ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি নিয়ে বিরোধে বাবা ও বোনের ওপর আদালতের বিধিনিষেধ চান লি জি জিয়া

পড়তে 8 মিনিট
Lee Zii Jia Seeks Court Restrictions on Father and Sister in Management Company Dispute

LZJ Management-এর অর্থ পরিশোধ ও নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ চেয়ে আবেদন

মালয়েশিয়ার ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় লি জি জিয়া কুয়ালালামপুর হাইকোর্টের কাছে LZJ Management Sdn Bhd-তে তাঁর বাবা ও বড় বোনের আর্থিক ও করপোরেট সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে কোম্পানির নেতৃত্বে পরিবর্তন আনতে পারে, এমন একটি সভা আয়োজনের আবেদনও করেছেন তিনি।

সূচিপত্র
  1. LZJ Management-এর অর্থ পরিশোধ ও নিয়ন্ত্রণে বিধিনিষেধ চেয়ে আবেদন
  2. মাসিক বেতন প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না
  3. করপোরেট সিদ্ধান্তে আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে
  4. ৯০ শতাংশ মালিকানার দাবি ও সংখ্যালঘু শেয়ার নিয়ে মতভেদ
  5. সভা ব্যর্থ হওয়ার পর আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়
  6. বিবাদীদের দাবি, কোম্পানির কার্যক্রম এখনো চলছে
  7. বিরোধের ঘটনাক্রম
  8. প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ক্যারিয়ার ব্যবস্থাপনা চলছে
  9. মূল বিষয়গুলো

২০২৬ সালের ২ জুলাই তারিখের মূল আবেদনটির মামলা নম্বর WA-24NCC-400-07/2026। এতে তাঁর বাবা লি চি হিন, বোন লি জি ই, ছোট ভাই লি তাও এবং কোম্পানিকে বিবাদী করা হয়েছে। চি হিন ও জি ই দুজনই কোম্পানির পরিচালক।

অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বাবাকে ও বোনকে নিজেদের মাসিক বেতনের বাইরে পরিচালক ফি, ভাতা, বোনাস বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা অনুমোদন করা থেকে বিরত রাখতে চান জি জিয়া। আদালতের অনুমতি ছাড়া পরিচালক, সম্পদ ও শেয়ার মালিকানায় পরিবর্তনসহ বড় করপোরেট সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপরও বিধিনিষেধ চান তিনি।

আবেদনটি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ৬ আগস্ট দাখিল করা জবাবি হলফনামায় চি হিন আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আপত্তি জানান এবং বলেন, তাঁর ছেলের পেশাদার ব্যাডমিন্টন ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত বিষয়গুলো কোম্পানি সামলাচ্ছে। জি ই ও তাওও অভিযোগ এবং চাওয়া আদেশকে চ্যালেঞ্জ করেছেন।

আবেদন ও আদালতের রায়ের মধ্যে পার্থক্যটি এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে। জি জিয়া বিধিনিষেধ চেয়েছেন, তবে সেগুলো মঞ্জুর করে আদালতের কোনো সিদ্ধান্তের খবর পাওয়া যায়নি। তাঁর অভিযোগ এবং বিবাদীদের আপত্তি আদালতের বিবেচনার অপেক্ষায় রয়েছে।

মাসিক বেতন প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না

আর্থিক বিধিনিষেধের আবেদনটি দুই পরিচালকের জন্য সব ধরনের অর্থ পরিশোধ পুরোপুরি বন্ধ করার চেয়ে সীমিত। চি হিন ও জি ই তাঁদের নিজ নিজ মাসিক বেতন পেতে পারবেন। মামলা চলাকালে তাঁরা নিজেদের জন্য যে অতিরিক্ত সুবিধা অনুমোদন করতে পারেন, প্রস্তাবিত নিষেধাজ্ঞা তার ওপরই লক্ষ্য রাখছে।

এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে পরিচালক ফি, ভাতা ও বোনাস। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা আবেদনে বেতনের পরিমাণ জানানো হয়নি, বিতর্কিত কোনো অর্থ পরিশোধের মূল্য উল্লেখ করা হয়নি বা কোনো নির্দিষ্ট সুবিধা অনিয়ম করে অনুমোদন করা হয়েছে বলেও প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বিধিনিষেধ চাওয়া নিজে থেকেই আর্থিক অসদাচরণের প্রমাণ নয়।

বিজ্ঞাপন

অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা হলো বিরোধ নিষ্পত্তির সময় কোনো পক্ষের আচরণ নিয়ন্ত্রণে আদালতের দেওয়া সাময়িক আদেশ। এখানে চাওয়া আদেশটি মামলাকালীন নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত সীমিত করবে; কোম্পানির ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত সব বিষয়ের নিষ্পত্তি করবে না। প্রস্তাবিত বিধিনিষেধ যথাযথ কি না, তা আদালতকে বিবেচনা করতে হবে।

করপোরেট সিদ্ধান্তে আদালতের অনুমতি চাওয়া হয়েছে

জি জিয়ার আবেদন পারিশ্রমিকের বাইরেও বিস্তৃত। LZJ Management কে পরিচালনা করবেন এবং এর মালিকানা বা সম্পদে কী পরিবর্তন আসতে পারে, সে বিষয়ে আদালতের আগাম অনুমতি ছাড়া চি হিন ও জি ইকে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত রাখতে চান তিনি।

  • কোম্পানির পরিচালক নিয়োগ বা অপসারণ।
  • কোম্পানি সচিব নিয়োগ।
  • কোম্পানির গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তর।
  • নতুন শেয়ার ইস্যু।
  • কোম্পানির শেয়ার মালিকানার কাঠামো পরিবর্তন।

এই আবেদনগুলো নিয়ন্ত্রণের পৃথক ধরন নিয়ে। পরিচালকেরা কোম্পানির কার্যক্রম পরিচালনা করেন, আর শেয়ারহোল্ডারদের থাকে মালিকানার স্বার্থ। কোম্পানি সচিব আনুষ্ঠানিক করপোরেট প্রশাসনের দায়িত্ব পালন করেন। এসব ব্যবস্থার যেকোনো একটিতে পরিবর্তন এলে সিদ্ধান্ত নেওয়া ও তা নথিবদ্ধ করার পদ্ধতি প্রভাবিত হতে পারে।

নতুন শেয়ার ইস্যুর আবেদনটি সম্পদ-সংক্রান্ত আবেদনের চেয়ে আলাদা গুরুত্ব বহন করে। অতিরিক্ত শেয়ার কাকে দেওয়া হচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করে বিদ্যমান মালিকদের শতকরা মালিকানার হার বদলে যেতে পারে। বড় সম্পদ বিক্রি হলে কোম্পানির মালিকানাধীন সম্পদের পরিমাণ বদলায়। এই বিরোধে এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে খবর নেই; বরং জি জিয়া চান, এসব সিদ্ধান্ত আদালতের তত্ত্বাবধানে থাকুক।

তাই মামলার নিষ্পত্তির আগে কোম্পানির অবস্থান যেসব উপায়ে বদলে যেতে পারে, প্রস্তাবিত বিধিনিষেধ সেগুলোর কয়েকটি মোকাবিলা করছে। ব্যবসার প্রতিটি নিয়মিত কর্মকাণ্ডে সাধারণ নিষেধাজ্ঞা হিসেবে এগুলো বর্ণনা করা হয়নি।

৯০ শতাংশ মালিকানার দাবি ও সংখ্যালঘু শেয়ার নিয়ে মতভেদ

জি জিয়ার দাবি, LZJ Management-এর ৯০ শতাংশ তাঁর এবং ৯ শতাংশ জি ইর। আদালতের আবেদনের বিবরণে মালিকানার যে হিসাব রয়েছে, অধিকাংশ প্রতিবেদনে তাওকে বাকি ১ শতাংশের মালিক বলা হয়েছে।

অন্য একটি প্রতিবেদনে ওই ১ শতাংশের মালিক হিসেবে চি হিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে সবচেয়ে কম শেয়ারধারী কে, তা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে অমিল রয়েছে। আদালতের কোনো সিদ্ধান্ত বা কোম্পানির মালিকানার নথিতে এই পার্থক্যের নিষ্পত্তির খবর না থাকায়, পরস্পরবিরোধী বিবরণগুলোকে একই বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

বিজ্ঞাপন

যেকোনো হিসাবেই সংখ্যালঘু মালিকানার ঘোষিত অংশ ১০ শতাংশ, আর জি জিয়ার দাবি করা অংশ ৯০ শতাংশ। তাঁর অংশের পরিমাণ সংখ্যালঘুদের সম্মিলিত অংশের নয় গুণ। এই হিসাব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা মালিকানার ভারসাম্য তুলে ধরে; তবে কোম্পানির সভা ও সুশাসনসংক্রান্ত নিয়ম না মেনেই তিনি সব করপোরেট ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন, এমন সিদ্ধান্ত এতে প্রতিষ্ঠিত হয় না।

এই বিরোধে দেখা যাচ্ছে, কোম্পানির বেশির ভাগ মালিক হওয়া আর নির্দিষ্ট কোনো করপোরেট সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করতে পারা এক বিষয় নয়। সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ারের দাবি থাকা সত্ত্বেও কোম্পানির ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়ে আদালতের নির্দেশে সভা আয়োজনের আবেদন করেছেন জি জিয়া।

সভা ব্যর্থ হওয়ার পর আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়

সমর্থনে দাখিল করা হলফনামায় জি জিয়া বলেন, আগের বছরের ২২ ডিসেম্বর একটি অসাধারণ সাধারণ সভা আয়োজনের চেষ্টা করা হলেও প্রয়োজনীয় কোরাম পূরণ না হওয়ায় তা ব্যর্থ হয়। ২০২৬ সালের অক্টোবরের প্রতিবেদনগুলোর প্রেক্ষাপটে, সভাটি আয়োজনের চেষ্টা করা হয়েছিল ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর।

কোরাম হলো বৈধভাবে সভার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ন্যূনতম উপস্থিতি। সভাটি ব্যর্থ হওয়া তাঁর মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ: তিনি শুধু আরেকটি আলোচনা চান না, বরং আদালত অনুমোদিত এমন ব্যবস্থা চান, যাতে সভাটি অনুষ্ঠিত হতে পারে।

আবেদনকারী ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানার দাবিদার জি জিয়া মূল আবেদনে কোম্পানির অবস্থা বর্ণনা করেছেন এভাবে:

ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক অচলাবস্থা

আদালতের আদেশের ১৪ দিনের মধ্যে, অথবা আদালত নির্ধারিত অন্য কোনো সময়সীমায়, অসাধারণ সাধারণ সভা আয়োজন করতে চান তিনি। সভার নোটিশ জারি ও পাঠানো এবং একজন স্বতন্ত্র সভাপতিকে নিয়োগের ক্ষমতাও চেয়েছেন।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কোনো পরিচালক, সদস্য বা কোম্পানি সচিব উপস্থিত না থাকলেও সভা চলতে পারবে। সভার প্রস্তাবিত আলোচ্যসূচিতে রয়েছে বর্তমান পরিচালকদের অপসারণ, নতুন পরিচালক ও কোম্পানি সচিব নিয়োগ এবং অন্যান্য করপোরেট বিষয়।

এগুলো এখনো চাওয়া ব্যবস্থা মাত্র; সভার কোনো তারিখ ঘোষণা করা হয়নি এবং নেতৃত্বে পরিবর্তনও অনুমোদিত হয়নি। আদালত প্রাসঙ্গিক আদেশ দিলে তবেই প্রস্তাবিত ১৪ দিনের সময়সীমা শুরু হবে, যদি না আদালত ভিন্ন সময়সূচি নির্ধারণ করে।

বিজ্ঞাপন

বিবাদীদের দাবি, কোম্পানির কার্যক্রম এখনো চলছে

চি হিনের জবাবে বিচারিক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। ৬ আগস্টের জবাবি হলফনামায় তিনি বলেন, LZJ Management জি জিয়ার পেশাদার ব্যাডমিন্টন ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত বিষয় সামলাচ্ছে। এতে তাঁর ছেলের অভিযোগ করা অচলাবস্থার বিপরীত চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি ক্রীড়াসামগ্রী ব্র্যান্ড ভিক্টরের সঙ্গে কোম্পানির চার বছরের চুক্তির কথা উল্লেখ করেন, যা ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর। চি হিনের যুক্তি, চুক্তিটি ও এর আর্থিক অবদান কোম্পানির কার্যক্রম এবং জি জিয়ার ক্যারিয়ারে সহায়তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই চুক্তি পারিবারিক বিরোধের মধ্যে একটি সুনির্দিষ্ট বাণিজ্যিক বিষয় তুলে ধরে। এর ঘোষিত মেয়াদ ২০২৬ সালের জুলাইয়ে আবেদন দাখিলের পরও চলবে এবং ২০২৮ সালের শেষ পর্যন্ত বহাল থাকার কথা। তবে চুক্তির মূল্য, অর্থ পরিশোধের সময়সূচি বা বিস্তারিত চুক্তিগত দায়বদ্ধতার কথা জানানো হয়নি। চুক্তি লঙ্ঘন বা বাতিল হয়েছে বলেও কোনো সিদ্ধান্তের খবর নেই।

চি হিনের হলফনামায় অর্থ পরিশোধ এবং জি জিয়ার নাম ও ছবি ব্যবহারের বিষয়ে মতবিরোধের কথাও বলা হয়েছে। জি ই ও তাওয়ের পক্ষে দাখিল করা যৌথ হলফনামায় অভিযোগ অস্বীকার এবং চাওয়া প্রতিকারের বিরোধিতা করা হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যে কোন পক্ষের বক্তব্য আদালত গ্রহণ করেছে, তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বিরোধের ঘটনাক্রম

ব্যর্থ কোম্পানি সভার পর আবেদন ও আপত্তির মাধ্যমে মামলাটি বর্তমান পর্যায়ে এসেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা প্রধান তারিখগুলো হলো:

  • ১ জানুয়ারি, ২০২৫: ভিক্টরের সঙ্গে LZJ Management-এর ঘোষিত চুক্তির মেয়াদ শুরু হয়।
  • ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫: জি জিয়ার সমর্থনকারী হলফনামা অনুযায়ী, কোরামের অভাবে অসাধারণ সাধারণ সভা আয়োজনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
  • ২ জুলাই, ২০২৬: অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা ও আদালতের নির্দেশে সভা আয়োজনের আবেদন জানিয়ে জি জিয়া মূল আবেদন দাখিল করেন।
  • ৬ আগস্ট, ২০২৬: আদালতের হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তার বিরোধিতা করে চি হিন জবাবি হলফনামা দাখিল করেন।
  • ১২ অক্টোবর, ২০২৬: প্রতিবেদনে আবেদনটিকে বিরোধপূর্ণ এবং আদালতের বিবেচনাধীন বলে উল্লেখ করা হয়।
  • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৮: ভিক্টরের সঙ্গে চুক্তির ঘোষিত মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা।

শুনানির তারিখ বা রায় ঘোষণার তারিখ জানানো হয়নি। তাই পরবর্তী প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপের জন্য নিশ্চিত কোনো ক্যালেন্ডার-সময়সীমা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। ১৪ দিনের মধ্যে সভা আয়োজনের সময়সীমাটি জি জিয়ার আবেদনের অংশ, আদালত ইতিমধ্যে আরোপ করেছে এমন কোনো সময়সীমা নয়।

বিজ্ঞাপন

প্রতিযোগিতার পাশাপাশি ক্যারিয়ার ব্যবস্থাপনা চলছে

পেশাদার খেলোয়াড় হওয়ার পর এবং মালয়েশিয়ার ব্যাডমিন্টন অ্যাসোসিয়েশন ছাড়ার পর জি জিয়ার বাণিজ্যিক ও ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত বিষয় সামলাতে LZJ Management প্রতিষ্ঠা করা হয়। জি ইও তাঁর ভাইয়ের পেশাদার ব্যাডমিন্টন ক্যারিয়ার পরিচালনা করেন। ফলে এই বিরোধ তাঁর খেলাধুলা ও বাণিজ্যিক ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পাশাপাশি আইনি কার্যক্রমও চলছে। জি জিয়ার বিশ্ব র‍্যাঙ্কিং ৫৬ বলে জানানো হয়েছে। সম্প্রতি ফিনল্যান্ডের ভান্তায় আর্কটিক ওপেনের পুরুষ এককের সেমিফাইনালেও উঠেছিলেন তিনি।

কোয়ার্টার ফাইনালে ফ্রান্সের দ্বিতীয় বাছাই ক্রিস্তো পোপভকে ২১-১১, ২১-১৬ ব্যবধানে হারান তিনি। এরপর ডেনমার্কের আন্দের্স আন্তনসেনের কাছে হেরে যান। বিশ্বের শীর্ষ ৫০-এ ফেরার চেষ্টার অংশ ছিল এই ফল। তবে কোম্পানির নিয়ন্ত্রণ, অর্থ পরিশোধ বা তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহারের বিষয়ে আলাদা মতবিরোধগুলোর নিষ্পত্তি এতে হয়নি।

অমীমাংসিত আইনি প্রশ্নগুলো নির্দিষ্ট: সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে কি না, কোম্পানির সভা আয়োজনের আদেশ দেওয়া হবে কি না এবং সেই সভা কীভাবে পরিচালিত হবে। প্রকাশিত কোনো রায়ে এসব প্রশ্নের নিষ্পত্তি বা পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা হয়নি।

মূল বিষয়গুলো

  • লি জি জিয়া কুয়ালালামপুর হাইকোর্টের WA-24NCC-400-07/2026 নম্বর মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন নিষেধাজ্ঞা চেয়েছেন।
  • প্রস্তাবিত অর্থ পরিশোধ-সংক্রান্ত বিধিনিষেধে তাঁর বাবা ও বোনের মাসিক বেতন অব্যাহত থাকবে।
  • চাওয়া আদেশ অনুযায়ী পরিচালক, গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ ও শেয়ার মালিকানার বিষয়ে নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে আদালতের অনুমতি লাগবে।
  • জি জিয়ার দাবি, কোম্পানির ৯০ শতাংশ তাঁর মালিকানায়। জি ইর ৯ শতাংশের পাশাপাশি বাকি ১ শতাংশ তাও নাকি চি হিনের, তা নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে অমিল রয়েছে।
  • আদেশের ১৪ দিনের মধ্যে, অথবা আদালত নির্ধারিত অন্য সময়সীমায়, অসাধারণ সাধারণ সভা আয়োজনের আবেদন করেছেন তিনি।
  • বিবাদীরা আবেদনের বিরোধিতা করছেন; রায় বা শুনানির তারিখ জানানো হয়নি।
এই নিবন্ধটি শেয়ার করুন

আপনার পছন্দ হতে পারে