নেপালের বিদ্যুৎ বাজারে প্রবেশে আগ্রহী ১১টি কোম্পানি
বেসরকারি বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের জন্য প্রাথমিক অনুমোদনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নেপাল। ইতিমধ্যে ১১টি কোম্পানি আগ্রহপত্র চেয়েছে এবং দশাইয়ের আগে নথি ইস্যু করতে কাজ করছে সরকার। জ্বালানি, পানিসম্পদ ও সেচমন্ত্রী বিরাজ ভক্ত শ্রেষ্ঠ বলেছেন, নীতিগত ব্যবস্থা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে পরিবর্তন এবং ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের সংযোগ বাড়ানোর কাজ চলছে।
সূচিপত্র
- নেপালের বিদ্যুৎ বাজারে প্রবেশে আগ্রহী ১১টি কোম্পানি
- বাজেটের প্রতিশ্রুতি ও আইনি প্রক্রিয়া
- বেসরকারি রপ্তানির শর্ত নির্ধারণ করবে ভারতের বিধি
- গ্রিড ব্যবহারে বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের খরচ
- উপযোগী বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রকল্প অগ্রাধিকার পাবে
- ২৭টি প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে
- সঞ্চালন সম্প্রসারণে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র
- সংস্কার কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে বিদ্যুৎ সঞ্চয় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি
- সেচ ও বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধারও কর্মসূচির অংশ
- মূল বিষয়গুলো
নেপালের পঞ্জিকা অনুযায়ী আশোজ ২৮ তারিখে বুধবার কাঠমান্ডুতে মন্ত্রণালয়ের এক ব্রিফিংয়ে শ্রেষ্ঠ গত ছয় মাসের কাজ পর্যালোচনা করেন। তিনি মোট ৫৪০.৪৭ মেগাওয়াটের ২৭টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর সময়সীমা বাড়ানোর কথা জানান। এ ছাড়া ভারতের সঙ্গে বিদ্যুৎ আমদানির সক্ষমতা ১,০০০ মেগাওয়াট থেকে ১,৪০০ মেগাওয়াট এবং রপ্তানি সক্ষমতা ১,১০০ মেগাওয়াট থেকে ১,৬৫০ মেগাওয়াটে উন্নীত করার চুক্তির কথাও জানান।
বেসরকারি কোম্পানিগুলো ক্রেতা খুঁজে বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ পাবে; উৎপাদিত বিদ্যুৎ কেনার জন্য তাদের শুধু নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটির (এনইএ) ওপর নির্ভর করতে হবে না। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন, বাণিজ্য ও অভ্যন্তরীণ ব্যবহারকে একত্রে এগিয়ে নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। লক্ষ্য, বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগকে এমন বিদ্যুতে রূপান্তর করা, যা অর্থের বিনিময়ে কিনতে আগ্রহী গ্রাহকের কাছে পৌঁছাতে পারে।
প্রাথমিক পদক্ষেপ হলো আগ্রহপত্র (এলওআই) বা অনাপত্তিপত্র (এনওসি) ইস্যু করা। পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক লাইসেন্স পেতে বিদ্যুৎ আইন সংশোধন এবং সহায়ক বিধিব্যবস্থা প্রয়োজন। এরপর কোম্পানিগুলোর সঞ্চালন সুবিধা, বাণিজ্যিক চুক্তি এবং রপ্তানির ক্ষেত্রে সীমান্ত পেরিয়ে বিদ্যুৎ বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণকারী বিধির আওতায় ছাড়পত্র লাগবে।
শ্রেষ্ঠর লক্ষ্যমাত্রা হলো দশাইয়ের আগে প্রাথমিক নথি দেওয়া। বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত কয়েক দিনের মধ্যে আসতে পারে। তবে চূড়ান্ত লাইসেন্স ও রপ্তানির সুযোগ দেওয়ার কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। এনইএ বোর্ডের সদস্য অংশু কিরণ শাহী মনে করেন, বেসরকারি খাতে রপ্তানির জন্য আইনি ও কারিগরি কাজ শেষ হতে অন্তত এক থেকে দুই বছর লাগতে পারে।
বাজেটের প্রতিশ্রুতি ও আইনি প্রক্রিয়া
অর্থমন্ত্রী ড. স্বর্ণিম ওয়াগলে ২০২৬ সালের ২৯ মে ২০২৬/২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের সময় আন্তর্জাতিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যে বেসরকারি অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন। এখন শ্রেষ্ঠর প্রস্তুতির লক্ষ্য হলো কোম্পানিগুলোকে ওই বাজারে কাজ করার সুযোগ দিতে প্রয়োজনীয় বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া।
নেপাল কয়েক বছর ধরেই এই পরিবর্তনের চেষ্টা করছে। ২০২২ সালের মে মাসে জ্বালানি মন্ত্রণালয় আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেয়, কারণ ১৯৯২ সালের বিদ্যুৎ আইনে বেসরকারি বিদ্যুৎ বাণিজ্যের অনুমতি ছিল না। সঞ্চালন নির্দেশিকা ও নীতিমালার মাধ্যমে এগোনোর আগের একটি উদ্যোগ আইন মন্ত্রণালয় নাকচ করেছিল। তাদের যুক্তি ছিল, আইনে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা দেওয়া নেই।
বিদ্যমান বিদ্যুৎ আইন সংশোধন ও একীভূতকরণ বিলের ২৯ ধারায় নেপালি বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে দেশে ও আন্তর্জাতিকভাবে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের অনুমতি দেওয়ার প্রস্তাব ছিল। সে সময় ২০২০ সালের জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে বিলটি জাতীয় পরিষদে পদক্ষেপের অপেক্ষায় ছিল। মন্ত্রণালয় আরেকটি সংশোধনী পথ এবং অধ্যাদেশের কথাও বিবেচনা করেছিল।
নীতিটি কয়েকটি ধাপে এগিয়েছে:
- ফেব্রুয়ারি ২০২১: ভারতে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে আগ্রহী নেপালি কোম্পানিগুলোকে নেপাল থেকে রপ্তানি লাইসেন্স নেওয়ার বাধ্যবাধকতা চালু করে ভারত।
- মে ২০২২: প্রস্তাবিত নির্দেশিকার পথ নাকচ হওয়ার পর আইনি সংশোধনের উদ্যোগ নেয় নেপালের জ্বালানি মন্ত্রণালয়।
- জুন ২০২৫: গ্রিডে উন্মুক্ত প্রবেশাধিকার বিষয়ে একটি খসড়া নির্দেশিকা অনুমোদন করে বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশন।
- ২৯ মে ২০২৬: আন্তর্জাতিক বিদ্যুৎ বাণিজ্যে বেসরকারি অংশগ্রহণের ঘোষণা দেয় জাতীয় বাজেট।
- দশাইয়ের আগে: সম্ভাব্য বেসরকারি বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের প্রাথমিক নথি দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছেন শ্রেষ্ঠ।
বিদ্যুৎ আইন সংশোধনের প্রক্রিয়া সংসদে এগিয়েছে। কোনো সীমা বা কোটা ছাড়াই এলওআইয়ের আবেদন নিচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বিভাগ। এদিকে ন্যূনতম মূলধন, ব্যাংক গ্যারান্টি ও বাণিজ্যিক শর্ত চূড়ান্ত করছে সরকার। এনইএর একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের অনুমোদন পেয়েছে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও নিজেদের লাইসেন্স পাওয়ার পথ খুঁজছে।
বেসরকারি রপ্তানির শর্ত নির্ধারণ করবে ভারতের বিধি
বাংলাদেশের জন্য সম্ভাব্য বিক্রিসহ নেপালের রপ্তানি পরিকল্পনায় ভারত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎকে ভারতের সঞ্চালন অবকাঠামো দিয়ে নিতে হবে। ফলে বেসরকারি ব্যবসায়ীদের নেপাল ও ভারত—দুই দেশেই ব্যবস্থা করতে হবে। এর মধ্যে থাকবে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি, নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুযোগ এবং লেনদেনের অনুমতি।
শাহী বলেন, ভারতের বর্তমান বিধিতে নেপালের অনুমোদিত বিদ্যুৎ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান হিসেবে শুধু এনইএকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ভারতকে বিদ্যুৎ বিক্রি করতে বা অন্য দেশে পাঠানোর জন্য ভারতের সঞ্চালনব্যবস্থা ব্যবহার করতে নেপালি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি প্রয়োজন। তাঁর মতে, এ সুযোগ পেতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা দরকার হবে।
ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করেছে মন্ত্রণালয়। এদিকে এলওআই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্ভাব্য ব্যবসায়ীরা ক্রেতা শনাক্ত করতে ও বাণিজ্যিক পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবেন। বাণিজ্য শুরু করতে বিদ্যুতের পরিমাণ, সঞ্চালন সক্ষমতা, গ্রিড ব্যবহারের সুযোগ এবং সীমান্ত পারাপারের ছাড়পত্র নিয়ে আলাদা সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি কারা বিদ্যুৎ কিনবে এবং কীভাবে মূল্য পরিশোধ নিশ্চিত হবে, তা নির্ধারণ করে চুক্তি করতে হবে।
এসব অনুমতির ওপর নির্ভর করেই বেসরকারি কোম্পানিগুলো আগে পরিকল্পনা করেছে। নেপাল পাওয়ার এক্সচেঞ্জ লিমিটেড ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারি ভারতের মানিকরণ পাওয়ার লিমিটেডের সঙ্গে একটি চুক্তি করে। রপ্তানি লাইসেন্স সাপেক্ষে মানিকরণ ৫০০ মেগাওয়াট কিনতে এবং বিনিয়োগ অংশীদার হতে সম্মত হয়েছিল।
তখন নেপালের স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদক সমিতির (আইপিপিএএন) সহসভাপতি গণেশ কার্কি বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে আলোচনায় লাইসেন্সের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেছিলেন:
রপ্তানি লাইসেন্স না থাকলে বিদেশি ক্রেতারা আমাদের বিশ্বাস করবেন না,
নেপাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যাংকও ২০২২ সালে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের জন্য একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল এবং ভারত ও বাংলাদেশের কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা করেছিল। বর্তমান লাইসেন্স প্রস্তুতি কয়েক বছর ধরে বিদ্যমান একটি বাণিজ্যিক চাহিদার জবাব দিচ্ছে: কোম্পানিগুলো বিদ্যুৎ বিক্রির বিষয়ে আলোচনা করার এবং বাজার খুঁজে নেওয়ার দায়িত্ব নিতে চায়।
গ্রিড ব্যবহারে বিদ্যুৎ ব্যবসায়ীদের খরচ
২০২৬/২৭ অর্থবছরের জন্য মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি গ্রিড ব্যবহারের চার্জ প্রতি মেগাওয়াটে মাসে ৪১৩,০০০ নেপালি রুপি এবং স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারে প্রতি ইউনিট ০.৫৭ রুপি নির্ধারণ করেছে বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রক কমিশন। এক ইউনিট বলতে এক কিলোওয়াট-ঘণ্টা বোঝায়—এক কিলোওয়াট ক্ষমতার কোনো যন্ত্র এক ঘণ্টা চালালে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ লাগে।
এই ফি ‘হুইলিং চার্জ’ নামে পরিচিত। সঞ্চালন নেটওয়ার্কের মধ্য দিয়ে বিদ্যুৎ পরিবহনের খরচ মেটাতে তা নেওয়া হয়। প্রতিটি লেনদেনের জন্য আলাদা লাইন নির্মাণ না করেও বেসরকারি উৎপাদক ও ক্রেতা বিক্রির চুক্তি করতে পারেন এবং বিদ্যুৎ পৌঁছাতে বিদ্যমান গ্রিড ব্যবহার করতে পারেন।
২০২৫ সালের জুনের খসড়ায় কম চার্জ প্রস্তাব করা হয়েছিল: স্বল্পমেয়াদি ব্যবহারে প্রতি ইউনিট ৩৯ পয়সা এবং মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে প্রতি মেগাওয়াটে মাসে ২৮৩,৮৪২ রুপি। পরবর্তী সময়ে নির্ধারিত হার উভয় ক্ষেত্রেই প্রায় ৪৬ শতাংশ বেশি। এগুলো নেটওয়ার্ক ব্যবহারের চার্জ; বিদ্যুৎ কেনার দাম ও অন্যান্য বাণিজ্যিক খরচও ব্যবসায়ীদের হিসাব করতে হবে।
খসড়ায় অভ্যন্তরীণ বাণিজ্যের জন্য ন্যূনতম ৫ মেগাওয়াট এবং সীমান্ত পেরিয়ে বাণিজ্যের জন্য ১০ মেগাওয়াট লেনদেনের প্রস্তাব ছিল। যোগ্য স্থাপনার মধ্যে রয়েছে অন্তত ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার জলবিদ্যুৎকেন্দ্র, যা ৩৩ কিলোভোল্ট বা তার বেশি ক্ষমতার গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত, এবং অন্তত ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার নিজস্ব ব্যবহারের বিদ্যুৎকেন্দ্র। নিজস্ব ব্যবহারের বিদ্যুৎকেন্দ্রে মূলত মালিকের ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়।
খসড়ায় চুক্তিকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছিল: ২৪ ঘণ্টা থেকে এক বছর পর্যন্ত, এক বছরের বেশি থেকে পাঁচ বছর পর্যন্ত এবং পাঁচ বছরের বেশি মেয়াদের গ্রিড ব্যবহার। রপ্তানির আগে অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে সরকার অনুমোদিত প্রকল্প এবং এনইএর মাধ্যমে রপ্তানির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছিল।
ছয়টি পরিচালন পদ্ধতি চূড়ান্ত করছে কমিশন। আগের বিধানে নির্দেশিকা অনুমোদনের ১২০ দিনের মধ্যে পদ্ধতি ও চুক্তির খসড়া প্রকাশসহ বাস্তবায়নের দায়িত্ব এনইএর সিস্টেম অপারেশনস বিভাগকে দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যুৎ বাণিজ্য চালাতে মিটারিং, বিদ্যুতের সময়সূচি নির্ধারণ, মূল্য পরিশোধ নিষ্পত্তি এবং প্রতিশ্রুত ও সরবরাহ করা বিদ্যুতের পার্থক্যসংক্রান্ত বিধি তৈরি করতে হবে।
উপযোগী বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রকল্প অগ্রাধিকার পাবে
২০২৬ সালের অক্টোবরের সংস্কার হালনাগাদ অনুযায়ী, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) অপেক্ষায় রয়েছে ১৬,০০০ মেগাওয়াটের বেশি প্রস্তাবিত প্রকল্প। পিপিএ হলো এমন চুক্তি, যেখানে কোনো প্রকল্পের বিদ্যুৎ কেনার শর্ত নির্ধারণ করা হয়। নির্মাণ ও অর্থায়নের পরিকল্পনা করতে প্রকল্প উন্নয়নকারীদের পূর্বানুমানযোগ্য আয়ের ব্যবস্থা প্রয়োজন।
এনইএ বোর্ড সদস্য অংশুকিরণ শাহী নেতৃত্বাধীন একটি উপকমিটি নতুন পিপিএ চালুর প্রস্তাবিত মানদণ্ড জমা দিয়েছে। সুপারিশে কারিগরি প্রস্তুতি, সঞ্চালন অবকাঠামোর সুযোগ এবং আর্থিক সমাপনের বিষয় রয়েছে। আর্থিক সমাপন হলো প্রকল্পের অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর্যায়। প্রস্তাব কার্যকর করতে এনইএ বোর্ডের সিদ্ধান্ত প্রয়োজন।
শ্রেষ্ঠ বলেন, শুষ্ক মৌসুমের সন্ধ্যায় উচ্চ চাহিদা মেটাতে পারে, শুষ্ক মাসগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে, প্রতি মাসে স্থিতিশীল উৎপাদন বজায় রাখে এবং সঞ্চালন সুবিধা রয়েছে—এমন প্রকল্পকে প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর সময়ের মধ্যে বিদ্যুৎ রপ্তানির ব্যবস্থা করা সম্ভব হলেও প্রকল্প অগ্রাধিকার পাবে।
এসব মানদণ্ড বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময়ের সঙ্গে ব্যবস্থার চাহিদাকে যুক্ত করে। একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বার্ষিক উৎপাদন গুরুত্বপূর্ণ, তবে নির্দিষ্ট সময়ে এবং নদীর প্রবাহ কম থাকা মাসগুলোতেও বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। ওই সময়গুলোতে সরবরাহ দিতে পারা কোনো কেন্দ্র ব্যবস্থাকে এমনভাবে সহায়তা করতে পারে, যা শুধু তার স্থাপিত ক্ষমতা দিয়ে বোঝানো যায় না।
শ্রেষ্ঠ বলেন, রাষ্ট্রের আর্থিক দায়, বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক প্রভাব বিবেচনা করে আরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ২০২৫/২৬ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে ‘টেক অ্যান্ড পে’ চুক্তির বদলে ‘টেক অর পে’ চুক্তি ব্যবহারের প্রস্তাব ঘিরে বিরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই এ কথা বলেছেন তিনি। সাধারণভাবে ‘টেক অ্যান্ড পে’ ব্যবস্থায় প্রকৃতপক্ষে নেওয়া বিদ্যুতের ভিত্তিতে মূল্য পরিশোধ হয়। অন্যদিকে, ‘টেক অর পে’ ব্যবস্থায় ক্রেতা বিদ্যুৎ না নিলেও চুক্তিতে নির্ধারিত পরিমাণের মূল্য দিতে হতে পারে।
আইপিপিএএনের চেয়ারম্যান গণেশ কার্কি সংস্কার শুরুকে স্বাগত জানিয়েছেন, তবে পিপিএ বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। স্থগিত থাকা চুক্তিগুলো ১৮০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে উন্নয়নকারীরা আশা করেছিলেন। ছয় মাস পরও অগ্রগতি না হওয়ায় তাঁরা সমালোচনা করেছেন।
২৭টি প্রকল্পের সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে
প্রথম দফার ছাড়ে মোট ৫৪০.৪৭ মেগাওয়াটের ২৭টি প্রকল্পের প্রয়োজনীয় বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর তারিখ (আরসিওডি) বাড়িয়েছে এনইএ। আরসিওডি হলো কোনো কেন্দ্রের বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর চুক্তিভিত্তিক সময়সীমা। বিলম্ব হলে উন্নয়নকারী চুক্তি ভঙ্গের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।
শ্রেষ্ঠর ঘোষণা এবং সংস্কারসংক্রান্ত বিস্তারিত বিবরণে ২৭টি প্রকল্পের জন্য ৫৪০.৪৭ মেগাওয়াটের কথা বলা হয়েছে। তবে একই ২৭টি প্রকল্পের ক্ষেত্রে ৪,৫৪০.৪৭ মেগাওয়াটের একটি বড় অঙ্কও প্রচারিত হয়েছে। বিস্তারিত বিবরণে সময়সীমা বৃদ্ধির প্রকল্পগুলোকে মোট ৮,২৯২ মেগাওয়াটের ৩২০টি প্রকল্পের নির্মাণ পাইপলাইনের অংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও পিপিএর বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ ওই ৩২০টি প্রকল্পকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেছে। ‘সি’ শ্রেণির প্রকল্পগুলো খেলাপির নোটিশের মুখে রয়েছে—চুক্তির শর্ত পূরণ না করার বিষয়ে এগুলো আনুষ্ঠানিক সতর্কবার্তা। পাইপলাইনের সব প্রকল্পে সমানভাবে সময় বাড়ানো হচ্ছে না; বরং যেসব প্রকল্প প্রায় শেষ হওয়ার পথে, সেগুলোকে লক্ষ্য করা হচ্ছে।
বন্যা, ভূমিধস, সঞ্চালন লাইন না থাকা, স্থানীয় বাধা এবং কোভিড-১৯-পরবর্তী অর্থনৈতিক সংকটের কারণে উন্নয়নকারীরা বিলম্বের মুখে পড়েছেন। যোগ্য প্রকল্পগুলোকে সংশোধিত সময়সীমা কার্যক্রম শুরুর জন্য আরও সময় দেবে। একই সঙ্গে শ্রেণিবিন্যাসের প্রক্রিয়ায় প্রকল্পের অগ্রগতির সঙ্গে ছাড়কে যুক্ত করা হয়েছে।
আগের অর্থবছরে ৯৪২ মেগাওয়াটের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে নেপাল গ্রিডে ৫৬১ মেগাওয়াট যুক্ত করেছে। যা লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৬০ শতাংশ; ঘাটতি ছিল ৩৮১ মেগাওয়াট। চুক্তি ও লাইসেন্সে পরিবর্তনের পাশাপাশি কেন্দ্রগুলোর নির্মাণ শেষ করা এবং সেগুলোকে নেটওয়ার্কে যুক্ত করার গুরুত্ব এই পরিসংখ্যান তুলে ধরে।
সঞ্চালন সম্প্রসারণে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র
৪০০ কিলোভোল্টে পরিচালিত হেতৌড়া-ঢালকেবর-ইনারুয়া সঞ্চালন লাইনের হেতৌড়া অংশের কাজ প্রায় শেষ। শ্রেষ্ঠ বলেছেন, দশাইয়ের পর লাইনটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে এনইএর। লাইন চালু করা বলতে এতে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করে ব্যবহারযোগ্য করাকে বোঝায়।
৪০০ কিলোভোল্টের বাহ্রাবিসে-লাপসিফেদি সঞ্চালন লাইনের নির্মাণ শেষ হয়েছে। বাহ্রাবিসে ও নিউ খিমতি উপকেন্দ্রের কাজও শেষ হয়েছে এবং আংশিকভাবে চালু করা হয়েছে। উপকেন্দ্র বিদ্যুৎ প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ভোল্টেজের মাত্রা পরিবর্তন করে, যাতে নেটওয়ার্কের বিভিন্ন অংশ যুক্ত হতে পারে।
২২০ কিলোভোল্টের মার্কিচৌক-ভরতপুর লাইন, ১৩২ কিলোভোল্টের ঢালকেবর-বালগঙ্গা লাইন এবং ১৩২ কিলোভোল্টের লালবন্দি-সালেমপুর লাইন সংশ্লিষ্ট উপকেন্দ্রসহ চালু হয়েছে। বলকোট ও দাহাচৌক উপকেন্দ্র এবং চন্দ্রপুর-সুখদেবচৌক ও লাহান-সুখিপুর লাইনের কাজ শুরু হয়েছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে আরও ১২টি সঞ্চালন লাইন শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে মন্ত্রণালয়ের ছয় মাসের পর্যালোচনায়।
প্রায় ১৪৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং আনুমানিক ২০ বিলিয়ন নেপালি রুপি ব্যয়ের ৪০০ কিলোভোল্ট পশ্চিম সেতী সঞ্চালন লাইনে বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে প্রকল্পটির জন্য একটি পৃথক কোম্পানি নিবন্ধন করা হয়েছে। চারটি সঞ্চালন লাইনের জন্য বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রও এগিয়ে নিয়েছে এনইএ।
নেপাল ও ভারতের সম্মত সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষমতা ৪০০ মেগাওয়াট বাড়বে; ১,০০০ মেগাওয়াট থেকে এটি ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি। রপ্তানি সক্ষমতা বাড়বে ৫৫০ মেগাওয়াট; ১,১০০ মেগাওয়াট থেকে যা ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি। তবে সম্প্রসারিত সংযোগ ব্যবহার করতে ব্যবসায়ীদের প্রাসঙ্গিক নেটওয়ার্ক সুবিধা ও লেনদেনের অনুমোদন নিতে হবে।
সংস্কার কর্মসূচিতে যুক্ত হচ্ছে বিদ্যুৎ সঞ্চয় ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি
জলাধারভিত্তিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর লাইসেন্সের মেয়াদ ৫০ বছর করার লক্ষ্যে ১৯৯৩ সালের বিদ্যুৎ বিধি সংশোধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে মন্ত্রণালয়। জলাধারে পানি জমিয়ে রাখা যায়, ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্র কখন বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে তা আরও নমনীয়ভাবে নির্ধারণ করতে পারে। শ্রেষ্ঠ বলেন, দীর্ঘমেয়াদি লাইসেন্স অব্যাহত সরবরাহে সহায়ক এবং ভাটির দিকে বন্যা নিয়ন্ত্রণে কাজে লাগে—এমন প্রকল্পে বিনিয়োগ উৎসাহিত করবে।
ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেমের (বিইএসএস) জন্য বিদ্যুৎ ক্রয়মূল্য ও নির্দেশিকা নিয়েও কাজ করছে মন্ত্রণালয়। উৎপাদন বেশি থাকলে ব্যাটারিতে বিদ্যুৎ জমা রাখা যায় এবং পরে তা সরবরাহ করা যায়। এতে সৌরবিদ্যুতের ওঠানামা ও চাহিদা সামাল দিতে গ্রিডের সুবিধা হয়। মূল্যহার নিয়ে আলোচনা চলছে।
ছয় মাসের পর্যালোচনায় মাইক্রো ও ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে ৬৯৩ কিলোওয়াট, সৌর মিনি-গ্রিড থেকে ৮৪১ কিলোওয়াট এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মোট ১৮,৫৭৫.৩০ কিলোওয়াটের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের হিসাব রয়েছে। কৃষিকাজে বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর অংশ হিসেবে ৩১৫টি সৌরচালিত সেচ পাম্প স্থাপনের কথাও এতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতা বিল প্রতিনিধি পরিষদে নিবন্ধিত হয়েছে। পানিসম্পদ বিল মন্ত্রিসভায় জমা দেওয়া হয়েছে। খসড়া বিদ্যুৎ ও সেচ বিল নিয়ে পরামর্শ চলছে। ভোক্তা পর্যায়ের বিদ্যুতের মূল্যহার নির্দেশিকা এবং সঞ্চালন চার্জ গণনার মানদণ্ড জারি করা হয়েছে। সঞ্চালন ও বিতরণে উন্মুক্ত প্রবেশাধিকারের নির্দেশিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে।
সেচ ও বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধারও কর্মসূচির অংশ
সিকতায় ১৩ কিলোমিটার খাল যুক্ত হওয়ায় ১,৩০০ হেক্টর জমিতে সেচের আওতা বেড়েছে। মোট ২৭টি দরপত্রের মধ্যে ১১টির চুক্তি হয়েছে এবং নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। মহাকালিতে আরও ১,১৫৫ হেক্টর, বদকাপাথে ৬১০, বাবাইয়ে ৬০০ এবং রানি জামারা কুলারিয়ায় ১৫০ হেক্টর জমি সেচের আওতায় এসেছে। এই পাঁচ প্রকল্পে মোট ৩,৮১৫ হেক্টর জমিতে সেচের আওতা বেড়েছে।
আগামী দুই অর্থবছরের মধ্যে বাবাই এবং ভেরি-বাবাই ডাইভারশন বহুমুখী প্রকল্প শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে মন্ত্রণালয়ের। সুনকোশি মারিনের অবকাঠামো নির্মাণের নতুন দরপত্র কারিগরি মূল্যায়ন পেরিয়ে আর্থিক মূল্যায়নের পর্যায়ে পৌঁছেছে। কয়েক দিনের মধ্যে চুক্তি সইয়ের লক্ষ্য রয়েছে। রানি জামারা কুলারিয়া ও রাজাপুরে দূরবর্তী পরিমাপ প্রযুক্তির মাধ্যমে পানিপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ শুরু হয়েছে।
বিদ্যুৎ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বন্যা-পরবর্তী পুনরুদ্ধারের কাজও চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত কোহালপুর-সুরখেত লাইনে জরুরি পুনরুদ্ধারব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। শ্রেষ্ঠ বলেন, জাতীয় সঞ্চালন ব্যবস্থায় গুরুতর ক্ষতি সত্ত্বেও এনইএর কর্মী ও কারিগররা বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রেখেছিলেন।
রাসুয়া ও নুয়াকোটে ২৬ আগস্টের বন্যায় নিখোঁজ হওয়া এনইএ কর্মীদের ছয় পরিবার ত্রাণ পেয়েছে। প্রতিটি পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ৫০০,০০০ নেপালি রুপি দেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মীর পদের প্রারম্ভিক মূল বেতনের অর্ধেক করে ছয় মাস দেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে এনইএ বোর্ড।
বড় নদীগুলোর বন্যার পূর্বাভাসের সময়সীমা তিন দিন থেকে বাড়িয়ে পাঁচ দিন করেছে মন্ত্রণালয়। ছোট নদীগুলোর আকস্মিক বন্যার পূর্বাভাসের সময়সীমা ২৪ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ ঘণ্টা করা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রভাবের বর্ণনাসহ পূর্বাভাস ১৫টি স্থানীয় সরকার এলাকায় দেওয়া হচ্ছে এবং আরও ১৬টিতে পরীক্ষা চলছে। অবকাঠামো পুনরুদ্ধার এবং বিদ্যুৎ ও সেচসেবায় বিঘ্ন কমানোর উদ্যোগের সঙ্গে এসব ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে।
মূল বিষয়গুলো
- ১১টি কোম্পানি আগ্রহপত্রের আবেদন করেছে। দশাইয়ের আগে প্রাথমিক নথি দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
- পূর্ণাঙ্গ বেসরকারি বাণিজ্যিক লাইসেন্সের জন্য আইনি সংশোধন ও বিধিব্যবস্থা প্রয়োজন; রপ্তানির জন্য ভারতের স্বীকৃতি ও ছাড়পত্রও লাগবে।
- নতুন পিপিএর মানদণ্ডে প্রকল্পের প্রস্তুতি, সঞ্চালন সুবিধা এবং প্রয়োজনের সময়ে নির্ভরযোগ্য সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
- বিস্তারিত সংস্কার বিবরণে সময়সীমা বাড়ানো ২৭টি প্রকল্পের সক্ষমতা ৫৪০.৪৭ মেগাওয়াট বলা হয়েছে।
- ভারতের সঙ্গে সম্মত সঞ্চালন সক্ষমতা বাড়লে আমদানি ১,৪০০ মেগাওয়াট এবং রপ্তানি ১,৬৫০ মেগাওয়াটে পৌঁছাবে।
- ২০২৬/২৭ অর্থবছরে স্বল্পমেয়াদি গ্রিড ব্যবহারের চার্জ প্রতি ইউনিট ০.৫৭ নেপালি রুপি এবং মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের চার্জ প্রতি মেগাওয়াটে মাসে ৪১৩,০০০ রুপি।
- নীতিকে বিদ্যুৎ বিক্রিতে রূপ দিতে সঞ্চালন নির্মাণ, সঞ্চয়ব্যবস্থার বিধি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর নির্মাণ শেষ করা জরুরি পরবর্তী পদক্ষেপ।






