টানা ছয় দিনের দরপতনের পর ৮৯৮ পয়েন্ট বাড়ল নিক্কেই, তবে এআই ঋণ নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে

পড়তে 9 মিনিট
Nikkei Rebounds 898 Points After Six Days of Losses, but AI Debt Fears Persist

টোকিওর বাজারে বড় দরপতনের আংশিক পুনরুদ্ধার

জাপানের নিক্কেই ২২৫ শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৮৯৮.৩৪ পয়েন্ট বা ১.৩৯% বেড়ে ৬৫,৩২৪.২৯ পয়েন্টে লেনদেন শেষ করেছে। এর মধ্য দিয়ে টানা ছয় সেশনের দরপততির অবসান হয়েছে। টোকিও স্টক এক্সচেঞ্জের ৩৩টি শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে ৩২টিতে শেয়ার কেনা হয়েছে। এই পুনরুদ্ধারে টোকিও ইলেকট্রন, সফটব্যাংক গ্রুপ ও অ্যাডভানটেস্ট এগিয়ে ছিল।

সূচিপত্র
  1. টোকিওর বাজারে বড় দরপতনের আংশিক পুনরুদ্ধার
  2. যেভাবে বিক্রির চাপ বাড়ল
  3. ক্রেতারা ফিরলেও পরে ঊর্ধ্বগতি কমে যায়
  4. ব্যাপক উত্থানে কয়েকটি শেয়ারের বড় ভূমিকা
  5. কোরউইভের ঋণ চিপের শেয়ারকে কেন নাড়িয়ে দিল
  6. মূল্যস্ফীতি ও তেলের দামে বাড়তি চাপ
  7. কোম্পানির ফলাফলে কেউ এগিয়েছে, কেউ পিছিয়েছে
  8. মুদ্রা, বন্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ায় চাপের প্রতিফলন
  9. আয় ও মূল্যস্ফীতির তথ্যই হবে পরবর্তী পরীক্ষা
  10. মূল বিষয়গুলো

বৃহস্পতিবারের ৩,৩১৮.৩৪ পয়েন্টের পতনের মাত্র ২৭.১% পুনরুদ্ধার হয়েছে। সূচকের ইতিহাসে দৈনিক পয়েন্টের হিসাবে এটি ছিল তৃতীয় বৃহত্তম পতন। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার মিলিয়ে নিক্কেই ২,৪২০ পয়েন্ট নিচে ছিল। বড় দরপতনের পর বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনেছেন, তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) বিনিয়োগের পেছনে থাকা ঋণ নিয়ে উদ্বেগ বাজারে চাপ সৃষ্টি করে চলেছে।

বিস্তৃত বাজারের সূচক টপিক্স ৬৬.৬৬ পয়েন্ট বা ১.৬৭% বেড়ে ৪,০৬৬.০০-তে উঠেছে, ৪,০০০-এর স্তরও পুনরুদ্ধার করেছে। প্রাইম মার্কেটে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২.৩৭৯০৫ বিলিয়ন শেয়ার; মোট লেনদেনের অর্থমূল্য ৭.৬৬৮৬ ট্রিলিয়ন ইয়েন।

শুক্রবারের এই পুনরুদ্ধারের আগে রাতারাতি ওয়াল স্ট্রিটে বাজারের পরিস্থিতির উন্নতি হয়। ডাও জোন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যাভারেজ ৫৫৬.২১ পয়েন্ট বাড়ে। এআই অবকাঠামো সরবরাহকারী কোরউইভের আর্থিক অবস্থান নিয়ে এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াংয়ের মন্তব্যও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কমাতে সহায়তা করে। কোরউইভের ঋণ নেওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রযুক্তি বাজারে ছড়িয়ে পড়েছিল।

তা সত্ত্বেও, ১৭ জুলাইয়ের পর থেকে সপ্তাহের হিসাবে নিক্কেইয়ের ৫.৩৭% পতন ছিল সবচেয়ে বড়। শুক্রবারের কেনাকাটায় কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে এলেও বিনিয়োগকারীরা মূল প্রশ্নটির মুখোমুখি: এআই সরঞ্জামে বিপুল অর্থ ব্যয়কারী কোম্পানিগুলো এসব বিনিয়োগের খরচ মেটানোর মতো যথেষ্ট আয় করতে পারবে কি না।

যেভাবে বিক্রির চাপ বাড়ল

টোকিওর দরপতনে কয়েকটি চাপ একসঙ্গে কাজ করেছে: যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা, কোরউইভের আর্থিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ এবং মেমোরি চিপে বাড়তে থাকা প্রতিযোগিতা। ৫ অক্টোবর নিক্কেই ৭০,০০০ পয়েন্টের ওপরে উঠেছিল, এরপর দ্রুত নিচে নেমে আসে।

  • ৫ অক্টোবর: প্রায় তিন মাসের মধ্যে প্রথমবার নিক্কেই ৭০,০০০ পয়েন্টের ওপরে লেনদেন করে।
  • ১৪ অক্টোবর: চীনা চিপ নির্মাতা সিএক্সএমটি বছরের শেষ নাগাদ সার্ভার মেমোরি পণ্য আনার পরিকল্পনা জানালে প্রতিযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতি ৩.৭% বলে জানানো হয়।
  • ১৫ অক্টোবর: টানা ছয় সেশনের দরপততির মধ্যে নিক্কেই ৩,৩১৮.৩৪ পয়েন্ট কমে ৬৪,৪২৫.৯৫-তে নামে। দিনের মধ্যে সর্বনিম্ন ছিল ৬৪,০৯২.৭৪।
  • ১৬ অক্টোবর: সূচক ঘুরে দাঁড়িয়ে ৬৫,৩২৪.২৯-এ ওঠে; দুপুর ২টা ১ মিনিটে তা ৬৫,৭১২.৩০-তে পৌঁছেছিল।
বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার এআই ও সেমিকন্ডাক্টর-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বিক্রির চাপ ছিল বিশেষভাবে তীব্র। মধ্যাহ্নে অ্যাডভানটেস্টের শেয়ার ১৫%-এর বেশি, টোকিও ইলেকট্রনের প্রায় ৮%, সফটব্যাংক গ্রুপের ১০%-এর বেশি এবং কিওক্সিয়ার ১২%-এর বেশি কমে যায়।

এই দুর্বলতা দেশের সীমানা ছাড়িয়ে ছড়ায়। আগের দিনের মার্কিন লেনদেনে ফিলাডেলফিয়া সেমিকন্ডাক্টর সূচক ৪.৩% কমে। এনভিডিয়ার শেয়ার ৩% এবং ওরাকলের প্রায় ৯% পতন হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি বৃহস্পতিবার ৭.৫% পড়ে যায়; স্যামসাং ইলেকট্রনিকস ও এসকে হাইনিক্সের শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির চাপ ছিল।

ক্রেতারা ফিরলেও পরে ঊর্ধ্বগতি কমে যায়

শুক্রবার মধ্যাহ্ন বিরতিতে নিক্কেই ছিল ৬৫,৫৫০.৬৮ পয়েন্টে, যা ১.৭৫% বেশি। পরে সূচক বেড়ে ১,২৮৬.৩৫ পয়েন্ট পর্যন্ত ওঠে, তবে দিনের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে বিকেলে প্রায় ৩৮৮ পয়েন্ট কমে লেনদেন শেষ করে। সপ্তাহান্তের আগে মুনাফা তুলে নেওয়ার বিক্রি এবং এআই বিনিয়োগ থেকে লাভ হবে কি না, তা নিয়ে দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগ ঊর্ধ্বগতিকে সীমিত করে।

দাইওয়া সিকিউরিটিজের জ্যেষ্ঠ কৌশলবিদ দাইসুকে হাশিজুমে আগের সেশনের বড় দরপতনের পর কেনাকাটাকেই পুনরুদ্ধারের প্রধান কারণ বলে উল্লেখ করেন।

আগের সেশনে বড় দরপতনের পর বিনিয়োগকারীরা শেয়ার কিনে নেওয়ায় দাম ঘুরে দাঁড়ায়… এই বৃদ্ধির পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল না,

হাশিজুমে বলেন, কোম্পানিগুলোর আর্থিক ফল প্রকাশ এবং নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেও বিনিয়োগকারীরা সতর্ক ছিলেন। নির্বাচনের ফল প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের ৫,০০০ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব এবং সামরিক ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনায় কী প্রভাব ফেলতে পারে, সেটিকে তিনি বাজারের নজরে থাকা বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

রাতারাতি মার্কিন শেয়ারবাজার কিছুটা সহায়তা দিলেও বিভিন্ন সূচকের বৃদ্ধি ছিল ভিন্ন। ডাও প্রায় ১.০৮% বেড়েছে; এসঅ্যান্ডপি ৫০০ বেড়েছে ০.৩৩% এবং নাসডাক কম্পোজিট ০.০৮%। আগের দুর্বলতার পর নাসডাক শেষ পর্যন্ত ঊর্ধ্বমুখী ছিল; যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বন্ডের ফলন কমায় বাজারের মনোভাব স্থিতিশীল হতেও সহায়তা হয়।

ব্যাপক উত্থানে কয়েকটি শেয়ারের বড় ভূমিকা

শুক্রবার নিক্কেইয়ের বৃদ্ধিতে টোকিও ইলেকট্রনের অবদান ছিল ১৩৪.০০ পয়েন্ট, মোট বৃদ্ধির প্রায় ১৪.৯%। সফটব্যাংক গ্রুপ যোগ করেছে ৭৪.৪৩ পয়েন্ট, ইবিডেন ৭৪.৩০, বে-কারেন্ট ৫০.৫৭ এবং অ্যাডভানটেস্ট ৪০.৯৯ পয়েন্ট। এই পাঁচটি শেয়ার মিলে সূচকের মোট বৃদ্ধির প্রায় ৪১.৭% জুগিয়েছে।

নিক্কেই প্রতিটি কোম্পানির প্রভাব নির্ধারণে সমন্বিত শেয়ারদর ব্যবহার করে। তাই বাজারের বড় অংশজুড়ে কেনাকাটা হলেও বেশি সমন্বিত শেয়ারদরের কোম্পানিগুলো সূচককে অন্যদের তুলনায় বেশি নাড়াতে পারে। শুক্রবার ফাস্ট রিটেইলিংয়ের ক্ষেত্রে বিপরীত প্রভাব দেখা যায়: শেয়ারটি সূচক থেকে ৬৬.৩৪ পয়েন্ট কমিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

প্রাইম মার্কেটে ১,২৯২টি শেয়ারের দর বেড়েছে, যা তালিকাভুক্ত শেয়ারের পাঁচ ভাগের চার ভাগেরও বেশি। দিনের শেষে দর কমা শেয়ারের সংখ্যা বিভিন্ন হিসাবে ২২৪ থেকে ২২৯টির মধ্যে ছিল। বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাত ছাড়া সব শিল্পগোষ্ঠী বেড়েছে। অন্যান্য পণ্য খাতে সবচেয়ে বেশি বৃদ্ধি হয়েছে; এরপর ছিল যন্ত্রপাতি, বিমা ও পরিবহন সরঞ্জাম।

ব্যাংক ও উৎপাদন খাতের কোম্পানিগুলোও এই উত্থানে অংশ নিয়েছে। মধ্যাহ্নে মিতসুবিশি ইউএফজে ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের শেয়ার ১.৬৪% এবং মিজুহো ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপের ১.৭১% বেড়েছে; সেশনে টয়োটা মোটরের শেয়ারও এগিয়েছে। কিওক্সিয়ার শেয়ার ৩.৮৪% বেড়ে ১৩,৩৭৫ ইয়েনে এবং সফটব্যাংক গ্রুপের শেয়ার ১.৯০% বেড়ে ৪,৯৪৪ ইয়েনে লেনদেন শেষ করেছে।

কোরউইভের ঋণ চিপের শেয়ারকে কেন নাড়িয়ে দিল

কোরউইভ এআই-এ ব্যবহৃত কম্পিউটিং অবকাঠামো সরবরাহ করে; এর মধ্যে ডেটা সেন্টার এবং শক্তিশালী চিপ ব্যবহারের সুযোগও রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির সম্প্রসারণ অবকাঠামো পরিচালনাকারী একটি কোম্পানির আর্থিক অবস্থাকে প্রযুক্তি খাতের অন্য কোম্পানিগুলোর তৈরি সরঞ্জামের চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করেছে।

বাজার বিশ্লেষক কাজুয়ুকি সুজুকি বলেন, কোরউইভের বন্ডের ফলন দ্রুত বেড়ে যাওয়াই সপ্তাহের উদ্বেগের অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি ২০৩২ সালে মেয়াদ পূর্ণ হবে এমন একটি বন্ডের কথা উল্লেখ করেন, যার নির্ধারিত কুপন হার ৯%; এর বাজার-ফলন বেড়ে ১৫%-এর ঘরে পৌঁছেছিল।

কুপন হলো বন্ডের শর্তে নির্ধারিত সুদের অর্থপ্রদান। বন্ডের লেনদেনমূল্য বদলালে বাজার-ফলনও বদলায়। কোনো কোম্পানির ঋণ ধরে রাখতে বিনিয়োগকারীরা বেশি ফলন চাইলে তা ঋণ পরিশোধ নিয়ে বাড়তি উদ্বেগের ইঙ্গিত দিতে পারে এবং নতুন ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়াতে পারে।

সুজুকি কোরউইভের পাঁচ বছর মেয়াদি ক্রেডিট ডিফল্ট সোয়াপের ১১%-এর বেশি প্রিমিয়ামের কথাও উল্লেখ করেন। এসব চুক্তিতে নির্দিষ্ট ঋণ খেলাপির বিরুদ্ধে সুরক্ষা দেওয়া হয়। প্রিমিয়াম বাড়ার অর্থ, সেই সুরক্ষা কেনা আরও ব্যয়বহুল হয়েছে।

পরে এনভিডিয়ার হুয়াং ইঙ্গিত দেন, কোরউইভের আর্থিক শক্তি বাড়ছে এবং মূলধনের খরচ কমছে। বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে লেনদেনে কোরউইভের শেয়ার ৫%-এর বেশি বেড়েছে। শুক্রবার জাপানের চিপ কোম্পানিগুলোর শেয়ারও বেড়েছে, যদিও এআই অবকাঠামোয় ব্যয় থেকে কত দ্রুত মুনাফা আসবে, তা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ রয়ে গেছে।

মূল্যস্ফীতি ও তেলের দামে বাড়তি চাপ

যুক্তরাষ্ট্রে সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ৩.৭% ছিল, যা বাজারের প্রত্যাশার চেয়ে বেশি। এতে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা বেশি ধরে নিতে শুরু করেন লেনদেনকারীরা। অক্টোবরে সুদের হার বাড়ার অন্তর্নিহিত সম্ভাবনা একপর্যায়ে ৫০%-এ উঠলেও পরে কমে ২৭%-এ নেমে আসে।

বিজ্ঞাপন

বাড়তি সুদের হার দুইভাবে এআই বিনিয়োগকে প্রভাবিত করতে পারে। ব্যয়বহুল স্থাপনা তৈরি করা কোম্পানিগুলোর ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়ে। পাশাপাশি, অনেক পরে প্রত্যাশিত মুনাফার জন্য আজ বেশি দাম দিতে বিনিয়োগকারীরা কম আগ্রহী হন।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ক্রুড ফিউচার্সের দাম বাড়াও শুক্রবার টোকিওর বাজারে চাপ সৃষ্টি করে। তেলের উচ্চমূল্য পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়ায় এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর জন্য মূল্যস্ফীতির পূর্বাভাস সামলানো কঠিন করে তোলে।

ফেডারেল রিজার্ভের পরবর্তী নীতিনির্ধারণী বৈঠক ২৭ ও ২৮ অক্টোবর হওয়ার কথা। ফেড চেয়ার ওয়ারশের নামে প্রচারিত মন্তব্যে বলা হয়, তিনি আগে থেকে নির্ধারিত কোনো অবস্থান ছাড়াই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেবেন। শুক্রবারের লেনদেনে এ মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে সাহায্য করে। তখনও সুদের হার নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

কোম্পানির ফলাফলে কেউ এগিয়েছে, কেউ পিছিয়েছে

বিস্তৃত বাজারের পুনরুদ্ধারের মধ্যে বে-কারেন্ট ছিল উল্লেখযোগ্য। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানটি উদ্বৃত্ত নগদ বিনিয়োগ ও শেয়ার পুনঃক্রয়ে ব্যবহারের পরিকল্পনা জানালে মধ্যাহ্নে এর শেয়ার ১৭.২৫% বেড়েছিল। অর্থবছরের প্রথমার্ধের শক্তিশালী ফলাফল এবং মধ্যমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনাও ক্রেতাদের আকৃষ্ট করে; শেয়ারটি দিনের সর্বোচ্চ মূল্যসীমায় পৌঁছায়।

শেয়ার পুনঃক্রয় বলতে কোনো কোম্পানির নিজের শেয়ার কিনে নেওয়াকে বোঝায়। নগদের এমন ব্যবহারকে বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচকভাবে দেখতে পারেন, কারণ এতে বাজারে থাকা শেয়ারের সংখ্যা কমে এবং বাকি প্রতিটি শেয়ারের বিপরীতে ভবিষ্যৎ মুনাফায় অংশ বেড়ে যায়।

সফটওয়্যার সেবা কোম্পানি শিফটের আর্থিক ফলাফলের পূর্বাভাস এবং টোকিও গ্যাসের সঙ্গে বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরিকল্পনায় কেনাকাটা বাড়ে; শেয়ারটি দিনের সর্বোচ্চ মূল্যসীমায় পৌঁছায়। ওয়েসিস ম্যানেজমেন্টের শেয়ারধারণের তথ্য প্রকাশের পর তাকারা হোল্ডিংসের শেয়ারও বেড়েছে।

হিওকি ছিল বিপরীত ধারায়। তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ক্রমপুঞ্জীভূত ফলাফল শক্তিশালী হলেও পুরো বছরের পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রাখার পর শেয়ারটির দাম দ্রুত কমে যায়। বিনিয়োগকারীরা সাম্প্রতিক ফলাফলের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রত্যাশাও সমানভাবে খতিয়ে দেখছিলেন।

নোমুরা সিকিউরিটিজের ইনভেস্টমেন্ট কনটেন্ট বিভাগের কৌশলবিদ মাকি সাওয়াদা কোম্পানির ফল প্রকাশের আগে বাজারের সতর্কতার কথা বলেন।

সাম্প্রতিক অস্থিরতা আয় প্রকাশের মৌসুমের আগে সাধারণত যে ধরনের ওঠানামা দেখা যায়, তারই প্রতিফলন,

সাওয়াদা আরও বলেন, বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি কমানোর দিকে ঝুঁকছেন। তার মতে, শক্তিশালী আয়ের ফল এআই বিনিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ কমাতে পারে।

বিজ্ঞাপন

মুদ্রা, বন্ড ও দক্ষিণ কোরিয়ায় চাপের প্রতিফলন

শুক্রবার টোকিওতে ডলারের দর ছিল প্রায় ১৫৮ ইয়েন। বিকেল ৫টায় দর ছিল ১৫৮.০০–১৫৮.০২ ইয়েন; বৃহস্পতিবার একই সময়ে ছিল ১৫৭.৮৬–১৫৭.৮৮ ইয়েন। ইউরোর দর ছিল ১.১২৩৮–১.১২৩৯ ডলার এবং ১৭৭.৫৭–১৭৭.৬১ ইয়েন।

১০ বছর মেয়াদি জাপানি সরকারি বন্ডের বেঞ্চমার্ক ফলন শেয়ারবাজার ঘুরে দাঁড়ানো এবং বন্ড বিক্রির মধ্যে ০.০১০ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ২.৯৩০%-এ দাঁড়ায়। বৃহস্পতিবারের দরপতনের সময় তা একপর্যায়ে ২.৯১%-এ নেমেছিল। বন্ডের দাম ও ফলন বিপরীত দিকে চলে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কসপি শুক্রবার ২.০৫% বেড়ে ৫,৬৬৮.০৬-এ উঠলেও সপ্তাহ শেষে ১৪.৪৬% নিচে ছিল। ২০০৮ সালের অক্টোবরের পর এটিই ছিল সূচকটির সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক পতন। এই পতন জাপানের ৫.৩৭% সাপ্তাহিক পতনের প্রায় ২.৭ গুণ। শুক্রবার স্যামসাং ইলেকট্রনিকসের শেয়ার ২.৬২% এবং এসকে হাইনিক্সের ০.৭৯% বেড়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনীতি ও অর্থ মন্ত্রণালয় ১৬ অক্টোবর জানায়, শেয়ারবাজারের অস্থিরতা বন্ড, বৈদেশিক মুদ্রা ও অর্থবাজারে ছড়ায় কি না, তা তারা পর্যবেক্ষণ করবে এবং বাজার তদারকি জোরদার করবে। সহায়ক কারণ হিসেবে মন্ত্রণালয় প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা, চলতি হিসাবে ধারাবাহিক উদ্বৃত্ত এবং কোম্পানিগুলোর আয়ের কথা উল্লেখ করে।

আয় ও মূল্যস্ফীতির তথ্যই হবে পরবর্তী পরীক্ষা

মেটা প্ল্যাটফর্মসের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর সময়ের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের সময় ২১ অক্টোবর প্রকাশ হওয়ার কথা। এআইয়ে ব্যয়ের পরিকল্পনা, আয় ও মুনাফার পূর্বাভাস দেখে বিনিয়োগকারীরা বোঝার চেষ্টা করবেন, কম্পিউটিং অবকাঠামোর চাহিদা কীভাবে ব্যবসায়িক মুনাফায় রূপ নিচ্ছে।

জাপানের সেপ্টেম্বরের জাতীয় ভোক্তা মূল্যসূচক প্রকাশ হবে ২৩ অক্টোবর। ব্যাংক অব জাপানের নীতিনির্ধারণী বোর্ডের সদস্য জুনকো কোয়েদা ১৫ অক্টোবর বলেন, সুদের হার বাড়ানোর ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারকদের অতিরিক্ত সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি নিরপেক্ষ সুদের হার, অর্থনীতিকে যে স্তর উদ্দীপিত বা সংযত করে না, ১%-এর উল্লেখযোগ্য ওপরে বলে উল্লেখ করেন।

জাপানি রপ্তানিকারকদের ক্ষেত্রে ইয়েন শক্তিশালী হলে বিদেশে অর্জিত আয়ের ইয়েনমূল্য কমতে পারে। মূল্যস্ফীতির এমন কোনো তথ্য, যা জাপানে সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশা জোরদার করে, তা মুদ্রা ও শেয়ারের দামে—দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব ফেলতে পারে।

সুজুকির মতে, নিক্কেইয়ের সম্ভাব্য নিম্নসীমা হতে পারে প্রায় ৬১,০০০ পয়েন্ট। তার মূল্যায়নে উল্লেখ করা ২৬ সপ্তাহের চলমান গড় ৬৫,৬৭২-এর নিচে শুক্রবার লেনদেন শেষ করেছে সূচকটি। ২১ অক্টোবরের আয় প্রতিবেদন, ২৩ অক্টোবর জাপানের মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং ২৭ ও ২৮ অক্টোবর ফেডের বৈঠক বিনিয়োগকারীদের আস্থার পরবর্তী বাস্তব পরীক্ষা।

মূল বিষয়গুলো

  • টানা ছয় সেশনের দরপততির অবসান ঘটিয়ে নিক্কেই ৮৯৮.৩৪ পয়েন্ট বেড়ে ৬৫,৩২৪.২৯-তে উঠেছে।
  • শুক্রবারের বৃদ্ধি বৃহস্পতিবারের পতনের ২৭.১% পুষিয়ে দিয়েছে; সপ্তাহে সূচকটি তবু ৫.৩৭% কমেছে।
  • টপিক্স ১.৬৭% বেড়েছে এবং টোকিওর ৩৩টি শিল্পগোষ্ঠীর মধ্যে ৩২টির দর বেড়েছে।
  • কোরউইভের ঋণ নেওয়ার খরচ, এআই থেকে মুনাফা, মূল্যস্ফীতি ও তেলের দামই প্রধান উদ্বেগ হিসেবে রয়ে গেছে।
  • মেটার আয়ের ফল, জাপানের মূল্যস্ফীতির তথ্য এবং অক্টোবরে ফেডের বৈঠক বাজারের পরবর্তী নির্ধারিত পরীক্ষা।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে