জাতীয় অনিশ্চয়তার মুহূর্তে এক প্রেমের গান
২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে ভ্যালেন্টাইনস ডে-র আগের সন্ধ্যায় আফগান কবি রামিন মাজহার একটি পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে কবিতা আবৃত্তি করেন। গায়িকা গওগা তাবান কবিতার কথাগুলোকে গানে রূপ দেন, আর পরদিন গানটির রেকর্ডিং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর মূল পঙ্ক্তিটি অন্তরঙ্গ এক প্রতিশ্রুতিকে প্রকাশ্য প্রতিরোধের ভাষা দেয়: "তালেবানের মধ্যে তোমায় চুমু খাই, তুমি ভয় পাও না!"
সূচিপত্র
- জাতীয় অনিশ্চয়তার মুহূর্তে এক প্রেমের গান
- ভ্যালেন্টাইনস ডে-র বাইরেও কবিতাটি কেন ছড়িয়ে পড়েছিল
- কাবুলে উদ্যাপন, হেরাতে পুলিশের সতর্কবার্তা
- গওগা তাঁকে উল্লাস করে সমর্থন করা জনতাকে প্রশ্ন করেন
- শান্তি আলোচনা বাড়িয়ে দিয়েছিল ঝুঁকির মাত্রা
- ১৯৯০-এর দশকের পর অর্জিত অধিকার হারানোর ভয় ছিল নারীদের
- ঘটনাপ্রবাহ
- ‘কাফ’-এ অভিবাসনের গল্প
- মূল বিষয়গুলো
আফগানিস্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দূত জালমে খলিলজাদ যখন তালেবান প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন, তখন গানটি শ্রোতাদের কাছে পৌঁছায়। পড়াশোনা, পরিবেশনা ও প্রকাশ্যে কথা বলার বেশি সুযোগ নিয়ে বেড়ে ওঠা তরুণ আফগানদের মনে সমঝোতার সম্ভাবনা একটি কঠিন প্রশ্ন তোলে: শান্তি কি এসব স্বাধীনতা রক্ষা করবে, নাকি সেগুলো ছেড়ে দিতে হবে?
গওগার পরিবেশনা সেই উদ্বেগকে কণ্ঠ দেয়। প্রেম, কবিতা ও নারীর প্রকাশ্যে গান গাওয়া তালেবানি শাসনের সঙ্গে যুক্ত বিধিনিষেধের বিরোধিতা প্রকাশের মাধ্যম হয়ে ওঠে। তবে গায়িকা এ-ও সতর্ক করেন, অনলাইনে উৎসাহী সমর্থন পরে শত্রুতায় রূপ নিতে পারে। এতে বোঝা যায়, উদ্যাপিত হওয়ার মধ্যেও একজন শিল্পী কতটা অনিরাপদ বোধ করতে পারেন।
ভাইরাল রেকর্ডিংয়ে ধরা পড়া মুহূর্তের বাইরেও পরে তাঁর গল্প এগিয়েছে। আফগানিস্তান ও ইরানে বেড়ে ওঠার পর গওগা ঝুঁকির মুখে থাকা শিল্পীদের জন্য আইকর্নের আবাসন কর্মসূচির মাধ্যমে নরওয়েতে বসবাস শুরু করেন। ফারসিতে গাওয়া তাঁর অ্যালবাম ‘কাফ’-এ যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও বৈষম্যের বিষয়গুলো তাঁর সংগীতের আরেক অধ্যায়ে স্থান পেয়েছে।
ভ্যালেন্টাইনস ডে-র বাইরেও কবিতাটি কেন ছড়িয়ে পড়েছিল
মাজহারের কবিতায় ভালোবাসার প্রকাশ এসেছে বিপদের চিহ্নে ভরা পরিবেশে: সড়ক, ট্যাক্সি, গুলির শব্দ ও আত্মঘাতী হামলা। ভালোবাসার বারবার উচ্চারণে সাধারণ মানুষের ঘনিষ্ঠতা যুদ্ধের মধ্যে টিকে থাকার সাহসের সঙ্গে মিশেছে। কথাগুলো ছিল এতটাই সরাসরি যে কবিতার আসর থেকে ফেসবুক ও টুইটারে ছড়িয়ে পড়া গানে সহজেই রূপ নিয়েছিল।
গওগার গাওয়া আফগান কবি মাজহার একটি চুম্বনকে ভালোবাসা ও প্রতিরোধ, দুই হিসেবেই তুলে ধরেছেন:
তুমি ধার্মিক, তোমার চুম্বন তোমার প্রার্থনা। তুমি আলাদা, তোমার চুম্বন তোমার প্রতিবাদ। তুমি ভালোবাসা, আশা, আগামীকালকে ভয় পাও না।
গওগার কণ্ঠ ওই পঙ্ক্তিগুলোকে মূল আসরের বাইরের শ্রোতাদের কাছেও পৌঁছে দেয়। গানটি অনলাইনে আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে, কারণ এতে পরিচিত এক উপলক্ষ—ভ্যালেন্টাইনস ডে—জরুরি রাজনৈতিক উদ্বেগের সঙ্গে মিলেছিল। ভালোবাসার উদ্যাপন একই সঙ্গে এ কথারও ঘোষণা হয়ে ওঠে যে তরুণ আফগানরা কীভাবে জীবন যাপন করবে, তা ঠিক করার অধিকার কার।
গানটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যদিও এর শ্রোতার সংখ্যা সম্পর্কে কোনো যাচাইকৃত হিসাব দেওয়া হয়নি। প্রকাশিত ভিউ বা শ্রোতার সংখ্যার বদলে, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া এবং তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্য দিয়ে এর প্রভাবের বর্ণনা দেওয়া হয়।
কাবুলে উদ্যাপন, হেরাতে পুলিশের সতর্কবার্তা
কাবুলে তরুণেরা ভ্যালেন্টাইনস ডে উপলক্ষে জমায়েত ও গান গাওয়ার আয়োজন করেন। তাঁদের উদ্যাপনে কিছু শহুরে আফগানের মধ্যে দিবসটির বাড়তে থাকা জনপ্রিয়তার প্রতিফলন ছিল, যদিও সমাজের অন্য অংশ এর বিরোধিতা করেছিল।
পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশে পুলিশ কমান্ড বাসিন্দাদের উদ্যাপন থেকে বিরত থাকার সতর্কবার্তা দিয়ে বিবৃতি দেয়। কমান্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, ধর্মীয় পণ্ডিত ও আলেমরা এ উপলক্ষকে ইসলামী শিক্ষার পরিপন্থী মনে করেন।
কাবুলের জমায়েত ও হেরাতের সতর্কবার্তা দেখায়, আফগানিস্তানের ভেতরেই একই উদ্যাপনকে কত ভিন্নভাবে দেখা হতে পারে। স্থানীয় পুলিশের কর্তৃত্বের জোরে আপত্তি জানানো হচ্ছিল, আর এর মধ্যেই তরুণেরা সংগীত, ভালোবাসা ও প্রকাশ্যে মত জানানোর বিষয়ে নিজেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন।
এই টানাপোড়েনই গানটির আবেদন বুঝতে সাহায্য করে। এর ভাষা তালেবানকে উদ্দেশ করে বলা হলেও ভ্যালেন্টাইনস ডে ঘিরে বিতর্কে ছিল আরও বিস্তৃত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং ২০২১ সালে তালেবানের জাতীয় ক্ষমতায় ফেরার আগেই কার্যরত প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা।
গওগা তাঁকে উল্লাস করে সমর্থন করা জনতাকে প্রশ্ন করেন
মনোযোগ পাওয়ার পর গওগার বক্তব্য ছিল সাফল্যের সরল উদ্যাপনের চেয়ে বেশি সতর্ক। তিনি বলেন, তালেবানবাদ—তাঁর বিরোধিতা করা মনোভাব ও বিধিনিষেধকে বোঝাতে ব্যবহৃত শব্দ—প্রভাবশালী এমন এক পরিস্থিতির বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান প্রকাশ করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য।
অনলাইন প্রতিক্রিয়ার কেন্দ্রে থাকা গায়িকা গওগা নিজের প্রতিক্রিয়া এভাবে বর্ণনা করেন:
প্রতিক্রিয়াগুলো একই সঙ্গে আশাব্যঞ্জক ও উদ্বেগজনক; এর প্রধান কারণ জনতুষ্টিবাদ
তাঁর উদ্বেগ ছিল, যারা কোনো শিল্পীকে বীরের মতো দেখে, তারাই পরে তাঁর বিরুদ্ধে যেতে পারে। নিজের বক্তব্যে তিনি বেশ্যা আখ্যা পাওয়া বা চরম সহিংসতার শিকার হওয়ার আশঙ্কার কথা বলেন। এগুলো ছিল প্রকাশ্য সমর্থন ঘিরে তাঁর দেখা বিপদের বিষয়ে সতর্কবার্তা, গানটির পর তাঁর ওপর হামলার বিবরণ নয়।
গওগা আরও বলেন, তালেবানি ধারণার বিরোধিতা করতে হলে ব্যক্তিগত প্রত্যয় দরকার। প্রশংসা বা নিন্দা জানাতে জনতা দ্রুত একজোট হতে পারে; কিন্তু স্বাধীনতার প্রতি দীর্ঘস্থায়ী অঙ্গীকারের জন্য মানুষের নিজে চিন্তা করা ও কাজ করা প্রয়োজন। তাঁর প্রতিক্রিয়া গানটির গ্রহণযোগ্যতাকেও গল্পের অংশ করে তোলে: দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকে তিনি স্বাগত জানান, তবে সমর্থকেরা কতটা নির্ভরযোগ্য হতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
শান্তি আলোচনা বাড়িয়ে দিয়েছিল ঝুঁকির মাত্রা
তৎকালীন আফগানিস্তান পুনর্মিলনবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ প্রতিনিধি খলিলজাদ প্রায় ১৭ বছর ধরে চলা সংঘাতের অবসানের প্রচেষ্টায় তালেবান আলোচক ও আঞ্চলিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন। আলোচনার কেন্দ্রীয় বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল প্রায় ১১ হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা।
সে সময়কার বর্ণনা অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সরকার আলোচনায় ছিল না, আর তালেবান আলোচকেরা তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। ফলে আফগানিস্তানের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক কাঠামো নতুন করে গড়ে দিতে পারত—এমন আলোচনা থেকে দেশটির নির্বাচিত সরকার বাইরে থেকে যায়।
সমঝোতায় পৌঁছানোর চাপ ছিল বিপুল। ২০১৮ সালে বেসামরিক মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩,৮০৪ বলে জানানো হয়। ঘানি আরও স্বীকার করেছিলেন, আগের চার বছরে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিহত হয়েছেন। পরিসংখ্যানগুলো ভিন্ন গোষ্ঠী ও সময়কালের হলেও, একসঙ্গে সেগুলো আফগান সমাজের ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপ্তি তুলে ধরে।
তাই গওগার গানে সাড়া দেওয়া তরুণদের জন্য সিদ্ধান্তগুলো ছিল বেদনাদায়ক। লড়াই থামানো ছিল জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষা, জনজীবনে নারীর অংশগ্রহণ এবং ভিন্নমত প্রকাশের অধিকার রক্ষাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আলোচনার বাইরের মানুষকে ভেতরে নেওয়া সিদ্ধান্তের মূল্য দিতে হতে পারে—এই আশঙ্কাকে গানটি আবেগের ভাষা দেয়।
১৯৯০-এর দশকের পর অর্জিত অধিকার হারানোর ভয় ছিল নারীদের
তালেবানের প্রত্যাবর্তন নিয়ে আফগান নারীদের উদ্বেগের বিশেষ কারণ ছিল। ১৯৯০-এর দশকে তালেবানের শাসনামলে নারীরা শিক্ষা ও কাজসহ মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন। ২০১৯ সালে আরেকটি তালেবান সরকারের আশঙ্কা তাঁদের জীবনের অভিজ্ঞতা ও পারিবারিক স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল।
"পেছনে ফিরব না" নামে একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারাভিযানে মধ্যবর্তী বছরগুলোতে অর্জিত স্বাধীনতা হারানোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধের কথা জানানো হয়। তালেবানের প্রত্যাবর্তন, অন্তর্বর্তী সরকার, আফগান সেনাবাহিনীর বিলুপ্তি ও বিদেশি বাহিনীর চলে যাওয়ার গুজবের মধ্যে এটি শুরু হয়। তখন এসব সম্ভাবনার কোনোটিই সমঝোতায় রূপ নেয়নি।
২০১৯ সালের ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি মস্কোর এক বৈঠকে তালেবান প্রতিনিধিরা আশ্বাস দেন; আফগান সরকারের প্রতিনিধিরা সেখানে ছিলেন না। ওই আশ্বাস নারীর রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে পারেনি।
গওগার পরিবেশনা এসব রাজনৈতিক বিষয়কে বাস্তব করে তোলে। একজন নারীর প্রকাশ্যে গান গাওয়ার সামর্থ্যও ছিল ঝুঁকির মুখে থাকা স্বাধীনতাগুলোর একটি। তাঁর গান সেনা ও সরকার নিয়ে আলোচনাকে এই দৈনন্দিন প্রশ্নের সঙ্গে যুক্ত করে: একজন শিল্পী কি নিজের কাজ চালিয়ে যেতে এবং তা সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারবেন?
ঘটনাপ্রবাহ
তালেবানের ক্ষমতায় ফেরার আগের একটি নির্দিষ্ট সময়ের সঙ্গে গানটি যুক্ত। ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে সাজালে গওগার কর্মজীবনে এর পরবর্তী অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়:
- ৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯: তালেবান প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে মস্কোর বৈঠক হয়; আফগান সরকারের প্রতিনিধিরা সেখানে ছিলেন না।
- ২০১৯ সালে ভ্যালেন্টাইনস ডে-র আগের সন্ধ্যা: রামিন মাজহার পাহাড়ের চূড়ায় কবিতাটি আবৃত্তি করেন, আর গওগা সেটিকে গানে রূপ দেন।
- ২০১৯ সালের ভ্যালেন্টাইনস ডে: কাবুলে উদ্যাপন এবং হেরাতে দিবসটি পালন না করার সতর্কবার্তার মধ্যে রেকর্ডিংটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
- ২০২১: আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় ফিরে আসে।
- কর্মজীবনের পরবর্তী এক অধ্যায়ে: গওগা আইকর্নের মাধ্যমে নরওয়েতে বসবাস করেন এবং ‘কাফ’ অ্যালবামে কাজ করেন, যেখানে অভিবাসন, যুদ্ধ ও বৈষম্যের অভিজ্ঞতাসহ নানা বিষয় উঠে এসেছে।
২০১৯ সালে গানটি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমঝোতা কী বয়ে আনতে পারে, সেই আশঙ্কাকে কণ্ঠ দিয়েছিল। ২০২১ সালে তালেবানের ক্ষমতা দখলের পর এটি সেই স্বাধীনতারও দলিল হয়ে ওঠে, যা সরকার পরিবর্তনের আগে এক প্রজন্ম উদ্যাপন করেছিল।
‘কাফ’-এ অভিবাসনের গল্প
গওগার পরবর্তী কাজের ভিত্তি একাধিক দেশে গড়ে ওঠা জীবন। তিনি আফগানিস্তান ও ইরানের মধ্যে বেড়ে ওঠেন; পরে নরওয়েতে গিয়ে ঝুঁকির মুখে থাকা শিল্পীদের আবাসনের ব্যবস্থা করে এমন কর্মসূচি আইকর্নের অংশ হন।
‘কাফ’ নামটি এসেছে কিংবদন্তির এক রহস্যময় পর্বত থেকে, যাকে পৌরাণিক পাখি সিমুর্গের বাসা বলে মনে করা হয়। গওগা নিজেও গানের কথা লেখার পাশাপাশি আফগান কবিদের সঙ্গে কাজ করেন। এভাবেই কবিতা ও গানের যোগসূত্র বজায় থাকে, যে যোগসূত্র ২০১৯ সালের রেকর্ডিংকে জনপরিচিতি পেতে সাহায্য করেছিল।
অ্যালবামটিতে আফগানিস্তান থেকে ইউরোপে তাঁর শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন যাত্রার বর্ণনা রয়েছে। যুদ্ধ, বৈষম্য ও অভিবাসনে ক্ষতিগ্রস্ত অন্যদের অভিজ্ঞতাও এতে প্রতিফলিত হয়েছে। ভ্যালেন্টাইনস ডে-র গানে প্রকাশ্য প্রতিবাদের বিষয় থেকে এর পরিসর বিস্তৃত হয়ে দাঁড়িয়েছে ঘর ছেড়ে যাওয়া ও অন্য কোথাও নতুন জীবন গড়ার ব্যক্তিগত মূল্য পর্যন্ত।
গওগার সংগীত এসব অভিজ্ঞতাকে একটি অভিন্ন উদ্বেগে যুক্ত করে: ব্যক্তি হিসেবে বাঁচা ও কথা বলার সামর্থ্য। ২০১৯ সালে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে ভালোবাসার ঘোষণায় সেই উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছিল। ‘কাফ’-এ তা সীমান্ত পেরিয়ে বয়ে আনা ক্ষতি ও স্মৃতির মধ্য দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।
মূল বিষয়গুলো
- গওগা তাবানের ২০১৯ সালের গানটি রামিন মাজহারের কবিতা অবলম্বনে তৈরি হয় এবং ভ্যালেন্টাইনস ডে-র সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
- কাবুলে তরুণেরা দিবসটি উদ্যাপন করেন, আর হেরাতের পুলিশ কমান্ড বাসিন্দাদের তা পালন না করার সতর্কবার্তা দেয়।
- প্রেসিডেন্ট আশরাফ ঘানির সরকারকে বাদ দিয়ে তালেবানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা চলার সময় গানটি ছড়িয়ে পড়ে।
- গওগা বিধিনিষেধমূলক মনোভাবের বিরুদ্ধে প্রতিরোধকে স্বাগত জানান, তবে প্রকাশ্য প্রশংসা শত্রুতায় রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করেন।
- ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতায় ফেরার পর গানটি তরুণ আফগানদের এক প্রজন্মের উদ্যাপন করা স্বাধীনতার দলিল হয়ে দাঁড়ায়।
- পরে গওগা আইকর্নের মাধ্যমে নরওয়েতে বসবাস করেন এবং অভিবাসন, যুদ্ধ ও বৈষম্য নিয়ে ফারসি ভাষার অ্যালবাম ‘কাফ’ তৈরি করেন।






