রটারডামে ১৪.৯৬৬ স্কোরের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স
নেদারল্যান্ডসের রটারডামে পুরুষদের হরাইজন্টাল বার ফাইনালে ১৪.৯৬৬ স্কোর করে বিশ্ব আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে তাইওয়ানের প্রথম স্বর্ণপদক জিতেছেন তাং চিয়া-হুং। আট ফাইনালিস্টের মধ্যে সর্বোচ্চ ৬.৬০০ ডিফিকাল্টি স্কোরের সঙ্গে তার রুটিনে ছিল ৮.৩৬৬ এক্সিকিউশন স্কোর। অবতরণের সময় সামনে দুইবার লাফ দিতে হলেও জয়ের জন্য এই স্কোর যথেষ্ট ছিল।
সূচিপত্র
- রটারডামে ১৪.৯৬৬ স্কোরের ঐতিহাসিক পারফরম্যান্স
- যেভাবে গড়ে উঠল জয়ী স্কোর
- পরিচিত রুটিন, তবে শেষের ভুলে খেসারত
- এশিয়ান গেমসের পতন থেকে নতুন মানসিকতা
- অল-অ্যারাউন্ড কীভাবে তাকে শান্ত থাকতে সাহায্য করেছে
- দুই বড় প্রতিযোগিতার মাঝে অল্প সময়ের বিরতি
- যে সমর্থনকে তাং বলেছেন অদৃশ্য কোচ
- প্রথম সোনা থেকে ১৬-এর বেশি স্কোরের লক্ষ্য
- মূল বিষয়গুলো
৫৪তম চ্যাম্পিয়নশিপে এই জয়ের মধ্য দিয়ে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ালেন তাং। এর প্রায় এক মাস আগে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে বার থেকে পড়ে গিয়ে পঞ্চম হয়েছিলেন তিনি। দুই প্রতিযোগিতার মাঝের সময়ে কোচ হুয়াং পো-জুই এবং এক মনোবিজ্ঞানীর সঙ্গে কাজ করে চাপ সামলানোর আরও কার্যকর পদ্ধতি তৈরি করেন তাং: ফাইনালকে অনুশীলনের মতো বিবেচনা করা এবং প্রতিযোগিতার গুরুত্ব যেন তাকে অভিভূত না করে, তা নিশ্চিত করা।
এর আগে চ্যাম্পিয়নশিপে তাইওয়ান দুটি রৌপ্য ও একটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছিল। তাংয়ের সোনা সেই অর্জনের ইতিহাসে নতুন সংযোজন। এর আগে ১৯৯৩ সালে চাং ফেং-চিহ ভল্টে রৌপ্য এবং ২০১৮ সালে লি চিহ-কাই পোমেল হর্সে ব্রোঞ্জ ও ২০১৯ সালে রৌপ্য জিতেছিলেন।
তাংয়ের জন্য এই ফল কয়েক সপ্তাহের ভ্রমণ, অনুশীলন ও প্রতিযোগিতার পর ব্যক্তিগত স্বীকৃতিও বয়ে এনেছে। পদক বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রতিনিধি দলের পতাকা উত্তোলন এবং জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। তার ঘোষিত পরবর্তী লক্ষ্য ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা করা এবং একসময় হরাইজন্টাল বারে নিজের স্কোর ১৬ পয়েন্টের ওপরে নেওয়া।
যেভাবে গড়ে উঠল জয়ী স্কোর
১৪.৫৬৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে ফাইনালে উঠেছিলেন তাং। বাছাইপর্বের ওই রুটিনে ডিফিকাল্টির জন্য ৬.০০০ এবং এক্সিকিউশনে ৮.৫৬৬ পয়েন্ট পান তিনি। ফাইনালে ডিফিকাল্টি ০.৬০০ পয়েন্ট বাড়লেও এক্সিকিউশন স্কোর কমে ০.২০০। সব মিলিয়ে তার স্কোরের নিট উন্নতি হয় ০.৪০০ পয়েন্ট।
জিমন্যাস্টিকসে স্কোর নির্ধারণে রুটিনের কঠিনত্ব এবং জিমন্যাস্ট কতটা নিখুঁতভাবে তা সম্পন্ন করেছেন, দুই বিষয়ই বিবেচনা করা হয়। ডিফিকাল্টি স্কোরে সম্পন্ন করা দক্ষতা ও সমন্বয়ের প্রতিফলন থাকে। এক্সিকিউশন স্কোরে সেগুলোর মান বিবেচিত হয়; শরীরের অবস্থান ঠিক না থাকা বা অবতরণের সময় নড়াচড়ার মতো ভুলের জন্য পয়েন্ট কাটা হয়। তাংয়ের ফাইনালের দুই স্কোর যোগ হয়ে তার জয়ী ১৪.৯৬৬ হয়।
সংখ্যাগুলো ব্যাখ্যা করে, অবতরণের সময় একেবারে স্থির না থেকেও কীভাবে তাং জিততে পেরেছেন। কঠিনতর রুটিন তাকে বেশি স্কোরের সুযোগ দিয়েছে, আর সেটির বেশির ভাগ সুবিধা ধরে রাখার মতো ভালো পারফরম্যান্সও করেছেন তিনি। হুয়াং বলেন, বারে তার পারফরম্যান্স প্রায় নিখুঁত ছিল, যদিও ডিসমাউন্টে কিছু পয়েন্ট হারিয়েছেন।
পরিচিত রুটিন, তবে শেষের ভুলে খেসারত
হুয়াং বলেন, রটারডামে তাং সেই একই রুটিন করেন, যা এশিয়ান গেমসের ফাইনালে করার চেষ্টা করেছিলেন। রুটিনটি তার আগে থেকেই ভালোভাবে জানা ছিল এবং বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠার পরও সেটির অনুশীলন চালিয়ে যান তিনি। বিশেষ কোনো পরিবর্তন না এনে দলটি স্বাভাবিক অনুশীলন সূচি বজায় রেখেছিল।
বার ছাড়ার সময়ই তাংয়ের প্রধান ভুলটি হয়। হুয়াংয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি একটু আগেভাগে ধাক্কা দিয়ে বার ছেড়ে দেন। ফলে সামনের দিকে উড়ে যান এবং অবতরণের পর দুইবার লাফ দিতে হয়। এতে উন্নতির জন্য রুটিনের একটি নির্দিষ্ট দিক চিহ্নিত হয়েছে: ডিসমাউন্টের আগে বার ছাড়ার সময় ঠিক করা।
ফাইনালের আগে নিজের উদ্বেগ এবং ঘুমাতে অসুবিধার কথাও জানান হুয়াং। শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী এবং চ্যাম্পিয়নশিপের ব্যাপ্তির কারণে সব রুটিন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফল অনিশ্চিত ছিল। তাংকে তার বার্তা ছিল, শান্ত থেকে প্রস্তুত করা দক্ষতাগুলো সম্পন্ন করা।
ফাইনালের চূড়ান্ত ফলের অপেক্ষায় থাকাকালেও ডিসমাউন্টের কথা ভাবছিলেন তাং। সোনা জয়ের ঘোষণা ভুল থেকে তার মনোযোগ সরিয়ে অর্জনের দিকে নিয়ে যায়। তার কথায়, এতে এশিয়ান গেমসের হতাশা কিছুটা পুষিয়ে গেছে।
এশিয়ান গেমসের পতন থেকে নতুন মানসিকতা
আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে হরাইজন্টাল বারে স্বর্ণপদকের প্রত্যাশা নিয়ে অংশ নিয়েছিলেন তাং। ফাইনালে পড়ে যাওয়ায় পদকের বাইরে পঞ্চম হন তিনি। বড় প্রতিযোগিতার চাপ কতটা ভালোভাবে সামলাতে পারেন, তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন তিনি।
এশিয়ান গেমসের পর তাইওয়ানের নতুন হরাইজন্টাল বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন তাং সেই উদ্বেগের কথা বলেছিলেন:
বড় প্রতিযোগিতায় চাপ সামলাতে আমার সমস্যা হয় বলে মনে হচ্ছে।
এরপর হুয়াং ও এক মনোবিজ্ঞানীর সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। একসঙ্গে তারা তার অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করেন এবং মানসিক অবস্থা সামলানোর জন্য একটি নির্দিষ্ট কার্যপদ্ধতি, অর্থাৎ এসওপি, তৈরি করেন। এখানে এই শব্দের অর্থ, প্রতিযোগিতার আগে বারবার অনুসরণ করা যায় এমন একটি মানসিক পদ্ধতি।
রটারডামে কীভাবে সেই পদ্ধতি কাজে লাগিয়েছেন, তা ব্যাখ্যা করেন তাং:
আমি নিজেকে শুধু বলেছিলাম, ফাইনালটাকে অনুশীলনের মতো ভাবতে, এটা নিয়ে বেশি আনুষ্ঠানিকতা না করতে এবং স্বচ্ছন্দ ও নির্ভার মনে প্রতিযোগিতায় নামতে। এতে মনের অবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়েছিল, আর চেষ্টা করার জন্য আরও স্থিরতা পেয়েছিলাম।
এই পরিবর্তনের লক্ষ্য ছিল প্রতিযোগিতাটি তাং কীভাবে অনুভব করছেন, তা বদলানো। কঠিন রুটিন করার চেষ্টা ঠিকই করেছেন, তবে মুহূর্তটিকে ব্যতিক্রমী না ভেবে পরিচিত করে তোলার চেষ্টা করেছেন। জয়ের পর তিনি বলেন, পদ্ধতিটি কার্যকর বলে মনে হয়েছে এবং পরবর্তী বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জনের চেষ্টা নিয়ে তাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে।
অল-অ্যারাউন্ড কীভাবে তাকে শান্ত থাকতে সাহায্য করেছে
চ্যাম্পিয়নশিপের অল-অ্যারাউন্ড প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতাও কাজে লাগিয়েছেন তাং। পুরুষদের আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকসে অল-অ্যারাউন্ডে ছয়টি অ্যাপারেটাসে পারফরম্যান্স মিলিয়ে দেখা হয়। হরাইজন্টাল বার সেই বৃহত্তর প্রতিযোগিতার একটি অংশ।
অ্যাপারেটাস ফাইনালে অংশ নেওয়া কোনো বিশেষজ্ঞের কাছে একটি রুটিনই প্রতিযোগিতার পুরো উদ্দেশ্য বলে মনে হতে পারে। তাং ইচ্ছা করেই হরাইজন্টাল বারের পারফরম্যান্সকে একাধিক ইভেন্টে অংশ নেওয়ার বৃহত্তর অভিজ্ঞতার মধ্যে রেখেছিলেন।
ফাইনালের আগে নিজেকে কী বলেছিলেন, তা জানান তাং:
আমি নিজেকে এটাও বলেছিলাম যে, এটাকে অল-অ্যারাউন্ডের একটি ইভেন্ট হিসেবে দেখতে, আর বাড়তি অনেক কিছু নিয়ে ভাবতে নেই।
তার দুটি মানসিক নির্দেশনা একে অপরের সঙ্গে মিলে কাজ করেছে: ফাইনালকে অনুশীলনের মতো ভাবা এবং হরাইজন্টাল বারকে কয়েকটি পরিচিত কাজের মধ্যে একটি হিসেবে দেখা। দুটিই তার মনোযোগ পরিচিত রুটিনটি সম্পন্ন করার দিকে রেখেছে।
দুই বড় প্রতিযোগিতার মাঝে অল্প সময়ের বিরতি
এশিয়ান গেমসের পর তাইওয়ানের জিমন্যাস্টরা এক সপ্তাহেরও কম সময় দেশে ছিলেন। এরপর ২০২৬ সালের ২ অক্টোবর নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে রওনা হন তারা। চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য রটারডামে যাওয়ার আগে স্থানীয় একটি ক্লাবে এক সপ্তাহ অনুশীলন করেন। জয়ের সময় পর্যন্ত সফরটি তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলেছিল।
তাং বলেন, একটানা প্রস্তুতি ও চাপ তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত করে তুলেছিল। এশিয়ান গেমসে পড়ে যাওয়ার পর আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করলেও নেদারল্যান্ডসে অনুশীলনের প্রথম সপ্তাহ তার ভালো লাগেনি।
ঘুরে দাঁড়ানোর প্রধান ধাপগুলো ছিল:
- আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে হরাইজন্টাল বার ফাইনালে পড়ে পঞ্চম হন তাং।
- এক সপ্তাহেরও কম সময়ের জন্য তাইওয়ানে ফিরে ২ অক্টোবর দলটি নেদারল্যান্ডসের উদ্দেশে রওনা হয়।
- প্রস্তুতির সময় হুয়াং ও এক মনোবিজ্ঞানীর সঙ্গে চাপ সামলানোর পদ্ধতি পর্যালোচনা করেন তাং।
- বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের বাছাইপর্বে ১৪.৫৬৬ স্কোর করে দ্বিতীয় স্থানে থেকে ফাইনালে ওঠেন তিনি।
- ফাইনালে ডিফিকাল্টি বাড়িয়ে ৬.৬০০ করেন এবং ১৪.৯৬৬ স্কোরে সোনা জেতেন।
হুয়াং বলেন, এশিয়ান গেমস থেকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত জিমন্যাস্টরা যথেষ্ট মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন। তাইওয়ানে ফিরে দীর্ঘ বিরতি নেওয়াই ছিল তাৎক্ষণিক পরিকল্পনা, যাতে পরবর্তী অনুশীলন চক্রের আগে দল বিশ্রাম নিতে পারে।
যে সমর্থনকে তাং বলেছেন অদৃশ্য কোচ
ফাইনালের আগের দিন রটারডামে পৌঁছে প্রতিযোগিতা দেখতে যান তাংয়ের স্ত্রী সেং জো-ইউ। তাং বলেন, বিদেশে অনুশীলনের সময় জমে ওঠা ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে তার স্ত্রীর উপস্থিতি সহায়ক হয়েছিল।
জটিল কোনো প্রস্তুতি নয়, বরং একসঙ্গে কাটানো সাধারণ সময়ের মধ্যেই এই উপকার এসেছে বলে জানান তাং:
অনুশীলন শিবিরে শারীরিক ও মানসিকভাবে আমি বেশ ক্লান্ত ছিলাম। নিজেকে খুব ভালো অবস্থায় মনে হচ্ছিল না। আমার স্ত্রী আসার পর তার সঙ্গে একবেলা খাওয়া আর গল্প করেই শরীর ও মন সতেজ হয়ে উঠেছিল, মনে হয়েছিল যেন আবার প্রাণ ফিরে পেয়েছি।
সেংকে তাং "অদৃশ্য কোচ" বলে বর্ণনা করেছেন, কারণ তিনি তাংয়ের অবস্থা বোঝেন। প্রতিযোগিতায় তাং অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে পড়লে বা নিজেকে খুব বেশি চাপ দিলে তিনি তাকে ধীর হতে বলেন। তাং মনমরা থাকলে উৎসাহ দেন।
এই দম্পতির বিয়ে হয়েছে দুই বছর। প্রতিযোগিতার পর অনেক কথা বলার থাকলে স্ত্রী তার কথা শোনেন; আর তাং কথা বলার মতো ক্লান্ত থাকলে নীরবে তার সঙ্গ দেন বলে জানান তিনি। রটারডামে সেং সমর্থনের একটি প্ল্যাকার্ডও ধরে ছিলেন, যা সম্প্রচারে দেখা যায়। সাধারণত আড়ালে থাকতেই পছন্দ করেন বলে এমনটা করায় তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তাং।
প্রথম সোনা থেকে ১৬-এর বেশি স্কোরের লক্ষ্য
নতুন অবস্থান ধরে রাখার বাইরেও তাংয়ের পরবর্তী উচ্চাকাঙ্ক্ষা রয়েছে। রটারডামে জয় এনে দেওয়া ১৪.৯৬৬-এর তুলনায় ১৬ পয়েন্টের বেশি স্কোর করতে চান তিনি। শুধু ১৬.০০০-এ পৌঁছাতেই ডিফিকাল্টি বাড়ানো এবং এক্সিকিউশন আরও নিখুঁত করার সমন্বয়ে ১.০৩৪ পয়েন্ট উন্নতি প্রয়োজন।
২০২৭ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে আরও শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করেন তাং, কারণ সেখানে অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হবে। স্বর্ণপদক জয়ের পরও নিজেকে চ্যালেঞ্জার হিসেবেই বিবেচনা করবেন বলে জানান তিনি। পরবর্তী প্রতিযোগিতার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী পারফরম্যান্স গড়ে তোলাই এখন তার মনোযোগ।
হুয়াং বলেন, পরের বছর দলটি যুক্তরাষ্ট্রে অনুশীলন করতে পারে অথবা আরও বেশি কাপ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে অনুশীলন করলে ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের আগে পরিবেশটির সঙ্গে জিমন্যাস্টদের পরিচিতি হবে। এসব পরিকল্পনার তারিখ বা নিশ্চিত কর্মসূচি জানানো হয়নি।
কোচ, বৃহত্তর দল এবং অ্যাথলেটদের সহায়তাকর্মীসহ আশপাশের মানুষদেরও কৃতিত্ব দিয়েছেন তাং। কঠিন একটি রুটিন, চাপ সামলানোর নতুন পদ্ধতি এবং ক্লান্তিকর প্রতিযোগিতা সূচির মধ্যে পাওয়া সমর্থন, এই তিনের সমন্বয়ে এসেছে তার জয়। তাইওয়ান এখন প্রথমবারের মতো জিমন্যাস্টিকস বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন পেয়েছে। আর তাংয়ের সামনে রয়েছে নির্দিষ্ট একটি কারিগরি লক্ষ্য এবং পরবর্তী যোগ্যতা অর্জনের প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি।
মূল বিষয়গুলো
- রটারডামে পুরুষদের হরাইজন্টাল বার ফাইনালে জিতে বিশ্ব আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিকস চ্যাম্পিয়নশিপে তাইওয়ানের প্রথম স্বর্ণপদক জিতেছেন তাং চিয়া-হুং।
- তার জয়ী ১৪.৯৬৬ স্কোরের মধ্যে ডিফিকাল্টির জন্য ৬.৬০০ এবং এক্সিকিউশনে ৮.৩৬৬ ছিল।
- ফাইনালে অবতরণের সময় দুইবার লাফ দিলেও বাছাইপর্বের তুলনায় তার মোট স্কোর ০.৪০০ পয়েন্ট বেড়েছে।
- এর প্রায় এক মাস আগে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমসে পড়ে গিয়ে পঞ্চম হওয়ার পর এই জয় এসেছে।
- প্রতিযোগিতার চাপ সামলানোর পুনরাবৃত্তিযোগ্য পদ্ধতি তৈরিতে কোচ ও এক মনোবিজ্ঞানীর সঙ্গে কাজ করেছেন তাং।
- তার পরবর্তী লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২৭ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন এবং হরাইজন্টাল বারে ১৬ পয়েন্টের বেশি স্কোর করা।






