সতর্কতা, ধোঁয়া ও রাষ্ট্রের দায় নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ
পশ্চিম কালিমানতানের আদিবাসী প্রতিনিধিরা ও নাগরিক সমাজের গোষ্ঠীগুলো বারবার ছড়িয়ে পড়া দাবানল নিয়ে ইন্দোনেশিয়া সরকারের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছে। তারা জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা, অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধ জোরদার এবং ধোঁয়ায় শ্বাস নেওয়া মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা চাইছে। শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজারে পৌঁছানোর সময়ে এ মামলা হলো। পুলিশ ৯৬টি কোম্পানির তদন্ত করছে এবং উদ্ধারকারীরা বিপন্ন ওরাংওটানদের জ্বলন্ত আবাসস্থল থেকে সরিয়ে নিচ্ছেন।
সূচিপত্র
- সতর্কতা, ধোঁয়া ও রাষ্ট্রের দায় নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ
- বাদীপক্ষ সরকারের কাছে যা চাইছে
- সংকট ও আইনি চ্যালেঞ্জের বিকাশ
- ঘরে ঢুকছে ধোঁয়া, ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা
- খরা ও ভূমি পরিষ্কার নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা
- তদন্ত ও অগ্নিনির্বাপণের হিসাব ভিন্ন বিষয় মাপে
- প্রতিবেশী সরকারগুলোর সহায়তার প্রস্তাব
- ওরাংওটান উদ্ধার নিরাপদ আবাসস্থল হারানোর চিত্র তুলে ধরে
- জনচাপ বাড়ছে, তবে আইনি প্রতিকার এখনো অনির্ধারিত
- যা জানা জরুরি
বাদীপক্ষ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চরম অবহেলার অভিযোগ তুলেছে। তাদের যুক্তি, শুষ্ক মৌসুমের আগেই এল নিনোর সঙ্গে সম্পর্কিত দীর্ঘস্থায়ী খরার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। তাদের মূল বক্তব্য, প্রায় প্রতি বছর ফিরে আসা এমন সংকট মোকাবিলায় আগেভাগে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত ছিল; জনপদ ধোঁয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর শুধু আগুন নেভানোর ওপর জোর দেওয়া যথেষ্ট নয়।
বোর্নিও দ্বীপে পশ্চিম কালিমানতানের রাজধানী পন্তিয়ানাকে মামলাটির শুনানি চলছে। প্রক্রিয়াগত দুটি মৌলিক বিষয়ে প্রতিবেদনে অমিল রয়েছে: এক বিবরণে প্রথম শুনানির তারিখ ৭ অক্টোবর এবং বিবাদীর সংখ্যা ১০ বলা হয়েছে; অন্যটিতে ৮ অক্টোবরের কথা বলা হয়েছে এবং অভিযুক্ত হিসেবে ২৭ ব্যক্তি ও সংস্থার উল্লেখ রয়েছে। দুই বিবরণেই প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ান্তোর নাম আছে। বিবাদীদের সঠিক তালিকা ও প্রথম শুনানির তারিখ আদালতের নথি থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
দুই বিবরণেই বলা হয়েছে, কোনো বিবাদী হাজির হননি এবং কার্যক্রম ২১ অক্টোবর পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। অবহেলার অভিযোগ নিয়ে কোনো রায়ের খবর পাওয়া যায়নি। প্রথম শুনানিতে বিবাদীদের অনুপস্থিতি সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো প্রমাণ করে না।
বিরোধটি আদালতের বাইরেও বিস্তৃত। ধোঁয়ায় ইন্দোনেশিয়ায় স্কুল, পরিবহন ও দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হয়েছে এবং ধোঁয়া মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরেও ছড়িয়েছে। বিস্তৃত ধোঁয়াশা ফিলিপাইনেও পৌঁছেছে। ইন্দোনেশিয়া সরকার বলছে, জনপদকে সুরক্ষা দেওয়া ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা তাদের অগ্রাধিকার। অন্যদিকে, বাদীপক্ষ চায় রাষ্ট্র প্রতিরোধ, আইন প্রয়োগ ও পুনর্বাসনের বিষয়গুলো একসঙ্গে মোকাবিলা করুক।
বাদীপক্ষ সরকারের কাছে যা চাইছে
জোটটির নাম নাফাস কালবার, যার অর্থ পশ্চিম কালিমানতানের শ্বাস। চার বাদীর মধ্যে রয়েছেন আদিবাসী ও ধর্মীয় যুব প্রতিনিধিরা, পিটভূমি ফাউন্ডেশন লেমবাগা জেমাওয়ানের একজন প্রতিনিধি এবং সিসিলিয়ুস রামি, যাঁকে গোষ্ঠীটির একমাত্র স্বতন্ত্র বাদী হিসেবে পরিচয় করানো হয়েছে।
তাদের চাওয়া প্রতিকারের মধ্যে রয়েছে জাতীয় জরুরি অবস্থা বা দুর্যোগ ঘোষণা, আগুন মোকাবিলার ব্যবস্থা জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া, দায়ীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের পুনর্বাসন। এসব দাবি মামলাটিকে তাৎক্ষণিক অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম নিয়ে অভিযোগের চেয়েও বিস্তৃত করেছে।
পশ্চিম কালিমানতানের আদিবাসী জনগোষ্ঠী জোটের প্রধান তোনো বলেন, রাষ্ট্রকে মানুষ ও পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব পালনে বাধ্য করতেই এ মামলা করা হয়েছে। নাফাস কালবারের আইনি সমন্বয়ক ও বাদীপক্ষের আইনজীবী গ্লোরিও সানেন বলেন, অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ উপস্থাপনে তারা প্রস্তুত।
আবহাওয়াজনিত হুমকির পূর্বাভাসের পরও কেন প্রস্তুতি বাড়ানো হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সানেন:
শুষ্ক মৌসুম শুরুর অনেক আগেই এল নিনোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, তাই বিষয়টি আমাদের কাছে কিছুটা অদ্ভুত মনে হয়েছে," তিনি বলেন। "তবু মনে হচ্ছে, এই দীর্ঘস্থায়ী খরা মোকাবিলায় আমরা প্রস্তুত ছিলাম না।
তাঁর যুক্তিতে আগুনকে বিপজ্জনক করে তোলা আবহাওয়ার পরিস্থিতি এবং সরকারের প্রস্তুতির দায়িত্ব আলাদা করে দেখা হয়েছে। খরার পূর্বাভাস থাকলেই নিজে থেকে আইনগত অবহেলা প্রমাণ হয় না। কর্তৃপক্ষ কী জানত, কী ব্যবস্থা নিয়েছিল এবং সেই ব্যবস্থা তাদের দায়িত্ব পূরণ করেছিল কি না, আদালতকে তা খতিয়ে দেখতে হবে।
সংকট ও আইনি চ্যালেঞ্জের বিকাশ
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে আগুন জ্বলছে এবং বর্তমান দফার দাবানল শুরু হয়েছিল জুলাইয়ে। পাওয়া তারিখগুলোতে জরুরি অবস্থার বিস্তার, এরপর আইন প্রয়োগের পদক্ষেপ, আদালতে চ্যালেঞ্জ এবং কূটনৈতিক আলোচনা উঠে এসেছে।
- জানুয়ারি থেকে জুলাই: প্রতিবেদনগুলোতে উদ্ধৃত সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়াজুড়ে প্রায় ২ লাখ ২ হাজার হেক্টর জমি পুড়েছে।
- জুলাই থেকে: বন ও ভূমিতে আগুন ছড়িয়ে আক্রান্ত ইন্দোনেশীয় প্রদেশ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে ধোঁয়া ছড়ায়।
- আগস্ট ও সেপ্টেম্বর: শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজারে পৌঁছায়; এ সময় ওরাংওটানও উদ্ধার করা হয়।
- সেপ্টেম্বর: নাফাস কালবার পন্তিয়ানাকে মামলা করেছে বলে জানা গেছে।
- ৭ বা ৮ অক্টোবর: প্রথম শুনানির তারিখ নিয়ে প্রতিবেদনে অমিল রয়েছে। বিবাদীরা হাজির না হওয়ায় শুনানি মুলতবি করা হয়।
- ৯ অক্টোবর: স্থানীয় সংরক্ষণ কর্মকর্তার হিসাবে আগুনের হুমকি থেকে উদ্ধার করা ওরাংওটানের সংখ্যা ৪৬-এ পৌঁছায়।
- ১০ অক্টোবর: সরকারি যোগাযোগ সংস্থার প্রধান শাহগান্দা নাইঙ্গোলান প্রকাশ্যে আগুন এবং মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের উদ্বেগ নিয়ে কথা বলেন।
- ২১ অক্টোবর: আদালত পরবর্তী কার্যক্রমের দিন ধার্য করে।
- নভেম্বর: কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে যে এ মাস পর্যন্ত আগুন চলতে পারে। ইন্দোনেশিয়ার অধিকাংশ এলাকায় এ সময় বর্ষা শুরু হওয়ার কথা।
নভেম্বরের সতর্কতা আগুন নেভার নিশ্চিত সময়সীমা নয়। এটি সম্ভাব্য আবহাওয়ার সময়কাল নির্দেশ করে; আর আগুনের তাৎক্ষণিক গতিপথ নির্ভর করে স্থানীয় বৃষ্টি, পানির জোগান এবং জ্বলন্ত পিট নেভানোর প্রচেষ্টার ওপরও।
ঘরে ঢুকছে ধোঁয়া, ব্যাহত হচ্ছে পড়াশোনা
ইন্দোনেশিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, আগুনের সঙ্গে সম্পর্কিত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার। কোনো কোনো বিবরণে আগস্ট ও সেপ্টেম্বরের মধ্যে সংখ্যাটি প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার বলা হয়েছে, আবার অন্য বিবরণে আগস্ট থেকে অন্তত ১ লাখ ৭৫ হাজার বলা হয়েছে। তারিখসহ মূল সরকারি বিজ্ঞপ্তি না থাকায় এই সংখ্যাকে স্বাস্থ্যঝুঁকির আনুমানিক পরিমাপ হিসেবে দেখা উচিত, একেবারে সুনির্দিষ্ট হিসাব হিসেবে নয়।
বাসিন্দারা বলছেন, ঘরের ভেতরেও ধোঁয়ার সংস্পর্শ অব্যাহত রয়েছে। পন্তিয়ানাকের বাসিন্দা এবং লেমবাগা জেমাওয়ানের প্রধান আরনিয়ান্তি তাঁর ঘরে ধোঁয়া ঢোকার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন:
আমাদের ঘরের ভেতর শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, কারণ বাতাস চলাচলের পথ দিয়ে ধোঁয়া ঢুকে পড়ে।
স্বতন্ত্র বাদী সিসিলিয়ুস রামি বলেন, বাইরে গেলেই তাঁর চোখ জ্বালা করে এবং তিনি প্রতিদিন মাস্ক পরেন। তাঁর অভিজ্ঞতা দেখায়, স্বাস্থ্যসেবার দাবি কেন মামলার কেন্দ্রীয় বিষয়: বাইরে বের হওয়া এড়ালেও মানুষ ধোঁয়ার সংস্পর্শে থাকতে পারে।
সানেন বলেন, পশ্চিম কালিমানতানে প্রায় দুই মাস ধরে স্কুল বন্ধ ছিল। শত শত ফ্লাইটও ব্যাহত হয়। বাতাসের মান খারাপ হওয়ায় মালয়েশিয়ার জোহরসহ কয়েকটি রাজ্যে সাময়িকভাবে স্কুল বন্ধ করা হয়। সিঙ্গাপুরও জানায়, দূষণ মান সূচক অস্বাস্থ্যকর পর্যায়ে পৌঁছালে স্কুল বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
অসুস্থতার বাইরেও এসব বিঘ্নের খরচ রয়েছে। দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকলে পড়াশোনা ব্যাহত হয়, আর ফ্লাইট বাতিল হলে যাতায়াত ও সেবায় প্রবেশাধিকার সীমিত হয়। এসব চলমান প্রভাব মোকাবিলায় বাদীপক্ষ পুনর্বাসন চাইছে, যদিও প্রতিকারের সুনির্দিষ্ট পরিধি ও অর্থায়ন এখনো নির্ধারিত হয়নি।
খরা ও ভূমি পরিষ্কার নিয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা
এল নিনো হলো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধি, যা আবহাওয়ার ধরন বদলে দিতে পারে এবং ইন্দোনেশিয়ায় বৃষ্টিপাত কমাতে পারে। প্রতিবেদনে বর্ণিত অস্বাভাবিক শক্তিশালী এ পর্ব শুষ্ক আবহাওয়া দীর্ঘায়িত করেছে এবং গাছপালা ও পিটভূমিকে আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে ফেলেছে।
পিট হলো জলাভূমিতে জমে থাকা আংশিক পচা উদ্ভিদ উপাদান। পানি নিষ্কাশন করা হলে এটি দাহ্য হয়ে উঠতে পারে এবং মাটির নিচে জ্বলতে পারে। এতে বোঝা যায়, দৃশ্যমান শিখা নিভে যাওয়ার পরও আগুন কেন জ্বলতে পারে এবং তা নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন অগ্নিনির্বাপকদের বিপুল পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়।
সেপ্টেম্বরে পিটভূমির আগুন নেভানোর প্রচেষ্টায় এ চ্যালেঞ্জ স্পষ্ট হয়েছিল। স্বেচ্ছাসেবকেরা মাটির নিচের আগুনের বিরুদ্ধে কাজ করেন, যা নিভে গেছে মনে হওয়ার পরও আবার জ্বলে উঠতে পারত। আগস্টের অগ্নিনির্বাপণ প্রচেষ্টার বিবরণেও পানির স্বল্পতা, দুর্গম অবস্থান এবং এল নিনোর তীব্রতার কথা উঠে আসে।
পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলোর মতে, বাগান ও অন্যান্য কৃষিকাজের জন্য জমি প্রস্তুত করতে গাছপালায় আগুন দেওয়া বারবার দাবানল লাগার একটি বড় কারণ। ইন্দোনেশিয়া বিশ্বের বৃহত্তম পাম তেল উৎপাদক। আরনিয়ান্তি বলেন, একফসলি চাষের সঙ্গে সম্পর্কিত ক্ষতিগ্রস্ত ও শুকিয়ে যাওয়া পিটভূমি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
নিজেদের অনুসন্ধানের ভিত্তিতে আরনিয়ান্তি বলেন, আগুনের ৭০ শতাংশের বেশি কোম্পানির কনসেশন এলাকার মধ্যে ঘটেছে। এ অভিযোগ খতিয়ে দেখা দরকার: কোনো কনসেশনের ভেতরে আগুন শনাক্ত হলে তার অবস্থান বোঝা যায়, কিন্তু শুধু তা দিয়ে কে আগুন লাগিয়েছে বা কোনো কোম্পানির আইনগত দায় আছে কি না, তা প্রমাণ হয় না।
ইন্দোনেশিয়ার সরকারি যোগাযোগ সংস্থার প্রধান শাহগান্দা নাইঙ্গোলান ১০ অক্টোবর ভিন্ন ব্যাখ্যা দেন:
"আমরা আশা করি, আমাদের প্রতিবেশীরা বুঝবেন যে এটি মানুষের ভুলের বাইরে; এটি সত্যিই প্রকৃতির ঘটনা," তিনি বলেন।
এ ব্যাখ্যার সঙ্গে আগুন লাগানোর সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং কোম্পানির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সরকারের নিজস্ব তদন্তের মধ্যে বৈপরীত্য রয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়ায় আগুন সহজে ছড়াতে পারে, তবে আগুনের সূত্রপাত মানুষের কর্মকাণ্ড থেকেও হতে পারে। কর্তৃপক্ষ এসব ঝুঁকি যথাযথভাবে সামলেছিল কি না, আদালতের চ্যালেঞ্জটি সেই প্রশ্ন নিয়েই।
তদন্ত ও অগ্নিনির্বাপণের হিসাব ভিন্ন বিষয় মাপে
পুলিশ বনাঞ্চলে আগুন লাগানোর সন্দেহে ১৯৬ জনকে শনাক্ত করেছে এবং ২৫ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকায় ছড়ানো আগুনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতায় ৯৬টি কোম্পানির তদন্ত করছে। প্রতিবেদনে ঘোষণার সময় নিয়ে অমিল রয়েছে: কোনো বিবরণে আগস্টে, অন্যটিতে অক্টোবরের শুনানির আগের মাসে এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ ২৬টি কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শাস্তির কথাও জানিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনুমতি স্থগিত বা বাতিল করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনরুদ্ধারের নির্দেশ। প্রশাসনিক শাস্তি ফৌজদারি দণ্ডের থেকে আলাদা। কোম্পানির সংশ্লিষ্টতা নিয়ে তদন্ত চলছিল; সম্ভাব্য অভিযোগে সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।
সরকারি যোগাযোগ সংস্থা জানায়, ছয়টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রদেশে প্রায় ৪৬৭ হেক্টর জমিতে অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রম চালানো হয়েছে। লক্ষ্য ছিল প্রায় ৬৫৪ হেক্টর। ঘোষিত লক্ষ্যের এটি প্রায় ৭১ শতাংশ; ওই নির্দিষ্ট হিসাব অনুযায়ী প্রায় ১৮৭ হেক্টর জমিতে কাজ বাকি ছিল।
এসব কার্যক্রমের হিসাবকে দেশজুড়ে পুড়ে যাওয়া জমির পরিমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। সরকারি হিসাবে জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ ২ হাজার হেক্টর জমি পুড়েছে। বেসরকারি সংস্থাগুলোর হিসাবে, এরপর আরও অন্তত ৬ লাখ হেক্টর পুড়েছে; তবে পরবর্তী সময়ের কোনো সরকারি জাতীয় হিসাব প্রকাশিত হয়নি।
এই দুটি হিসাব যোগ করলে অন্তত ৮ লাখ ২ হাজার হেক্টর হয়, কিন্তু এতে একটি সরকারি হিসাবের সঙ্গে আলাদা একটি অনুমান মিশে যায়। ফলে যোগফলটি যাচাইকৃত সরকারি হিসাব নয়। একইভাবে, পুলিশি তদন্তের আওতায় থাকা ২৫ হাজার হেক্টর জাতীয় পর্যায়ের দাবানলের হিসাব থেকে আলাদা পরিসর নির্দেশ করে।
সংস্থাটি জানায়, ৬৯ হাজারের বেশি সামরিক সদস্য, পুলিশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণকারীরা যৌথ কার্যক্রমে সহায়তা করেছেন। সক্রিয় আগুনের স্থান, মাটির নিচে জ্বলতে থাকা পিট এবং পানি কম বা যাতায়াত কঠিন এমন এলাকায় সমন্বিত স্থল ও আকাশপথের অভিযান চালানো হয়েছে বলে তারা জানায়।
প্রতিবেশী সরকারগুলোর সহায়তার প্রস্তাব
ধোঁয়া সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়ায় মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর ইন্দোনেশিয়াকে সহায়তার আগ্রহ জানিয়েছে। শাহগান্দার ভাষ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম প্রেসিডেন্ট প্রবোওর কাছে উদ্বেগ জানান। দেশ দুটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যেও আলোচনা হয়।
সিঙ্গাপুরের টেকসই উন্নয়ন ও পরিবেশবিষয়ক মন্ত্রী গ্রেস ফু বলেন, সহায়তার প্রস্তাব দিতে তিনি ইন্দোনেশিয়ার সমপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা দুই প্রতিবেশী দেশের সহায়তার আগ্রহকে স্বাগত জানান।
ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার ভারপ্রাপ্ত মুখপাত্র বার্টন পানজাইতান বলেন, কম দৃশ্যমানতার কারণে আকাশপথে অভিযান বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে বিমানের চেয়ে স্থলকর্মী মোতায়েনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। এ বাস্তব সীমাবদ্ধতা দেখায়, যে আগুন থেকে ধোঁয়া তৈরি হচ্ছে, সেই ধোঁয়াই আগুন মোকাবিলার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।
সরকারি যোগাযোগ সংস্থা আরও জানায়, আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নাগরিক ও নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর অধিকারকে তারা সম্মান করে। সংস্থার মুখপাত্র সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন:
বিষয়টি এখন আদালতের বিবেচনাধীন। সরকার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে উত্থাপিত বিষয়গুলোর জবাব দেবে এবং বিচারিক কার্যক্রমকে যথাযথভাবে এগিয়ে যেতে দেবে।
আঞ্চলিক সহায়তার প্রস্তাব ও আদালতের মামলা সংকটের ভিন্ন ভিন্ন দিক মোকাবিলা করে। অতিরিক্ত কর্মী সক্রিয় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সহায়তা করতে পারেন; অন্যদিকে মামলা প্রস্তুতি, জনসুরক্ষা ও জবাবদিহি নিয়ে সিদ্ধান্ত চাইছে।
ওরাংওটান উদ্ধার নিরাপদ আবাসস্থল হারানোর চিত্র তুলে ধরে
ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষ এবং বন্যপ্রাণী পুনর্বাসন ফাউন্ডেশন ইয়ারিয়ি পশ্চিম কালিমানতানের বাতু নিয়াম্বু সংরক্ষিত বনে আটটি ওরাংওটান সরিয়ে নিয়েছে। দলে ছিল মা ও শাবকের তিন জোড়া এবং দুটি কিশোর পুরুষ ওরাংওটান। আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে আগুনের হুমকিতে থাকা বা আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত স্থান থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়।
গন্তব্যটি ২৩ হাজার হেক্টরের একটি সংরক্ষিত এলাকা, যেখানে প্রাথমিক ও গৌণ বন রয়েছে। ইয়ারিয়ির কার্যক্রম পরিচালক আরগিতো রান্তিং বলেন, খাবার ও পানির প্রাপ্যতা এবং অন্য বনের সঙ্গে সংযোগ থাকায় স্থানটি বেছে নেওয়া হয়েছে। স্থানান্তরের আগে সংরক্ষণবিদেরা প্রাণীগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন।
খাঁচাগুলো বাঁশের খুঁটিতে বয়ে যাত্রায় ছয় ঘণ্টা গাড়িতে, এক ঘণ্টা নৌকায় এবং আরও দুই ঘণ্টা হেঁটে যেতে হয়। স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদ সংস্থার প্রধান মুরলান দামেরিয়া পান জানান, কর্তৃপক্ষ ও ইয়ারিয়ি আগস্ট থেকে ৯ অক্টোবর পর্যন্ত আগুনের হুমকি থেকে ৪৬টি ওরাংওটান উদ্ধার করেছে।
আবাসস্থল সুরক্ষা যথেষ্ট না হলে কেন স্থানান্তর প্রয়োজন হয়, তা ব্যাখ্যা করেন ইয়ারিয়ির প্রধান নির্বাহী কারমেলে ইয়ানো সানচেজ:
"ওরাংওটান যেন নিরাপদ বনে বসবাস করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আবাসস্থল সুরক্ষা সব সময়ই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার থাকবে। কিন্তু তাদের আবাসস্থল যত দিন হুমকির মুখে থাকবে, তত দিন তাদের বাঁচতে সহায়তার জন্য উদ্ধারই হবে আমাদের নেওয়া সেরা পদক্ষেপগুলোর একটি," সানচেজ বলেন।
ডব্লিউডব্লিউএফের হিসাবে, বোর্নিও ও সুমাত্রায় এখন প্রায় ১ লাখ ৪ হাজার ওরাংওটান রয়েছে; এক শতাব্দী আগে এ সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ সতর্ক করেছে, বোর্নিওর ওরাংওটান জনসংখ্যার ৫২ শতাংশের আবাসস্থলে আগুন জ্বলছে। এ সংখ্যা আক্রান্ত আবাসস্থলে থাকা জনসংখ্যার পরিমাণ বোঝায়, আগুনে মারা যাওয়া বা সরাসরি আহত প্রাণীর সংখ্যা নয়।
জনচাপ বাড়ছে, তবে আইনি প্রতিকার এখনো অনির্ধারিত
ক্ষতিগ্রস্ত জনপদের পাশাপাশি ইন্দোনেশিয়ার বিনোদন জগতের ব্যক্তিরাও এ সংকট নিয়ে আহ্বান জানিয়েছেন। কালিমানতান ও সুমাত্রায় আগুন জ্বলতে থাকার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তেউকু উইসনু। শহরগুলোতে ধোঁয়ার প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি পদক্ষেপের সমালোচনা করেন নানা মিরদাদ। আর প্রেসিডেন্ট, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও বনমন্ত্রীর কাছে সহায়তার আবেদন জানান দেনি সুমার্গো।
লুনা মায়া কালিমানতানের বন ও বন্যপ্রাণীর জন্য অনুদান সংগ্রহ করেন। এসব প্রচারাভিযান জনসাধারণের মনোযোগ বাড়ালেও আদালতে থাকা অভিযোগ প্রমাণ করে না এবং অর্থায়নসহ সরকারি পুনর্বাসন কর্মসূচির বিকল্পও নয়।
বাদীপক্ষের আইনি ইতিহাসও মিশ্র। সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর আমলে ২০১৫ সালের দাবানল সংকট মোকাবিলায় সরকারের ভূমিকা নিয়ে ২০১৬ সালে সাতজন বাসিন্দা মামলা করেছিলেন। জেলা আদালত প্রথমে তাঁদের পক্ষে রায় দিলেও ২০২২ সালে সেই সিদ্ধান্ত বাতিল হয়। ২০২৫ সালে দক্ষিণ সুমাত্রায় করা আরেকটি মামলা খারিজ হয়।
সানেন বলেন, বর্তমান বাদীরা প্রমাণসহ প্রস্তুত। মামলাটির নিষ্পত্তি হয়নি। দুর্যোগ ঘোষণা, স্বাস্থ্যসেবা, অগ্নি-প্রশমন জোরদার বা অন্য পুনর্বাসনমূলক ব্যবস্থার নির্দেশ আদালত দেবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ২১ অক্টোবর। আদালতের নিশ্চিত নথি পাওয়া গেলে প্রথম শুনানির তারিখ ও বিবাদীর সংখ্যা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বিবরণও মিটবে।
যা জানা জরুরি
- বারবার দাবানলের জন্য প্রস্তুতি ও মোকাবিলায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছে নাফাস কালবার।
- বাদীপক্ষ জাতীয় দুর্যোগ ঘোষণা, অগ্নি-প্রশমন জোরদার, স্বাস্থ্যসেবা ও পুনর্বাসন চাইছে।
- প্রথম শুনানির তারিখ ও বিবাদীর সংখ্যা নিয়ে প্রতিবেদনে অমিল রয়েছে; দুই বিবরণেই পরবর্তী শুনানির তারিখ ২১ অক্টোবর।
- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, দাবানলের সঙ্গে সম্পর্কিত শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ প্রায় ১ লাখ ৭৫ হাজার।
- পুলিশ আগুন লাগানোর সন্দেহে ১৯৬ জনকে শনাক্ত করেছে এবং ৯৬টি কোম্পানির তদন্ত করছে; ২৬টি কোম্পানির বিরুদ্ধে প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
- ধোঁয়ায় স্কুল, যাতায়াত ও দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হওয়ায় মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
- উদ্ধার করা আটটি ওরাংওটানকে সংরক্ষিত বনে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে; ৯ অক্টোবরের মধ্যে আগুনের হুমকি থেকে মোট ৪৬টি ওরাংওটান উদ্ধার করা হয়।
- বর্তমান অবহেলার অভিযোগ নিয়ে কোনো রায়ের খবর পাওয়া যায়নি।






