বিপুল তামার খনি, বিভক্ত এক পাহাড়ি জনপদ
প্রস্তাবিত ৫.৯ বিলিয়ন ডলারের তাম্পাকান খনি থেকে ১৭ বছর ধরে বছরে গড়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন তামা ও ৩ লাখ ৬০ হাজার আউন্স সোনা উৎপাদন হতে পারে। কিন্তু খনির মজুত শনাক্ত হওয়ার তিন দশকেরও বেশি সময় পরও দক্ষিণ মিন্দানাওয়ের এই প্রকল্প জাতীয় খনিশিল্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষা, প্রাদেশিক নিষেধাজ্ঞা এবং আদিবাসীদের ভূমি ও পানি নিয়ে বিরোধের মধ্যে আটকে আছে।
সূচিপত্র
- বিপুল তামার খনি, বিভক্ত এক পাহাড়ি জনপদ
- তামা কেন তাম্পাকানকে মূল্যবান করে তুলেছে
- জাতীয় নীতি বদলেছে, প্রাদেশিক বাধা রয়ে গেছে
- স্থানীয় কর্মকর্তারা ভিন্ন চুক্তি চান
- ব'লাানদের সম্মতি মানেই সর্বসম্মতি নয়
- প্রতিশ্রুত সুবিধার প্রকৃত মূল্য কত
- জলাধার এলাকার ঝুঁকি খনির গর্ত ছাড়িয়ে বিস্তৃত
- প্রকল্পের পরিসর নিয়ে অমিল ও সহিংসতার ইতিহাস
- খনিজ কৌশলে ক্রেতা ও জবাবদিহিও জরুরি
- মূল বিষয়গুলো
ফিলিপাইনের জন্য তাম্পাকান বৈদ্যুতিক যানবাহন, বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির সরবরাহ শৃঙ্খলে জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাব্য সুযোগ। ক্ষতিগ্রস্ত ব'লাান সম্প্রদায়গুলোর জন্য এর অর্থ, পৈতৃক ভূমি, পুনর্বাসন এবং প্রতিশ্রুত অর্থ ও কর্মসংস্থান ভূমিতে প্রবেশাধিকার হারানোর ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারবে কি না—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত।
ফিলিপাইন ইনস্টিটিউট ফর ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ তাদের ২০২২ সালের খনি নীতিবিষয়ক গবেষণাপত্রে বলেছে, প্রকল্পের উদ্যোক্তারা কার্যক্রম শুরুর আইনি শর্ত পূরণ করার পরও প্রাদেশিক নিষেধাজ্ঞা একটি বাধা হয়ে ছিল। এই মূল্যায়নে স্থানীয় বিরোধের নিষ্পত্তি হয়নি। তাম্পাকানের কর্মকর্তারা এখনো আরও স্পষ্ট শর্তের দাবি জানাচ্ছেন, আর বিরোধীরা পরিবেশগত সুরক্ষা এবং সম্প্রদায়ের সম্মতি নেওয়ার প্রক্রিয়া—দুটিই প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।
প্রকল্পটির ব্যাপকতা বুঝতেও সতর্ক পাঠ জরুরি। প্রায় ৩০০ কোটি টন আকরিক মানে ৩০০ কোটি টন তামা নয়। আকরিক হলো খনিজযুক্ত শিলা, যার বেশির ভাগই প্রক্রিয়াজাতকরণের পর বর্জ্যে পরিণত হবে। তাই ভূগর্ভস্থ ধাতুর মূল্য আর একটি সচল খনি থেকে সম্ভাব্য আয়, মুনাফা বা জনকল্যাণ এক বিষয় নয়।
এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ, কারণ অর্থনৈতিক পূর্বাভাস যেমন বড়, প্রস্তাবিত ভৌত পরিবর্তনও তেমন ব্যাপক। আগের পরিকল্পনায় কয়েক শ মিটার গভীর খনন, বিপুল পরিমাণ বর্জ্য সংরক্ষণ এবং হাজার হাজার মানুষকে স্থানান্তরের কথা বলা হয়েছিল। তামার চাহিদা বাড়া কিংবা জাতীয় পর্যায়ে অনুমোদন পাওয়া—কোনোটিই এসব ব্যয়ের ভার কারা বহন করবে, তার উত্তর দেয় না।
তামা কেন তাম্পাকানকে মূল্যবান করে তুলেছে
তামা দক্ষতার সঙ্গে বিদ্যুৎ পরিবহন করে। তাই বৈদ্যুতিক মোটরের কয়েল, ব্যাটারির সংযোগ, তার ও চার্জিং সরঞ্জামে এটি কাজে লাগে। উড ম্যাকেঞ্জিতে তামা গবেষণার প্রধান চার্লস কুপার বলেন, একটি বৈদ্যুতিক গাড়িতে প্রচলিত গাড়ির তুলনায় চার গুণ পর্যন্ত বেশি তামা লাগে। বৈদ্যুতিক বাস বা ট্রাকে বৈদ্যুতিক গাড়ির তুলনায় চার গুণ পর্যন্ত বেশি তামা থাকতে পারে।
কুপারের ধারণা, জ্বালানি রূপান্তরের সঙ্গে সম্পর্কিত চাহিদা ২০৪০ সালের মধ্যে দ্বিগুণ হবে। তার বক্তব্যের আগের বছরে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য ব্যবহৃত তামার পরিমাণ ছিল মোট তামা ব্যবহারের প্রায় ৬ শতাংশ, যা ২০৪০ সালে বেড়ে ১২ শতাংশ হবে বলে তিনি জানান। এটি মোট ব্যবহারে অংশের দ্বিগুণ হওয়ার পূর্বাভাস, গাড়ির সংখ্যা শুধু দ্বিগুণ হওয়ার পূর্বাভাস নয়।
উড ম্যাকেঞ্জির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সরবরাহ ঘাটতি আরও বাড়ার গতি কমাতেই বছরে প্রায় ৯ লাখ টন নতুন তামা উৎপাদন সক্ষমতা যোগ করতে হবে। তাম্পাকান থেকে বছরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন উৎপাদনের পূর্বাভাস ওই পরিমাণের প্রায় ৪২ শতাংশ। এই তুলনা প্রকল্পটির ব্যাপকতা বোঝায়; একটি প্রস্তাবিত খনিই যে বৈশ্বিক সরবরাহ ঘাটতি মেটাতে পারে, তা নয়।
পরিবহন ছাড়াও বিদ্যুৎ গ্রিড, নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদন, ডেটা সেন্টার ও ডিজিটাল অবকাঠামোতে তামার চাহিদা রয়েছে। তাম্পাকানের তামা যে ফিলিপাইনের বৈদ্যুতিক গাড়িতে বা শুধু কার্বন নিঃসরণ কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত পণ্যে ব্যবহৃত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। শেষ পর্যন্ত কারা এর ক্রেতা হবে বা কোথায় প্রক্রিয়াজাত হবে, তা প্রকাশ্যে নির্ধারিত হয়নি।
জাতীয় নীতি বদলেছে, প্রাদেশিক বাধা রয়ে গেছে
পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগ ২০১৭ সালের ২৭ এপ্রিল তামা, সোনা, রুপা ও জটিল আকরিকের সম্ভাব্য উন্মুক্ত খনি প্রকল্পের ওপর জাতীয় নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ২০২১ সালের ২৩ ডিসেম্বর প্রশাসনিক আদেশ ২০২১-৪০-এর মাধ্যমে সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়। এই বিরতির মেয়াদ ছিল প্রায় চার বছর আট মাস, নয় বছর নয়।
পিআইডিএসের গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, আগের আদেশে অম্লীয় পানি, ভারী ধাতু, খনির বর্জ্য স্তূপ থেকে ভূমিক্ষয় এবং ভূতাত্ত্বিক ঝুঁকিতে টেইলিংস বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা চিহ্নিত করা হয়েছিল। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পক্ষে মহামারির পর অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের যুক্তি দেওয়া হয় এবং এ পদ্ধতি ব্যবহারের শর্ত হিসেবে উন্নত কারিগরি, সামাজিক ও পরিবেশগত চর্চার কথা বলা হয়।
দক্ষিণ কোটাবাতোর পৃথক নিষেধাজ্ঞাই বিরোধের কেন্দ্রে ছিল। বিভিন্ন প্রতিবেদনে এর তারিখ ২০১০ বলা হয়েছে, আবার আগের একটি পরিবেশগত মূল্যায়নে প্রাদেশিক বিধি ২০১১ সালের জুলাইয়ে প্রণীত বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তারিখ নিয়ে বর্ণনা ভিন্ন হলেও এতে একমত যে স্থানীয় বিধিনিষেধ জাতীয় নিষেধাজ্ঞার আগেই কার্যকর হয়েছিল এবং ম্যানিলার নীতি পরিবর্তনের পরও তাম্পাকানের পথে বাধা হয়ে ছিল।
বিরোধটি কয়েকটি পৃথক সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে এগিয়েছে:
- ১৯৯৪: খনিজ মজুত নিশ্চিত হয়; ১৯৯৫ সালে খনির অধিকার দেওয়া হয়।
- ৯ জানুয়ারি ২০১২: প্রাদেশিক বিরোধের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ডেনার পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদন নাকচ করে।
- ৬ মে ২০১৯: ২০২০ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পের পরিবেশগত ছাড়পত্র পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়।
- ১০ আগস্ট ২০২০: তাম্পাকানের পরিষদ এসএমআইয়ের সঙ্গে পৌর চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়।
- অক্টোবর ২০২০: আদিবাসী জনগোষ্ঠীবিষয়ক জাতীয় কমিশন প্রকল্পটির জন্য পূর্বশর্তসাপেক্ষ সনদ জারি করে।
- ২৩ ডিসেম্বর ২০২১: ডেনার জাতীয় উন্মুক্ত খনি নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।
- ১৬ মে ও ৩ জুন ২০২২: দক্ষিণ কোটাবাতোর প্রাদেশিক পরিষদ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পক্ষে ভোট দেয়; পরে গভর্নর পরিবর্তনটি ভেটো দেন।
২০২০ সালের আগস্টের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাদেশিক নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আদালতে করা চ্যালেঞ্জের নিষ্পত্তি হয়নি। অন্য একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের পরের দিকে করোনাদাল আদালত নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখে। তাই আগের বর্ণনাটিকে বর্তমান আইনি অবস্থার বিবরণ হিসেবে ধরা উচিত নয়।
স্থানীয় কর্মকর্তারা ভিন্ন চুক্তি চান
জাতীয় অনুমতি আর পৌরসভার সম্মতি পৃথক বিষয়। ২০২০ সালের ১৪ আগস্ট প্রকাশিত এক সিদ্ধান্তে তাম্পাকানের পরিষদ স্যাজিটেরিয়াস মাইনস, ইনকরপোরেটেডের (এসএমআই) সঙ্গে পৌরসভার মূল চুক্তি বাতিল করে, তবে নতুন চুক্তি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা খোলা রাখে।
পরিষদ সদস্যরা বলেন, ২০০৯ সালের চুক্তির বাধ্যতামূলক চার বছর অন্তর পর্যালোচনা হয়নি এবং পর্যালোচনাসংক্রান্ত আলোচনায় পৌর প্রতিনিধিদের বাদ দেওয়া হয়েছিল। তাদের মতে, চুক্তির শর্ত অস্পষ্ট ও বাসিন্দাদের জন্য অসুবিধাজনক ছিল। ২০১৩ সালের এক সরকারি নিরীক্ষায় ১৯৯৭ সাল থেকে পৌরসভাকে অন্তত ৪ কোটি পেসো দেওয়ার তথ্য উঠে আসে।
মেয়র লিওনার্ড এসকোবিলো বলেছেন, আগে তিনি প্রকল্পটিকে সমর্থন করলেও এখন স্থানীয় অনুমতি দেওয়ার আগে সুবিধা, কার্যক্রমের খুঁটিনাটি ও জরুরি পরিস্থিতির পরিকল্পনা ব্যাখ্যা করতে হবে। তিনি আরও বলেন, এসএমআইয়ের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পাননি।
এসকোবিলো নিজের অবস্থানকে খনিশিল্পের বিরোধিতা নয়, বরং একটি ছোট পৌরসভার স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষার দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেছেন:
আমাদের নিজেদের কাছ থেকেও নিজেদের রক্ষা করতে হবে।
২০২০ সালে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কার্যক্রম ২০৩২ সাল পর্যন্ত চালানোর অনুমতি দিতে আর্থিক বা কারিগরি সহায়তা চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো হয়েছিল, যা সম্ভবত ২০৫৭ সাল পর্যন্ত নবায়ন করা যাবে। এই তারিখগুলো চুক্তির মেয়াদ নিয়ে; নির্মাণ বা উৎপাদন শুরুর নিশ্চিত তারিখ নয়।
ব'লাানদের সম্মতি মানেই সর্বসম্মতি নয়
খনিটি পাঁচটি আদিবাসী পরিষদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পৈতৃক ভূমিকে প্রভাবিত করবে। ১৯৯৭ সালের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার আইনে আদিবাসীদের ভূমিকে প্রভাবিত করে এমন প্রকল্পের জন্য স্বাধীন, আগাম ও অবহিত সম্মতি নেওয়া বাধ্যতামূলক। বাস্তবে এর অর্থ, প্রকল্প এগোনোর আগে, কোনো চাপ ছাড়া এবং পরিণতি বোঝার মতো যথেষ্ট তথ্য দিয়ে সম্মতি নিতে হবে।
আদিবাসী জনগোষ্ঠীবিষয়ক জাতীয় কমিশনের অক্টোবর ২০২০-এর পূর্বশর্তসাপেক্ষ সনদ একটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ। তবে বিরোধীরা পরামর্শ প্রক্রিয়ার যথার্থতা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন। আনুষ্ঠানিক সনদ আর ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারের সম্মতি এক বিষয় নয়।
ব'লাান নেতা নোরা পুলি সুকালকে নিয়ে প্রকাশিত বিবরণগুলোও পরস্পরবিরোধী। একটি বিবরণে বলা হয়েছে, তিনি নিজের জমি ইজারা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং খনির বিরোধিতা করেছেন। আরেকটি বিবরণে, ২০২২ সালের ঘটনার প্রেক্ষাপটে ফেব্রুয়ারিতে তার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, আত্মীয়দের কোম্পানির সহায়তা ও ইজারার অর্থ পেতে দেখে তিনি প্রকাশ্যে এসএমআইকে সমর্থন জানান।
তার সমর্থনের কথা উল্লেখ করা বিবরণে সুকাল বলেন, আত্মীয়রা আর্থিক সহায়তা ও বৃত্তি পেয়েছেন:
আমি এখন ঘোষণা করছি, আমি খনির পক্ষে। এসএমআইয়ের কার্যক্রমকে আমি সমর্থন করব।
তিনি আরও উদ্বেগ জানান, বিরোধিতা চালিয়ে গেলে আত্মীয়দের পাওনা অর্থের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। এটি তার নিজের প্রকাশ করা উদ্বেগ; এসএমআই অর্থ আটকে রাখার হুমকি দিয়েছে, তার প্রমাণ নয়। পরস্পরবিরোধী বিবরণ থেকে তার অবস্থান পরে কখন বা আদৌ আবার বদলেছিল কি না, তা জানা যায় না।
সুকালের হিসাবে, তার সম্প্রদায়ের পৈতৃক ভূমির প্রায় ৯০ শতাংশ ইজারা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, ব'লাান নেতা দাগুইল কাপিওন বলেছেন, বং মাল এলাকায় ইজারা দেওয়া জমির পরিমাণ ১০ শতাংশ, আর অন্তত ২০০ হেক্টর জমি নিয়ে আলোচনা চলছে। এই হিসাব দুটি ভিন্ন সম্প্রদায়ের এবং পুরো প্রকল্পের জন্য একক হিসাব হিসেবে একত্র করা যায় না।
প্রতিশ্রুত সুবিধার প্রকৃত মূল্য কত
প্রতি হেক্টরে ২৫ বছরের জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার পেসো ইজারার যে হার জানানো হয়েছে, তাতে বছরে দাঁড়ায় ৬ হাজার ৪০০ পেসো, অর্থাৎ মাসে প্রায় ৫৩৩ পেসো। দরিদ্র সম্প্রদায়ে বড় অঙ্কের প্রাথমিক অর্থ আকর্ষণীয় হতে পারে, কিন্তু হিসাবটি দেখায়, পঁচিশ বছরে ভাগ করলে তা কত সীমিত হয়ে পড়ে।
কোম্পানির সহায়তার মধ্যে বৃত্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও জীবিকাভিত্তিক কর্মসূচিও রয়েছে। এসএমআই নাকি পাঁচটি আদিবাসী পরিষদের প্রত্যেককে সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগের জন্য বছরে ৩০ লাখ পেসো দিয়েছে। স্থানীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বাধ্যতামূলক প্রতিনিধি দমিঙ্গো কোলিয়াদোসহ সমর্থকেরা প্রকল্পটিকে সুযোগের উৎস হিসেবে দেখেন এবং কার্যক্রম শুরু হোক চান।
এসএমআইয়ের প্রতিনিধি রয় আন্তোনিও ২০২১ সালের ডিসেম্বরে বলেন, কোম্পানিটি ৩ হাজার ২০০ কোটি পেসো বিনিয়োগ করেছে এবং ২৬০ কোটি পেসো কর দিয়েছে। কার্যক্রমের প্রথম দশকে আদিবাসীদের রয়্যালটি হিসেবে ৬৬০ কোটি পেসো দেওয়ার পূর্বাভাসও তিনি দেন। এগুলো কোম্পানির বক্তব্য ও পূর্বাভাস; ভবিষ্যতে এ অর্থ পাওয়া যাবে—এমন স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য নয়।
পিআইডিএসের গবেষণাপত্রে রয়্যালটির ভিন্ন পূর্বাভাস রয়েছে: দশ বছরে ৪৮০ কোটি পেসো, পাশাপাশি ৬ হাজার ৮০০ কোটি পেসো জাতীয় কর, ৪০০ কোটি পেসো স্থানীয় কর এবং ২৬০ কোটি পেসো সামাজিক উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির জন্য। রয়্যালটির এই দুই হিসাবের ব্যবধান ১৮০ কোটি পেসো। ভিন্ন অনুমান বা প্রকল্পের ভিন্ন সংস্করণের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়েছে কি না, তার ব্যাখ্যা নেই।
আদিবাসীদের রয়্যালটি কীভাবে উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছায়, তা অনুসরণ করার ব্যবস্থায় দুর্বলতাও চিহ্নিত করেছে পিআইডিএস। মোট অর্থ দেওয়ার তথ্য থেকে বোঝা যায় না, পরিবারগুলোর মধ্যে সুবিধা ন্যায্যভাবে বণ্টিত হয়েছে কি না। তাম্পাকানের ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুত সম্প্রদায়ভিত্তিক আয় আর যাচাইযোগ্য ব্যক্তিগত সুবিধার পার্থক্য প্রকল্পের প্রস্তাবিত সমঝোতা মূল্যায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
জলাধার এলাকার ঝুঁকি খনির গর্ত ছাড়িয়ে বিস্তৃত
এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স ফর সোশ্যাল চেঞ্জ তাদের ২০১২ সালের মূল্যায়ন ‘ওপেনিং দ্য তাম্পাকান বক্স’-এ মজুতের অবস্থান দেখিয়েছে পুলা বাতো নদী এবং তুকাই মাল ও বং মাল নদীর মধ্যবর্তী একটি শৈলশিরায়। এতে ভূগর্ভস্থ পানির উচ্চ ঝুঁকিপ্রবণতা ও ভূমিকম্পের ঝুঁকির কথা বলা হয়েছে; ফলে প্রকল্পবিরোধী যুক্তিতে খনির অবস্থানও একটি বিবেচ্য বিষয়।
মূল্যায়নে ৫০০ হেক্টর এলাকাজুড়ে এবং ৮০০ মিটার গভীর একটি প্রস্তাবিত খনি, ১৩৫ কোটি টন বর্জ্যশিলা ধারণক্ষমতার একটি স্থাপনা এবং ১১০ কোটি টন টেইলিংস ধারণক্ষমতার বাঁধের কথা বলা হয়েছিল। আকরিক থেকে মূল্যবান খনিজ আলাদা করার পর যে পদার্থ অবশিষ্ট থাকে, সেটিই টেইলিংস। এই পরিসংখ্যান ঐতিহাসিক পরিকল্পনার; বর্তমান নির্মাণ নকশা হিসেবে এগুলো যাচাই করা হয়নি।
একটি উদ্বেগ হলো অ্যাসিড মাইন ড্রেনেজ। সালফাইডযুক্ত কিছু শিলা বায়ু ও পানির সংস্পর্শে এলে অম্লীয় পানি তৈরি করতে পারে, যা ধাতু বয়ে স্রোত বা ভূগর্ভস্থ পানিতে পৌঁছায়। খনন শেষ হওয়ার বহু পরও পানি শোধনের প্রয়োজন হতে পারে।
মারবেল ডায়োসিসের বিশপ সিরিলো কাসিকাসের মতে, প্রস্তাবিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্থাপনাগুলো দীর্ঘস্থায়ী বোঝা রেখে যেতে পারে:
উন্মুক্ত খনি, বর্জ্যশিলার স্থাপনা ও টেইলিংসের জলাধারে অ্যাসিড মাইন ড্রেনেজের সমস্যা থেকে যাবে। এর ছাপ স্থায়ী। এই ছাপ চিরস্থায়ী।
ইএসএসসি সতর্ক করে বলেছে, পানি উত্তোলন ও দূষণ ১ লাখের বেশি কৃষকের জীবিকায় প্রভাব ফেলতে পারে। বড় সংরক্ষণ স্থাপনা ভেঙে পড়লে ২৫০ কোটি টন বা তার বেশি পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার একটি সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির কথাও এতে বলা হয়েছে। এগুলো সম্ভাব্য ক্ষতির মূল্যায়ন, সচল তাম্পাকান খনিতে ঘটে যাওয়া ঘটনা নয়।
এসএমআই আগে বলেছে, আধুনিক প্রকৌশল ও সুরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। ২০১২ সালে পরিবেশগত ছাড়পত্রের আবেদন নাকচ হওয়ার পর এসএমআইয়ের তৎকালীন সভাপতি পিটার ফরেস্টাল যুক্তি দেন, প্রকল্পের পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন বিবৃতির যথার্থতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়নি। বিরোধ নিয়ে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের জন্য এসএমআই সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হয়নি।
প্রকল্পের পরিসর নিয়ে অমিল ও সহিংসতার ইতিহাস
প্রকল্পের বিভিন্ন বিবরণে এলাকা ও বাস্তুচ্যুতির হিসাব ভিন্ন। ইএসএসসি দক্ষিণ কোটাবাতো, সারাঙ্গানি, সুলতান কুদারাত ও দাভাও দেল সুরজুড়ে প্রায় ২৩ হাজার ৬০০ হেক্টরের একটি খনি ইজারা এলাকার কথা বলেছে। পরের কিছু বিবরণে প্রস্তাবিত চূড়ান্ত খনি এলাকা প্রায় ১০ হাজার হেক্টর বলা হয়েছে। ইজারা এলাকার সীমানা আর চূড়ান্ত খনি এলাকা ভিন্ন বিষয়; তাই কোনোটিকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে খনন করা হবে এমন এলাকা বলা উচিত নয়।
বনভূমির হিসাবের অমিল মেলানো আরও কঠিন। ইএসএসসি ৩ হাজার ৯৩৫ হেক্টর বন পরিষ্কার এবং ৪ হাজার ব'লাানকে বাস্তুচ্যুত করার পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেছে। অন্য একটি বিবরণে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর এলাকায় পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩০০ হেক্টর বন এবং প্রায় ৫ হাজার মানুষকে স্থানান্তরের প্রয়োজন হবে। একই সংজ্ঞা ব্যবহার করে হালনাগাদ পরিকল্পনা না আসা পর্যন্ত এগুলো ভিন্ন ভিন্ন প্রতিবেদনভিত্তিক হিসাব হিসেবেই থাকবে।
ইএসএসসি ১৩৫ লাখ টন তামা ও ১ কোটি ৫৮ লাখ আউন্স সোনাসহ ২৪০ কোটি টন আকরিকের কথা বলেছে; পরের বিবরণগুলোতে আকরিকের পরিমাণ প্রায় ৩০০ কোটি টন বলা হয়েছে। তারিখযুক্ত কারিগরি মূল্যায়ন ছাড়া এই পার্থক্যকে মজুত বৃদ্ধির নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
সংঘাতে ইতিমধ্যেই প্রাণহানি ঘটেছে। ঐতিহাসিক প্রতিবেদনে খনি ইজারা এলাকার ভেতরে অন্তত ২৪ জনের মৃত্যুর কথা রয়েছে; নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তাকর্মী ও আদিবাসী বাসিন্দাও ছিলেন। ২০০২ সালের জুলাইয়ে আদিবাসী নেতা গুরিলমিন মালিদ ও তার এক তরুণ সঙ্গী নিহত হন। ২০১২ সালে সামরিক অভিযানে দাগুইল কাপিওনের স্ত্রী ও দুই ছেলের মৃত্যু হয়।
সামরিক বাহিনীর মোতায়েন, সশস্ত্র আদিবাসী প্রতিরোধ, কোম্পানির নিরাপত্তাকর্মী ও কমিউনিস্ট বিদ্রোহীরা—সবাই এই ইতিহাসের অংশ। প্রাণহানিগুলো জটিল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ঘটেছে; সব মৃত্যুর জন্য একজনকেই বা একটিমাত্র কারণকে দায়ী করা যায় না।
খনিজ কৌশলে ক্রেতা ও জবাবদিহিও জরুরি
ফিলিপাইন সরকার চায়, খনিশিল্প পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে উত্তরণে সহায়তা করুক এবং দেশে প্রক্রিয়াজাতকরণে বিনিয়োগ আকর্ষণ করুক। ইন্দোনেশিয়া এই অঞ্চলের তুলনামূলক উদাহরণ: ২০২৪ সালে বৈশ্বিক খননকৃত তামা উৎপাদনের প্রায় ৪.৫ শতাংশ দেশটির ছিল এবং সেখানে বড় আকারের গলন শিল্পে বিনিয়োগ এসেছে। ফিলিপাইন এখনো তৈরি পণ্য উৎপাদনের বদলে মূলত খনিজ উত্তোলন ও রপ্তানি করে।
রিস্ট্যাড এনার্জিতে ব্যাটারি বাজার গবেষণার ভাইস প্রেসিডেন্ট দুয়ো ফু বলেন, ফিলিপাইনের তামার মজুতের ৯২ শতাংশের জন্য খনির অনুমতি নেই। তিনি বলেন, খনি উন্নয়নে আট থেকে ১৫ বছর সময় লাগে; এ সময়ে অর্থায়ন, মূল্যস্ফীতি, নীতির পরিবর্তন ও পণ্যের দাম প্রকল্পকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
তাম্পাকানের মালিকানার ইতিহাসে আরেকটি অমীমাংসিত বিষয় রয়েছে। গ্লেনকোর ২০১৫ সালে সরে যায়। বিভিন্ন বিবরণে পরবর্তী নিয়ন্ত্রণ ফিলিপিনো স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে; এর মধ্যে সি পরিবারের সঙ্গে যুক্ত আলসন্স ও ইন্দোফিল রিসোর্সেস ফিলিপাইনস রয়েছে। খনি ও ভূবিজ্ঞান ব্যুরো ২০১৭ সালের ডিসেম্বর নাগাদ এসএমআইকে সম্পূর্ণ ফিলিপিনো মালিকানাধীন বলে বর্ণনা করে। ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার মূল্যায়নের একটি হোল্ডিং কাঠামোতে বিনিয়োগের বিষয়টি চীনের চালকো বিবেচনা করছিল। কোনো চুক্তির কথা প্রকাশ্যে নিশ্চিত করা হয়নি।
ফিলিপাইনের খনিজের বড় গন্তব্য চীন। ২০২০ থেকে ২০২৪ সালের শেষভাগ পর্যন্ত জাতিসংঘের বাণিজ্য তথ্য অনুযায়ী, ফিলিপাইনের নিকেল আকরিক রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ চীনের বন্দরে গেছে। এতে তাম্পাকানের তামা কোথায় যাবে, তা নিশ্চিত হয় না; তবে চীনের কারখানাসহ আঞ্চলিক গলনশিল্পের প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য ক্রেতা।
আর্থওয়ার্কসের খনিশিল্প কর্মসূচির পরিচালক এলেন মুরের মতে, পুনর্ব্যবহার, পুনরায় ব্যবহার ও উপকরণের দক্ষ ব্যবহার বাড়ালে নতুন করে খনির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়। গাড়ি নির্মাতাদের বিষয়ে লিড দ্য চার্জ জোটের মূল্যায়নেও পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রমিক অধিকার ও আদিবাসীদের অধিকারে অগ্রগতির তারতম্য দেখা গেছে; কিছু কোম্পানির প্রতিশ্রুতির তুলনায় বাস্তবায়ন পিছিয়ে রয়েছে।
গ্লোবাল উইটনেসের নীতি ও প্রচার বিভাগের প্রধান এমিলি আইওনা স্টুয়ার্ট সতর্ক করে বলেছেন, খনিজের চাহিদা ক্রমেই পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও প্রতিরক্ষা খাতের চাহিদাও মেটাচ্ছে। ইউরোপের কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম উৎপাদনজনিত নিঃসরণ কমানোর চাপ বাড়ায়; তবে এর প্রাথমিক খাতগুলোর মধ্যে আছে ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও সিমেন্ট—তামা নয়। এটি তাম্পাকানের ভূমি বা পানি নিয়ে বিরোধেরও নিষ্পত্তি করে না।
উৎপাদন শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ, নতুন শুনানির তারিখ বা নতুন পৌর চুক্তির সময়সীমা—কোনোটিই নিশ্চিত নয়। যে সিদ্ধান্তগুলো এখনো বাকি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে কার্যকর স্থানীয় শর্ত, প্রাদেশিক নিষেধাজ্ঞা, সম্মতি, হালনাগাদ প্রকৌশল পরিকল্পনা এবং খনি বন্ধের পর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব।
মূল বিষয়গুলো
- তাম্পাকান থেকে ১৭ বছর ধরে বছরে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন তামা ও ৩ লাখ ৬০ হাজার আউন্স সোনা উৎপাদনের পূর্বাভাস রয়েছে।
- ২০২১ সালের ডিসেম্বরে জাতীয় উন্মুক্ত খনি নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও দক্ষিণ কোটাবাতোর পৃথক বিধিনিষেধ বাধা হয়ে ছিল।
- তাম্পাকান ২০২০ সালের আগস্টে এসএমআইয়ের সঙ্গে পৌর চুক্তি বাতিল করে, তবে নতুন চুক্তির সুযোগ খোলা রাখে।
- ব'লাান সম্প্রদায়ের মধ্যে মতভেদ রয়েছে এবং খনি নিয়ে নোরা সুকালের অবস্থান সম্পর্কে বিবরণ পরস্পরবিরোধী।
- বন পরিষ্কার, পুনর্বাসন ও রয়্যালটির হিসাব ভিন্ন; এগুলোর সমন্বিত ব্যাখ্যা দরকার।
- পানি সুরক্ষা, বর্জ্য সংরক্ষণ এবং খনি বন্ধের পর জবাবদিহি—এসবই অমীমাংসিত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- চালকোর বিনিয়োগ বা উৎপাদন শুরুর নির্দিষ্ট তারিখ—কোনোটিই প্রকাশ্যে নিশ্চিত হয়নি।






