ঐতিহ্যবাহী সংগীতে মুগ্ধ স্টেডিয়ামের দর্শক
ঐতিহ্যবাহী সংগীত ও নুসান্তারা ঐতিহ্যকে ঘিরে আয়োজিত ‘গেমা বুমান্তারা’ কনসার্টে কুয়ালালামপুরের টিএম ন্যাশনাল স্টেডিয়াম বুকিত জলিলে প্রায় ৬৩ হাজার দর্শক টানেন সিতি নূরহালিজা। রাত সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠান শুরুর পর থেকেই বৃষ্টি নামে, তবে প্রায় তিন ঘণ্টার পরিবেশনায় ৩০টিরও বেশি গান শুনতে দর্শকেরা শেষ পর্যন্ত থেকে যান।
সূচিপত্র
- ঐতিহ্যবাহী সংগীতে মুগ্ধ স্টেডিয়ামের দর্শক
- সন্ধ্যার অংশ হয়ে ওঠে বৃষ্টি
- ‘হাতি কামা’ আবার এক করল দুই সহযোগীকে
- ইন্দোনেশীয় অতিথিদের নিয়ে মালয়েশিয়ার আয়োজন
- গানের বাইরেও ঐতিহ্যের বিস্তার
- বুকিত জলিলে ফেরার আয়োজনে ভক্তদের ভূমিকা
- পুনর্মিলনের পেছনের প্রস্তুতির ঝলক সাউন্ডচেকে
- অনুষ্ঠান শুরুর অনেক আগেই পার্কিং নিয়ে চাপ
- কনসার্টের আগে মুখে আঘাত পেয়ে উদ্বেগ
- এক নজরে
দর্শকদের সঙ্গে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। তিনি সিতির স্বামী খালিদ মোহামাদ জিওয়ার পাশে বসেন; দুজনের পরনেই ছিল রেইনকোট। মঞ্চে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসা অতিথিদের স্বাগত জানান মালয়েশীয় এই গায়িকা। পাশাপাশি নোরানিজা ইদ্রিসের সঙ্গে ‘হাতি কামা’ গানে আবারও এক মঞ্চে আসেন তিনি। তাঁদের এই পুনর্মিলন সন্ধ্যার অন্যতম প্রধান মুহূর্ত হয়ে ওঠে।
ঐতিহ্যবাহী সংগীতকে পুরোপুরি ঘিরে সাজানো স্টেডিয়ামে সিতির এটিই ছিল প্রথম একক অনুষ্ঠান। গানের সঙ্গে ছিল জাপিন নৃত্য, ওয়ায়াং কুলিতের ছায়াপুতুল এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাক। বড় পরিসরের একই জনসমাগমে সাংস্কৃতিক অভিব্যক্তির বিভিন্ন রূপ তুলে ধরা হয়।
একই ভেন্যুতে ২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত তাঁর ‘লিগ্যাসি ৩০’ কনসার্টের পর ‘গেমা বুমান্তারা’ আয়োজিত হয়। ওই অনুষ্ঠানে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ এসেছিলেন। নতুন কনসার্টে দর্শকসংখ্যা ছিল প্রায় দুই হাজার কম, অর্থাৎ জানুয়ারির দর্শকসংখ্যার প্রায় ৯৭ শতাংশ। এ পরিসংখ্যান দেখায়, ঐতিহ্যবাহী গানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া অনুষ্ঠানটিও সংগীতজীবনের তিন দশক উদ্যাপনের কনসার্টের কাছাকাছি দর্শক টেনেছে।
সন্ধ্যার অংশ হয়ে ওঠে বৃষ্টি
অতিথি গায়ক হাজিক রোজেবির সঙ্গে দ্বৈত গান পরিবেশনের পর আনোয়ারকে ধন্যবাদ জানান সিতি। প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি সবার নজর কাড়লেও, পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে বৃষ্টির মধ্যে থেকে যাওয়া হাজারো ভক্তের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান গায়িকা।
তিন দশকেরও বেশি সময়ের সংগীতজীবনের অধিকারী সিতি আবহাওয়া নিয়ে রসিকতা করেন এবং পরিবেশনাটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করেন:
আমরা পরিকল্পনা করি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেন ঈশ্বর। আমি বৃষ্টি থামাতে পারি না, তবে বৃষ্টি আমাদের কিছুটা ঠান্ডা রাখে!
এরপর স্টেডিয়ামে কনসার্ট করাকে নিজের একটি ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা পূরণ হওয়া বলে বর্ণনা করেন তিনি:
যা-ই হোক, এটি আমার স্বপ্নপূরণ—এমন এক স্বপ্ন, যা আবার কখনো বাস্তবায়ন করতে পারব কি না তা নিয়ে নিশ্চিত ছিলাম না। অবশেষে দেশের বৃহত্তম স্টেডিয়ামেই তা বাস্তব হয়েছে।
দর্শকেরা উল্লাস ও করতালিতে সাড়া দেন। তাঁদের থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত সন্ধ্যায় সমর্থনের দৃশ্যমান প্রকাশ হয়ে ওঠে: বৃষ্টির অস্বস্তি সত্ত্বেও ঐতিহ্যবাহী সংগীতকে কেন্দ্র করে সাজানো অনুষ্ঠান উপভোগ করতে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
‘হাতি কামা’ আবার এক করল দুই সহযোগীকে
সিতির সঙ্গে ‘হাতি কামা’ গানে যোগ দেন নোরানিজা ইদ্রিস। ২৬ বছরে এই প্রথম দুজন একসঙ্গে গানটির প্রকাশ্য পরিবেশনা করলেন বলে জানানো হয়। গানটি তাঁদের যৌথ অ্যালবাম ‘সেরি বালাস’-এ ছিল, যা ১৯৯৯ সালে সুরিয়া রেকর্ডস প্রকাশ করে।
মালয়েশিয়ার ঐতিহ্যবাহী সংগীতে কাজের জন্য ব্যাপক পরিচিত নোরানিজা এই অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক অতিথি ছিলেন। কনসার্টের আগে সিতি বলেছিলেন, ঐতিহ্যবাহী গানকে জনপরিসরে সচল রাখা শিল্পীদের একত্র করার উদ্দেশ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
‘হাতি কামা’ সেই উদ্দেশ্যের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট রেকর্ডিং ও অংশীদারত্বকে যুক্ত করে। শ্রোতারা গানটির দুই মূল শিল্পীকে একসঙ্গে শুনেছেন। একই কনসার্টে গানগুলোর পেছনে থাকা সুরকার, গীতিকার ও সাংস্কৃতিক চর্চাকারীদেরও সম্মান জানানো হয়েছে।
এই পুনর্মিলন সন্ধ্যাটিকে শুধু দর্শকসংখ্যার চেয়ে বেশি তাৎপর্য দিয়েছে। দুই গায়িকার সংগীতজীবনের আগের সময়ের সঙ্গে যুক্ত একটি গান আবার বড় মঞ্চে ফিরে এসেছে। এতে দীর্ঘদিনের শ্রোতারা গানটি নতুন করে উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছেন, আর তরুণ দর্শকেরা সরাসরি এই সহযোগিতা দেখেছেন।
ইন্দোনেশীয় অতিথিদের নিয়ে মালয়েশিয়ার আয়োজন
অতিথি শিল্পীদের তালিকায় ছিলেন হাজিক রোজেবি, নোরানিজা ইদ্রিস, লেস্তি কেজোরা ও কিং নাসার। হাজিক ও নোরানিজা ছিলেন মালয়েশিয়ার প্রতিনিধি, আর লেস্তি ও কিং নাসার যোগ দেন ইন্দোনেশিয়া থেকে।
এই সমন্বয় কনসার্টের নুসান্তারা ভাবনার সঙ্গে মানানসই ছিল। নুসান্তারা শব্দটি দ্বীপপুঞ্জ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়; এ ধরনের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে মালয় ও ইন্দোনেশীয় জগতের সংযোগকেও বোঝায়। দুই দেশের গায়কদের উপস্থিতি আঞ্চলিক এই ভাবনাকে অনুষ্ঠানের বাস্তব অংশ করে তোলে।
৩০টিরও বেশি গানে সিতিই ছিলেন প্রধান শিল্পী। অনুষ্ঠানের আগে ঐতিহ্যবাহী গানের তালিকা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি ‘চিনদাই’, ‘সাহমুরা’ ও ‘হাতি ইয়াং রিন্দু’র নাম উল্লেখ করেছিলেন। প্রচারণামূলক তালিকাতেও গানগুলোর নাম ছিল।
পরিবেশিত গানের পূর্ণ তালিকা কনসার্টের বিবরণে প্রকাশ করা হয়নি। ‘হাতি কামা’ এবং হাজিকের সঙ্গে দ্বৈত গান ছিল বিশেষভাবে উল্লেখিত পরিবেশনাগুলোর মধ্যে। বৃহত্তর আয়োজনে গান, নৃত্য, পুতুলনাট্য ও পোশাকের সমন্বয় ছিল।
গানের বাইরেও ঐতিহ্যের বিস্তার
জাপিন নৃত্যদল, ওয়ায়াং কুলিতের পরিবেশনা এবং ঐতিহ্যবাহী পোশাকের প্রদর্শনী ‘গেমা বুমান্তারা’কে কেবল একের পর এক গান পরিবেশনের অনুষ্ঠান হতে দেয়নি। প্রতিটি উপাদান সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আলাদা একটি দিক স্টেডিয়ামে তুলে ধরে।
জাপিন হলো সমন্বিত পদক্ষেপ ও সংগীতের ছন্দনির্ভর একটি নৃত্যধারা। ওয়ায়াং কুলিতে পুতুল ও আলোর সাহায্যে চলমান ছায়া তৈরি করা হয়, সাধারণত গল্প বলার অংশ হিসেবে। এসব উপাদান থাকায় পরিচিত গানের পাশাপাশি দর্শকেরা নৃত্য ও দৃশ্যনির্ভর গল্প বলার অভিজ্ঞতাও পেয়েছেন।
সুরকার, গীতিকার ও ঐতিহ্যবাহী সংগীতে কাজ করা মানুষদেরও শ্রদ্ধা জানান সিতি। এতে মঞ্চের সামনের গায়িকার বাইরেও যারা গান লেখেন, সংগীতায়োজন করেন, পরিবেশন করেন এবং ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখেন, তাঁদের প্রতি মনোযোগ দেওয়া হয়েছে।
ঐতিহ্যবাহী সংগীত উদ্যাপন করা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্মের কাছে তা প্রাসঙ্গিক রাখাই ছিল কনসার্টের লক্ষ্য। আয়োজনের ধরন সেই লক্ষ্যকে বাস্তব রূপ দেয়: প্রতিষ্ঠিত গানগুলোকে সমসাময়িক বড় কনসার্টের পরিসরে নাচ, দৃশ্য ও পোশাকের সঙ্গে উপস্থাপন করা হয়, যা দর্শকদের সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট বুঝতে সাহায্য করে।
বুকিত জলিলে ফেরার আয়োজনে ভক্তদের ভূমিকা
জানুয়ারির ‘লিগ্যাসি ৩০’ অনুষ্ঠানের পর ঐতিহ্যবাহী গান নিয়ে কনসার্টের জন্য ভক্তদের অনুরোধ আসে। সেই প্রেক্ষাপটে ২৩ জুন ‘গেমা বুমান্তারা’র ঘোষণা দেন সিতি। ২০২৬ সালের ২৯ জুন টিকিট বিক্রি শুরু হওয়ার কথা ছিল।
ঘোষণায় অনুষ্ঠানটির তারিখ ১৭ অক্টোবর ২০২৬ এবং সময় রাত সাড়ে ৮টা জানানো হয়। সম্পন্ন কনসার্ট নিয়ে তারিখসহ প্রকাশিত একটি বিবরণে আগের রাতের কথা বলা হয়, ফলে প্রকাশিত সূচিতে অসংগতি দেখা দেয়; বিজ্ঞাপনে তারিখ ছিল ১৭ অক্টোবর।
সংগীত ঐতিহ্যের সম্মিলিত উদ্যাপন হিসেবে অনুষ্ঠানটির কথা তুলে ধরেন সিতি। ঘোষণায় শ্রোতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে তিনি বলেন:
আমাদের ঐতিহ্যের ছন্দ একসঙ্গে উদ্যাপনের সুযোগ হাতছাড়া করবেন না। সময়ের পরীক্ষায় টিকে থেকে, আগামী যুগগুলোতেও ঐতিহ্যের কণ্ঠে চিরকাল স্পন্দিত হবে,
অনুষ্ঠানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রধান ধাপগুলো ছিল:
- ১০ জানুয়ারি ২০২৬: একই স্টেডিয়ামে ‘লিগ্যাসি ৩০’ অনুষ্ঠানে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ আসেন।
- ২৩ জুন: ঐতিহ্যবাহী সংগীতকেন্দ্রিক আয়োজন নিয়ে ‘গেমা বুমান্তারা’র ঘোষণা দেন সিতি।
- ২৯ জুন ২০২৬: টিকিট বিক্রি শুরুর নির্ধারিত তারিখ।
- ১৬ অক্টোবর ২০২৬: প্রস্তুতি নিয়ে নোরানিজার বিবরণে স্টেডিয়ামে তাঁর প্রথম সাউন্ডচেকের কথা উঠে আসে।
- ১৭ অক্টোবর ২০২৬: বিজ্ঞাপনে ঘোষিত কনসার্টের তারিখ; শুরু রাত সাড়ে ৮টায়।
পুনর্মিলনের পেছনের প্রস্তুতির ঝলক সাউন্ডচেকে
স্টেডিয়ামে প্রথম সাউন্ডচেকের সময় নার্ভাস ও উচ্ছ্বসিত, দুই অনুভূতিই কাজ করছিল বলে জানান নোরানিজা। ১৬ অক্টোবর আলোচিত থ্রেডস পোস্টে তিনি ঐতিহ্যবাহী অর্কেস্ট্রা, সেশন মিউজিশিয়ান, সংগীত পরিচালক ও ব্যাকিং ভোকাল দলের মতো পেশাদার সহকর্মীদের প্রশংসা করেন।
সাউন্ডচেক হলো এমন মহড়া, যেখানে ভেন্যুর সরঞ্জামের মাধ্যমে কণ্ঠ ও বাদ্যযন্ত্রের শব্দ কেমন শোনায় তা পরীক্ষা করা হয়। স্টেডিয়ামে শিল্পীরা মঞ্চের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার এবং তাঁদের সহায়তাকারী সংগীতশিল্পীদের সঙ্গে সমন্বয় করার সুযোগও পান।
নোরানিজার পাশে দাঁড়িয়ে হাসিমুখে তাঁকে কী করতে হবে তা বুঝিয়ে দেন সিতি। নোরানিজা বলেন, সিতির আশ্বাসে তাঁর উদ্বেগ কমেছিল।
নোরানিজার বর্ণিত প্রস্তুতি পরবর্তী ‘হাতি কামা’ পুনর্মিলনকে আরও ব্যক্তিগত মাত্রা দেয়। অভিজ্ঞ এই দুই রেকর্ডিং-সঙ্গীকেও বড় পরিসরের মঞ্চের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়েছে, বড় সংগীতদলের সঙ্গে কাজ করতে হয়েছে এবং যৌথ পরিবেশনার প্রস্তুতি নিতে হয়েছে।
অনুষ্ঠান শুরুর অনেক আগেই পার্কিং নিয়ে চাপ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করা বিবরণ অনুযায়ী, ভক্তেরা রাত দেড়টা থেকেই বুকিত জলিলের আশপাশে পার্কিং খুঁজতে শুরু করেন। সন্ধ্যার কনসার্টের আগে জায়গা নিশ্চিত করতে কেউ কেউ গাড়ির ভেতর ঘুমিয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
থ্রেডস ব্যবহারকারী @quexieqbal জানান, সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যেই পার্কিং বি-তে সারি পড়ে যায় এবং পার্কিং সি-তে গাড়ি ভরে ওঠে। বিজ্ঞাপিত সময়ের ১১ ঘণ্টা আগের কথা এটি। আরেক ব্যবহারকারী @shiramasri বলেন, আগের দিন থেকেই একটি গাড়ি জোন সি-তে রাখা হয়েছিল; ওয়ান নুর রাবিহাহ জানান, তিনি ভোর ৩টায় রওনা হয়েছিলেন।
২৪ ঘণ্টার জন্য ৫ রিঙ্গিত পার্কিং ফি, যা কার্ডে পরিশোধযোগ্য, এমন তথ্য শেয়ার করেন @fikrisyafique। এসব তথ্য ভেন্যুর প্রকাশিত পার্কিং বিজ্ঞপ্তি থেকে নয়, নিজেদের অভিজ্ঞতার বিবরণ দেওয়া দর্শকদের কাছ থেকে এসেছে।
কনসার্টে যাওয়া দর্শকদের জন্য তাই অনুষ্ঠানটি তিন ঘণ্টার সংগীতের চেয়েও অনেক বেশি কিছু ছিল। স্টেডিয়ামে পৌঁছানো ও গাড়ি রাখার জায়গা খুঁজতে কেউ কেউ দিনের বড় অংশ, এমনকি আগের রাতেরও কিছুটা সময় ব্যয় করেছেন। ভোরের সারিগুলো দেখায়, দর্শকদের উৎসাহ ভেন্যুতে প্রবেশের ওপরও চাপ তৈরি করেছিল।
কনসার্টের আগে মুখে আঘাত পেয়ে উদ্বেগ
কনসার্টের কিছুক্ষণ আগে ইনস্টাগ্রামে ডান চোখের কাছে ছোট কাটা দাগ ও গালে কালশিটে দেখা যায় এমন একটি ছবি শেয়ার করলে সিতিকে নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। কী কারণে আঘাত লেগেছিল, তা নিশ্চিত করা হয়নি।
ক্যাপশনে সিতি তাঁর ভক্তদের, যাঁরা ‘সিতিজোনার্স’ নামে পরিচিত, উদ্দেশে লেখেন:
বিসমিল্লাহ, সবকিছু সহজ হোক। কাল দেখা হবে, আমার প্রিয় সিতিজোনার্স!
কিছু ভক্ত ধারণা করেন, মহড়ার সময় তিনি আঘাত পেয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর মঞ্চে উপস্থিতি আবার মনোযোগ ফিরিয়ে আনে ৩০টিরও বেশি গানের কঠিন পরিবেশনা এবং ঐতিহ্যবাহী সংগীতের দিকে, যা উদ্যাপন করতেই তিনি কনসার্টটি সাজিয়েছিলেন।
জানুয়ারির ‘লিগ্যাসি ৩০’ অনুষ্ঠানে শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জিং মঞ্চায়ন ছিল। ক্রেনের ওপর উঁচুতে উঠে ‘পূর্ণমা মেরিন্দু’ গেয়েছিলেন সিতি, আর মঞ্চের নিচ থেকে লাফিয়ে উঠে প্রবেশ করেছিলেন। ভেন্যুতে ‘গেমা বুমান্তারা’ তাঁর ফেরাকে ভিন্ন পরিচয় দেয়; এর কেন্দ্রে ছিল ঐতিহ্যবাহী গান, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও সংগীতের সহযোগীরা।
দুই কনসার্টের দর্শকসংখ্যা কাছাকাছি ছিল: জানুয়ারিতে প্রায় ৬৫ হাজার এবং ‘গেমা বুমান্তারা’য় প্রায় ৬৩ হাজার। ঐতিহ্যকে কেন্দ্র করে সাজানো অনুষ্ঠানটিতে বিপুল দর্শক এসেছিলেন। ‘হাতি কামা’ পুনর্মিলন এবং মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার গায়কদের পরিবেশনা সন্ধ্যাটিকে দিয়েছে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য।
এক নজরে
- বৃষ্টি সত্ত্বেও বুকিত জলিলে সিতি নূরহালিজার ‘গেমা বুমান্তারা’ কনসার্টে প্রায় ৬৩ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
- রাত সাড়ে ৮টায় শুরু হওয়া পরিবেশনা প্রায় তিন ঘণ্টা চলে; এতে ৩০টিরও বেশি গান ছিল।
- প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম উপস্থিত ছিলেন এবং সিতির স্বামী খালিদ মোহামাদ জিওয়ার পাশে বসেন।
- ১৯৯৯ সালের ‘সেরি বালাস’ অ্যালবামের গান ‘হাতি কামা’ পরিবেশন করতে সিতি ও নোরানিজা ইদ্রিস আবার এক মঞ্চে আসেন।
- অতিথিদের মধ্যে ছিলেন হাজিক রোজেবি এবং ইন্দোনেশীয় গায়িকা লেস্তি কেজোরা ও কিং নাসার।
- সংগীতের সঙ্গে ছিল জাপিন, ওয়ায়াং কুলিত ও ঐতিহ্যবাহী পোশাক।
- একই ভেন্যুতে জানুয়ারিতে সিতির ‘লিগ্যাসি ৩০’ কনসার্টে যত দর্শক এসেছিলেন, এবার তার চেয়ে প্রায় দুই হাজার কম ছিলেন।






