শাওমির সর্বোচ্চ পেশাগত পদমর্যাদায় উঠতে ১০ মাস
ডিপসিকের সাবেক গবেষক এবং শাওমির মিমো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দলের প্রধান লুও ফুলি যোগ দেওয়ার মাত্র ১০ মাসের মধ্যে কোম্পানির পেশাগত পদমর্যাদা ব্যবস্থার সর্বোচ্চ স্তর ২২-এ পৌঁছেছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। ২২ সেপ্টেম্বরের এক অভ্যন্তরীণ ঘোষণায় তাঁর পদোন্নতির কথা জানানো হয়। এতে ৩১ বছর বয়সী এই গবেষক শাওমির ক্যারিয়ার কাঠামোর সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছান; একই সময়ে কোম্পানিটি তাদের এআই পণ্যের পেছনে থাকা মডেলগুলোতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
সূচিপত্র
২০২৫ সালের নভেম্বরে শাওমিতে যোগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করেন লুও। এরপর তাঁর দায়িত্ব শুধু নতুন পদবি পাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি: তাঁর দল শাওমির ভার্চ্যুয়াল সহকারী শিয়াওআইয়ে ব্যবহৃত মূল মডেলগুলোর দায়িত্ব পেয়েছে এবং কোম্পানির প্রথম মিমো সংস্করণের চেয়ে অনেক বড় পরিসরের প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
শাওমির ব্যবসায়িক পরিসর এসব সিদ্ধান্তকে বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্র দিয়েছে। কোম্পানিটি স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও অন্যান্য সংযুক্ত ডিভাইস বিক্রি করে। তাদের এআই গবেষকেরা এই পুরো পরিসরের পণ্যে কাজে লাগতে পারে এমন প্রযুক্তি তৈরি করছেন; অন্যদিকে পৃথক দলগুলো কম্পিউটিং অবকাঠামো এবং ডিভাইসে এআই যুক্ত করার কাজ সামলাচ্ছে।
এই পদোন্নতি নিয়োগের সময়কার একটি অযাচাইকৃত বেতন প্রস্তাবের দিকেও নতুন করে মনোযোগ এনেছে। খবর অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী লেই জুন ২০২৪ সালের শেষ দিকে লুওকে নিয়োগ দিতে বছরে ১০ মিলিয়ন ইউয়ান বেতনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন; আরেকটি বিবরণে প্রস্তাবিত বেতনকে বলা হয়েছিল "কয়েক কোটি" ইউয়ান। শাওমি বা লুও কেউই এই প্রস্তাব নিশ্চিত করেননি, আর পদোন্নতির ঘোষণায় নতুন কোনো পারিশ্রমিকের অঙ্কও জানানো হয়নি।
লুওর বর্তমান দায়িত্ব
মিমো হলো শাওমির বৃহৎ ভাষা মডেলগুলোর পরিবার। এগুলো এমন সফটওয়্যার ব্যবস্থা, যেগুলোকে লেখা বুঝতে ও তৈরি করতে, সমস্যা নিয়ে যুক্তি করতে এবং জটিল কাজ সম্পন্ন করতে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। লুও এসব মডেল তৈরির গবেষক দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এই মডেলগুলো এমন মৌলিক সক্ষমতা জোগায়, যা অন্য দলগুলো বিভিন্ন সেবায় যুক্ত করতে পারে।
জুলাইয়ে শিয়াওআইয়ের পুনর্গঠনের ফলে লুওর দলের দায়িত্ব বেড়েছে। নতুন ব্যবস্থায় মৌলিক এআই মডেল তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে তাঁর দল। অন্য দলগুলো ক্লাউড অবকাঠামো এবং ফোন, গাড়ি ও অন্যান্য ডিভাইসে এআই যুক্ত করার দায়িত্বে রয়েছে।
এই বিভাগবিন্যাসে পরস্পর-সম্পর্কিত তিনটি কাজ আলাদা করা হয়েছে। গবেষকেরা মডেল তৈরি ও উন্নত করেন। অবকাঠামো দলগুলো সেটি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং ব্যবস্থা সরবরাহ করে। পণ্য দলগুলো গ্রাহকের ব্যবহারের উপযোগী ফিচারের সঙ্গে মডেলকে যুক্ত করে। উন্নত মডেল পণ্যের যুক্তি করার বা ভাষা ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়াতে পারে, তবে ব্যবহারকারীর চূড়ান্ত অভিজ্ঞতা অন্য দুই কাজের ওপরও নির্ভর করে।
শাওমিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে উইচ্যাটে দেওয়া এক পোস্টে লুও আরও বড় পরিসরের লক্ষ্য তুলে ধরেন। শাওমির মিমো দলে যোগ দিতে যাওয়া এই গবেষক লিখেছিলেন:
বুদ্ধিমত্তা ভাষার গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব জগতে প্রবেশ করবে।
ফোন ও গাড়ি শাওমিকে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের ক্ষেত্র দিচ্ছে। লুওর প্রকাশ্য বক্তব্যে গবেষণার একটি দিকনির্দেশনা উঠে এসেছিল, আর সাংগঠনিক পরিবর্তনের ফলে তাঁর দলকে এর প্রযুক্তিগত ভিত্তি জোগানোর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ছোট মডেল থেকে অনেক বড় পরিকল্পনা
শাওমি ২০২৫ সালের এপ্রিলে প্রথম মিমো মডেল প্রকাশ করে। মিমো-৭বি নামের মডেলটিতে ছিল ৭ বিলিয়ন প্যারামিটার। প্রশিক্ষণের সময় সমন্বয় করা এই সংখ্যাগত মানগুলো কোনো মডেল কীভাবে তথ্য প্রক্রিয়া করে এবং উত্তর তৈরি করে, তা নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
শাওমির কোর এআই টাস্কফোর্সের অধীনে রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিং পদ্ধতিতে মডেলটি তৈরি করা হয়। এই ধরনের প্রশিক্ষণে কোনো ব্যবস্থা সফল উত্তরের জন্য পুরস্কারস্বরূপ প্রতিক্রিয়া পায়, যা সমস্যা সমাধানের মতো কাজে তার দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে।
শাওমির দাবি, প্যারামিটার কম থাকা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট কিছু বেঞ্চমার্ক পরীক্ষায় মিমো-৭বি ওপেনএআইয়ের জিপিটি-৪ও এবং আলিবাবা ক্লাউডের কিউকিউ-৩২বি-কে ছাড়িয়ে গিয়েছিল। বেঞ্চমার্ক হলো ব্যবস্থাগুলোর তুলনা করতে ব্যবহৃত মানসম্মত পরীক্ষা। গাণিতিক যুক্তি বা কোডিংয়ের মতো নির্দিষ্ট দক্ষতা মাপার সুযোগ এগুলো গবেষকদের দেয়।
পরে লুও ও তাঁর দল একই সময়ে অনেক বড় দুটি মডেল প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়: একটিতে কয়েক শ বিলিয়ন এবং অন্যটিতে ১ ট্রিলিয়ন প্যারামিটার। দলের উন্নয়নসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের খবর অনুযায়ী, এই প্রকল্প দুটি মিমো-ভি২-ফ্ল্যাশ ও মিমো-ভি২-প্রো নামে পরিচিত হয়।
১ ট্রিলিয়ন প্যারামিটার মূল মিমো মডেলের ৭ বিলিয়ন প্যারামিটারের প্রায় ১৪৩ গুণ। প্যারামিটারের সংখ্যা মডেলের আকার বোঝায়; তবে প্রশিক্ষণপদ্ধতি, তথ্য-উপাত্ত ও নকশাও এর সক্ষমতায় প্রভাব ফেলে। শাওমির জন্য এই পদক্ষেপ ছিল গবেষকেরা যে ব্যবস্থা তৈরি করতে চাইছিলেন, তার আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর উদ্যোগ।
গবেষণার পেছনে কম্পিউটিংয়ের ব্যয়
খবর অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে লুওর দল রিইনফোর্সমেন্ট লার্নিংয়ের মাধ্যমে প্রশিক্ষণাধীন দুটি মডেলের একটি ড্যাশবোর্ড সরাসরি সম্প্রচার করে। সেখানে দুই মডেলের সম্মিলিত ব্যয়ের হার দেখানো হয়েছিল ঘণ্টায় ৩০ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার। ওই হারে টানা ২৪ ঘণ্টা চালালে খরচ হতো ৭ লাখ ৩৯ হাজার ২০০ মার্কিন ডলার।
ড্যাশবোর্ডের অঙ্কটি ওই প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ব্যয়ের হার নির্দেশ করে। মোট বিল নির্ভর করবে ব্যবস্থাগুলো কতক্ষণ চালানো হয়েছে এবং কাজের সময় ব্যয় কীভাবে বদলেছে তার ওপর। মোট খরচ হিসাবের জন্য প্রয়োজনীয় সময়কাল জানানো হয়নি।
লুও প্রকাশ্যে শাওমিতে যোগ দেওয়ার কথা নিশ্চিত করার আগেই মিমোর সম্প্রসারণ শুরু হয়েছিল। খবর অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দলে ২০ জনেরও কম সদস্য ছিলেন, আর মে বা জুন নাগাদ তা বেড়ে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ জনে দাঁড়ায়। ফলে নভেম্বরে লুওর ঘোষণার আগেই শাওমির গবেষণা কার্যক্রম চালু ছিল এবং একটি মডেলও প্রকাশিত হয়েছিল।
খবর অনুযায়ী, লেই প্রায় প্রতি দুই সপ্তাহে মিমোর অগ্রগতির খবর পেতেন এবং সাধারণত কারিগরি সিদ্ধান্তগুলো লুও ও গবেষকদের ওপর ছেড়ে দিতেন। এতে দলটি কীভাবে বড় মডেল তৈরি করবে সে বিষয়ে উল্লেখযোগ্য স্বাধীনতা পায়, যার মধ্যে একই সময়ে দুটি উচ্চাকাঙ্ক্ষী ব্যবস্থা প্রশিক্ষণের সিদ্ধান্তও ছিল।
বড় মডেল, উল্লেখযোগ্য কম্পিউটিং ব্যয় এবং প্রধান নির্বাহীর কাছে সরাসরি পৌঁছানোর সুযোগ—এই সবকিছুর সমন্বয় ব্যাখ্যা করে কেন পদমর্যাদার সংখ্যার বাইরেও লুওর অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দলের সিদ্ধান্তগুলো শাওমি কীভাবে গবেষণার সম্পদ বরাদ্দ করবে এবং ভবিষ্যতে পণ্য দলগুলো কোন সক্ষমতা পেতে পারে, তা প্রভাবিত করে।
শাওমিতে পৌঁছানোর আগে লুওর পথচলা
লুওর কর্মজীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিষয়ক গবেষণা, একটি বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের গবেষণাগার এবং ডিপসিকের পেছনে থাকা বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতা যুক্ত হয়েছে। ১৯৯৫ সালে সিচুয়ান প্রদেশের এক গ্রামীণ পরিবারে জন্ম নেওয়া লুও বেইজিং নরমাল ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়েন। পরে পেকিং ইউনিভার্সিটি থেকে কম্পিউটেশনাল লিঙ্গুইস্টিকসে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
কম্পিউটেশনাল লিঙ্গুইস্টিকসে কম্পিউটিং ব্যবহার করে মানুষের ভাষা অধ্যয়ন ও প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। প্রশ্ন বুঝতে, লেখা অনুবাদ করতে এবং লিখিত উত্তর তৈরি করতে পারে এমন ব্যবস্থার পেছনের কাজের সঙ্গে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
গবেষণা ও শিল্পক্ষেত্রে তাঁর পথচলায় রয়েছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তারিখ:
- ২০১৯: অ্যাসোসিয়েশন ফর কম্পিউটেশনাল লিঙ্গুইস্টিকসের বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থাপিত আটটি গবেষণাপত্রে অবদান রাখেন লুও।
- স্নাতক শেষ করার পর: আলিবাবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিএএমও একাডেমিতে যোগ দেন।
- ২০২২: হাই-ফ্লায়ার কোয়ান্টে যোগ দেন। এই বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতারাই ডিপসিকও প্রতিষ্ঠা করেন।
- মে ২০২৪: ডিপসিক-ভি২ প্রকাশ করে ডিপসিক; অবদানকারীদের মধ্যে ছিলেন লুও।
- এপ্রিল ২০২৫: লুওর শাওমিতে যাওয়ার কথা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করার আগেই মিমো-৭বি প্রকাশ করে শাওমি।
- নভেম্বর ২০২৫: শাওমির মিমো দলে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন লুও।
- ২২ সেপ্টেম্বর: যোগ দেওয়ার প্রায় ১০ মাস পর অভ্যন্তরীণভাবে তাঁর পদোন্নতির ঘোষণা দেয় শাওমি বলে খবর পাওয়া গেছে।
ডিপসিকে লুও ডিপসিক-ভি২ এবং তাঁর পরবর্তী কর্মজীবন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডিপসিক-ভি৩ নিয়ে কাজ করেছেন। প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ বিলিয়ন প্যারামিটারের মডেল নিয়ে তাঁর অভিজ্ঞতা শাওমির আরও বড় ব্যবস্থা তৈরির প্রচেষ্টায় কাজে এসেছে।
২০২৪ সালে ওপেন সোর্স মডেল হিসেবে প্রকাশিত ডিপসিক-ভি২ চীনা প্রতিষ্ঠানটিকে শীর্ষস্থানীয় মার্কিন এআই নির্মাতাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে সহায়তা করে। ওপেন সোর্স সংস্করণে প্রযোজ্য লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী, নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের বাইরের মানুষও মডেলের উপকরণে প্রবেশাধিকার পান এবং সেগুলো নিয়ে কাজ করতে পারেন।
নিয়োগ নিয়ে কেন এত আলোচনা
২০২৪ সালের শেষ দিকে লুওকে নিয়োগের জন্য লেইয়ের প্রস্তাবের খবর তাঁর কর্মজীবন নিয়ে জনমনে আগ্রহের কেন্দ্রে বড় অঙ্কের বেতনের বিষয়টি নিয়ে আসে। বছরে ১০ মিলিয়ন ইউয়ান বেতন হলে করের আগে মাসে প্রায় ৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩ ইউয়ান হতো, যদি খবরের ওই অঙ্কটি বাস্তব কোনো চুক্তির সঙ্গে মিলে থাকে।
এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বরে মিমোতে যোগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে লুওর প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকটি আসে। নিয়োগ নিয়ে খবর প্রকাশ এবং তাঁর ঘোষণার মধ্যবর্তী সময়ে পরবর্তী কর্মস্থল কোথায় হবে, তা নিয়ে কয়েক মাস জল্পনা চলেছিল।
লুওর যোগ দেওয়ার ঘোষণার দিন, বুধবার লেনদেন শেষে শাওমির শেয়ারের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে ৪৩.৭০ হংকং ডলারে দাঁড়ায়। নিয়োগের ফলে কোম্পানির বিদ্যমান মিমো দলের পাশাপাশি ডিপসিকে সরাসরি মডেল তৈরির অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন পরিচিত গবেষক যুক্ত হন।
প্রতিবেদিত বেতন এবং পরবর্তী পদোন্নতি এই ঘটনার ভিন্ন দুটি দিক। বেতনের অঙ্কটি অযাচাইকৃত নিয়োগ প্রস্তাবের কথা বলে। লেভেল ২২ শাওমির পেশাগত পদমর্যাদা ব্যবস্থায় তাঁর অবস্থান বোঝায়। আর তাঁর বাড়তি দায়িত্বের প্রতিফলন দেখা যায়, মৌলিক মডেল তৈরির দায়িত্ব তাঁর দলকে দেওয়া এবং তাদের বড় মডেল তৈরির প্রচেষ্টায়।
শাওমির জন্য লুওকে নিয়োগ করার অর্থ ছিল এমন সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা পাওয়া, যেগুলো বড় প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর বদলানো ব্যয়বহুল। মডেলের নকশা, প্রশিক্ষণপদ্ধতি এবং কম্পিউটিং সম্পদের বণ্টন—সবই গবেষণা কার্যক্রমের অগ্রগতিকে প্রভাবিত করে।
প্রকাশ্য পরিচিতির আড়ালে অধ্যবসায়
লুও তাঁকে "এআই প্রতিভাবান তরুণী" হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়টি বারবার প্রত্যাখ্যান করেছেন। পেকিং ইউনিভার্সিটিতে প্রকাশিত এক পরিচিতিমূলক প্রতিবেদনে তিনি নিজের অগ্রগতির জন্য কৌতূহল, বাস্তবায়নক্ষমতা ও অধ্যবসায়কে কৃতিত্ব দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই প্রতিবেদনে নিজের সাফল্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লুও বলেন:
আমি কোনো প্রতিভা নই।
এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সাহায্য করেছে বলে তাঁর বিশ্বাস, এমন গুণগুলোর কথাও তিনি বলেন:
মৌলিক সমস্যার প্রতি কৌতূহল, দৃঢ় বাস্তবায়নক্ষমতা আর সামান্য একগুঁয়ে অধ্যবসায়—এসবই আমাকে এখানে এনেছে।
লুও স্মরণ করেন, পড়াশোনার শুরুর দিকে কম্পিউটার ব্যবহারের পূর্ব অভিজ্ঞতা কম থাকায় কম্পিউটিংয়ে তাঁকে হিমশিম খেতে হয়েছিল। সহপাঠীরা যে সমস্যা তিন মিনিটে সমাধান করতেন, তা করতে তাঁর তিন ঘণ্টা লাগতে পারত—একটি অনুশীলনে ব্যয় করা সময়ের হিসাবে ৬০ গুণ পার্থক্য।
দুই বছরের মধ্যে নিয়মিত পরিশ্রমের ফলে তিনি ক্লাসের সেরা শিক্ষার্থীদের একজন হয়ে ওঠেন। ২০১৯ সালে ভাষাবিষয়ক গবেষণার এক বড় সম্মেলনে উপস্থাপিত আটটি গবেষণাপত্রে তাঁর অবদান পরে তাঁকে আরও পরিচিতি এনে দেয়।
তাঁর এই বিবরণে শাওমিতে দ্রুত পদোন্নতির পাশাপাশি শেখার দীর্ঘ সময়ের কথাও উঠে আসে। ১০ মাস বলতে একটি প্রতিষ্ঠানের পদমর্যাদা ব্যবস্থায় তাঁর দ্রুত এগিয়ে যাওয়াকে বোঝায়; এর পেছনের গবেষণার অভিজ্ঞতা গড়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা, আলিবাবা, হাই-ফ্লায়ার ও ডিপসিকের মধ্য দিয়ে।
দ্রুত পদোন্নতি, দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য
কর্মজীবন নিয়ে লুওর প্রকাশ্য বক্তব্যে দ্রুতগতির বদলে ধারাবাহিক অগ্রাধিকারের কথা উঠে আসে। চীনা ভিডিও নির্মাতা লিয়াং জির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে নিজের অগ্রগতির ধরন বোঝাতে তিনি একটি সাধারণ তুলনা ব্যবহার করেন।
কর্মজীবনে এগিয়ে যাওয়ার পদ্ধতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে লুও বলেন:
আমি এমন এক শামুক, যে সবচেয়ে দ্রুত এগোনোর চেষ্টা করে না, তবে আমার প্রতিটি পদক্ষেপ স্পষ্টভাবে দেখা যায়।
লুওর স্বামীও প্রযুক্তি খাতে কাজ করেন। তিনি বলেছেন, সুখী পারিবারিক জীবন বজায় রাখার পাশাপাশি পেশাগতভাবে এগিয়ে যেতে চান। ক্রমেই উচ্চাকাঙ্ক্ষী হয়ে ওঠা গবেষণার দায়িত্বের পাশাপাশি রয়েছে তাঁর এই ব্যক্তিগত লক্ষ্যগুলো।
শাওমির গ্রাহকদের জন্য এই গবেষণাকে পণ্যে যুক্ত করাই মূল কাজ। লুওর দল ভিত্তিগত মডেল তৈরি করে; অন্য দলগুলোকে সেগুলো নির্ভরযোগ্যভাবে চালাতে এবং ফোন, গাড়ি ও সংযুক্ত ডিভাইসে সেগুলোর সক্ষমতা যুক্ত করতে হয়। এই উদ্যোগে লুওর অবস্থান তাঁর পদোন্নতিতে স্বীকৃতি পেয়েছে, তবে সামগ্রিক কর্মসূচির জন্য পৃথক দায়িত্বগুলোর মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন।
মিমোর উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে থাকবে বড় মডেলগুলো এবং সেগুলোর চারপাশে তৈরি ব্যবস্থা। শাওমির প্রাথমিক মিমো সংস্করণ, শিয়াওআইয়ের পুনর্গঠন এবং প্রশিক্ষণে ব্যয়ের খবর দেখায়, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে কোম্পানিটি কত দ্রুত এই উদ্যোগ সম্প্রসারণ করেছে।
মূল বিষয়গুলো
- খবর অনুযায়ী, যোগ দেওয়ার প্রায় ১০ মাসের মধ্যে লুও ফুলি শাওমির সর্বোচ্চ পেশাগত পদমর্যাদা, লেভেল ২২-এ পৌঁছেছেন।
- ২২ সেপ্টেম্বর অভ্যন্তরীণভাবে তাঁর পদোন্নতির ঘোষণা দেওয়া হয়।
- তিনি মিমোর নেতৃত্ব দিচ্ছেন, আর তাঁর দল শিয়াওআইয়ের ভিত্তিগত মডেল তৈরির দায়িত্ব পেয়েছে।
- শাওমি ২০২৫ সালের এপ্রিলে মিমো-৭বি প্রকাশ করে; পরবর্তী প্রকল্পগুলোতে কয়েক শ বিলিয়ন এবং ১ ট্রিলিয়ন প্যারামিটারের মডেল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়।
- খবর অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রশিক্ষণের একটি ড্যাশবোর্ডে দুটি মডেলের সম্মিলিত ব্যয় ঘণ্টায় ৩০ হাজার ৮০০ মার্কিন ডলার দেখানো হয়েছিল।
- নিয়োগের সময়কার প্রতিবেদিত বেতন শাওমি বা লুও কেউই নিশ্চিত করেননি।
- কর্মজীবনের অগ্রগতির জন্য অধ্যবসায়, কৌতূহল ও দীর্ঘদিনের পরিশ্রমকে কৃতিত্ব দেন লুও।






