ওমানকে ১০ রানে হারিয়ে লিগ ২-এ ষষ্ঠ স্থানে নেপাল

পড়তে 9 মিনিট
Nepal Beat Oman by 10 Runs to Finish Sixth in League 2

টানটান শেষ লড়াইয়ে কানাডাকে টপকে গেল নেপাল

সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, আল আমেরাত ক্রিকেট গ্রাউন্ডের মিনিস্ট্রি টার্ফ ১-এ ওমানের বিপক্ষে ২৮০ রান ডিফেন্ড করে ১০ রানে জিতেছে নেপাল। এতে আইসিসি পুরুষদের ক্রিকেট বিশ্বকাপ লিগ ২ অভিযান ষষ্ঠ স্থানে থেকে শেষ করল তারা। শেষ ওভারে ওমানের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৩ রান। বল হাতে সেই ওভার করেন দীপেন্দ্র সিং আইরি। ব্যাট হাতে ৬৯ রান ও বল হাতে দুই উইকেটসহ ম্যাচে নির্ণায়ক ভূমিকা রাখেন তিনি।

সূচিপত্র
  1. টানটান শেষ লড়াইয়ে কানাডাকে টপকে গেল নেপাল
  2. ৯৯ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন পৌডেল ও আইরি
  3. বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি ওমানের বোলাররা
  4. সিং ও মির্জার জুটিতে নিয়ন্ত্রণ নেয় ওমান
  5. চাপের মুখে শেষ ওভার সামলান আইরি
  6. প্রত্যাবর্তনের পেছনের চাপ
  7. কানাডার সঙ্গে লড়াইয়ের নিষ্পত্তি যেভাবে
  8. নেপালের জন্য ষষ্ঠ স্থানের তাৎপর্য
  9. মূল বিষয়গুলো

এই জয়ে ৩৬ ম্যাচে নেপালের পয়েন্ট হলো ৩০, একইসংখ্যক ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে সপ্তম স্থানে থাকা কানাডার চেয়ে এক পয়েন্ট বেশি। শেষ ম্যাচের আগে নেপাল ছিল সপ্তম স্থানে; নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীকে টপকাতে তাদের জয়ের প্রয়োজন ছিল।

নেপালের হয়ে রোহিত পৌডেল করেন ৮০, আইরি ৬৯ এবং দেব খানাল ৫৭ রান। দলটি অলআউট হয় ২৮০ রানে। জতিন্দর সিং ও হাম্মাদ মির্জার জুটিতে ১৫৮ রান যোগ হলে লক্ষ্য তাড়া করে জয়ের পথে এগিয়ে যায় ওমান। ২৮১ রানের লক্ষ্য নাগালের মধ্যে নিয়ে এসেছিল তাদের এই জুটি।

জুটিটি ভেঙে শেষ দিকে আরও উইকেট তুলে নেয় নেপাল। ৫০ ওভারে ওমানকে ২৭০ রানে আটকে রেখে জয় নিশ্চিত করে তারা। হাসনাইন শাহ ২৩ বলে ৪০ রানে অপরাজিত থাকলেও শেষ দিকে তাঁর ঝোড়ো ব্যাটিং ওমানকে জেতাতে পারেনি।

ষষ্ঠ স্থানে থেকে নেপাল এক দিনের আন্তর্জাতিক (ওডিআই) মর্যাদা ধরে রাখার সম্ভাবনা জোরালো করেছে এবং বাছাই প্লেঅফের মাধ্যমে ২০২৭ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপে যাওয়ার পথে রয়েছে। ম্যাচের পর সন্দীপ লামিছানে বলেন, নেপাল তাদের মর্যাদা ধরে রেখেছে। তবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তখনও বাকি ছিল বলে তিনি স্বীকার করেন।

৯৯ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর হাল ধরেন পৌডেল ও আইরি

টসে জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নেপাল। তবে ৯৯ রানে তৃতীয় উইকেট পড়ার পর ইনিংস মেরামতের প্রয়োজন হয়। পৌডেল ও আইরি সেই দায়িত্ব নেন। চতুর্থ উইকেটে ১৩৯ রান যোগ করে তাঁরা নেপালকে ৩ উইকেটে ২৩৮ রানে পৌঁছে দেন।

ওডিআই ক্রিকেটে চতুর্থ উইকেটে নেপালের সর্বোচ্চ জুটি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে তাঁদের এই জুটিকে। শেষ পর্যন্ত দলের মোট রানের প্রায় অর্ধেকই এসেছে এই জুটি থেকে: নেপালের ২৮০ রানের মধ্যে ১৩৯, অর্থাৎ প্রায় ৪৯.৬ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

৮১ বলে ৮০ রান করে ফেরেন পৌডেল; তাঁর ইনিংসে ছিল দুটি চার ও দুটি ছক্কা। বাউন্ডারি থেকে আসে ২০ রান, বাকি ৬০ রান দৌড়ে নেন তিনি। তাঁর ইনিংস নেপালকে স্থিরভাবে রান তোলার ভিত্তি দেয়, অন্যদিকে আইরি তুলনামূলক বেশি বাউন্ডারি মারেন।

৬২ বলে ৬৯ রান করেন আইরি। তাঁর ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও চারটি ছক্কা। বাউন্ডারি থেকে আসে ৩৬ রান, যা তাঁর মোট রানের অর্ধেকের কিছু বেশি। দুই ব্যাটার মিলে ইনিংসটি ঘুরে দাঁড় করান; শেষ দিকে ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের ওপর নির্ভর করতে হয়নি নেপালকে।

এর আগে ৬৫ বলে ৫৭ রান করেন খানাল; তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও একটি ছক্কা। তিনটি অর্ধশতক মিলে আসে ২০৬ রান, যা নেপালের মোট রানের প্রায় ৭৪ শতাংশ। ইশান পাণ্ডে যোগ করেন ২৯ রান। এতে ওমানের সামনে প্রতি ওভারে সাড়ে পাঁচের বেশি রান তোলার লক্ষ্য দাঁড়ায়।

বড় সংগ্রহ গড়তে দেয়নি ওমানের বোলাররা

নেপাল ৩ উইকেটে ২৩৮ রানে পৌঁছানোর পর দারুণভাবে ম্যাচে ফেরে ওমান। বাকি সাত উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪২ রান যোগ করে নেপাল; ৫০তম ওভারের শেষ বলে অলআউট হয় তারা।

৮ ওভারে ৫৭ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন শাহ ফয়সল। পাঁচ উইকেট নেওয়া মানে প্রতিপক্ষের খেলতে নামা ১০ ব্যাটারের অর্ধেককে আউট করা; এক ওডিআই ইনিংসে এটি বড় অবদান।

জয় ওদেদ্রা নেন তিন উইকেট, সময় শ্রীবাস্তব নেন দুটি। অর্থাৎ এই তিন বোলারই নেপালের ১০ উইকেট ভাগ করে নেন। পৌডেল ও আইরির দীর্ঘ জুটির পর ক্ষতি সীমিত রাখতে তাঁদের সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

শেষ দিকে মূল্যবান অবদান রাখেন বাসির আহমেদও। ৭ বলে ১৭ রান করেন তিনি, যার মধ্যে ছিল দুটি চার ও একটি ছক্কা। তাঁর ১৪ রানই আসে বাউন্ডারি থেকে। শেষ পর্যন্ত ১০ রানের ব্যবধানে নির্ধারিত ম্যাচে এই সংক্ষিপ্ত ইনিংস নেপালকে ডিফেন্ড করার জন্য সামান্য বাড়তি স্বস্তি দেয়।

জিততে ওমানের প্রয়োজন ছিল ২৮১ রান। তারা শেষ করে ২৭০ রানে, জয়ের লক্ষ্য থেকে ১১ রান কম; তবে নেপালের স্কোরের চেয়ে ১০ রান পিছিয়ে ছিল। এ কারণেই জয়ের আনুষ্ঠানিক ব্যবধান ১০ রান।

বিজ্ঞাপন

সিং ও মির্জার জুটিতে নিয়ন্ত্রণ নেয় ওমান

৩২ রানে প্রথম উইকেট হারানোর পর ম্যাচের সবচেয়ে বড় জুটি গড়েন জতিন্দর সিং ও হাম্মাদ মির্জা। দ্বিতীয় উইকেটে তাঁদের ১৫৮ রানের জুটিতে ওমানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯০-এ। ম্যাচে ফেরার আরেকটি সুযোগ তৈরি করতে নেপালকে তখন কঠোর পরিশ্রম করতে হয়।

১১৪ বলে ৮৯ রান করেন সিং; তাঁর ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও একটি ছক্কা। মির্জা করেন ৯৭ বলে ৮৭ রান, যার মধ্যে ছিল পাঁচটি চার ও তিনটি ছক্কা। দুজন মিলে যোগ করেন ১৭৬ রান, যা ওমানের শেষ সংগ্রহের প্রায় ৬৫ শতাংশ।

সিংয়ের চেয়ে দ্রুত রান তোলেন মির্জা, আর সিং ক্রিজে ছিলেন বেশি সময়। পৌডেল ও আইরির জুটির চেয়ে তাঁদের জুটি ১৯ রান বড় ছিল। দুজনের কেউ শতক না পেলেও ওমানকে শক্ত ভিত এনে দেয় এই জুটি।

১৯০ রানে জুটিটি ভাঙে নেপাল। ১৩ রান পর আরেকটি উইকেট নেয় তারা। এরপর ওমানের স্কোর দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ২০৩ এবং পরে ৪ উইকেটে ২০৬। ১৩ রান করা বিনায়ক শুক্লা ২২৪ রানে পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে আউট হন।

এরপর সঞ্জু সাজিব রানআউট হলে ৬ উইকেটে ২৩২ রানে নেমে আসে ওমান। এই ধারাবাহিকতা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়: ১৯০ রানে পৌঁছাতে মাত্র একটি উইকেট হারানো ওমান পরের ৪২ রান যোগ করতেই হারায় আরও পাঁচ উইকেট। শেষ দিকে দ্রুত রান তোলার দায়িত্ব পড়ে শাহর ওপর।

চাপের মুখে শেষ ওভার সামলান আইরি

মাত্র ২৩ বলে অপরাজিত ৪০ রান করে ওমানকে লড়াইয়ে রাখেন শাহ। হাসনাইন উল ওয়াহাবও যোগ করেন ১৫ রান। তবে নেপাল প্রয়োজনীয় রান তোলার হার এতটাই বাড়িয়ে দিয়েছিল যে বাকি প্রতিটি বল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

শেষ ছয় বলে ওমানের প্রয়োজন ছিল ২৩ রান। বল হাতে নেন আইরি। প্রথম বলে দুই রান নেন শাহ, এরপর টানা দুটি চার মারেন। প্রথম তিন বলে ১০ রান আসায় শেষ তিন বলে প্রয়োজন দাঁড়ায় ১৩। জয়ের সম্ভাবনা তখনও ছিল।

চতুর্থ বলে দুই রান নেন শাহ। শেষ দুই বলে তখন ওমানের প্রয়োজন ১১। এরপর আইরি করেন ডট বল, অর্থাৎ যে বলে কোনো রান হয় না। শেষ বলেও কোনো রান আসেনি; ২৭০ রানেই থামে ওমানের ইনিংস।

বিজ্ঞাপন

ওভারটিতে ১২ রান দিয়ে ঠিক ১০ রানের ব্যবধান ধরে রাখেন আইরি। ১০ ওভারে ৬০ রান দিয়ে নেন দুই উইকেট। ব্যাট হাতে আগের অবদানের সঙ্গে মিলিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কারও পান তিনি।

৮ ওভারে ৫৩ রান দিয়ে দুটি উইকেট নেন ললিত রাজবংশী। লামিছানে ও নন্দন যাদব নেন একটি করে উইকেট। ওমানের ব্যাটাররা ম্যাচে থাকার সময় রান আটকানোর পাশাপাশি সেট হয়ে যাওয়া ব্যাটারদের আউট করাও ছিল নেপালের বোলিংয়ের সাফল্যের চাবিকাঠি।

প্রত্যাবর্তনের পেছনের চাপ

ম্যাচের পর আইরি বলেন, পৌডেলের সঙ্গে জুটি গড়ার সময় পিচ ব্যাটিংয়ের জন্য ভালো ছিল। ওমানের বড় জুটি যে রান তাড়াকে দীর্ঘায়িত করে নেপালের ওপর চাপ বাড়িয়েছিল, সেটিও তিনি ব্যাখ্যা করেন।

ম্যাচের গতিপ্রকৃতিও তাঁর মূল্যায়নের সঙ্গে মেলে। ২৮০ রানের সংগ্রহ নেপালের বোলারদের ডিফেন্ড করার মতো ভালো ভিত দিয়েছিল। কিন্তু সিং ও মির্জা দীর্ঘ সময় একসঙ্গে টিকে থেকে লক্ষ্যকে নাগালের মধ্যে নিয়ে আসেন। তাঁদের জুটি ভাঙাই ছিল ম্যাচের মোড় ঘোরানো মুহূর্ত।

লামিছানেও ওমানের দুই ব্যাটারের প্রশংসা করে বলেন, তাঁরা নেপালকে খুব বেশি সুযোগ দেননি। তাঁর ভাষ্য, প্রয়োজনীয় রান তোলার হার যখন ওভারপ্রতি প্রায় সাত ছিল, তখনও নেপাল চাপ ধরে রাখে এবং স্বাগতিকদের অতিরিক্ত ঝুঁকি নিতে বাধ্য করে।

ব্যাট হাতে খানাল, পৌডেল, আইরি ও আহমেদের অবদানের কৃতিত্ব দেন লামিছানে। বোলিং দলকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। অভিযানে ভাগ্য বারবার বদলালেও নেপালের পাশে থাকার জন্য সমর্থকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ওডিআই মর্যাদা নিয়ে তাঁর মন্তব্যে জয়ের পর স্বস্তির প্রতিফলন ছিল। ম্যাচের পর অনুবাদে লামিছানে বলেন:

আমরা খুশি, ষষ্ঠ স্থানে থেকে ওডিআই মর্যাদা ধরে রাখতে পেরেছি। তবে আইসিসি এখনও এ বিষয়ে ঘোষণা দেয়নি।

কানাডার সঙ্গে লড়াইয়ের নিষ্পত্তি যেভাবে

নেপালের শেষ সিরিজে চার ম্যাচ থেকে আসে তিনটি জয়। প্রথম দুই ম্যাচে কানাডা ও ওমানকে হারায় তারা, শনিবার কানাডার কাছে হারে, এরপর সোমবার আবার ওমানকে হারায়।

বিজ্ঞাপন

১১ অক্টোবর কানাডার বিপক্ষে শতক করেন পৌডেল। ১২৭ বলে ১০১ রান করেন তিনি। ২৩৫ রান ডিফেন্ড করে ২৪ রানে জেতে নেপাল। ওই জয়ে ৩২ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট থেকে ৩৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্টে পৌঁছায় দলটি এবং সাময়িকভাবে কানাডাকে টপকে যায়।

পয়েন্ট তালিকার শেষ দিকের লড়াইটি এগিয়েছে এভাবে:

  • ১১ অক্টোবর: কানাডাকে ২৪ রানে হারিয়ে ৩৩ ম্যাচে ২৬ পয়েন্টে পৌঁছায় নেপাল।
  • পরের ম্যাচ: ওমানকে হারিয়ে নেপালের পয়েন্ট হয় ২৮।
  • শনিবার, ১৭ অক্টোবর: কানাডার কাছে হারে নেপাল। ৩৬ ম্যাচে কানাডার পয়েন্ট হয় ২৯; ৩৫ ম্যাচে নেপালের থাকে ২৮।
  • সোমবার, ১৯ অক্টোবর: ওমানকে ১০ রানে হারিয়ে ৩৬ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থান ফিরে পায় নেপাল।

নেপাল অভিযান শেষ করেছে ১৪ জয়, ২০ হার এবং পয়েন্ট ভাগাভাগি হওয়া দুটি ম্যাচ নিয়ে। ১৪ জয়ে আসে ২৮ পয়েন্ট; বাকি দুই পয়েন্ট যোগ হয়ে মোট দাঁড়ায় ৩০।

ওমানের বিপক্ষে নেপালের শেষ ম্যাচের আগে কানাডার আর কোনো ম্যাচ বাকি ছিল না। ফলে নেপালের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট: জিতে কানাডার চেয়ে এক পয়েন্ট এগিয়ে থেকে শেষ করা। সোমবারের ফলেই সেই লড়াইয়ের নিষ্পত্তি হয়।

নেপালের জন্য ষষ্ঠ স্থানের তাৎপর্য

২০২৭ সালের আইসিসি পুরুষদের ক্রিকেট বিশ্বকাপে যাওয়ার বাছাইপর্বের অংশ লিগ ২। সেরা চারে না থাকায় নেপাল সরাসরি মূল বাছাই টুর্নামেন্টে যেতে পারেনি; বিশ্বকাপ বাছাই প্লেঅফের মধ্য দিয়ে তাদের পথ এগোবে।

প্লেঅফ থেকে বিশ্বকাপের দিকে এগোনোর আরেকটি সুযোগ পাবে দলগুলো। বিশ্বকাপে পৌঁছাতে নেপালের আরও সাফল্য প্রয়োজন। ষষ্ঠ স্থানে শেষ করার মধ্য দিয়ে লিগের অভিযান শেষ হয়েছে, বাছাইয়ের যাত্রা নয়।

ওডিআই মর্যাদা আলাদা বিষয়। এই মর্যাদা জাতীয় দলকে এক দিনের আন্তর্জাতিক হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ ম্যাচ খেলার যোগ্যতা দেয়। এই সংস্করণে সাধারণত প্রতিটি দল সর্বোচ্চ ৫০ ওভার খেলে। কানাডার সঙ্গে লড়াইয়ে মর্যাদা ধরে রাখার বিষয়টি নেপালের জন্য ছিল বড় উদ্বেগ।

এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল জানিয়েছে, নেপাল সেই মর্যাদা নিশ্চিত করেছে। ম্যাচের পর লামিছানেও একই ধারণা প্রকাশ করেন। তবে আইসিসির ঘোষণা বাকি রয়েছে বলে তাঁর স্বীকারোক্তি আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণকে পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে রেখেছে।

পয়েন্ট তালিকায় অল্প ব্যবধানে এগিয়ে থেকে এবং মাঠে অল্প ব্যবধানে জিতে লিগ শেষ করেছে নেপাল। পৌডেল ও আইরির ব্যাটিংয়ে ঘুরে দাঁড়ানো, ওমানের ১৫৮ রানের জুটির পর উইকেট তুলে নেওয়া এবং আইরির শেষ দুই বলে কোনো রান না দেওয়া—সব মিলিয়ে প্রয়োজনীয় ফল এনে দিয়েছে তাদের।

বিজ্ঞাপন

মূল বিষয়গুলো

  • ১৯ অক্টোবর আল আমেরাতে ওমানকে ১০ রানে হারিয়েছে নেপাল। ২৮০ রান ডিফেন্ড করে স্বাগতিকদের ২৭০ রানে আটকে দেয় তারা।
  • ৩৬ ম্যাচে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে ষষ্ঠ স্থানে শেষ করেছে নেপাল; ২৯ পয়েন্ট নিয়ে কানাডা ছিল তাদের পেছনে।
  • রোহিত পৌডেল করেন ৮০, দীপেন্দ্র সিং আইরি ৬৯ এবং দেব খানাল ৫৭ রান।
  • ৯৯ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর চতুর্থ উইকেটে পৌডেল ও আইরি যোগ করেন ১৩৯ রান।
  • ওমানের রান তাড়ায় জতিন্দর সিং করেন ৮৯ এবং হাম্মাদ মির্জা ৮৭; তাঁদের জুটিতে আসে ১৫৮ রান।
  • শেষ ওভারে ২৩ রান ডিফেন্ড করে ম্যাচসেরা হন আইরি।
  • বিশ্বকাপে যাওয়ার পথে নেপালকে বাছাই প্লেঅফ খেলতে হবে; ম্যাচের পরও ওডিআই মর্যাদা নিয়ে আইসিসির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা বাকি ছিল।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে