জন্মের সময় শিশুর ওজনসংক্রান্ত দাবি ও কিডনি রোগীদের পুষ্টি-পাউডার নিয়ে যাচাই
হরলিক্স পুষ্টিবর্ধক পানীয়, রিসোর্স রেনাল পাউডার এবং নেসক্যাফের তিনটি পানীয় নিয়ে কথিত নিয়মভঙ্গের বিষয়ে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার ও নেসলে ইন্ডিয়াকে ব্যাখ্যা দিতে বলেছে ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ২০২৬ সালের ১৭ অক্টোবর প্রকাশ্যে জানানো এই পদক্ষেপে শিশুর জন্মের সময়ের ওজন, হাড়ের শক্তি, পণ্যের অনুমোদন এবং প্যাকেট ও অনলাইন কেনাকাটার পাতায় পরস্পরবিরোধী বর্ণনা নিয়ে করা দাবিগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
সূচিপত্র
- জন্মের সময় শিশুর ওজনসংক্রান্ত দাবি ও কিডনি রোগীদের পুষ্টি-পাউডার নিয়ে যাচাই
- মাদার্স প্লাসের ভাষা নিয়ে কেন নোটিশ
- উইমেনস প্লাস নিয়ে আরও বিস্তৃত আপত্তি
- প্রমাণ জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার
- রিসোর্স রেনাল নিয়ে অনুমোদনের প্রশ্ন
- নেসক্যাফের তিনটি পানীয়ের বর্ণনায় অসংগতি
- নেসক্যাফে বিষয়ে নেসলের জবাব
- অন্যান্য ব্যবসার বিরুদ্ধে লাইসেন্স ও মামলা-সংক্রান্ত ব্যবস্থা
- কার্যক্রমের অগ্রগতি
- মূল বিষয়গুলো
হরলিক্স মাদার্স প্লাস কেশর ৪০০ গ্রাম BIB-এর গায়ে থাকা "Healthy Birth Weight" এবং একটি বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত "For baby's healthy birth weight" কথাগুলো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অব ইন্ডিয়া (FSSAI)। সংস্থাটি বলেছে, এই ভাষা থেকে এমন ধারণা হতে পারে যে খাবারটিই উল্লিখিত স্বাস্থ্যগত উপকার নিশ্চিত করে, যা ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করতে পারে।
নেসলে ইন্ডিয়ার রিসোর্স রেনাল ভ্যানিলা পাউডার নিয়ে আপত্তি ভিন্ন। FSSAI বলেছে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্ষণশীল চিকিৎসার পাশাপাশি খাদ্যাভ্যাস ব্যবস্থাপনার জন্য তৈরি এই পণ্যের প্রয়োজনীয় পূর্বানুমোদন ছিল না এবং নির্ধারিত নিরামিষ বা আমিষ প্রতীকও ছিল না।
অভিযোগগুলো প্রত্যাখ্যান করেছে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার এবং বলেছে, তারা বৈজ্ঞানিক ও নিয়ন্ত্রকসংক্রান্ত প্রমাণ দেবে। নেসলে জানিয়েছে, নেসক্যাফের লেবেলিং-সংক্রান্ত বিষয়ে তারা কর্তৃপক্ষকে জবাব দেবে এবং পানীয়গুলো পান করা নিরাপদ বলে তাদের অবস্থান বজায় রেখেছে। রিসোর্স রেনাল বিষয়ে তাদের জবাব তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পরবর্তী সিদ্ধান্তের আগে কোম্পানিগুলোকে তাদের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে। FSSAI অন্যান্য খাদ্য ব্যবসার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিয়েছে; এর মধ্যে একটি লাইসেন্স বাতিল, আরেকটি স্থগিত এবং পৃথক কয়েকটি ঘটনায় মামলা করার অনুমোদন রয়েছে। এসব পদক্ষেপে এই নিয়ন্ত্রক অভিযানের পরিধি আরও বিস্তৃত হয়েছে: প্যাকেটে ভোক্তারা যে প্রতিশ্রুতি পড়েন, সেখান থেকে খাদ্য কারখানার ভেতরের পরিস্থিতি পর্যন্ত।
মাদার্স প্লাসের ভাষা নিয়ে কেন নোটিশ
একটি অভিযোগ, হরলিক্স মাদার্স প্লাসের লেবেল, বিজ্ঞাপন এবং অনলাইন পণ্যের তালিকা পর্যালোচনা করেছে FSSAI। আপত্তি ছিল বক্তব্যগুলো নিয়ে এবং ক্রেতাদের কাছে প্রদর্শিত পণ্যের নামের মধ্যে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত দাবি যেভাবে যুক্ত করা হয়েছে, তা নিয়েও।
জন্মের সময়ের ওজনসংক্রান্ত ভাষা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সময় নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস (অ্যাডভার্টাইজিং অ্যান্ড ক্লেইমস) রেগুলেশনস, ২০১৮-এর উল্লেখ করেছে। স্বাস্থ্যসংক্রান্ত দাবি বলতে কোনো খাবার বা এর উপাদানের সঙ্গে শরীরের কোনো উপকারের সম্পর্ক বোঝায়। এ ক্ষেত্রে FSSAI-এর উদ্বেগ, ভাষাটি এমন একটি উপকারের কথা বলেছে—যা শিশুর জন্মের সময়ের ওজনের সঙ্গে সম্পর্কিত—এবং যা পণ্যটি নিজেই দিতে পারে বলে মনে হতে পারে।
অনলাইন তালিকায় প্যাকেটের সংক্ষিপ্ত নামের চেয়েও বেশি তথ্য ছিল। সেখানে পণ্যের নামের অংশ হিসেবে লেখা ছিল "For Pregnancy and Lactation with Protein for Birth Weight and DHA for Brain Development - No Added Sugar"। FSSAI বলেছে, এভাবে উপস্থাপন করা প্রযোজ্য বিধির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ল্যাকটেশন বলতে বুকের দুধ উৎপাদন বোঝায়। DHA মস্তিষ্কের বিকাশে ভূমিকা রাখা একটি ফ্যাটি অ্যাসিড। কোনো উপাদানের নাম উল্লেখ করা আর চূড়ান্ত পণ্যের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট ফলাফলের সম্পর্ক দেখানো—বিপণনবার্তার এ দুটি আলাদা ধাপ। এই সংযোগগুলো বোঝাতে ব্যবহৃত ভাষা পর্যালোচনা করছে FSSAI। অন্যদিকে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার বলেছে, তাদের পণ্য ও যোগাযোগের পক্ষে প্রমাণ রয়েছে।
উইমেনস প্লাস নিয়ে আরও বিস্তৃত আপত্তি
হরলিক্স উইমেনস প্লাস চকোলেট নিউট্রিশন ড্রিংক ৪০০ গ্রাম নিয়েও আপত্তি তোলা হয়েছে। FSSAI "Nutrition for Strong Bones", "Clinically Proven to Help Improve Bone Strength in 6 Months" এবং "Improves Bone Health"-সহ কয়েকটি দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে এবং এগুলোকে বিভ্রান্তিকর বা বিধির সঙ্গে অসংগত বলে বর্ণনা করেছে।
খাদ্যসংক্রান্ত দাবিতে "healthy" শব্দের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণকারী বিধির আওতায় "Healthy Muscles" কথাটিতেও আপত্তি জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পণ্যটিতে স্টার্চ থেকে তৈরি উপাদান মল্টোডেক্সট্রিন থাকায় "No Added Sugar" দাবিটি নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। পাশাপাশি, পুষ্টিতথ্যের তালিকা নির্ধারিত বিন্যাসে দেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
আরেকটি দাবি, "100% RDA of Calcium, Vitamin D & K2", প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করেনি বলে দেখা গেছে। RDA অর্থ দৈনিক সুপারিশকৃত পুষ্টি গ্রহণমাত্রা; প্রতিদিনের পুষ্টির চাহিদা বর্ণনায় ব্যবহৃত একটি নির্দেশক পরিমাণ এটি। শতকরা হারে কোনো দাবি করা হলে, কোন পরিমাণ পণ্যে কতটা পুষ্টি রয়েছে তা ক্রেতার বোঝার জন্য যথেষ্ট প্রেক্ষাপট থাকা প্রয়োজন।
উইমেনস প্লাস-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ ও অনলাইন কেনাকাটার প্ল্যাটফর্মগুলোকে বলেছে FSSAI। এতে বিষয়টি প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের বাইরেও গড়িয়েছে: কেনার স্থানে প্রদর্শিত ভাষাও এখন যাচাইয়ের আওতায়।
প্রমাণ জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার
হিন্দুস্তান ইউনিলিভার বলেছে, মাদার্স প্লাস ও উইমেনস প্লাস নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত মেনে চলে। কোম্পানির এক মুখপাত্র জানান, প্রতিষ্ঠিত পুষ্টিবিজ্ঞানের ভিত্তিতে পণ্য দুটি তৈরি করা হয়েছে এবং কঠোর মান ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করে উৎপাদন করা হয়।
কোম্পানির যোগাযোগও সমর্থন করেন মুখপাত্রটি এবং তাদের পরবর্তী পদক্ষেপের কথা জানান:
পণ্যের সব ধরনের যোগাযোগ প্রযোজ্য আইন, বিধিমালা ও পরিচালনাগত প্রক্রিয়া মেনে তৈরি করা হয়। পর্যালোচনার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে সব বৈজ্ঞানিক ও নিয়ন্ত্রকসংক্রান্ত প্রমাণ জমা দেব।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব দিতে কোম্পানিকে নির্দেশ দিয়েছে FSSAI। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ব্যাখ্যা সন্তোষজনক না হলে খাদ্য নিরাপত্তা আইনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। জবাব দেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তারিখ প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
হিন্দুস্তান ইউনিলিভারের তাৎক্ষণিক কাজ হলো, যেসব নির্দিষ্ট বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সেগুলোর পক্ষে প্রমাণ দেওয়া। নিয়ন্ত্রক সংস্থার আপত্তি কয়েক ধরনের বক্তব্য নিয়ে: ছয় মাসে হাড়ের শক্তি বাড়ানোর দাবি থেকে শুরু করে পুষ্টি উপাদানের শতাংশ এবং "healthy" শব্দের ব্যবহার পর্যন্ত। প্রতিটি ক্ষেত্রেই পণ্যটি সম্পর্কে ভোক্তাদের কী জানানো হচ্ছে, তা বিবেচ্য।
রিসোর্স রেনাল নিয়ে অনুমোদনের প্রশ্ন
রিসোর্স রেনাল দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত এবং রক্ষণশীল চিকিৎসা নিচ্ছেন—এমন ব্যক্তিদের জন্য তৈরি; অর্থাৎ ডায়ালাইসিস ছাড়াই রোগ নিয়ন্ত্রণের চিকিৎসা। নির্দিষ্ট একটি চিকিৎসাগত অবস্থার খাদ্যাভ্যাস ব্যবস্থাপনা এর ঘোষিত উদ্দেশ্য। এ কারণে পণ্যটি বিশেষায়িত নিয়ন্ত্রক শ্রেণির আওতায় পড়ে।
FSSAI বলেছে, ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস (হেলথ সাপ্লিমেন্টস, নিউট্রাসিউটিক্যালস, ফুড ফর স্পেশাল ডায়েটারি ইউজ, ফুড ফর স্পেশাল মেডিক্যাল পারপাস, এবং প্রিবায়োটিক অ্যান্ড প্রোবায়োটিক ফুড) রেগুলেশনস, ২০২২-এর আওতায় পূর্বানুমোদন প্রয়োজন ছিল। নোটিশ অনুযায়ী, নেসলে ইন্ডিয়া সেই অনুমোদন নেয়নি।
নিরামিষ বা আমিষ প্রতীক না থাকায় পৃথকভাবে ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস (লেবেলিং অ্যান্ড ডিসপ্লে) রেগুলেশনস, ২০২০-এর উল্লেখ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। প্যাকেটজাত খাবারের প্রাসঙ্গিক খাদ্যশ্রেণি শনাক্ত করতে এই প্রতীক ভোক্তাদের একটি মানসম্মত উপায় দেয়।
কথিত এই দুই অনিয়মের ব্যাখ্যা দিতে নেসলেকে বলা হয়েছে। চিকিৎসাগত খাদ্যতালিকা ব্যবস্থাপনায় এই পাউডার ব্যবহারকারীদের জন্য, পণ্যটির ঘোষিত উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন এবং লেবেলে যে তথ্য থাকা উচিত—দুটি বিষয়ই এ মামলার বিবেচ্য।
নেসক্যাফের তিনটি পানীয়ের বর্ণনায় অসংগতি
নেসক্যাফে ইনটেন্স ক্যাফে ক্যাপুচিনো, নেসক্যাফে চকো মোকা এবং নেসক্যাফে চিল্ড ল্যাটে নিয়ে পৃথক নোটিশ দিয়েছে FSSAI। নোটিশগুলোতে নেসলে ইন্ডিয়া এবং প্রস্তুতকারক শ্রাইবার ডাইনামিক্স ডেয়ারিজ ও লোটাস ডেয়ারি প্রোডাক্টসের নাম রয়েছে।
প্যাকেট ও অনলাইন বিক্রির পাতায় তিন ধরনের বর্ণনা শনাক্ত করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। প্যাকেটের সামনের দিকে লেখা ছিল "Flavoured Milk"। পেছনে লেখা ছিল "Proprietary Food - 1.12 Dairy Based Drink"। অনলাইন তালিকায় পণ্যগুলোকে "Coffee Flavoured Milk" বলা হয়েছে।
FSSAI বলেছে, ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস (ফুড প্রোডাক্টস অ্যান্ড ফুড অ্যাডিটিভস) রেগুলেশনস, ২০১১ অনুযায়ী পানীয়গুলো মাননির্ধারিত ফ্লেভারড মিল্ক শ্রেণিতে পড়ে। তাই তাদের বিবেচনায়, প্রোপ্রাইটারি ফুড ঘোষণা সঠিক ছিল না। মাননির্ধারিত কোনো শ্রেণির নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রক বর্ণনা থাকে; সঠিক শ্রেণি বেছে নিলে পণ্যটি কীভাবে উপস্থাপন করতে হবে, তা নির্ধারিত হয়।
ফ্লেভারড ডাবল টোনড মিল্কের গুণাগুণ নিয়ে অনলাইনে ব্যবহৃত ভাষা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে কর্তৃপক্ষ। তাদের বক্তব্য, ঘোষিত উপাদান বা শ্রেণির সঙ্গে ওই ভাষা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ক্ষেত্রে ২০১৮ সালের বিজ্ঞাপনসংক্রান্ত বিধি এবং ২০২০ সালের লেবেলিং বিধির উল্লেখ করেছে তারা।
ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অ্যাক্ট, ২০০৬-এর আওতায় কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে কোম্পানিগুলোকে। কার্যক্রমে উল্লেখিত সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে বিধি ভঙ্গকারী বিজ্ঞাপন বন্ধ করা এবং সংশোধনী বিজ্ঞাপন দেওয়ার নির্দেশ।
নেসক্যাফে বিষয়ে নেসলের জবাব
নেসলে ইন্ডিয়া জানিয়েছে, তারা যে বার্তা পেয়েছে তা নেসক্যাফের পানীয়গুলোর লেবেলে দেওয়া তথ্য ও শ্রেণিবিন্যাস নিয়ে। বিবৃতিতে কোম্পানিটি পানীয়গুলোর নিরাপত্তার পক্ষে অবস্থান জানায় এবং কীভাবে জবাব দেবে তা উল্লেখ করে:
উল্লিখিত পণ্যগুলো পান করা নিরাপদ এবং খাদ্য নিরাপত্তার সব প্রযোজ্য শর্ত পূরণ করে। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে জবাব জমা দেব এবং আইনে নির্ধারিত যথাযথ প্রক্রিয়া অনুযায়ী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখব।
কোম্পানির বিবৃতিতে নেসক্যাফে পণ্যসম্ভার নিয়ে কথা বলা হয়েছে। FSSAI-এর রিসোর্স রেনাল-সংক্রান্ত নোটিশটি অন্য একটি পণ্য নিয়ে, যার অনুমোদন ও লেবেলিংয়ের শর্ত আলাদা।
নেসক্যাফে মামলায় প্রস্তুতকারক এবং ব্র্যান্ডের মালিক—দুই পক্ষই একই কার্যক্রমের আওতায় এসেছে। প্যাকেটে ছাপা ভাষা থেকে অনলাইন কেনাকাটার পাতায় দেখানো বর্ণনা পর্যন্ত পণ্যের পুরো উপস্থাপনা নিয়ে FSSAI-এর প্রশ্ন। অনলাইন পাতায় কেনাকাটা করার সময় ভোক্তারা হয়তো পণ্যের আসল লেবেল পরীক্ষা করেন না।
অন্যান্য ব্যবসার বিরুদ্ধে লাইসেন্স ও মামলা-সংক্রান্ত ব্যবস্থা
বালা জি ফুড প্রোডাক্টসের বিরুদ্ধে আরও অগ্রসর পর্যায়ের ব্যবস্থা নিয়েছে FSSAI। খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশনসংক্রান্ত নিয়ম বারবার না মানায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এর আগে লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছিল এবং ব্যাখ্যা সন্তোষজনক নয় বলে বিবেচিত হওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যক্তিগত শুনানির সুযোগ দেওয়া হয়।
উৎপাদন, প্যাকেটজাতকরণ, প্রক্রিয়াকরণ ও বিতরণ বন্ধ করতে কোম্পানিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক ঘোষণায় বালা জিসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লাইসেন্স স্থগিতের কথা বলা হয়েছিল; বিস্তারিত পদক্ষেপে বলা হয়, আগের স্থগিতাদেশের পর লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে।
সুখ দর্শন ফার্মা, যা সুখদর্শন ফার্মা নামেও পরিচিত, পরিদর্শনে মাত্র ১১% নিয়ম-পরিপালন স্কোর পাওয়ার পর তাদের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। FSSAI প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ম না মানা প্রতিষ্ঠান হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে এবং শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে।
পরিদর্শকেরা অপর্যাপ্ত সংরক্ষণব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত দরজা, জালিবিহীন জানালা, জমে থাকা পানি, খসে পড়া রং, ধুলো ও অপর্যাপ্ত আলোর কথা উল্লেখ করেছেন। প্রক্রিয়াকরণ এলাকায় পরিষ্কারের রাসায়নিক রাখা হয়েছিল এবং বিভিন্ন জিনিস আলাদা করে রাখার ব্যবস্থাও অপর্যাপ্ত ছিল। খাদ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন, কাঁচামালের স্পেসিফিকেশন, প্যাকেজিং সনদ এবং ক্রয় ও পরিবহনের নথিসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ঘাটতিও ছিল।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণাবেক্ষণ, যন্ত্রপাতির ক্যালিব্রেশন, বর্জ্য অপসারণ এবং কর্মীদের স্বাস্থ্যবিধি ব্যবস্থায় ঘাটতির কথাও উল্লেখ করেছে FSSAI। এসব অনুসন্ধান খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও সংরক্ষণের পরিবেশ এবং কাজগুলো যাচাইয়ের জন্য প্রয়োজনীয় নথি—দুই বিষয়ই নিয়ে।
অন্য একটি ঘটনায়, গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে নির্ধারিত ভুসি আঁশের উৎস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে পরিদর্শকেরা দেখতে পাওয়ার পর প্রিয়াগোল্ড বিস্কুটের প্রস্তুতকারক সূর্য ফুড অ্যান্ড অ্যাগ্রোর বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমোদন দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ওই উপাদান থাকা বস্তায় গবাদিপশুর খাদ্য লেখা ছিল। পরিদর্শকেরা স্বাস্থ্যবিধি ও সংরক্ষণব্যবস্থায় ঘাটতিও শনাক্ত করেন; কোম্পানিটির লাইসেন্সও স্থগিত ছিল। দোদলা ডেয়ারি এবং ইউইর অর্গানিক ফুডসের বিরুদ্ধেও মামলা করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, যদিও অভিযোগগুলোর বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।
কার্যক্রমের অগ্রগতি
নতুন নোটিশগুলোর আগে নেসলে ইন্ডিয়াকে নিয়ে আরও কিছু কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। ধারাবাহিকতায় দেখা যায়, কয়েক মাস ধরে বিভিন্ন পণ্য ও কথিত নিয়মভঙ্গ নিয়ে একাধিক নিয়ন্ত্রক কার্যক্রম চলেছে:
- সেপ্টেম্বর ২০২৬: শিশুপুষ্টি পণ্যের বিপণনবিধি ও উৎপাদন মানদণ্ড ভঙ্গের অভিযোগে নেসলে ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে পৃথক কার্যক্রম শুরু হয়। কোম্পানিটি বলেছিল, তাদের পণ্য প্রযোজ্য বিধি মেনেই তৈরি।
- ১৭ অক্টোবর ২০২৬: নেসলে ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান ইউনিলিভারকে নিয়ে নোটিশ এবং অন্যান্য খাদ্য ব্যবসার বিরুদ্ধে লাইসেন্স-সংক্রান্ত পদক্ষেপ প্রকাশ্যে জানায় FSSAI।
- ১৮ অক্টোবর ২০২৬: মামলা করার অনুমোদন সম্পর্কে আরও বিস্তারিত প্রকাশিত হয়। নেসক্যাফে ও হরলিক্স-সংক্রান্ত কার্যক্রমে কোম্পানিগুলোর জবাবও বিবৃতিতে জানানো হয়।
কোম্পানিগুলোর জবাব বিবেচনার পর হরলিক্স ও নেসলে-সংক্রান্ত নোটিশে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে FSSAI। হিন্দুস্তান ইউনিলিভার বৈজ্ঞানিক ও নিয়ন্ত্রকসংক্রান্ত প্রমাণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, আর নেসলে জানিয়েছে, নেসক্যাফে-সংক্রান্ত বার্তার বিষয়ে তারা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে।
ভোক্তারা একসঙ্গে কয়েক ধরনের নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা দেখতে পাচ্ছেন: স্বাস্থ্যগত উপকারের দাবি নিয়ে প্রশ্ন, পণ্যের শ্রেণিবিন্যাস ও অনুমোদন যাচাই এবং কারখানার পরিস্থিতি নিয়ে পদক্ষেপ। ইতিমধ্যে যেসব বাস্তব পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সেগুলো লাইসেন্স বাতিল বা স্থগিত হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। হরলিক্স, রিসোর্স রেনাল ও নেসক্যাফে-সংক্রান্ত নোটিশে কোম্পানিগুলোকে নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যবেক্ষণের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
মূল বিষয়গুলো
- হরলিক্স মাদার্স প্লাসের জন্মের সময় শিশুর ওজনসংক্রান্ত দাবি এবং উইমেনস প্লাসের হাড়, পেশি ও পুষ্টি উপাদানসংক্রান্ত দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে FSSAI।
- অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে হিন্দুস্তান ইউনিলিভার জানিয়েছে, তারা বৈজ্ঞানিক ও নিয়ন্ত্রকসংক্রান্ত প্রমাণ জমা দেবে।
- রিসোর্স রেনালের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পূর্বানুমোদন না থাকা এবং নিরামিষ বা আমিষ প্রতীক না থাকার অভিযোগ রয়েছে।
- পণ্যের বর্ণনায় অসংগতি থাকায় নেসক্যাফের তিনটি পানীয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। নেসলে বলেছে, পানীয়গুলো নিরাপদ এবং তারা জবাব দেবে।
- বালা জি ফুড প্রোডাক্টসের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে; ১১% নিয়ম-পরিপালন স্কোর পাওয়ার পর সুখ দর্শন ফার্মার লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে।
- কোম্পানিগুলোর জবাব নিয়ন্ত্রক সংস্থার পর্যালোচনার পরই নোটিশগুলোর বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।






