পরিচিত অতিথিকে দিয়ে শুরু বিদায়ের পালা
কফি উইথ করণের নবম ও শেষ মৌসুম শুরু করবেন সালমান খান। ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবরের সেই পর্বে ফিরছেন এমন এক অতিথি, যিনি অনুষ্ঠানটির দুটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলকের অংশ ছিলেন: ২০১৩ সালে চতুর্থ মৌসুমের উদ্বোধনী পর্ব এবং পঞ্চম মৌসুমের ১০০তম পর্ব। নতুন মৌসুমটি জিওহটস্টারে দ্য পিকক হাবে স্ট্রিম হবে। উপস্থাপক ও চলচ্চিত্র নির্মাতা করণ জোহরের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৪ সালে যাত্রা শুরুর পর আটটি মৌসুম ও ১৬১টি পর্ব প্রচারের মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে অনুষ্ঠানটি।
সূচিপত্র
- পরিচিত অতিথিকে দিয়ে শুরু বিদায়ের পালা
- উদ্বোধনী প্রচারণায় যা জানা গেল
- পুরোনো প্রশ্ন ফিরল, উত্তরের বর্ণনায় অমিল
- সন্তান ও পরিবার নিয়ে আরও ব্যক্তিগত আলোচনা
- পাপারাজ্জি, জনমনোযোগ ও নিজের পরামর্শ মেনে চলা
- কেন অনুষ্ঠানটি শেষ করছেন জোহর
- পারিবারিক আলাপ থেকে ১৬১ পর্ব
- মাইলফলক ও বিতর্কের নিরিখে প্রত্যাবর্তন
- শেষ মৌসুমে আর কারা আসতে পারেন?
- একনজরে
১২ অক্টোবর সালমান খানের উপস্থিতি নিশ্চিত করে একটি টিজার প্রকাশ করে জিওহটস্টার। প্রচারণায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে পরিচিত রসিকতার পাশাপাশি পরিবার, স্বাস্থ্য, জনসাধারণের মনোযোগ এবং করণের সোফা ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে আরও ভাবনামূলক কথোপকথনের আভাস রয়েছে। আগেরবার বাবার ও ভাইদের সঙ্গে এলেও এবার সালমান একাই আসবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জোহর বিদায়ের সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত বলে বর্ণনা করেছেন। আগামী দশক চলচ্চিত্র পরিচালনা ও আরও গল্প বলায় ব্যয় করতে চান তিনি। ফলে উদ্বোধনী পর্বে প্রচলিত কাঠামো থেকে দুটি ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে: একদিকে সন্তান নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলতে পারেন এমন এক পুরোনো অতিথি, অন্যদিকে নিজের জনপরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠা অনুষ্ঠানটি শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন উপস্থাপক।
প্রচারের সময়সূচি নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে একমত থাকলেও সাপ্তাহিক পর্ব প্রকাশের সময় নিয়ে রয়েছে অমিল। কয়েকটি প্রতিবেদনে বুধবার সন্ধ্যা ৭টার কথা বলা হয়েছে, অন্য একটিতে বলা হয়েছে রাত ৯টা। এসব প্রতিবেদনে কোনো সময় অঞ্চল উল্লেখ নেই। উদ্বোধনী পর্বের সময় হিসেবে সাধারণত সন্ধ্যা ৭টার কথা বলা হচ্ছে। তাই দেখার সময় নিশ্চিত করতে প্ল্যাটফর্মে পর্বের তালিকা দেখা সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
উদ্বোধনী প্রচারণায় যা জানা গেল
প্রথম ঘোষণায় সেটে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে দেখা যায় খান ও জোহরকে। খান হিন্দিতে তাঁর ফেরার ঘোষণা দেন। জোহর নিশ্চিত করেন, ১৪ অক্টোবর থেকে শুরু হচ্ছে শেষ মৌসুম। এরপর তাঁদের কথোপকথনে বিদায়পর্বে আলোচনা কোন দিকে যেতে পারে, তা নিয়ে রসিকতা শুরু হয়।
অনুষ্ঠানটির উপস্থাপক জোহর খানকে ভাবতে বলেন, তাঁদের আলোচনা কতটা অনিশ্চিত দিকে যেতে পারে:
তাহলে এটা যেকোনো দিকেই যেতে পারে, তাই না?
খান বলেন, অবশ্যই পারে; এরপর রসিকতা করে বলেন, এরই মধ্যে তা গেছে। জিওহটস্টারের প্রচারণামূলক ক্যাপশনে বিদায়পর্ব শুরু করার জন্য তাঁকেই স্বাভাবিক পছন্দ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে ভক্তদের কাছে পরিচিত আদরের নাম ‘ভাই’ বলে তাঁকে সম্বোধন করা হয়েছে।
পরের একটি টিজারে আরও কিছু তথ্য পাওয়া যায়। খান কিছুক্ষণের জন্য জোহরের আসনে বসে বর্তমান অনুষ্ঠান শেষ হলে ‘কফি উইথ সালমান’ হতে পারে বলে রসিকতা করেন। শেষ মৌসুমের কথা বলে অতিথিদের আসতে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন কি না, তা নিয়েও জোহরকে খোঁচা দেন তিনি। তবে এ দুটির কোনোটিই বিকল্প অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা নিশ্চিত করে না।
পুরোনো প্রশ্ন ফিরল, উত্তরের বর্ণনায় অমিল
খানের সবচেয়ে আলোচিত উপস্থিতিগুলোর একটির প্রসঙ্গ টেনে জোহর আবারও জানতে চান, তিনি এখনো কুমার কি না। ২০১৩ সালে তাঁর প্রথম উপস্থিতির কথা মনে করিয়ে দেয় প্রশ্নটি। সেবার খানের উত্তর অনুষ্ঠানটির সবচেয়ে আলোচিত মন্তব্যগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছিল। পরে জোহর ব্যাখ্যা করেছিলেন, খান কথাটি গম্ভীর মুখে রসিকতা হিসেবে বলেছিলেন, গুরুতর কোনো স্বীকারোক্তি হিসেবে নয়।
নতুন প্রশ্নের উত্তরে খান সংযত হওয়ার মজার আবেদন জানান। প্রতিবেদনে তাঁর সঠিক কথাগুলো নিয়ে অমিল রয়েছে: একটিতে বলা হয়েছে, “কন্ট্রোল, মাই ব্রাদার, কন্ট্রোল”; অন্যটিতে, “কন্ট্রোল ইয়ার, ব্রাদার”; আর তৃতীয়টিতে, “কন্ট্রোল, ইয়াহ ব্রাদার, কন্ট্রোল।” একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি অভিনেতা রবি কিষাণের ভঙ্গি নকল করে কথাটি বলেছেন।
এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ টিজারে খানের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নতুন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। পরিচিত কথোপকথনের মধ্য দিয়ে শেষ মৌসুমকে আগের একটি পর্বের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। প্রতিবেদনগুলোতে আরও বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে পঞ্চম মৌসুমে আরবাজ খান ও সোহেল খানের সঙ্গে এসে ১০০তম পর্বে তিনি একই কুমারত্বের রসিকতা করেছিলেন।
সন্তান ও পরিবার নিয়ে আরও ব্যক্তিগত আলোচনা
রসিকতার বাইরেও উদ্বোধনী পর্ব নিয়ে আগাম প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, নিজের সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা আছে কি না, তা নিয়ে কথা বলবেন খান। ভাতিজি-ভাতিজা ও ভাইপো-ভাতিজিদের সঙ্গে সময় কাটানো এই অভিনেতাকে জোহর নাকি জিজ্ঞেস করেন, নিজের সন্তান না থাকার বিষয়টি তাঁর মনে পড়ে কি না। বলা হচ্ছে, খান এর উত্তরে হ্যাঁ বলেন এবং একদিন সন্তান নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।
এটি একটি ইচ্ছার কথা, কোনো সিদ্ধান্তের ঘোষণা নয়। সন্তান নেওয়ার নির্দিষ্ট সময়, সঙ্গী বা পরিকল্পনার কথা জানানো হয়নি। এই পার্থক্যটি ব্যক্তিগত ভাবনাকে খানের পারিবারিক জীবনে বড় কোনো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে হয়ে গেছে—এমন দাবিতে পরিণত হওয়া থেকে বিরত রাখে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আলোচনা পরিবার থেকে পাওয়া সহায়তা ও সঙ্গের প্রসঙ্গেও গড়ায়—বিশেষত কারও সঙ্গী না থাকলেও পরিবার কীভাবে পাশে থাকতে পারে। এতে উদ্বোধনী কথোপকথনটি শুধু প্রেম বা সম্পর্কের প্রশ্ন থেকে সরে অন্য দিকে যায়। তবে আগাম প্রতিবেদনগুলোতে খানের বক্তব্যের পূর্ণ প্রতিলিপি নেই।
পর্বে তাঁর শারীরিক পরিবর্তন, সাম্প্রতিক স্বাস্থ্যগত ধাক্কা, ক্যারিয়ার এবং অভিজ্ঞ অভিনেতাদের জনপ্রিয়তা ও পারিবারিক বিনোদনধর্মী চলচ্চিত্রের আবেদন নিয়েও আলোচনা হবে। এসব প্রতিবেদনে কোনো রোগনির্ণয় বা বিস্তারিত স্বাস্থ্য-হালনাগাদ নেই। তাই স্বাস্থ্য নিয়ে উল্লেখকে তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নির্দিষ্ট ঘোষণা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
পাপারাজ্জি, জনমনোযোগ ও নিজের পরামর্শ মেনে চলা
নতুন টিজারে জোহরকে খানের আরও শান্ত স্বভাব নিয়ে মন্তব্য করতে দেখা যায়। খান বলেন, অন্যদের যে পরামর্শ তিনি আগে দিয়েছেন, তা নিজে মেনে চলার সঙ্গে এই পরিবর্তনের যোগ আছে। নিজের আরও ভাবনামূলক মনোভাবের সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেন অভিনেতা:
আমি যে পরামর্শগুলো দিয়েছি, সেগুলো নিজে মেনে চলার সময় এখন এসেছে।
প্রতিবেদনে উদ্ধৃত অন্য সংস্করণগুলোতে শব্দের সামান্য তারতম্য থাকলেও মূল বক্তব্য একই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্রূপ, ব্যক্তিগত ভাবমূর্তি গড়া এবং চলচ্চিত্রশিল্পে চেহারা-সুরতের প্রতি মনোযোগ নিয়েও কথা হয়।
মুঠোফোনে ক্যামেরা বসানোর জন্য দায়ী ব্যক্তিকে নিয়ে রসিকতা করেন খান। এর মধ্য দিয়ে আলোচনা পাপারাজ্জি সংস্কৃতি ও জনপরিচিত ব্যক্তিদের সারাক্ষণ ক্যামেরাবন্দি করার প্রসঙ্গে যায়। টিজারে কথোপকথনটিকে রসিকতা হিসেবেই দেখানো হয়েছে। ছবি তোলা সীমিত করার প্রস্তাব বা কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগের কথা এতে প্রতিষ্ঠিত হয় না।
শেষের দিকে জোহর অনুষ্ঠান ছেড়ে যাচ্ছেন বলে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন খান। তাঁর অনুরোধ, “তুসি না যাও”—অর্থাৎ, “দয়া করে যেও না”—জোহরের চলচ্চিত্র ‘কুছ কুছ হোতা হ্যায়’-এর একটি সংলাপের কথা মনে করিয়ে দেয়। অনুষ্ঠানটি নিজের হাতে নেওয়ার রসিকতার পাশাপাশি এই কথাটি উদ্বোধনী পর্বে স্নেহমাখা বিদায়ের আবহ তৈরি করে।
কেন অনুষ্ঠানটি শেষ করছেন জোহর
৩০ সেপ্টেম্বর শেষ মৌসুমের ঘোষণা দেন জোহর। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ বছর ধরে অনুষ্ঠানটি তাঁর পরিচয়ের অংশ হয়ে রয়েছে। বন্ধ করার কারণ হিসেবে তিনি পেশাগত অগ্রাধিকারের পরিবর্তনের কথা বলেছেন; কোনো নির্দিষ্ট বিরোধ, অনুষ্ঠান বাতিল হওয়া বা অতিথিকে ঘিরে সমস্যার কথা বলেননি।
চলচ্চিত্র নির্মাতা ও উপস্থাপক জানিয়েছেন, ক্যারিয়ারের পরবর্তী পর্যায়ে পরিচালনায় মনোযোগ দিতে চান তিনি:
জীবনের পরের দশকটা আরও সিনেমা পরিচালনা করে... আরও অনেক গল্প বলে কাটাতে চাই... তাই ভারাক্রান্ত মনে এই মৌসুমটিকেই শেষ মৌসুম করছি।
বিদায়ী বক্তব্যে জোহর অনুষ্ঠানটিকে বন্ধুত্ব, স্মৃতি, ভালোবাসা, উন্মাদনা ও বিতর্কের উৎস হিসেবে বর্ণনা করেন। দর্শকদের ধন্যবাদ জানান অনুষ্ঠানটি দেখে হাসার, বিতর্ক করার, বিদ্রূপ করার ও উদ্যাপন করার জন্য; এত কিছুর পরও তাঁরা বারবার ফিরে এসেছেন।
জোহর শেষ মৌসুমকে আকস্মিক বিদায়ের বদলে কৃতজ্ঞতার প্রকাশ হিসেবে তুলে ধরেছেন। সিদ্ধান্তটি নিয়ে নিজের অনুভূতি বর্ণনা করে তিনি বলেন:
বিদায় বলা আবেগের, তবে এটাও সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে হচ্ছে।
অনুষ্ঠানটি সত্যিই শেষ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে খানের খুনসুটিকে জোহরের বারবার দেওয়া ঘোষণার প্রেক্ষাপটে দেখতে হবে। জোহর নবম মৌসুমকেই তাঁর শেষ মৌসুম বলেছেন। এখন পর্যন্ত বর্ণিত ঘোষণাগুলোতে অনুষ্ঠানটি আবার চালুর পরিকল্পনা, পরবর্তী উপস্থাপক বা শেষ পর্বের তারিখ নিশ্চিত করা হয়নি।
পারিবারিক আলাপ থেকে ১৬১ পর্ব
অনুষ্ঠানের সূচনার বিষয়ে জোহরের বর্ণনা অনুযায়ী, ২০০৪ সালের জুনে বাবা ও প্রযোজক যশ জোহরের সঙ্গে এক কথোপকথন থেকেই এর ধারণা আসে। অনানুষ্ঠানিক আড্ডায় দুজন তারকাকে একসঙ্গে আনতে চেয়েছিলেন তিনি। তাঁর বাবা প্রশ্ন করেছিলেন, বন্ধুদের সঙ্গে তিনি এমনিতেই যা করেন, সেটির জন্য কেউ তাঁকে অর্থ দেবে কি না।
২০০৪ সালের ২৬ জুন মারা যান যশ জোহর। করণ জানিয়েছেন, ওই বছরের ১৬ আগস্ট তিনি অনুষ্ঠানটির শুটিং শুরু করেন। প্রথম অতিথি ছিলেন শাহরুখ খান ও কাজল। পরবর্তী মৌসুমগুলোতেও তারকাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ আলাপের যে ধরন চলেছে, শুরু থেকেই তাতে তার ভিত্তি তৈরি হয়েছিল।
প্রথমে স্টার ওয়ার্ল্ডে প্রচারিত অনুষ্ঠানটি ২০১৯ সাল পর্যন্ত সেখানে ছয়টি মৌসুম চলে। ২০০৭ সালে দ্বিতীয় মৌসুম একই সঙ্গে স্টার ওয়ানেও প্রচারিত হয়েছিল। ষষ্ঠ মৌসুমে পর্বগুলো হটস্টারে পাওয়া যেত। পরের মৌসুমগুলো স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে যায়, আর এখন জিওহটস্টারে শুরু হচ্ছে বিদায়ের পর্ব।
শুরু, খানের উপস্থিতি এবং বর্তমান ঘোষণার মধ্যে সংযোগ তৈরি করেছে গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো:
- ২০০৪: ১৬ আগস্ট শুটিং শুরু করেন জোহর; শাহরুখ খান ও কাজলকে নিয়ে অনুষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়।
- ২০১৩: চতুর্থ মৌসুম শুরু করেন খান, সঙ্গে ছিলেন তাঁর বাবা ও চিত্রনাট্যকার সেলিম খান।
- ২০১৬: পঞ্চম মৌসুমের ১০০তম পর্বে আরবাজ খান ও সোহেল খানের সঙ্গে ফেরেন খান।
- অক্টোবর ২০২৩ থেকে জানুয়ারি ২০২৪: অষ্টম মৌসুম চলে; রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোনকে নিয়ে শুরু হয় এটি।
- ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: শেষ মৌসুমের ঘোষণা দেন জোহর।
- ১২ অক্টোবর, ২০২৬: উদ্বোধনী অতিথি হিসেবে খানের উপস্থিতি নিশ্চিত করে টিজার প্রকাশ করে জিওহটস্টার।
- ১৪ অক্টোবর, ২০২৬: নবম মৌসুমের উদ্বোধনী পর্ব প্রচারের কথা রয়েছে।
মাইলফলক ও বিতর্কের নিরিখে প্রত্যাবর্তন
নতুন পর্বে খান তৃতীয়বারের মতো অনুষ্ঠানে আসবেন। পঞ্চম মৌসুমের পর তাঁর ফেরার বিরতি নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে ভিন্ন হিসাব রয়েছে: কয়েকটিতে দশ বছর বলা হয়েছে, অন্য একটিতে দশ বছরেরও বেশি। প্রতিবেদন অনুযায়ী বছর দুটি ২০১৬ ও ২০২৬; অর্থাৎ, প্রায় এক দশক পর ফিরছেন তিনি। শুধু এই বছরগুলো দিয়ে দশ পূর্ণ বছরের বেশি বিরতি প্রমাণ হয় না।
১০০তম পর্বে তাঁর আগের উপস্থিতি পরবর্তী সময়ের অনুষ্ঠানটির অগ্রগতি বোঝারও একটি মাপকাঠি। নবম মৌসুমের আগ পর্যন্ত মোট ১৬১টি পর্ব প্রচারিত হয়েছে বলে জোহর জানিয়েছেন। অর্থাৎ, ওই মাইলফলকের পর আরও ৬১টি পর্ব হয়েছে। বিদায়ী মৌসুমের উদ্বোধনী অতিথি হিসেবে খানকে বেছে নেওয়ায় শেষ মৌসুমটি একটি উদ্বোধনী পর্ব ও একটি বড় পর্বসংখ্যার মাইলফলকের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে।
বিদায়ী বক্তব্যে অনুষ্ঠানটির কথোপকথন ঘিরে তৈরি বিতর্কের কথাও স্বীকার করেছেন জোহর। ২০১৭ সালে কঙ্গনা রানাউত স্বজনপ্রীতি নিয়ে তাঁকে প্রশ্নের মুখে ফেলেন। স্বজনপ্রীতি বলতে আত্মীয় বা পারিবারিক যোগাযোগ আছে এমন ব্যক্তিদের সুযোগ দেওয়ার পক্ষপাতকে বোঝায়। ওই কথোপকথন চলচ্চিত্রশিল্পে কাজের সুযোগ নিয়ে বৃহত্তর বিতর্কের অংশ হয়ে ওঠে।
ক্রিকেটার হার্দিক পান্ডিয়া ও কে এল রাহুল ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠানে আসার পরিণতি আরও সরাসরি ছিল। নারীদের নিয়ে পান্ডিয়ার মন্তব্যে বিতর্কের পর ভারতীয় ক্রিকেট নিয়ন্ত্রণ বোর্ড তদন্তের অপেক্ষায় দুজনকেই সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করে এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরিয়ে আনে। পরে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। ২০১৯ সালের এপ্রিলে বোর্ডের ন্যায়পাল দুজনকেই ২০ লাখ রুপি করে জরিমানা করেন। পর্বটিও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
অষ্টম মৌসুমের উদ্বোধনী পর্বে রণবীর সিং ও দীপিকা পাড়ুকোনের কথোপকথন ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ নিয়ে অনলাইনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দেয়। পরে তাঁদের খোলামেলা কথার পক্ষে অবস্থান নেন জোহর। এসব ঘটনা ব্যাখ্যা করে কেন তাঁর বিদায়ী বক্তব্যে বিতর্ককে অনুষ্ঠানটির ইতিহাসের অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে, তারকাদের আকর্ষণ থেকে আলাদা করে নয়।
শেষ মৌসুমে আর কারা আসতে পারেন?
উদ্বোধনী অতিথি হিসেবে খানের নাম নিশ্চিত হয়েছে, তবে মৌসুমের বাকি অতিথিদের সম্ভাব্য তালিকা এখনো চূড়ান্ত নয়। আলোচনায় রয়েছে ‘সাইয়ারা’ ছবির অভিনেতা অনীত পাড্ডা ও আহান পান্ডে, কৌতুকাভিনেতা সময় রায়না, চলচ্চিত্র নির্মাতা ফারাহ খান, বিজয় দেবেরাকোন্ডা ও রাশমিকা মান্দানার নাম।
অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে কাজল, কারিনা কাপুর, জয়া বচ্চন, আমির খান, সাইফ আলি খান ও ফারহান আখতারের নাম রয়েছে। সম্ভাব্য অন্য অতিথিদের মধ্যে আছেন কিয়ারা আদভানি ও সিদ্ধার্থ মালহোত্রা, ভিকি কৌশল ও ক্যাটরিনা কাইফ, শারভারি, বরুণ ধাওয়ান এবং জাহ্নবী কাপুর। এসব প্রতিবেদনকে নিশ্চিত পর্বসূচি বা উল্লিখিত সব জুটির একসঙ্গে উপস্থিতির নিশ্চয়তা হিসেবে দেখা উচিত নয়।
টেলিভিশনে উপস্থিতির বাইরেও খানের চলচ্চিত্রে কাজের কথা জানা গেছে। অপূর্ব লাখিয়ার ‘মাতৃভূমি’ ছবিতে তাঁর প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের কথা রয়েছে; মুক্তি হতে পারে ২০২৬ সালের দীপাবলি বা বড়দিনে। এ ছাড়া বর্তমানে ‘এসভিসি৬৩’ নামে পরিচিত বংশী পৈডিপল্লির ছবিতে নয়নতরার বিপরীতে অভিনয় করবেন তিনি। ‘মাতৃভূমি’র জন্য প্রস্তাবিত দুই মুক্তির সময়ের মধ্যে কোনটি চূড়ান্ত, তা এখানে নিশ্চিত করা হয়নি।
অনুষ্ঠানটির ক্ষেত্রে আরও জরুরি কিছু তথ্য এখনো অজানা: পূর্ণাঙ্গ অতিথি তালিকা, বিদায়ী পর্বের সংখ্যা, শেষ পর্বের তারিখ এবং সাপ্তাহিক প্রকাশের সময় নিয়ে অমিলের ব্যাখ্যা। এসবের তুলনায় ১৪ অক্টোবর উদ্বোধনী পর্ব প্রচারের ঘোষণা এবং শুরুতে খানের উপস্থিতির তথ্য বেশি নিশ্চিত।
একনজরে
- কফি উইথ করণের নবম মৌসুম ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবর জিওহটস্টারের দ্য পিকক হাবে শুরু হওয়ার কথা।
- শেষ মৌসুমের উদ্বোধনী অতিথি সালমান খান; ২০১৩ ও ২০১৬ সালের পর এটি তাঁর তৃতীয় উপস্থিতি।
- আগামী দশক চলচ্চিত্র পরিচালনা ও গল্প বলায় ব্যয় করতে অনুষ্ঠানটি শেষ করছেন বলে জানিয়েছেন জোহর।
- জোহরের হিসাবে, ২০০৪ সালে শুরু হওয়ার পর নবম মৌসুমের আগে আটটি মৌসুমে ১৬১টি পর্ব হয়েছে।
- আগাম প্রতিবেদন অনুযায়ী, সন্তান, পরিবারের সহায়তা, স্বাস্থ্য, পাপারাজ্জি ও ক্যারিয়ার নিয়ে কথা বলবেন খান।
- কয়েকটি প্রতিবেদনে বুধবার সন্ধ্যা ৭টায় পর্ব প্রকাশের কথা আছে; অন্য একটিতে রাত ৯টা বলা হয়েছে। সাপ্তাহিক সময় নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
- অন্য অতিথিদের নাম এখনো সম্ভাব্য হিসেবে প্রতিবেদনে রয়েছে, আর শেষ পর্বের তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।






