গ্যালাক্সি এস২৭ আসার আগে অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় কোয়ালকমের চিপকে ছাড়াল স্যামসাংয়ের এক্সিনোস ২৭০০

পড়তে 10 মিনিট
Samsung Exynos 2700 reportedly tops Qualcomm chips in internal tests ahead of Galaxy S27

১৩ হাজার পয়েন্টের খবরে নজরে স্যামসাংয়ের পরবর্তী চিপ

অভ্যন্তরীণ Geekbench 6.5 CPU মাল্টিকোর পরীক্ষায় স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের Exynos 2700 প্রায় ১৩ হাজার পয়েন্ট পেয়েছে বলে খবর, যেখানে কোয়ালকমের শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রসেসর পেয়েছে প্রায় ১১ হাজার। ফলাফল অনুযায়ী, গ্যালাক্সি S27 স্মার্টফোন সিরিজের জন্য চিপটি প্রস্তুত করতে থাকা স্যামসাংয়ের পরবর্তী মোবাইল চিপটি প্রায় ২০% এগিয়ে রয়েছে।

সূচিপত্র
  1. ১৩ হাজার পয়েন্টের খবরে নজরে স্যামসাংয়ের পরবর্তী চিপ
  2. CPU স্কোর আসলে কী পরিমাপ করে
  3. অন্য এক সেট ফলাফলে ব্যবধান কম কেন
  4. গ্রাফিকসের ফলাফলে উন্নতির দুটি দিক
  5. ব্যাটারি ও AI পরীক্ষায় আরেকটি মাত্রা
  6. SF2P ও উন্নত তাপ অপসারণের ওপর স্যামসাংয়ের ভরসা
  7. কোন হার্ডওয়্যার ফিচারগুলো এখনো বিবেচনায় আছে?
  8. উন্নয়ন ও বাজারে আনার সময়সূচি
  9. Exynos-এর ব্যবহার বাড়লে কী বদলাবে
  10. মূল বিষয়গুলো

তুলনায় কোয়ালকমের Snapdragon 8 Elite Extreme Gen 6 ব্যবহার করা Xiaomi 18 Pro Max ফোন ছিল। Geekbench 7.0 মাল্টিকোর পরীক্ষায়ও স্যামসাংয়ের প্রসেসরটি ওই চিপের চেয়ে প্রায় ১৫% এগিয়ে ছিল বলে খবর। সর্বোচ্চ গ্রাফিকস পারফরম্যান্সের একটি মূল্যায়নে ব্যবধান ছিল প্রায় ২০%।

স্যামসাংয়ের জন্য এর গুরুত্ব শুধু দ্রুততর ফোনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর System LSI ব্যবসা Exynos প্রসেসরের নকশা করে, ফাউন্ড্রি ব্যবসা সেগুলো তৈরি করে, আর স্মার্টফোন ব্যবসা ঠিক করে কোন গ্যালাক্সি ডিভাইসে সেগুলো ব্যবহার হবে। সফল Exynos 2700 এই তিনটি ব্যবসাকেই সহায়তা করতে পারে এবং কোয়ালকমের কাছ থেকে কেনা প্রসেসরের ওপর নির্ভরতা কমাতে পারে।

পরীক্ষার ফলাফলের কথা জানিয়েছে স্যামসাংয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষা সম্পর্কে অবগত শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে অন্য এক সেট প্রতিবেদিত ফলাফলে CPU-তে ব্যবধান কম দেখা গেছে। ফলে সুনির্দিষ্ট তুলনাটি খবরটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। গ্যালাক্সি S27-এর চূড়ান্ত ডিভাইসগুলোতেই গতি, ব্যাটারির ব্যবহার ও তাপ নিয়ন্ত্রণের বাস্তব পরীক্ষা হবে।

CPU স্কোর আসলে কী পরিমাপ করে

মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন প্রসেসর বা AP স্মার্টফোনের বেশির ভাগ কম্পিউটিংয়ের কাজ সামলায়। এর কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়াকরণ ইউনিট বা CPU অ্যাপ ও অপারেটিং সিস্টেমের নির্দেশনা চালায়। মাল্টিকোর বেঞ্চমার্ক একগুচ্ছ কাজের ক্ষেত্রে প্রসেসরের কোরগুলো একসঙ্গে কীভাবে কাজ করে, তা মাপে।

Geekbench সেই কাজের জন্য একটি স্কোর দেয়, যা পরীক্ষিত ডিভাইসগুলোর তুলনা করতে সহায়তা করে। স্যামসাংয়ের প্রতিবেদিত ১৩ হাজার পয়েন্টের সঙ্গে কোয়ালকমের প্রায় ১১ হাজারের ব্যবধান প্রায় ২ হাজার পয়েন্ট। এই গোল করা সংখ্যাগুলো ধরে হিসাব করলে এগিয়ে থাকার হার প্রায় ১৮%, যা পরীক্ষার বিবরণে বলা প্রায় ২০%-এর কাছাকাছি।

বিজ্ঞাপন

বেঞ্চমার্কের সংস্করণভেদে এগিয়ে থাকার ব্যবধান বদলে যায়। Geekbench 7.0-তে Exynos 2700 শীর্ষ কোয়ালকম চিপটির চেয়ে প্রায় ১৫% এগিয়ে ছিল, যেখানে Geekbench 6.5-তে ব্যবধান ছিল প্রায় ২০%। সংস্করণভেদে কাজের ধরন ও স্কোর দেওয়ার পদ্ধতি আলাদা, তাই পাঠকদের একই সংস্করণের ফলাফলের মধ্যেই প্রসেসর তুলনা করা উচিত।

Xiaomi 18 Pro-তে ব্যবহৃত সাধারণ Snapdragon 8 Elite Gen 6-এর তুলনায় স্যামসাংয়ের প্রতিবেদিত সুবিধা আরও বেশি: Geekbench 6.5-তে ৪৪% এবং Geekbench 7.0-তে ৩৬%। এই শতাংশগুলো বোঝায়, কোয়ালকমের ফলাফলের তুলনায় স্যামসাংয়ের স্কোর কত বেশি ছিল।

কোয়ালকমের দুই স্তরের চিপের পার্থক্য ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণ চিপের সঙ্গে তুলনা করলে সবচেয়ে দামি সংস্করণের সঙ্গে তুলনার চেয়ে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যায়। ওই ভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিত্বকারী ডিভাইস হিসেবে প্রতিবেদিত Xiaomi পরীক্ষায় 18 Pro ও 18 Pro Max ব্যবহার করা হয়েছিল।

অন্য এক সেট ফলাফলে ব্যবধান কম কেন

১৩ হাজার বনাম ১১ হাজার পয়েন্টের তুলনা তুলে ধরা শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, Geekbench 6.5-তে Extreme চিপের চেয়ে স্যামসাংয়ের ব্যবধান প্রায় ২০%। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের ওপর ভিত্তি করে করা অন্য প্রতিবেদনে Snapdragon 8 Elite Gen 6 Pro নামে একটি প্রসেসরের তুলনায় ৯.৫% এবং সাধারণ সংস্করণের তুলনায় ১৯% এগিয়ে থাকার কথা বলা হয়েছে।

নামকরণেও ভিন্নতা রয়েছে। প্রধান বেঞ্চমার্কের বিবরণে কোয়ালকমের উচ্চতর স্তরের চিপটিকে Extreme বলা হয়েছে, আর অন্য পরীক্ষার বিবরণে Pro বলা হয়েছে। নাম দেওয়া ডিভাইস, প্রসেসরের সংস্করণ ও পরীক্ষার কনফিগারেশনের মধ্যে সুনির্দিষ্ট সম্পর্ক প্রকাশ্যে স্পষ্ট করা হয়নি।

দুই সেট ফলাফলেই Exynos এগিয়ে, তবে ব্যবধান কতটা—সে বিষয়ে দুই রকম উত্তর পাওয়া যায়। কুলিং, সফটওয়্যার সেটিংস এবং চিপ উন্নয়নের পর্যায় বেঞ্চমার্কের স্কোরে প্রভাব ফেলতে পারে। অল্প সময়ের পরীক্ষায় যে ফোন প্রসেসরকে বেশি শক্তি টানতে দেয়, তার ফল তাপ সীমিত রাখতে কনফিগার করা ফোনের চেয়ে আলাদা হতে পারে।

গ্যালাক্সি ক্রেতাদের জন্য উপযোগী তুলনা হবে, একই ধরনের সফটওয়্যার ও কাজ চালানো খুচরা বাজারের ফোনগুলোর মধ্যে। স্যামসাংয়ের অভ্যন্তরীণ পরিসংখ্যান উন্নয়নের অগ্রগতির প্রাথমিক ইঙ্গিত দেয়; আর সেই অগ্রগতি দৈনন্দিন ব্যবহারে কীভাবে প্রতিফলিত হয়, তা ঠিক করবে চূড়ান্ত ডিভাইসগুলো।

বিজ্ঞাপন

গ্রাফিকসের ফলাফলে উন্নতির দুটি দিক

উন্নত গ্রাফিকস প্রযুক্তি ব্যবহার করে কঠিন গেমিং পরিস্থিতিতে সর্বোচ্চ গ্রাফিকস প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতার পরীক্ষায় Exynos 2700 কোয়ালকমের Extreme চিপের চেয়ে প্রায় ২০% বেশি স্কোর করেছে বলে খবর। কঠিন 3D গেমে সাধারণ গ্রাফিকস গণনার আরেক পরীক্ষায় স্যামসাং প্রায় ৫% এগিয়ে ছিল।

গ্রাফিকস প্রসেসিং ইউনিট বা GPU গেমের দৃশ্য ও অন্যান্য ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট তৈরি করতে একসঙ্গে অনেক হিসাব করে। এর পারফরম্যান্স গেম কতটা মসৃণভাবে চলবে তা নির্ধারণে সহায়তা করে, যদিও গেমের সফটওয়্যার, স্ক্রিনের রেজল্যুশন ও ফোনের কুলিংও অভিজ্ঞতায় প্রভাব ফেলে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের অন্য বিবরণে, নির্দিষ্ট করে না বলা একটি বেঞ্চমার্কে কোয়ালকমের Pro চিপের তুলনায় গ্রাফিকসে ৫% সুবিধার কথা রয়েছে। এতে ২.৫ ওয়াটের নির্দিষ্ট শক্তিসীমায় পাওয়া ফলও দেওয়া হয়েছে: Exynos-এর স্কোর Pro-এর চেয়ে ২২% এবং সাধারণ Elite প্রসেসরের চেয়ে ২৪% বেশি বলে খবর।

নির্দিষ্ট শক্তিসীমায় পরীক্ষা ব্যাটারিচালিত ডিভাইসের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খোঁজে: সমান বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগে চিপটি কতটা গ্রাফিকসের কাজ করতে পারে? কম শক্তি খরচের সীমার মধ্যেও ভালো পারফরম্যান্স করা প্রসেসর ফোন নির্মাতাদের গেমিং গতি, তাপ ও ব্যাটারির ব্যবহার সামঞ্জস্য করার বাড়তি সুযোগ দিতে পারে।

পরীক্ষার নাম ও গ্রাফিকসের বিস্তারিত সেটিংস প্রকাশ করা হয়নি। খেলোয়াড়দের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পরবর্তী পরীক্ষা হবে দীর্ঘ সময়ের গেমিং সেশনে ধারাবাহিক ফ্রেম রেট, যখন তাপ জমার যথেষ্ট সময় পেয়েছে—শুধু সর্বোচ্চ গতি নয়।

ব্যাটারি ও AI পরীক্ষায় আরেকটি মাত্রা

স্যামসাংয়ের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় স্মার্টফোন ব্যবহারের অনুকরণও ছিল বলে খবর। এতে Exynos 2700 ১৬১ মিলিঅ্যাম্পিয়ার কারেন্ট টেনেছে, যেখানে কোয়ালকমের Elite Pro টেনেছে ১৮৫ মিলিঅ্যাম্পিয়ার। ব্যবধান ২৪ মিলিঅ্যাম্পিয়ার কম, অর্থাৎ কোয়ালকমের পরিসংখ্যানের চেয়ে প্রায় ১৩% নিচে।

কারেন্ট দিয়ে বৈদ্যুতিক চার্জের প্রবাহ পরিমাপ করা হয়। শক্তি হিসাব করতে ভোল্টেজও জানতে হয়, আর ব্যাটারির স্থায়িত্ব নির্ভর করে পুরো ফোনের ওপর—যার মধ্যে রয়েছে ডিসপ্লে, মডেম, সফটওয়্যার ও ব্যাটারির ধারণক্ষমতা। প্রতিবেদিত সিমুলেশনটি ওই নির্দিষ্ট কাজের ক্ষেত্রে তুলনা দেয়; ভোক্তাদের জন্য ব্যাটারির স্থায়িত্বের হিসাব করতে সম্পূর্ণ ডিভাইসের পরিমাপ দরকার।

বিজ্ঞাপন

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার পরীক্ষায় Llama 3.1 8B ব্যবহার করা হয়েছে বলে খবর। এটি প্রায় আট বিলিয়ন প্যারামিটারবিশিষ্ট একটি ভাষা মডেল। প্যারামিটার হলো প্রশিক্ষণের সময় শেখা সংখ্যাগত সেটিংস, যা মডেলকে উত্তর তৈরি করতে সহায়তা করে। ওই পরীক্ষায় Exynos 2700 Snapdragon প্রসেসরের চেয়ে ১৮% দ্রুত উত্তর তৈরি করেছে বলে খবর।

দ্রুত উত্তর ফোনে সরাসরি চলা AI ফিচারগুলোকে আরও তাৎক্ষণিক মনে করাতে পারে। তবে উত্তরের দৈর্ঘ্য, মডেলের সেটিংস বা কোন প্রক্রিয়াকরণ উপাদান কাজ করেছে—এসবের বিস্তারিত বিবরণ নেই। ফলে ফলাফলটি ওই নির্দিষ্ট অভ্যন্তরীণ সেটআপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

SF2P ও উন্নত তাপ অপসারণের ওপর স্যামসাংয়ের ভরসা

স্যামসাং তাদের ২ ন্যানোমিটার পরিবারের দ্বিতীয় প্রজন্মের প্রক্রিয়া SF2P ব্যবহার করে Exynos 2700 তৈরি করার পরিকল্পনা করছে। প্রসেসরের নকশার দায়িত্ব System LSI-এর, আর Samsung Foundry সেই নকশাকে বাস্তব চিপে রূপ দেবে।

উৎপাদন প্রক্রিয়া বলতে চিপের ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক সুইচ তৈরিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তিকে বোঝায়। ২ ন্যানোমিটার নামটি একটি প্রযুক্তি প্রজন্মকে চিহ্নিত করে। স্যামসাংয়ের পদ্ধতিতে গেট-অল-অ্যারাউন্ড ট্রানজিস্টর ব্যবহার করা হয়, যা চিপের নকশা আরও ঘনভাবে বিন্যস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৈদ্যুতিক কারেন্ট নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

SF2P-এর উৎপাদন-প্রক্রিয়ার প্রতিবেদিত লক্ষ্য হলো প্রথম প্রজন্মের SF2 প্রক্রিয়ার তুলনায় ১২% বেশি পারফরম্যান্স, ২৫% কম বিদ্যুৎ খরচ এবং ৮% কম চিপের আয়তন। এই পরিসংখ্যান উৎপাদন প্রযুক্তির তুলনাকে নির্দেশ করে। চূড়ান্ত Exynos প্রসেসরের পারফরম্যান্স CPU ও GPU-র নকশা, মেমোরি সংযোগ এবং পরিচালন সেটিংসের ওপরও নির্ভর করবে।

তাপ অপসারণও আরেকটি অগ্রাধিকার বলে খবর। Exynos 2700-এ উন্নত Heat Path Block বা HPB প্যাকেজিং প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রত্যাশা রয়েছে। প্যাকেজিং চিপকে সংযুক্ত ও সুরক্ষিত রাখে, পাশাপাশি তাপ সরাতেও সহায়তা করে। কার্যকরভাবে তাপ অপসারণ করা গেলে প্রসেসর পরিচালন ফ্রিকোয়েন্সি কমানোর আগে আরও দীর্ঘ সময় গতি ধরে রাখতে পারে।

চিপের ডাইগুলো উল্লম্বভাবে স্তূপ না করে পাশাপাশি বসানো প্যাকেজিংও স্যামসাং বিবেচনা করছে বলে খবর। ডাই হলো সার্কিটসমৃদ্ধ অর্ধপরিবাহী উপাদানের একটি স্বতন্ত্র অংশ। উপাদানগুলো অনুভূমিকভাবে ছড়িয়ে রাখলে তাপ ছড়িয়ে দেওয়ার আরেকটি উপায় পাওয়া যেতে পারে, যদিও চূড়ান্ত প্যাকেজিং বিন্যাস এখনো উন্নয়নাধীন।

বিজ্ঞাপন

কোন হার্ডওয়্যার ফিচারগুলো এখনো বিবেচনায় আছে?

Exynos 2700-এ Arm-এর CPU নকশা ব্যবহার অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে; সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে C2 কোরের কথা আলোচনায় এসেছে। স্যামসাং কয়েকটি কোর বিন্যাস পরীক্ষা করছে বলে খবর। এর মধ্যে 4+1+4+1 হিসেবে বর্ণিত একটি বিন্যাস রয়েছে, যাতে চারটি দলে মোট দশটি কোর থাকবে।

CPU কোরের বিভিন্ন দল বিভিন্ন ধরনের কাজ সামলাতে পারে। হালকা কাজ দক্ষতার জন্য নকশা করা কোরে এবং বেশি কঠিন কাজ দ্রুততর কোরে বরাদ্দ করতে পারে ফোন। প্রতিবেদিত বিন্যাসটি পরীক্ষাধীন কয়েকটি বিকল্পের একটি, চূড়ান্ত স্পেসিফিকেশন নয়।

গ্রাফিকসের ক্ষেত্রে Xclipse 970-কে সম্ভাব্য GPU হিসেবে আলোচনা করা হচ্ছে, যা AMD-এর RDNA 5 আর্কিটেকচার ব্যবহার করতে পারে। LPDDR6 মেমোরি ও UFS 5.0 স্টোরেজের সমর্থনও বিবেচনায় রয়েছে। অ্যাপের তাৎক্ষণিক প্রয়োজনের ডেটা মেমোরিতে থাকে, আর স্টোরেজে থাকে অ্যাপ, ছবি ও অন্যান্য ফাইল।

গ্যালাক্সি S27 পণ্যে কোন মেমোরি ও স্টোরেজ প্রযুক্তি নেওয়া হবে, তা স্যামসাংয়ের Mobile Experience ব্যবসা ঠিক করবে। প্রসেসরের ভেতরে সমর্থন থাকা এবং প্রতিটি ফোনে তা অন্তর্ভুক্ত করা আলাদা পণ্যের সিদ্ধান্ত; যন্ত্রাংশের প্রাপ্যতা, খরচ ও প্রতিটি মডেলের চাহিদা এতে ভূমিকা রাখে।

উন্নয়ন ও বাজারে আনার সময়সূচি

স্যামসাংয়ের System LSI ব্যবসার প্রেসিডেন্ট ও প্রধান পার্ক ইয়ং-ইন জুনে এক ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে প্রকল্পটি নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান, স্যামসাংয়ের সবচেয়ে উন্নত ফোনে ব্যবহারের লক্ষ্য নিয়ে উন্নয়ন এগোচ্ছে।

Exynos 2700-এর উন্নয়ন পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছে; লক্ষ্য হলো এটি ফ্ল্যাগশিপ মডেলগুলোতে ব্যবহার করা,

প্রতিবেদিত সময়সূচি অনুযায়ী, Exynos 2700-এর গণউৎপাদন ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে শুরু হওয়ার কথা, আর ওই বছরের শেষ দিকে এটি উন্মোচন করা হতে পারে। গ্যালাক্সি S27 ফোনগুলো পরের বছরের শুরুর দিকে আসবে বলে সাধারণভাবে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনগুলোতে বর্ণিত উন্নয়নের ধাপগুলো হলো:

  • জুন: পার্ক জানান, ফ্ল্যাগশিপ মডেলে ব্যবহারের লক্ষ্যে Exynos 2700-এর উন্নয়ন পরিকল্পনামাফিক এগোচ্ছে।
  • ২২ সেপ্টেম্বর: কোয়ালকম তাদের ষষ্ঠ প্রজন্মের Snapdragon 8 Elite লাইনআপ উন্মোচন করেছে বলে খবর।
  • ২৫ অক্টোবর: শিল্পসংশ্লিষ্ট বিবরণে স্যামসাংয়ের অভ্যন্তরীণ CPU ও GPU তুলনার কথা উঠে আসে।
  • ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধ: Exynos 2700-এর গণউৎপাদনের প্রতিবেদিত লক্ষ্যকাল; এরপর ওই বছরের শেষ দিকে উন্মোচন হতে পারে।
  • পরের বছরের শুরুতে: গ্যালাক্সি S27 উন্মোচনের প্রত্যাশা; মডেল ও বাজারভেদে প্রসেসরের বিকল্প আলাদা হতে পারে।

জুন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরের উল্লেখে ধারাবাহিকভাবে কোনো সুনির্দিষ্ট বছর বলা হয়নি। এখানে বর্ণিত বক্তব্যগুলোতে স্যামসাং গ্যালাক্সি S27 বাজারে আনার নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করেনি।

বিজ্ঞাপন

Exynos-এর ব্যবহার বাড়লে কী বদলাবে

স্যামসাং ইতিমধ্যে গ্যালাক্সি মডেল ও বিক্রয় অঞ্চলভেদে Exynos ও Snapdragon প্রসেসর ব্যবহার করে। Exynos 2600 নির্বাচিত গ্যালাক্সি S26 মডেল ও Galaxy Z Flip8-এ ব্যবহৃত হবে বলে খবর। ফলে স্যামসাংয়ের ফোন কৌশলে পরবর্তী চিপটির জন্য আগে থেকেই জায়গা রয়েছে।

কিছু পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গ্যালাক্সি S27 উৎপাদনের সর্বোচ্চ ৫০%-এ Exynos থাকতে পারে; S26 প্রজন্মে এই হার প্রায় ২৫%। এ হিসাব অনুযায়ী, এর অংশীদারত্ব ২৫ শতাংশ-পয়েন্ট বাড়বে এবং দ্বিগুণ হবে। Exynos সংস্করণের সম্ভাব্য বাজার হিসেবে কোরিয়া ও ইউরোপের কথা ভাবা হচ্ছে, পাশাপাশি অন্য অঞ্চলও থাকতে পারে।

আরেকটি বিস্তৃত হিসাব অনুযায়ী, স্যামসাংয়ের মোট ফোনের প্রায় ১৬% থেকে ১৮%-এ Exynos ব্যবহৃত হয়। এই অনুমানে পূর্বাভাস দেওয়া গ্যালাক্সি S সিরিজের অংশের চেয়ে আরও বেশি ধরনের ডিভাইস অন্তর্ভুক্ত। দুটি পরিমাপ স্যামসাংয়ের ব্যবসার ভিন্ন ভিন্ন অংশ তুলে ধরে।

নিজস্ব নকশার প্রসেসর বেশি ব্যবহার করলে কোয়ালকমের চিপ কেনার ব্যয় কমতে পারে এবং পণ্যের খরচের ওপর স্যামসাংয়ের নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে। কোয়ালকম তাদের পরবর্তী প্রজন্মের প্রসেসরের দাম বাড়াবে বলেও খবর রয়েছে। লাইসেন্স ফি-সংক্রান্ত সম্ভাব্য সাশ্রয় নির্ভর করবে স্যামসাংয়ের চুক্তির শর্তের ওপর, যার কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।

Samsung Foundry-এরও এ ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক স্বার্থ রয়েছে। SF2P ব্যবহার করে তৈরি প্রতিযোগিতামূলক Exynos চিপ তাদের উৎপাদন সক্ষমতার দৃশ্যমান উদাহরণ হবে। উৎপাদিত চিপের মধ্যে কত অংশ প্রত্যাশামতো কাজ করে, সেই অনুপাতকে উৎপাদন-সাফল্যের হার বা ইল্ড বলা হয়। এটি উৎপাদন খরচ এবং বিপুলসংখ্যক গ্যালাক্সি ফোন সরবরাহের সক্ষমতা নির্ধারণে সহায়তা করবে।

ভোক্তাদের কাছে স্যামসাংয়ের ব্যবসায়িক লাভ তখনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, যখন তা এমন ডিভাইসে রূপ নেয়, যেগুলো দ্রুত সাড়া দেয়, তাপ সামলায় এবং চার্জের মধ্যে বেশি সময় চলে। Exynos 2700-সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো এসব ক্ষেত্রে অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়। স্যামসাং শেষ পর্যন্ত কী ভারসাম্য আনতে পেরেছে, তা খুচরা বাজারের ফোনগুলোর তুলনায় বোঝা যাবে।

মূল বিষয়গুলো

  • Geekbench 6.5 মাল্টিকোর পরীক্ষায় Exynos 2700 প্রায় ১৩ হাজার স্কোর করেছে বলে খবর; কোয়ালকমের শীর্ষ প্রতিদ্বন্দ্বী চিপের স্কোর প্রায় ১১ হাজার।
  • নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের অন্য বিবরণে Pro নামে পরিচিত কোয়ালকমের একটি সংস্করণের তুলনায় CPU-তে ব্যবধান কম, ৯.৫%।
  • প্রতিবেদিত পরীক্ষায় গ্রাফিকস পারফরম্যান্স, বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং Llama 3.1 8B AI মডেলের দ্রুততর উত্তর দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে।
  • পারফরম্যান্স ও তাপ অপসারণে সহায়তা করতে স্যামসাং তাদের SF2P উৎপাদন প্রক্রিয়া ও উন্নত প্যাকেজিং ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছে।
  • গণউৎপাদন ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে শুরুর লক্ষ্য বলে খবর; এর আগে পরের বছরের শুরুর দিকে গ্যালাক্সি S27 আসবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
  • Exynos-এর ব্যবহার বাড়লে কোয়ালকমের ওপর স্যামসাংয়ের নির্ভরতা কমতে পারে; চূড়ান্ত পারফরম্যান্স নির্ভর করবে সম্পূর্ণ ফোনগুলোর ওপর।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে