আরেকটি শিরোপা জিততে বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের দরকার আর এক জয়
ডেনমার্ক ওপেনের সেমিফাইনালে জাপানের নোজোমি ওকুহারাকে ২১-১৬, ২১-৮ ব্যবধানে হারিয়ে টানা জয়ের সংখ্যা ৪৩-এ নিয়ে গেছেন আন সে-ইয়ং। এতে ফাইনালে আকানে ইয়ামাগুচির মুখোমুখি হওয়ার মঞ্চ তৈরি হয়েছে। সেখানে টানা দ্বিতীয় শিরোপা এবং মৌসুমের নবম চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের লড়াই হবে।
সূচিপত্র
১৭ তারিখে, কোরিয়ার সময় অনুযায়ী, ওডেন্সের এসজেএফ ব্যাংক অ্যারেনায় জয় নিশ্চিত করতে আন সে-ইয়ংয়ের ৩৬ মিনিট লেগেছে, বলছে ব্যাডমিন্টন ওয়ার্ল্ড ফেডারেশনের (বিডব্লিউএফ) আনুষ্ঠানিক ম্যাচের রেকর্ড। মৌসুমে এখন তার জয়-পরাজয়ের রেকর্ড ৬০-১; ৬১ ম্যাচে জয়ের হার ৯৮.৪ শতাংশ।
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে তৃতীয় ইয়ামাগুচি ৪০ মিনিটে চীনের দ্বিতীয় র্যাঙ্কিংধারী ওয়াং ঝিইকে ২১-১০, ২১-১৯ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছেন, জানিয়েছে বিডব্লিউএফের আনুষ্ঠানিক ফল। ফাইনাল হবে রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬। মৌসুমে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ ও এশিয়ান গেমসের একক ফাইনালসহ একাধিক বড় ম্যাচে মুখোমুখি হওয়া দুই খেলোয়াড় এবার আবার লড়বেন।
ডেনমার্ক ওপেনের আনুষ্ঠানিক সূচি অনুযায়ী, রোববার ফাইনালের পর্ব স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। দর্শকদের জন্য দরজা খুলবে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে। এটি পর্ব শুরুর সময়, নারীদের এককের ফাইনাল শুরুর নিশ্চিত সময় নয়।
ক্যারিয়ারের মুখোমুখি লড়াইয়ে আন ২৩-১৫ ব্যবধানে এগিয়ে এবং শেষ নয়টি লড়াইয়েই জিতেছেন। ওয়াংকে টানা দ্বিতীয়বার হারিয়ে এবং নিজেদের মুখোমুখি লড়াইয়ে জয় ১০-১০-এ সমতায় এনে ইয়ামাগুচিও আত্মবিশ্বাস নিয়ে ফাইনালে উঠছেন।
আনের সামনে ফাইনালে একসঙ্গে রয়েছে কয়েকটি মাইলফলকের সুযোগ: টানা ৪৪তম ম্যাচে জয়, শিরোপা ধরে রাখা এবং গত এক বছরে জাপানি প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে টানা ২০তম জয়। তার সেমিফাইনাল দেখিয়েছে, প্রতিপক্ষ এখনও তাকে কতটা চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে, আবার কাছাকাছি লড়াইকে কত দ্রুত তিনি একতরফা ফলে পরিণত করতে পারেন।
প্রথম গেমে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলেন ওকুহারা
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ১১তম ওকুহারা নেটের কাছে দ্রুত আদান-প্রদানের মাধ্যমে শুরুতেই আনকে পরীক্ষা করেন। প্রথম পয়েন্টটি জিতে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে যান জাপানি খেলোয়াড়। পরে ৬-৫ ব্যবধানেও এগিয়ে ছিলেন তিনি। নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আগে আনকে বেশ কয়েকটি অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে হয়।
আনের শটেও নিখুঁততার অভাব ছিল। কয়েকটি ফিরতি শট নেটে লাগে, আর অন্যগুলো কোর্টের বাইরে চলে যায়। দিক বদলে র্যালির প্রতিদ্বন্দ্বিতা ধরে রাখেন ওকুহারা। এর মধ্যে আন শাটল ফেরাতে গিয়ে অনেকটা এগিয়ে গেলে বিপরীত পাশে শট পাঠান তিনি।
৭-৬ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে ১১-৭ লিড নিয়ে যান আন। একটি গেমে কোনো খেলোয়াড় ১১ পয়েন্টে পৌঁছালে নেওয়া হয় এই সংক্ষিপ্ত বিরতি। চার পয়েন্টের ব্যবধান তাকে কিছুটা স্বস্তি দিলেও খেলা আবার শুরুর পরও ওকুহারা চ্যালেঞ্জ জানাতে থাকেন।
ব্যবধান ১৬-১১-এ বাড়ান আন; তবে ওকুহারা তা কমিয়ে ১৬-১৪ করেন। তখনও প্রথম গেমের লড়াই এতটা কাছাকাছি ছিল যে কয়েকটি পয়েন্টের ধারাই ফলের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারত।
আরও সরাসরি আক্রমণ করে জবাব দেন আন। ১৭-১৫ ব্যবধান থেকে টানা তিন পয়েন্ট জিতে গেম পয়েন্টে পৌঁছান। এরপর ওকুহারার শরীর লক্ষ্য করে স্ম্যাশ মেরে ২১-১৬ ব্যবধানে গেম জেতেন। আগের ভুলগুলোয় ব্যবধান কমে আসার পর আবার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার পুরস্কার ছিল এই সমাপ্তি।
টানা ছয় পয়েন্টে সেমিফাইনাল নিষ্পত্তি
দ্বিতীয় গেমে অনেক ভালো শুরু করেন আন। শুরুতে ৫-১, পরে ৮-২ ব্যবধানে এগিয়ে যান তিনি। তার আক্রমণাত্মক শট ও ফাঁকা জায়গায় প্লেসমেন্ট ওকুহারার হাতে সময় কমিয়ে দেয়। ফলে প্রথম গেমে শীর্ষ বাছাইকে যে দ্রুত আদান-প্রদানে চাপে ফেলেছিলেন, তা গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিরতিতে ১১-৬ ব্যবধানে পিছিয়ে ছিলেন ওকুহারা, যে ব্যবধান থেকে তখনও ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ ছিল। এরপর ১৩-৭-এ এগিয়ে যান আন। টানা ছয় পয়েন্ট জিতে ব্যবধান ১৯-৭ করেন এবং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ দৃঢ়ভাবে নিজের হাতে নেন।
দ্বিতীয় গেম শেষ হয় ২১-৮ ব্যবধানে। প্রথম গেমের তুলনায় অর্ধেক পয়েন্ট পান ওকুহারা, আর আনের জয়ের ব্যবধান পাঁচ থেকে বেড়ে ১৩ পয়েন্টে দাঁড়ায়। দুই গেম মিলিয়ে আন জিতেছেন ৪২ পয়েন্ট, ওকুহারা ২৪। বিডব্লিউএফের আনুষ্ঠানিক ম্যাচের রেকর্ডে ২১-১৬, ২১-৮ গেমের স্কোর এবং ম্যাচের সময় ০:৩৬ দেওয়া হয়েছে।
এই জয়ে ওকুহারার বিরুদ্ধে ছয় সাক্ষাতেই জয়ের রেকর্ড ধরে রাখলেন আন। শেষ চারবারের লড়াইয়ে কোনো গেম না হেরেই জিতেছেন তিনি। ব্যাডমিন্টনের এককের ম্যাচে দুই গেম জয়ী প্রথম খেলোয়াড়ই বিজয়ী হন, তাই আনের এবারের জয়ে তৃতীয় গেমের দরকার হয়নি।
সাবেক বিশ্বসেরা এবং ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী ওকুহারা সেমিফাইনালে এনেছিলেন বিপুল অভিজ্ঞতা। শুরুতে তার প্রতিরোধের কারণে নিয়ন্ত্রণ পেতে আনকে পরিশ্রম করতে হয়েছে, তবে দ্বিতীয় গেমে কোরীয় খেলোয়াড়ের ব্যবধান বাড়ার পর সেই চাপ ধরে রাখতে পারেননি তিনি।
ওয়াংকে হারাতে ঘুরে দাঁড়ান ইয়ামাগুচি
ইয়ামাগুচির সেমিফাইনাল ছিল ভিন্ন রকম। ওয়াংয়ের বিরুদ্ধে প্রথম গেমে আধিপত্য দেখান তিনি। দ্বিতীয় গেমের শুরুতে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়ে দুই গেমেই জয় নিশ্চিত করেন।
শুরুতে ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যান জাপানি খেলোয়াড় এবং প্রথম বিরতিতে লিড ছিল ১১-৪। আক্রমণ থেকে পয়েন্ট পেতে থাকেন তিনি। ১৭-৬ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ১৪ মিনিটে ২১-১০ স্কোরে গেম জেতেন।
দ্বিতীয় গেমে আরও আক্রমণাত্মক খেলে জবাব দেন ওয়াং এবং ৪-১ ব্যবধানে এগিয়ে যান। নেটের কাছে আদান-প্রদান ও দীর্ঘ র্যালিতে ধীরে ধীরে ব্যবধান কমান ইয়ামাগুচি। এর মধ্যে একটি র্যালিতে শটের আদান-প্রদান হয় ২৯ বার।
প্রথম গেমের তুলনায় শেষ দিকের লড়াই ছিল অনেক বেশি হাড্ডাহাড্ডি। ম্যাচ পয়েন্ট পেতে ২০-১৯ ব্যবধানে এগিয়ে যান ইয়ামাগুচি। ওয়াংয়ের শেষ শটটি কোর্টের বাইরে যায়। ২১-১৯ ব্যবধানে জিতে তৃতীয় গেমের শারীরিক ধকল ছাড়াই ফাইনাল নিশ্চিত করেন ইয়ামাগুচি।
এর আগে এশিয়ান গেমসের নারীদের এককের লড়াইয়েও ওয়াংকে হারিয়েছিলেন ইয়ামাগুচি। চীনা খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে এবারের জয়ে টানা দ্বিতীয়বার জিতলেন তিনি এবং ক্যারিয়ারের মুখোমুখি লড়াইয়ের রেকর্ড ১০-১০ করলেন। আনের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক ফলের তুলনায় এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক বেশি সমানে-সমান।
ফাইনালে পরিচিত প্রতিপক্ষ
ইয়ামাগুচির বিরুদ্ধে আনের ক্যারিয়ারজুড়ে ৩৮ সাক্ষাতে জয়-পরাজয়ের হিসাব ২৩-১৫। এর মধ্যে টানা নয়টি জয় দেখায়, সাম্প্রতিক লড়াইগুলো কতটা আনের পক্ষে গেছে।
তাদের যৌথ ইতিহাসে রয়েছে ২০২৪ সালের প্যারিস অলিম্পিকের কোয়ার্টার ফাইনাল। তিন গেমের লড়াইয়ে জিতে পরে নিজের প্রথম অলিম্পিক স্বর্ণপদক জেতেন আন। এ মৌসুমে তাদের মুখোমুখি লড়াইগুলো বারবার বড় শিরোপা বা জাতীয় দলের ফলাফলের সঙ্গে জড়িত ছিল।
আগস্টে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের এককের ফাইনালে ইয়ামাগুচিকে ২১-১৭, ২১-১৪ ব্যবধানে হারিয়ে দ্বিতীয় বিশ্ব শিরোপা জেতেন আন। সেপ্টেম্বরে চায়না মাস্টার্সে ২১-১৩, ২১-১৫ ব্যবধানের জয়ে সেই ধারা বজায় রাখেন।
এশিয়ান গেমসে তাদের আরও দুটি লড়াই হয়। এককের ফাইনালে ২১-১৭, ২১-৯ ব্যবধানে জিতে টানা দ্বিতীয়বার এশিয়ান গেমসের নারীদের এককে স্বর্ণ জেতেন আন। দলীয় প্রতিযোগিতায় ইয়ামাগুচি দ্বিতীয় গেমটি জিতলেও আন ২১-৯, ১৮-২১, ২১-১১ ব্যবধানে ম্যাচ জেতেন।
এই ফলগুলো ডেনমার্কের ফাইনালের জন্য তুলনার সুযোগ দেয়। দলীয় প্রতিযোগিতায় সাম্প্রতিক সময়ে ইয়ামাগুচি আনকে নির্ধারক গেম পর্যন্ত নিতে পেরেছেন। কিন্তু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, চায়না মাস্টার্স ও এশিয়ান গেমসের এককের লড়াইগুলো দুই গেমেই শেষ হয়েছে। ওডেন্সে ট্রফি জিততে হলে এই সাম্প্রতিক ধারার উল্টো ফল করতে হবে তাকে।
যেভাবে ৪৩ ম্যাচে পৌঁছেছে আনের জয়ের ধারা
এ মৌসুমে আনকে হারানো একমাত্র খেলোয়াড় ওয়াং। মার্চে অল ইংল্যান্ড ওপেনের ফাইনালে সেই হার হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিটি ম্যাচ জিতেছেন আন; সেই ধারাই এখন ৪৩-এ পৌঁছেছে।
ডেনমার্কে ফাইনালে ওঠার পথে চার দেশের খেলোয়াড়ের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। সেমিফাইনালে ওকুহারাকে হারানোর আগে ইউক্রেনের পোলিনা বুহরোভা, ডেনমার্কের লিনে ক্রিস্টোফারসেন এবং ভারতের তানভি শর্মাকে হারান আন।
মৌসুমজুড়ে বর্তমান জয়ের ধারা যেসব গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় পেরিয়ে এসেছে:
- মার্চ: অল ইংল্যান্ড ওপেনের ফাইনালে ওয়াং ঝিইয়ের কাছে হেরে যান আন। মৌসুমে এটাই তার একমাত্র পরাজয়।
- আগস্ট: বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ইয়ামাগুচিকে ২১-১৭, ২১-১৪ ব্যবধানে হারান।
- সেপ্টেম্বর: চায়না মাস্টার্সে ইয়ামাগুচিকে ২১-১৩, ২১-১৫ ব্যবধানে হারান।
- এ মাসের শুরুতে: এশিয়ান গেমসে একক ও দলীয়, দুই প্রতিযোগিতাতেই ইয়ামাগুচিকে হারান।
- ১৭ তারিখে, কোরিয়ার সময়: ওডেন্সে ওকুহারাকে হারিয়ে টানা ৪৩তম জয় তুলে নেন।
- রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬: ডেনমার্ক ওপেনের ফাইনালে ইয়ামাগুচির মুখোমুখি হওয়ার কথা তার। ফাইনালের পর্ব স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় শুরু হবে।
এ মৌসুমে আনের আটটি শিরোপা এসেছে মালয়েশিয়া ওপেন, ইন্ডিয়া ওপেন, এশিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ, সিঙ্গাপুর ওপেন, ইন্দোনেশিয়া ওপেন, বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ, চায়না মাস্টার্স ও এশিয়ান গেমস থেকে। ডেনমার্কে জিতলে বড় ট্যুর ইভেন্ট ও আন্তর্জাতিক চ্যাম্পিয়নশিপ মিলিয়ে তার ব্যস্ত মৌসুমে যোগ হবে নবম শিরোপা।
বড় অর্জন ধরে রাখার আরেকটি সুযোগ ডেনমার্কে
ওডেন্সে ফাইনালে সব সময় সফল হননি আন। ২০২১ সালে ইয়ামাগুচির কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েছিলেন এবং ২০২৪ সালে ডেনমার্ক ওপেনের আরেক ফাইনালে ওয়াংয়ের কাছে হেরেছিলেন।
গত বছর ওয়াংকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো টুর্নামেন্টটি জেতেন আন। এবার ২০২১ সালে তাকে ট্রফিবঞ্চিত করা খেলোয়াড়ের বিরুদ্ধে শিরোপা ধরে রাখার সুযোগ রয়েছে তার। ফলে এই ফাইনালের যোগ রয়েছে তার ক্যারিয়ারের আগের এক অধ্যায়ের সঙ্গে।
বিডব্লিউএফ ওয়ার্ল্ড ট্যুরের সুপার ৭৫০ ইভেন্ট ডেনমার্ক ওপেন। এই শ্রেণিবিন্যাসে ট্যুরের টুর্নামেন্ট কাঠামোয় এর অবস্থান বোঝানো হয়। ফলে চলতি মৌসুমে জেতা বিশ্ব ও মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নশিপের পাশে ওডেন্সের শিরোপাও হবে উল্লেখযোগ্য অর্জন।
জিতলে মৌসুমে আনের জয়-পরাজয়ের হিসাব হবে ৬১-১ এবং অপরাজিত থাকার ধারা বাড়বে ৪৪ ম্যাচে। ইয়ামাগুচি জিতলে সেই ধারার পাশাপাশি তাদের লড়াইয়ে আনের টানা নয় জয়ের রেকর্ডও শেষ হবে।
দুই সেমিফাইনালে ভিন্ন সমস্যা সামলে ফাইনালে উঠেছেন দুই খেলোয়াড়। ওকুহারার বিরুদ্ধে প্রথম গেমে অস্থিরতার পর নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় করেন আন। ওয়াংয়ের ম্যাচকে নির্ধারক গেমে নেওয়ার হুমকি সামলে ঘুরে দাঁড়ান ইয়ামাগুচি। দুজনেই কোনো গেম না হেরে ফাইনালে উঠেছেন। পরিচিত দুই প্রতিপক্ষের আরেকটি লড়াইয়েই নির্ধারিত হবে শিরোপা।
মূল তথ্য
- নোজোমি ওকুহারাকে ২১-১৬, ২১-৮ ব্যবধানে ৩৬ মিনিটে হারিয়ে ডেনমার্ক ওপেনের ফাইনালে উঠেছেন আন সে-ইয়ং। বিডব্লিউএফের আনুষ্ঠানিক গেম স্কোর অনুযায়ী, দুই খেলোয়াড়ের পয়েন্টের মোট হিসাব ৪২-২৪।
- বিশ্বসেরা আন টানা ৪৩ ম্যাচ জিতেছেন। মৌসুমে তার জয়-পরাজয়ের রেকর্ড ৬০-১।
- অন্য সেমিফাইনালে ওয়াং ঝিইকে ২১-১০, ২১-১৯ ব্যবধানে ৪০ মিনিটে হারিয়েছেন আকানে ইয়ামাগুচি।
- ক্যারিয়ারের মুখোমুখি লড়াইয়ে ইয়ামাগুচির বিরুদ্ধে আন ২৩-১৫ ব্যবধানে এগিয়ে এবং শেষ নয়টি লড়াইয়ে জিতেছেন।
- ফাইনাল হবে রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬। ফাইনালের পর্ব স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে। টানা দ্বিতীয় ডেনমার্ক ওপেন শিরোপা এবং মৌসুমের নবম শিরোপার লক্ষ্যে নামবেন আন।






