নেপালে গ্যাস পৌঁছালেও সিলিন্ডার ভরাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারগুলো
নেপালে গ্যাস আসছে এবং রাজধানীতে পৌঁছাচ্ছে বলে আশ্বাস দেওয়া হলেও কাঠমান্ডুর বাসিন্দারা রান্নার গ্যাস পেতে হিমশিম খাচ্ছেন। দশাইনের ছুটির সময়ে সরবরাহ বিঘ্নিত হলে গোঠাটারের কেশব যোশি জানান, স্থানীয় ডিলারদের কাছ থেকে সরবরাহের নির্দিষ্ট তারিখ না পেয়ে তিনি এক সপ্তাহ ধরে একটি সিলিন্ডার পাওয়ার চেষ্টা করছেন। চান্দ্রগিরির মনীশ খাদায়াত বলেন, দশাইনের শুরু থেকে তিনি গ্যাস কিনতে পারেননি এবং হোটেলের খাবারের ওপর নির্ভর করছেন।
সূচিপত্র
- নেপালে গ্যাস পৌঁছালেও সিলিন্ডার ভরাতে হিমশিম খাচ্ছে পরিবারগুলো
- ছুটির সময়ে কারখানা বন্ধ থাকায় সরবরাহের শেষ ধাপে বিঘ্ন
- ফেব্রুয়ারির পরিসংখ্যান কী বলছে
- শোধনাগারের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্র্যান্ডসংক্রান্ত জটিলতায় চাপ বেড়েছিল
- ছয়টি কেন্দ্রে সীমিত সিলিন্ডার বিনিময়ের ব্যবস্থা
- জরুরি বিতরণ ও অতিরিক্ত কেনাকাটায় নিয়ন্ত্রণ
- বড় সিলিন্ডার নেটওয়ার্ক সচল রাখতে নিয়মিত সরবরাহ দরকার
- বারবার সরবরাহ বিঘ্নের পেছনের তারিখগুলো
- মূল বিষয়গুলো
নেপাল অয়েল করপোরেশন (এনওসি) জানিয়েছে, রাজধানীতে বাল্ক গ্যাস পরিবহন অব্যাহত ছিল এবং সরবরাহ চাহিদা মেটাচ্ছিল। গ্যাস ডিলাররা ছুটির সময়ে ঘাটতির জন্য বোতলজাতকরণ কারখানার সাময়িক বন্ধকে দায়ী করেছেন। এসব কারখানায় বড় ট্যাংকার থেকে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস বা এলপিজি রান্নায় ব্যবহৃত সিলিন্ডারে ভরা হয়।
ফেব্রুয়ারির পৃথক এক মূল্যায়নের পরিসংখ্যানে সরবরাহের চ্যালেঞ্জের ব্যাপকতা উঠে এসেছে। এনওসি জানিয়েছে, কাঠমান্ডু উপত্যকায় প্রতিদিন ৪৫ হাজারের বেশি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছিল, যেখানে স্বাভাবিক ব্যবহার ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার। এত সরবরাহের পরও কিছু পরিবার সিলিন্ডার ভরার অপেক্ষায় ছিল।
ছুটির সময়ের বিঘ্ন এবং ফেব্রুয়ারির ঘাটতির পেছনে ছিল চাপের কয়েকটি জায়গা: কারখানা বন্ধ, ভারতে শোধনাগারের রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহনসংক্রান্ত কাগজপত্র, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সিলিন্ডার বিনিময়ে জটিলতা এবং অতিরিক্ত সিলিন্ডার কেনা। বাসিন্দাদের জন্য কার্যকর প্রশ্নটি ছিল, কাছের ডিলারের কাছে ভরা সিলিন্ডার আছে কি না, যা তাঁরা সত্যিই বাড়ি নিয়ে যেতে পারবেন।
ছুটির সময়ে কারখানা বন্ধ থাকায় সরবরাহের শেষ ধাপে বিঘ্ন
গ্যাস ডিলার ফেডারেশনের সভাপতি জ্ঞানেশ্বর আরিয়াল বলেন, দশাইনের গুরুত্বপূর্ণ দিন ফুলপাতির সময় বেশির ভাগ গ্যাসশিল্প কারখানা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছিল। রোববার থেকে কারখানাগুলো আবার খুলতে শুরু করে এবং কয়েক দিনের মধ্যে বিতরণ স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা করেন।
একটি গ্যাস সিলিন্ডার পরিবারের কাছে পৌঁছানোর আগে সরবরাহের কয়েকটি ধাপ পেরোয়। বড় ট্যাংকারে করে বাল্ক এলপিজি আসে, যেগুলো সাধারণত গ্যাস বুলেট নামে পরিচিত। বোতলজাতকরণ কারখানায় সিলিন্ডার ভরা হয়, এরপর সেগুলো ডিলারের মাধ্যমে গ্রাহকের কাছে যায়। ভরার ধাপে বিরতি হলে ট্যাংকার আসা অব্যাহত থাকলেও দোকানে সিলিন্ডারের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
এক সপ্তাহ সিলিন্ডার না পাওয়া যোশির অভিজ্ঞতা এবং তৈরি খাবারের ওপর খাদায়াতের নির্ভরতা ওই বিঘ্নের তাৎক্ষণিক প্রভাব তুলে ধরে। পরিবারগুলোকে গ্যাসের খোঁজে সময় দিতে হয়, নয়তো রান্নার অন্য উপায় খুঁজতে হয়। খাদায়াতের অভিজ্ঞতা আরও দেখায়, ঘাটতির কারণে পরিবারের খরচ বাড়ির বাইরের খাবারের দিকে সরে যেতে পারে।
পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আরিয়ালের প্রত্যাশা নির্ভর করছিল কারখানাগুলো আবার চালু হওয়া এবং ভরা সিলিন্ডার ডিলারদের কাছে পৌঁছানোর ওপর। ফেব্রুয়ারির বিঘ্নের সময়ও বোতলজাতকারীরা সতর্ক করেছিলেন, সরবরাহ বাড়লেও দোকানে গ্যাস পৌঁছাতে সময় লাগবে।
ফেব্রুয়ারির পরিসংখ্যান কী বলছে
এনওসির উপপরিচালক মনোজ কুমার ঠাকুর ফেব্রুয়ারির মূল্যায়নের সময় বলেন, উপত্যকার বেশির ভাগ এলাকায় বিতরণ স্বাভাবিক হয়েছে, যদিও কিছু এলাকায় তখনও দেরি হচ্ছিল। এক সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা করেন।
এনওসি জানিয়েছে, প্রায় ১০০টি গ্যাস বুলেট ট্যাংকার শুল্কছাড় নিয়ে দক্ষিণ সীমান্ত দিয়ে নেপালে প্রবেশ করছিল। ২৩টি বোতলজাতকারী প্রতিষ্ঠান উপত্যকায় সরবরাহ করত, যাদের বেশির ভাগ ধাদিং ও চিতওয়ান জেলায় অবস্থিত।
করপোরেশন জানিয়েছে, প্রতিদিন ৪৫ হাজারের বেশি সিলিন্ডার সরবরাহ করা হচ্ছিল। স্বাভাবিক ব্যবহারের নিম্নসীমা ৪০ হাজার সিলিন্ডারের তুলনায় তা প্রতিদিন ৫ হাজারের বেশি অতিরিক্ত সিলিন্ডার। ৪৫ হাজারের ঊর্ধ্বসীমার তুলনায় অতিরিক্ত সরবরাহের ব্যবধান ছিল কম। ওই বাড়তি সিলিন্ডারগুলো দিয়ে এমন গ্রাহকদেরও চাহিদা মেটাতে হচ্ছিল, যাঁদের কেনাকাটা পিছিয়ে গিয়েছিল।
এনওসি জানিয়েছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তারা ২৬ হাজার টন এলপিজি পেয়েছে, যেখানে মাসিক বরাদ্দ ছিল ৪৫ হাজার টন। ওই তারিখে মাসিক বরাদ্দের প্রায় ৫৮ শতাংশ এসে পৌঁছেছিল। বরাদ্দ দিয়ে মাসের জন্য নির্ধারিত পরিমাণ বোঝানো হয়, আর প্রাপ্তির হিসাব জানায় প্রতিবেদন তৈরির তারিখ পর্যন্ত কতটা এসে পৌঁছেছে।
নেপাল এলপি গ্যাস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দিওয়ান বাহাদুর চান্দ বলেন, সিলিন্ডার ভরাতে গ্রাহকদের এক-দুই দিন অপেক্ষা করতে হতে পারে। স্বাভাবিকভাবে কেনাকাটা করতে পারার প্রসঙ্গে তিনি প্রত্যাশিত পুনরুদ্ধারের কথা বলেন:
গ্রাহকেরা কাছের দোকানে গেলেই যেকোনো সময় সিলিন্ডার পেতে পারেন, এমন পরিস্থিতি ফিরতে প্রায় এক সপ্তাহ লাগতে পারে," চান্দ বলেন। "দিনে দিনে সরবরাহের পরিস্থিতি উন্নত হচ্ছে।
শোধনাগারের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্র্যান্ডসংক্রান্ত জটিলতায় চাপ বেড়েছিল
শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ফেব্রুয়ারির সরবরাহ বিঘ্নের জন্য নভেম্বর ও ডিসেম্বরে ভারতের বারাউনি শোধনাগারে রক্ষণাবেক্ষণকাজকে দায়ী করেছেন। সাময়িকভাবে অন্য একটি শোধনাগার থেকে সরবরাহ নেওয়া হয়, এতে পরিবহন জটিলতা তৈরি হয়, যার মধ্যে অনুমতিপত্র পেতে দেরিও ছিল।
শোধনাগার বদলালে ট্যাংকার চলাচল এবং সেগুলোর অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্রে পরিবর্তন আনতে হতে পারে। শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, এসব বিলম্বে নিয়মিত সরবরাহব্যবস্থা ব্যাহত হয় এবং সিলিন্ডার নেপালের খুচরা বিতরণ নেটওয়ার্কে পৌঁছানোর আগেই চাপ বাড়ে।
দেশে সবচেয়ে বেশি গ্রাহক আছে বলে বর্ণিত নেপাল গ্যাস ছিল প্রথম দিকের ক্ষতিগ্রস্ত ব্র্যান্ডগুলোর একটি। শোধনাগারসংক্রান্ত বিঘ্ন এবং কোম্পানির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এর বিতরণ নেটওয়ার্কে প্রভাব ফেলে। এরপর ওই ব্র্যান্ড খুঁজতে থাকা গ্রাহকেরা অন্য ব্র্যান্ডের ওপর চাহিদা বাড়ান।
ব্র্যান্ডের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ খালি সিলিন্ডার হলো এমন একটি পাত্র, যা ভরার ও বিতরণের ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ফেরত যেতে হয়। গ্রাহকেরা জানান, এক কোম্পানির সিলিন্ডার দিয়ে অন্য কোম্পানির ভরা সিলিন্ডার বদলাতে তাঁদের সমস্যা হচ্ছিল। ফলে অন্য ব্র্যান্ডের গ্যাস পাওয়া গেলেও খালি সিলিন্ডার হাতে থাকা পরিবারের নাগালের বাইরে থেকে যেতে পারে।
ছয়টি কেন্দ্রে সীমিত সিলিন্ডার বিনিময়ের ব্যবস্থা
নেপাল এলপি গ্যাস ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন আশোজ ২৫ থেকে ৩১ তারিখ পর্যন্ত বিশেষ বিক্রি ও সিলিন্ডার বিনিময় কর্মসূচি ঘোষণা করে। প্রতিদিন সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এ সেবা দেওয়ার কথা ছিল। এনওসির সমন্বয় এবং গ্যাস ডিলার ফেডারেশনের সহযোগিতায় কাঠমান্ডু উপত্যকার ছয়টি স্থানে এ ব্যবস্থা করা হয়।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দিওয়ান চান্দ বলেন, উৎসবের সময়ে সহজে গ্যাস না পাওয়া বা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মধ্যে সিলিন্ডার বদলাতে না পারার অভিযোগের জবাবে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়। নির্ধারিত স্থান ও ব্র্যান্ডগুলো ছিল:
- সিফালচৌর, গ্যাস অ্যান্ড অক্সিজেন ট্রেডার্সে: এভারেস্ট ও সুগম গ্যাস।
- পেপসিকোলা: সাগর গ্যাস।
- বালাজু শিল্পাঞ্চলের ফটকের বাইরে: নেপাল, এইচপি, গীতা, রাজধানী ও ত্রিবেণী গ্যাস।
- সুখেধারা: বাবা ও শ্রী গ্যাস।
- কালাঙ্কি: সাই বাবা ও শ্রী কৃষ্ণ গ্যাস।
- ললিতপুরের হারিসিদ্ধি: শ্রী রাম গ্যাস।
এ বিনিময় ব্যবস্থা কেবল উপত্যকায় সরবরাহকারী অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর সিলিন্ডারের ক্ষেত্রে এবং নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতেই প্রযোজ্য ছিল। গ্রাহকদের নিজেদের সিলিন্ডার এ ব্যবস্থার আওতায় পড়ে কি না, তা যাচাই করতে হতো।
অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, ভাদ্র মাসে ৪২ লাখ ১৩ হাজার ৬৬১টি সিলিন্ডার বিক্রি ও বিতরণ করা হয়েছিল। উৎসবের কর্মসূচি ঘোষণার সময় তারা আরও জানায়, ভারতীয় শোধনাগার থেকে আমদানি নির্বিঘ্নে চলছিল। বিশেষ কেন্দ্রগুলোতে পাওয়া গ্যাসে প্রবেশাধিকার বাড়ানো হয়, যার মধ্যে নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের ওপর গ্রাহকদের নির্ভরশীলতার সমস্যাটিও ছিল।
জরুরি বিতরণ ও অতিরিক্ত কেনাকাটায় নিয়ন্ত্রণ
ফেব্রুয়ারির ঘাটতির সময় বোতলজাতকারীরা এনওসির টেকু কার্যালয়ে একটি অস্থায়ী ডিপো চালু করেন। খুচরা বিক্রেতাদের ওপর চাপ কমাতে সেখানে বিতরণ করা প্রধান ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ছিল নেপাল গ্যাস, এভারেস্ট গ্যাস ও সুগম গ্যাস। ঠাকুর বলেন, সরবরাহ বাড়ায় কার্যালয়ে জড়ো হওয়া গ্রাহকের সংখ্যা কমেছে।
এনওসি অভিযোগ পাওয়া ব্র্যান্ডগুলোর যোগাযোগ নম্বর উল্লেখ করে একটি গণবিজ্ঞপ্তিও প্রকাশ করে। ওই ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে ছিল নেপাল গ্যাস, এভারেস্ট গ্যাস, সাই বাবা গ্যাস ও শ্রী কৃষ্ণ গ্যাস। দোকানে সমস্যা হলে গ্রাহকদের সরাসরি কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করতে অথবা কারখানা থেকে সিলিন্ডার কিনতে পরামর্শ দেওয়া হয়।
ঠাকুর অতিরিক্ত সিলিন্ডার কেনা কমে যাওয়াকে পরিস্থিতির উন্নতির সঙ্গে যুক্ত করেন। এনওসির উপপরিচালক গ্রাহকদের মজুত না করার আহ্বান জানান:
রান্নার গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে, তাই গ্রাহকদের সিলিন্ডার মজুত করার প্রয়োজন নেই," ঠাকুর বলেন। "গ্রাহকেরা মজুত বন্ধ করলে বিতরণব্যবস্থা নির্বিঘ্নে চলবে।
এনওসি বোতলজাতকারীদের নির্দেশ দেয়, একজন গ্রাহককে যেন ডিলাররা দুটি সিলিন্ডার না দেন, কৃত্রিম সংকট তৈরি না করেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিতরণ করেন। করপোরেশন জানায়, হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলো সিলিন্ডার মজুত করেছে বলে মনে হয়েছে, তবে গ্যাসের অভাবে বড় কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার খবর তারা পায়নি।
ভোক্তা অধিকারকর্মীদের অভিযোগের পর বাণিজ্য, সরবরাহ ও ভোক্তা সুরক্ষা বিভাগ বাজার তদারকির একটি দল গঠন করে। পরিবারগুলো সিলিন্ডার ভরাতে সমস্যার কথা জানাতে থাকায় উপত্যকাজুড়ে বিতরণ পর্যবেক্ষণ করার দায়িত্ব দেওয়া হয় দলটিকে।
বড় সিলিন্ডার নেটওয়ার্ক সচল রাখতে নিয়মিত সরবরাহ দরকার
এনওসি জানিয়েছে, দেশজুড়ে ১ কোটির বেশি এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহারে রয়েছে। তাদের আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৩০ লাখ সিলিন্ডার গ্রাহকদের কাছে, ৩০ লাখ পুনরায় ভরার জন্য বোতলজাতকরণ কারখানায় এবং আরও ৩০ লাখ বিতরণব্যবস্থায় রয়েছে। গোল করে বলা এসব শ্রেণিতে মোট প্রায় ৯০ লাখ সিলিন্ডারের হিসাব পাওয়া যায়।
করপোরেশনের হিসাব, ৩০ লাখ সিলিন্ডার ভরতে মাসে প্রায় ৪৫ হাজার টন এলপিজি প্রয়োজন। এ নেটওয়ার্ক সচল রাখতে খালি সিলিন্ডার ফেরত আসা, কারখানায় সেগুলো ভরা এবং পরিবারের কেনাকাটার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডিলারদের কাছে নতুন সিলিন্ডার পৌঁছানো জরুরি।
সরবরাহব্যবস্থার আরও আগের ধাপেও কাঠমান্ডু বিঘ্নের মুখে পড়েছে। এর আগে এক গুরুতর সংকটের সময় ভোতে কোশির বন্যায় রাসুয়া দিয়ে যাওয়া প্রধান সরবরাহপথ বন্ধ হয়ে যায়। ওই সংকটের পর সাবেক শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহমন্ত্রী গৌরী কুমারী যাদব পদত্যাগ করেন। বর্তমানে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন দীপক কুমার শাহ।
মন্ত্রণালয় গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক ব্যবহারের সিলিন্ডার আলাদা শ্রেণিতে ভাগ করার একটি প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে এবং তা পর্যালোচনার জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এ ধরনের শ্রেণিবিভাগে বাড়ির চাহিদা থেকে হোটেল ও রেস্তোরাঁর মতো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের চাহিদা আলাদা করা হবে। বাস্তবায়নের তারিখ বা বিস্তারিত নিয়ম এখনো ঘোষণা করা হয়নি।
বারবার সরবরাহ বিঘ্নের পেছনের তারিখগুলো
উল্লেখিত তারিখগুলো সরবরাহের চাপের ভিন্ন ভিন্ন ঘটনা তুলে ধরে। ছুটির সময়ে কারখানা বন্ধের ঘটনা, উৎসবের সময় গ্যাস পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে বিশেষ বিনিময় কর্মসূচি এবং শোধনাগার ও বিতরণ সমস্যার পর পরিস্থিতির উন্নতি নিয়ে ফেব্রুয়ারির মূল্যায়ন করা হয়েছিল।
- ভাদ্র: শিল্প অ্যাসোসিয়েশনের হিসাবে ৪২ লাখ ১৩ হাজার ৬৬১টি সিলিন্ডার বিক্রি ও বিতরণ করা হয়।
- দশাইনের ফুলপাতির সময়: গ্যাস ডিলার ফেডারেশনের ভাষ্য অনুযায়ী, বেশির ভাগ গ্যাসশিল্প কারখানা সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখে।
- আশোজ ২৫ থেকে ৩১: উপত্যকার ছয়টি কেন্দ্রে বিশেষ বিক্রি ও যোগ্য সিলিন্ডার বিনিময়ের ব্যবস্থা করার কথা ছিল।
- নভেম্বর ও ডিসেম্বর: শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, বারাউনি শোধনাগারের রক্ষণাবেক্ষণে নিয়মিত সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়।
- ১৫ ফেব্রুয়ারি: মাসিক এলপিজি বরাদ্দ ৪৫ হাজার টনের বিপরীতে এনওসি ২৬ হাজার টন পাওয়ার হিসাব দেয়।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সময়সীমা দিন হিসেবে হিসাব করা হয়েছিল: কারখানা আবার খোলার পর উন্নতি হবে বলে আরিয়াল আশা করেন, আর ঠাকুর ও চান্দ আশা করেন, ফেব্রুয়ারির ঘাটতি প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে পুরোপুরি কাটবে। পরিবারের জন্য পরিস্থিতির উন্নতি মানে ছিল, বারবার যাতায়াত বা অনিশ্চিত অপেক্ষা ছাড়াই কাছের দোকানে খালি সিলিন্ডার বদলে নিতে পারা।
মূল বিষয়গুলো
- দশাইনের সময় সরবরাহ বিঘ্নিত হলে গোঠাটার ও চান্দ্রগিরির বাসিন্দারা রান্নার গ্যাস পেতে সমস্যার কথা জানান।
- ডিলাররা ছুটির সময়ে ঘাটতির জন্য বোতলজাতকরণ কারখানা বন্ধ থাকাকে দায়ী করেন, আর এনওসি জানায় বাল্ক পরিবহন অব্যাহত ছিল।
- ফেব্রুয়ারির পৃথক মূল্যায়নে এনওসি জানায়, উপত্যকায় স্বাভাবিক চাহিদা ৪০ হাজার থেকে ৪৫ হাজার সিলিন্ডার হলেও দৈনিক সরবরাহ ছিল ৪৫ হাজারের বেশি।
- শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ওই বিঘ্নের জন্য বারাউনি শোধনাগারের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিবহন অনুমতিপত্র পেতে দেরিকে দায়ী করেন।
- উৎসবের একটি কর্মসূচিতে সিলিন্ডার বিক্রি ও ব্র্যান্ডের মধ্যে সীমিত বিনিময়ের জন্য ছয়টি কেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়।
- কর্তৃপক্ষ জরুরি বিতরণ, বাজার তদারকি এবং একাধিক সিলিন্ডার কেনায় বিধিনিষেধ চালু করে।
- গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের পৃথক শ্রেণিবিভাগ নিয়ে একটি টাস্কফোর্স পর্যালোচনা করছে।






