হাজারো অভিযোগ, কনটেন্ট সরানো হয়েছে অল্প, বিদেশি প্ল্যাটফর্মের তথ্য নেই
দক্ষিণ কোরিয়ার সংশোধিত তথ্য ও যোগাযোগ নেটওয়ার্ক আইনের আওতায় দেশীয় পাঁচটি প্ল্যাটফর্মে অপতথ্য নিয়ে ২,৭৩২টি অভিযোগ জমা পড়েছে। তবে কনটেন্ট সরানো বা এর দৃশ্যমানতা কমানোর কথা জানানো হয়েছে মাত্র ২৭টি ক্ষেত্রে। নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাওয়া অভিযোগ ও সাড়া-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান জমা দেয়নি গুগল, মেটা, এক্স ও টিকটক। ফলে আইনটি কীভাবে কার্যকর হচ্ছে, তার প্রথম পর্যালোচনায় বড় ধরনের তথ্যঘাটতি রয়ে গেছে।
সূচিপত্র
- হাজারো অভিযোগ, কনটেন্ট সরানো হয়েছে অল্প, বিদেশি প্ল্যাটফর্মের তথ্য নেই
- কী পরিবর্তন হয়েছে, আর কখন?
- কোন প্ল্যাটফর্ম ও বার্তা আইনের আওতায়?
- বিকৃত মিথ্যা তথ্য বলতে কী বোঝায়?
- অভিযোগ ও আপিলের প্রক্রিয়া
- কারা ক্ষতির পাঁচ গুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের মুখে পড়তে পারেন?
- ১০০ কোটি ওনের অর্থদণ্ডে আলাদা শর্ত
- প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রথম পরিসংখ্যানে আসলে কী দেখা যায়
- স্বচ্ছতাই অমীমাংসিত পরীক্ষা
- মূল বিষয়গুলো
দেশীয় প্ল্যাটফর্মগুলোর পরিসংখ্যান ৭ জুলাই আইন কার্যকর হওয়ার পর বিভিন্ন সময়সীমার। নেভারে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ৯০০টি, কাকাওতে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮৯৫টি এবং ডিসি ইনসাইডে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৮২৯টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে। নেট কমিউনিকেশনসে ৬৬টি এবং দামে ৪২টি অভিযোগ জমা পড়েছে, সেগুলোর হিসাবও ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। নেভার ও কাকাও কোনো অভিযোগেই কনটেন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি; ডিসি ইনসাইড ২৬টি পোস্ট সরিয়েছে, আর নেট এক ক্ষেত্রে দৃশ্যমানতা সীমিত করেছে।
এই ফলাফল আইনের বাস্তব প্রয়োগকে বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। সরকারের ভাষ্য, এটি প্ল্যাটফর্মগুলোর দায়িত্ব এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের কাঠামো; কর্মকর্তাদের কোনো পোস্টকে মিথ্যা ঘোষণা করে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা নয়। সমালোচকদের উদ্বেগ, একদিকে অতিরিক্ত কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ হতে পারে, অন্যদিকে আইনটি প্রয়োগ করাও কঠিন হতে পারে।
এই পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ: অভিযোগ মানেই তথ্য মিথ্যা—এমন নয়, আর প্ল্যাটফর্মের সিদ্ধান্তও আদালতের রায় নয়। প্রাথমিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অভিযোগের পর কোম্পানিগুলো কী ব্যবস্থা নিয়েছে; আইন অনুযায়ী কতটি পোস্ট অপতথ্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে বা কতজন ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য ক্ষতির শিকার হয়েছেন, তা নয়।
কী পরিবর্তন হয়েছে, আর কখন?
কিম জং-চেওলের সভাপতিত্বে সম্প্রচার, গণমাধ্যম ও যোগাযোগ কমিশন ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সংশোধনীগুলো মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের কথা জানায়। তাদের মন্ত্রিসভার অনুমোদনসংক্রান্ত বিবৃতিতে তিনটি প্রধান পরিবর্তনের কথা বলা হয়: যোগ্য প্রকাশকদের দেওয়ানি ক্ষতিপূরণ বাড়ানো, বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর নিজস্ব কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রণয়ন এবং বেসরকারি তথ্য যাচাইয়ের কাজে সহায়তায় একটি স্বচ্ছতা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা।
কার্যকর হওয়ার তারিখ নিয়ে সরকারি নথিতে অমিল রয়েছে। ৩০ ডিসেম্বরের বিবৃতিতে ৫ জুলাইকে পরিকল্পিত কার্যকর তারিখ বলা হয়েছিল, আর সরকারের ২০২৬ সালের ৩০ জুলাইয়ের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, আইনটি ৭ জুলাই কার্যকর হয়েছে। পরবর্তী সময়ে প্ল্যাটফর্মগুলোর অভিযোগের পরিসংখ্যানও ৭ জুলাই থেকে হিসাব করা হয়েছে। দুই তারিখের কারণ ব্যাখ্যা করা হয়নি।
ঘোষণা ও প্রতিবেদন প্রকাশের ধারাবাহিকতা:
- ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫: মন্ত্রিসভার অনুমোদনের কথা জানানো হয়; যোগ্যতার বিস্তারিত নিয়ম তখনও অধস্তন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে নির্ধারণের অপেক্ষায় ছিল।
- ৭ জুলাই, ২০২৬: পরবর্তী সরকারি নির্দেশিকা ও অভিযোগের প্রতিবেদনে আইন কার্যকরের তারিখ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
- ৩০ জুলাই, ২০২৬: সরকারি নির্দেশিকায় প্ল্যাটফর্মের তালিকাভুক্তি, প্রকাশকদের যোগ্যতার সীমা এবং অভিযোগের প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়।
- ৩১ আগস্ট: নেভারের ৯০০টি অভিযোগের হিসাবের শেষ তারিখ।
- ২৮ সেপ্টেম্বর: কাকাওর ৮৯৫টি অভিযোগের হিসাবের শেষ তারিখ।
- ৩০ সেপ্টেম্বর: দাউম, নেট কমিউনিকেশনস ও ডিসি ইনসাইডের হিসাবের শেষ তারিখ।
হিসাবের শেষ তারিখ আলাদা হওয়ায় সরাসরি তুলনা করা কঠিন। কয়েকটি অন্য সেবার তুলনায় নেভারের পরিসংখ্যান কম সময়ের, তাই একই সময়সীমার অভিযোগের হার হিসেবে এই মোট সংখ্যাগুলোকে র্যাঙ্কিং করা উচিত নয়।
কোন প্ল্যাটফর্ম ও বার্তা আইনের আওতায়?
সরকারের জুলাইয়ের নীতিনির্দেশিকায় বড় প্ল্যাটফর্মের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে দৈনিক গড়ে অন্তত ১০ লাখ ব্যবহারকারী হিসেবে। এতে তালিকাভুক্ত নয়টি সেবাদাতা হলো নেভার, কাকাও, নেট, ডিসি ইনসাইড, এএক্সজেড, গুগল, মেটা, এক্স ও টিকটক। এসব প্রতিষ্ঠানকে নিজেদের নীতি প্রণয়ন ও কার্যকর করতে হবে এবং অবৈধ বা বিকৃত মিথ্যা তথ্য কীভাবে সামলেছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।
তালিকাভুক্ত সেবাদাতা এবং অভিযোগের হিসাবের নামগুলো এক নয়। প্রথম তালিকায় এএক্সজেড রয়েছে, আর অভিযোগের হিসাবে পাঁচটি দেশীয় সেবার মধ্যে দাউমকে আলাদাভাবে দেখানো হয়েছে। দুই তালিকার নাম একই শ্রেণিকে বোঝায়, এমন ধরে নিয়ে নয়টি সেবাদাতার তালিকায় দাউমকে যোগ করা উচিত নয়।
সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, কাকাওটকের ব্যক্তিগত আলাপ, সরাসরি বার্তা এবং অন্যান্য ব্যক্তিগত বিনিময় অপতথ্য প্রচার-সংক্রান্ত নিয়মের আওতায় পড়ে না। এসব আলাপে কর্তৃপক্ষের প্রবেশাধিকার বা নজরদারির ক্ষমতা আইনটি দেয়নি।
কোন অ্যাপ ব্যবহার হচ্ছে, তার চেয়ে বার্তা প্রকাশ্যে ছড়ানো হচ্ছে কি না, সেটিই বিভাজনরেখা। অনির্দিষ্টসংখ্যক মানুষ যোগ দিতে পারলে এবং তথ্য প্রকাশ্যে ছড়ালে কাকাওটকের ওপেন চ্যাট নিয়মের আওতায় পড়তে পারে। তাই একই সেবায় ব্যক্তিগত আলাপ ও সবার জন্য উন্মুক্ত আলোচনা ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে।
সরকার আরও বলেছে, রাজনৈতিক সমালোচনা বা ব্যক্তিগত মতামত শুধু কর্মকর্তা বা কাউকে চ্যালেঞ্জ করে কিংবা আহত করে বলে নিয়ন্ত্রিত হবে না। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রকাশ্যে পোস্ট করা প্রতিটি বার্তা অব্যাহতিপ্রাপ্ত: আইনি মূল্যায়ন নির্ভর করবে এর বিষয়বস্তু, উদ্দেশ্য ও এর ফলে হওয়া ক্ষতির ওপর।
বিকৃত মিথ্যা তথ্য বলতে কী বোঝায়?
সরকারের বর্ণনা অনুযায়ী, এটি একাধিক শর্তের সমন্বিত পরীক্ষা; সব প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হতে হবে। প্রকাশককে জানতে হবে যে তথ্য পুরোপুরি বা আংশিক মিথ্যা, অথবা এমনভাবে বদলানো হয়েছে যাতে তা সত্য বলে ভুল হতে পারে। পাশাপাশি, ক্ষতি করা বা অন্যায্য সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্য থাকতে হবে এবং আইনগতভাবে সুরক্ষিত কোনো স্বার্থের ক্ষতি হতে হবে—যেমন কারও সুনাম, সম্পত্তির অধিকার বা জনস্বার্থ।
প্রতিটি তথ্যগত ভুলকে নিষিদ্ধ অপতথ্য হিসেবে বিবেচনার চেয়ে এই সংজ্ঞা সংকীর্ণ। কোনো বক্তব্য ভুল হলেই পুরো পরীক্ষা পূরণ হয় না। প্রকাশক বিষয়টি জানতেন কি না, তাঁর উদ্দেশ্য কী ছিল এবং ক্ষতি হয়েছে কি না, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞাপন বা ভিউ থেকে প্রকাশকের আয় হলেও তা বিবেচ্য।
সরকারি উদাহরণের মধ্যে রয়েছে, যাচাই না হওয়া কোনো তারকা-সংক্রান্ত গুজবকে চটকদার সম্পাদনার মাধ্যমে আপাতদৃষ্টিতে তথ্যনির্ভর ভিডিওতে রূপ দেওয়া। আরেকটি উদাহরণ হলো, মূল বক্তব্যের ভিন্ন অর্থ দাঁড় করাতে সাক্ষাৎকারের কথা সাজিয়ে নেওয়া, আংশিক বাদ দেওয়া বা প্রেক্ষাপট থেকে বিচ্ছিন্ন করা। এসব উদাহরণেও ক্ষতি করার উদ্দেশ্য বা অন্যায্য আর্থিক লাভের উদ্দেশ্য প্রমাণ করতে হবে।
ব্যঙ্গ ও প্যারোডিকে ব্যতিক্রম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, তবে নির্দেশিকায় একটি শর্তও রয়েছে। ব্যঙ্গাত্মক বলে মনে হলেও কোনো কনটেন্ট ক্ষতিকর উদ্দেশ্য বা অন্যায্য লাভ এবং সুরক্ষিত স্বার্থের ক্ষতিসংক্রান্ত শর্ত পূরণ করলে তা আইনের আওতায় পড়তে পারে। কোনো পোস্টকে প্যারোডি বললেই তার আইনি অবস্থান চূড়ান্ত হয় না।
ঘৃণা ও বৈষম্যমূলক বক্তব্যকে মিথ্যা তথ্য থেকে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হয়েছে। জাতি, জাতীয়তা, অঞ্চল, লিঙ্গ, প্রতিবন্ধিতা, বয়স বা সামাজিক ও আর্থিক অবস্থাসহ নানা পরিচয়ের ভিত্তিতে সহিংসতা বা বৈষম্যে সরাসরি উসকানি দেওয়া, অথবা মানবিক মর্যাদার গুরুতর ক্ষতি করে এমন ঘৃণা ছড়ানো এর আওতায় পড়ে। শুধু রাজনৈতিক সমালোচনা, ব্যঙ্গ বা কাউকে অপমান করা যথেষ্ট নয়; প্রেক্ষাপট ও সামাজিক প্রভাবও মূল্যায়ন করতে হবে।
অভিযোগ ও আপিলের প্রক্রিয়া
কেউ কোনো আওতাভুক্ত প্ল্যাটফর্মে সন্দেহজনক অবৈধ বা বিকৃত মিথ্যা তথ্যের প্রতিবেদন করতে পারেন। প্রতিবেদনে কনটেন্টের অবস্থান, যেমন ইউআরএল, জানাতে হবে, অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং সমর্থনকারী প্রমাণ যুক্ত করতে হবে। অভিযোগকারীর পরিচয় ও যোগাযোগের তথ্যও দিতে হয়; ব্যাখ্যাহীন অভিযোগকে সম্পূর্ণ প্রতিবেদন হিসেবে ধরা হয় না।
অভিযোগ করলেই পোস্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরানো হয় না। প্ল্যাটফর্মগুলো নিজেদের নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে কনটেন্ট মুছতে বা আটকে দিতে, দৃশ্যমানতা কমাতে, অ্যাকাউন্ট স্থগিত করতে কিংবা কোনো ব্যবস্থা না নিতে পারে। সরকারের বক্তব্য, কোম্পানিগুলোর স্বাধীনভাবে পর্যালোচনা করা উচিত; শুধু অভিযোগকারীর সংখ্যা গোনা নয়।
সিদ্ধান্ত ও তার কারণ অভিযোগকারী এবং প্রকাশককে জানাতে হবে, পাশাপাশি আপিলের প্রক্রিয়া সম্পর্কেও তথ্য দিতে হবে। নোটিশ পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে উভয় পক্ষ আপিল করতে পারবেন। বিরোধের সমাধান না হলে তা সম্প্রচার, গণমাধ্যম ও যোগাযোগ পর্যালোচনা কমিশনের বিরোধ মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ায় পাঠানো যেতে পারে; আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগও রয়েছে।
আইনি ভূমিকাগুলো আলাদা। প্ল্যাটফর্ম তার সেবার নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়। দেওয়ানি ক্ষতিপূরণের সিদ্ধান্ত আদালত দেয়। বারবার তথ্য প্রচারের জন্য অতিরিক্ত অর্থদণ্ড প্রযোজ্য কি না, তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা আলাদাভাবে নির্ধারণ করে, তবে কেবল আদালতের চূড়ান্ত রায়ের ভিত্তিতে। সরকারের বক্তব্য, এই কাঠামোর আওতায় কোনো পোস্ট মিথ্যা বলে সরাসরি নির্ধারণ বা তা মুছে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা তাদের নেই।
৩০ ডিসেম্বরের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, অবৈধ তথ্যের মতো নয়, বিকৃত মিথ্যা তথ্য পর্যালোচনা কমিশনের বিবেচনামূলক এখতিয়ারের বাইরে। এ পার্থক্যকে বিরোধ মধ্যস্থতার জন্য আবেদন করার আলাদা সুযোগের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়।
কারা ক্ষতির পাঁচ গুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণের মুখে পড়তে পারেন?
বর্ধিত ক্ষতিপূরণের বিধান তাদের লক্ষ্য করে, যারা জনসাধারণের কাছে তথ্য বা মতামত পৌঁছে দেওয়াকে ব্যবসা হিসেবে নেন এবং নির্দিষ্ট আয় ও দর্শক-শ্রোতার সীমা পূরণ করেন। জুলাইয়ের নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রকাশককে আগের তিন মাসে অন্তত তিনটি পোস্ট থেকে বিজ্ঞাপন-আয়সহ রাজস্ব আয় করতে হবে।
এ ছাড়া প্রকাশকের কমপক্ষে ১ লাখ সাবস্ক্রাইবার থাকতে হবে, অথবা ওই তিন মাসে পোস্ট করা কনটেন্টের মাসিক গড় ভিউ অন্তত ১ লাখ হতে হবে। এই দুটি দর্শকসংক্রান্ত শর্ত বিকল্প, দুটিই পূরণ করা বাধ্যতামূলক নয়। ফলে সাবস্ক্রাইবারের নির্ধারিত সীমার নিচে থাকা কোনো আয়কারী চ্যানেলও ভিউয়ের হিসাবে যোগ্য হতে পারে।
৪৪-১০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রযোজ্য শর্ত পূরণ হলে আদালত প্রকৃত ক্ষতির সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে পারে। এটি সর্বোচ্চ সীমা; প্রতিটি মিথ্যা পোস্ট বা সফল অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই পরিমাণ দেওয়া হয় না। দায় এবং ক্ষতিপূরণের অঙ্ক নির্ভর করে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর, যার মধ্যে উদ্দেশ্য, লক্ষ্য ও সুরক্ষিত স্বার্থের ক্ষতির শর্তও রয়েছে।
ইউটিউব চ্যানেল, সংবাদ ওয়েবসাইট এবং গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট আইনি শর্ত পূরণ করলে নিয়মের আওতায় পড়তে পারে। তবে জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট তথ্য বর্ধিত ক্ষতিপূরণ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত। ৩০ ডিসেম্বরের বিবৃতিতে বিশেষভাবে জনস্বার্থে হুইসেলব্লোয়ার সুরক্ষা আইনের আওতায় পড়ে এমন আচরণ, অন্যায় অনুরোধ ও ঘুষসংক্রান্ত আইনে নিষিদ্ধ আচরণ এবং জনস্বার্থে সমতুল্য বিষয়ের তথ্যের কথা বলা হয়েছে।
৪৪-১১ অনুচ্ছেদে সরকারি পদপ্রার্থী ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ জনপরিচিত ব্যক্তিদের অপব্যবহার ঠেকাতে সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। বিবৃতিতে আদালতের মধ্যবর্তী রায়ের একটি প্রক্রিয়া, জনপরিচিত ব্যক্তিদের সেই রায় প্রকাশ করার বাধ্যবাধকতা এবং উল্টো ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। জনস্বার্থে কাজের তথ্যের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলা যাতে হাতিয়ার হয়ে না ওঠে, সেই উদ্দেশ্যেই এসব সুরক্ষা।
১০০ কোটি ওনের অর্থদণ্ডে আলাদা শর্ত
বিতর্কিত তথ্য আপলোড করলেই সর্বোচ্চ ১০০ কোটি ওনের প্রশাসনিক অর্থদণ্ড হয় না। সরকারের ভাষ্য, এটি প্রযোজ্য হবে এমন যোগ্য বাণিজ্যিক প্রকাশকের ক্ষেত্রে, যারা আদালতের চূড়ান্ত রায়ে অপতথ্য বলে স্বীকৃত তথ্য অন্তত দুবার প্রচার করেছেন।
প্রকাশককে প্রচারের আগের তিন মাসে অন্তত তিনটি পোস্ট থেকে রাজস্বও আয় করতে হবে। এই অর্থদণ্ড সম্পর্কে সরকারি ব্যাখ্যায় বর্ধিত দেওয়ানি ক্ষতিপূরণের জন্য ব্যবহৃত ১ লাখ সাবস্ক্রাইবার বা ভিউয়ের সীমার কথা পুনরায় বলা হয়নি। তাই দুই ব্যবস্থার যোগ্যতার শর্ত অভিন্ন, এমন ধরে নেওয়া উচিত নয়।
চূড়ান্ত রায়ের শর্তটি অর্থদণ্ডকে প্রাথমিক অভিযোগ বা প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত থেকে আলাদা করে। ওই সিদ্ধান্তে সর্বোচ্চ আর্থিক জরিমানার ভিত্তি তৈরি না হলেও প্ল্যাটফর্ম কোনো পোস্ট সরাতে পারে।
কার্যকরের প্রথম দিকের প্রতিবেদন প্রকাশের সময় সংশ্লিষ্ট কোনো মামলা বা অর্থদণ্ডের ঘটনা জানানো হয়নি। এটি ওই সময়সীমার বিবরণ; এর মানে এই নয় যে পরে কোনো ঘটনা ঘটেনি, বা বিধানগুলো ব্যবহার করা যাবে না।
প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রথম পরিসংখ্যানে আসলে কী দেখা যায়
নেভার, কাকাও ও দাউমে জানানো ১,৮৩৭টি অভিযোগ দেশীয় পাঁচটি সেবার মোট ২,৭৩২টি অভিযোগের অংশ; পরস্পরবিরোধী হিসাব নয়। নেভার ৯০০টি, কাকাও ৮৯৫টি এবং দাউম তার ৪২টি অভিযোগের মধ্যে ৪১টিতে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। দাউমের বাকি অভিযোগটি কোরিয়া ইন্টারনেট স্ব-নিয়ন্ত্রণ সংস্থায়, কিসো নামে পরিচিত, পর্যালোচনাধীন ছিল।
ডিসি ইনসাইড ৮২৯টি অভিযোগের মধ্যে ২৬টি পোস্ট সরিয়েছে এবং ৮০৩টি অভিযোগ নাকচ করেছে। নেট কমিউনিকেশনস ৬৬টি ঘটনার একটিতে দৃশ্যমানতা সীমিত করেছে। পাঁচটি সেবা মিলিয়ে এই ২৭টি ব্যবস্থা ২,৭৩২টি অভিযোগের প্রায় ১ শতাংশ। ডিসি ইনসাইডে পোস্ট সরানোর হার প্রায় ৩.১ শতাংশ; নেটে দৃশ্যমানতা সীমিত করার হার প্রায় ১.৫ শতাংশ।
এই হিসাব অভিযোগের জবাবে নথিভুক্ত ব্যবস্থা পরিমাপ করে, অপতথ্যের ব্যাপকতা নয়। একই কনটেন্ট নিয়ে কতটি প্রতিবেদন এসেছে, নির্দিষ্ট অভিযোগগুলো কেন নাকচ হয়েছে, কতটি আপিল করা হয়েছে বা অভিযোগকারীরা শেষ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ পেয়েছেন কি না—পরিসংখ্যানে এসব তথ্য নেই।
এসব পরিসংখ্যান এও প্রমাণ করে না যে প্ল্যাটফর্মগুলো বৈধ অভিযোগ উপেক্ষা করেছে। ব্যবস্থা নেওয়ার হার কম হওয়ার কারণ হতে পারে অভিযোগগুলো আইনি বা সেবার নীতিমালার শর্ত পূরণ করেনি, কোম্পানিগুলোর ব্যাখ্যা ছিল কঠোর, অথবা অন্য কোনো কারণ। প্রকাশিত কারণ ও আপিলের ফলাফল ছাড়া শুধু মোট সংখ্যা দিয়ে এসব ব্যাখ্যার মধ্যে পার্থক্য করা যায় না।
স্বচ্ছতাই অমীমাংসিত পরীক্ষা
গুগল, মেটা, এক্স ও টিকটক নিয়ন্ত্রক সংস্থার চাওয়া অভিযোগ ও ব্যবস্থা-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান দেয়নি। তাদের তথ্য না থাকায় দেশীয় ও বিদেশি সেবার মধ্যে তুলনা করা যাচ্ছে না, আর তালিকাভুক্ত নয়টি সেবাদাতার সব কটিতে মোট কত অভিযোগ এসেছে, তা-ও অজানা রয়ে গেছে।
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সম্প্রচার ও যোগাযোগবিষয়ক জাতীয় সংসদীয় কমিটির ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা লি জু-হি আইনটি কীভাবে কার্যকর হচ্ছে, তা আরও নিবিড়ভাবে যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন। কোরিয়ান থেকে অনূদিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিদেশি প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য না থাকা আইনটির মূল্যায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে:
দেশীয় অনেক ব্যবহারকারী থাকা বড় বিদেশি প্ল্যাটফর্মগুলোর পরিস্থিতি না জানলে আমরা আইনের উদ্দেশ্য পূরণ করতে পারব না।
প্রয়োগের কিছু সীমাবদ্ধতা ইচ্ছাকৃতভাবেই রাখা হয়েছিল। ডিসেম্বরের সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, কোম্পানিগুলোর স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে এবং অতিরিক্ত চাপ এড়াতে প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ নীতির সঙ্গে যুক্ত শাস্তিমূলক বিধান বাদ দেওয়া হয়। পরবর্তী প্রতিবেদনেও জানানো হয়, প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন প্রকাশে ব্যর্থ হলে শাস্তির বিধান না থাকায় আইন মানানো কঠিন হতে পারে।
প্রস্তাবিত তথ্য ও যোগাযোগ সেবা স্বচ্ছতা কেন্দ্র সহায়তা দেবে; সত্য নির্ধারণকারী একক কর্তৃপক্ষ হবে না। বেসরকারি তথ্য যাচাই কার্যক্রম, গবেষণা, শিক্ষা, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং ডেটাবেস তৈরিতে সহায়তা করা এর কাজের মধ্যে রয়েছে। বেসরকারি যাচাইকারী গোষ্ঠীর সিদ্ধান্ত মানতে প্ল্যাটফর্মগুলো বাধ্য নয়।
অমীমাংসিত প্রশ্নগুলো নির্দিষ্ট: কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের কারণ সবার জন্য সহজলভ্য হবে কি না, আপিলে ভুল সংশোধন হবে কি না, সমন্বিতভাবে অভিযোগের প্রচারণা কীভাবে সামলানো হবে এবং বিদেশি সেবাদাতারা তুলনাযোগ্য তথ্য প্রকাশ করবে কি না। প্রাথমিক পরিসংখ্যানে এসব প্রশ্নের উত্তর মেলে না; পরবর্তী কোনো শুনানি, আদালতের সময়সীমা বা তথ্য প্রকাশের তারিখও উল্লেখ করা হয়নি।
মূল বিষয়গুলো
- দেশীয় পাঁচটি সেবায় ২,৭৩২টি অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছে; ২৬টি পোস্ট সরানো হয়েছে এবং একটিতে দৃশ্যমানতা সীমিত করা হয়েছে।
- গুগল, মেটা, এক্স ও টিকটক চাওয়া অভিযোগ ও সাড়া-সংক্রান্ত পরিসংখ্যান জমা দেয়নি।
- সরকারি নির্দেশিকায় ৭ জুলাইকে কার্যকর তারিখ বলা হয়েছে; এর আগের মন্ত্রিসভার বিবৃতিতে ৫ জুলাই উল্লেখ ছিল।
- ব্যক্তিগত বার্তা নিয়মের বাইরে, তবে সবার জন্য উন্মুক্ত চ্যাট এর আওতায় পড়তে পারে।
- অপতথ্য প্রমাণে মিথ্যা বা বিকৃতি সম্পর্কে জ্ঞান, ক্ষতিকর উদ্দেশ্য বা অন্যায্য লাভ এবং সুরক্ষিত স্বার্থের ক্ষতি থাকতে হবে।
- যোগ্য বাণিজ্যিক প্রকাশককে আদালত প্রকৃত ক্ষতির সর্বোচ্চ পাঁচ গুণ পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দিতে বলতে পারেন; জনস্বার্থের তথ্যের জন্য সুরক্ষা রয়েছে।
- ১০০ কোটি ওন পর্যন্ত অর্থদণ্ড দিতে হলে আদালতের চূড়ান্ত রায়ে চিহ্নিত তথ্য বারবার প্রচার করতে হবে।
- নোটিশ পাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে অভিযোগকারী ও প্রকাশক প্ল্যাটফর্মের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে পারেন।






