সরকারি গবেষণা ব্যয়ের তদারকিতে ৩৩৬টি চুক্তি
দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তাদের গবেষকদের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোকে ১২,০৬৪,৭৫০,০০০ ওন মূল্যের ৩৩৬টি চুক্তি দিয়েছে। আইনপ্রণেতাদের কাছে উপস্থাপিত ন্যাশনাল রিসার্চ কাউন্সিল অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (NST) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এর অর্ধেকের বেশি—১৮২টি চুক্তি—প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই নির্বাচিত একটি কোম্পানিকে সরাসরি দেওয়া হয়েছে।
সূচিপত্র
- সরকারি গবেষণা ব্যয়ের তদারকিতে ৩৩৬টি চুক্তি
- চুক্তির ৫৪.২% ছিল সরাসরি বরাদ্দ
- প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা গবেষকদের ১১০টি চুক্তি
- একই গবেষণা প্রকল্পের আওতায় তিনটি চুক্তি
- নিজেদের বিধির কথা বলেছে ইনস্টিটিউট, পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি
- গবেষণার অভিযোগ নিষ্পত্তিতে গড়ে প্রায় ৩০০ দিন
- ছয় মাসের নিয়মে সময় বাড়ানোর সুযোগ আছে, চূড়ান্ত সীমা নেই
- ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা
- কর্মঘণ্টায় গেমিং করায় তিরস্কার
- অর্থায়নব্যবস্থা বদলালেও ব্যবসায়িক সহযোগিতা বজায় রাখা
- মূল বিষয়গুলো
২০২৬ সালের ২০ অক্টোবর দেজনের কোরিয়া অ্যাডভান্সড ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে (KAIST) সংসদীয় নিরীক্ষায় চুক্তিগুলো পর্যালোচনার মুখে পড়ে। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির বিজ্ঞান, আইসিটি, সম্প্রচার ও যোগাযোগবিষয়ক কমিটির সদস্য, পিপল পাওয়ার পার্টির আইনপ্রণেতা পার্ক জং-হা NST-এর কাছ থেকে পরিসংখ্যানগুলো সংগ্রহ করেন।
সবচেয়ে নিবিড়ভাবে পর্যালোচিত ঘটনাটি ছিল কোরিয়া ইনস্টিটিউট অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বিল্ডিং টেকনোলজির দেওয়া তিনটি চুক্তি। মোট ৪৫.৪৩ মিলিয়ন ওনের এই চুক্তিগুলো পেয়েছিল প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মরত গবেষকের নেতৃত্বাধীন হিটিং সরঞ্জাম কোম্পানি। তিনটিই একই গবেষণা প্রকল্পের আওতায় ছিল এবং প্রতিটি চুক্তির মূল্য প্রযোজ্য বিধিতে সরাসরি চুক্তি দেওয়ার অনুমোদিত ২০ মিলিয়ন ওনের সীমার নিচে ছিল।
গবেষণায় অসদাচরণের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে কয়েক শ দিন লাগা এবং কর্মঘণ্টায় বারবার গেমিং সার্ভারে প্রবেশ করা কর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও আইনপ্রণেতারা পর্যালোচনা করেন। এসব ঘটনা সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গবেষণাগারগুলোর ক্রয় সিদ্ধান্ত, তদন্তের সময়সীমা এবং কর্মক্ষেত্রের তদারকিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
এ বিতর্কে আরও একটি উদ্বেগ রয়েছে: সুরক্ষা জোরদার করার পাশাপাশি সরকারি গবেষণাগার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যকর সহযোগিতা কীভাবে বজায় রাখা যায়। একই শুনানিতে আইনপ্রণেতারা এমন একটি জরিপ নিয়েও আলোচনা করেন, যেখানে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ৬১.২% গবেষক মনে করেছেন, প্রকল্পভিত্তিক অর্থায়নব্যবস্থা—PBS—বাতিল হলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা কমে যাবে।
চুক্তির ৫৪.২% ছিল সরাসরি বরাদ্দ
NST-এর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানের গবেষকদের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোর সঙ্গে হওয়া ৩৩৬টি চুক্তির ৫৪.২% সরাসরি বরাদ্দের মাধ্যমে দেওয়া হয়েছে। এসব চুক্তির মোট মূল্য ছিল প্রায় ৫.৪ বিলিয়ন ওন। তালিকাভুক্ত সব চুক্তির মূল্য ছিল প্রায় ১২.০৬ বিলিয়ন ওন।
চুক্তির সংখ্যায় অর্ধেকের বেশি হলেও মোট মূল্যের হিসাবে সরাসরি বরাদ্দের অংশ প্রায় ৪৫%। এ পার্থক্য থেকে বোঝা যায়, অন্য চুক্তিগুলোর তুলনায় সরাসরি বরাদ্দের চুক্তিগুলোর গড় মূল্য কম ছিল।
সরাসরি বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান দরপত্রের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর প্রতিযোগিতার সুযোগ না দিয়ে সরবরাহকারী বেছে নিতে পারে। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে, যেমন কিছু স্বল্পমূল্যের চুক্তিতে, এ ধরনের ক্রয়ের অনুমতি রয়েছে। শুনানিতে মূল উদ্বেগ ছিল, বিল পরিশোধকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানের একজন কর্মীই যখন সরবরাহকারী কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা, তখন প্রতিষ্ঠানটি ক্রয় পরিচালনা করে কীভাবে।
পার্ক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যালোচনা চালানোর এবং স্বার্থের সংঘাত ঠেকাতে চুক্তি ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তন আনার আহ্বান জানান। কারও সরকারি দায়িত্বের সঙ্গে ব্যক্তিগত আর্থিক স্বার্থের যোগ তৈরি হলে স্বার্থের সংঘাত দেখা দেয়; তখন স্বার্থ প্রকাশ এবং স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন হয়।
প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পর্ক থাকা গবেষকদের ১১০টি চুক্তি
আটটি প্রতিষ্ঠানে এমন গবেষকদের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির সঙ্গে ১১০টি চুক্তির তথ্য পাওয়া গেছে, যাঁদের ক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কর্মসম্পর্ক বজায় ছিল। এসব সম্পর্কের মধ্যে সক্রিয় চাকরি, ছুটি এবং প্রতিষ্ঠানের পদে থাকার পাশাপাশি অন্য দায়িত্ব পালনের অনুমতি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশনস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ETRI)-এর ছিল এ ধরনের ৮৩টি চুক্তি। এরপর কোরিয়া অ্যাটমিক এনার্জি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ১১টি এবং কোরিয়া ইনস্টিটিউট অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বিল্ডিং টেকনোলজির পাঁচটি চুক্তি ছিল। ফলে এ গোষ্ঠীর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ চুক্তিই ছিল ETRI-এর: ১১০টির মধ্যে ৮৩টি।
আটটি প্রতিষ্ঠানে ১১০টি চুক্তির মধ্যে ৪১টি, অর্থাৎ প্রায় ৩৭%, সরাসরি বরাদ্দে দেওয়া হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানভেদে এ হার ভিন্ন ছিল: অ্যাটমিক এনার্জি ইনস্টিটিউটের ১১টি চুক্তির মধ্যে ১০টি এবং নির্মাণবিষয়ক ইনস্টিটিউটের পাঁচটির মধ্যে চারটি প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ছাড়াই দেওয়া হয়েছিল।
কর্মসম্পর্কটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কোনো প্রতিষ্ঠান একদিকে গবেষকের ব্যবসাকে সহায়তা করতে পারে, আবার অন্যদিকে সেই ব্যবসার পণ্য বা সেবা কেনার সিদ্ধান্তও নিতে পারে। সহকর্মীরা যখন সম্পর্কটির দুই পক্ষেই কাজ করেন, তখন সরবরাহকারী নির্বাচন, কাজ সম্পন্ন হয়েছে কি না যাচাই এবং অর্থ পরিশোধ অনুমোদনের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা বিশেষভাবে জরুরি।
একই গবেষণা প্রকল্পের আওতায় তিনটি চুক্তি
নির্মাণবিষয়ক ইনস্টিটিউটের ঘটনাটি এ ধরনের দ্বৈত ভূমিকার বিষয়টি সামনে আনে। ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি একজন কর্মরত গবেষণা ফেলোকে হিটিং সরঞ্জাম কোম্পানি—এখানে কোম্পানি E—তে দ্বিতীয় পদে দায়িত্ব পালনের অনুমতি বাড়িয়ে দেয়।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ইনস্টিটিউটটি কোম্পানিটিকে পাইপের কাজ, পরিমাপক যন্ত্র স্থাপন এবং একটি কন্ট্রোলার তৈরির জন্য সরাসরি তিনটি চুক্তি দেয়। চুক্তিগুলোর মোট মূল্য ছিল ৪৫.৪৩ মিলিয়ন ওন। প্রতিটি চুক্তির মূল্য ২০ মিলিয়ন ওনের বেশি ছিল না।
প্রযোজ্য বিধিতে ওই সীমা বা তার নিচের মূল্যের চুক্তি সরাসরি দেওয়ার অনুমতি ছিল। তিনটি কেনাকাটাই একই গবেষণা প্রকল্পের আওতায় হওয়ায় সন্দেহ দেখা দেয়, সীমার মধ্যে রাখার জন্য কাজগুলোকে ছোট ছোট চুক্তিতে ভাগ করা হয়েছিল কি না।
কেনাকাটার অনুরোধকারী এবং কাজ তদারকি ও পরিদর্শনের দায়িত্বে থাকা কর্মীরা কোম্পানিটির গবেষক প্রধান নির্বাহীর একই গবেষণা বিভাগের সদস্য ছিলেন। কোম্পানি E ইনস্টিটিউটের স্টার্টআপ সহায়তা কেন্দ্রে অফিসের জায়গাও ব্যবহার করত।
এসব বিষয় থেকে বোঝা যায়, কেন পর্যালোচনা শুধু প্রতিটি কেনাকাটার মূল্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্ব, কাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা এবং অফিসের জায়গা দেওয়া প্রতিষ্ঠান—সব পক্ষই একই কর্মক্ষেত্রের মাধ্যমে পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত ছিল।
নিজেদের বিধির কথা বলেছে ইনস্টিটিউট, পরিবর্তনের প্রতিশ্রুতি
নির্মাণবিষয়ক ইনস্টিটিউট পার্কের দপ্তরকে জানায়, স্বার্থ প্রকাশ বা সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন এ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল না। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, চুক্তিগুলো বিদ্যমান নিয়ম মেনেই করা হয়েছে এবং ন্যায্যতা বাড়াতে বিধি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংসদীয় নিরীক্ষায় ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট পার্ক সন-গিউ চুক্তিগুলোর মূল্য প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ওন বলে জানান। তিনি ব্যাখ্যা করেন, কিছু কেনাকাটা স্বল্পমূল্যের সরাসরি বরাদ্দের অনুমতি দেওয়া বিধির আওতায় পড়েছিল।
পার্ক জং-হা বলেন, গবেষকদের উদ্যোক্তা হওয়ায় উৎসাহ দেওয়া উচিত, তবে চুক্তির সিদ্ধান্ত স্বচ্ছ রাখতে হবে এবং ন্যায্য প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রযুক্তি যাচাই করতে হবে। পিপল পাওয়ার পার্টির এ আইনপ্রণেতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে যে সীমারেখা বজায় রাখার আহ্বান জানান, তা হলো:
গবেষকদের স্টার্টআপ যেন তাঁদের মূল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তিতে স্বার্থের সংঘাত বা পক্ষপাতমূলক সুবিধা দেওয়ার বিতর্কের জন্ম না দেয়।
চুক্তি ভাগ করার সন্দেহের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত, প্রতিষ্ঠানের বিধি পরিবর্তনের সময়সীমা বা বৃহত্তর পর্যালোচনার সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি। তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যমান নিয়ম মেনে চলার পক্ষে অবস্থান নেয়, পাশাপাশি নিয়ম সংশোধনের প্রয়োজনও স্বীকার করে।
গবেষণার অভিযোগ নিষ্পত্তিতে গড়ে প্রায় ৩০০ দিন
রিবিল্ডিং কোরিয়া পার্টির আইনপ্রণেতা কিম সন-মিন বিজ্ঞান ও আইসিটি মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা যে পরিসংখ্যান সংগ্রহ করেন, তাতে ২০২১ সাল থেকে গবেষণায় অসদাচরণ বা গবেষণার তহবিলের অপব্যবহার নিয়ে ১০৮টি অভিযোগ পাওয়ার তথ্য রয়েছে।
প্রত্যাহার বা খারিজ হওয়া চারটি অভিযোগ বাদ দিলে বাকি ১০৪টি নিষ্পত্তি করতে বা নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষায় থাকতে গড়ে প্রায় ৩০০ দিন লেগেছে। ২৯টি অভিযোগের ক্ষেত্রে সময় লেগেছে এক বছরের বেশি, যা ওই গোষ্ঠীর প্রায় ২৮%।
গড় হিসাবের মধ্যে নিষ্পত্তি হওয়া মামলা এবং এখনো চলমান মামলাগুলোতে ইতিমধ্যে অতিবাহিত সময়—দুটিই রয়েছে। সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকা গবেষকদের জন্য এ পরিসংখ্যান এমন এক প্রক্রিয়ার চিত্র তুলে ধরে, যা প্রায় পুরো বছর বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে।
সরকারি ভর্তুকি অনিয়ম করে নেওয়ার একটি সন্দেহভাজন ঘটনা গবেষণা ও উন্নয়ন বিশেষ অঞ্চলের উন্নয়ন ফাউন্ডেশন তদন্ত করে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিযোগ পাওয়ার পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তদন্তের ফল জমা দিতে ৯৩৮ দিন লেগেছিল। অংশগ্রহণকারী গবেষকদের নাম মিথ্যাভাবে নিবন্ধনের আরেকটি অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে ৬২১ দিন লাগে।
কোরিয়া ন্যাশনাল রিসার্চ ফাউন্ডেশনের তদারকির আওতায় থাকা একটি চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ কিয়ংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তদন্ত করে। ২০২২ সালের এপ্রিলে অভিযোগ দায়েরের পর পুনর্বিবেচনা চলেছে চার বছর ছয় মাস ধরে।
ছয় মাসের নিয়মে সময় বাড়ানোর সুযোগ আছে, চূড়ান্ত সীমা নেই
তথ্য, যোগাযোগ ও সম্প্রচার খাতের জন্য বিজ্ঞান ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বিধি এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গবেষণা নৈতিকতা নির্দেশিকা—উভয় ক্ষেত্রেই সাধারণত প্রাথমিক তদন্ত শুরুর পর থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ছয় মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
দুই সেট বিধিই সময় বাড়ানোর সুযোগ দেয়; তবে কতবার সময় বাড়ানো যাবে বা তদন্তের মোট সময় কত হবে, তার কোনো সীমা নেই। ফলে নির্ধারিত ছয় মাসের অনেক পরও মামলা চলতে পারে।
অভিযোগের পরিসংখ্যানে সময় গণনা শুরু হয় অভিযোগ জানানোর দিন থেকে, আর বিধিতে সময় গণনা শুরু হয় প্রাথমিক তদন্তের শুরু থেকে। তাই পাঠকদের দুটি ধাপ আলাদা করে দেখতে হবে: আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরুর আগের সময় এবং তদন্ত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে লাগা সময়।
দীর্ঘতম ঘটনাগুলো দেখায়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কত দূরে সরে যেতে পারে। ভর্তুকির ঘটনাটির তদন্ত প্রতিবেদন পেতে আড়াই বছরের বেশি সময় লেগেছিল, আর চৌর্যবৃত্তির অভিযোগটি সাড়ে চার বছর পরও পুনর্বিবেচনায় ছিল।
ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা
চুক্তি, অভিযোগ এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘটনাগুলো কয়েক বছরজুড়ে ঘটেছে। এ ধারাবাহিকতা থেকে বোঝা যায়, ২০২৬ সালের অক্টোবরের শুনানিতে কেন আইনপ্রণেতারা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি সেগুলো পরিচালনাকারী বিধি নিয়েও আলোচনা করেছেন।
- ২০২১ সাল থেকে: গবেষণায় অসদাচরণ বা গবেষণা তহবিলের অপব্যবহার নিয়ে কর্তৃপক্ষ ১০৮টি অভিযোগ পায়।
- ফেব্রুয়ারি ২০২২: সরকারি ভর্তুকি জালিয়াতির সন্দেহে একটি মামলা জানানো হয়; ৯৩৮ দিন পর, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে।
- এপ্রিল ২০২২: কিয়ংপুক ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির তদন্তাধীন চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ দায়ের করা হয়।
- ২০২৩: নির্মাণবিষয়ক ইনস্টিটিউট কোম্পানি E-তে গবেষকের দ্বিতীয় পদে দায়িত্ব পালনের অনুমতি বাড়ায়।
- ২০২৪: ETRI-এর অধীন ন্যাশনাল সিকিউরিটি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পাঁচ কর্মীকে কর্মঘণ্টায় বারবার গেমিং সার্ভারে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
- সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর ২০২৫: কোম্পানি E ৪৫.৪৩ মিলিয়ন ওনের তিনটি সরাসরি চুক্তি পায়।
- জুন ২০২৬: NST-এর চুক্তির তালিকা চূড়ান্ত হয়; এতে ২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া ৩৩৬টি চুক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিল।
- ২০ অক্টোবর ২০২৬: দেজনে সংসদীয় নিরীক্ষায় আইনপ্রণেতারা চুক্তি এবং ব্যবসায়িক সহযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ পর্যালোচনা করেন।
ঘটনাক্রমে দেখা যায়, ইনস্টিটিউট গবেষকের বাইরের পদে দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার পর কোম্পানি E-কে তিনটি কেনাকাটার চুক্তি দেওয়া হয়। এ থেকে আরও বোঝা যায়, কিছু অভিযোগ একাধিক বার্ষিক তদারকি পর্বজুড়েও চলমান ছিল।
কর্মঘণ্টায় গেমিং করায় তিরস্কার
সরকারি গবেষণাগারে তদারকি নিয়ে কর্মক্ষেত্রের শাস্তিমূলক ব্যবস্থাও আরেকটি উদ্বেগের বিষয় হয়ে ওঠে। ২০২৪ সালে কর্মঘণ্টায় বারবার গেমিং সার্ভারে প্রবেশ করায় ন্যাশনাল সিকিউরিটি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পাঁচ কর্মীকে তিরস্কার করা হয়।
এক কর্মীর রেকর্ড করা সংযোগের সময় ৯০ ঘণ্টা ছাড়িয়ে যায়। ওই কর্মীর বেতন কমানো উপযুক্ত বলে প্রথমে বিবেচনা করেছিল ইনস্টিটিউট, তবে আগের একটি প্রশংসাপত্রের কারণে শাস্তি কমানো হয়।
ইনস্টিটিউট জানায়, সংযোগের সময়ের সমপরিমাণ বার্ষিক ছুটি ও বেতন কেটে নেওয়া হয়েছে এবং কাজের সঙ্গে সম্পর্কহীন ওয়েবসাইটে প্রবেশের বাধা জোরদার করা হয়েছে। তিরস্কারের পাশাপাশি এসব ব্যবস্থাও নেওয়া হয়।
ঘটনাটি কী শাস্তি বেছে নেওয়া হয়েছিল এবং অতীতের পুরস্কারের কারণে তা কীভাবে কমানো হয়েছে—দুই বিষয়েই দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পাশাপাশি ব্যয় এবং গবেষণা নৈতিকতা তদন্তের বৃহত্তর প্রশ্নগুলোর সঙ্গে দৈনন্দিন তদারকির বিষয়টিও সামনে আসে।
অর্থায়নব্যবস্থা বদলালেও ব্যবসায়িক সহযোগিতা বজায় রাখা
PBS বাতিল হলে সরকারি গবেষণাগারগুলোর সঙ্গে ছোট ব্যবসার সহযোগিতা কমে যেতে পারে—শুনানিতে এ উদ্বেগও উঠে আসে। PBS-এ গবেষণার অর্থায়ন ব্যক্তিগত প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত থাকে। সংস্কার নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে, কোম্পানির সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গবেষকেরা কীভাবে আরও স্থিতিশীল অর্থায়ন পেতে পারেন।
ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা হান জুন-হো কোরিয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজি অ্যাসোসিয়েশনের ২০২৬ সালের জুনের একটি জরিপের কথা উল্লেখ করেন। তাতে ৬১.২% গবেষক মনে করেন, PBS বাতিল হলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সহযোগিতা কমবে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন কোম্পানির ৭৭.২% জানিয়েছে, যৌথ গবেষণা তাদের গবেষণা ও উন্নয়নে সহায়তা করেছে।
দুটি পরিসংখ্যান দুটি ভিন্ন গোষ্ঠীর কথা বলছে: পরিবর্তন নিয়ে আশঙ্কা করা গবেষক এবং আগের সহযোগিতা মূল্যায়ন করা কোম্পানি। একসঙ্গে এগুলো সেই উদ্বেগের ব্যাখ্যা দেয় যে গবেষণাগারগুলোকে আরও স্থিতিশীলতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা অর্থায়ন সংস্কার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ইতিমধ্যে মূল্যবান বলে বিবেচিত একটি সেবাকে দুর্বল করতে পারে।
হান ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার জন্য স্বল্পমেয়াদি ছোট প্রকল্প বজায় রাখা, বিদ্যমান অংশীদারদের সঙ্গে কাজ বাড়ানো এবং আরও আঞ্চলিক কোম্পানির জন্য সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। তিনি কোরিয়া ইনস্টিটিউট অব মেশিনারি অ্যান্ড ম্যাটেরিয়ালসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গবেষণা বিভাগের উদাহরণ দেন, যেখানে যৌথ প্রকল্পের সংখ্যা ২০২৩ সালের ছয়টি থেকে ২০২৫ সালে বেড়ে ৩০টি হয়েছে—পাঁচ গুণ বৃদ্ধি।
কোরিয়া ইনস্টিটিউট অব ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেকনোলজির প্রেসিডেন্ট সন উং-হি স্বীকার করেন, কোম্পানির সঙ্গে সহযোগিতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিল্পক্ষেত্রের কর্মস্থলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থায়নের ব্যবস্থা তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
গবেষণায় কর্মী ধরে রাখার বিষয়টিও বাড়তি চাপ তৈরি করছে। অক্টোবরের শুরুতে আলোচিত NST-এর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ১৫৫ জন গবেষক স্বেচ্ছায় চাকরি ছেড়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩০ ও ৪০ বছর বয়সী ১৩৭ জন ছিলেন; তরুণ গবেষকেরা প্রায়ই শিক্ষাঙ্গনসহ অন্য পেশায় যোগ দিতে প্রতিষ্ঠান ছেড়েছেন।
গবেষণা চালিয়ে যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মী ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রেখে সরবরাহকারী নির্বাচন আরও স্বাধীনভাবে করা এবং অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করাই প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে এখনকার বাস্তব কাজ। শুনানিতে আইনপ্রণেতারা গবেষকদের ব্যবসা জড়িত এমন কেনাকাটায় কঠোর নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি ছোট কোম্পানির জন্য সরকারি গবেষণাগারে কাজের সুযোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
মূল বিষয়গুলো
- সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো ২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত তাদের গবেষকদের প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোকে প্রায় ১২.০৬ বিলিয়ন ওনের ৩৩৬টি চুক্তি দিয়েছে।
- সরাসরি বরাদ্দে দেওয়া হয়েছে ১৮২টি চুক্তি, অর্থাৎ ৫৪.২%; এসব চুক্তির মোট মূল্য প্রায় ৫.৪ বিলিয়ন ওন।
- নির্মাণবিষয়ক ইনস্টিটিউটের ৪৫.৪৩ মিলিয়ন ওনের তিনটি চুক্তি পর্যালোচনার মুখে পড়ে, কারণ সেগুলো একই প্রকল্পের আওতায় ছিল এবং প্রতিটির মূল্য সরাসরি বরাদ্দের সীমার নিচে ছিল।
- গবেষণায় অসদাচরণ ও অর্থায়নসংক্রান্ত ১০৪টি অভিযোগ নিষ্পত্তিতে বা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় গড়ে প্রায় ৩০০ দিন লেগেছে; ২৯টি অভিযোগ এক বছরের বেশি সময় ধরে চলেছে।
- তদন্তের নিয়মে সাধারণত ছয় মাস সময় নির্ধারণ করা হলেও, সময় বাড়ানোর সংখ্যা বা মোট সময়ের কোনো সীমা নেই।
- গবেষণার অর্থায়নব্যবস্থা বদলানোর সময় ব্যবসায়িক সহযোগিতা রক্ষারও আহ্বান জানিয়েছেন আইনপ্রণেতারা; তাঁদের বক্তব্যে জরিপের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে, যেখানে কোম্পানিগুলো যৌথ গবেষণাকে মূল্যবান বলেছে।






