আট মাসে ২১ বিলিয়নেরও বেশি লেনদেন
ভিয়েতনামে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ২১ বিলিয়নেরও বেশি নগদবিহীন লেনদেন হয়েছে, যার মূল্য ২৬০ কোয়াড্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডংয়ের বেশি। এ সময়ে পেমেন্ট কোম্পানিগুলো দেশে কিউআর সেবা এবং এশিয়াজুড়ে সংযোগ সম্প্রসারণ করেছে। ভিয়েতনামের ন্যাশনাল পেমেন্ট করপোরেশন (ন্যাপাস) উপস্থাপিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় লেনদেনের সংখ্যা বেড়েছে ৩৪.৫৬ শতাংশ, আর মোট মূল্য বেড়েছে ১৩.২৬ শতাংশ।
সূচিপত্র
- আট মাসে ২১ বিলিয়নেরও বেশি লেনদেন
- অর্থমূল্যের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে লেনদেনের সংখ্যা
- ন্যাপাসের কার্যক্রমের চাপ বাড়ছে
- দৈনন্দিন সেবায় ভিয়েটকিউআরপের বিস্তার
- পাঁচটি আন্তর্জাতিক সংযোগে দুই দিকেই পেমেন্ট
- নতুন পেমেন্ট সেবার জন্য যৌথ প্ল্যাটফর্ম
- ২০৩০ সালের জন্য হিসাব ও পেমেন্টের লক্ষ্য নির্ধারণ ভিয়েতনামের
- সেবাপ্রাপ্তি ও নিরাপত্তায় বাস্তব অগ্রাধিকার
- সম্প্রসারণে অংশ নিচ্ছে পেমেন্ট কোম্পানিগুলো
- মূল বিষয়গুলো
প্রতিদিনের লেনদেনের মূল্য ছিল প্রায় ১.০৫ কোয়াড্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডং, যা প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের সমান। এক কোয়াড্রিলিয়ন হলো এক হাজার ট্রিলিয়ন। এই পরিমাণ থেকে বোঝা যায়, মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অর্থ স্থানান্তর এবং বিল পরিশোধের সময় পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে অর্থ বারবার চলাচল করে।
ন্যাপাস ২০২৬ সালের অক্টোবরে ন্যা ট্রাংয়ে পেমেন্ট মধ্যস্থতাকারীদের নিয়ে আয়োজিত গ্রাহক সম্মেলনে এই পরিসংখ্যান উপস্থাপন করে। ৪০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্বকারী ৬০ জনের বেশি অতিথি এতে অংশ নেন। এসব প্রতিষ্ঠান গ্রাহক, ব্যবসায়ী ও ব্যাংকের মধ্যে সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করে।
এই সম্প্রসারণ শুধু লেনদেনের মোট সংখ্যায় সীমাবদ্ধ নয়। পাঁচ বছরে কিউআর পেমেন্টের সংখ্যা ২০ গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে ন্যাপাস হাসপাতাল, স্কুল, পরিবহন, পর্যটন ও সরকারি সেবায় কার্যক্রম সম্প্রসারণ করছে। আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কে এখন ছয়টি দেশের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে, যদিও বিভিন্ন বাজারে এবং পেমেন্টের দিকভেদে সেবার বিস্তার এক রকম নয়।
ভিয়েতনাম সরকার ২০৩০ সালের জন্যও লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে: ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৯৫ শতাংশ মানুষের ব্যাংক লেনদেনের হিসাব থাকবে এবং বার্ষিক নগদবিহীন পেমেন্টের মূল্য হবে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩০ গুণ। আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো, সেবার নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা এবং বিভিন্ন পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করা এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
অর্থমূল্যের চেয়ে দ্রুত বাড়ছে লেনদেনের সংখ্যা
ভিয়েতনামের স্টেট ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে ১৫ বিলিয়নেরও বেশি নগদবিহীন লেনদেন হয়েছে, যার মূল্য ১৯০ কোয়াড্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডংয়ের বেশি, অর্থাৎ প্রায় ৭.২৭ ট্রিলিয়ন ডলার। ২০২৬ সালের ব্যাংকিং খাতের ডিজিটাল রূপান্তরবিষয়ক অনুষ্ঠানের জন্য ১১ আগস্ট হ্যানয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়।
এ সময়ে লেনদেনের পরিমাণ আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৪.২৮ শতাংশ বেড়েছে, আর মূল্য বেড়েছে ১২.২৪ শতাংশ। প্রথম আট মাসের পরিসংখ্যানেও একই প্রবণতা দেখা যায়: স্থানান্তরিত অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধির তুলনায় পেমেন্টের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ দ্রুত বেড়েছে।
আট মাসের প্রবৃদ্ধির হার থেকে বোঝা যায়, ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রতিটি লেনদেনের গড় মূল্য প্রায় ১৬ শতাংশ কমেছে। ১৩.২৬ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে লেনদেনের পরিমাণে ৩৪.৫৬ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনা করে এ হিসাব করা হয়েছে। সহজ কথায়, প্রতিটি পেমেন্টের সঙ্গে যুক্ত অর্থের পরিমাণ একই হারে না বাড়লেও ব্যবস্থাটি অনেক বেশি পেমেন্ট সামলেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানিয়েছে, ভিয়েতনামের অনেক ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানে ৯৫ শতাংশেরও বেশি লেনদেন ডিজিটাল মাধ্যমে হচ্ছে। তাদের হিসাবে, ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে পেমেন্ট হিসাবের মালিকানা ৮৯ শতাংশ ছাড়িয়েছে। এতে বোঝা যায়, ডিজিটাল পেমেন্টের প্রাথমিক সরঞ্জামগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে।
ন্যাপাসের কার্যক্রমের চাপ বাড়ছে
২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে ন্যাপাস নিজস্ব ব্যবস্থার মাধ্যমে ১০ বিলিয়নেরও বেশি লেনদেন প্রক্রিয়া করেছে, যার মূল্য ৪৬ কোয়াড্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডংয়ের বেশি। এসব পরিসংখ্যান ন্যাপাসের নেটওয়ার্কের হিসাব। জাতীয় পরিসংখ্যান আরও বিস্তৃত নগদবিহীন পেমেন্ট বাজারের চিত্র তুলে ধরে এবং ভিন্ন সময়কালকে অন্তর্ভুক্ত করে।
লেনদেন বাড়ার ফলে ন্যাপাসের জন্য একটি বাস্তব প্রয়োজন তৈরি হয়েছে: আরও বেশি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পেমেন্ট অবকাঠামোকে নিরাপদ, স্থিতিশীল ও নিরবচ্ছিন্নভাবে সচল রাখতে হবে। কোনো গ্রাহক কোড স্ক্যান করা কিংবা কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পেমেন্ট নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা করা—দুই ক্ষেত্রেই নির্ভরযোগ্যভাবে কাজ করা পেমেন্ট ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করতে হয়।
ন্যাপাসের মহাপরিচালক নগুয়েন কুয়াং মিন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি অবকাঠামোর সক্ষমতা বাড়ানো, সংযোগ সম্প্রসারণ এবং সেবা উন্নয়নে সদস্য ও অংশীদারদের সহায়তা অব্যাহত রাখবে। তাঁর ভাষায়, লক্ষ্য হলো নিরাপদ, সুবিধাজনক ও টেকসই পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা।
অবকাঠামোর জন্য তিনটি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছে ন্যাপাস: নির্ভরযোগ্য ও নিরাপদ কার্যক্রম, অংশীদারদের সেবা যুক্ত করার ক্ষেত্রে নমনীয়তা এবং নতুন চাহিদা সামলানোর সক্ষমতা। ফলে তাদের পরিকল্পনায় নেটওয়ার্ক দিয়ে ইতিমধ্যে চলাচল করা লেনদেনের পরিমাণের পাশাপাশি সদস্যদের চালু করতে চাওয়া সেবাগুলোও বিবেচনায় রয়েছে।
দৈনন্দিন সেবায় ভিয়েটকিউআরপের বিস্তার
সম্প্রসারণের দেশীয় অংশ হলো ভিয়েটকিউআরপে। খুচরা ব্যবসা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, পরিবহন, পর্যটন ও সরকারি সেবায় কিউআর পেমেন্ট গ্রহণ বাড়াতে ন্যাপাস ব্যাংক, পেমেন্ট মধ্যস্থতাকারী এবং অন্যান্য অংশীদারের সঙ্গে কাজ করছে।
গ্রাহক কোনো সামঞ্জস্যপূর্ণ পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করে কোড স্ক্যান করলে কিউআর পেমেন্ট শুরু হয়। কোডটিতে পেমেন্ট নির্দেশ করার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে, ফলে হাতে সেসব তথ্য লেখার দরকার কমে। এর কার্যকারিতা নির্ভর করে গ্রাহকের অ্যাপ এবং ব্যবসায়ীর পেমেন্ট ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় আছে কি না, তার ওপর।
ন্যাপাসের ভাষ্য, যৌথ অবকাঠামো অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেবা চালু করতে সহায়তা করে এবং গৃহস্থালি ব্যবসাসহ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণে সহযোগিতা করে। পেমেন্ট গ্রহণের সুযোগ বাড়লে গ্রাহকেরা দোকান থেকে শুরু করে জরুরি সেবা পর্যন্ত আরও বেশি জায়গায় নিজেদের হিসাব ব্যবহার করতে পারেন।
পাঁচ বছরে কিউআর পেমেন্টের সংখ্যা ২০ গুণ বেড়ে যাওয়া থেকে বোঝা যায়, পদ্ধতিটি কত দ্রুত ছড়িয়েছে। ব্যাংক ও পেমেন্ট কোম্পানিগুলো তাদের গ্রাহক নেটওয়ার্ক ও সেবা নিয়ে অবদান রাখছে। ন্যাপাস এখন এই গ্রহণযোগ্যতাকে দেশজুড়ে আরও বিস্তৃত করতে চাইছে।
পাঁচটি আন্তর্জাতিক সংযোগে দুই দিকেই পেমেন্ট
ভিয়েটকিউআরগ্লোবাল ভিয়েতনামের কিউআর পেমেন্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার সংযোগ স্থাপন করে। ন্যাপাসের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পাঁচটি দেশের সঙ্গে সংযোগ দুই দিকেই কার্যকর।
এর অর্থ, অংশগ্রহণকারী দেশগুলোতে ভ্রমণরত ভিয়েতনামের ব্যবহারকারীরা এবং ওই দেশগুলো থেকে ভিয়েতনামে আসা পর্যটকেরা পরিচিত পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করে সামঞ্জস্যপূর্ণ কিউআর কোড স্ক্যান করতে পারবেন। ভ্রমণকারীদের জন্য এর ব্যবহারিক সুবিধা হলো, তাঁরা আগে থেকেই ব্যবহার করা পেমেন্ট পদ্ধতিতে লেনদেন করতে পারবেন। অংশগ্রহণকারী ব্যবসায়ীদের জন্য এই সংযোগ বিদেশি গ্রাহকের কাছ থেকে পেমেন্ট গ্রহণের আরেকটি উপায় তৈরি করে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রে সেবাটি ভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। সংযোগ সম্পন্ন হওয়া ছয়টি দেশের মধ্যে ন্যাপাস দক্ষিণ কোরিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করলেও, সেখানে ভিয়েতনামের ব্যবহারকারীদের পেমেন্ট সেবা এখনও চালু করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তাইওয়ান ও ভারতের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের কাজও চলছে; সমাপ্তির কোনো তারিখ জানানো হয়নি।
বিদেশি অংশীদারদের অ্যাপ এবং ভিয়েতনামের পেমেন্ট গ্রহণের স্থান ও পর্যটনকেন্দ্রে ন্যাপাস ও তার অংশীদারেরা সেবাগুলোর প্রচার করছে। আন্তর্জাতিক পেমেন্ট সম্প্রসারণের একটি ব্যবহারিক দিক এতে মোকাবিলা করা হচ্ছে: পর্যটকদের জানতে হবে, কোথায় তাঁদের অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে।
তাই নেটওয়ার্কের বিস্তার কয়েকটি বিষয়ের সমন্বয়ের ওপর নির্ভর করে। এর মধ্যে রয়েছে পেমেন্ট ব্যবস্থাগুলোর পারস্পরিক সংযোগ, প্রতিটি বাজারে অংশগ্রহণকারী অ্যাপ এবং সেবা গ্রহণকারী ব্যবসায়ীরা। ন্যাপাস প্রযুক্তিগত সংযোগ স্থাপনের পাশাপাশি ভ্রমণকারীদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিচ্ছে।
নতুন পেমেন্ট সেবার জন্য যৌথ প্ল্যাটফর্ম
ন্যাপাস তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম ন্যাপাস ডিপিপিও উন্নয়ন করছে। সদস্যদের সেবা যুক্ত করার জন্য এটি কেন্দ্রীভূত ও মানসম্মত একটি ব্যবস্থা হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। বিশেষ করে ই-কমার্সে সংযোগ প্রক্রিয়া সহজ করা এবং নতুন পেমেন্ট পদ্ধতি চালুর সময় কমানো এই প্ল্যাটফর্মের লক্ষ্য।
ইন্টিগ্রেশন হলো বিভিন্ন কম্পিউটার সিস্টেমের মধ্যে পেমেন্ট নির্দেশনা ও তথ্য বিনিময়ের প্রযুক্তিগত প্রক্রিয়া। এ সংযোগের মান নির্ধারণ করলে সেবা তৈরির সময় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো অভিন্ন কিছু শর্ত মেনে কাজ করতে পারে।
ন্যাপাসের ভাষ্য, সদস্য ও অংশীদারেরা নিজেদের পেমেন্ট সেবা গড়ে তুলতে অবকাঠামো হিসেবে ডিপিপি ব্যবহার করতে পারবেন। এটি ভিয়েটকিউআরপে ও ভিয়েটকিউআরগ্লোবালের পরিপূরক: কিউআর সেবাগুলো গ্রাহকের পেমেন্ট করার স্থান বাড়ায়, আর ডিপিপি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ এবং নতুন সুবিধা চালুর বিষয়টি সামলায়।
ই-কমার্সে গুরুত্ব দেওয়ার ফলে অনলাইন লেনদেনও সরাসরি দোকানে করা পেমেন্টের পাশাপাশি স্থান পাচ্ছে। ব্যবসায়ী ও গ্রাহকেরা কেনাকাটা সম্পন্ন করার নতুন উপায় খুঁজছেন। পেমেন্ট কোম্পানিগুলোর লক্ষ্য, একটি যৌথ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সেবা উন্নয়ন আরও সহজ করা।
২০৩০ সালের জন্য হিসাব ও পেমেন্টের লক্ষ্য নির্ধারণ ভিয়েতনামের
২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত সরকারের জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশলটি ২০২৬ সালের ২৫ মে স্বাক্ষরিত ৯২৮/কিউডি-টিটিজি নম্বরের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়। এতে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মানুষের মধ্যে ৯৫ শতাংশের হিসাবের মালিকানা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে জিডিপির ৩০ গুণের সমান নগদবিহীন পেমেন্ট মূল্য অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপপ্রধানমন্ত্রী নগুয়েন ভান থাংয়ের উদ্ধৃত স্টেট ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষে ব্যাংক হিসাবের মালিকানা ছিল ৮৮.৯৬ শতাংশ। ২০৩০ সালের লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যবধান ৬.০৪ শতাংশ পয়েন্ট। ২০২৫ সালে নগদবিহীন লেনদেনের মূল্য ছিল জিডিপির ২৮ গুণ, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ৩০ গুণ।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে কোনো অর্থনীতিতে উৎপাদিত পণ্য ও সেবার মূল্য পরিমাপ করে জিডিপি। আর পেমেন্টের মোট হিসাব অর্থের চলাচল পরিমাপ করে, যার মধ্যে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের বিভিন্ন পর্যায়ের স্থানান্তর ও নিষ্পত্তি অন্তর্ভুক্ত। একই অর্থ বারবার লেনদেন হতে পারে, তাই বছরে মোট পেমেন্টের মূল্য বার্ষিক জিডিপির বহু গুণ হতে পারে।
২০২৬ সালে পেমেন্টের প্রবৃদ্ধি ও সরকারি নীতির অগ্রগতির প্রধান মাইলফলকগুলো হলো:
- ২৫ মে: ৯২৮/কিউডি-টিটিজি নম্বরের সিদ্ধান্তে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল এবং ২০৩০ সালের লক্ষ্য অনুমোদন করা হয়।
- ৬ জুন: হো চি মিন সিটিতে এক সেমিনারে উপপ্রধানমন্ত্রী নগুয়েন ভান থাং ডিজিটাল অর্থায়নের অগ্রাধিকার নিয়ে আলোচনা করেন।
- ১১ আগস্ট: বছরের প্রথমার্ধে ১৫ বিলিয়নেরও বেশি নগদবিহীন লেনদেনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করে স্টেট ব্যাংক।
- অক্টোবর: ন্যা ট্রাংয়ে গ্রাহক সম্মেলনে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরে ন্যাপাস।
সেবাপ্রাপ্তি ও নিরাপত্তায় বাস্তব অগ্রাধিকার
৬ জুনের সেমিনারে উপপ্রধানমন্ত্রী নগুয়েন ভান থাং শহর ও গ্রামাঞ্চলে সেবাপ্রাপ্তির অসমতাকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁর মতে, বয়স্ক মানুষ এবং স্বল্প আয়ের মানুষদের মধ্যে আধুনিক পেমেন্ট পদ্ধতি নিয়ে এখনও দ্বিধা রয়েছে, অথবা তাঁরা এসব পদ্ধতি ব্যবহারের সুযোগ পান না।
থাং সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং ইন্টারঅপারেবিলিটির কথাও বলেন। ইন্টারঅপারেবিলিটি বলতে বিভিন্ন ব্যবস্থার একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতাকে বোঝায়। তিনি ডিজিটাল পেমেন্টকে মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে আর্থিক সেবা পৌঁছানোর পদ্ধতিতে বৃহত্তর পরিবর্তনের একটি অংশ হিসেবে বর্ণনা করেন।
ডিজিটাল তথ্য, ডিজিটাল পরিচয়, ডিজিটাল সংযোগ এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ধীরে ধীরে নাগরিক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও সুবিধাজনক আর্থিক ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।
গ্রাম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডিজিটাল আর্থিক সেবা সম্প্রসারণ, সরকারি সেবায় ইলেকট্রনিক পেমেন্ট উৎসাহিত করা এবং ব্যবহারকারীদের সুরক্ষা জোরদার করতে সরকার মন্ত্রণালয়, সংস্থা ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে। ব্যাংক ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে খরচ কমাতে এবং সেবার মান উন্নত করতেও উৎসাহিত করা হয়েছে।
এই অগ্রাধিকারগুলো পেমেন্ট গ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। একজন মানুষের হিসাব, সাশ্রয়ী সেবা এবং সেই সেবা কার্যকর এমন স্থান দরকার। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার পেমেন্ট গ্রহণ এবং নিশ্চিত করার জন্য নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যবহারকারীদের অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত থাকা জরুরি।
সম্প্রসারণে অংশ নিচ্ছে পেমেন্ট কোম্পানিগুলো
ন্যাপাস ন্যা ট্রাংয়ের সম্মেলনে নেটওয়ার্কে অবদান রাখা পেমেন্ট মধ্যস্থতাকারীদের স্বীকৃতি দেয়। ‘মেম্বার অব দ্য ইয়ার ২০২৬’ পুরস্কারের ডায়মন্ড স্তর পেয়েছে মোমো, প্লাটিনাম পেয়েছে ভিয়েটেল এবং গোল্ড পেয়েছে ওয়ানপে।
পেমেন্ট গেটওয়ের লেনদেনমূল্যে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে ওয়ানপে, আর পেমেন্ট গেটওয়ের প্রবৃদ্ধিতে শীর্ষস্থানীয় হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে টিকটক পে। বিদেশে ভিয়েতনামের ব্যবহারকারীদের ভিয়েটকিউআরগ্লোবাল পেমেন্টের পথিকৃৎ সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে মোমো।
ভিয়েটকিউআরপের প্রবৃদ্ধির জন্য পুরস্কার পেয়েছে পায়ু, শপিপে ও ফিনভিয়েট। ভিয়েতনামে আসা পর্যটকদের ভিয়েটকিউআরগ্লোবাল পেমেন্টের প্রবৃদ্ধির স্বীকৃতি পেয়েছে পেমে, পায়ু ও ফিনভিয়েট। ডায়নামিক মেম্বার পুরস্কার পেয়েছে জালো পে, জি পে ও পায়ু; আর ইনোভেটিভ মেম্বার পুরস্কার পেয়েছে টিকটক পে, ইপে ও এফপিটি পে।
পুরস্কারের বিভাগগুলো ন্যাপাসের সম্প্রসারণের বিভিন্ন অংশকে তুলে ধরে: দেশীয় কিউআর পেমেন্ট গ্রহণ, অনলাইন পেমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ, বিদেশে পেমেন্ট এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের খরচ। লেনদেনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে যৌথ অবকাঠামোর নির্ভরযোগ্যতা বজায় রেখে আরও বেশি সেবা যুক্ত করাই তাদের পরবর্তী পর্যায়ের মূল লক্ষ্য।
মূল বিষয়গুলো
- ভিয়েতনামে ২০২৬ সালের প্রথম আট মাসে ২১ বিলিয়নেরও বেশি নগদবিহীন লেনদেন হয়েছে, যার মূল্য ২৬০ কোয়াড্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডংয়ের বেশি।
- ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ৩৪.৫৬ শতাংশ, আর মূল্য বেড়েছে ১৩.২৬ শতাংশ।
- প্রথম নয় মাসে ন্যাপাস ১০ বিলিয়নেরও বেশি লেনদেন প্রক্রিয়া করেছে, যার মূল্য ৪৬ কোয়াড্রিলিয়ন ভিয়েতনামি ডংয়ের বেশি।
- পাঁচ বছরে কিউআর পেমেন্টের সংখ্যা ২০ গুণ বেড়েছে।
- থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, চীন ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ভিয়েটকিউআরগ্লোবালের সংযোগে দুই দিকেই পেমেন্ট করা যায়। দক্ষিণ কোরিয়ায় ভিয়েতনামের ব্যবহারকারীদের জন্য পেমেন্ট সেবা চালুর কাজ চলছে।
- ন্যাপাস তাইওয়ান ও ভারতের সঙ্গে সংযোগ এবং সদস্যদের জন্য মানসম্মত ডিজিটাল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে।
- ভিয়েতনামের ২০৩০ সালের লক্ষ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী ৯৫ শতাংশ মানুষের হিসাবের মালিকানা এবং জিডিপির ৩০ গুণের সমান নগদবিহীন পেমেন্ট মূল্য।






