেত্রে ১৯৮৫ সালের সেপ্টেম্বরে এবং ইউনিট ৪-এর ক্ষেত্রে ১৯৮৬ সালের এপ্রিলে। মেয়াদ বাড়ানোর শেষ তারিখ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর বার্ষিকী নয়, মূল লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ধরে নির্ধারিত হয়েছে।
চার বছরের পর্যালোচনার পর দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
কেএইচএনপি ২০২২ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যায়ক্রমিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন জমা দেয় এবং ২০২৩ সালের নভেম্বরে পরিচালন লাইসেন্স পরিবর্তনের আবেদন করে। কারিগরি নিরাপত্তা মূল্যায়নের দায়িত্বে থাকা কোরিয়া ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার সেফটি (কেআইএনএস) ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আবেদনটি পর্যালোচনা করে। পারমাণবিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ কমিটিও প্রায় ছয় মাস ধরে প্রাথমিক পরীক্ষা চালায়।
কমিশনের চূড়ান্ত পর্যায়টি ছিল অনেক সংক্ষিপ্ত। প্রস্তাবটি প্রথমবার কমিশনারদের সামনে আসে ১৫ অক্টোবর; দ্বিতীয়বার বিবেচনার ১২ দিন পর তা অনুমোদিত হয়। প্রথম বৈঠকে আরও তথ্য চাওয়ায় সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল।
অতিরিক্ত উপকরণে বিকিরণ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন নিয়ে গণশুনানি এবং গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি কত দিন নিরাপদে চালু রাখা যাবে—এ-সংক্রান্ত মূল্যায়নের বিষয়ও ছিল। পর্যালোচনা নিয়ে বিতর্কে এই ধারাবাহিকতা গুরুত্বপূর্ণ: সমালোচকেরা কমিশনের বৈঠক দুটির মধ্যকার স্বল্প সময়ের ওপর জোর দিয়েছেন, আর নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলেছে, কারিগরি পর্যালোচনায় প্রায় চার বছর লেগেছে।
প্রধান মাইলফলকগুলো ছিল:
- ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২২: চালু রাখার বিষয়ে পর্যায়ক্রমিক নিরাপত্তা মূল্যায়ন জমা দেয় কেএইচএনপি।
- নভেম্বর ২০২৩: পরিচালন লাইসেন্স পরিবর্তনের আবেদন করে কেএইচএনপি।
- সেপ্টেম্বর ২০২৪ ও আগস্ট ২০২৫: যথাক্রমে কোরি ৩ ও কোরি ৪ বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে।
- সেপ্টেম্বর ২০২৬: কারিগরি পর্যালোচনা শেষ করে কেআইএনএস।
- ১৫ ও ২৭ অক্টোবর, ২০২৬: কমিশন প্রথমে মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করে, পরে অনুমোদন দেয়।
- ২০২৭ সালের প্রথমার্ধ: উন্নয়নকাজ ও পরিদর্শন শেষে পর্যায়ক্রমে চুল্লি চালুর লক্ষ্য কেএইচএনপির।
নিরাপত্তা মূল্যায়নে কী পাওয়া গেছে
কমিশনের সিদ্ধান্ত, অতিরিক্ত লাইসেন্স মেয়াদজুড়ে চুল্লি দুটি নিরাপদে চালানো সম্ভব। মূল্যায়নে যন্ত্রপাতির বার্ধক্য এবং গুরুত্বপূর্ণ অংশের কার্যকাল প্রতিটি চুল্লির জন্য আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। নকশা একই হলেও পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের ইতিহাস ভিন্ন হওয়ায় এ বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
বিকিরণ পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়নে স্বাভাবিক পরিচালনার সময় সর্বোচ্চ বিকিরণমাত্রা ধরা হয়েছে ০.০৯৬ মিলিসিভার্ট; নির্ধারিত সীমা ০.২৫ মিলিসিভার্ট। দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে, গুরুতর দুর্ঘটনাসহ, সর্বোচ্চ মাত্রা ধরা হয়েছে ১০৩.৩ মিলিসিভার্ট; নির্ধারিত সীমা ২৫০ মিলিসিভার্ট।
মানবদেহে বিকিরণের প্রভাব বোঝাতে ব্যবহৃত একক হলো মিলিসিভার্ট। মূল্যায়নে স্বাভাবিক পরিচালনার সময় বিকিরণমাত্রা নির্ধারিত সীমার প্রায় ৩৮ শতাংশ এবং দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সীমার প্রায় ৪১ শতাংশ ধরা হয়েছে। এসব পরিসংখ্যান মূল্যায়ন করা পরিস্থিতিতে মডেলভিত্তিক বিকিরণমাত্রা নির্দেশ করে।
একাধিক চুল্লিতে একসঙ্গে প্রভাব ফেলা দুর্যোগ কীভাবে বিবেচনা করা হয়েছে, তা নিয়ে নাগরিক গোষ্ঠীগুলো আপত্তি জানিয়েছে। তাদের প্রশ্ন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে একাধিক ইউনিট থেকে তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়ালে বাসিন্দাদের সম্ভাব্য বিকিরণমাত্রা মূল্যায়নে যথাযথভাবে হিসাব করা হয়েছে কি না।
আলোচনার সময় কেআইএনএস স্বীকার করে যে এ-সংক্রান্ত নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি ও ফলাফল নিয়ে দেশীয় গবেষণা হয়েছে। তবে তাদের বক্তব্য, বিদ্যমান লাইসেন্স প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রয়োগের পর্যায়ে সেই গবেষণা এখনো পৌঁছায়নি।
আশপাশের জনসংখ্যা কেন গুরুত্বপূর্ণ
২০১৭ সালে কোরি থেকে ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রায় ৩৮ লাখ ২০ হাজার মানুষ বাস করতেন। মেয়াদ বাড়ানোর বিরোধীরা এ জনসংখ্যার পরিসংখ্যান তুলে ধরেছেন। তুলনায়, ২০১১ সালের দুর্যোগের সময় ফুকুশিমা থেকে একই দূরত্বের মধ্যে বাস করতেন প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। এই হিসাব অনুযায়ী, কোরির আশপাশের জনসংখ্যা প্রায় ২৭ গুণ বেশি।
এই তুলনায় স্থানীয় বিতর্কের কেন্দ্রে এসেছে জরুরি পরিস্থিতির পরিকল্পনা। কোনো তেজস্ক্রিয় নিঃসরণে মানুষকে সুরক্ষার জন্য ব্যবস্থা নিতে হলে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ফলে লাখো মানুষের জন্য সতর্কতা, আশ্রয় ও সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পারমাণবিক স্থাপনাগুলো দুটি পাশাপাশি এলাকায় বিস্তৃত। কোরি বুসানের গিজাং কাউন্টিতে, আর প্রায় এক কিলোমিটার দূরে উলসানের উলজু কাউন্টিতে রয়েছে সেইউল। স্থায়ীভাবে বন্ধ ইউনিট ও নির্মাণাধীন ইউনিটসহ দুই এলাকায় মোট ১০টি চুল্লি রয়েছে।
সেইউল ৩ ও ৪ পূর্ণ পরিচালনায় যাওয়ার কথা রয়েছে। এতে পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ঘনত্ব আরও বাড়বে; এই ঘনত্বকে চীনের ছিনশান কমপ্লেক্সের সঙ্গে তুলনীয় বলে বর্ণনা করা হয়েছে। চালু, বন্ধ ও নতুন চুল্লির সমাহারে এলাকাটির নিরাপত্তা পরিকল্পনার চ্যালেঞ্জ এক বা দুটি ইউনিট থাকা স্থানের চেয়ে আলাদা।
মেয়াদ বাড়ানোর বিরোধী একটি জোটের বক্তব্য, পুরোনো চুল্লিগুলোর নিরাপত্তা যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি এবং পর্যালোচনা প্রক্রিয়ায় ঘাটতি ছিল। এনার্জি জাস্টিস অ্যাকশনের নীতিবিষয়ক কমিটির সদস্য লি হিয়ন-সকও ভিন্ন পরিচালন ইতিহাস থাকা দুটি চুল্লি পরীক্ষা করতে কমিশনারদের হাতে থাকা সময়ের সমালোচনা করেছেন।
টাইফুন, উষ্ণ সমুদ্র ও জ্বালানি সংরক্ষণ
২০২০ সালে টাইফুন মাইসাকের কারণে কোরি ১ থেকে ৪ এবং শিন কোরি ১ ও ২-এ বাইরের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছিল। বাইরের বিদ্যুৎ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ থাকলেও শীতলীকরণ ব্যবস্থাসহ জরুরি যন্ত্রপাতি চালাতে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ দরকার হয়।
আলোচনার সময় ওই ঘটনা নিয়ে জানতে চাইলে কেআইএনএস জানায়, চুল্লি চালু রাখার দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি পরীক্ষা করা হয়নি। সমালোচকদের মতে, কমপ্লেক্সটিতে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ওই অভিজ্ঞতা বিবেচনা করা উচিত।
কেআইএনএসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩৫ সালে সমুদ্রের পানির সর্বোচ্চ তাপমাত্রা হবে ৩২.২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। চুল্লিগুলোর নকশায় নির্ধারিত রেফারেন্স তাপমাত্রা ৩৩.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পার্থক্য ১.০৪ ডিগ্রি। উপকূলীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র তাপ সরিয়ে নিতে সমুদ্রের পানি ব্যবহার করে বলে সমুদ্রের তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ; পানি উষ্ণ হলে শীতলীকরণের পরিস্থিতি প্রভাবিত হয়।
ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানি সংরক্ষণও একটি বাস্তব সীমাবদ্ধতা। জুনের শেষে কোরি সদর দপ্তরের ভেজা সংরক্ষণাগারগুলোর ৯৩.৪ শতাংশ পূর্ণ ছিল। পূর্বাভাস অনুযায়ী, চুল্লি দুটির কোনোটিরই বাড়ানো লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে, ২০৩২ সালেই এসব সংরক্ষণাগার পূর্ণ হয়ে যাবে।
ভেজা সংরক্ষণে ব্যবহৃত জ্বালানি পানির নিচে রাখা হয়, যাতে তা ঠান্ডা থাকে এবং বিকিরণ থেকে সুরক্ষা মেলে। উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয় বর্জ্য নিষ্পত্তির জন্য দক্ষিণ কোরিয়া এখনো কোনো স্থান নির্বাচন করেনি। অতিরিক্ত পরিচালনায় ব্যবহৃত জ্বালানি আরও বাড়বে। তাই চুল্লি রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও প্রয়োজনীয় বাস্তব কাজের অংশ।
কত বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতা ফিরতে পারে?
কোরি ৩ ও ৪-এর সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা ২.০৫ গিগাওয়াট। বড় সেমিকন্ডাক্টর কারখানার ক্ষমতা ৩৫০ মেগাওয়াট ধরে তুলনা করলে, চুল্লি দুটির সম্মিলিত ক্ষমতা এ ধরনের প্রায় ছয়টি কারখানার সমান। বাস্তবে কত বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে, তা পরিচালন সূচি ও রক্ষণাবেক্ষণের ওপর নির্ভর করবে।
সিদ্ধান্তের সময় দক্ষিণ কোরিয়ার ২৬টি চুল্লির মধ্যে আটটি বন্ধ ছিল। এগুলোর সম্মিলিত ক্ষমতা ৭,১৫০ মেগাওয়াট, যা দেশের মোট পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনক্ষমতার ২৭.৪ শতাংশ। মূল পরিচালন সীমায় পৌঁছে চারটি—কোরি ৩ ও ৪ এবং হানবিট ১ ও ২—বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করেছিল। অন্য চারটি রক্ষণাবেক্ষণ বা অন্য কাজের জন্য বন্ধ ছিল।
বন্ধ থাকা উৎপাদনক্ষমতার প্রায় ২৯ শতাংশ কোরির দুটি ইউনিটের। হিসাবটি ৭,১৫০ মেগাওয়াটের মধ্যে ২,০৫০ মেগাওয়াটের অনুপাত ধরে করা হয়েছে। তাই চুল্লি দুটি ফিরলে বর্তমানে গ্রিডে সরবরাহ করা যাচ্ছে না—এমন পারমাণবিক উৎপাদনক্ষমতার বড় একটি অংশ পুনরুদ্ধার হবে।
দক্ষিণ কোরিয়ায় তাৎক্ষণিক বিদ্যুৎ সংকট ছিল না। সরকারের উদ্বেগ আগামী কয়েক বছরের সরবরাহ নিয়ে, বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর কারখানা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ডেটা সেন্টার সম্প্রসারিত হওয়ায়। তিনটি বড় উন্নয়ন প্রকল্পের হিসাব যুক্ত করার পর ২০৪০ সালের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদার পূর্বাভাস প্রায় ২৭ গিগাওয়াট বাড়িয়ে ১৫৮.৪ থেকে ১৬৫ গিগাওয়াট করা হয়েছে।
কেএইচএনপির প্রেসিডেন্ট কিম হোয়ে-চন বলেন, চুল্লি চালু রাখলে উন্নত শিল্পের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানো, স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কার্বন নিরপেক্ষতার লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা হবে। নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন ও পরিদর্শনের কাজ শেষ করার অঙ্গীকারও করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অর্থনৈতিক যুক্তি ও ইতিমধ্যে হারানো সময়
ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা হোয়াং জং-আ কেএইচএনপির কাছ থেকে পাওয়া নিরীক্ষা-সংক্রান্ত নথি উদ্ধৃত করে বলেন, মূল পরিচালন সীমায় পৌঁছে বন্ধ হওয়া চারটি চুল্লিতে প্রায় ২ কোটি ৫৩ লাখ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়নি। সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিক্রির আনুমানিক মূল্য ছিল প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ওন।
বিদ্যমান চুল্লির অর্থনৈতিক সুবিধা হলো, এগুলোর স্থান, গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন সরঞ্জাম ও গ্রিড সংযোগ আগে থেকেই রয়েছে। বিকল্প চুল্লি নির্মাণে অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি জমি ও অনুমোদন পাওয়ার দীর্ঘ প্রক্রিয়া পাড়ি দিতে হয়।
সিউল ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পারমাণবিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শিম হিয়ং-জিন নিরাপত্তার শর্ত পূরণ হলে বিদ্যমান চুল্লি ব্যবহার চালিয়ে যাওয়ার আর্থিক যুক্তি ব্যাখ্যা করেছেন।
পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যয়ের বড় অংশই প্রাথমিক বিনিয়োগ, আর বিদ্যমান চুল্লিগুলোর নকশাগত কার্যকালের মধ্যেই বিনিয়োগের বড় অংশ উঠে এসেছে,
তিনি আরও বলেন:
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে চালু রাখা অত্যন্ত সাশ্রয়ী সিদ্ধান্ত।
লাইসেন্সের মেয়াদ অনুমোদন বা পুনরায় চালুর তারিখ থেকে নয়, মূল মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ধরে বাড়ানো হয়েছে। ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে পুনরায় চালু হলে নতুন অনুমোদনের আওতায় কোরি ৩ প্রায় সাত থেকে আট বছর এবং কোরি ৪ প্রায় আট থেকে নয় বছর চালানো যাবে।
নিরাপত্তা কঠোরভাবে যাচাই করা হলে ২০ বছর করে মেয়াদ বাড়ানোর কথা বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন শিম। দক্ষিণ কোরিয়া বর্তমানে ১০ বছর করে পরিচালন মেয়াদ বাড়ায়। তাই চুল্লি বন্ধ হওয়ার পর আবেদন পর্যালোচনায় যে সময় যায়, তাতে কার্যকর পরিচালন সময় কমে যায়।
সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আরও সাতটি চুল্লি
দক্ষিণ কোরিয়া এখন পর্যন্ত পাঁচটি চুল্লির পরিচালন মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে: কোরি ১, ওলসোং ১, কোরি ২, কোরি ৩ ও কোরি ৪। কোরি ১ ও ওলসোং ১ পরে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগের বছর কোরি ২-এর মেয়াদ বাড়ানোর অনুমোদন দেওয়া হয়; চুল্লিটি ২০৩৩ সালের ৮ এপ্রিল পর্যন্ত চালানোর লাইসেন্স পেয়েছে।
আরও সাতটি চুল্লির আবেদন পর্যালোচনাধীন: হানবিট ১ ও ২, ওলসোং ২, ৩ ও ৪ এবং হানুল ১ ও ২। ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে এক বৈঠকে হানবিটের আবেদনগুলো উপস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে কমিশনের।
নিয়ন্ত্রক সংস্থা তার পারমাণবিক নিরাপত্তা তথ্য পোর্টালের মাধ্যমে চালু রাখার আবেদনসংক্রান্ত নথি প্রকাশ করছে। কারিগরি মূল্যায়ন, বিশেষজ্ঞ কমিটির পর্যালোচনা এবং কমিশনের আলোচনার ফলাফলও প্রকাশ করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী আবেদনগুলোতে পুরোনো যন্ত্রপাতি, দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি ও চূড়ান্ত আলোচনার সময় নিয়ে একই ধরনের প্রশ্ন উঠলে এসব নথি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সরকার ২০৩৭ থেকে ২০৩৮ সালের মধ্যে মোট ২.৮ গিগাওয়াট ক্ষমতার দুটি নতুন বড় চুল্লি নির্মাণের পরিকল্পনা করছে এবং ক্ষুদ্র মডুলার চুল্লি নিয়েও কাজ করছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাকি কাজ ও পরিদর্শন শেষ হলে কোরির মেয়াদ বাড়ানো চুল্লিগুলো আরও আগে উৎপাদনক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে পারে।
মূল বিষয়গুলো
- কোরি ৩-এর লাইসেন্স ২০৩৪ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর এবং কোরি ৪-এর লাইসেন্স ২০৩৫ সালের ৬ আগস্ট পর্যন্ত বৈধ।
- চুল্লি দুটির সম্মিলিত উৎপাদনক্ষমতা ২,০৫০ মেগাওয়াট।
- উন্নয়ন, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিদর্শনের পর ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে পর্যায়ক্রমে চুল্লি দুটি চালুর লক্ষ্য কেএইচএনপির।
- কারিগরি মূল্যায়নে প্রায় চার বছর লেগেছে; কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এসেছে ১২ দিনের ব্যবধানে হওয়া দুই বৈঠকের পর।
- একাধিক চুল্লিতে দুর্ঘটনা, আশপাশের বাসিন্দা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ব্যবহৃত জ্বালানি সংরক্ষণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন বিরোধীরা।
- আরও সাতটি চুল্লি চালু রাখার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে; হানবিট ১ ও ২ নিয়ে ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে বিবেচনার কথা রয়েছে।






