সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ৪০০ বিলিয়ন রুপিয়ার বন্ড খেলাপি
রাষ্ট্রায়ত্ত ডাক সংস্থা পিটি পস ইন্দোনেশিয়া (পারসেরো) ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বকেয়া সুদ চুক্তিতে নির্ধারিত ১৪ কর্মদিবসের অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ফিচ রেটিংস ইন্দোনেশিয়া প্রতিষ্ঠানটির ৪০০ বিলিয়ন রুপিয়ার সিনিয়র আনসিকিউরড বন্ডের রেটিং কমিয়ে D(idn), অর্থাৎ খেলাপি, করেছে। বন্ডটির আগের রেটিং ছিল C(idn); এর মেয়াদপূর্তির তারিখ ২৮ ডিসেম্বর ২০২৭।
সূচিপত্র
- সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় ৪০০ বিলিয়ন রুপিয়ার বন্ড খেলাপি
- ফিচের খেলাপি রেটিংয়ের অর্থ
- সুকুকের পরিশোধের চাপ
- কীভাবে পরিশোধের সমস্যাগুলো সামনে এল
- বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কী আলোচনা হবে
- লজিস্টিকসের মূল কোম্পানি গড়ার পরিকল্পনা ডানান্তার
- আর্থিক পুনর্গঠনের পরিধি দৈনন্দিন কার্যক্রমেও
- ডাক ও আর্থিক সেবা চালু
- মূল বিষয়গুলো
পরিশোধে ব্যর্থতার পর দুটি সংশ্লিষ্ট পরিকল্পনা আলোচনায় এসেছে: আর্থিক দায় নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা এবং পস ইন্দোনেশিয়াকে একাধিক রাষ্ট্রায়ত্ত লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানের মূল কোম্পানি করার প্রস্তাব। ২৬ অক্টোবর ডানান্তার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ডনি ওস্কারিয়া বলেন, প্রতিষ্ঠানটিকে দেউলিয়া করা হবে না এবং এর আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠন করা হবে।
পস ইন্দোনেশিয়া, যা পসআইএনডি নামেও পরিচিত, জানিয়েছে, তারা ২০২৬ সালের নভেম্বরে বন্ডধারী ও ইসলামি সিকিউরিটিজধারীদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছে। কোম্পানি সচিব ইওয়ান গুনাওয়ান বলেন, ডাক, পার্সেল, লজিস্টিকস, আর্থিক ও সরকারি কর্মসূচিসংক্রান্ত সেবা চালু রেখেই প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক পুনর্গঠন ও ব্যবসায়িক রূপান্তরের কাজ দ্রুত করছে।
তাৎক্ষণিক সমস্যাটি হলো, সিকিউরিটিজের চূড়ান্ত পরিশোধের তারিখ আসার আগেই বিনিয়োগকারীদের যে অর্থ দেওয়ার কথা, তা পরিশোধ করা হয়নি। বন্ডের কুপন হলো নির্ধারিত সুদ পরিশোধ। ৪০০ বিলিয়ন রুপিয়ার বন্ডের মূলধন ২০২৭ সালের ডিসেম্বরে পরিশোধযোগ্য হলেও এর সুদ নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ করতে হয়। আগের কিস্তিগুলোর একটির অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় ফিচ রেটিং কমিয়েছে।
৪০০ বিলিয়ন রুপিয়া হলো বন্ডের মোট মূল্য, বকেয়া কুপনের পরিমাণ নয়। আর্থিক পুনর্গঠনের কাজে সুকুকসহ একাধিক দায় রয়েছে। সুকুক হলো ইসলামি অর্থায়নের নীতি অনুসারে কাঠামোবদ্ধ সিকিউরিটিজ।
ফিচের খেলাপি রেটিংয়ের অর্থ
সিকিউরিটির শর্তে নির্ধারিত অতিরিক্ত সময় পার হওয়ার পরও সুদ বা মূলধনের অর্থ বকেয়া থাকলে ফিচ সেটিকে খেলাপি হিসেবে গণ্য করে। চুক্তিতে নির্ধারিত এই সীমা অতিক্রমের আগে বকেয়া পরিশোধের জন্য ঋণগ্রহীতাকে অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়।
D(idn) রেটিংটি সংশ্লিষ্ট বন্ডের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এর প্রত্যয়টি ফিচের ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় রেটিং স্কেল নির্দেশ করে। সিনিয়র আনসিকিউরড ঋণের শর্ত অনুযায়ী অগ্রাধিকারভিত্তিক দাবি থাকলেও, এর ধারকদের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সম্পদ জামানত হিসেবে রাখা হয়নি।
পস ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল লং টার্ম রেটিং ২০২৬ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরই C(idn) থেকে কমিয়ে RD(idn), অর্থাৎ সীমিত খেলাপি, করা হয়েছিল। কোম্পানির রেটিং-সংক্রান্ত ওই সিদ্ধান্ত ২৮ সেপ্টেম্বরের কুপন পরিশোধের সময়সীমার আগেই নেওয়া হয়। অতিরিক্ত সময় শেষ হওয়ার পর নির্দিষ্ট বন্ডটির অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় পরবর্তী সময়ে সেটির রেটিং কমানো হয়।
কোনো ইস্যুকারী একটি দায়ে খেলাপি হলেও কার্যক্রম চালিয়ে গেলে সীমিত খেলাপি রেটিং ব্যবহার করা হয়। ফলে পস ইন্দোনেশিয়ার ক্ষেত্রে পাওনাদারদের পাওনা পরিশোধে খেলাপি হওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকদের সেবা দেওয়া চালিয়ে যাওয়ার চিত্রও রয়েছে।
সুকুকের পরিশোধের চাপ
বকেয়া ইজারা মুনাফার কিস্তি পরিশোধ না হওয়ায় ফিচ পস ইন্দোনেশিয়ার দ্বিতীয় পর্যায়ের সুকুকের রেটিংও C(idn) থেকে কমিয়ে D(idn) করেছে। ইজারা হলো ইজারাভিত্তিক ইসলামি অর্থায়ন কাঠামো, যেখানে বিনিয়োগকারীরা সম্পদের ব্যবহার-সংশ্লিষ্ট নির্ধারিত অর্থ পান।
আরেকটি দায় ছিল কোম্পানির প্রথম পর্যায়ের ১ ট্রিলিয়ন রুপিয়ার সুকুক। ফিচ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ৮ অক্টোবর পরিশোধযোগ্য ইজারা মুনাফার একটি কিস্তি বকেয়া ছিল। তবে ওই মূল্যায়নের সময় সেটি চুক্তিতে নির্ধারিত ১৪ কর্মদিবসের অতিরিক্ত সময়ের মধ্যেই ছিল।
১ ট্রিলিয়ন রুপিয়ার অঙ্কটি সুকুকের মোট ইস্যু মূল্য, বকেয়া কিস্তির পরিমাণ নয়। এর সিরিজ এ, বি ও সি যথাক্রমে ২০২৮ সালের জানুয়ারি, ২০৩০ সালের জানুয়ারি এবং ২০৩২ সালের জানুয়ারিতে মেয়াদপূর্তিতে পৌঁছাবে। প্রচলিত বন্ডের মতো এসব সিকিউরিটিজেও চূড়ান্ত মেয়াদপূর্তির আগেই অর্থ পরিশোধ করতে হয়।
ঘোষিত ইস্যু মূল্যের ভিত্তিতে প্রথম পর্যায়ের সুকুকটি ৪০০ বিলিয়ন রুপিয়ার বন্ডের আড়াই গুণ। এই তুলনা সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজগুলোর আকার বোঝায়; বকেয়া পরিশোধে প্রয়োজনীয় নগদ অর্থের পরিমাণ নির্ভর করবে কিস্তিগুলোর ওপর।
কীভাবে পরিশোধের সমস্যাগুলো সামনে এল
সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে রেটিং ও পরিশোধসংক্রান্ত একাধিক স্বতন্ত্র ঘটনা ঘটেছে। ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে দেখলে কোম্পানি ও এর পৃথক সিকিউরিটিজের খেলাপি-সংক্রান্ত রেটিং ভিন্ন হওয়ার কারণ বোঝা যায়।
- ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ফিচ পস ইন্দোনেশিয়ার ন্যাশনাল লং টার্ম রেটিং C(idn) থেকে কমিয়ে RD(idn) করে।
- ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ৪০০ বিলিয়ন রুপিয়ার বন্ডের কুপন পরিশোধের সময়সীমা ছিল। চুক্তিতে নির্ধারিত ১৪ কর্মদিবসের অতিরিক্ত সময় পেরিয়েও তা বকেয়া থাকায় বন্ডটির রেটিং কমিয়ে D(idn) করা হয়।
- ৮ অক্টোবর ২০২৬: ১ ট্রিলিয়ন রুপিয়ার প্রথম পর্যায়ের সুকুকের ইজারা মুনাফার একটি কিস্তি পরিশোধযোগ্য হয়। পরে ফিচ জানায়, মূল্যায়নের সময় কিস্তিটি বকেয়া থাকলেও অতিরিক্ত সময়ের মধ্যেই ছিল।
- ২৬ অক্টোবর ২০২৬: পস ইন্দোনেশিয়া পুনর্গঠনের পরিকল্পনা তুলে ধরে। ডনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি লজিস্টিকস হোল্ডিং কোম্পানিতে পরিণত হবে এবং একে দেউলিয়া করা হবে না।
- নভেম্বর ২০২৬: আর্থিক দায়ে প্রস্তাবিত পরিবর্তন নিয়ে আলোচনার জন্য পস ইন্দোনেশিয়া বন্ডধারী ও সুকুকধারীদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করেছে।
নভেম্বরের বৈঠকের মাধ্যমে ঋণধারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা এগোবে। পস ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, প্রযোজ্য প্রক্রিয়া ও নিয়ম মেনে তারা দায় পরিশোধ করতে চায়।
বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে কী আলোচনা হবে
পস ইন্দোনেশিয়া বন্ডধারীদের সাধারণ সভা, ইন্দোনেশীয় সংক্ষিপ্ত নাম অনুযায়ী আরইউপিও, এবং ইজারা সুকুকধারীদের সাধারণ সভা, অর্থাৎ আরইউপিএসআই আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে পুনর্গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার আনুষ্ঠানিক ক্ষেত্র হবে এসব সভা।
আর্থিক পুনর্গঠন বলতে অর্থ পরিশোধের চাপ সামলাতে কোম্পানির দায় ব্যবস্থাপনা বা পরিশোধের পদ্ধতিতে পরিবর্তন বোঝায়। পাওনাদারদের কাছে প্রধান প্রশ্ন হলো, তারা কখন অর্থ পাবেন এবং কোম্পানি কী শর্ত প্রস্তাব করবে। পস ইন্দোনেশিয়া আলোচনার পরিকল্পনা জানালেও, প্রস্তাবিত পরিশোধ-পরিবর্তন বা নভেম্বরের বৈঠকের নির্দিষ্ট তারিখ প্রকাশ করেনি।
ইওয়ান বলেন, কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার সময় কোম্পানি শেয়ারধারী, পাওনাদার ও অন্যান্য পক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে। তিনি এ কাজকে আর্থিক দায়, নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা, পরিচালন দক্ষতা, সম্পদ, বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং উৎপাদনশীল ব্যবসার বিকাশ—সব ক্ষেত্রজুড়ে বিস্তৃত উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেন।
তাই বিনিয়োগকারীদের সামনে শুধু একটি বকেয়া কুপন পরিশোধের চেয়ে বিস্তৃত প্রক্রিয়া রয়েছে। কোম্পানি আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনের পাশাপাশি ব্যবসার কিছু অংশে পরিবর্তন আনতে চাইছে; পাওনাদারদের সঙ্গে আলোচনা সেই উদ্যোগের একটি অংশ।
লজিস্টিকসের মূল কোম্পানি গড়ার পরিকল্পনা ডানান্তার
২৬ অক্টোবর দক্ষিণ জাকার্তার ফেয়ারমন্ট হোটেলে ডনি বলেন, অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানকে পস ইন্দোনেশিয়ার অধীনে একীভূত করা হবে। হোল্ডিং কোম্পানি একটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর মূল কোম্পানি হিসেবে কাজ করে এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিন্ন করপোরেট কাঠামোর আওতায় আনে।
ডানান্তার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা ডনি পস ইন্দোনেশিয়াকে দেউলিয়া করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে এর পরিকল্পিত ভূমিকার কথা বলেন। ইন্দোনেশীয় ভাষায় তিনি বলেন:
PT Pos itu kan akan menjadi holding logistik kita.
তার বক্তব্যের অর্থ, পস ইন্দোনেশিয়াকে গোষ্ঠীটির লজিস্টিকস হোল্ডিং কোম্পানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। ডনি বলেন, এর আর্থিক অবস্থার পুনর্বিন্যাসের সময় অন্যান্য ব্যবসা পস ইন্দোনেশিয়ার মাধ্যমে গোষ্ঠীতে যুক্ত হবে।
ডনির মতে, কোম্পানিটিকে বেছে নেওয়ার প্রধান কারণগুলোর একটি হলো এর প্রায় ৪,০০০টি বিতরণকেন্দ্র। এই নেটওয়ার্ক প্রস্তাবটির জন্য একটি বিদ্যমান পরিচালন ভিত্তি তৈরি করে। লজিস্টিকস ব্যবসায় পণ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও সরবরাহের সংযোগ গড়তে বিতরণকেন্দ্র ভূমিকা রাখে।
ডনির মন্তব্যে আর্থিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি মালিকানা ও ব্যবসায়িক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের কথাও উঠে এসেছে। পাওনাদাররা বর্তমানে বকেয়া পরিশোধ নিয়ে কাজ করছেন, আর হোল্ডিং কোম্পানির প্রস্তাবটি রাষ্ট্রায়ত্ত লজিস্টিকস কার্যক্রম কীভাবে সংগঠিত হবে, তা নিয়ে।
আর্থিক পুনর্গঠনের পরিধি দৈনন্দিন কার্যক্রমেও
ইওয়ানের বর্ণনায় পুনরুদ্ধার কর্মসূচিতে নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রমের পরিবর্তনের কথাও রয়েছে। কোম্পানির ঘোষিত অগ্রাধিকারগুলোর একটি তারল্য, অর্থাৎ পরিশোধের সময় যথেষ্ট অর্থ হাতে থাকা। কোনো ব্যবসার সম্পদ ও গ্রাহক থাকলেও নির্ধারিত দায় পরিশোধের নগদ অর্থ জোগাড়ে সমস্যা হতে পারে।
পস ইন্দোনেশিয়া আর্থিক দায় পর্যালোচনা, নগদ অর্থের আরও নিবিড় ব্যবস্থাপনা, পরিচালন দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সম্পদ ও নেটওয়ার্কের ভালো ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি আরও উৎপাদনশীল ও প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রম তৈরি করে এমন ব্যবসা গড়ে তুলতে চায়।
ইওয়ান বলেন, আর্থিক পুনর্গঠনের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও পরিচালন রূপান্তরও এগিয়ে নিতে হবে। লক্ষ্য হলো, তাৎক্ষণিক নগদ অর্থের চাপ সামলে আর্থিক কাঠামোকে সুস্থ করা এবং দীর্ঘ মেয়াদে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে সক্ষম ব্যবসা গড়ে তোলা।
প্রস্তাবিত লজিস্টিকস গোষ্ঠী ও পস ইন্দোনেশিয়ার নেটওয়ার্ক পর্যালোচনা বাস্তব দিক থেকে পরস্পর সম্পর্কিত। ডনি বিতরণকেন্দ্রগুলোকে গোষ্ঠীর ভিত্তি হিসেবে দেখছেন, আর কোম্পানি পুনরুদ্ধারের অগ্রাধিকার হিসেবে নেটওয়ার্কের উন্নত ব্যবহারের কথা বলেছে। উভয় পরিকল্পনাতেই বিদ্যমান কার্যক্রমকে কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।
ডাক ও আর্থিক সেবা চালু
পস ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, পুনর্গঠন চলাকালে চিঠি ও পার্সেল বিতরণ, লজিস্টিকস, আর্থিক সেবা এবং সরকারি কর্মসূচিকে সহায়তাকারী সেবা চালু রয়েছে। গ্রাহকদের জন্য এর অর্থ, পাওনাদারদের সঙ্গে আলোচনা চললেও কোম্পানি সেবা দেওয়ার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
ইওয়ান আরও বলেন, কোম্পানি সেবার মান উন্নত করতে এবং গ্রাহক ও ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে কাজ করছে। পুনরুদ্ধার কর্মসূচির জন্য এসব সম্পর্ক বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আর্থিক পুনর্গঠনের পাশাপাশি ব্যবসায়িক রূপান্তর চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
করপোরেট সুশাসনের নীতি মেনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির সঙ্গে প্রক্রিয়াটি পরিচালনার অঙ্গীকার করেছে পস ইন্দোনেশিয়া। প্রযোজ্য তথ্য প্রকাশের নিয়ম অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি তাদের আনুষ্ঠানিক মাধ্যমে জানানো হবে বলে কোম্পানিটি জানিয়েছে।
পরবর্তী নির্ধারিত পদক্ষেপ হলো নভেম্বরে পাওনাদারদের সঙ্গে পরিকল্পিত বৈঠক। সেখানে বন্ডধারী ও সুকুকধারীদের সামনে দায় মোকাবিলার অঙ্গীকার তুলে ধরবে কোম্পানি; একই সময়ে ডানান্তার পস ইন্দোনেশিয়াকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রায়ত্ত লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংগঠিত করার পরিকল্পনা এগিয়ে নেবে।
মূল বিষয়গুলো
- ২৮ সেপ্টেম্বরের কুপন নির্ধারিত অতিরিক্ত সময় পেরিয়েও বকেয়া থাকায় ফিচ পস ইন্দোনেশিয়ার ৪০০ বিলিয়ন রুপিয়ার বন্ডের রেটিং কমিয়ে D(idn) করেছে।
- এর আগে ১৮ সেপ্টেম্বর কোম্পানির ন্যাশনাল লং টার্ম রেটিং কমিয়ে RD(idn) করা হয়েছিল।
- দ্বিতীয় পর্যায়ের সুকুকের রেটিংও কমিয়ে D(idn) করা হয়েছে। ১ ট্রিলিয়ন রুপিয়ার প্রথম পর্যায়ের সুকুকের একটি কিস্তি বকেয়া থাকলেও ফিচের মূল্যায়নের সময় তা অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে ছিল।
- পুনর্গঠনের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য ২০২৬ সালের নভেম্বরে বন্ডধারী ও সুকুকধারীদের বৈঠকের পরিকল্পনা রয়েছে।
- প্রায় ৪,০০০টি বিতরণকেন্দ্রকে ভিত্তি করে পস ইন্দোনেশিয়াকে লজিস্টিকস হোল্ডিং কোম্পানি করার পরিকল্পনা ডানান্তারের।
- পস ইন্দোনেশিয়া জানিয়েছে, ডাক, পার্সেল, লজিস্টিকস, আর্থিক ও সরকারি কর্মসূচিসংক্রান্ত সেবা চালু রয়েছে।






