দুই মন্ত্রীর সম্পদ জব্দ ও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
তাইওয়ানের অবশিষ্ট ১২টি কূটনৈতিক মিত্রের দুই দেশের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে প্যারাগুয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রী গুস্তাভো ভিয়াতে এবং বেলিজের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফ্রান্সিস ফনসেকার ওপর ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর থেকে কার্যকর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে চীন। এসব ব্যবস্থায় চীনে তাঁদের সম্পদ জব্দ, তাঁদের সঙ্গে লেনদেন ও সহযোগিতা নিষিদ্ধ এবং মূল ভূখণ্ড চীন, হংকং ও ম্যাকাওয়ে তাঁদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সূচিপত্র
- দুই মন্ত্রীর সম্পদ জব্দ ও প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
- বিধিনিষেধে ঠিক কী রয়েছে
- সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার যুক্তি বেইজিংয়ের
- প্যারাগুয়ের সম্পর্কের মধ্যে প্রযুক্তি ও আইনি সহযোগিতাও রয়েছে
- মন্ত্রীর সফরের পর বার্ষিকী উদ্যাপন বেলিজের
- বৈঠক ও প্রকাশ্য অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতা
- সংকুচিত কূটনৈতিক নেটওয়ার্কে চাপ
- যা এখনো অজানা
- মূল বিষয়
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদা সিদ্ধান্তে এসব বিধিনিষেধের ঘোষণা দেয়। এতে দেশটির বিদেশি নিষেধাজ্ঞাবিরোধী আইনের ৩, ৪, ৬, ৯ ও ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করা হয়। সিদ্ধান্তগুলোতে ভিয়াতের পূর্ণ নাম গুস্তাভো এমিলিও ভিয়াতে সামানিয়েগো উল্লেখ করা হয়েছে। ফনসেকার দায়িত্বের তালিকায় পররাষ্ট্র, বৈদেশিক বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি রয়েছে।
তাইওয়ানের জাতীয় দিবসের উদ্যাপন এবং ১১ অক্টোবর তাইওয়ানে বেলিজের দূতাবাসের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৩৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেওয়া বার্তার পর এ ঘোষণা আসে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দুই মন্ত্রী সাম্প্রতিক মাসগুলোতে তাইওয়ানের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। এতে তাঁদের সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করাতে বেইজিংয়ের অব্যাহত চেষ্টার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞাগুলোকে মূলত প্রতীকী বলে বর্ণনা করা হয়েছে, কারণ তাইওয়ানের কূটনৈতিক মিত্র দেশগুলোর মন্ত্রীরা সাধারণত চীন সফর করেন না। তবে আর্থিক প্রভাব কতটা হবে তা স্পষ্ট নয়: দুই কর্মকর্তার কারও চীনে থাকা সম্পদের মূল্য প্রকাশ করা হয়নি, আর নিষেধাজ্ঞায় প্রভাবিত কোনো লেনদেনের কথাও জানানো হয়নি।
বিধিনিষেধে ঠিক কী রয়েছে
সিদ্ধান্তগুলোতে তিন ধরনের বিধিনিষেধ রয়েছে। চীনের ভেতরে থাকা অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদসহ অন্যান্য সম্পদ জব্দ করা হবে, চীনের ভেতরের প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিদের মন্ত্রীদের সঙ্গে লেনদেন বা সহযোগিতা নিষিদ্ধ করা হবে এবং তাঁদের ভিসা ও প্রবেশাধিকার দেওয়া হবে না। প্রবেশ নিষেধাজ্ঞায় হংকং ও ম্যাকাওয়ের কথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ বিধিনিষেধ শুধু কোম্পানি বা সরকারি সংস্থার ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। লেনদেনসংক্রান্ত বিধান ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার চেয়েও বিস্তৃত; চীন সফর না করলেও কোনো মন্ত্রীর সঙ্গে লেনদেন বন্ধ হতে পারে। আগে থেকে থাকা কোনো সম্পর্ক এতে প্রভাবিত হবে কি না, তা জানানো হয়নি।
এগুলো দুই নির্দিষ্ট কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা; প্যারাগুয়ে বা বেলিজের বিরুদ্ধে সাধারণ বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার বিষয় নয়। সিদ্ধান্তগুলোতে বলা হয়নি যে ওই দুই দেশের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, নাগরিক বা সরকারি সংস্থার জন্য চীনের সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ। এই পার্থক্যের কারণে নিষেধাজ্ঞার তাৎক্ষণিক অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার যুক্তি বেইজিংয়ের
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, জাতীয় সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের স্বার্থ রক্ষা এবং তাইওয়ানের স্বাধীনতাকে সমর্থনকারী কার্যকলাপের বিরোধিতা করতেই এসব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় প্যারাগুয়ে ও বেলিজের কিছু রাজনীতিকের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করা এবং তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখাকে সমর্থনের অভিযোগ এনে তাঁদের “চীনবিরোধী” বলে আখ্যা দিয়েছে।
এসব অভিযোগ বেইজিংয়ের অবস্থান প্রকাশ করে; মন্ত্রীদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সর্বসম্মত বিবরণ নয়। চীন তাইওয়ানকে নিজের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে এবং দ্বীপটিকে সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধিতা করে। তাইওয়ানের গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে এবং বলে, দ্বীপটির ভবিষ্যৎ কেবল তার জনগণই নির্ধারণ করতে পারে।
এসব ব্যবস্থার জন্য বেইজিং যে অভ্যন্তরীণ আইনি ভিত্তির কথা বলেছে, তা হলো বিদেশি নিষেধাজ্ঞাবিরোধী আইন। এ ক্ষেত্রে তাইওয়ানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের প্রতি সমর্থনের কারণে বিদেশি কর্মকর্তাদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপে আইনটি ব্যবহার করছে চীন। সিদ্ধান্তগুলোতে সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদগুলোর উল্লেখ থাকলেও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা কর্মকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি।
তাইওয়ানকে সমর্থনকারী পশ্চিমা রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে এর আগে একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে বেইজিং। তাইপেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া দেশগুলোর মন্ত্রীদের লক্ষ্য করে এবার চাপ দেওয়া হচ্ছে তাঁদের ওপর, যাঁরা তাইওয়ানের হাতে গোনা কয়েকটি অবশিষ্ট কূটনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখার দায়িত্বে রয়েছেন।
প্যারাগুয়ের সম্পর্কের মধ্যে প্রযুক্তি ও আইনি সহযোগিতাও রয়েছে
জুনে প্যারাগুয়েতে তাইওয়ানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন মিং-চির সঙ্গে বৈঠক করেন ভিয়াতে। তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রী হিসেবে তাঁর এই যোগাযোগ সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং কম্পিউটিং খাতে বিনিয়োগ নিয়ে বৃহত্তর সম্পর্কের অংশ।
প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা বছরের শুরুতে তাইপে সফর করেন এবং ফৌজদারি বিষয়ে পারস্পরিক আইনি সহায়তা, সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটিংয়ে বিনিয়োগ নিয়ে চুক্তি সই করেন। অপরাধ তদন্ত বা বিচারের কাজে নিয়োজিত কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতার কাঠামো দেয় পারস্পরিক আইনি সহায়তা। এসব চুক্তি দেখায়, সম্পর্কটি আনুষ্ঠানিক সফরের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিস্তৃত।
তাইওয়ানের জাতীয় দিবসের উদ্যাপনেও প্যারাগুয়ের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন ভিয়াতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় প্রযুক্তিমন্ত্রী অভিন্ন রাজনৈতিক মূল্যবোধের ভিত্তিতে সম্পর্কটির বর্ণনা দেন:
জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার ও গণতন্ত্রের মতো অভিন্ন মূল্যবোধ ও নীতির ভিত্তিতে প্যারাগুয়ে তার বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার সম্পর্ক পুনর্ব্যক্ত করছে।
পেনা তাইওয়ানকে প্যারাগুয়ের “গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার” হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাঁর সফরে সই হওয়া কোনো চুক্তি প্রভাবিত হবে কি না, চীনের ঘোষণায় তা স্পষ্ট করা হয়নি। নিষেধাজ্ঞায় ব্যক্তিগতভাবে ভিয়াতের নাম রয়েছে, আর দ্বিপক্ষীয় প্রকল্পগুলো স্থগিতের কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
মন্ত্রীর সফরের পর বার্ষিকী উদ্যাপন বেলিজের
সেপ্টেম্বরে বেলিজে তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন ফনসেকা। তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, দুই পক্ষ সম্পর্ক আরও গভীর করতে সম্মত হয়েছে। বৈঠকটি তাইপের প্রতি বেলিজের অব্যাহত অঙ্গীকারের সাম্প্রতিক আরেকটি নিদর্শন।
চীনের নিষেধাজ্ঞার ঘোষণার কিছুক্ষণ আগে তাইওয়ানে বেলিজের দূতাবাস ১১ অক্টোবর কূটনৈতিক সম্পর্কের বার্ষিকী উপলক্ষে একটি বার্তা প্রকাশ করে। দূতাবাস জানায়, এ উপলক্ষে সম্পর্কের ৩৭ বছর পূর্তি হচ্ছে এবং অংশীদারত্ব অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে:
“সমৃদ্ধি, সুযোগ এবং দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের ভবিষ্যতের দিকে আমরা একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই,” লিখেছে দূতাবাস।
দূতাবাসের বার্তা এবং সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত বৈঠক দেখায়, নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার আগেই বেলিজ প্রকাশ্যে সম্পর্কটির প্রতি সমর্থন জানিয়েছিল। এগুলো নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়া নয়। চীনের ঘোষণা নিয়ে বেলিজের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ফনসেকার দায়িত্বের তালিকায় কূটনীতি, বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি রয়েছে। এ দায়িত্বের আওতায় সম্ভাব্য সহযোগিতার একাধিক ক্ষেত্র থাকলেও নিষেধাজ্ঞায় বাধাগ্রস্ত হতে পারে—এমন কোনো নির্দিষ্ট বেলিজীয় প্রকল্প বা চুক্তির কথা ঘোষণায় বলা হয়নি।
বৈঠক ও প্রকাশ্য অঙ্গীকারের ধারাবাহিকতা
একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার বদলে কয়েক মাসের কূটনৈতিক যোগাযোগের পর এসব নিষেধাজ্ঞা এসেছে। অক্টোবরে ঘোষণার আগে বাস্তব সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের প্রকাশ্য বার্তাগুলোর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধান ঘটনাগুলো:
- বছরের শুরুতে: প্যারাগুয়ের প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনা তাইপে সফর করেন এবং ফৌজদারি বিষয়ে আইনি সহায়তা, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও কম্পিউটিংয়ে বিনিয়োগ নিয়ে চুক্তি সই করেন।
- জুন: প্যারাগুয়েতে তাইওয়ানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী চেন মিং-চির সঙ্গে বৈঠক করেন গুস্তাভো ভিয়াতে।
- সেপ্টেম্বর: বেলিজে তাইওয়ানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিন চিয়া-লুংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন ফ্রান্সিস ফনসেকা।
- ১০ অক্টোবর: তাইওয়ানের জাতীয় দিবস উদ্যাপিত হয়; দ্বীপটির সঙ্গে প্যারাগুয়ের সম্পর্কের সমর্থনে বার্তা দিয়ে দিনটি পালন করেন ভিয়াতে।
- ১১ অক্টোবর: তাইওয়ানে বেলিজের দূতাবাস কূটনৈতিক সম্পর্কের ৩৭তম বার্ষিকী বলে উল্লেখ করা দিনটি পালন করে।
- ১২ অক্টোবর, ২০২৬: ভিয়াতে ও ফনসেকার বিরুদ্ধে চীনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়।
সিদ্ধান্তগুলোর বিস্তারিত বিবরণে কার্যকরের তারিখ ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর বলা হয়েছে। অন্য কিছু প্রতিবেদনে বছর উল্লেখ না করে শুধু ১২ অক্টোবর বলা হয়েছে। সেগুলোতে একই তিনটি প্রধান ব্যবস্থার কথা রয়েছে: সম্পদ জব্দ, লেনদেনে বিধিনিষেধ এবং প্রবেশ নিষেধাজ্ঞা।
সময়টি তাইওয়ানের প্রতি প্রকাশ্য সমর্থনের একটি পর্বের সঙ্গে ঘোষণাটিকে যুক্ত করে। তবে কোনো নির্দিষ্ট বৈঠক বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট একাই চীনের পদক্ষেপের কারণ ছিল, তা প্রমাণিত হয় না। বেইজিংয়ের ঘোষিত যুক্তিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখার পক্ষে থাকা রাজনীতিকদের কথা আরও বিস্তৃতভাবে বলা হয়েছে।
সংকুচিত কূটনৈতিক নেটওয়ার্কে চাপ
প্যারাগুয়ে ও বেলিজ মিলে তাইওয়ানের আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক অংশীদারদের ১২টির মধ্যে দুটি, অর্থাৎ মোটের প্রায় এক-ষষ্ঠাংশ। গুয়াতেমালা ও হাইতিও আমেরিকা মহাদেশে তাইওয়ানের অংশীদার; পাশাপাশি রয়েছে ক্যারিবীয় অঞ্চলের কয়েকটি দ্বীপরাষ্ট্র। ফলে ছোট একটি কূটনৈতিক নেটওয়ার্কের উল্লেখযোগ্য অংশের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
তাইওয়ানের অংশীদারদের তাইপের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে বেইজিংকে স্বীকৃতি দিতে চাপ দিয়ে আসছে চীন। ২০২৩ সালে হন্ডুরাস তাইওয়ানের সঙ্গে কয়েক দশকের সম্পর্ক ছিন্ন করে; এরপর ২০২৪ সালে একই পথে যায় নাউরু। প্রতিবেদনে নাউরুকেই সর্বশেষ দেশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, যারা এভাবে পক্ষ বদলেছে।
আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক স্বীকৃতি এবং বাণিজ্য বা অন্য অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ বজায় রাখা এক বিষয় নয়। এখানে বেইজিংয়ের আপত্তি হলো, প্যারাগুয়ে ও বেলিজ তাইওয়ানকে স্বীকৃতি দিয়ে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। নিষেধাজ্ঞার পর এ নীতিতে পরিবর্তনের ঘোষণা কোনো দেশই দেয়নি।
তাইওয়ানকে ঘিরে বিধিনিষেধের বৃহত্তর ধারার সঙ্গেও এ পদক্ষেপগুলো মেলে। এপ্রিলে অস্ত্র বিক্রিতে তাইওয়ানের সঙ্গে কথিত সংশ্লিষ্টতা বা তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে সাতটি প্রতিষ্ঠানের ওপর চীন ইউরোপীয় প্রতিরক্ষা রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। সে ব্যবস্থাগুলো কোম্পানিগুলোর কাছে রপ্তানি নিয়ে ছিল; আর সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো নির্দিষ্ট মন্ত্রীদের সম্পদ, লেনদেন ও ভ্রমণ নিয়ে।
কূটনৈতিক ভ্রমণও চাপে পড়েছে। সেশেলস, মরিশাস ও মাদাগাস্কার আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি প্রত্যাহার করার পর এপ্রিলে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট এসওয়াতিনি সফর বাতিল করেন। তাইওয়ানের কর্মকর্তারা এ বিঘ্নের জন্য চীনা চাপকে দায়ী করেন; সেশেলস ও মাদাগাস্কার তাদের নিজস্ব নীতির কথা বলে সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করে। ওই ঘটনা ও সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার প্রক্রিয়া ভিন্ন, তবে দুটিরই সম্পর্ক তাইওয়ানের কূটনৈতিক অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখার সক্ষমতার সঙ্গে।
যা এখনো অজানা
নিয়মিত দাপ্তরিক সময়ের বাইরে মন্তব্য চেয়ে যোগাযোগ করা হলে প্যারাগুয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বেলিজের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি। তাইওয়ানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। এই প্রাথমিক নীরবতা থেকে নিষেধাজ্ঞা মেনে নেওয়া বা কূটনৈতিক নীতিতে পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
তাৎক্ষণিক আর্থিক প্রভাবের পরিমাণ জানা যায়নি। ভিয়াতে বা ফনসেকার চীনে সম্পদ আছে কি না, নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে এমন কোনো লেনদেন তাঁদের রয়েছে কি না, কিংবা তাঁদের জন্য এখন নিষিদ্ধ কোনো স্থানে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা প্রতিষ্ঠা করার মতো কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ, নির্ধারিত পর্যালোচনা, শুনানি বা আপিলের সময়সীমার কথা জানানো হয়নি। এখন তাৎক্ষণিক প্রশ্ন হলো, নিষেধাজ্ঞায় শনাক্তযোগ্য কোনো লেনদেন ব্যাহত হবে, নাকি এটি মূলত রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই থাকবে। আপাতত বেইজিং ব্যক্তিগত বিধিনিষেধ আরোপ করেছে, তবে তাইওয়ানের সঙ্গে প্যারাগুয়ে ও বেলিজের কূটনৈতিক সম্পর্ক বহাল রয়েছে।
মূল বিষয়
- গুস্তাভো ভিয়াতে ও ফ্রান্সিস ফনসেকার বিরুদ্ধে চীনের নিষেধাজ্ঞা ২০২৬ সালের ১২ অক্টোবর কার্যকর হয়।
- এসব ব্যবস্থায় চীনে সম্পদ জব্দ, লেনদেন ও সহযোগিতায় বিধিনিষেধ এবং মূল ভূখণ্ড চীন, হংকং ও ম্যাকাওয়ে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
- বেইজিং তাদের বিদেশি নিষেধাজ্ঞাবিরোধী আইনের ৩, ৪, ৬, ৯ ও ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করেছে।
- দুই মন্ত্রীই সম্প্রতি তাইওয়ানের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
- প্যারাগুয়ে ও বেলিজ তাইওয়ানের ১২টি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক অংশীদারের মধ্যে দুটি।
- সরকারগুলোর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বা আর্থিক প্রভাবের পরিমাণ জানানো হয়নি।






